BK Murli 27 April 2016 In Bengali

BK Murli 27 April 2016 In Bengali

২৭-০৪-২০১৬ প্রাত: মুরলী. ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা দূর দেশ থেকে এসেছেন তোমাদের বাচ্চাদের জন্য নতুন স্বর্গের রাজ্য স্থাপন করতে , তাই তোমরা এখন স্বর্গরাজ্যের উপযুক্ত তৈরী হচ্ছো l "

প্রশ্ন :-

 যেসব বাচ্চার সম্বন্ধ শিববাবার সঙ্গে অটুট হয়েছে , তাদের নিশ্চয়তার চিহ্ন কি হবে ?

উত্তর :- 

তারা চোখ বন্ধ করে শিববাবার আজ্ঞা বা শ্রীমত অনুসারেই চলবে l কখনো এই কথা চিন্তাতেও আনবে না যে , শ্রীমতে চললে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে , এইধরনের নিশ্চয় বুদ্ধি সম্পন্ন বাচ্চাদের প্রতি বাবাও সম্পূর্ণ দায়িত্ববান থাকেন l এইরকম নিশ্চিন্ততার বল বা শক্তি তারা প্রাপ্ত করে l তাদের অবস্থা অচল এবং স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে যায় l

গীত :- 

তুমহি হো মাতা , তুমহি পিতা হো .............
তুমিই মাতা, আর তুমিই হলে পিতা....

