BK Murli 26 May 2016 Bengali

BK Murli 26 May 2016 Bengali

 ২৬-০৫-১৬ প্রাত : মুরলি ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - আত্ম-অভিমানী হও , চলতে -ফিরতে , উঠতে -বসতে এই অভ্যাস করতে থাকো তাহলেই তোমরা অনেক উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারবে "

প্রশ্ন :- 

বাবার যাথার্থ রূপের স্মৃতি কোন্ বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকবে ?

উত্তর :- 

যে বাচ্চারা বাবাকে প্রকৃত স্বরূপে জেনেছে l কোনো কোনো বাচ্চারা বলে বিন্দুকে কিভাবে স্মরণ করতে পারি ! ভক্তিমার্গে তো অখণ্ড জ্যোতিকে স্মরণ করে এসেছি , এখন বিন্দু বলতে দ্বিধা হয় , সেইজন্য বাবা যে অখণ্ড জ্যোতি নন , উঁনি অতি সুক্ষ্ম বিন্দু এই নিশ্চয় (সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস ) বুদ্ধিতে এসে গেলে তখন বাবাকে যাথার্থ রূপে স্মরণ করতে পারা যাবে l

ওম্ শান্তি l 

বাচ্চারা স্মরণে বসেছে l মন্মনাভব অর্থাৎ নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে এক্ বাবা পরমপিতা শিবকে স্মরণ করো সংস্কৃত এই শব্দ বাস্তবে নেই l এই প্রজাপিতা তো সংস্কৃত জানেই না l বাবা তো হিন্দিতে বোঝান l যদিও এই রথ ( শিববাবার সাকার আধার )হিন্দি , সিন্ধি , ইংরেজি জানে কিন্তু বাবা হিন্দিতেই বোঝান l প্রত্যেকেরই নিজের নিজের ধর্মের ভাষা আছে l এখানে হিন্দি ভাষাই প্রচলিত , এই ভাষা বোঝাও খুব সহজ আর এই স্কুলও তো কত আশ্চর্যজনক l এখানে কোনো কাগজ , পেন্সিল বা পৃষ্ঠার দরকার থাকে না l এখানে তো শুধু একটা শব্দকেই স্মরণ করতে হয় অর্থাত্ বাবাকে স্মরণ করো l গড ফাদারকে অথবা ঈশ্বরকে অথবা পরমপিতা পরমাত্মাকে সবাই স্মরণ করে কিন্তু ওঁনার প্রকৃত পরিচয় জেনে -বুঝে স্মরণ করতে সকলেরই মুশকিল হয় l তাই বাবা নিজে এসে নিজের পরিচয় দেন l শাস্ত্রে কল্পের আয়ু পাঁচ লক্ষ বছরের লেখা হয়েছে , এই মস্ত বড় ভুলও বাবা এসে ভেঙে দেন l এটা তেমন কোনো বড় ব্যাপার নয় l অহল্যারা অর্থাত্ পাথর -বুদ্ধি , বৃদ্ধা মাতারা যাদের মধ্যে এই ভুলই নিশ্চয় হয়ে গেছে তারা ভুল বুঝতে পারবেনা l অথচ এটা এতই সহজ , যে -কোনো ছোট বাচ্চা বুঝে যাবে l বাবা বলে ডাকা কোনও নতুন কিছু নয় l শিব মন্দিরে যখন যায় তখন বুদ্ধি বলে ইঁনিই শিববাবা -নিরাকার l মানুষ মাত্রেই সবাই বাবা বলে l আমি সব আত্মাদের বাবা , একমেবাদ্বিতীয়ম (এক্ এবং অদ্বিতীয় ) l মানব শরীরের মধ্যে স্থিত সমস্ত আত্মারা বাবাকে স্মরণ করে l সব ধর্মেরই যে কেউই হোকনা কেন সকলেই পরমপিতা পরমাত্মাকে অবশ্যই স্মরণ করে l উঁনি পরমধাম নিবাসী বাবা , আমরাও ওখানকারই অধিবাসী l তাই -তো এখন শুধুমাত্র বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l তোমাদের ইচ্ছাও থাকে যে আমরা পবিত্র হই , আবার আহ্বানও করো - হে পতিত-পাবন এসো l নতুন দুনিয়া পবিত্র ছিল , এখন পুরানো হয়ে গেছে কেউ আর নতুন বলবে না l ভারতবাসী জানে যে নতুন রাজ্যে দেবী -দেবতা রাজত্ব করত l কিন্তু নবভারতের আগে কি ছিল ?