BK Murli 23 April 2016 Bengali

BK Murli 23 April 2016 Bengali

 ২৩-০৪-২০১৬ প্রাতঃ মুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা যথাযথ সঠিক ভাবে বাবাকে স্মরণ করতে পারলে, তোমাদের চেহারায় জৌলুস যেমন বাড়বে, তেমনি থাকবে খুশীর ঝলকও"

প্রশ্ন :- 

বাবাকে স্মরণ করতে বসার সময় কি এমন বিধি ও নিয়ম পালনীয় ? আর তার দ্বারা কি কি লাভই বা হয় ?

উত্তর :- 

স্মরণের যাত্রায় যখন বসবে - তখন যত সব ব্যবসা-বানিজ্য, চাকরী-বাকরী, যত প্রকারের চিন্তা ইত্যাদি সব যা কিছু, তাকে বুদ্ধি থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে, নিজেকে 'দেহী' (আত্মা) ভাববে। দেহ আর দেহের সম্বন্ধের যা কিছু থাকে, -সেটাই সবচাইতে বড় প্রতিবন্ধকতার জাল। সেই জালকে গ্রাস করে, দেহ-অভিমানের সীমানা ছাড়িয়ে, অর্থাৎ "আপ মুয়ে মর গই দুনিয়া" (এই দুনিয়াদারীর কথাবার্তায় প্রভাবিত না হয়ে, সুখ-দুঃখ, নিন্দা-স্তুতি, হানি-লাভ সব ব্যাপারেই একরস হয়ে থাকা, অর্থাৎ এক হিসাবে তা মরে যাওয়া)। কর্তব্য-কর্ম সবকিছু নির্বাহ করার সাথে সাথেও, অন্য সব কিছু ভুলে থেকেই এক ও একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করবে। এই অবস্থাকেই অশরীরী অবস্থা বলা হয়। এর দ্বারাই আত্মায় জমে যাওয়া ময়লা ভষ্ম হয়ে যায়।