ওম্ শান্তি l 

কার মহিমা তোমরা শুনলে ? যাঁর মহিমা তোমরা শুনলে তিঁনি ছাড়া তোমাদের বাচ্চাদের এই দুনিয়ার কেউ সঠিকভাবে চিনতেই পারে না l এই মহিমা হল সর্ব্বোচ্চ শিববাবার মহিমা l বাকি যাদের মহিমা এই দুনিয়ায় মানুষ করে তাদের এতো মহিমা করার কোনো প্রয়োজন নেই l
উঁচুর থেকে উঁচু , সর্বোচ্চ হলেন শিববাবা l এই বাবার পরিচয় আর কে দেবে l বাবা নিজেই এসে আত্মাদের আর নিজের পরিচয় দেন l মানুষ বলে যে , মহান আত্মা , জীব আত্মা , কিন্তু সঠিকভাবে আত্মার পরিচয় কেউ জানে না l যখন মানুষের মৃত্যু হয় , তখন বলা হয় যে আত্মা শরীর থেকে বের হয়ে গেছে l আত্মা চলে গেলে শরীর মৃত হয়ে যায় l কিন্তু আত্মা অবিনাশী , তার কখনো মৃত্যু হয় না l আত্মা একটি ছোটো তারার মতো অতি সূক্ষ্ম l এই চর্ম চক্ষু দিয়ে আত্মাকে দেখা যায় না l আত্মাই সব কর্তব্য কর্ম করে কিন্তু প্রতি পদে দেহ অভিমানে আসার কারণে নিজের লৌকিক নাম নিয়ে গর্ব করে আর বলতে থাকে আমিই এই কাজ করেছি l বাস্তবে আত্মাই সব কাজ করে l শরীর তো শুধুমাত্র উপাদান l সাধুসন্তরাও জানেন যে , আত্মা অতি সূক্ষ্ম এবং ভ্রুকূটির মধ্যে থাকে l কিন্তু এই অতি সূক্ষ্ম আত্মার মধ্যে যে জন্ম জন্মান্তরের অভিনয় করার সংস্কার লুকিয়ে আছে এটা তারা জানেন না l কেউ কেউ বলেন , আত্মার মধ্যে কোনো সংস্কার থাকে না , আত্মা নির্লিপ্ত l আবার কেউ কেউ বলে , সংস্কার অনুসারে আত্মা জন্মগ্রহন করে l এইরকম অনেক মতভেদ আছে l কোন কোন আত্মা ৮৪ জন্ম নেয় , এটাও কেউ জানে না l তোমরাই জানো যে সূর্যবংশীরাই ৮৪ জন্ম নেয় l তাদেরই ৮৪ জন্মের চক্র পার করতে হবে l আত্মারাই ৮৪ জন্ম নিতে নিতে পবিত্র থেকে আস্তে আস্তে পতিত হয়ে যায় l তাহলে তাদের পবিত্র কে করবে ? বাবাই হলেন উঁচুর থেকে উঁচু ( সর্ব্বোচ্চ ) পতিতপাবন , বাবার মহিমাই সবার থেকে উচ্চ l সবাই তো ৮৪ জন্ম নেয় না l যারা পরের দিকে আসে তারা ৮৪ জন্ম নেয় না l সবাই তো একসঙ্গে এই পৃথিবীতে আসে না l যারা প্রথমের দিকে সত্যযুগে আসবে অর্থাত্ সূর্যবংশী রাজা আর প্রজা হবে , তারাই কেবলমাত্র ৮৪ জন্ম গ্রহন করবে l পরের দিকে আস্তে আস্তে মানুষের বৃদ্ধি হতে থাকবে l সেইসময় কেউ ৮৩ বা কেউ আবার ৮০ জন্ম নেবে l সত্যযুগে পুরো ১৫০ বছর আয়ু হয় l কেউ তাড়াতাড়ি মারা যায় না l এইসব গোপন রহস্যের কথা বাবাই তোমাদের বোঝান l অন্যেরা এই পরমপিতা , পরমাত্মা শিববাবাকে সঠিক জানে না l বাবা বলেন যে যেমন তোমাদের আত্মা অতি ক্ষুদ্র , সূক্ষ্ম ,ঠিক তেমনই আমার আত্মাও অতি ক্ষুদ্র আর অতি সূক্ষ্ম l তোমারাই কেবল জন্ম মরণ চক্রে আসো , কিন্তু আমি এই জন্ম মরণে আসি না l যখন দুনিয়া পতিত হয়ে যায় , তখনই তোমরা আমাকে ডাকো l যখন তোমরা ভীষণভাবে দুঃখী হয়ে যাও , তখনই আমাকে ডাকতে থাকো l এই সময় এই পড়াশোনা শিববাবাই তোমাদের করাচ্ছেন l কেউ কেউ আবার জিজ্ঞেস করে যে , আমরা কি করে বিশ্বাস করবো যে পরমাত্মা স্বয়ং এই পৃথিবীতে আসেন l তখন তাদের তোমরা বোঝাবে, এই পতিত দুনিয়ার বিদ্ধস্ত মানুষ দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভগবানকে ডাকে , " হে পতিতপাবন এসো l " এখন বাবা তো নিরাকার , তাঁর শরীরও নেই আবার তাঁকে আসতেও হবে এই পতিত দুনিয়ায় l পবিত্র দুনিয়াতে তো তিঁনি আসেন না l এইভাবে তোমরা সবাইকে বোঝাবে l এটাও তোমরা বলবে যে আত্মা যেমন ছোটো , পরমাত্মাও ঠিক তেমনই ছোটো কিন্তু তিঁনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ , তিঁনি জ্ঞানের সাগরও l বাবা বলেন যে তোমরা আমাকে পরমপিতা পরমাত্মা বলে ডাকো l এতো করে যখন ডাকো তখন তো আমাকে আসতেই হবে l এই গায়নও আছে যে "দূর দেশে যিনি থাকেন তিঁনি এই অন্য দেশে আসেন l " এখন বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন যে , তোমরা অন্যের দেশ অর্থাত্ রাবণ রাজ্যে আছো l সত্যযুগ আর ত্রেতাযুগে আমরা ঈশ্বরীয় দেশ অর্থাত্ নিজেদের দেশে ছিলাম , সেখানে ছিলো স্বর্গ রাজ্য l আর দ্বাপরযুগ থেকে আমরা অন্যের দেশ অর্থাত্ রাবণ রাজ্যে এসে পড়ি l বাম মার্গে অর্থাত্ অবনতির পথে আসতে থাকি l তখন থেকেই ভক্তির পথ শুরু হয় l প্রথম প্রথম মানুষ শিববাবারই ভক্তি শুরু করে , তারা শিবের বিরাট বড় লিঙ্গ বানায় , কিন্তু শিব তো এতো বড়োই নয় l এখন তো তোমরা বুঝেছো যে আত্মা আর পরমাত্মার মধ্যে তফাত কোথায় l পরমাত্মা জ্ঞানসমৃদ্ধ , সর্বদা পবিত্র , সুখের সাগর এবং আনন্দের সাগর l এই মহিমা তো পরমাত্মারই l এখন তোমরা সবাই ডাকতে থাকো , হে পতিতপাবন এসো l পরমাত্মা শিববাবাই প্রতি কল্পের শেষে আসেন l দূরদেশে থাকা মুশফিরকে তোমরা ডাকো আর তাঁর মহিমা করতে থাকো l ব্রহ্মা বা সরস্বতীকে তো তোমরা ডাকো না l নিরাকার পরমাত্মা শিববাবাকেই তোমরা ডাকো l আত্মারা ডাকে হে দূরদেশী , একবার তো এই দেশে এসো , কারণ এখানে সবাই এখন পতিত হয়ে গেছে l তাই আমি তখনই আসি যখন মনে করি এখন রাবণ রাজ্য শেষ হবার প্রয়োজন l এই সঙ্গম যুগেই আমি আসি l এই গুপ্ত খবর কেউ জানে না l মানুষ বলে যে পরমাত্মা বিন্দুরূপ l আজকাল আবার এও বলে ,আত্মাই পরমাত্মা , পরমাত্মাই আত্মা l আত্মা কখনো পরমাত্মা হতে পারে l আত্মা , পরমাত্মা দুজনেই আলাদা আলাদা l দেখতে দুজনকেই একরকম , কিন্তু আত্মা ৮৪ জন্ম নিতে নিতে পতিত হয়ে যায় l পরমাত্মা কিন্তু জন্ম মরণ রহিত l যদি তোমরা আত্মাকেই পরমাত্মা বলো , তবে ভাবো যে , কিভাবে সতোপ্রধান পরমাত্মা ধীরে ধীরে তমোপ্রধান হয়ে যাবে l এতো হতেই পারে না l বাবা বলেন যে , আমি সর্ব আত্মাদের সেবা করার জন্যই আসি l আমার কোনোরকম জন্ম হয় না l আমি আত্মাদের নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসীতে পরিণত করতেই আসি l স্বর্গ স্থাপন করতে আমি নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আসি l আমি এসেই তোমাদের স্বর্গের উপযুক্ত তৈরী করি l এটা তো তোমরা বুঝেছো যে , সব আত্মাকেই তাদের নিজেদের পার্ট দেওয়া আছে l
আর পরমাত্মা হলেন জন্ম মরণ রহিত l পরমাত্মা তো অবশ্যই এই পৃথিবীতে আসেন , সেইজন্যই শিবরাত্রি পালন করা হয় l কিন্তু তিনি কখন আসেন সেই কথা কেউ জানে না l চিরকালীন প্রথা হিসাবেই মানুষ শিবরাত্রি পালন করে আসছে l কিন্তু বোঝা যায় তিনি সঙ্গম যুগেই আসেন , কারণ তিঁনি স্বর্গ রাজ্য স্থাপন করেন l পতিত মানুষকে পবিত্র করার জন্য তাঁকে তো সঙ্গম যুগেই আসতে হবে তাই না ? স্বর্গ রাজ্য হলো পবিত্রতা দিয়ে ভরা l সেইজন্য মানুষ ডাকে , হে পতিত পাবন এসো l তাহলে অবশ্যই তিঁনি পতিত দুনিয়ার বিনাশের সময়ই আসেন কারণ বিনাশ হলে তবেই না তিঁনি পবিত্র দুনিয়া স্থাপন করবেন l প্রত্যেক যুগের শেষে তো তিঁনি আসেন না l বাবা বলেন - আমাকে সঙ্গমের সময়ে এসেই পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানাতে হয় l এই দেশ হলো পরদেশ , রাবণের রাজ্য l কিন্তু এখানকার মানুষ জানেই না যে এখানে রাবণ রাজ্য চলছে l কবে থেকে এই রাবণ রাজ্য শুরু হয়েছে তাও জানে না l প্রথম দিকে মূখ্য যে কথা , আত্মা আর পরমাত্মার ,তার রহস্য তোমাদের বোঝাতে হবে l তারপর পরমাত্মা যে কল্পের সঙ্গম যুগে আসেন মানুষকে পবিত্র বানানোর জন্য সেই কথা তোমাদের বোঝাতে হবে l এই কাজ একমাত্র তাঁরই , শ্রীকৃষ্ণের নয় l শ্রীকৃষ্ণ তো নিজেই ৮৪ জন্ম নিতে নিতে নীচে নামতে থাকেন l সূর্যবংশীরা সবাই আস্তে আস্তে নীচে নামতে থাকেন l মানুষের ঝাড় তো অর্ধেক তাজা আর অর্ধেক পুরনো , এ তো হয় না l যখন সকলের জর্জরীভূত অবস্থা হবে তখনই পরিবর্তন হবে l কল্পের আয়ু কতো তাও মানুষ জানে না l শাস্ত্রেতো কল্পের আয়ু অনেক বছর দেখানো হয়েছে l এইসব কথা বাবাই একমাত্র বোঝাতে পারেন l এতে কোনো প্রশ্ন উঠতেই পারে না l রচয়িতা বাবা সবসময় সত্যি কথাই বলেন l তোমরা এতো বী . কে রা যখন মানো , তখন বিচার করে বিশ্বাস করেই তা মানো l ভবিষ্যতে সবাই যখন পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হবে তখন সবাই বুঝতে পারবে l প্রথমে তোমরা সবাইকে বোঝাও যে পরমপিতা পরমাত্মা হলেন নিরাকার , তিঁনি অনেক দূরদেশ থেকে এখানে আসেন l তাঁর তো শরীর নেই , তাই কার শরীরে আসবেন l সূক্ষ্মবতনে এসে তো তাঁর কিছু করার নেই l অবশ্যই এখানে আসতে হবে l প্রজাপিতা ব্রহ্মারও এখানেই প্রয়োজন l ব্রহ্মাই বা কে তাও বাবাই বোঝান l যাঁর ভিতরে বাবা প্রবেশ করেন তিঁনি নিজেই তো তাঁর জন্ম সম্বন্ধে জানতেন না , তাই বাচ্চারাও জানতো না l যখন আমি এনাকে দত্তক নিই তখন এনার দ্বারা ব্রাহ্মণ বাচ্চা তৈরী হয় l আমি সাকার ব্রহ্মাবাবার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদেরও বোঝাতে থাকি , তোমরা কি তোমাদের জন্মকে ভুলে গেছো l এখন সৃষ্টিচক্র পুরো হয়ে এসেছে , আবার এর পুনরাবৃত্তি হবে l আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাতে আর পবিত্র বানাতে এসেছি l পবিত্র হওয়ার জন্য আর কোনো পথ নেই এই রাজযোগ ছাড়া l যদি এই রহস্য সবাই জানতো তাহলে কেউ আর গঙ্গাস্নান করতে বা কুম্ভ আদি মেলায় পবিত্র হওয়ার জন্য যেত না l এই গঙ্গা নদীতে তো সবাই সবসময় স্নান করে এসেছে সেই দ্বাপর যুগ থেকে l তারা জানতো যে গঙ্গাস্নান করলে পাপ নষ্ট হয়ে যায় l কিন্তু কারোর পাপ কি নষ্ট হয়েছে ? প্রথম প্রথম তো আত্মা আর পরমাত্মার রহস্যই সবাইকে বলো l আত্মারাই , পরমাত্মা বাবাকে ডাকতে থাকে , কারণ আত্মাও নিরাকার আর তার পিতা পরমাত্মাও নিরাকার l এই শরীরের দ্বারাই আত্মারা বাবাকে ডাকতে থাকে l ভক্তির ফল হিসাবে ভগবানকে তো আসতেই হবে , এও নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l
বাবা বলেন যে , আমাকে নতুন দুনিয়া স্থাপন করার জন্য আসতেই হয় l শাস্ত্রতেও বলা আছে যে , ভগবানের যখন কোনো সংকল্প হবে তখন তা নাটকের নিয়ম অনুসারেই হবে l আগে তোমরা এই কথা কিছুই বুঝতে না l দিনে দিনে বুঝতে পারছো l বাবা বলেন যে ,আমি তোমাদের নতুন নতুন সব গুপ্ত কথা বলছি l শুনতে শুনতে তোমরা আস্তে আস্তে সব বুঝতে পারছো l শিববাবা যে তোমাদের পড়ান এই কথা তোমরা আগে বলতে না l এখন তোমরা খুব ভালোভাবে বুঝে গেছো এবং আরো কিছু বোঝার জন্য তোমাদের নেশা তৈরী হয়েছে l তোমাদের রোজ বোঝাই কি করে তোমরা অন্যকে বোঝাবে l প্রথমে তো এটা নিশ্চিত করে বলো যে বেহদের বাবা যখন তোমাদের বোঝাচ্ছেন তখন তিঁনি তো সত্যি কথাই বলবেন l এতে দ্বিধার কোনো কথাই নেই l কোনো কোনো বাচ্চা এই জ্ঞানে খুবই পাকা , আবার কেউ কেউ একটু কাঁচা l জ্ঞানে কাঁচা হলে কাউকে তোমরা ঠিকমতো বোঝাতে পারবে না l স্কুলের পড়াশোনাতেও বাচ্চারা ভালো , মাঝারি , এবং মন্দ সব ধরনেরই হয় l অনেক বাচ্চার এই সংশয় উপস্থিত হয় যে আমরা কি করে বিশ্বাস করবো , পরমপিতা পরমাত্মা এসে এই জ্ঞান দেন কারণ তাদের বুদ্ধিতে এই কথা বসে গিয়েছে যে , স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এসে গীতাজ্ঞান শুনিয়েছিলেন l কিন্তু বুদ্ধি দিয়ে বোঝা উচিত যে শ্রীকৃষ্ণ তো এই পতিত দুনিয়ায় আসতেই পারেন না l কারণ তিঁনি তো সম্পূর্ণ পবিত্র আত্মা l তাদের এই কথা খুব ভালো করে বোঝাও , পরমাত্মাকেই কোনো পতিত শরীরকে আশ্রয় করে এই পতিত দুনিয়ায় আসতে হয় l বাবা এই কথাও বুঝিয়ে বলেন যে প্রত্যেকেরই নিজের নিজের আলদা আলদা বুদ্ধি l কেউ কেউ চট্ করে বুঝে যায় l যতো পারো তোমরা বোঝাও l সমস্ত ব্রাহ্মণ একধরনের