সঙ্গম l এর থেকেও সহজ করে বলতে হবে l নতুনের আগে পুরনো ছিল l সঙ্গমযুগের কথা মানুষ খুব সহজে বুঝতে পারেনা l নতুন দুনিয়া আর পুরানো দুনিয়ার মঝে যে একশত বছরের সময়কাল তাকেই বলে সঙ্গমযুগ l বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলে হে পতিত-পাবন ! এসে আমাদের পবিত্র বানাও ! আমরা পতিত হয়ে গেছি ! নতুন দুনিয়ায় কেউ এভাবে আহ্বান করবেনা l এখন তোমাদের বুদ্ধিতে এসে গেছে যে এই ভারতভূমি পবিত্র ছিল l হে পতিতপাবন এসো - এভাবে বহুকাল ধরে ডেকে আসছে l ওদের জানা নেই পতিত দুনিয়া কবে শেষ হবে l বলে - শাস্ত্রে এরকম লেখা আছে যে এখনও চল্লিশ হাজার বছর কলিযুগ (পতিত দুনিয়া ) চলবে l একেবারে গভীর অজ্ঞানতায় ডুবে আছে l তোমরা এখন আলোর পথের যাত্রী l বাবা তোমাদের আলোর পথে নিয়ে এসেছেন l এই সৃষ্টি চক্র পাঁচ হাজার বছরে সম্পূর্ণ হয় l এই তো সেদিনের কথা l তোমরা রাজত্ব করতে , শুরু থেকে এই স্বর্গেই লক্ষ্মী -নারায়ণ রাজত্ব করত l পবিত্র দুনিয়ায় কোনরকম উপদ্রব -অশান্তি থাকতে পারেনা l উপদ্রব ইত্যাদি যা কিছু রাবন রাজ্যেই হয় l এখানে বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন , তোমরা আত্মারা সামনে বসে শুনছ l আত্মারা খুব খুশি হয় , যে বাবা আবার এসে আমাদের সাথে মিলিত হয়েছেন l বাবার থেকে বিশ্বের রাজ্যাধিকার নিয়েছিলে , এখন বাবা বলছেন আমাকে স্মরণ করো l স্মরণে কোনো লেখা -পড়ার বিষয় নেই l কেউ এলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় , আপনি কি উপলক্ষে এখানে এসেছেন ! তখন তারা বলে যে মহাত্মার সাথে দেখা করতে এসেছি l আবারও প্রশ্ন আসে আপনি কি কিছু চাইছেন ! আপনার কোনও প্রার্থণা আছে ! সন্ন্যাসী হলে সামান্য রুটি চাই l সন্ন্যাসী যে -কোন কারও কাছে যাক বা রাস্তায় কারও সাথে দেখা হে যাক , ধর্মীয় মানুষেরা ভাবে ইনি তবু পবিত্র মানুষ এনাকে ভোজন করালে অনেক ভালো হবে l এখন তো পবিত্রতার লেশমাত্র নেই l একেবারেই তমোপ্রধান দুনিয়ায় পরিণত হয়েছে , পুরোপুরি দূষিত হয়ে গেছে l মানুষ হয়রান হয়ে যাচ্ছে l এখানে (সতোপ্রধান দুনিয়ায় ) হয়রান হওয়ার মতো কোনও ঘটনাই নেই l বাবা বলেন , লেখাজোখারও কোনো বিষয় নেই l এসব পয়েন্টস ইত্যাদি তো লেখা হচ্ছে ধারনা করার জন্য l যেমন , ডাক্তারদের অনেক ওষুধের মধ্যে কোন ওষুধ কোন রুগীকে দিতে হবে মনে রাখতে হয় l আবার আইনজ্ঞদের যেমন বুদ্ধিতে অনেক আইনের কথা স্মরণে রাখতে হয় l তোমাদের তো কেবল বাবাকে স্মরণ করতে হবে এই একটা কথাই মনে রাখতে হয় l তাও কত সহজ l তোমরা