BK Murli 1 April 2016 In Bengali

BK Murli 1 April 2016 In Bengali

০১-০৪-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা- এটা তোমাদের এক অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক বিশ্ববিদ্যালয় -যেখানে বিপথগামীদেরকে সঠিক পথে আনার জন্য, স্বয়ং ভোলানাথ বাবা নিজে শিক্ষক হয়ে তোমাদেরকে এই পাঠ পড়ান!"

প্রশ্নঃ- 

এই মহা-বিনাশের সময়, তোমাদের সব বাচ্চাকেই- আমি কি এমন লক্ষ্য দিয়ে থাকি ?

উত্তরঃ- 

হে আত্মারা তোমরা এখন পবিত্র-পাবন হও। পবিত্র-পাবন হওয়া ছাড়া ঘরে ফিরতে পারবে না। অর্ধেক-কল্পের সেই রোগ যে লেগে আছে তোমাদের। আর তার থেকে মুক্ত হবার জন্য তোমরা অন্য সবাইকে ৭ দিনের যোগ-অগ্নিতে বসাও। পাপী-পতিতদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকো, যাতে অন্য কেউই তোমাদের স্মরণেও না আসে,- এভাবে হলে তবেই বুদ্ধিতে কিছু জ্ঞান ধারণ করতে পারবে।

গীতঃ-

 তুনে রাত গঁবাই শোকে- ঔর দিন গঁবাই খাকে।
(তোমরা রাত কাটিয়েছো শুয়ে, আর দিন কাটিয়েছো খেয়ে।)

ওমশান্তি! 

