BK Murli 22 April 2016 Bengali

BK Murli 22 April 2016 Bengali

 ২২-০৪-১৬ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি " বাপদাদা" মধুবন


" মিষ্টি বাচ্চারা - জ্ঞান -সাগর বাবা এসেছেন - তোমাদের বাচ্চাদের সামনে , জ্ঞানের দ্বারা তোমাদের উজ্জীবিত (জ্ঞান -dance ) করতে, তোমরা, চেতনাকে জাগিয়ে রাখতে সতর্ক হও, তবেই নবজীবন সঞ্চার হবে (জ্ঞান -dance ভালো হবে ) "

প্রশ্ন :- 

সঙ্গমযুগে তোমরা বাচ্চারা নিজের মধ্যে কোন্ ধরনের শখ রাখতে চাও ?

উত্তর : -- 

স্মরণে থাকার, এটাই হচ্ছে রূহানী শখ l এই হবির সাথে সাথে তোমাদের দিব্য আর অলৌকিক কর্মও করতে হবে l তোমরা ব্রাহ্মণ, তোমাদের সত্যবাবার সত্য কথা সবাইকে শোনাতে হবে l তোমাদের - বাচ্চাদের সেবা করার ইচ্ছাও রাখতে হবে l

গীত :- 

ধৈর্য্য ধর রে হে মানব ...
(ধীরজ ধর মনুয়া... )

