BK Murli 13 May 2016 In Bengali

BK Murli 13 May 2016 In Bengali

 ১৩-০৫-২০১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি “বাপদাদা " মধুবন


" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - সবসময় এই কথা স্মরণে রাখো - অনেক সময় চলে গেছে , এখন খুবই অল্প সময় আছে , এখন তো ঘরে যাবার সময় হয়েছে , তাই এই ছিঃ ছিঃ শরীর আর এই দুনিয়াকে ভুলতে হবে l "

প্রশ্ন :- 

কোন্ নেশা নিরন্তর থাকলে স্থিতি একনম্বর হয় ?

উত্তর :- 

বাচ্চাদের এই নেশা যেন নিরন্তর থাকে যে , " মীরুয়া মৌত মলুকা স্বীকার " অর্থাৎ কারো পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ(মলুক অর্থাৎ শিকারীর তীরে বিদ্ধ হয়ে মিরুয়ার দুঃখদায়ক মৃত্যু হলেও শিকারীর যেমন আনন্দ হয়, তেমনি এই বিকারী দুনিয়ার বিনাশ হয় এবং বহু মানুষের মৃত্যু হয় l কিন্তু সত্যযুগী দুনিয়ার স্থাপনা হয়) আমরা মলুক ( ফরিস্তা ) হয়ে আমাদের প্রিয়তম বাবার সঙ্গে নিজের ঘরে যাবো , আর বাকী সব এই দুনিয়াতে শেষ হয়ে যাবে l এখন আমরা এই পুরোনো শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করবো l এই জ্ঞান যদি তোমাদের বুদ্ধিতে সারাদিন চলতে থাকে তাহলে তোমরা অপার খুশীতে থাকতে পারবে l স্থিতিও তোমাদের একনম্বর হয়ে যাবে l

গীত :- 

ইয়ে কৌন আজ আয়া .....................ইনি কে এলেন আজ....


ওম্ শান্তি ! 