বলো শিববাবাকে স্মরণ করো আর ভক্তিমার্গে সব বলবে শিববাবা কিভাবে আসবেন ! এটাও তোমরা ছাড়া আর কেউ জানেনা l ঈশ্বর কোথায় ? ওরা তো বলবে নাম -রূপ থেকে আলাদা অথবা বলে দেয় ভগবান সর্বব্যাপী l এই দুই শব্দে রাত -দিনের তফাত হয়ে যায় l নাম -রূপ থেকে আলাদা কোন কিছু তো হয়ই না l আবার এও বলে কুকুর -বিড়াল সকলেরই মধ্যে পরমাত্মার বাস l দুটো কথাই একটা আরেকটার বিপরীত l তাই বাবা নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন - আমি- বাবাকে স্মরণ করো l বলাও হয় - সহজ রাজযোগ l বাবা বলেন - যোগ শব্দের পরিবর্তে স্মরণ করো এটা বললেই ঠিক হয় l ছোট বাচ্চা তো মা -বাবাকে দেখে আনন্দে গলা জড়িয়ে ধরতেই যায় নাকি সে আগে ভাবতে বসে যে আমার মা -বাবা কে ! না ! এতে ভাববার কিছু নেই l তোমরাও শুধু শিববাবাকে স্মরণ করো l ভক্তিমার্গে তো তোমরা শিবেরই ওপরে ফুল দিয়ে আসছ l সোমনাথের মন্দির কত হীরে -জহরত দিয়ে বানানো হয়েছে যা মুহম্মদ গজনবী লুট করেছিল l ভারতে সোমনাথ মন্দিরই সবচেয়ে নামীদামী মন্দির l সবার আগে তো শিবেরই পুজো হওয়া উচিত্ l এই জ্ঞান এখন বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এসেছে l যদিও পূজা ইত্যাদি করে আসছ কিন্তু তোমরা এটা জানতে না এটা জড় বস্তুর চিত্র l অবশ্যই জ্ঞানের উন্মেষ হয়েছে বলে বছর বছর শিব -জয়ন্তী পালন করে এসেছ l এও বলা হয়েছে - শিব পরমাত্মা নিরাকার l আত্মা জানে আমরাও নিরাকার l এখন তোমরা আত্ম -অভিমানী হয়ে উঠছ , খুব সহজ ব্যাপার l উঁনি তো আমাদের বাবা - জ্ঞানের সাগর ,সুখের সাগর , পতিত-পাবন , ওঁনার অনেক মহিমা l ব্রহ্মা ,বিষ্ণু , শঙ্করের এত মহিমা নেই l এক্ পরমাত্মারই মহিমা গাওয়া হয় l তোমরা- বাচ্চারা এখন জেনেছ যে , বাবা এসে আমাদের সত্যযুগের রাজ্য অধিকার দেন l বাস্তব জগতে বাবা বাচ্চাকে লালন-পালন করেন কিন্তু পড়াশোনা করানোর জন্য স্কুলে পাঠিয়ে দেন , নিজে পড়ান না l তারপর প্রৌঢ়বয়সে ধর্মীয় গুরুর কাছে ঈশ্বরীয় ভাবনায় দীক্ষিত হয় l আজকাল তো ছোট-বড় সবাই গুরুর কাছে পাঠ নেয় l এখানে তো তোমাদের-বাচ্চাদের সকলকে শিববাবাকেই শুধু স্মরণ করতে বলা হচ্ছে , ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের গুরুকে নয় l সবার সমান অধিকার , তোমরা সবাই আমার সন্তান l তোমাদের মধ্যে কয়েকজন আছে যারা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে বাবাকে স্মরণ করো , আবার কয়েকজন আছে জিজ্ঞেস করে - বাবা (ব্রহ্মাবাবা ) কাকে স্মরণ করব ? বিন্দুকেই বা কিভাবে স্মরণ করব ? বড় কোনও জিনিসকে স্মরণ করা যায় l আচ্ছা বাবা ! তুমি যাকে স্মরণ করো সেই পরমাত্মা কে বা কি সেই জিনিস ? তখন ব্রহ্মাবাবা বলেন - অখণ্ড জ্যোতিস্বরূপ l কিন্তু ঠিক এরকমও নয় l অখণ্ড জ্যোতি ভেবে স্মরণ করা সঠিক নয় l যথাযথ ভাবে স্মরণ করতে হবে l প্রথমে তো প্রকৃত রূপে বাবাকে জানতে হবে l বাবা এসে নিজেই নিজের পরিচয় দেন , আর সারা সৃষ্টির আদি -মধ্য -অন্তের সমাচার শোনান l এই তিন কালের জ্ঞান বাবা বিস্তারিত ভাবেও বলেন আবার সংক্ষিপ্তসারেও l বাবা এখন বলছেন বাচ্চারা তোমাদের পবিত্র হতে হবে আর তার জন্য উপায় একটাই - আমাকে স্মরণ করো , আমাকে তো বলোই পতিত-পাবন l আত্মাকে পবিত্র হতে হবে l আত্মাই বলে আমি পতিত হয়ে গেছি l আমরা পবিত্র থেকে পতিত হয়ে গেছি এখন , সব তমোপ্রধান অবস্থায় পৌঁছেছে l প্রত্যেক জিনিসই প্রথমে সত:প্রধান থাকে পরে তমোপ্রধান হয়ে যায় l আত্মা নিজে বলে আমি পতিত হয়েছি ,আমাকে পবিত্র বানাও l শান্তিধামে পতিত হয়ই না l এখানে পতিত হয়ে যায় বলে দুঃখীও .হয় l যখন পবিত্রতা ছিল তখন সুখও ছিল l সেইজন্য আত্মাই বলে - আমাদের পবিত্র বানাও তাহলেই আমরা দুঃখ থেকে রেহাই পাব l তোমরা বুঝতে পারো যে আত্মাই সব কিছু করে l আত্মাই জজ , ব্যরিস্টার প্রভৃতি তৈরী হয় l আত্মাই বলে - আমি রাজা , আমি ওই -সেই বিরাট ব্যক্তিত্ব l এখন এই শরীর ছেড়ে অন্য শরীর নিতে হবে , এই বোধই আত্ম-অভিমান l দেহের মধ্যে থেকে আত্ম-অভিমানী হওয়া l রাবন রাজ্যে দেহ -অভিমান থাকে l বাবা এখন আত্ম-অভিমানী বানাচ্ছেন l এই সময় আত্মা পতিত হয়েছে তাই .দুঃখীও , সেইজন্য বাবাকে আসার আহ্বান জানায় l এটাও তোমরা জানো যে ড্রামা পরিকল্পনা অনুযায়ী পতিত থেকে পবিত্র , আবার পবিত্র থেকে পতিত হয়ে চলেছি l সৃষ্টিচক্রের এই ড্রামা প্ল্যান প্রত্যেক কল্পে ঘুরে ঘুরে আসে l এখন তোমরা বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারো আমাদের ৮৪ জন্ম কিভাবে হয়েছে l এই কথা ভুলোনা যে তোমরা স্বদর্শন চক্রধারী l উঠতে -বসতে , চলতে -ফিরতে সৃষ্টির এই সারা জ্ঞান আমাদের বুদ্ধিতে ধারন করে রাখতে হবে l তোমরাই বুঝতে পারো যে ,বেহদের বাবার থেকে যোগবলের দ্বারা বেহদের রাজ্য অধিকার নিতে চলেছি l বাবা বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন তোমাদের এক্ বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l শুধু বাবাকে স্মরণ করা আর সামান্য খাওয়া , ব্যস্ এটুকুই করতে হবে l মিষ্টি -মিষ্টি সিকিলধে / হরানিধি বাচ্চাদের বাবা মুহুর্মুহু বোঝাচ্ছেন - বাচ্চারা , পেটের জন্য শুধু রুটির টুকরোই যথেষ্ট l পেটের জন্য বেশী দরকার হয়না l এক পোয়া আটার রুটি , ডাল ব্যস্ , দশ টাকাতেও মানুষ পেট ভরায় আবার দশ হাজারেও পেটের জন্য খরচ করে l গরীব মানুষ কতটুকুই বা খায় তবুও কেমন শক্তপোক্ত থাকে l বিভিন্ন রকম সব খায় বলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে l ডাক্তাররাও বলে একরকম খাবার খেতে , যাতে রোগের প্রকোপ না পড়ে l তাই বাবাও বোঝান - যত্সামান্য খাও আর যা পাচ্ছ তাতেই সন্তুষ্ট থাকো l ডাল -রুটির মতো কোনও জিনিস হয়না l বেশী লোভ থাকাও উচিত্ নয় l সন্ন্যাসীরা কি করে , ঘর -বাড়ী ছেড়ে জঙ্গলে চলে যায় l তত্বকে পরমাত্মা ভেবে স্মরণ করে , ভাবে ব্রহ্মতে লীন হয়ে যাবে l কিন্তু এরকম তো হয়ই না l আত্মা তো অমর l লীন হওয়ার কোন কথাই নেই l অন্য যে আত্মারা সকলে পবিত্র , পরে কালের নিয়মে অপবিত্র হয়ে যায় l তোমরা তো কত উচ্চ মার্গের জ্ঞান লাভ করেছ l তোমরাই প্রারব্ধ অর্থাত্ পূর্বজন্ম কৃত ফল ভোগ করো , আবার এই জ্ঞান ভুলেও যাও l তারপরে ধীরে ধীরে নীচে নামতে হয় l এখন তোমাদের বুদ্ধিতে সৃষ্টির সারা জ্ঞান ভরা আছে , আমরা ৮৪ জন্ম কিভাবে ভোগ করি l এই পার্ট কখনও কারোর বন্ধ হয়না l এই ড্রামা প্ল্যান পূর্ব -পরিকল্পিত যা চক্রাকারে ঘুরতেই থাকে l এটা কেউ বলতে পারবেনা ভগবান কখন ,কিভাবে , কোথায় বসে এই প্ল্যান বানিয়েছেন l এতো আবহমানকাল ধরে চলে আসছে l বিশ্বের ইতি -বৃত্তান্ত (হিস্ট্রি -জিওগ্রাফি ) পুনরাবৃত্তি হয়েই চলে l এই কথা কেউ বুঝতেই পারেনা l তোমরাই জানো - আমরা ড্রামা প্ল্যান অনুসারেই এসেছি l আবার ড্রামা অনুসারেই রাজ্য অধিকার নিচ্ছি l এই কথা আর কেউ বুঝতে পারবেনা l জিজ্ঞাসা করা হয় - ড্রামা সর্বশক্তিমান নাকি ঈশ্বর ? বলা হয় ঈশ্বর সর্বশক্তিমান l ভাবে উঁনি সব কিছু করতে পারেন l বাবাও বলেন - আমিও ড্রামার নিয়ম-শৃঙ্খলে বাঁধা আছি l পতিতকে পবিত্র বানাতে আমাকে নীচে আসতেই হয় l তোমরা সত্যযুগে সুখী জীবনের অধিকারী হও আর আমি বিশ্রাম নিতে পরমধামে চলে যাই l তোমরা তো শীর্ষস্থানে পৌঁছেই যাও আর পাঁচ বিকারের ওপর বিজয় লাভ করে সিংহের ওপর আরোহী হও l তোমরা জানো যে প্রত্যেক মূহুর্তে যা ঘটছে তা ড্রামাতে তৈরি হয়ে আছে l তোমাদের-বাচ্চাদের কত ভালো জ্ঞান হয়েছে lএখন শুধু বাবাকে আর রাজ্যাধিকারকে মনে করো l ব্যস্ এটুকুই ! কাগজ ,পেন্সিল ইত্যাদির দরকারই নেই l ব্রহ্মাবাবাও পড়ে , এখানে তো কিছু রাখাই হয়না l শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করলেই রাজ্য অধিকার পাওয়া যাবে l কত সহজ l স্মরণ করলে তোমরা চিরকালীন স্বাস্থ্যবান হবে l এই হচ্ছে ধারনার কথা l লেখায় কোনও লাভ নেই ,সবই তো বিনাশ হয়ে যাবে l অবশ্য কেউ কেউ মনে রাখার জন্য লিখে নেয় l ঠিক যেমন কোনও কথা মনে রাখার জন্য আঁচলে বা বস্ত্রের টুকরাদিতে গিঁট বেঁধে দেয় l তোমরাও গিঁট বেঁধে নাও - শিববাবা আর রাজ্যাধিকার স্মরণে রাখতে হবে l এতো খুবই সহজ -যোগ অর্থাত্ স্মরণ l কেউ কেউ বলে - বাবা স্মরণ তো বুদ্ধিতে স্থির হয়না , তবে যোগে বসব কি করে ? আরে লৌকিক বাবাকে যেমন উঠতে -বসতে , চলতে -ফিরতে মনে পড়ে ঠিক সেরকমই তোমরা শুধু স্মরণ করো l ব্যস্ তাহলেই হদের সীমা পার করে যাবে l আচ্ছা l