ওম্ শান্তি l 

যেমন হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগী নিজের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে ব্যাকুল হয় l বারবার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিজের অবস্থার সম্পর্কে, কবে এই অসুখ থেকে সে নিষ্কৃতি পাবে l এসবই হদের কথা l বাবা এসে বাচ্চাদের নির্দেশ দেন l বাচ্চারা তো এখন জেনে গেছে সৃষ্টিচক্রে সমানভাবে সুখ দুঃখের খেলা চলছে l এমনিতে তো তোমাদের-বাচ্চাদের সত্যযুগে যাওয়ার থেকে এখানেই অনেক লাভ বেশি কেননা তোমরা জানো - আমরা এই সময়ে ঈশ্বরের কোলে আছি, ঈশ্বরের সন্তান আমরা l এই সময় আমরাই যে দেবী দেবতা ছিলাম এবং হতে চলেছি সেই মহিমা এখন গুপ্ত l প্রত্যেক মনুষ্যই বাবাকে শিব , ঈশ্বর , ভগবানও বলে, কিন্তু তারা বাবার প্রকৃত স্বরূপ না জেনেই এভাবে ডাকতে থাকে l ড্রামা অনুসারেই এরকম হয় l জ্ঞান - অজ্ঞান , আর দিন-রাতের মতো তফাৎ হয়ে যায় l গায়নও আছে , কিন্তু বুদ্ধি এতই তমোপ্রধান হয়ে গেছে যে নিজেদের অজ্ঞানতা বুঝতে পারছে না l বাবার গুণ-রত্ন যদি কারও ভাগ্যে থাকে তবে তো বাবার যথার্থ রূপ বুদ্ধিতে ধারণ করতে পারবে l বাচ্চারা জানে যে - আমরা একদম অজ্ঞানতার অন্ধকারে ছিলাম l এখন বাবা এসেছেন তাইতো কত আলো ফুটেছে, অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোর পথে এসেছি আমরা l বাবা যে জ্ঞান আমাদের দেন তা কোনও বেদ, শাস্ত্র, গ্রন্থ ইত্যাদিতে নেই l সেটাও বাবা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন l তোমাদের বাচ্চাদের রচয়িতা আর রচনার আদি, মধ্য , অন্তের ঘটনাক্রম সম্পর্কে বারবার ইশারা করি, তবুও আবার অবলুপ্তি ঘটে l আমাকে ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে জ্ঞান পাওয়া যায় না, তত্সত্বেও এই জ্ঞান অবলোপ হয়ে যায় l বুঝতে পারে, যে কলির শেষ হয়েছে আবার ৫০০০ বছর পর রিপিট হবে l এই হল নতুন কথা l এই কথা শাস্ত্রে বলা হয়নি l বাবা তো এই জ্ঞান সবাইকে সমানভাবে পড়ান , কিন্তু জ্ঞানের ধারণা সকলের একরকম হয় না , জ্ঞান যে -যেমনভাবে নিতে পারে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সেই প্রথম হয় l বাবার ভালো বাচ্চারা, যারা বাবার জ্ঞান প্রাপ্ত করেছে তারা জ্ঞান পিপাসু উত্সাহী বাচ্চাদের মধ্যে ওই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে থাকে l ড্যান্সিং গার্ল- এর সামনে অনেক উত্সাহী দর্শক থাকলে সে যেমন আরও উত্সাহিত হয়ে তার কলা দেখায়, ঠিক তেমনই l সাধারণ দর্শকও যেমন থাকে, তেমনই নৃত্য কলায় আগ্রহী দর্শকও থাকে, তারা উত্সাহ -উদ্দীপনায় নাচতে থাকে l এরকম সমঝদার লোক যত বেশী আসে ড্যান্সিংগার্ল ততই খুশিতে - আনন্দে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে l এখানেও এরকমই হয় l মুরলী সব বাচ্চারাই শোনে, কিন্তু উত্সাহ নিয়ে বুদ্ধিতে মুরলীর জ্ঞান ধারণ করতে সবাই পারে না l কৃষ্ণেরও নাচের ছবি দেখানো হয়েছে l নাচ মানে কিন্তু ওরকম সাধারণ মনুষ্যের নাচ নয় l বাস্তবে জ্ঞান-নৃত্যের কথা বলা হয়েছে l শিববাবা স্বয়ং বলেন , আমি জ্ঞান - নৃত্য করতে আসি , অর্থাত্ আমি জ্ঞানের দ্বারা তোমাদের উজ্জীবিত করাতে আসি, আমি জ্ঞানের সাগর l তাই তো , ভালো ভালো জ্ঞানের কথা শোনাই l এ হল জ্ঞানের বাঁশি l কাঠের বাঁশি নয় l পতিত -পাবন বাবা এসে সহজ রাজযোগ শেখাবেন , নাকি কাঠের বাঁশি বাজাবেন ! বাবা এসে রাজযোগ শেখান এটা কারও খেয়ালে থাকেনা l এখন তোমরা জেনেছো বাকী তো একজন মনুষ্যেরও এসব বুদ্ধিতে নেই l যারা পরে আসে তাদের মধ্যেও কেউ -কেউ শ্রেষ্ঠ পদ পায় l তারা আগের কল্পে যেমন পুরুষার্থ করেছিলো, এই কল্পেও একইভাবে পুরুষার্থ করতে থাকে l তোমরা জানো যে, প্রত্যেক কল্পের মতো এই কল্পেও বাবা এসে ড্রামার রহস্য সহজ করে বুঝিয়ে দেবেন l বাবা বলেন, আমিও নিয়মের বন্ধনে বাঁধা l প্রত্যেকে এই ড্রামার নিয়মে