গীত :- 

রাত কী রাহী থক্ মাত জানা, সুবহ কী মঞ্জিল দূর নেহী।


( নিশীথ রাতের যাত্রীরা, ক্লান্ত হয়ে থেমে গেলে চলবে না। নতুন ভোরের আলোর প্রকাশ হল বলে।)
ওঁম্ শান্তি! বাচ্চারা সবাই স্মরণের যাত্রার যোগে বসে আছে। একেবারে অশরীরী হয়ে শান্তিতে। যদিও তারা শান্ত অবস্থায় কিন্তু তারা অবশ্যই কিছু করছে। অর্থাৎ আত্মারা তাদের স্বধর্মে স্থিত রয়েছে। যদিও কোনও ভ্রমন যাত্রায় নয়, কিন্তু তারা যাত্রার মধ্যেই রয়েছে। এই আশ্চর্য জনক যাত্রা শিখাবার বাবা, তাদেরকে সাথে করেও নিয়ে যায়। জাগতিক যাত্রায়- দুনিয়াদারীর ব্রাহ্মণেরা অন্যদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে যাত্রা করায়। কিন্তু বাচ্চারা, তোমরা হলে রূহানী ব্রাহ্মণ। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ বর্ণ বা ব্রাহ্মণ কুল বলা হয়। তোমরা বাচ্চারা এখানে বসেছো স্মরণের যাত্রার যোগে। কিন্তু অন্য সব সৎসঙ্গে যখন যোগে বসবে, তখন গুরুর কথা অবশ্যই মনে পড়বে। গুরুরা সেখানে আবার প্রবচনও শোনায়। এ সব ভক্তি-মার্গের রীতি-নীতি। কিন্তু এখানে যা হয় তা তো প্রকৃত অর্থেই স্মরণের যাত্রা। যার দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হয়। তোমরা সেই স্মরণের যাত্রার যোগে বসো, তোমাদের আত্মার মরচে-জং ছাড়াতে আর বিকর্মের বিনাশ করতে। বাবা নিজেই সে নির্দেশ দেন, ওনাকে স্মরণ করলেই মরচে ভষ্ম হয়, যেহেতু উনি পতিত-পাবন। উনি কারওকে স্মরণ করেন না। উনি এই জাগতিক দুনিয়ায় আসেন, যেহেতু অবিনাশী নাটকের চিত্রপটে তা আছে। সেই সময়কালে, যখন এই পতিত দুনিয়ার পরিবর্তন হয়ে পবিত্র দুনিয়া স্থাপনের সময় হয়। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম, যা প্রায় লোপ হয়ে গিয়েছে, তাকেই আবার ব্রহ্মা দ্বারা পুনঃস্থাপন করাতে। যেই ব্রহ্মার উদ্দেশ্যে বলা হয় - ব্রহ্মা থেকেই সে বিষ্ণুতে পরিবর্তিত হয়, মূহুর্ত মাত্র সময়েই। কিন্তু বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা হতে তার সময় লাগে ৫-হাজার বর্ষ। বুদ্ধি সহযোগে এ সব কথা বোঝার ব্যাপারও আছে। এই তোমরাই শূদ্র ছিলে, এখন যেখানে ব্রাহ্মণ বর্ণে এসেছো। তোমরা ব্রাহ্মণ হলে পরেই শিববাবা ব্রহ্মা দ্বারা তোমাদেরকে এই স্মরণের যাত্রার যোগ শেখান। যার দ্বারা তোমাদের আত্মার ময়লা ভষ্ম হতে পারে। দুনিয়ার রচনার চক্র কিভাবে ঘুরতে থাকে, তা তো তোমরা বুঝেই গেছো। তাতে অবশ্য সময় লাগে না। বর্তমানের এই দুনিয়াটা তো কলিযুগী দুনিয়া। অন্যরা তো বলে থাকে সবে তো কলির শুরু। কিন্তু বাবা বলেন- কলিযুগের এখন অন্তিম সময়। তাই তো এই ঘোর তমসা। বাবা বলেন, তোমাদেরকে তো বেদ-শাস্ত্রের সেই সার বুঝিয়েছি। তোমরা বাচ্চারা, সকালে যখন এখানে বসো, তখন তোমাদের সেই স্মরণের যাত্রার যোগে বসতে হয়। তা না হলে মায়ার ঝড়ের কবলে পরতে হয়। তাতে, চাকরী-বাকরী, ব্যাবসা-বানিজ্যের দিকে মন চলে যায়। যা কিনা সব বাইরের দুনিয়ার