BK Murli 11 June 2016 Bengali

BK Murli 11 June 2016 Bengali

 ১১-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - এই সময় তোমরা নিজেকে বাবার কাছে সমর্পণ করো , তাহলে ২১ জন্মের জন্য তোমরা সদা সুখী হতে পারবে l "

প্রশ্ন :- 

জ্ঞানী বাচ্চাদের নিজেদের অবস্থাকে ঠিক রাখার জন্য কোন্ অভ্যাসকে পাকা করতে হবে ?

উত্তর :- 

সকাল সকাল ওঠার অভ্যাস করা l খূব ভোরে উঠে বাবার স্মরণে বসতে হবে l এই ধারণা খুবই সুন্দর l যে সব বাচ্চারা তাড়াতাড়ি শোয়ার অভ্যাস করে এবং অমৃতবেলায় উঠতে পারে , তাদের অবস্থা সারাদিন ঠিক থাকে l অজ্ঞানী লোকেদের ঘুমের পরিমাণের থেকে জ্ঞানী লোকেদের ঘুমের পরিমাণ অর্ধেক হওয়া উচিত l রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করো আর ২ টোর সময় উঠে বাবার স্মরণে বসো l

গান :- 

মুঝকো সাহারা দেনে ওয়ালে ...........

ওম্ শান্তি l 


বাচ্চারা সব বাবার সামনে বসে আছে , তাই তারা জানে যে আমরা হলাম জীব আত্মা l এখানে তো সব জীব আত্মাই হবে তাই না ? যখন আত্মাদের শরীর থাকে না তখন তাদের অশরীরী বলা হয় l তোমরা তো শরীরের সঙ্গে এখানে বসে আছো l আত্মা বা পরমাত্মা যতক্ষণ না কোনো শরীরে প্রবেশ করে ততক্ষণ কোনো কথাই বলতে পারে না l তোমরা জীব আত্মারা সকলেই জানো যে তোমরা এখন বাবার সামনে বসে আছো l ঠিক একইরকম ভাবে ৫০০০ বছর আগেও তোমরা এইভাবেই বাবার সামনে বসে ছিলে l বাচ্চারা তো অবশ্যই বাবার থেকেই বর্ষা বা সম্পত্তি নেবে l তারা জানে যে তারা পরমপিতা পরমাত্মা বেহদের বাবার সামনে বসে আছে l কিন্তু কেন বসে আছে ? বাবার থেকে বেহাদের বর্ষা নেবার জন্য l যেমন লৌকিক জগতে বাচ্চারা যখন স্কুলে পড়ে তখন তারা বোঝে যে , আমরা শিক্ষকের দ্বারা ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যরিস্টারীর পড়া অভ্যাস করছি l তাদের জীবনের এই লক্ষ্য থাকে l তোমরা বাচ্চারা জানো যে , পরমপিতা পরমাত্মা তোমাদের ব্রহ্মার শরীরের মাধ্যমে রাজযোগ শেখাচ্ছেন l ভগবান উবাচঃ - বাচ্চাদের তো এই কথা বোঝানো হয়েছে যে , একমাত্র নিরাকারকেই ভগবান বলা হয় l জীব আত্মারা অবশ্যই পুনর্জন্ম গ্রহণ করে l যে কোনো সন্ন্যাসীদের তোমরা জিজ্ঞাসা করো .....মানুষ কি পুনর্জন্ম গ্রহণ করে ? তাহলে সন্ন্যাসীরা এই উত্তর দেবেন না ,যে মানুষ পুনর্জন্ম গ্রহণ করে না l না হলে ৮৪ লাখ জন্মের হিসেব তারা কি করে দেয় ? তাদের জিজ্ঞাসা করো .......তোমরা কি পুনর্জন্মকে মানো ? এ তো বরাবরই মানুষ জানে যে , আত্মারা তাদের সংস্কার অনুসারে এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর গ্রহণ করে l এমনই কিছু কিছু মানুষ ৮৪ জন্ম গ্রহণ করে l ৮৪ লাখ জন্মের তো কোনো কথাই নেই l প্রথম জন্ম কিন্তু তোমাদের খুবই ভালো এবং সতোপ্রধান হয় l আবার শেষ জন্ম তোমাদের ছি ছি তমোপ্রধান হয় l ১৬ কলা থেকে তোমরা ১৪ কলা , ১২ কলা এইভাবে নামতে থাকো , তাহলে পুনর্জন্ম তো অবশ্যই হয় l তোমাদের সন্ন্যাসীদের জিজ্ঞেস করা উচিত .......