বাঁধা আছে l যা -কিছু সত্যযুগে হয়েছিল, তা' আবারও হবে l কতরকমই তো ধর্ম ছড়িয়ে আছে l তাই বলে কি আর সত্যযুগে এত ধর্মের প্রকারভেদ থাকবে ! স্বর্গে তো ধর্মের বিভিন্নতাই নেই , সেখানে এক ধর্ম - এক ভাষা l সত্য -ত্রেতার পরবর্তী কালে ঝাড়বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন ধর্মের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকবে l সত্যযুগে আগে যা হয়েছিল তা আবারও সত্যযুগেই দেখতে পাবে l সত্যযুগে নিকৃষ্ট কোন কিছুই থাকতে পারে না l ওখানে দেবী -দেবতাদের বলাই হয় ভগবান -ভগবতী l আর কোনও খন্ডে কখনও কাউকে গড -গডেস বলা যাবেনা l দেবতারা আগেও নিশ্চয়ই স্বর্গে রাজত্ব করেছিলেন l ওনাদের জন্য কত গায়ান আছে ! তোমাদের বাচ্চাদের এখন স্থিরতা এসে গেছে l তোমরা জানো , আমাদের পদ কত উঁচু বা কম হবে l আমরা কত নম্বর পেয়ে পাস করতে পারি ! তোমরা প্রত্যেকে নিজেদের (আত্মা ) বুঝতে পারছ তো নাকি এরা -ওরা ভালো ভালো সেবা করছে (আত্মা -পরমাত্মা , আর ড্রামা অনুসরণ করে চলছে ) l এটা ঠিক যে , চলার পথে অনেক বাধা আসে l বাবারও ইচ্ছে , বাচ্চাদের সামনে কোনও গ্রহের প্রভাব বা প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি না আসে l মায়া ভালো বাচ্চাদেরও (যারা বাবার শ্রীমত্ মেনে চলে ) বশ করে ফেলে l তাই তো বাবা ধৈর্য্য ধরতে বলছেন , কারন সময় আর অল্পই আছে l তোমাদের সেবাও করতে হবে অর্থাত্ বাবার জ্ঞান পূর্ণ মর্যাদায় ধারণ করে তা' সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে l স্বর্গের স্থাপনা হয়ে গেলে তখন তো যেতেই হবে l এই ব্যবস্থার একচুলও এদিক -ওদিক হওয়ার উপায় নেই l এই রহস্য বাচ্চারাই বুঝতে পারে l আমরা ড্রামার অ্যাক্টর (অভিনেতা ) , এই ড্রামায় আমাদের পার্ট মুখ্য l ভারতেরই হারজিতের খেলা ড্রামায় রচিত হয়েছে l পবিত্র দেশ ছিল এই ভারত l কত শান্তি আর পবিত্রতা ছিল এখানে , যেন , এইতো কালকেরই কথা - আমরা নিজের নিজের ভূমিকায় অভিনয় করেছি l ৫০০০ বছরের পার্ট অর্থাত্ আত্মার আদি -মধ্য -অন্তের ঘটনাক্রম সব ড্রামায় ভরা আছে l আমরা চক্র পার করে এসেছি l আমরা এখন কালিমালিপ্ত , এই কালিমা দূর করার জন্য এখন আবার আমরা বাবার সাথে যোগ লাগাই l বাবাকে স্মরণ করলে বাবার থেকে পাওয়া জ্ঞানলব্ধ , স্বর্গের রাজ্যাধিকারও স্মরণে এসে যাবে l প্রথম প্রথম তো আল্লাহ্ অর্থাত্ শিববাবাকে জানতে হবে l বাবা বলেন, তোমরা আমাকে জানলে আমার থেকেই সবকিছু (আত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক , ড্রামা -প্ল্যান ) জেনে যাবে l জ্ঞান খুব সহজ , এক মূহুর্তেই জেনে যাবে l তবুও বারে বারে বোঝাতে হয় l নানারকম উদাহরণ দিয়ে তোমাদের বোঝাই l প্রথমেই বোঝাই , মন্মনাভব অর্থাত্ নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে এক-বাবা পরমপিতা শিববাবাকে স্মরণ করো l এতেও বাধা আসে , দেহ -অভিমান এসে গেলে অনেক রকম দ্বিধা বা সংশয়ও উপস্থিত হয়, যা যোগে স্থির থাকতে দেয় না l ভক্তিমার্গে যেরকম কৃষ্ণের স্মরণে বসে তো বুদ্ধি এদিক -ওদিক সরে যায় l ভক্তির অনুভব তো সকলের আছে - এই জন্মেরই কথা l এই জন্মের জ্ঞান থাকলে বিগত জন্ম সম্পর্কেও কিছু না কিছু বুঝতে পারবে l বাবাকে স্মরণ করা, বাচ্চাদের শখে পরিণত হয়েছে l যত স্মরণ করতে পারবে তত খুশিও বাড়বে l সাথে সাথে দিব্য -অলৌকিক কর্মও করতে হবে l তুমি হলে ব্রাহ্মণ, তুমি সত্য নারায়ণের কথা -অমরকথা শোনাও l মূল (আসল ) কথা হলো - যে বাবার সপ্ত গুণ ধারণ করে ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করে সেই তুমি , ব্রাহ্মণ l স্মরণে বিকর্ম নাশ হয় l এটাই আত্মার একমাত্র শখ l বাবা বুঝিয়ে দেন যে , জ্ঞান তো খুব সহজ l কুমারী কন্যাদেরই তো জয় জয়কার l বিবাহিতা কন্যারা যেমন আসে , তেমনই কুমারী কন্যা , শিশু কন্যাও আসে l ওদের কোন বন্ধন নেই l বৈবাহিক সূত্রের বন্ধনে তো কন্যা বিকারী হয়ে যায় l আমাদের পরমপ্রিয় শিববাবা তো স্বর্গে নিয়ে .