কে তাঁর বাচ্চাদেরকে এই কথা বলেছেন ? যেহেতু বিদ্যালয়ে বসে এই আলোচনা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা কোনও শিক্ষকই বলেছেন। তবে এখানে অবশ্য এ প্রশ্নও উঠতে পারে যে, এই কথা কি কোনও শিক্ষক বলেছেন, না কোনও বাবা বলেছেন, বা কোনও সদ্গুরু তা বলেছেন ? আর কে বা এই বর্ণনা দিচ্ছেন ? শুরুর প্রথমেই বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এটাই আসা দরকার যে, ইনিই আমাদের সেই বেহদের বাবা, যাকে পরমপিতা-পরমাত্মা বলা হয় । তাই তো তা যেমন উনি বাবা হিসাবে বলেছেন, শিক্ষক রূপেও তা বলেছেন আর সাথে আবার সদগুরুও হিসাবেও তা বলছেন । একজনই এই তিনরূপেই তা বলছেন। এটাই তোমাদের বুদ্ধিতে সঠিক ভাবে আসা উচিত। যারা এই পাঠের ছাত্র-তাদের। কিন্তু, অন্য কোনও মহাবিদ্যালয়ে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ান, তাদেরকে কেবল শিক্ষকই বলা হয়, ওনাদেরকে কেউ বাবা বা গুরু বলে না। যদিও এটা একটা পাঠশালা, তবুও একেই আবার মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা যায়। যেহেতু, এখানেও তো পাঠই পড়ানো হয়। শুরুর প্রথমে এটাই তো বুঝতে ও বোঝাতে হবে আগে। এই পাঠশালাতে আমাদের পড়ান কে ? যদিও বাচ্চারা তা জানে, উনি নিরাকার, যিনি সব আত্মারই বাবা। সবার সদগতিদাতা। তিনিই আমাদেরকে পড়াচ্ছেন । এই সব জাগতিক রচনা ঐ এক-রচয়িতার সম্পত্তি। আবার উনি নিজেই বসে সেই রচনার আদি, মধ্য, অন্তের রহস্য বোঝান । তোমরা বাচ্চারা অলৌকিক জন্ম নিয়েছো সেই বাবারই কাছে। তোমরা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান আছে যে, উনিই আমাদের সকল আত্মার বাবা, -যাকে জ্ঞানের সাগর, বুদ্ধির সাগর বলা হয়। একাধারে উনি যেমন জ্ঞানের-সাগর অপরদিকে উনি আবার পতিত পাবন-ও। জ্ঞানের দ্বারাই সবার সদগতি হয়, মনুষ্য পতিত থেকে পাবন হয় । সে কারনেই তো তোমরা বাচ্চারা এখানে বসে আছো। আর অন্য কোনো বিদ্যালয়ে এভাবে কারুর বুদ্ধিতে এটা থাকে না যে, আমাদের জ্ঞানের সাগর নিরাকার পরমাত্মাই পড়াচ্ছেন । তা শুধু এখানেই তোমরা বাচ্চারা জানতে পারো। তোমাদেরকে সেভাবেই সব কিছু বোঝানো হয়ে থাকে । বিশেষ করে ভারতে এবং বাকী দুনিয়াতে এরকম ভাবে আর কেউ বুঝাবে না যে, নিরাকার বাবাই আমাদেরকে এই পাঠ পড়াচ্ছেন । যেহেতু অন্যদের পড়িয়ে থাকে মনুষ্যরূপী শিক্ষকেরা। আবার তাদের এই জ্ঞানও নেই যে, তারা নিজেকে আত্মা বলে ভাববে । প্রকৃত অর্থে কিন্তু আত্মারাই এই পাঠ পড়ে । আত্মাই সব কিছু কর্ম-কর্তব্য পালন করে। এই চাকরিও-বাকরী সবকিছহ আত্মারাই করে, -এই দেহেরই ইন্দ্রিয়-অঙ্গ দ্বারা । ওনাদের মনে অবশ্য এই ভাব থাকে যে আমি অমুক। ঝট করে নিজের নাম রূপ ইত্যাদি মনে পড়ে যায় । আমরা এটা করি, ওটা করি, ইত্যাদি । তখন কেবল শরীরের নামই মনে এসে যায়, যদিও এটা ভুল রীতি। যেখানে আমরা তো প্রথমে আত্মা। পরে তো এই শরীর ধারণ করেছি । যে শরীরের নাম বার বার বদলাতে থাকে, কিন্তু আত্মার নাম তো আর বদলায় না। আত্মা তো সেই