এটা কারা বললো l বাচ্চারা l অতীন্দ্রিয় সুখময় এই জীবনে এসে বাচ্চারা বলে যে - বেহদের বাবা এখন এসেছেন l তিঁনি কেন এসেছেন ? তিঁনি এসেছেন এই পতিত দুনিয়াকে বদলে পবিত্র দুনিয়া বানাতে , সেই পবিত্র দুনিয়া কত বড় হবে ? এই পতিত দুনিয়া কত বড় তা তো তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধি দিয়ে বোঝা উচিত l এখানে কোটি কোটি মানুষ l এই দুনিয়াকে পতিত দুর্নীতিপরায়ণ দুনিয়া বলা হয় l মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদের এইকথা মনে আসা উচিত - তোমাদের নতুন দুনিয়া কত ছোটো হবে l তোমরা কেমন করে রাজত্ব করবে l এই ভারতের মতো দেশ আর হয়ই না l এটা কেউই বোঝে না যে ভারত একদিন স্বর্গ ছিলো , তাই ভারতের মতো কোনো দেশ হতেই পারে না l তোমরা তো এই কথা বুঝতে পারবে যে এখন এই ভারতের আর তেমন কোনো গুরুত্ব নেই l ভারত একদিন স্বর্গরাজ্য ছিলো , এখন সেসব কিছুই নেই l এই কথা কারোরই এখন স্মরণে নেই , যে তোমাদের ভারত একদিন সবথেকে উঁচু ছিলো আর সবথেকে প্রাচীন ছিলো l এই সকল কথা তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে পুরুষার্থর ক্রমানুসারে আসতে থাকে l বাবার প্রতি খুশী আর সম্মানের ভাব কি তোমাদের থাকে ? বেহদের বাবা এখন এসেছেন l কল্পে কল্পে তিনি আসেন ,মায়ারূপী রাবণ তোমাদের যে রাজ্য ভাগ্য ছিনিয়ে নিয়েছিলো ,বাবা এসে তোমাদের আত্মাদের সেই রাজ্য ভাগ্য আবার ফিরিয়ে দেন l এমন নয় যে কোনো লড়াইয়ের ফলে কেউ তোমাদের কাছ থেকে রাজ্য ভাগ্য ছিনিয়ে নিয়েছিল l এমন তো হয় নি l রাবণ রাজ্যে তোমাদের মতামতও দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে যায় l শ্রেষ্ঠ আচরণ থেকে তোমরা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড় l এখন দুনিয়া দেখো কতো বেড়ে গেছে ,আগে এই ভারত দেশ কতো ছোটো ছিলো l স্বর্গে তোমরা কতো খুশীতে থাকবে l সেখানে হীরে জহরতের মহল থাকবে l স্বর্গে তো রাবণ থাকেই না l তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে খুশী আর মনে অতীন্দ্রিয় সুখ যেন সবসময় থাকে l বাবা বলেন যে তোমরা দেহী -অভিমানী হও l দেহের অভিমান ছাড়ার জন্য বাবা তোমাদের বলেন যে - তোমরা ১০৮ তালি লাগানো এবং ছেঁড়া পুরোনো কাপড় পরিধান করো l যদি কোনো বড়ো মানুষের সঙ্গে তোমাদের গভীর সম্পর্ক তৈরী হয় , সেই সম্পর্কের নেশা তোমরা কেমন করে ত্যাগ করবে l তোমাদের দেহী অভিমানী বা আত্ম অভিমানী হতে হবে l আমরা হলাম আত্মা আর এই শরীর হলো আমাদের পুরোনো বস্ত্র l এই পুরোনো শরীর ছেড়ে আমাদের নতুন সুন্দর শরীর ধারণ করতে হবে l যেমন সাপ তাদের পুরোনো খোলোস ত্যাগ করে l তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান আছে , এই পুরোনো শরীর ছেড়ে তোমরা নতুন এবং সুন্দর শরীর পাবে l এই সমস্ত জ্ঞানের কথা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে সবসময় মন্থন হওয়া উচিত l এই ছি ছি পুরোনো দুনিয়াকে চোখে দেখলেও বুদ্ধির দ্বারা একে ভুলতে থাকো l তোমরা যোগের এক বিশেষ যাত্রা করো , তাই তোমাদের বুদ্ধির যোগ ঘরের দিকেই থাকা উচিত l এই অভ্যাস তো তোমাদের করতেই হবে l এই শরীরও পুরোনো আর এই দুনিয়াও পুরোনো l এই সবকিছুই দেখে নিয়েছো , তাই এখন এই দেহ আর দেহের সর্ব সম্বন্ধকে ছেড়ে তোমাদের ঘরে যেতে হবে l মনে সবসময় খুশী রাখবে যে এখন আমাদের ঘরে ফিরে যাবার পালা l বুদ্ধিযোগ সবসময় বাবার সঙ্গে লাগিয়ে রাখবে l একজন আর একজনকে এই কথাই শোনাও .......".