আচ্ছা , পরমপিতা পরমাত্মা কি পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন, না তিনি পুনর্জন্ম রহিত ? এ কিন্তু খুবই সূক্ষ্ম সূত্র l যদি বলে যে পরমপিতা পরমাত্মা জন্ম মরণ রহিত , তাহলে শিবজয়ন্তীর কথা তো সিদ্ধ হবে না l মানুষ তখন বলবে শিবজয়ন্তী তো পালন করাই হয় l তখন তোমাদের বোঝাতে হবে যে , শিবজয়ন্তী তো অবশ্যই পালন করা হয় , কিন্তু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যে মৃত্যুর কথা বলা হয় , তা এখানে হয় না l যদি পরমাত্মার মৃত্যু হয় তাহলে তাঁকে তো পুনর্জন্ম নিতেই হবে l কিন্তু বাবা কখনো পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন না l বাবা ব্রহ্মার শরীরে একইবার আসেন ,কিন্তু কখনো পুনর্জন্মতে আসেন না l পরমপিতা পরমাত্মা শিববাবা হলেন পুনর্জন্ম রহিত , তিনি কখনোই সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধানে পরিণত হন না l কিন্তু আত্মারা জন্ম মরণে এসে পতিত হতে থাকে, অবশেষে বাবা আসেন তোমাদের পবিত্র বানাতে l এর থেকে এই কথাই সিদ্ধ হয় যে আত্মাই পতিত হয় , আত্মা তার ঘর থেকে পবিত্র অবস্থায় এই পৃথিবীতে আসে , কিন্তু মায়া তাদের ধীরে ধীরে পতিত বানিয়ে দেয় l শিববাবা তো কখনোই তোমাদের পতিত বানাবেন না l বাবা কখনোই বাচ্চাদের খারাপ মত দেন না l কিন্তু এখন বর্তমান দুনিয়ার মানুষ পতিত মত বা খারাপ মত প্রদান করে l এখন পরম পবিত্র বাবা তোমাদের বলছেন , বাচ্চারা , তোমরা পতিত জীবনে যেও না অর্থাত্ বিকারে যেও না l রাবণের মতে চলে এই পৃথিবী দুঃখধামে পরিণত হয়েছে l প্রথমে ( সত্যযুগে ) কিন্তু সুখধাম ছিলো l এমন তো নয় যে বাবাই তোমাদের সুখ - দুঃখ প্রদান করেন l না , কখনোই নয় , বাবা কখনো বাচ্চাদের দুঃখের মত দান করেন না l মায়া তোমাদের সমস্ত দুঃখ দেয় l এই মায়ার উপর জয় লাভ করলেই তোমরা জগতজীত হতে পারবে l মানুষ মায়ার অর্থ ঠিকভাবে বোঝে না l তারা ধনকেই মায়া বলে দেয় l মানুষ বলে না , এর মায়ার নেশা অনেক বেশী l কিন্তু এই মায়ার কোনো নেশা হয় না l সত্যযুগে কেউ রাবণের প্রতিমূর্তি ( ভূত ) বানিয়ে জ্বালায় না l এই প্রতিমূর্তি বা ভূত তো শত্রুদের বানানো হয় l রাবণ রাজ্য দ্বাপর থেকে অর্থাত্ দ্বাপর আর কলিযুগ এই অর্ধেক কল্প নিয়ে শুরু হয় l দেহ অহংকার আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্যান্য বিকার আসতে শুরু করে l এই কথা শাস্ত্রে লেখা আছে যে , দেবতারা বাম মার্গে অর্থাত্ বিকারে চলে গিয়েছিল l মায়ার বশ হওয়ার কারণে তারা পরবশ হয়ে যায় l তখন তারা পরমতে চলতে আরম্ভ করে l এখন তোমরা বাবার শ্রীমতে চলছো l আর পরমত হলো মায়ার মত l শ্রী অর্থাত্ শ্রেষ্ঠ মত হলো শিববাবার l আর পরমত হলো রাবণের মত , তাই বাবা বলেন , আসুরী সম্প্রদায় সব রাবণের শিকলে বন্দী হয়ে দুঃখে আছে l