একই থাকে। বাবা বলছেন ওনার আত্মার নাম কিন্তু সর্বদা একই থাকে -'শিব'। যা সারা দুনিয়াই জানে । কিন্তু, এতসব যে নাম রাখা হয়, তা তো শরীরের উপরেই সেই নাম রাখা হয়। অথচ, শিববাবাকে কেবলমাত্র শিবই বলা হয়,- ব্যস্ ওই একটাই নাম ওনার। যেহেতু ওনার কোনও শরীরই থাকে না । মনুষ্যের নাম হয় তার শরীরের উপর, তাই তখন বলতে পারে আমি অমুক, সে তমুক ইত্যাদি। যেমন-আমাকে অমুক নামের শিক্ষক পড়াচ্ছেন । তখন নাম তো নিতেই হবে । বাস্তবে আত্মাই শরীরের ইন্দ্রিয় দ্বারা সেই শিক্ষকের কাজ করে, সেক্ষেত্রে, ওনারা (আত্মারা) কিন্তু আত্মাদেরকেই পড়ায় । সংস্কার তো সেই আত্মাই ধারণ করে । দেহের ইন্দ্রিয় দ্বারা পড়ায়, চরিত্র অভিনয় করে, যে যার নিজের সংস্কার অনুসারে। কিন্তু যেহেতু দেহের কোনও একটা নাম থাকে, তার উপরেই সে তার জীবনের সব কিছু নির্বাহ করে চলে । এখানে কিন্তু তোমরা বাচ্চারা জানো যে তোমাদের সেই ভাবেই এই নিরাকার বাবা পড়িয়ে থাকেন। কিন্তু, অন্যদের বুদ্ধিতে তা আসবে কি করে! আমরা তা বুঝতে পারি, যেহেতু আমরা আত্মারা ঐ বাবার হয়েছি। আত্মাই কেবল বোঝে, নিরাকার বাবা এসে সাকারের সাহায্যে আমাদের সাকার শরীরকে পড়াচ্ছেন। যেহেতু ওনার নাম শিব । তাই তো শিব-জয়ন্তীও পালন করা হয় । শিব অর্থ হলো বেহদের বাবা। ওনাকেই আবার পরমপিতা পরমআত্মা বলা হয় । যেহেতু উনি সব আত্মাদের পিতা। কিন্তু, এখানে ওনার জয়ন্তী কিভাবে পালন করা হয় ?
আত্মারা তো শরীরে প্রবেশ করে বা গর্ভে আসে । উপর থেকে যে সে আসে এটা কারুর সেভাবে জানা থাকে না । যেমন- ক্রাইস্টকে ধর্মস্থাপক বলে । ওনার আত্মা শুরুর প্রথমে উপর থেকে আসা উচিত । যেহেতু প্রথম দিকে সতোপ্রধান আত্মারাই আসে । যারা কোনো বিকর্ম করে না । প্রথমে সতোপ্রধান তারপর সতো, রজো, ক্রমে তমোতে আসে। তবে তখন তাতে বিকর্ম হয় । প্রথমে যে আত্মা আসবে, সতোপ্রধান হবার কারণে সে দুঃখ ভোগ করে না । অর্ধেক কল্প সময় যখন পূর্ণ হয় তখন থেকে আত্মারা বিকর্ম করতে থাকে। আজ থেকে ৫ হাজার বর্ষ আগে অবশ্যই প্রথমে সূর্যবংশী রাজত্ব ছিলো। আর সব ধর্ম তারপরে আসে । এই ভারতবাসীরাই কখনও বিশ্বের মালিক ছিলো । তাই ভারতকেই অবিনাশী খণ্ড বলা হয়। তখন আর অন্য কোনো খণ্ড ছিলো না । শিববাবাই সেই বিগড়ে যাওয়া বিপথগামীদের সঠিক পথের শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। তাই ওনাকে ভোলানাথ শিব বলা হয়। অবশ্যই তা শঙ্করকে নয়। ভোলানাথ শিববাবাই বিগড়ে যাওয়া বিপথগামীদের পথে আনেন । শিব আর শঙ্কর কিন্তু এক নয়, যা পৃথক ও আলাদা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করের কোনো মহিমা কীর্তি থাকে না। মহিমা তো খালি এক শিবের- যিনি বিগড়ে যাওয়াদের সঠিক বানান। উনি নিজেই বলেন, আমি সাধারণ বুড়োর (ব্রহ্মার) দেহেই আসি। যেহেতু ইনি ৮৪ জন্ম পুরো করেছেন, আর দুনিয়াদারীর খেলা এখন তার পুরো হয়েছে । তখন এই পুরনো দেহ, পুরনো সম্বন্ধও তাই শেষ হয়ে যায়। এখন আমরা কাকে স্মরণ করি ? শেষ হয়ে