হয় না l বাচ্চাদের মধ্যে অনেক জন্মের এই দেহ অভিমান থাকে l এটা বাবাও জানেন যে বাচ্চারা জ্ঞানের হিসাবে ভালো , মাঝারি এবং মন্দ এই তিন ধরনের হয় l বাবার নির্দেশিত পথেই বাচ্চাদের চলতে হবে l সর্ব্বোচ্চ বাবা যা বলবেন তাই বাচ্চাদের মানতে হবে l এতদিন তো গুরুদের অনেক মেনে এসেছো l এখন বাবা যখন এসেছেন স্বর্গে নিয়ে যাবার জন্যে তখন তাঁর কথা তো চোখ বন্ধ করেই মানতে হবে l কিন্তু এমন নিশ্চয়বুদ্ধি তোমাদের এখনো অনেকেরই হয়নি l যাই হোক লাভ বা লোকসান তোমাদের বাবার কথা মানা উচিত l যদিও মনে করো লোকসান হবে , তবুও ভাবো বাবা যখন বলছেন , কারণ শিববাবাই বলছেন , ব্রহ্মাবাবাকে মনে কোরো না যে , তিনি বলছেন l দ্বায়িত্ব তো শিববাবারই থাকবে তাই না l ব্রহ্মাবাবার শরীর হল শিববাবার রথ এই শরীরে শিববাবাই অবস্থান করে বাচ্চাদের বোঝান l সবসময় এইটাই মনে করো যে শিববাবাই বলছেন , ব্রহ্মাবাবা নন l উঁনি কিছুই জানেন না l এমনই বোঝো l এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকো যে শিববাবা বলছেন , আমার কথা শুনে চলো তাহলেই তোমাদের কল্যাণ হবে l ব্রহ্মাবাবাও যদি কিছু বলেন তবে তার দ্বায়িত্বও সম্পূর্ণ শিববাবার l তোমরা বাচ্চারা কখনো চিন্তা কোরো না l শিববাবাকে স্মরণ করতে থাকলে তোমাদের স্থিতি বা অবস্থা আরো পাকা হয়ে যাবে l এটা নিশ্চিত যে তোমাদের বিকর্মও বিনাশ হবে আর সঙ্গে সঙ্গে শক্তিও মিলতে থাকবে l যতো বাবাকে স্মরণ করবে ততই শক্তি সঞ্চয় করতে থাকবে l যারা যারা বাবার শ্রীমতকে মেনে সেবা কাজ করতে থাকবে তারাই উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে l অনেক বাচ্চার মধ্যেই দেহ অভিমান রয়েছে l কিন্তু বাবাকে দেখো সব বাচ্চাকেই কেমন ভালোবাসে l সবার সঙ্গেই কথা বলেন l বাবা বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন , বাচ্চারা ঠিকঠাক বসে আমাকে স্মরণ করছো তো ? তোমাদের কোনোরকম অসুবিধা হচ্ছে না তো ? বাবার বাচ্চাদের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা থাকে l বেহদের বাবার তাঁর বাচ্চাদের জন্যে অনেক অনেক ভালোবাসা থাকে l বাচ্চারা যতোখানি শ্রীমত অনুসরণ করে সেবা কাজ করতে পারে , বাচ্চাদের উপর বাবার ভালোবাসা সেই অনুসারেই হয় l সেবা করতে পারলে অনেক লাভ হবে l সেবাকাজে জীবন উৎসর্গ করে দিতে হবে l সবসময় নিজেকে যদি সেবাকাজে লাগিয়ে রাখো তাহলে বাবার হৃদয়ে থাকতে পারবে , আর বাবাও বলবে যে এই বাচ্চা এক নম্বর l কিন্তু এই পথে চলতে চলতে কারোর উপর আবার বিড়ম্বনা এসে হাজির হয় l মায়া সামনে এসে হাজির হয় তাই না ? এই বিড়ম্বনার কারণে জ্ঞান সঠিক ভাবে ধারণ করতে পারে না l কেউ কেউ তো আবার অক্লান্ত ভাবে কর্মের সেবা করতে থাকে l তোমাদের কাজই হোলো সবাইকে সুখধামের মালিক বানানো l কাউকে দুঃখ দেবে না l জ্ঞান ঠিকঠাক না থাকলে তোমরা মানুষকে অনেক দুঃখ দিয়ে ফেলো l তখন যতই বোঝাও বুঝতেই পারে না l প্রথম প্রথম আত্মা আর পরমাত্মার বিষয়ে বুঝিয়ে বলো l কিভাবে বিন্দুরূপ ছোটো আত্মার ভিতরে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে যা অবিনাশী l যেহেতু নাটকে লিপিবদ্ধ আছে তাই এই পার্ট কখনো বদল হয় না l যে এই বিষয়ে নিশ্চিত সে কখনো দ্বিধায় আসবে না l অনেকেরই মন কিন্তু চঞ্চল হয়ে পরে l যেমন মৌচাকে আগুন দিলে সব মৌমাছি বুঝতে পারে তেমনি পরের দিকে সবাই বুঝতে পারবে l এখন তো তোমাদের অনেক যুক্তি দিয়ে সবাইকে বোঝাতে হবে l ভালো ভালো বাচ্চারা তো সবাই সেবা কাজে লেগে থাকে l বাবার হৃদয়ে অবস্থান করে l তারা তীব্র পুরুষার্থের দিকে এগিয়ে যায় l তারা অনেক পরিশ্রম করে l তাদের সারাক্ষণই সেবার নেশা লেগে থাকে l যার ভিতরে যা যা গুণ আছে তা বাবাই বর্ণনা করে দেন l আচ্ছা l