মনমনাভব " অর্থাত্ মন আমাতে লাগাও l এই মন্ত্র হলো সবথেকে আসল এবং শক্তিশালী মন্ত্র l মানুষ তো গীতা অনেক পড়ে , কিন্তু অর্থ কিছুই বুঝতে পারে না l যেমন অন্যান্য শাস্ত্র পড়ে , ঠিক তেমনি গীতা পাঠও করে l এই গুহ্য কথা কারোর বুদ্ধিতে আসেই না l তোমরা ভবিষ্যতের জন্য রাজযোগ শিখছো l অনেক সময় চলে গেছে এখন খুবই অল্প সময় পরে আছে l এমন কথা নিজেকে বোঝাতে থাকো আর সবসময় খুশীতে থাকো l এই দুনিয়ার সমস্ত কিছুই শেষ হয়ে যাবে l মীরুয়া মৌত মলুকা শিকার l অর্থাৎ আমরা মলুক ( ফরিস্তা) হয়ে আমাদের প্রিয়তম বাবার সঙ্গে ঘরে ফিরে যাবো l এই শিক্ষা আত্মাদের বাবা পরমাত্মা বসে আত্মাদের দেন l বাবা অতি সাধারণ কিন্তু তিনি সর্বোচ্চ l বাবা এসেছেন বেহদের বর্ষা দিতে , আর কল্প কল্প তিনি নিজেই আসেন l এই দুনিয়া তো খুবই খারাপ হয়ে গেছে l তাই বাবাকেই এই কথা তোমাদের বোঝাতে হয় l একেই বলা হয় বিচার সাগর মন্থন l জন্ম জন্মান্তর ধরে তোমরা শাস্ত্র তো পড়েই এসেছো l ভারতবাসীরা যে পরিমানে জপ তপ্ আদি ভক্তি করেছে তা আর কেউই করেনি l যারা প্রচুর ভক্তি করেছে তারাই প্রথমের দিকে এসেছে , এবং জ্ঞান যোগেও তারা তীব্র গতিতে এগোতে থাকবে কারণ তারাই নতুন যুগে প্রথমের দিকে আসবে l তোমরা তো দেখতেই পাও যে কেউ কেউ খুব সুন্দর পুরুষার্থ করে l তোমরা বাচ্চারা যারা এই রুহানী সেবা করে যাচ্ছো , তারা খুব সুন্দর কাজ করছো l সত্যি সত্যি তোমরা যেন যোগ ভাট্টিতে বসে আছো l তোমাদের সম্বন্ধ তো বাবার সাথে অটুট , আর যারা গৃহস্হ জীবনে থাকে তারা এইসব জ্ঞানের কথা নিজে শুনে অন্যকে শোনাতে থাকলে পুরোনোদের থেকেও তীব্র গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে l দেখা যায় যারা নতুন আসে তারা এই জ্ঞানে তীক্ষ্ণ হয় l তোমরা যদি এর লিস্ট বার করো তাহলে তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারবে l প্রথম প্রথম তোমাদেরই মালা তৈরী হয় কিন্তু পরে দেখা যায় অনেক ভালো ভালো বাচ্চা যারা ৩ বা ৪ নম্বরে থাকে তারাও শেষকালে বেরিয়ে যায় এবং অবশেষে প্রজাতে চলে যায় l এখন তোমাদেরই এই ছাত্র জীবন , তোমরা গৃহস্হ জীবনে থেকে এই পড়াশোনা করছো l
অনেক বাচ্চারা ডবল কোর্স করতে থাকে অর্থাত্ নিজেরাও জ্ঞান ধারণ করে আর অন্যকেও ধারণ করায় , তাদের দ্রুত উন্নতি হয় l তোমাদের একমাত্র কাজ হলো গৃহস্থ জীবনে থাকো এবং সঙ্গে সঙ্গে এই ঈশ্বরীয় জ্ঞানকে ধারণ করো l এই জ্ঞানে মেয়েদের খুব তীক্ষ্ণ হতে হবে l এই কন্যাদের জন্যই কানাই বা গোপাল নামের এতো মাহাত্ব l এরা তো প্রবৃত্তি মার্গেরই গোপ l তোমরা সত্যযুগে দেবী দেবতা ধর্মের ছিলে l লক্ষ্মী নারায়ণ তো প্রবৃত্তি মার্গেই রাজত্ব করতো l তোমাদেরই বুদ্ধিতে এটা থাকা উচিত যে তোমরা কি জীবন পেতে চলেছো l দেবতারা কতো সুন্দর হয় l দেবতাদের সামনে গিয়ে তোমরা তাঁদের মহিমা গাইতে থাকো - তুমি সর্বগুণ সম্পন্ন , ১৬ কলা সম্পূর্ণ ..........আর আমি পাপী কপটী l আমরা নির্গুণ , আমাদের মধ্যে কোনো গুণ নেই ......এই ধরনের গান l কিন্তু এতে ভগবান আর তোমাদেরই কি দয়া বা কৃপা করবে l বাস্তবে এই দয়া বা কৃপা নিজের উপর নিজেকেই করতে হবে l তোমারই একদিন দেবতা ছিলে , এখন নিজেকে দেখো যে কি হয়ে গেছো , আবার পুরুষার্থ করে তোমাদের দেবতা হতে হবে l শ্যাম ( কালো ) থেকে সুন্দর হবার জন্য পুরুষার্থ তো করতেই হবে l ভক্তিমার্গে তো এই ধরনের কাহিনী অনেক আছে ...........