যাওয়া জিনিষকে অবশ্যই স্মরণ করা হয় না । নতুন বাড়ি তৈরি হলে স্বাভাবিক ভাবেই, পুরনোর থেকে মন সরে যায় । আর এটা আবার হলো বেহদের কথা। সর্বের সদগতি হয় অর্থাৎ এই সময়কলেই রাবণের নরকের রাজ্য থেকে সবার ছুটি হয়ে যায় । এই রাবণই সকলকে বিপথগামী করে বিগড়ে দিয়েছে । বর্তমান ভারত একদমই কাঙ্গাল ভ্রষ্টাচারী হয়ে পড়েছে । সাধারণতঃ লোকে ভ্রষ্টাচারী বলতে বোঝে দুর্নীতি-ভেজালকে, বা চুরি-ঠকানোকে । কিন্তু বাবা বলেন, প্রথম ভ্রষ্টাচার হলো অপবিত্র হওয়া । শরীর তো বিকারের দ্বারাই তৈরি হয়। এইজন্যই একে বিকারী দুনিয়া বলা হয় । আর সত্যযুগকে নির্বীকারি দুনিয়া বলা হয় । আমরাই একদা সত্যযুগেতে প্রবৃত্তিমার্গের দেবী-দেবতা ছিলাম। অনেকেই ভাবে পবিত্র হলে, বিকার ছাড়া বাচ্চা কি করে জন্ম হবে । তাদেরকে বলো, আমরা যেভাবে নিজেদের (সত্যযুগের) রাজধানী বাহুবলের দ্বারা নয়, যোগবলের দ্বারা স্থাপন করি, তো সেই যোগবলের দ্বারা কি বাচ্চার জন্ম হতে পারে না ! তখন যেখানে নাকি থাকে নির্বিকারী দুনিয়া, পবিত্র গৃহস্থ আশ্রম। যথা যেরকম রাজা রাণী সম্পূর্ণ নির্বিকারী -তথা প্রজারাও । কিন্তু বর্তমানের এই দুনিয়া তো সম্পূর্ণ বিকারি। সত্যযুগে বিকারের অংশ মাত্রও থাকে না। তাই তো ওকে বলা হয় ঈশ্বরীয় রাজ্য। অর্থাৎ ঈশ্বর বাবার দ্বারা স্থাপন করা। এখনকার বর্তমান দুনিয়াটা তো রাবণ রাজ্য। শিববাবার যে পূজা হয়- কারন তিনিই স্বর্গ স্থাপন করেছেন । রাবণ যে তাকে নরক বানিয়েছে, তাকেই আমরা জ্বালাই। দ্বাপর কবে শুরু হয়েছে, এটাও সেভাবে কারুর জানাই নেই। যা কেবলমাত্র বোঝারই কথা। এটা তো তমোপ্রধান আসুরী দুনিয়া। আর ওটা (সত্যযুগ) তো ঈশ্বরীয় দুনিয়া। ওকেই স্বর্গ, দৈবী, পবিত্র-পাবন দুনিয়া বলা হয় । আর বর্তমানের এই দুনিয়া হলো নরক-পতিত দুনিয়া। এই কথা সে বুঝবে যে রোজ এই পাঠ পড়বে। অনেকে বলে, এটা আবার কি ধরনের বিদ্যালয়। আরে, এর মুখ্য প্রধান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও তো আছে। তোমরা এসে সেই নির্দেশাবলী নিয়ে যাও। এটা তো এমন কোনও বিশেষ কষ্টের ব্যাপার নয়। এই বিশাল সৃষ্টি-চক্রকে সেকেন্ডেই তা বোঝানো সম্ভব। সত্যযুগ, ত্রেতা যা অতীত হয়ে গেছে আবার দ্বাপর, কলিযুগও তো অতীত হয়েছে । এখন বর্তমানের সময়কাল হলো সঙ্গমযুগ । আর নতুন দুনিয়ায় যাবার জন্য তো তোমাদেরকে এই পাঠ পড়তেই হবে । প্রত্যেকেরই তা পড়বার অধিকার আছে। কেউ কেউ আবার বলে যে, বাবা আমরা তো চাকরি করছি । সেক্ষেত্রে বাবা বলেন, আচছা! ঠিক আছে, আগে এক সপ্তাহ জ্ঞান নাও, তারপর চলে যেও। মুরলী তোমরা সময় মতো পেতে থাকবে । প্রথম ৭ দিন ভট্টিতে (যজ্ঞে) অবশ্যই থাকতে হবে । যদিও সবাই ৭ দিনই আসে, কিন্তু সকলের বুদ্ধি তো আর একইরকম থাকে না। ৭ দিন যজ্ঞে থাকা অর্থাৎ সেই সময় অন্য কারুকেই স্মরণে যেন না আসে । কারুর সাথে পত্র ব্যবহারে বা যোগাযোগও যেন না থাকে । যেহেতু সবাই তো আর একইরকম বুঝবে না । এখানে পতিতদেরও পবিত্র-পাবন বানানো হয় । এই