চিন্তা ভাবনা। এগুলো সব মাকড়সার জালের মতন জড়িয়ে ফেলে। সেগুলিই তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলে। দেহের প্রতিও কত প্রপঞ্চ- মায়া জড়িয়ে থাকে। জ্যাঠা, কাকা, মামা, গুরু, গোঁসাই ........... কত দিকেই না সেই জালের বিস্তার। তোমদেরই উচিত হবে দেহের সেই সম্বন্ধগুলিকে গ্রাস করা। নিজেকে কেবলমাত্র 'দেহী' (আত্মা) ভাবা। এই মনুষ্য শরীর তো ত্যাগ করতেই হবে। তাই এই সব কিছুই ভুলে যাওয়াটাই ভালো। তাই তো প্রবাদই আছে, "আপ মুয়ে মর গয়ী দুনিয়া"( ভাবার্থ: নিজে মারা গেলে তো দুনিয়াটাই তার জন্য শেষ হয়ে যায়। যখন মন থেকে পুরোনো দুনিয়া আর তার বৈভবগুলিকে ত্যাগ করা যায়, অর্থাৎ দুনিয়ার সাথে আর কোনও সম্পর্কই থাকে না, তখন তো সম্পূর্ণ দুনিয়াটাই মৃতবৎ তার কাছে। সে রকম, কারও মরে যাওয়া মানে এই জাগতিক দুনিয়ার সব কিছুই, সুখ-দুঃখ, ইত্যাদি অতীত হয়ে যায়। ব্রাহ্মণ বাচ্চারাও সেই প্রকারে সুখ-দুঃখ, নিন্দা-স্তুতি, হানি-লাভ সব পরিস্থিতিতেই একরস অবস্থায় থাকে। কোনও কিছুতেই প্রভাবিত না হয়ে তাকে অতীত ভেবে অনায়াসেই তা পার করে দেয়।) এই ধারণা তো স্পষ্টই হয়েছে যে, এই দুনিয়া এখন ধ্বংশের দোরগোড়ায়। তাই তো বাবা উপদেশ দিচ্ছেন, যতক্ষণ না সেই ধ্বংশের মুখ খোলে ততক্ষণ, কেবল স্মরণের যোগ করে যাও। যেভাবে এই ব্রহ্মা বাবাকে স্মরণের যোগ করতে থাকে। কোনও কোনও কন্যা আবার তার পতিকেই শুধু স্মরণ করে, যেহেতু তখন পতি তার কাছে হয়ে যায় পরমেশ্বর। তাতেই বাবাকে স্মরণ করা ছেড়ে দিয়ে পতির কথাই স্মরণ করতে থাকে। অথচ যেখানে এই বাবা তো পতি-দেরও পতি। অর্থাৎ বিশেষ-পাত্র। আর তোমরা সবাই হলে, কনে-স্বরাপ। ভগবানের ভক্তি তো সবাই করে। সেই সব ভক্তিকারীরা কয়েদী হিসাবে রয়েছে রাবণের কড়া পাহরায়। তাই তো বাবার করুণা হয় তাদের প্রতি। যেহেতু বাবা অতি কোমল স্বভাবের দয়াবান। তাইতো ওনাকেই দয়ার সাগর বলা হয়। বর্তমান সমাজে গুরু তো অনেক প্রকারের। যিনি কোনও কিছুর শিক্ষা দেন, তাকেই গুরু বলা যায়। কিন্তু এখানে এই বাবা হাতে-কলমে নিজে রাজযোগের অভ্যাস করান। যে রাজযোগ আর দ্বিতীয় কেউ শেখাতে পারে না, -একমাত্র পরমাত্মা ছাড়া। কল্প পূর্বেও এই ভাবেই পরমাত্মা এসে রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। তার ফল কি হয়েছিল, তা কিন্তু সেভাবে কেউ জানে না। যদিও গীতাতে এ সবের অনেক উদাহরণও দেওয়া আছে। একেবারে ছোট বাচ্চারাও গীতা কন্ঠস্ত করতে পারে। তাতেও কিন্তু কিছু কিছু গুন-কীর্তন ও মহিমার প্রচার হয়। এই গীতা-শাস্ত্র যা লুপ্ত হয় না। তাই তো গীতার এত মহিমা। এই গীতার জ্ঞান দ্বারাই বাবা সমস্ত জগৎ-এর পুনরুউথ্থান করেন। তার ফলে তোমাদের কায়া ( শরীর) হয় কল্পতরু, কল্পবৃক্ষের মতন, অর্থাৎ অমর বানিয়ে দেয়। তোমরা বাচ্চারা যখন বাবাকে স্মরণ করতে বসো, তা কিন্তু বাবাকে আহ্বান করা নয়। বাবার সাথে স্মরণের যোগে থেকে নিজেদেরই কল্যাণ ও উন্নতি সাধন