কেউ মারা যাচ্ছিল , কোনো এক মহাত্মার কৃপা হলো আর সেই অসুস্থ মানুষটি তাঁর আশীর্বাদে বেঁচে গেলো l ভক্তিমার্গে মহাত্মাদের হাত ধরে বলা হয় , আপনার আশীর্বাদ চাই l এ তো সবই ঈশ্বরীয় পড়াশোনা l কৃপার তো কোনো কথাই নয় l "মনমনাভব " এই কথার তো অর্থ আছে l মন আমাতে লাগাও l ভক্তিমার্গে তো অনেক মন্ত্র দেওয়া হয় l অনেক প্রকারের হঠযোগও শেখানো হয় l প্রত্যেক গুরু বা মহাত্মার আলাদা আলাদা শিক্ষা l হঠযোগের নমুনা দেখতে চাইলে জয়পুরের মিউজিয়ামে গিয়ে দেখতে পারো l আর এখানে তোমরা তো কতো কতো আরাম করে বাবার কাছে বসো l তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে বাবা আবার আমাদের সেই রাজ্যের অধিকারী করছেন l সেই স্বর্গরাজ্যে অদ্বৈত দেবী - দেবতা ধর্ম ছিলো আর অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না l দুহাতেই তো তালি বাজে তাই না l যদি এক ধর্ম থাকতো তাহলে মারামারিই হতো না l এখন তো কলিযুগ চলছে l কলিযুগ যখন সম্পূর্ণ হবে তখন ভক্তিও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে l এখন তো দেখো কিভাবে মানুষের বৃদ্ধি হচ্ছে l ভারতের সীমা কিন্তু বেড়ে যাবে না l ভারতভূমি একি মাপের থাকবে l কেবল মানুষ কম বেশী হতে থাকে l ভারতের পরিমাণ তো একি থাকবে , কিন্তু সত্যযুগে মানুষ অনেক কম থাকবে l ভূমির পরিমাণ কখনোই ছোটো হবে না l তাই তোমরা বাচ্চারা খুবই খুশীতে থাকো l তোমরা ভাবো যে, তোমরা বাবার শ্রীমতে চলে যোগবলের দ্বারা নিজেদের রাজ্য স্থাপন করছো l বাবা বলেন যে- তোমরা আমাকে স্মরণ করো তাহলেই তোমাদের পাপ ভস্ম হবে l আত্মাতেই তো খাদ লেগে থাকে l যেমন বলা হয় সতো , রজ , তমো .........এর থেকেই বোঝা যায় আত্মাতেই খাদ লাগে l প্রথমে স্বর্ণযুগ ছিলো , চারিদিকে সমস্তই খাঁটি সোনা , তারপরে আস্তে আস্তে রৌপ্যযুগ অর্থাৎ চন্দ্রবংশী রাজত্ব l ইংরাজী শব্দ কতো সুন্দর l গোল্ডেন , সিলভার , কপার তারপরে আয়রণ l বাবা বলেন আত্মাতে যে খাদ পড়েছে তা কেমন করে বের হবে l সতো থেকে যখন তমোতে চলে এসেছে , তাহলে আবার তমো থেকে আবার কিভাবে সতোপ্রধান হবে l মানুষ বলে যে গঙ্গাস্নান করলে সতোপ্রধান হওয়া যায় l কিন্তু এ তো কিছুতেই সম্ভব নয় l মানুষ তো গঙ্গা স্নান রোজই করে l অনেকে তো এই গঙ্গাস্নানকে নিয়মই বানিয়ে ফেলে l তারা গঙ্গায় বাঁধ দেওয়া ছোটো খালে ( নহর ) গিয়েও স্নান করে l কিন্তু বাবা তোমাদের বলেন যে - তোমরা এই নিয়ম রাখো , সর্বদা বাবাকে স্মরণ করো l স্মরণের স্নান বা স্মরণের যাত্রা করো l বাবা তোমাদের জ্ঞান গঙ্গায় স্নান করান আবার রাজযোগের যাত্রাও শেখান l বাবা তোমাদের জ্ঞান দান করেন l এই জ্ঞানের মধ্যে থাকে যোগের জ্ঞান আর সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান l বাকী শাস্ত্রের জ্ঞান জ্ঞান তো অনেকেই দেন , কিন্তু যোগের সঠিক পদ্ধতি কেউই জানে না l রাজযোগ না জেনে হঠযোগ শেখাতে থাকে l যোগআশ্রম তো অনেক আছে l মনমনাভব এই মন্ত্র তারাও দেবে কিন্তু বাবা ছাড়া এই জ্ঞান আর কেউই দিতে পারে না l অর্থাত্ তারা জানেই না l এখন তোমাদের ৮৪ জন্মের চক্র পুরো হতে চলেছে l এর পরে নতুন দুনিয়া হবে l তোমাদের বুদ্ধিতে এই ধারণাও আছে যে ঝাড় কিভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় l এই যে রাজত্ব স্থাপন হচ্ছে এখানে সবাই তো একসাথে যেতে পারবে না l ব্রাহ্মণদের ঝাড় অনেক বড় হয় l অল্প অল্প করে পুরুষার্থ অনুসারে স্বর্গরাজ্যে যেতে থাকবে l তখন