পতিতপনাও একটা রোগ বিশেষ। অর্ধেক কল্পের জন্য মনুষ্যরা মহারোগী হয়ে যায়। সেই ওনাদেরকে তখন আলাদা বসাতে হয় । কারুর যেন সঙ্গ না হয় । যেহেতু তারা বাইরে যাবে, উল্টো-পাল্টা খাবে, পতিতের হাতের বনানো খাবার খাবে। সত্যযুগের দেবতারা তো পবিত্র-পাবন হন। দ্যাখো তাই তো ওনাদের জন্য কত সুন্দর সুন্দর মন্দিরও তৈরি করা হয় । যেন পবিত্র দেবতাদের কোনও পতিত বা পাপী ছুতে পারে না। যেহেতু এই সময়কার মনুষ্যরা তো একদমই পতিত ভ্রষ্টাচারী হয়ে আছে। জন্মেই তাদের শরীর বিষ থেকেই তৈরি হয়। যে কারনে ওনাদেরকে ভ্রষ্টাচারী বলা হয় । সন্ন্যাসীদেরও শরীরও সেই বিষ থেকেই তৈরি হয় জন্মসূত্রে। বাবা বলেন, শুরুর প্রথমেই আত্মাদের পবিত্র করতে হয়। তারপর শরীরও পবিত্র চাই অবশ্যই। এইজন্য পুরনো অপবিত্র যত শরীর থাকে সবেরই বিনাশ হতে হয়। যেহেতু সবাইকেই তো ফিরে যেতে হয় পরমধামে। আর এটা তো হোলো বিনাশের অন্তিম সময়। তাই সবাইকেই অবশ্যই পবিত্র হয়ে ফিরে যেতে হবে । ভারতেই এই হোলিকা (বুড়ী-পোড়ানো) উৎসব পালিত হয় । এখানকার ৫ তত্ত্বের শরীর তমোপ্রধান হয়ে আছে। সত্যযুগের শরীর অবশ্য সতোপ্রধান হয় । শ্রীকৃষ্ণের চিত্র তো দেখানো আছে যে,নরককে লাথি মারতে হয়,-সত্যযুগে যেতে চাইলে। শবদেহকেও যখন শ্মশানে নিয়ে যায়, তখন তার মুখ প্রথমে থাকে শহরের দিকে, আর পা থাকে শ্মশানের দিকে। তারপর যখন শ্মশানের ভিতর ঢোকে তখন মুখ শ্মশানের দিকে করে দেয় । এখন তোমরা যেখানে স্বর্গের দিকে যাচ্ছো তো তোমাদের মুখও ঐদিকেই থাকা উচিত। শান্তিধাম আর সুখধামের দিকে, আর পা থাকবে দুঃখধামের দিকে। ওটা তো মৃতজনদের জন্য। আর স্বর্গের জন্য তো এখানেই সেই পুরুষার্থ করতে হয় । শান্তিধামকে স্মরণ করতে-করতে তোমারা আত্মারা শান্তিধামেই চলে যাবে । যা হোলো বুদ্ধির অনুশীলন । বাবা বসে সেই সব রহস্যগুলিকেই বোঝান। তোমরা জানো এখন আমাদের আত্মাদের আপন ঘরে ফিরে যেতে হবে। এই পুরনো দেহ, পুরনো দুনিয়া, সব কিছুই ছেড়ে যেতে হবে। নাটক পুরো হয়েছে মানে ৮৪ জন্মের অভিনয়ও পুরো হয়েছে । এটাও তো বোঝানো হয়েছে যে, সবাই এই ৮৪ জন্ম কিন্তু নেয় না। যারা আসেই অনেক পরে- অন্য ধর্মের, নিশ্চয় তাদের অনেক কম বারই জন্ম হবে। যেমন, ইসলামীদের থেকে বৌদ্ধদের কম । ক্রিশ্চানদের আবার তাদের থেকেও কম। গুরু নানকের শিখ ধর্মের লোকেরাও এসেছে মাত্র অল্প কিছুদিন পূর্বে। গুরুনানকের এই ধর্ম কেবল ৫০০ বর্ষ হয়েছে, তাই তো ওরা মোটেই ৮৪ জন্ম নেবে না। এগুলি সব হিসাব করাই থাকে । ৫-হাজার বছরে কার কতটা জন্ম, তো ৫০০ বছরের যারা তাদেরই বা কত জন্ম হবে। হয়ত তা ১২-১৩ জন্ম । ক্রাইস্টের ২০০০ বর্ষ হলে তো ওনার ধর্মের লোকেদের কত জন্ম হবে। কল্পের অর্ধেকের থেকেও কম হয়ে যাবে । এ সবেরই হিসাব আছে তো । এতে কে কত, তা অত সঠিক করে বলতে পারবো না । তাই, এই কথাতে তর্ক করে অধিক সময় নষ্ট করা উচিত নয় । বেকার কথায় বুদ্ধি যাওয়া উচিত নয় । যা উচিত তা বাবার সাথে যোগ লাগানো, যেহেতু চক্রকে জানতে হবে । এছাড়া