BK Murli 7 May 2016 In Bengali

BK Murli 7 May 2016 In Bengali

০৭.০৫.২০১৬ প্রাতঃ মুরলী ওম শান্তি “বাপদাদা” মধুবন।

“মিষ্টি বাচ্চারা – তোমরা এখানে এসেছো (সেল্ফ রিয়েলাইজেশন) নিজেকে জানতে ও বুঝতে। তোমরা নিজেকে আত্মিক-স্থিতির ভাবধারায় পরমাত্মা বাবার থেকে জ্ঞানের পাঠ গ্রহন করছো। এই পাঠ ধারনের নিমিত্তে দেহী-অভিমানী ভাবে থাকার অভ্যাস করো।" 

প্রশ্ন :- 

কখনও কখনও বাচ্চাদের কেউ-কেউ জিজ্ঞেশ করে যে, তুমি কি কখনও আত্মার সাক্ষ্যাৎকার করেছো - সেই ক্ষেত্রে, তোমরা তাদেরকে কি এমন উত্তর দেবে ?

উত্তর :- 

বলো হ্যাঁ, আমরা আত্মার সাক্ষ্যাই অবশ্যই করেছি। আত্মা হলো জ্যোতিবিন্দু স্বরূপ। আত্মার মধ্যেই ভালো বা খারাপ সংস্কারের গুনগুলি প্রভাবিত হয়। আত্মার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ জ্ঞান এখন আমরা পেয়েছি। যতক্ষণ পর্যন্ত্য আমরা দেহ-অভিমানী ছিলাম, ততক্ষণ পর্যন্ত্য আত্মার সাক্ষ্যাৎকার হয়নি। কিন্তু এখন পরমাত্মার দ্বারা (গড- রিয়েলাইজেসান) ঈশ্বরীয় অনুভূতি আর (সেল্ফ- রিয়েলাইজেসান) আত্মিক অনুভূতি হয়েছে।

গীত :- 

না ওহ্ হামসে জুদা হোঙ্গে ................। 
( যদি উনি আমাদের থেকে আলাদা না হতেন .........।