মিষ্টি -মিষ্টি সিকিলধে/ হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমাত্মা ) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মাদের ) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে ৮৪ জন্মের চক্র বুদ্ধির দ্বারা ঘুরিয়ে যেতে হবে l বেহদের বাবাকে স্মরণ করে বেহদের রাজত্ব নিতে হবে , পবিত্রতা ধারণ করতে হবে l 

২) কোনও জিনিসের প্রতি যেন লোভ না থাকে , যা পাওয়া যাবে তাতেই খুশি থাকতে হবে l রুটির টুকরো অর্থাৎ যৎসামান্য খেতে হবে আর বাবাকে স্মরণ করতে হবে l

বরদান :- 

সমর্পণের ভাব দ্বারা বুদ্ধিকে স্বচ্ছ বানানোর কারিগরেরা সকল সম্পদ-সম্পন্ন ভব (হও ) 

জ্ঞানের , শ্রেষ্ঠ সময়ের সম্পদ জমা করা বা স্থূল সম্পদকে লাখো গুণে বাড়ানো অর্থাত্ জমানো ... এইসব সম্পদে সম্পন্ন হওয়ার আধার হলো স্বচ্ছ বুদ্ধি আর মনের সত্যতা l কিন্তু বুদ্ধি স্বচ্ছ তখনই হয় যখন বুদ্ধির দ্বারা বাবাকে জেনে তাকে বাবার সামনে সমর্পণ করে দেওয়া l শুদ্ধ বুদ্ধির সমর্পণ অর্থাত্ দেওয়াই দিব্য বুদ্ধিকে ধারণ করা l

স্লোগান :- 

" এক্ বাবা দ্বিতীয় কেউ নয় " এই বিধির দ্বারা সদা বৃদ্ধিকে প্রাপ্ত করতে থাকো।

***OM SHANTI***

Google+ Followers