পাপ ভষ্ম হবে, কেবল স্মরণের দ্বারা । এতেই যা মেহেনত (কষ্ট) হয়। একেই ভারতের প্রাচীন যোগ বলা হয়, যা বাবা নিজেই তা শেখান । সত্যযুগ ত্রেতাতে তো যোগের কোনও প্রশ্নই নেই । তারপর ভক্তিমার্গের সময় এলে হঠযোগ শুরু হয় । কিন্তু বর্তমানের এটা হলো সহজ রাজযোগ । তাই বাবা বলেন- আমাকে স্মরণ করলেই পবিত্র-পাবন হতে পারবে । মূল কথাই হলো স্মরণের যাত্রা। অতএব কোনো প্রকারের পাপ-কর্ম অবশ্যই করবে না । দেবী-দেবতারা মন্দিরে থাকেন, কারণ তারা পবিত্র-পাবন। কিন্তু পূজারী লোকেরা তো সেই পতিতই থাকে। পাবন দেবতাদের স্নান আদিও করানো হয়। বাস্তবে তাদেরকে, পতিতদের তো হাত-ও লাগানো উচিত নয় । এ সকল হচ্ছে ভক্তিমার্গের রীতিনীতি । আমরা তো এখন পবিত্র-পাবন হতে যাচ্ছি। পবিত্র হতে পারলেই তো দেবতায় পরিনত হতে পারবো। সত্যযুগের স্বর্গে, ওখানে তো পূজা আদির কোনও প্রয়োজনই হয় না । সর্বের সদগতিদাতা তো একজনই- এই বাবা। ওনাকেই তাই ভোলানাথ বলা হয় । উনি আসেন এই পতিত দুনিয়াতেই, পতিত শরীরে, পুরনো রাবণ রাজত্বে । হ্যাঁ, উনি যে কারুরই দেহে প্রবেশ করে, ওনার মুরলী চালাতে পারেন । কিন্তু, তার মানে এই নয় যে উনি সর্বব্যাপী বা প্রত্যেকের মধ্যেই আছেন। প্রত্যেকেরই তো নিজের- নিজের আত্মা আছে । নির্দেশপত্রতেও তা লেখানো হয়। তাতে তোমাদের আত্মাদের লৌকিক বাবা কে তাও জানতে চাওয়া হয় ? তবুও কিন্তু সবাই তা বোঝে না । সব আত্মাদেরই বাবা তো একজনই হবে । আর আমরা সবাই তখন ভাই-ভাই । সে হিসাবে বাবা তো একজনই । ওনার থেকেই আশীর্ব্বাদের বর্ষা পাই যা- জীবন্মুক্তির । উনিই একাধারে মুক্তিদাতা, আবার পথপ্রদর্শকও। যিনি সকল আত্মাদেরই নিয়ে যাবেন শান্তিধামে। এই কারনেই পুরনো দুনিয়ার বিনাশ হয় । হোলিকাতে বুড়ির ঘর পোড়ানো হয়। সবারই এই শরীর সব শেষ হয়ে যায়। বাকি অন্য আত্মারা সব ফিরে যাবে পরমধামে। যেহেতু সত্যযুগে জনসংখ্যা অনেক অল্পই হবে । অন্যদেরকেও তা বোঝানো উচিত যে স্বর্গের স্থাপনা কে করছেন। আর কলিযুগের বিনাশই বা কে করাচ্ছেন ? যদিও এটা তো পরিষ্কার ভাবেই তা লেখা আছে । এটা তো প্রবাদ বাক্যেই বলে যে, ভালবাসা পেতে গেলে আগে ভালবাসতে হয়। (ভালোবাসো তো ভালবাসা পাবে) বাবা বলেন যে, আমাকে যে অনেক সেবা করে, তাকে মনুষ্য থেকে দেবতা বানাতে, অনেক বেশি প্রিয় ও ভালোবাসতে মন চায় । যে যত বেশী পুরুষার্থ করবে সে তত উচ্চ পদের বর্ষা পাবে। এই বর্ষা লাভ করতে হবে আত্মাদেরকেই। আর তা পেতে হবে পরমআত্মা বাবার কাছ থেকে । যার নিমিত্তে তোমাদেরকে আত্ম-অভিমানী হতে হবে । কেউ কেউ আবার অনেক ভুলও করে ফেলে -পুরনো অভ্যাসে যেহেতু সে পাকা হয়ে থাকে। তাই তো যতই তাকে বোঝাও না কেন কিছুতেই তা ছাড়ে না , এতে সে তার নিজেরই পদ কম করে ফেলে। --আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতার বাপদাদার স্মরণ-ভালোবাসা আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদেরকে নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সারঃ-