ওম শান্তি। 

মিষ্টি-মিষ্টি রুহানী বাচ্চারা এই গীত তো তোমরা শুনলে। এই রুহানি বাচ্চারা যিনি বললেন, তা অবশ্যই কোনও শরীরের দ্বারা। কিন্তু এইভাবে অবশ্য কেউ কখনো বলবে না যে, আমরা সাধু-সন্তের উপরেও বলিহার হয়ে যাবো। যেহেতু, বাচ্চারা জানে – আমাদেরকে যেতে হবে তারই সাথে, এই শরীরটাকেও ছেড়ে দিতে হবে। তাই তো বলে থাকি, এই শরীরটাকে এখানেই ছেড়ে দিয়ে আমরা চলে যাবো আমাদের বাবার সাথে। যেহেতু বাবা স্বয়ং এসেছেন সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। যদিও এসব হলো অনেক গভীরে বোঝার বিষয়। যেহেতু, বাচ্চারা আমায় ডাকতে থাকে, তুমি এসে, আমদের পতিতদেরকে পবিত্র-পাবন বানাও, -তাই সেক্ষেত্রে আর কি বা করি। এখানে তো আর তাদেরকে ফেলে রেখে চলে যাওয়া যাবে না। বর্তমানের এই সম্পূর্ণ দুনিয়াটাই হলো পতিত। এই পতিত দুনিয়া থেকে পবিত্র-পাবন দুনিয়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে বাবা স্বয়ং এসেছেন। আমাদের আত্মাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। বর্তমানের এই সম্পূর্ণ দুনিয়াটাই হলো বিষাক্ত – এটাও তো তোমরা বুঝেছো। তাই তো তোমরা কাউকে বিকারী, কাউকে পতিত বললে সে রেগে যাবে। অন্য মনুষ্যদেরকে অনেক যুক্তি সহকারে তা বোঝাতে হবে আর মহিমা-গুন কীর্ত্তণ করতে হবে কেবলমাত্র এক এই বাবার। এখন তোমরা বাচ্চারা যে জ্ঞান প্রাপ্ত করেছো, বেশ হিসেব করে বুদ্ধি সহযোগে কথা বলতে হবে। কোথাও যদি দেখো, প্রশ্ন-উত্তর, তর্কাতর্কির অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে, তখন বলবে আমি তো এখনও এ বিষয়ে কাঁচা, তাই বড় বোন্ এসে (রেসপন্ড) তা সবিস্তারে অবশ্যই বুঝিয়ে দেবে। আর তোমরা বলবে, আমাদেরকে শিববাবা বোঝান, যা "ভগবানের বাক্য" – যেহেতু মনুষ্যরা সকলেই তো পতিত। পতিতেরা তো আর ভগবান হতে পারে না। তাই তো মনুষ্যরা পতিত পাবনকেই ডাকে কারণ তারা নিজেরা যেহেতু পতিত হয়ে গেছে। তাই দেহধারীদের কোনও ভাবেই ভগবান বলা যাবে না। যেহেতু ভগবান একমাত্র নিরাকার শিবকেই বলা হয়, তাই তো শিবের এত অনেক মন্দির। শুরুর প্রথমেই যখন তারা এ কথা বুঝে যাবে, তখন তারা এই জ্ঞানে থাকতে পারবে। শুরুর প্রথমেই বলবে, এ সব স্বয়ং শিব ভগবানের বাক্য – শিব বাবা নিজেই বলেন যে "মামেকম্ ইঁয়াদ (শ্মরণ) করো। তার নিজের কিন্তু কোনও শরীর নেই। আর ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করের, তাদের নিজেদের সূক্ষ্ম শরীর আছে। যা অবশ্য সূক্ষ্মলোকে ওনাদেরকে দেখা যায়। কিন্তু, শিববাবাকে তো তাও দেখা যায় না। তাই তো তাকেই বলা হয় পরমপিতা পরমাত্মা। তোমরাও বলবে আমরা আত্মারা এক শরীর ছেড়ে আবার অন্য শরীর নেই। তোমরা নিজেদের আত্মার সাক্ষ্যাৎকারও করেছো। ভক্তি মার্গে সাক্ষ্যাৎকার করার জন্যে ভক্তরা (নোধা) কত প্রকারের ভক্তিই না করে। কিন্তু যারা ভক্তি করেছে তারা কখনোই সাক্ষ্যাৎকার পায় না। সেটা যে কি জিনিস, সেটাই তারা জানে না। শুধু এইটুকুই বলে – সে হলো নিরাকার। কিন্তু কথা-বার্তা তো আত্মাই করে। সংস্কারও তাদের আত্মার মধ্যেই থাকে। আর আত্মা বের হয়ে গেলে, তখন না আত্মা, না শরীর- কথা বলতে পারে। যেহেতু আত্মা ছাড়া শরীর কিছুই করতে পারে না। তাই তো