করো। বাবার নির্দ্দেশগুলি মেনে চলার উপর, তোমাদের নিজেদেরই যথেষ্ট আগ্রহ থাকা উচিত। অবশ্যই এ কথা মনে রাখা উচিত, শিববাবাকে স্মরণ করে তবেই অন্ন-গ্রহণ করবো। যেহেতু, শিববাবার করুণাতেই তো তা খেতে পারি। অফিসে, দোকানে বা যে কোনও স্থলেই, বাবাকে স্মরণের জন্য কিছু না কিছু অবসর সময় তো পাওয়াই যায়। তোমাদের অনেকে অবশ্য চিঠি লিখেও জানাও যে, চেয়ারে বসতে বসতেই, স্মরণের যোগ লেগে যায়। অফিসার এসে দেখেন, বসে বসেই সে কোথায় যেন হারিয়ে যায়, অর্থাৎ অ-শরীরী ভাবে এসে যায়। কারও কারও আবার চোঁখও কিছুটা বন্ধ হয়ে আসে, কারও বা চোঁখ একদম খোলাই থাকে। কেউ কেউ আবার এভাবেও বসে থাকে, যেন দুনিয়াদারীর কোনও কিছুই প্রতিই তার নজর নেই। কেউ বা আবার বিভোর হয়ে যেন মনে হয় সে দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেছে। এ রকম বিভিন্ন প্রকারের অনেক কিছুই হয়ে থাকে। বাবা যখন তাকে টানেন-তখনকার সেই আনন্দই তো আলাদা। একে অন্যের কাছে জানতে চায়- তার কি অনুভূতি হলে। অনুভবকারী তাতে বলবে, "আমি যখন বাবার স্মরণে যোগে বসি, তখন বুদ্ধিতে কেবল একটাই ভাব থাকে, আমাকে তো বাবার কাছে পৌঁছতে হবে। বাবা বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন, তারা যদি আত্ম-সচেতন জ্ঞানে থেকে স্মরণের যাত্রার যোগে বসতে পারে, তবেই সেখানে পৌঁছানো যায়। পবিত্রতা না থাকলে, সেখানে কেউ পৌঁছতে পারে না। কিন্তু, সেই পবিত্রতা আসবে কিভাবে? তার হদিস তো একমাত্র সেই নিরাকারী বাবাই দিতে পারেন। কোনও দেহধারী মনুষ্য তা পারে না। তোমরা যেটুকুই বুঝেছো, তার দ্বারাই অন্যদের কল্যাণে আসবে। বাবার পরিচয় জানাবার পুরুষার্থ করেও অন্যদের কল্যান করা যায়। ভক্তি-মার্গেও "ও গড্-ফাদার" (হে ঈশ্বর পিতা) বলে-এভাবেও স্মরণ করে। বলে যে, হে বিশ্বপিতা আমার প্রতি করুণা করো। এই ভাবে ডাকাটা একটা রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেছে। বাবার প্রচেষ্টা হচ্ছে, তার মতন কল্যাণকারী যেন তোমরা বাচ্চারাও হও। যেহেতু মায়া তোমাদের সকলকে এত বোকা বানিয়ে রেখেছে। জাগতিক লৌকিক বাবারাও তাদের বাচ্চাদের চাল-চলন ঠিকঠাক না দেখলে, তখন তাকে আনাড়ী বা বোকা-ই বলে থাকে। এদের বাবা যতই ধন-সম্পদশালী হোক না কেন, তা হাতে পেলে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সব উড়িয়েই দেবে। ঠিক সেই ভাবেই বেহদের বাবাও, সেই ধরণের বাচ্চাদেরকে বলেন, তোমাদেরকে কত শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান-রত্নে এত ধনী বানানো সত্ত্বেও, এখন তোমাদের এত অবনতি ! যা সত্যি খুব আশ্চর্য জনক খেলাই বটে। তাই তো আজ ভারতের এই দৈন্যদশা। যাকে চরম দুর্দ্দশা বলা উচিত। ভারতবাসীরা কিন্তু নিজেদেরকে সেভাবে ভেবে দ্যাখে না যে, তারা আজ কত নিম্ন-স্তরে এসে পৌঁছেছে -যেহেতু তারা নিজেরাই কলিযুগের এই ঘোর তমসায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এই ভারতই একদা স্বর্গরাজ্য ছিল -অর্থাৎ তারা স্বর্গবাসী ছিল, সেই মানুষেরাই বর্তমানে নরকবাসী। এই সাধারণ জ্ঞানটাই কারও মধ্যে নেই আজ। যদিও ব্রহ্মাবাবাও তা জানতেন না। অতি চমৎকার ঘটনা যা এখন তার বুদ্ধিতে সুন্দর ভাবে খেলে। ৮৪ বার জন্ম নিতে নিতে অবশ্যই আত্মার এই নিম্ন গতি তো হতেই থাকে। যেহেতু উচ্চ মার্গে যাবার কোনও পদ্ধতিও থাকে না যেখানে। তাই পতন হতে হতে একেবারে পতিত অবস্থায় পরিনত হয়। এই সব নিয়ম-কানুনের ব্যাপারটা অন্যেরা সেভাবে উপলব্ধি করতে পারবে না। তাই তো বাবা স্বয়ং তোমাদেরকে এত সরল করে সব কিছুই বোঝাতে থাকেন। তোমরা আবার তা ভারতবাসীদের বোঝাও যে, তারাই একদা যেখানে স্বর্গবাসী ছিল, এখন আবার তারাই নরকবাসীতে পরিণত হয়েছে। এই ব্রহ্মার বাচ্চারাই পুরো ৮৪ বার জন্ম নেয়। পুনঃজন্মের মান্যতা তো আছেই। সেই হিসাবে নিম্নগতিও অবশ্যই হবে। কাদের কতবার পুনঃজন্ম হয়, বাবা তারও হিসাব বুঝিয়ে দেন। বাবার এই জ্ঞানের পাঠ ধারণ করে, এখন নিশ্চয় তোমরা অনুভব করতে পারছো, তোমরাই একদা পবিত্র-পাবন দেবী-দেবতা ছিলে, রাবণের কবলে পড়েই-পতিত হতে হয়েছে। তাই তো আবার বাবাকে এসে এই জ্ঞানের পাঠ পড়াতে হয়। যেই জ্ঞানে নিম্নের শূদ্র থেকে দেবতা হওয়া যায়। তাই তো এই বাবাকে -উদ্ধারকর্ত্তা, দিশারী, কত কিছুই বলা হয়। যদিও তারা তা বলে থাকে, কিন্তু তার কোনও অর্থই তারা বোঝে না। অবশ্য সেই সময় আগত প্রায়, যখন সবারই তা বোধে আসবে। তখন তারা শুধু দেখতেই থাকবে কি ছিল আর তা কিসে পরিণত হলো। অবিনাশী নাটকের চিত্রপট তো সেইভাবেই খদিত হয়েছে। এ কথা তো কেউ কোনওদিন স্বপ্নেও ভাবেনি যে, আমরাও লক্ষ্মী-নারায়ণের মতন জ্ঞানের, গুনের, ভাগ্যের, ধন-সম্পদের অধিকারী হতে পারি। বাবা আমাদেরকে সেই স্মৃতিকেই জাগ্রত করাচ্ছেন। কিন্তু বাবার থেকে সেই আশীর্ব্বাদের বর্সা পেতে গেলে, আগে ওনার শ্রীমত অনুসারে তো চলতে হবে। স্মরণের যাত্রার যোগের অভ্যাসে অভ্যাসী হতে হবে। তোমরা তে জানো, খ্রীষ্টান ধর্মের পাদ্রীরা যখন পদযাত্রায় চলেন, তা কত নিঃশব্দে। যখন তারা কেবল যীশুকেই স্মরণ করতে থাকে। যেহেতু তারা যীশুকে ভালবাসে, তাঁর সাথেই তারা প্রেমের বন্ধনে বাঁধা পরে। সেই রকমই তোমরা রূহানী পান্ডাদেরও প্রীত-বুদ্ধি কেবল পরমপ্রিয় পরমপিতা পরমাত্মার সাথেও রয়েছে। বাচ্চারা, তোমরা তো এও জানো যে, পুরুষার্থের ক্রমিক নম্বর অনুসারে, পূর্বের কল্পগুলির অনুসারেই সেখানেই সেভাবে রাজধানী স্থাপন হবে। যে যতটা শ্রীমত অনুযায়ী চলে, যতটা পুরুষার্থ করবে, তার নম্বরের ক্রমিকও সেই অনুযায়ী হবে। বাবার থেকে এই প্রকারের অনেক ভাল ভাল উপদেশ (মত) পাওয়া যায়। তবুও গ্রহের দশায় কারণে, শ্রীমতের উলঙ্ঘন করে ফেলে। যদিও এই ধারণা তো আছেই, শ্রীমতে চললে বিজয় অনিবার্য। কারণ নিশ্চয়তাতেই বিজয় প্রাপ্তি! তাই তো বাবা বার বার উপদেশ দেন- ওনার মতানুসারেই চলতে। তোমরা কিন্তু একথা ভেবো না যে, এই উপদেশ বা মত ব্রহ্মার। সর্বদাই একথা মনে রাখবে, ব্রহ্মার মুখ দ্বারা শিববাবা তার রায় শোনাচ্ছেন। ব্রহ্মা কেবল সেবার রীতি- নীতি শোনাবেন। কেউ কেউ বাবার কাছে জানতে চান, বাবা অমুক-অমুক ব্যাবসা কি আমি করতে পারি? বাবা এই সব বিষয়ে কোনও মতামত দেন না। বাবা তাতে জানান, উনি এসেছেন, এই দুনিয়ার লোকেদেরকে জ্ঞানের পাঠের যক্তিতে তাদেরকে পতিত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে পাবন বানাতে। তাই অন্য কোনও ব্যাপারে উনি কোনও মত দেন না। যেহেতু, তোমরা তো আমাকে ডেকেছো এই বলে, - হে পতিত-পাবন বাবা তুমি এসে আমাদেরকে পবিত্র-পাবন বানাও। তাই তো উনি কেবল তারই যুক্তি জানান। এটা তো সহজ-সরল কথা। তোমরা (দৈবী-গুণধারীরা) পরিচিত গুপ্ত-সেনা হিসাবে। অন্যেরা দেব-দেবীদের হাতে কত প্রকারের অস্ত্র-শস্ত্র, তীর-ধনুক ইত্যাদি দেখিয়ে থাকে। অথচ, এই সব অস্ত্র-শস্ত্রের তো কোনও ব্যাপারই নেই (সত্যযুগে) যা কিনা ভক্তি-মার্গের রীতি-রেওয়াজ। বাবা এসে আমাদেরকে প্রকৃত মার্গের হদিশ দেন - যার দরুণ অর্দ্ধ-কল্প আমরা পবিত্র-খন্ডে (সত্য-ত্রেতা) অধিষ্ঠান করতে পারি। যা অন্য কোনও খন্ড নয়- ভারত-খন্ড। অন্য কারোকে তা বোঝাতে যাও, তারা তা মানতেই চাইবে না। বলবে, তা কি করে সম্ভব অথবা কি বা প্রমান আছে, তা কেবল ভারত-খন্ডই ছিল? তার যুক্তিতে বাবা জানান, যীশু-খ্রীষ্টের ৩-হাজার বর্ষ পূর্বে, ভারত-খন্ডই স্বর্গ ছিল। তখন অন্য কেনও ধর্মের (দেবী-দেবতা) অস্তিত্বই ছিল না। এরপর কল্প-বৃক্ষের বিস্তারের সাথে সাথে নতুন ধর্মেরও প্রচলন হতে থাকে। কিন্তু এসব তোমরা ভুলে বসে আছো, যেহেতু তোমরা তোমাদের বাবাকে, নিজেদের ধর্মকে আর কর্মকেও ভুলে গেছো। নিজেদেরকে দেবী-দেবতা ধর্মের ভাবলে কোনও খারাপ-নোংরা খাবার-দাবার মোটেই খেতেই না। যেহেতু সে সব খেয়ে থাকো, তাই তোমাদের দৈবগুনও হারিয়ে ফেলেছো। আর নিজেদেরকে হিন্দু হিসাবে পরিচয় দাও। তা না হলে তো লজ্জ্বা আসা উচিত ছিল। আমাদের পূর্বজ এত উচ্চ স্তরের পবিত্র ছিলেন, যেখানে আজ আমরা এত পতিত অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। যেহেতু স্বধর্ম ভুলে বসে আছি। কিন্তু এখন আবার তোমরা বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের এই অবিনাশী নাটকের আদি-মধ্য-অন্তকে খুব ভালভাবে বুঝতে পেরেছো। যে বিষয়ে জানবে না, তখন তা অন্যকে বলবে, এখনও বাবা এই বিষয়ে আমাদেরকে বোঝাননি। ব্যস্ তাতেই হবে। না হলে লজ্জ্বায় পড়ে যাবে। বলবে, আমি তো এখনও বিদ্যার্থী। সব কিছু জানা হয়ে গেলে তো বিনাশই হয়ে যেত। কিন্তু তা তো আর হয়নি। এখনও সামান্য দেরী আছে। আমরা বিদ্যার্থীরা এখনও জ্ঞানের পাঠ নিচ্ছি। শেষে তো পবিত্র হয়েই যাবো। পুরুষার্থের ক্রমানুসারে আত্মার ময়লা বেরোতে থাকবে আর সতোপ্রধান পবিত্র হতে থাকবো। এই ভাবে হতে হতে এই পুরোনো দুনিয়ারও বিনাশ হয়ে যাবে। অনেকে আজকাল আবার এ কথাও বলে যে, পরমাত্মা কোথাও না কোথাও অবশ্যই এসে থাকবেন। অথচ, যা এখনও গুপ্ত তাদের কাছে। যদিও বর্তমান সময়কালটা