প্রজা তৈরী হতে থাকবে l যদি কেউ অল্প একটু এই জ্ঞানের কথা শোনে তাহলেও প্রজাতে চলে আসবে l আস্তে আস্তে অনেক সেন্টার বৃদ্ধি পাবে l বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রদর্শনী হতে থাকবে l যেমন মন্দির অনেক তৈরী হয় , তেমনই তোমাদের প্রদর্শনী গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে l ঘরে ঘরেও তোমাদের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে হবে l এই প্রদর্শনী এতো বৃদ্ধি পেতে থাকবে যে তোমাদের এই সমস্ত ছবি অনেক ছাপাতে হবে l প্রত্যেকের কাছে বাবার খবর পৌঁছে দিতে হবে l তোমাদের বাচ্চাদের অনেক সেবা করতে হবে l এখন যেমন প্রজেক্টর দিয়ে প্রদর্শনী করার নতুন ব্যবস্থা হয়েছে , তেমনি তোমরাও গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রজেক্টর দিয়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করো l এমন সুন্দর করে তোমরা এই সেবা করো l শিব জয়ন্তীর কথা সবাই জানে , কিন্তু তা কেন আসে ,কিভাবে আসে তা কেউ জানে না l শিব পুরাণ গ্রন্থেও এই কথা লেখা নেই l এই কথা তোমরাই শুধু শুনছো l যখন তোমরা শোনো তখন তোমাদের খুব ভালো লাগে , কিন্তু পরে আবার তোমরা তা ভুলে যাও l জ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র যদি ভালোভাবে ধারণ করতে পারো তাহলেও তোমরা খুব ভালোভাবে সেবার কাজ করতে পারবে l কিন্তু সমস্ত সূত্র সবাই একসাথে ধারণ করতে পারে না l ভাষণ করে এসে তোমাদের মনে হবে - ওই সূত্রের ওপর যদি বোঝাতাম তাহলে খুব ভালো হতো l যাদের দেহ অভিমান থাকবে না তারা চট্ করে বুঝতে পারবে l ভাষণ করে তোমরা আবার নিজেরাই বিচার করবে - আমরা সব ঠিকঠাক বোঝাতে পেরেছি তো ? অজুণ এই সূত্র ভুলে গিয়েছিল , কারণ সূত্র কেউ সঙ্গে নিয়ে চলে না l সূত্র মনে গেঁথে যায় l এ তো সব এখনকার জন্য l এরপর এই সমস্তকিছুই শেষ হয়ে যাবে l এখন তোমরা এই চোখে যা কিছু দেখতে পাচ্ছ , সত্যযুগে এইসব কিছুই থাকবে না l এখন তোমরা জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন লাভ করেছো তাই তোমরা ত্রিনেত্রী হয়ে গেছো l শিববাবাই এসে তোমাদের এই জ্ঞান দান করেন , যা তোমরা আত্মারা ধারণ করো l আত্মারাই তৃতীয় নয়ন লাভ করে l আত্মার জ্ঞান , অর্থাত্ আমি আত্মা এই জ্ঞান কারোর মধ্যেই কারোর মধ্যেই সঠিক নেই l আমি আত্মা , আমি শরীর দ্বারা এই কাজ করছি l বাবা আমাদের পড়াতে এসেছেন l এই কথাকে বুদ্ধিতে ধারণ করার অভ্যাস করতে হবে l এতেই যতো পরিশ্রম l বাচ্চাদের এই পরিশ্রম করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে খুশীতে থাকতে হবে l ব্যস , আমাদের রাজ্য এই এলো কি এলো ল এই আনন্দেই মশগুল হয়ে থাকো l তোমরা জানো তোমাদের রাজ্যে কি কি থাকবে l তোমাদের বাচ্চাদের তো খুবই খুশীতে থাকা উচিত যে এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনার দ্বারাই আমরা রাজত্ব প্রাপ্ত করবো l যারা পড়াশোনা করে তাদের সবসময় স্মরণে থাকে l তোমরা ভবিষ্যতের জন্য এই পড়াশোনা করো l ভালোভাবে পড়াশোনা করলে রাজসিংহাসন প্রাপ্ত করবে l ভালো পড়াশোনা করলে তার নামডাকও প্রচুর হয় l এখন যদি তোমরা লিস্ট বার করো এবং সেই নামের মালা তৈরী করো , তখন সবাই বলবে ওই বাবার বাচ্চাকে আমাদের কাছে পাঠাও , আমরা তার ভাষণ শুনে তরতাজা হতে চাই l যারা ভাষণ করবে , তাদের ডাকলে , তাদের উপযুক্ত সম্মান তো দেওয়া উচিত l সবসময় মনে করবে আমাদের এনার মতো হুঁশিয়ার হতে হবে l 