যাওয়ার জন্য তাঁর গুণ-রত্নের সম্ভারে আমাদের সাজিয়ে তোলেন l মিষ্টি সাগরে নিয়ে যান l বাবা বলেন, পুরানো দুনিয়া আর পুরানো দেহ একদম ভুলে যাও l আত্মা বলে, আমরা তো 84 জন্ম পার করেছি , এখন আবার বাবার থেকে জ্ঞান -যোগের শক্তির দ্বারা সত্যযুগের প্রাপ্তি , রাজ্যাধিকার নেব l বাচ্চারা অনেক সাহস জুটায় (সঞ্চয় করে ) , তবুও মায়ার সাথে লড়াই তো হয় l মায়ার সামনে তো এই বাবাই আছেন l মায়ার ঝড় -ঝাপটা বাবার সামনেই বেশী আসে l অনেকে এসে বাবাকে বলে, বাবা আমার এই সমস্যা হচ্ছে l বাবা বলে দেন - বাচ্চারা সমস্যা তো অবশ্যই আসবে l প্রথমে তো আমার কাছে আসে l একদম শেষে সবাই কর্মাতীত অবস্থায় পৌঁছে যায় l এটা নতুন কিছু নয় l আগের কল্পেও হয়েছিলো l ড্রামা অনুসারে নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করছ l এখন আবার ঘরে (পরম ধামে ) ফিরে যেতে হবে l এই ড্রামা জ্ঞান -বুদ্ধির l বাচ্চারা জানে - পুরানো এই দুনিয়া নরকে পরিণত হয়েছে l মনুষ্যই জ্ঞান বলের দ্বারা লক্ষ্মী-নারায়ণ হয় , এসবই এখন ভুলে গেছে l বলেও থাকে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ ক্ষীরসাগরে থাকত l এনাদের জন্য কত সুন্দর সুন্দর মন্দিরও বানায় l দ্বাপরের প্রথম দিকে যখন মন্দির বানিয়েছিল হয়তো ক্ষীরের (দুধের ) পুকুর বানিয়ে বিষ্ণু -মূর্তিকে ডুবিয়ে রাখত l খুব ভালো ভালো ছবি বানিয়ে পুজা করত l সেই সময়ে সবকিছু সহজেই পাওয়া যেত l বাবা সবই জানেন, ভারতের পবিত্রতা এমনই শ্রেষ্ঠ ছিল যা ক্ষীর সাগরের সাথে তুলণীয় ছিলো , যেন দুধ -ঘিয়ের নদী বইত l কত মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে l স্বর্গের নাম শুনতেই সকলের সেখানে যাবার খুব ইচ্ছে হয় l তোমরা -বাচ্চারা এখন জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন পেয়েছ l তবে তো বুদ্ধি দিয়ে সবকিছু বুঝতে পারছ l বুদ্ধি দ্বারা তো নিজের ঘরে পৌঁছে যাও , তারপরে স্বর্গে আসো l ওখানে সবকিছুই নতুন হবে l বাবা ! শ্রীনারায়ণের মূর্তি দেখে সবাই খুব খুশী হত , অনেক সমাদরে সিংহাসনে রাখত l এটা কেউ বুঝতে পারত না যে আমরাই ভবিষ্যতে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হব l এই জ্ঞান তো এখন বাবার থেকে পেয়ে গেছো l তোমাদের এখন ব্রহ্মাণ্ড আর সৃষ্টিচক্রের আদি, মধ্য, অন্তের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে l জেনেছ , কিভাবে ৫০০০ হাজার বছরের চক্র সম্পূর্ণ করি ! বাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন I তোমাদের -বাচ্চাদের অনেক খুশী হওয়া উচিত্ l সময় এখন অল্পই আছে l শরীরের তো সবসময়ই কিছু না কিছু হতেই থাকে l এটা তোমাদের অন্তিম জন্ম l ড্রামা প্ল্যান অনুসারে এখন তোমাদের সুখের দিন আসছে l দেখতে পাচ্ছ বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে l তোমরা তৃতীয় নয়ন পেয়েছ l মূলবতন , সূক্ষ্ম বতন , স্থূলবতনকে যথার্থ ভাবে জেনেছ l এই স্বদর্শন চক্র এখন তোমাদের বুদ্ধির দ্বারা ঘুরছে l খুশী তো হয়- এই সময় বেহদের বাবা শিক্ষক হয়ে আমাদের পড়াচ্ছেন l কিন্তু নতুন কথা শিখছে তাই মুহুর্মুহু ভুলে যাচ্ছে l তা না হ'লে তো বাবা বলতে খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতে l রামতীর্থ , শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছিল l সেইজন্য কৃষ্ণের দর্শন পেতে কত কিছু করত l কৃষ্ণের সাক্ষাত্কার হলে সে খুব খুশী হলো l কিন্তু তাতে তো কিছুই পাওয়া হলনা l এখানে তো তোমাদের -বাচ্চাদেরও খুশী হয় কারন তোমরা জানো যে ২১ জন্মের জন্য আমরা এত উঁচু পদ পাই l পুরো কল্পের তিন ভাগ তো সুখেই থাকো l যদি অর্ধেক অর্ধেক হত তাহলে তো কোনও সুবিধা হতনা l তোমরা ৩ ভাগই সুখ পাও l তোমাদের মতো সুখ কেউ পেতে পারেনা l তোমাদের জন্য তো অপার সুখ (অন্তহীন সুখ ) l অশেষ সুখে তো দুঃখের লেশমাত্র থাকেনা l সঙ্গমে সুখ দুঃখ দুইই জানতে পারবে কেননা তোমরা এখনই এই সঙ্গমে দুঃখ থেকে সুখের দিকে যাচ্ছ l এখন তো মুখ দিনের দিকে আর পা রাতের দিকে l এই দুনিয়া থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে অর্থাত্ বুদ্ধির দ্বারা ভুলতে হবে l আত্মা জানে যে , এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে l অনেক সময় ধরে নিজের ভূমিকা পালন .করে চলেছি l এরকম ভাবে নিজের সাথে কথা বলতে হয় l এখন যত .বাবাকে স্মরণ করবে ততোই জং পরিষ্কার হবে ( পাঁচ বিকারে কালিমালিপ্ত আত্মজ্যোতি পুনরায় প্রকাশমান হবে) l বাবার সর্ব -গুণ ধারণ করে যত নিজেকে বাবা সমান করে তুলতে পারবে , চেহারায় ততোই বাবার ঝলক দেখা যাবে l বুদ্ধিতে এই ধারণা স্থির হয়ে আছে যে এখন ঘরে যেতে হবে l তাই ঘরকেই( পরমধাম ) স্মরণ করতে হবে l পুরানো সব কিছুর বিনাশ অবশ্যম্ভাবী l পুরানো বাড়ী এই বিকার্রী দুনিয়ায় আর নতুন বাড়ী স্বর্গে, রাত -দিনের তফাত হয়ে যায় l এখানেও রাত -দিনের পার্থক্যের মতো একইরকম তফাৎ - বিষয় আর বৈতরণী নদীর l বিষয় বিষতুল্য আর বৈতরণী নদী স্বর্গে যাবার পথ যা জ্ঞানের দ্বারা পরমপিতা শিববাবার হাত ধরে পার হতে হয় l অর্থাত্ এই পুরানো দুনিয়ার বিষতুল্য ভোগ্যবস্তুর বৈতরণী নদী ভগবানের দেওয়া জ্ঞানের দ্বারা পার হতে হবে l এখানে একে অপরকে মারছে , ঝগড়া করছে l এছাড়া অন্যান্য লড়াইও শুরু হয়ে গেছে সেইজন্য বাবাকে আসতেই হয় l বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ স্বামী - স্ত্রীর অপ্রাপ্তির কারনবশতঃ স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার এমনকি মারধরও করা হচ্ছে l আগের কল্পেও এরকম অত্যাচার হয়েছিল l বর্তমানে যা ঘটছে পূর্ব কল্পেও সেই একই ঘটনা ঘটেছিল l দেখতে পাচ্ছ কত আহ্বান করছে ! ওই একই ড্রামার পুনরাবৃত্তি হয়ে চলেছে l এটা জানে একমাত্র বাবা আর বাচ্চা, অন্য কেউ জানেনা l এরপরে সবাইকে বুঝতে হবে l গায়নও আছে - পতিত -পাবন, সকলের সদগতিদাতা বাবা l তোমরা যে কোন কাউকে বোঝাতে পারো , ভারতে স্বর্গ আর নরক কিভাবে স্থাপিত হয় , বলবে তুমি এসো , আমি তোমাকে বিশ্বের হিস্ট্রি -জিওগ্রাফি বুঝিয়ে দেব l বেহদের এই হিস্ট্রি -জিওগ্রাফি (ইতি -বৃত্তান্ত / যা আগেও ঘটেছে ) ঈশ্বরই জানেন আর ঈশ্বরের তোমরা -বাচ্চারা জানো l পবিত্রতা , সুখ -শান্তির কিভাবে স্থাপনা হয়েছে এই হিস্ট্রি জিওগ্রাফি জানলে তোমরা সবকিছু জেনে যাবে l বেহদের বাবার থেকে তোমরা নিশ্চই বেহদেরই রাজত্ব নেবে l এখানে( ব্রহ্মাকুমারী বিশ্ববিদ্যালয় ) এসে বোঝো, অনেক বিষয় আছে l তোমাদের- বাচ্চাদের তো বুদ্ধিতে জ্ঞান ভরপুর হয়ে গেছে l খুশির পারদ তো অনেক উঁচুতে উঠে যায় l সমস্ত জ্ঞান তোমাদের -বাচ্চাদের আছে l সর্ব জ্ঞানেরও জ্ঞানী বাবার থেকে জ্ঞান পাচ্ছ l এই জ্ঞানের দ্বারা আমরাই লক্ষ্মী-নারায়ণ হবো l ওখানেই আবার ৮৪ চক্রের পালা শুরু হয় l এখন সকল মনুষ্যকে পরিষ্কার করে বোঝাতে হবে l এই বর্তমান .দুনিয়াকে পাবন দুনিয়া আদৌ বলা যায় কি ! সত্যযুগ আর কলিযুগ সম্পূর্ণ আলাদা. l এই চক্র কিভাবে আদি -মধ্য -অন্তের আবর্তে ঘুরবে, এটা বোঝানোর পক্ষে সহজ l অন্যকে বোঝানো খুব ভালো লাগে l কিন্তু পুরুষার্থ করে স্মরণের যাত্রায় স্থির থাকা, এরকম অনেকেই পারে না l আচ্ছা l
মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা, বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর সুপ্রভাত l রূহানী বাবার (পরম পিতা ) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মা ) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) এই পুরানো দেহ আর দুনিয়াকে বুদ্ধির দ্বারা ভুলে বাবা আর ঘর (পরম ধাম )-কে স্মরণ করতে হবে l সব সময় এই খুশিতে থাকতে হবে যে এখন আমাদের সুখের দিন প্রায় এসেই গেছে l