দুনিয়ার মানুষ তো সত্যযুগের আয়ু লাখ বছরের ভেবে বসে আছে l তোমরা তো এর সঠিক হিসাব জানো .....৫০০০ বছরের চক্র কেমন করে হয় l ক্রাইস্টএর ২০০০ বছর হয়েছে , বুদ্ধের ২২৫০ বছর , আবার ইসলাম ধর্মের ২৫০০ বছর হয়েছে l এই সব মিলিয়েই আধাকল্প অর্থাত্ দ্বাপর আর কলিযুগ l এর আগে তো দেবতাদের রাজ্য ছিলো , সত্য এবং ত্রেতা যুগ , তাহলে দেবতাদের রাজ্য কিভাবে লাখ বছরের বলা যাবে l এতো বছরে মানুষ তো আরো অনেক বেড়ে যাবে l এতো বছরের হিসাব তো হয়ই না l ৫০০০ বছরেই দেখো না কোটি কোটি মানুষ হয়ে গেছে l এই কথা বলা হয় যে ,ক্রাইস্টএর ৩০০০ বছর আগে এই ভারতে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম ছিলো l ৫০০০ বছর এখন প্রায় পুরো হয়ে এসেছে l তাই এই বিশ্ব নাটকও পুরো হতে চলেছে l এই কথা কেউই জানে না l আমি কে , কেমন , এই চক্র কিভাবে ঘোরে তা এই দুনিয়ার মানুষ জানতে পারে না l বাবা তোমাদের বোঝান এখন গীতা এপিসোড চলছে l বাবা এসেই তোমাদের সহজ রাজযোগ শেখান l বাবা বুড়ো মানুষদেরও বোঝান , এই যোগ খুবই সহজ l শুধুমাত্র বাবাকে আর তাঁর বর্ষাকে স্মরণ করতে হবে l মানুষের যখন সন্তানের জন্ম হয় তখন তারা ভাবে যে বংশের উত্তরাধিকারীর জন্ম হলো l তেমনি তোমরা ভাবো যে তোমরা হলে বাবার উত্তরাধিকারী l ৫০০০ বছর বাদে আবার তোমরা বাবার সঙ্গে মিলন মানাতে এসেছো l এ খুবই গুপ্ত কথা l বাবা তোমাদের জিজ্ঞেস করেন , তোমরা এর আগে কোনোদিন আমার সঙ্গে মিলেছো কি ? তোমরা বলো , হ্যাঁ বাবা l আত্মা এই মুখের দ্বারাই বলে - আমরা ৫০০০ বছর আগেই তোমার সঙ্গে মিলেছিলাম l তুমি এই ব্রহ্মার শরীরের দ্বারাই আমাদের শিক্ষা দিয়েছিলে l যারা খুব দৃঢ় বাচ্চা তারা এই কথা বোঝে যে , আমরা বাবার থেকে বেহদের বর্ষা গ্রহণ করতে এসেছি l বাবা বলেন , তোমরা ব্রহ্মার দ্বারা বেহদের শিববাবার হয়ে গেছো l তাই তিনি বলেন , তোমরা কি আমাকে চেনো , আমি তোমাদের বাবা l তোমরা বলবে , হে বাবা , আমাদের আত্মাদের বাবা হলে তুমি পরমপিতা পরমাত্মা শিববাবা l বাবাও তোমাদের বলেন .......তোমাদের আমিই স্বর্গের অধিকারী করেছিলাম ,স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম , বর্ষা ( সম্পত্তি ) আমিই দিয়েছিলাম , কিন্তু তারপর মায়া তোমাদের থেকে এই রাজত্ব কেড়ে নিয়েছে , এখন আবার আমিই তোমাদের সত্যযুগের অধিকারী করার জন্য বর্ষা দিচ্ছি l মায়া তোমাদের থেকে এই বর্ষা ছিনিয়ে নেয় , বাবা এসে তোমাদের আবার এই বর্ষার অধিকারী করেন l এই খেলা অনেকবারই হয়েছে আবার ভবিষ্যতে হতেও থাকবে l এই খেলার অন্ত বা শেষ হবে না l বাচ্চারা বাবার হয়ে যায় , কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে বাবার নিজের হয় , আবার কেউ কেউ শুধুই আসা যাওয়া করে l কেউ কেউ সত্ সন্তানতুল্য হয় আবার কেউ আবার সম্পূর্ণভাবে বাবার নিজের সন্তান হয়ে উঠতে পারে l যোগ বা জ্ঞানে কেউ কেউ খুব পাকা কেউ আবার কাঁচা হয় l পাকা সন্তানদের আবার কখনো কখনো মায়া একদম গ্রাস করে নেয় l বাচ্চারা বাবাকে বলে.... বাবা , যতদিন আমরা বাঁচবো , ততদিন তোমার থেকে বর্ষা নিতে থাকবো l বিকর্মের বোঝা তোমাদের মাথার উপর অনেক পরিমানে আছে l তাই তোমরা যত বাবার স্মরণে থাকতে পারবে ততোই এই যোগ অগ্নির দ্বারা পাপ - আত্মা থেকে পুণ্য - আত্মায় পরিণত হতে পারবে l আগুন যে কোনো জিনিসকেই পবিত্র করতে পারে l আর তোমরা যোগ - অগ্নির দ্বারা পবিত্র হবে l এ হলো বেহদের যজ্ঞ l বেহদের শেঠ ( শিববাবা ) এই বেহদের যজ্ঞ রচনা করেছেন l কোনো যজ্ঞই এতো বছর ধরে চলে না l সমস্ত যজ্ঞই সাত , আট দিন বা খুব বেশী হলে এক মাসের জন্য রচনা করা হয় l আর তোমাদের এই যজ্ঞ তো কতো বছর ধরে চলছে l বাবাতো তোমাদের এই জ্ঞানের কথা শোনাতেই থাকেন l বাবা বলেন যে ......