প্রথমেই আত্মাকে চিনতে হবে আর তা বাবার দ্বারাই বাবাকে চিনতে পারবে। আত্মার পরমপিতা, পরমাত্মার সাক্ষ্যাৎকার কেমন করেই বা হতে পারে – যদি না সে নিজেকেই জানতে না পারে ও দেখতে না পারে। যদিও তারা আবার এও বলে -(“চমকায় এক আজব তারা”) অর্থাৎ এক বিচিত্র তারার মতন কিছু একটা জ্বল্-জ্বল্ করে। কিন্তু এটা তারা কেউ জানে না যে, সেই আত্মার মধ্যেই ৮৪ জন্মের (পার্ট) কর্ম-কর্তব্যের (নুধা) চিত্রপট খোচিত রয়েছে। মনুষ্যরা তো একেবারেই দেহ-অভিমানী ভাবে থাকে। তাই তো এখন বাবা বলছেন, বাচ্চারা তোমরা দেহী-অভিমানী হও। প্রথমে নিজেকে আত্মা ভাবো, তারপর আমার নির্দ্দেশ শোনো। যেহেতু শোনে যা কিছু তা তো আত্মাই। আর আত্মাকে তা শোনানোর জন্যে পরমাত্মাকে প্রয়োজন। মনুষ্যকে মনুষ্যরাই বুঝিয়ে থাকে। যেহেতু এই আত্মার জ্ঞান মনুষ্যদের মধ্যে কারোরই নেই। সেই জন্যেই বলা হয় প্রথমে আত্মাকে তো জানো। তাই (সেলফ্ রিয়েলাইজেসান) নিজেকে জানো আর নিজেকে চেনো। আত্মা নিজেই তা জানতে চায় – আত্মাকে আমি (রিয়েলাইজেসান) জানবো কেমন করে। যাকে সেভাবে তো কেউই তা জানে না, আর কি ভাবেই বা আমাদের আত্মার মধ্যে কেমন করে এত সব কর্ম-কর্তব্যের পার্ট ভরা রয়েছে। যা সাধু-সন্যাসীরাও তা বলতে পারে না। বাবাকেই এসে বাচ্চাদেরকে সেই সেল্ফ রিয়েলাইজেসান করাতে হয়। বাবা বলেন যে– নিজেকে আত্মা ভেবে নিয়ে আমি নিরাকার ভাবতে হবে। তারপর পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করে অন্তরে তার কথা শোনো। আত্মা আর পরমাত্মা যখন মিলিত হয় তখনই এই সব কথার লেনদেন হয়। দুনিয়ার লোকেরা তো এটাই জানে না যে, পরমপিতা পরমাত্মা কখন আসেন। আর কেমন করেই বা এসে এ সব জ্ঞান বোঝাবে ? এ সব গূঢ় রহস্যকে না জানার কারণে তারা মত ভেদে এসে যায়। যদিও তাদের সকলেরই গুরুত্ব রয়েছে শাস্ত্রের পাণ্ডিত্যের ওপরে। বাবা বলেন – ওদের থেকে তোমরা আমাকে রিয়েলাইজ করতে পারবে না। আর না তো নিজেরা নিজেকে রিয়েলাইজ করতে পারবে। ওরা তো কেবল একটাই কথা বলতে থাকে - আত্মা সো পরমাত্মা। এরকম বললে তাতে আর কি বা হয়। কিন্তু, আমাদেরকে পতিত থেকে পাবন কে বানাবে ? ত্রিকালদর্শী কে বানাবে ? কেও তো সেভাবে আত্মা আর পরমাত্মার জ্ঞানই দিতে পারে না। সেই জন্যেই তো তোমরা বলো, যে আত্মারা তাদের নিজের বাবাকে (শিবকে) জানে না তারা হলো নাস্তিক। ওরা তারপর বলে দেয় যে যারা ভক্তি করে না ওরাও নাস্তিক। কিন্তু এখানে তোমরা বাচ্চারা সেই ভক্তি তো কর না। তোমাদের কাছে অনেক ভালো ভালো চিত্রও রয়েছে। চিত্রের ওপরেই সরল ও সুন্দর ভাবে বোঝানো যায়। কেউ (ওয়ার্ল্ডের ম্যাপ) পৃথিবীর নকশা না দেখে থাকলে, সে কি করে জানবে – লন্ডন শহর কোথায় ? আমেরিকাই বা কোথায় ? যতক্ষণ না শিক্ষক বসে ম্যাপের ওপরে তা বোঝাবে। সেজন্যেই তো তোমরা এই চিত্র বানিয়েছ। কিন্তু তাতেও (ডিটেলে) বিস্তারিত কেউ বুঝতে পারবে না। সূর্য- বংশীরা এই রাজধানী কোথা থেকে আর কি করেই বা তা পেয়েছে ? তারপরে চন্দ্রবংশীরা আবার তা কোথা থেকে কার কাছ থেকে বা কিভাবেই তা নিয়েছে ? এই স্থানান্তরের সময়ে সূর্য বংশীরা কি চন্দ্রবংশীদের সাথে লড়াই করেছিলো ? যদিও তোমরা তা বোঝো যে এরা সকলেই আশীর্বাদের বর্ষা সেই এক বাবার