২) জ্ঞানস্বরূপ বাবার থেকে যে জ্ঞানের প্রাপ্তি হয়েছে তার স্মরণ করে বুদ্ধিকে ভরপুর রাখতে হবে l দেহ -অভিমানে এসে কখনও কোনোপ্রকার দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া ঠিক নয় l

বরদান :- সঙ্গমযুগের শ্রেষ্ঠ চিত্র সামনে রেখে ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ত্রিকালদর্শী ভব 

ভবিষ্যতের সর্ব প্রাপ্তির অনুভব তোমরা সঙ্গমযুগের ব্রাহ্মণরাই করে থাকো l এখন দ্বিমুকুট , সিংহাসন , সর্বগুণরত্ন, সর্ব অধিকারী মূরত তৈরী হচ্ছো l ভবিষ্যতে স্বর্ণতুল্য হবে কিন্তু এখন হীরেতুল্য তৈরী হচ্ছো l জীবনই হীরের মতো মূল্যবান হয়ে যায় l ওখানে সোনা ,হীরে -খচিত দোলনায় দুলবে আর এখানে বাপদাদার কোলে , অতিন্দ্রীয় সুখের দোলনায় দুলছো l সেইজন্য ত্রিকালদর্শী হয়ে বর্তমান আর ভবিষ্যতের চিত্রকে দেখতে দেখতে অর্থাত্ ওই বিশেষ চিত্রে যাঁদের দেখা যায় তাঁদের সকল গুণ আয়ত্ত্ব করে সর্ব প্রাপ্তির অনুভব করো l 

স্লোগান :- 

কর্ম আর যোগের সমতা পরমাত্মার সাথে আত্মার ভারসাম্য বজায় রাখার অধিকারী বানিয়ে দেয় l


***OM SHANTI***

Google+ Followers