তোমরা ভুলে যেও না , শুধু তোমরা আমাকে স্মরণ করো , তাহলেই তোমাদের জন্ম জন্মান্তরের বিকর্মের বোঝা নাশ হতে শুরু করবে l ভগবান উবাচঃ ......তোমরা তোমাদের বাবাকে স্মরণ করো l বাবা নিশ্চই এই দুনিয়ায় এসেছেন ,তাই তো তিনি এই কথা বলছেন l
বাবা বলছেন ....এখন তোমাদের ঘরে ফিরে যাবার সময় হয়েছে l এখন তোমাদের আত্মা পতিত l এখন তোমরা জানো যে ,এই যোগের দ্বারা তোমরা পবিত্র হতে পারবে l তোমরাই তো একদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলে .....বাবা , তুমি যখন আসবে , আমরা সকল সঙ্গ ত্যাগ করে এক তোমার সঙ্গেই সর্ব সম্বন্ধ স্থাপন করবো l নিজেকে , তোমাকে নিবেদন করবো l স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে , আর এখানে হলো বাবার কাছে নিজেকে নিবেদন করা l বিয়ে হলে একজন অপরজনের কাছে সমর্পিত হয় l এখন বাবা বলেন যে , কোনো মানুষের কাছেই তোমাদের নিজেকে সমর্পণ করতে হবে না l তোমাদের প্রতিজ্ঞাই হলো তোমরা বাবার কাছে সমর্পিত হবে l তোমরা যদি আমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করো তাহলে আমি তোমাদের ২১ জন্মের জন্য সর্বদা সুখী বানিয়ে দেবো l কতো সুখ এবং শান্তির অধিকারী আমি তোমাদের করবো l তোমরা ভুলো না , শ্রীমতের দ্বারাই তোমরা শ্রেষ্ঠ হতে পারবে l লক্ষ্মী নারায়ণের ছবিও তোমরা ঘরে রেখে দাও l তোমরা বাবার থেকে এই বর্ষা নিচ্ছো l বাবা এখন পরমধাম থেকে এখানে এসেছেন l কিন্তু মায়ারূপী চিলও কম নয় l সবকিছু তোমাদের কাছ থেকে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নেয় l সবার কথা নয় , এই জ্ঞান ধারণ করার নম্বর অনুসারেই এই মায়া কাজ করতে থাকে l কেউ কেউ তো একদম ভুলেই যায় যে তারা বাবার থেকে বর্ষা গ্রহণ করছে l যখন তোমরা সেন্টারে থাকো তখন তোমাদের অনেক নেশা থাকে l সেন্টার থেকে বাইরে গেলেই তোমরা আবার ভুলে যাও , আবার অমৃতবেলায় বাবাকে স্মরণ করে ফ্রেশ হও আবার সারা দিন নানা কাজে বাবাকে ভুলে যাও l চার - পাঁচ বছর ভালো সেবা কাজ করেছে এমন লোককে আজকে আর দেখা যায় না l শ্রীমতের কোনোরকম অবজ্ঞা হলেই মায়ার থাপ্পড় জোরে লাগবে আর তোমাদের এই পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে l বাবা বলেন যে , যদি তোমরা বাবার নেশায় ভরপুর হও তবে বাবার প্রেমে মগ্ন থাকবে , আর যদি বিপথগামী হও তবে ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে যাবে l তোমরা তো দেখো , কেমন করে কিছু বাচ্চা এমনই চূর্ণ হয়ে গেছে l বৈকুন্ঠে তো অবশ্যই যাবে কিন্তু পদ নম্বর অনুযায়ী পাবে l যদিও ওখানে সবাই সুখী জীবন পাবে তবুও উঁচু নীচু পদ তো থাকবেই l স্কুলেও তোমরা উঁচু পদ অর্থাত্ প্রথম , দ্বিতীয় হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করো l এমন কথা কখনোই ভেবো না যে , প্রজার জীবনেই যাবো বা যা ভাগ্যে আছে তাই হবে l একে তমোপ্রধান পুরুষার্থ বলা হয় l