থেকেই প্রাপ্ত করে। সূর্য-বংশী, চন্দ্র-বংশীরাই হলো বিশ্বের মালিক। সে সময়কালে আর অন্য কোনো ধর্মই যেখানে হয় না, তো সেখানে লড়াইয়ের কোনো কথাই নেই। এখন তোমরা তা বুঝতে পারছো কি করে আমরাই বিশ্বের মালিকে পরিণত হই। কিন্তু, এমনটা মোটেই নয় যে সূর্য -বংশীদের কাছে থেকে চন্দ্র-বংশীরা লড়াই করে তা জিতে নিয়েছে বা কোনও প্রকারের যুদ্ধ ইত্যাদি কিছু করেছে। আসলে তা আলাদা-আলাদা ঘরানার ব্যাপার। এখন তো তোমাদের বুদ্ধিতে এই সব চিত্রে বর্ণিত সম্পূর্ণ জ্ঞান ধারণ করা আছে। স্কুলেও যখন (স্টুডেন্ট) ছাত্ররা পাঠ পড়ে তখন বুদ্ধিতে সেগুলিরই সম্পূর্ণ জ্ঞান ঘোরাফেরা করতে থাকে। ছোট বাচ্চাদেরকে বইয়েও নানা প্রকারের ছবিও বোঝাবার জন্য দেখানো হয়, যেমন– এটা হলো হাতি, এটা হলো অমুক। এখন তোমরা এই (ড্রামাকে) বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের অবিনাশী নাটকের চিত্রপট জেনেই গেছো। যার সম্পূর্ণ চক্রই তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। যদিও অন্যদের জন্য এ সব হলো নতুন ধরণের কথা। কিন্তু এই সব কথা কেবল তোমাদের ব্রাহ্মণ কুলই বুঝবে। আর অন্যরা তো এ সব নিয়ে ফালতু-ফালতু বসে খালি (ডিবেট) তর্কই করবে। আর এমনটাও সম্ভব নয় যে, সকলকে একত্রিত বসিয়ে একসাথে তাদেরকে বোঝানো যেতে পারে। না, এই সব ক্ষেত্রে তাদেরকে আলাদা-আলাদাই বোঝাতে হয়। তাতে লাভও আছে। তাই শুরুর প্রথমে বাবাকে আর আত্মাকে বুঝাবে, তারপরেই (ক্লাসে) কক্ষে বসলে, তবেই এই পাঠ বুঝবে, না হলে তা বুঝতেই পারবে না। সংশয় নানা বিষয়ে আসতেই থাকবে। তোমাদেরকে যুক্তি সহকারে বোঝাতে হবে যে, ভগবান হলেন একজনই – যিনি হলেন সর্ব-উচ্চ। দেবতাদেরকেও কিন্তু ভগবান বলা যাবে না। তোমরা বাচ্চারা, আত্মারও জ্ঞান এখন প্রাপ্ত করেছো। কর্মের ফল তো আত্মাই ভোগ করে। যেহেতু সংস্কার তো আত্মার মধ্যেই থাকে। আর আত্মাই তা শোনে এই অর্গ্যানস (organ) ইন্দ্রিয়ের দ্বারা। ভগবান বাবা হলেন এক ও একমাত্র একজনই। আর আশীর্ব্বাদের বর্ষাও ওনার থেকেই প্রাপ্তি হয়। বাবা বার বার বাচ্চাদেরকে বুঝিয়েছেন– তোমরা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করো আর বাবার সাথে বুদ্ধিযোগ লাগাও। জন্ম-জন্মান্তর ধরেই তো অযথা কতই না ভক্তি করে এসেছো। এমন কি হনুমানেরও পুজারী হলে তোমরা। তাই তো এভাবে হনুমানকেও স্মরণ করো। আবার যে কৃষ্ণের পুজারী হয় সে কৃষ্ণকেই স্মরণ করবে। তাইতো এখন তোমাদেরকে বোঝানো হচ্ছে – তোমরা হলে আত্মা। তোমাদের পরমপিতা হলো পরমাত্মা। একমাত্র তাকে স্মরণ করলেই বাবার আশীর্ব্বাদের বর্ষা (উপহার/অধিকার) প্রাপ্ত হবে। কারণ, এই বাবা-ই সেই বাবা,-যেই বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা, তাই তো ওনার আশীর্ব্বাদের বর্ষা পেলে অবশ্যই আমরা স্বর্গে থাকবো। একদা এই ভারতই স্বর্গ ছিল। এখন তো স্বর্গেরই কোনও অস্তিত্ব নেই, যে সেই স্বর্গের রাজ্যত্ব হবে। আর নরকে তো রাবনের রাজ্যত্ব। আমাদের সেই স্বর্গের রাজধানী কেমন করে চলতো, তারপরে অধোগতিতে কিভাবে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকে, অন্যান্য লোকেরা তার কিছুই কিন্তু জানে না। কিভাবে স্বর্গের সেই বর্ষা প্রাপ্ত হবে, তাও জানে