BK Murli 16 June 2016 Bengali

BK Murli 16 June 2016 Bengali

 ১৬-০৬-১৬ প্রাত :মুরলি ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হচ্ছ রুহানি পান্ডা , তোমাদের গৃহস্থঘরের ব্যবহারে থেকে ফুল সমান হয়ে স্মরণের যাত্রা করতে হবে আর করাতেও হব "

প্রশ্নঃ - 

বাবা বাচ্চাদের কিরকম শৃঙ্গার করান ? আর কি ধরনের শৃঙ্গার করতে নিষেধ করেন ?

উত্তর :- 

বাবা বাচ্চাদের বলছেন মিষ্টি বাচ্চারা - আমি তোমাদের রুহানি শৃঙ্গার করতে এসেছি , তোমার কখনও শরীরের শৃঙ্গার কোরোনা l তোমরা যোগী ভিখারী , তোমাদের সাজ পোশাকের আকর্ষণ থাকা উচিত্ নয় l দুনিয়া খুব খারাপ এইজন্য একটুও শরীরকে সাজিও না l

গীত :- 

অবশেষে সেই দিন এসেই গেল আজ . . .

ওম্ শান্তি l 

বেহদের বাবা বসে বেহদের বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন l বেহদ অর্থাত্ অসীমের মানেই হলো যার কোনও সীমা নেই l কত অগণিত বাচ্চা রয়েছে যাদের একজনই বাবা , যিনি সকলের রচয়িতা l ওরা সব হদের বাবা আর ইঁনি বেহদের আত্মাদের বাবা l ওরা হদের শরীরের বাবা , কিন্তু ইঁনি বেহদের সকল আত্মাদের এক এবং একমাত্র বাবা l যাঁকে ভক্তিমার্গে সব আত্মারা স্মরণ করে l তোমরা বাচ্চারা জানো ভক্তি মার্গ যেমন আছে সঙ্গে সঙ্গে রাবণ রাজ্যও আছে l এখন মানুষ কাতর হয়ে বলছে যে , আমাদের রাবণ রাজ্য থেকে রামরাজ্যে নিয়ে চলো অর্থাত্ বিকারী পতিত দুনিয়া থেকে পবিত্র দুনিয়ায় নিয়ে চলো l বাবা বোঝাচ্ছেন যে , ভারতে যে দেবী -দেবতারা ছিল তারা এখন নেই l ওরা কে ছিল তাও তোমরা জেনে গেছ - আমরাই সত্যযুগীয় সূর্য্যবংশী ঘরানার মালিক ছিলাম l রাজা -রানীই তো হতে তাই -না ! তোমাদের বাচ্চাদের এখন স্মৃতি এসে গেছে l বাবা এসেছেন আমাদের বাচ্চাদের রাজ্য ভাগ্যের অধিকার দিতে , বিশ্বের মালিক বানাতে l বাবা বলেন -এখন সবাই ভক্তি মার্গে , ভক্তি মার্গকেই রাবণ রাজ্য বলা হয়ে থাকে l জ্ঞান মার্গের কথা একমাত্র বাবাই তোমাদের -বাচ্চাদের শেখান l বেহদের বাবাকে সবাই ভক্তি মার্গে স্মরণ করে l এখন তোমরা জ্ঞানলব্ধ যোগের দ্বারা ২১ জন্মের জন্য বিশ্বের মালিকানা পাও l তারপর তোমরা অর্ধেক কল্প আমাকে আর ডাকবেই না l হায় রাম . . . হায় প্রভু বলার দরকারই থাকবেনা l হায় রাম সবাই দুঃখেই বলে কিন্তু ওখানে তো তোমাদের কোনও দুঃখই থাকবেনা l এখন তোমরা জেনেছ এই খেলা পূর্ব পরিকল্পিভাবে ড্রামাতে তৈরি হয়ে আছে l অর্ধ কল্প জ্ঞানের দিন আর অর্ধকল্প ভক্তির রাত অর্থাত্ অর্ধ কল্প জ্ঞান লব্ধ প্রারব্ধ সুখ ভোগ করো আর বাকি অর্ধ কল্প বিকারী দুনিয়ায় থেকে পতিত হয়ে যাও l ভক্তি আমাদের ক্রমশঃ নীচের দিকে নামিয়ে আনে l তোমাদের -বাচ্চাদের বুদ্ধিতে সিঁড়ির জ্ঞান অবশ্যই থাকা উচিত্ l বাবা বোঝাতে থাকেন এই চক্র ৮৪ জন্মের , চক্রের আদি -মধ্য -অন্তের জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে জানলে তুমি চক্রবর্তী রাজা হতে পারবে l এইজন্য বাবা চিত্র বানাচ্ছেন যাতে প্রমাণ হয়ে যাবে এই চক্র কে জেনেই আমরা ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করি l এখন তোমরা সংখ্যায় অনেক হয়েছ , বিশাল রুহানি সেনায় পরিণত হয়েছ l তোমরা সবাই পান্ডা l বাবাও পান্ডা তবে ইনি হলেন