সতোপ্রধান পুরুষার্থ তাকেই বলা হয় , যারা বাবার থেকে পুরো বর্ষা নেবার প্রতিজ্ঞা করে l এ হলো ঘোরদৌড় প্রতিযোগিতা l সবাই তো একনম্বর হবেনা l এ হলো মানুষের বাবার থেকে প্রাপ্তির দৌড় l তোমরা চাও যে , আমরা খুব তাড়াতাড়ি শিববাবার গলার হার হবো , তবে তারজন্য বাবাকে স্মরণ তো করতেই হবে l সমস্তকিছু এই স্মরণের উপর নির্ভর করে l কিন্তু মায়া এক এক সময় এতো বিঘ্ন এনে হাজির করে যে একদম এই প্রতিযোগিতা থেকে বার করে দেয় l এই হলো তোমাদের মানুষ থেকে দেবতা হবার প্রতিযোগিতা l আত্মারা বাবাকে বলে যে , বাবা , আমরা খুব দুঃখী হয়ে গেছি l বার বার শরীর ধারণ করতে করতে আমরা পরিশ্রান্ত l এখন আমরা বাবার কাছে যেতে চাই l এর জন্য বাবা তো অনেক যুক্তিই বলেছেন l তোমরা বলো , বাবা , আমরা তোমার স্মরণেই থাকবো l যতটা সময় বার করতে পারো ততই তোমাদের পক্ষে ভালো l সরকারী কাজেও তোমরা আট ঘন্টা সময় দাও , তেমনই বাবার স্মরণে তোমাদের এই আট ঘন্টা সময়ই দিতে হবে l এই সৃষ্টিকে স্বর্গ বানানো তো খুব বড় সেবার কাজ l শুধু বাবাকে স্মরণ করো আর সঙ্গে সঙ্গে সুখধামকে স্মরণ করো l ব্যস , এই আট ঘন্টা স্মরণ আর সেবা করলেই তোমরা পুরো বর্ষা পেতে পারবে l এমনভাবে স্মরণ করতে পারলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l আট ঘন্টা বাবার স্মরণ আর সেবায় , আর বাকি ১৬ ঘন্টা সময় তোমরা ফ্রি থাকো l যতো পারো তোমরা ক্ষণে ক্ষণে বাবাকে স্মরণ করো l স্মরণ তো তোমরা যেখানে খুশী বসেই করতে পারো l সবথেকে ভালো সময় তোমরা সকাল বেলা পাবে l সিন্ধৃতে একটা কথা আছে .....সকাল সকাল শোয়া.... সকাল সকাল ওঠা ......সেই মানুষই অনেক গুণবাণ l এই গায়নও এখনকার জন্য প্রযোজ্য l বাবা বলেন যে রাতে তোমরা তাড়াতাড়ি শুয়ে পড় , তারপর ভোর ভোর ওঠো l অজ্ঞানী লোক আট ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটায় , তোমাদের ঘুম কিন্তু এর অর্ধেক হওয়া চাই l চার - পাঁচ ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট l তোমারই তো হলে কর্মযোগী l রাতে দশটার সময় শুয়ে পড়ো , আবার ২ টোর সময় উঠে পড়ো l শিববাবাকে স্মরণ করতে পারলে তোমাদের অনেক সৌভাগ্য জমা হবে l তোমরা স্বাস্থ্য এবং সম্পদ দুটোই প্রাপ্ত করতে পারবে l আচ্ছা , ২ টোর সময় না পারলে ৩ টের সময় ওঠো , নাহলে ৪ টের সময় l এটা খুবই সুন্দর সময় l এই সময় শান্তি থাকে এবং তোমরা অশরীরী স্থিতিতে থাকতে পারো l এইসময় পৃথিবী নিস্তব্ধ থাকে l অমৃতবেলার স্মরণ তোমাদের উপর খুব ভালো প্রভাব ফেলে l অনেকেই অনেক রাত অবধি জেগে থাকে l কিন্তু সূক্ষ্ম সেবায় কোনো পরিশ্রম হয় না l এই সম্পত্তির কামাই থেকে তো তোমাদের খুশি থাকা উচিত l তোমরা বাচ্চারা ভোরবেলা উঠে এই অবিনাশী কামাই করতে থাকো l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি( সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা , বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা এবং সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদেরকে নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-