না। যেহেতু আমরা বাবার আপন হই, তাই তো বাবার থেকে সেই বর্ষা প্রাপ্ত হয়। কিন্তু যতক্ষণ তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান অবস্থায় না হবো, অর্থাৎ যোগের দ্বারা পবিত্র-পাবন হবো না, ততক্ষণ বর্ষা প্রাপ্ত হবার অধিকার পায় না। তাইতো বাবা বলেন, "আমাকে স্মরণ করলেই তোমাদের সব বিকর্ম বিনাশ হবে, বিকর্মজীত হবে, এটা হলো গ্যারান্টি।" অন্যদেরকেও এ সব বুঝিয়ে বলতে হবে। তাতে কেউ কেউ বুঝতে পারবে ...কোনও কোনও বুদ্ধিমান নানা কু-যুক্তির উপস্থাপন করে চিৎকার চেঁচামেচিও করবে, আবার কেউ না কেউ বিঘ্ন দেওয়ার জন্যেও তৈরী হয়ে পরবে। এ ধরনের কেউ হাঙ্গামা করলে বলা দরকার – একান্তে এসে আগে বাস্তবকে বোঝো। যেহেতু, এখানকার আদব-কায়দাটাই হলো– ৭দিন যোগ ভাট্টিতে থেকে বোঝা ও অনুভব করা। কারণ এই জ্ঞান তোমাদের কাছে নতুন হওয়ার কারণে তোমরা কেউ কেউ এর (মুর্ঝে) প্রকৃত অর্থ না বুঝে বিমর্ষ হয়ে পরো। কখনো কোনো নতুন সেন্টার খুললে, ওতে বুদ্ধিমান কারো থাকার প্রয়োজন রয়েছে, যে সকলকে সেভাবে বোঝাতে পারবে। ভগবান তো সকলের জন্যই এক, আর সকল আত্মারাই হলো ভাই-ভাই সম্পর্কের। যেহেতু পরমাত্মা হলেন সকলেরই বাবা। সবাই তাকে ডাকে পতিত-পাবন আসো। সে ক্ষেত্রে তো অবশ্যই উনি হলেন চির পবিত্র-পাবন, যিনি কখনো পতিত হন না। এই বাবা-ই এসে পতিতদের আবার পবিত্র পাবন বানাবেন। সত্যযুগের সকলেই হলো পবিত্র পাবন। আর কলিযুগের সকলে হলো পতিত। পতিতদের সংখ্যা অনেক হয়, কিন্তু পবিত্র পাবনদের সংখ্যা খুবই কম হয়। তাই তো সত্যযুগে সকলেই সেখানে যেতে পারে না। যে পতিত অবস্থা থেকে পাবন অবস্থায় আসতে পার, সেই পাবন দুনিয়াতে যেতে পারে। বাকিরা (আত্মারা) সবাই নির্বাণ দুনিয়াতে চলে যায়। তোমরা এটাও জেনে রাখো, সারা দুনিয়াই এসে এই মত নেবে না। এটাও খুব মুশকিল যে তোমরা সারা দুনিয়াকেই এই মত দেবে। যেহেতু এখন সকলের জন্যই হলো (কায়ামতের) অন্তিম বিনাশের সময়। বিনাশ তো সকলেরই হতে হবে। এ সব সেভাবে বোঝানোর অনেক যুক্তি দরকার। যে শান্তিতে বসে শুনবে, ডিস্টার্ব ঝামেলা করবে না, তাদেরকেই বোঝাবে। শুরুর প্রথমেই তো বাবার পরিচয় দিতে হবে। এই শিববাবাই হলেন পতিত-পাবন যিনি স্বয়ং আমাদেরকে এই জ্ঞান বোঝন। গীতাতেও এই পবিত্রতা অক্ষরটি প্রসিদ্ধ ও গুরুত্ব সহকারে বর্ণিত আছে। পতিত-পাবন বাবা নিজেই বলেন যে, "আমাকে ইঁয়াদ(স্মরণ) করলেই তো তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে।" গীতার সাথেই এই অক্ষরের (তালুক) সংযোগ রয়েছে। শিববাবাও তো তাই বলছেন– "আমাকে স্মরণ করো। আমিই হলাম সর্ব শক্তিমান. পতিত-পাবন। গীতার জ্ঞান-দাতা, জ্ঞানের সাগর। গীতার অক্ষর তো অন্যেরাও বলে। তফাৎ শুধু ওরা বলে, এ সব কৃষ্ণ ভগবানের বাক্য। আর তোমরা বলো শিব ভগবানের বাক্য। যুক্তি দিয়ে বোঝা উচিত, ভগবান তো হলেন নিরাকার, উনি কখনো পুনর্জন্ন্ম নেয় না, যা হয় তা অলৌকিক দিব্য জন্ম নেন। উনি নিজেই তা বোঝান – "আমি সাধারণ বৃদ্ধের শরীরে আসি, যাকে ভাগীরথ বলা হয়। ব্রহ্মার দ্বারাই রচনার রচনা রচেন। তাই তো সেই মানুষের নাম 'ব্রহ্মা' রাখা হয়। পরবর্তিতে যিনি ব্যক্ত ব্রহ্মার থেকে পাবন অব্যক্ত অবস্থায় সূক্ষ্ম-বতনের ফরিস্তা হয়ে