একেবারে বিনাশের অবস্থায় পৌঁছেছে। পরবর্তীতে বাবা আমাদেরকে মশার দলবদ্ধ হয়ে যাবার মতন করে বাবার পিছনে যেতে হবে। যহেতু এই বাবা উদ্ধারকারী, সঠিক পথের দিশারী, তাই উনি আমাদেরকে সাথে করেই নিয়ে যান। বাবা আমাদের বিষয়ে এটাও জানেন যে, সবাই একাগ্র চিত্তে স্মরণের যোগে বসে না। কেউ কেউ একেবারে সঠিক পদ্ধতিতে স্মরণের যোগে বসেই থাকে। কেউ আবার আধা ঘন্টা, কেউ বা ১৫ মিনিট। কেউ তো আবার ১ মিনিটও স্মরণের যোগে বসে না। এত সত্ত্বেও তাদের অনেকে আবার বলে থাকে যে, আমি তো সর্বক্ষণই বাবাকে স্মরণ করতেই থাকি। তাই যদি হোতো- তবে তো তার চেহারাতে সেই খুশীর ঝলকও থাকত। অতিন্দ্রিয় সুখের অনুভবী বাচ্চাদের চেহারায় সেই খুশীর ঝলক থাকে। তাদের বুদ্ধিযোগ স্থির থাকে - এদিক-ওদিক অন্য কোনও কিছুই আকর্ষণ করে না। তারা সেই অনুভূতিতেই বিভোর হয়ে থাকে। যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বিচার করলেও দেখা যায় যে, ঐ এক প্রেমীর স্মরণে বসে থাকলেই, আত্মার কত ময়লা ভষ্ম হয়ে পরিস্কার হয়ে যায়। এই ভাবে অভ্যাস করতে করতেই তা স্বভাব-সংস্কারে এসে যায়। এই স্মরণের যাত্রায় তোমরা চির-স্বাস্থ্যবান ও অবিনাশী ধন-রত্নের অধিকারী হতে পারো। সবগুলি চক্রও মনে পড়ে যায় তখন। পরিশ্রম শুধু এটহকুই- স্মরণের যাত্রার যোগে থাকাটা। তা পারলে, বুদ্ধিতেও চক্রের জ্ঞানগুলি ঘোরাফেরা করতে থাকবে। বাচ্চারা, তোমরা এখন মাস্টার বীজরূপে পরিণত হয়েছো। তাই স্মরণের যোগের সাথে সাথে স্ব-দর্শণ চক্রের অভ্যাসও করতে হবে। তোমরা ভারতবাসীরাই জগৎকে আলোর দিশা দেখাবে। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলোতে সবাইকে তাদের (আত্মাদের) মূল-বাসস্থানের রাস্তাও জানাতে হবে। বিস্তারিত বোঝাতে হবে তাদের। তোমরাই তাদেরকে জানাবে মুক্তি আর জীবন-মুক্তির উপায়ের বিষয়ে। আর তা পারো বলেই তো তোমরা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলোর ভান্ডারী (লাইট হাউস)। সেই উদ্দেশ্য সাধনেই তোমাদের স্ব-দর্শণ চক্রকে সজাগ রাখবে। কোনও কিছুর নাম করলে তো তার ব্যাখ্যাও দিতে হবে। বাবা তো তোমাদের সামনে বসেই সে সবের বর্ণন করেন। যে তার প্রিয়ার সামনে থাকে, তার উপর তো শান্তির বর্সা বর্ষিত হবেই। যত তার সান্ন্যিগ্ধে যাবে- তত বেশী আনন্দ অনুভূত হবে। এরপর দ্বিতীয় নম্বরে টেপ রেকর্ডার (যাতে বাবার কন্ঠস্বর থাকে)।আর তৃতীয় নম্বরে বাবার মুরলী। শিববাবাই ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদেরকে সে সব জানান। এই (ব্রহ্মা) বাবাও কিন্তু পূর্বে এসব কিছু জানতো না, যা এখন এসব বুঝতে পারছে। অতএব তোমাদের ধারণায় যেন থাকে যে, -"এসব কিছুই শিববাবারই বক্তব্য।" এই ব্যাপারটা যারা বুঝতে পারে না, ;তারাই তাকে অবজ্ঞা করে। শুববাবা যা কিছুই বলেন, তা সবই কল্যাণকারী। যদিও সাময়িক কারও কোনও অ-মঙ্গল হয়, তাও ভবিষ্যতের মঙ্গলের কারণেই তা হয়। অর্থাৎ তা মঙ্গল রূপে রূপান্তরিত হয়। আচ্ছা!