১) ২১ জন্মের জন্য সর্বদা সুখী থাকার জন্য বাবার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নিবেদন করতে হবে l বাবার শ্রীমতের দ্বারাই নিজেকে শ্রেষ্ঠ হতে হবে l মনমত বা পরমতকে ত্যাগ করতে হবে l শ্রীমতের কোনো অবজ্ঞা করা চলবে না l

২) ভোরবেলা উঠে বাবার স্মরণে বসে এই অবিনাশী কামাই করতে হবে l এই সৃষ্টিকে স্বর্গ বানানোর সেবা কম করে আট ঘন্টা করতে হবে l

বরদান :- 

ঈশ্বরীয় ভাগ্যতে লাইটের মুকুট প্রাপ্ত করে সর্ব প্রাপ্তিস্বরূপ হও ( ভব ) l 

এই দুনিয়াতে ভাগ্যের চিহ্ন হলো রাজত্ব প্রাপ্তি আর এই রাজত্ব প্রাপ্তির চিহ্ন হলো রাজমুকুট l তেমনই ঈশ্বরীয় ভাগ্যের চিহ্ন হলো লাইটের মুকুট l আর এই লাইটের মুকুটের প্রাপ্তির আধার হলো পবিত্রতা l যারা সম্পূর্ণ পবিত্র আত্মা তাঁরা লাইটের মুকুটধারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্ব প্রাপ্তিতেও সম্পন্ন হতে পারে l যদি কোনো প্রাপ্তি কম হয় তবে এই লাইটের মুকুট স্পষ্ট দেখা যাবে না l

স্লোগান :- 

নিজের আত্মিক স্থিতিতে স্থির থাকা আত্মারাই মানসিক দিক দিয়ে মহাদানী হতে পারে l

***OM SHANTI***

Google+ Followers