যান। সেই বাবা-ই আসেন পতিতদের পাবন বানানোর উদ্দেশ্যে। তাই তো ওনাকেও অবশ্যই আসতে হয় এই পতিত দুনিয়ায় পতিত শরীরের আশ্রয়ে। এটা হলো (ডিটেলে) বিস্তারে বোঝানোর পদ্ধতি। আর শুরুর প্রথমে বোঝাতে হবে – ভগবান স্বয়ং বলছেন যে, "পূর্বের কল্পেরই মতো আমাকে স্মরণ করো তাহলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, আর তোমরাও পতিত থেকে পাবন হও।" এ রকম কত প্রকারের কীর্তন-গায়নও তো আছে, হে পতিত পাবন এবার তুমি আসো। গঙ্গাকেও পর্যন্ত্য ডাকতে থাকে, সে তো তাদের কাছেই আছে। তাতে কি আর কাজ হয়। কিন্তু, এই বাবাকে তোমরা যখন ডাকো তখন তো উনি অবশ্যই আসবেন। তা সে যে কোনও জায়গায় থাকুন না কেন, সেখান থেকেই আসবেনন। এই পতিত-পাবন আসেনই পতিত থেকে পাবন বানানোর পার্ট কর্ম-কর্তব্য সম্পন্ন করতে। বাবা বলেন, একদা তোমরাই কত পাবন অবস্থায় ছিলে। তারপর ধীরে ধীরে তোমাদের আত্মার মধ্যে খাদের ময়লা-মরচে পড়েছে, আরর সেটা এই যোগবলের দ্বারাই বের হবে। যোগের তপে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে, তারপরেই পাবন দুনিয়াতেই আসবে। আর এই পতিত দুনিয়ারও বিনাশ হয়ে যাবে। তাই তোমাদেরকে যেটা বোঝানো হয়, সেটা সঠিক রীতিততে ধারণ করতে হবে। আমরা তো শুধু উঁচু থেকে অতি উঁচু সর্ব্বোচ্চ বাবার মহিমা-কীর্তন করি। বেহদের বাবা আরও বোঝাচ্ছেন, তোমরা আত্মারা ৮৪ জন্মের কর্ম-কর্তব্যের পার্ট বাজাতে বাজাতে কত পতিত অবস্থায় এসে গেছ। তোতোমরাই প্রথমে এত সুন্দর পবিত্র-পাবন ছিলে, যা এখন আবার এত পতিত হয়েছ। আবারও স্মরণের(ইঁয়াদের) যাত্রায় থাকলে পাবন হয়ে যাবে। ভক্তিমার্গে থেকে তোমরা সিঁড়ি বেয়ে কত নীচে নেমে এসেছো। এই সব তো হলো একেবারে সহজেই বোঝার কথা। এটা তো বাচ্চাদের বুদ্ধিতে গভীর ভাবে বসা দরকার। সকালে উঠেই এই সবের বিচার সাগর মন্থন করা দরকার তারপর যে সামনে আসবে তাকেও বোঝানো দরকার। মুরলীর মুখ্য পয়েন্টগুলি নোট করে নিয়ে, সেগুলিও দেওয়া দরকার তারপরে আবার সেগুলির রিপিট করাও দরকার। তাহলেই তা অন্তরের অন্তঃস্থলে একেবারেই পাক্কা হয়ে যাবে। শুরুর প্রথমেই মুখ্য কথা হলো বাবাকে স্মরণ করা ও করানো। বাবা স্বয়ং বলেন, " মন্মনাভবঃ-অর্থাৎ আমাকেই স্মরণ করো" যাতে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। তা করো বা না করো সে অবশ্য তোমার নিজের ইচ্ছা। বাবার (ফর্মান) আদেশ ও নির্দ্দেশ তো তোমরা প্রাপ্তই করেছ। আর পাবন দুনিয়াতে যেতে হলে, এই পতিত দুনিয়াদারী কার্য-কলাপে বুদ্ধির যোগ লেগে থাকলে সেখানে যেতে পারবে না। বিকারগুলি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে। এ রকম ভাবে তোমাদেরকে অনেক ভাবেই তো বোঝানো হয়। আচ্ছা! 
মিষ্টি মিষ্টি (সিখিলাধে) হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। রুহানি পরমাত্মা বাবার রুহানি আত্মাধারী বাচ্চাদেরকে সপ্রেম নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১) সকাল-সকাল উঠে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। বাবা যা যা শোনাচ্ছেন, সেটা নোট টীকা টুকে রিপিট পুনরায় অধ্যায়ন করতে হবে, এবং অন্যদেরকেও তা শোনাতে হবে। কিন্তু সবার প্রথমে সকলকে বাবার পরিচয় জানাতে হবে। 