" মিষ্টি মিষ্টি অনেক দিনের হারিয়ে যাওয়া হারানিধি বাচ্চারা এবং আবার ফিরে পাওয়া সিকিলধে বাচ্চাদেরকে তাদের মাতা-পিতা বাপদাদা স্মরণ করছেন আর জানাচ্ছেন স্নেহ-সুমন ও সু-প্রভাত ! আত্মাদের রূহানী পিতা তার রূহানী আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার !

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) বাবার প্রতিটি নির্দেশকে সঠিক মার্যাদা দিয়ে চলে, নিজের উন্নতি সাধন করতে হবে। এক ও একমাত্র বাবার সাথেই সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে হবে। বাবার স্মরণে থেকেই ভোজনের খাদ্য সামগ্রী বানাতে হবে এবং স্মরণের যোগেই ভোজন করতে হবে।

২) আধ্যাত্মিক আলোর ভান্ডারী হয়ে সবাইকে, মুক্তি আর জীবন-মুক্তির দিশা জানাতে হবে। বাবার মতনই কল্যাণকারী অবশ্যই হতে হবে।

বরদান :- 

নিজের শ্রেষ্ঠ ধারণাগুলির প্রতি-ত্যাগের দ্বারা ভাগ্যের অনুভব করতে পারা, সত্যিকারের ত্যাগী (ভব) হও।

বিস্তার :- ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ট ধারণা হলো-সম্পূর্ণ পবিত্রতা। তাই তো কথিত আছে-"প্রাণ যায় যাক্, কিন্তু ধর্মে থেকো অবিচল।" যে কোনও পরিস্থিতিতেই, নিজের ধারণা রক্ষার্থে, যা কিছুই ত্যাগ করতে হোক না কেন, যত কিছুই সহ্য করতে হোক না কেন, যেমন পরিস্থিতিরই মোকাবিলা করতে হোক না কেন, -সর্ব- ক্ষেত্রেই সাহসের সাথে, খুশীর দ্বারাই তা সম্পূর্ণ করতে হবে। এর ফলে ত্যাগকে, ত্যাগ না ভেবে, তা ভাগ্য, -এই অনুভব যে করতে পারবে, তাকেই বলা যাবে প্রকৃত ত্যাগী। এই ধারণার বাচ্চাদেরকেই-"প্রকৃত ব্রাহ্মণ" বলা যায়।

স্লোগান :- 

সর্বপ্রকার শক্তিকেই নিজের ইচ্ছানুসারে নির্দেশের অধীনে রাখতে পারার ক্ষমতা সম্পন্ন বাচ্চারাই মাস্টার সর্বশক্তিমান।


***OM SHANTI***



Google+ Followers