আচ্ছা ! মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি ( সিকিলধে ) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা , বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদের প্রতি নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করার জন্য দেহ অভিমানকে ত্যাগ করার পুরুষার্থ করতে হবে l এখন তোমাদের ঘরে যাওয়ার সময় হয়েছে , তাই তোমাদের বুদ্ধিযোগ পরমধামেই যেন লেগে থাকে l

২ ) গৃহস্হ জীবনে থেকে এই ঈশ্বরীয় পড়ার অভ্যাস করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে ডবল কোর্সও করতে হবে l জ্ঞানগঙ্গায় স্নান আর স্মরণের যাত্রা নিজেও করতে হবে এবং অন্যকেও করাতে হবে l

বরদান :- 

যুদ্ধক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার বদলে বা পিছিয়ে যাবার বদলে বাবার সাথে থেকে সর্বদা বিজয়ী হও ( ভব )

যুদ্ধক্ষেত্রে যারা প্রকৃত সেনা যারা হয় , তাদের স্লোগান হয় , হেরে যাওয়া বা পিছিয়ে যাওয়া দূর্বলতার লক্ষণ , যোদ্ধার অর্থই হল হয় মরো অথবা মারো l তোমরাও হলে ঈশ্বরীয় সেনা বা শিবসেনা , সুতরাং ভয় পাওয়া বা পিছিয়ে যাবার কোনো প্রশ্নই নেই , সদা এগিয়ে যাও এবং সর্বকাজে বিজয়ী হযও l এমন কখনও ভেবো না যে কতোদিন যুদ্ধ করবো ,এ তো সারাজীবনের যুদ্ধ ........কিন্তু ৫০০০ বছরের প্রারব্ধর হিসাবে এই যুদ্ধ এক সেকেন্ডের কথা , শুধুমাত্র বিশাল বুদ্ধি ধারণ করে বেহদের হিসাবে দেখো , আর বাবাকে স্মরণ এবং বাবা সাথে আছে এই অনুভূতির দ্বারা বিজয়ী হও l

স্লোগান :- 

সদা আশা এবং বিশ্বাসকে অবলম্বন করে বিজয়ী হও l

***OM SHANTI***

Google+ Followers