২) পাবন-পবিত্র দুনিয়াতে যাওয়ার লক্ষ্যে, এই পতিত দুনিয়াদারী থেকে বুদ্ধির যোগকে বের করে ফেলে দিতে হবে।

বরদান :- 

সর্বদা(বাবার) সাথের অনুভবের দ্বারা, অবিদ্যার পরিশ্রমের অভ্যাসী অতিন্দ্রীয় সুখ বা আনন্দ স্বরূপ ভব (হও) !

ব্যাখ্যা :- যেমন বাচ্চা যদি বাবার কোলে থাকে, তখন কিন্তু বাচ্চা পরিশ্রান্ত হয় না। কিন্তু, সে নিজের পায়ে চললে তখন সে হাঁপিয়েও পড়ে, আবার কখনও বা কাঁদেও। এখানেও তোমরা বাচ্চারা সেই প্রকার বাবার কোলেই বসেই এতসব কিছু করছো। তাতে কিন্তু তোমরা একটুকুও ক্লান্তি-পরিশ্রম বা মুশকিলের অনুভব করো না। সঙ্গম-যুগে এইভাবেই যারা সদা-সর্বদা বাবার সাথে থাকা আত্মারা একাত্ম হয়ে রয়েছে তাদের জন্যে পরিশ্রম অবিদ্যা তুল্য হয় মাত্র। আর পুরুষার্থও এক ন্যাচারাল অতি সাধারণ ভাবেই কর্মে পরিণত হয়। সেকারণেই সদা অতিন্দ্রীয় সুখ বা আনন্দ স্বরূপের অনুভূতি স্বতঃসিদ্ধি হয়ে যায়।

স্লোগান :- 

রুহে (স্বর্গীয় সুবাসের) গোলাপ হয়ে নিজের রুহানি বৃত্তির দ্বারা বায়ুমন্ডলে রুহানিয়ৎ-এর স্বর্গীয় সুগন্ধ ছড়াও।



***OM SHANTI***

Google+ Followers