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি( সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মূখ্য সার :-

1 ) সেবাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হবে , কোনো কথায় মনে যেন সংশয় উপস্থিত না হয় l সবাইকে সেবা দিয়ে অফুরন্ত সুখ দিতে হবে l দুঃখ একদমই দেবে না l

2 ) নিশ্চয়তার বলের দ্বারা নিজের অবস্থাকে অচল বা স্থির বানাতে হবে l যে শ্রীমত তোমরা পাও তা সম্পূর্ণ কল্যাণকারী , তাই দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার এই কথা মনে করে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে হবে l

বরদান :- 

স্নেহের পরিবর্তে( রিটার্নে ) বাবার সমান স্থিতির অনুভবকারী সর্বশক্তি সম্পন্ন ভব

যেসব বাচ্চারা বাবার স্নেহে সবসময় সমায়িত থাকে, তাদের এই স্নেহের উত্তরে ( Response - এ) বাবার কাছ থেকে বাবার মতন সমান স্থিতির বরদান প্রাপ্ত করতে পারে l যারা সর্বদা স্নেহযুক্ত আর যোগযুক্ত থাকে তারা সেই মুহূর্তে সর্ব শক্তিতে সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে l সর্ব শক্তি যদি সঙ্গে থাকে তাহলে বিজয় তো নিশ্চিত l যার স্মৃতিতে সবসময় থাকে যে সর্বশক্তিমান বাবা সবসময় তার সঙ্গে আছে অর্থাত্ বাবা তার চিরসাথী সে কোনো পরিস্থিতিতেই বিচলিত হয় না l

স্লোগান :- 

পুরুষার্থীর জীবনে যে সর্বদা সন্তুষ্ট আর খুশী থাকে সেই সৌভাগ্যশালী হয় l



***OM SHANTI***

Google+ Followers