১) কোনো কথার তর্কে গিয়ে নিজের সময় নষ্ট করবে না। ব্যর্থ কথায় বুদ্ধি যেন অধিক না হয়ে যায়। যতটা সম্ভব স্মরণের যাত্রায় থেকে বিকর্ম বিনাশ করতে হবে। আত্ম-অভিমানী থাকার অভ্যাসে অভ্যাসী হতে হবে ।

২) এই পুরানো দুনিয়ার মোহ থেকে নিজের মুখকে ঘুড়িয়ে নিতে হবে। শান্তিধাম আর শুখধামকে স্মরণ করতে থাকবে । যেখানে নতুন ঘর তৈরী হচ্ছে, তখন তো পুরোনো থেকে মনকে সরিয়ে নিতেই হবে।

'বরদানঃ- 

একান্ত আর অর্ন্তমুখিতার অভ্যাস দ্বারা স্বয়ংকে অনুভব সম্পন্ন বানিয়ে মায়াজিত (হও) ভব।

বিস্তার :- জ্ঞানীর হবার সাথে সাথে শক্তিশালী অর্থাৎ অনুভবীর মূর্তি-স্বরূপ হবার জন্য একান্তবাসী আর অর্ন্তমুখী হও । ডগমগ হবার কারণ অনুভব কম হয়। এইজন্য শুধু বোঝা, বা বোঝানো বা মননমূর্তি-স্বরূপই নয় , একান্তবাসি হয়ে বিন্দুর অনুভবী যদি হতে পারো তো যে কোনো প্রকারের ঠকানো থেকে, দুঃখ বা দ্বিমত থেকে, বাঁচতে পারবে। আমি কার বাচ্চা-আর এতে আমার প্রাপ্তিই বা কি - এই প্রথম পাঠের পড়াকে অনুভব করতে পারলেই সহজেই মায়াজিত হওয়া যাবে ।

স্লোগানঃ- 

দায়িত্ব সামলানোর সাথে সাথে ডবল লাইট অবস্থায় যে থাকতে পারে সেই বাবার সমীপ-রত্ন হয় ।



***OM SHANTI***

Google+ Followers