গাইড অর্থাত্ পথ -নির্দেশক l পান্ডা , শুভ শব্দ l বিভিন্ন ভ্রমণ যাত্রায় পান্ডারা নিয়ে যায় l যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছলে একজন গাইড তাদের সব দ্রষ্টব্য দেখিয়ে দেয় l তীর্থ যাত্রাতেও পান্ডারা নিয়ে যায় l বাবা বলেন - তোমরা জন্ম -জন্মান্তর ধরে তীর্থ যাত্রা করছ l অমরনাথে তীর্থ করতে যাও , পরিক্রমা করো l ওখানে যাওয়ার সময় শুধু ওখানের কথাই মনে থাকে l ঘর -সংসার , ব্যবসা , বৈষয়িক কাজকর্ম সব দূরে সরে যায় l এখানে স্মরণের যাত্রায় তোমাদের শেখানো হয় গৃহস্থ সংসারে থেকে বৈষয়িক কাজকর্ম করে গুপ্তভাবে স্মরণের যাত্রায় চলতে থাকা l কত ভালো এই পথ l যত বড় কাজ -কারবার করতে ইচ্ছে করো , কেউ বারণও করবেনা l কিন্তু নিজের রাজ্য অধিকার সম্পর্কেও সতর্ক থাকো l জনক রাজাও মূহুর্তের মধ্যে জীবন মুক্তি পেয়েছিল l তোমাদের কোনও বাইরের তীর্থ যাত্রা ইত্যাদি করার দরকার নেই l নিজের ঘর -সংসারের সম্পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে l যারা ভালো , সচেতন বাচ্চা তারা বোঝে যে আমাদের ঘর গৃহস্থলির মধ্যে থেকেই কমল ফুল সমান হয়ে থাকতে হবে l গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে কখনও বিরক্ত হওয়া উচিত্ নয় l কুমার কুমারীরা তো সন্ন্যাসীদের মতো , তাদের কোনও বিকার নেই , পাঁচ বিকার থেকে দূরে থাকে l এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমাদের শৃঙ্গার একরকম আর ওদের শৃঙ্গার আরেকরকম l ওদের হলো তমোপ্রধান শৃঙ্গার আর তোমাদের শৃঙ্গার সতোপ্রধান , যার মাধ্যমে অর্থাত্ জ্ঞানরত্নে সজ্জিত হয়ে সূর্য্যবংশীয় রাজত্বের অধিকারী হও l বাবা তোমাদের বাচ্চাদের বোঝাতে থাকেন - তমোপ্রধান শরীরের সাজসজ্জা একদম কোরো না l দুনিয়া একেবারে খারাপ হয়ে গেছে l গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে ফ্যাশনে মজে থেকো না l এই সময় ফ্যাশনদুরস্ত হয়ে সুন্দর হওয়া ঠিক নয় l কালো হলে তো ভালোই কোনও বিকৃত রুচির মুখোমুখি হতে হবে না l সুন্দর চেহারার প্রতি আকৃষ্ট হলে তার ছাপই মনে ঘুরপাক খেতে থাকবে l কৃষ্ণকেও শ্যামবর্ণ দেখানো হয়েছে আর তোমরা , গৌরবর্ণ হবে শিববাবার থেকে তাঁর জ্ঞান আর গুণের আলোয় l ওরা পাউডার ইত্যাদি মেখে উজ্জ্বল হয় , ফ্যাশন তো এমন করে সে কথা বলা যায় না l ব্যবসায়ীরাও (বিত্তবানরা/সাহুকারেরা) সত্যকে নাশ করে অসত্যের মোড়কে তাদের পণ্য সাজায় l এইজন্য গরীব হওয়াই ভালো , প্রলোভনের ফাঁদে পড়েনা l গ্রামে গিয়ে গরীবদের কল্যাণ করতে হবে কিন্তু আওয়াজ তোলার জন্য একজন বিখ্যাত লোক থাকা চাই l তোমরা সকলেই গরীব কোনও সাহুকার তো নও l তোমরাই দেখো নিজেরা কত সাধারণ হয়ে বসে আছ l মুম্বইতে ফ্যাশনের ছড়াছড়ি l বাবার সাথে দেখা করতে এলে বলি -তোমরা শরীরের শৃঙ্গার করেছ , এসো , তোমাদের জ্ঞান -শৃঙ্গার করিয়ে দিই , যাতে তোমরা ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের পরি হয়ে উঠতে পার l সদা সুখী হয়ে থাকবে , না কখনও কাঁদতে হবে না কখনও দুঃখ হবে l এখন শরীরের এই সাজসজ্জা তুমি ছেড়ে দাও , তোমাকে আমি জ্ঞান রত্নে সুন্দর করে সুসজ্জিত করে তুলব l যদি আমার মতে চলো তবে পাটরানি বানিয়ে রাখব , এটা তো কত ভালো তাই -না l তোমাদের সব ভারতবাসীদের এই তমোপ্রধান আসুরিক দুনিয়া নরক থেকে সরিয়ে স্বর্গের মহারাণী করে গড়ে তুলি l তোমরা বাচ্চারা বুঝতেই পারছ যে আজ আমরা সাদা পোশাকে আছি , এরপরের জন্মে স্বর্গে সোনার চামচে করে দুধ পান করব l এটা তো এখন ছি-ছি দুনিয়া , স্বর্গ তো স্বর্গের মতোই সুন্দর l এখানে তোমরা ভারতবাসী সবাই ভিখারী l ভিখারী থেকে রাজকুমার হয়ে ওঠার গায়ন আছে l এই ভারতেই আবার জন্ম নেবে l বাবা আমাদের স্বর্গের মালিক বানিয়েছিলেন , রাত আর দিনের তফাত l মহান গরীব যাদের খাবার কিছু থাকেনা , তাদেরই দান দেওয়া হয়ে থাকে l ভারতই সেই মহান গরীব , বাবা যেখানে বিশ্বের মালিকানা দান দেন l যুক্তি -বিচার দ্বারা কেউ বোঝেনা যে এই সময় সবাই তমোপ্রধান l দিন দিন আরও নীচের সিঁড়িতে নেমে আসছে l এখন কেউই সিঁড়ি চড়তে পারবে না l ১৬ কলা থেকে ১৪ কলা তারপর আবার ১২ কলা . . . এইভাবে সিঁড়ি বেয়ে নেমেই আসছে l এই লক্ষ্মী -নারায়ণও প্রথমে ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিলেন পরে ১৪ কলায় নেমে আসেন ...এও যাথার্থ্যভাবে স্মরণ করতে হবে l নীচের সিঁড়িতে নামতে নামতে একেবারে পতিত হয়ে গেছে l তাহলে স্বর্গের মালিক কে বানিয়েছেন ? বিশ্ব-নাটকের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি রিপিট হওয়ার কথা সবাই বলে কিন্তু বর্তমানে কি ধরনের হিস্ট্রি রিপিট হবে এটা কেউ জানেনা l শাস্ত্রে সত্যযুগের আয়ু লাখ -কোটি বছর লিখে দেয় l সত্যযুগ কবে আসবে জিজ্ঞেস করলে বলে ৪০ হাজার বছর এখনও বাকি আছে l তোমরা প্রমাণ দিয়ে বলে দাও , কল্পের আয়ুই ৫ হাজার বছরের l ওরা আবার শুধু সত্যযুগকেই এক লাখ বছরের বানিয়ে দেয় l ঘোর কলি ..তাই তো মানুষ মানতে চায়না ভগবান এসে গেছেন l ওরা এটাই বুঝতে চায় যে যখন কলির অন্ত হবে ভগবান তখনই আসবেন l তোমরা বাচ্চারা এখন সব বুঝতে পারো , বিনাশসামনে দাঁড়িয়ে l বাচ্চাদের বোঝানো হয়ে থাকে বিনাশের আগে বাবার থেকে যোগলব্ধ স্বর্গ রাজ্যের অধিকার নিয়ে নাও , কিন্তু সব কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে রয়েছে l বেচারারা হায় হায় করতে করতেই শেষ হয়ে যাবে l আর তোমাদের জয়জয়কার হবে l একবার বাবার হয়ে গেলে আর পতিত হওয়া সম্ভব হয় না l ওরা ভাবে স্ত্রী -পুরুষ একসাথে থাকলে পবিত্র থাকা সম্ভব নয় এইজন্য হাঙ্গামা করে - এখানে স্ত্রী -পুরুষ সকলকে ভাই- বোন বানিয়ে দেওয়া হয় l এসব তো কোথাও লেখা নেই l বলে , জানা নেই এখানে কি জাদু আছে , তুমি ব্র্রহ্মাকুমারীদের কাছে গেলে ওঁরা তোমাকে ওখানে বেঁধে রাখবে l এরকম নানাভাবে ভুল -ভ্রান্তি ছড়াতে থাকে l এই সবকিছুই ড্রামাতে সাজানো আছে l ড্রামাতে যার যে সময়ে পার্ট আছে সে সেসময়ে এসে নিজস্ব ভূমিকা পালন করবে , এতে ভয় পাওয়ার মতো কোনও কথা নেই l শিববাবা তো জ্ঞানের সাগর , পতিত -পাবন সবার সদগতি দাতা l ব্রহ্মা দ্বারা পতিতকে পবিত্র বানান l এই শব্দগুলো বড় বড় অক্ষরে লিখতে হবে যাতে যে-ই আসবে তার চোখে পড়ে l পবিত্রতাই বিভিন্ন ভাবে বারে বারে বিঘ্নিত হয় l যারা বিপরীত বুদ্ধির তারা বিনাশেকালে হায় হায় করে l তোমরা হচ্ছ সত্য বাবার সত্য সন্তান l নরকের বিনাশ ছাড়া স্বর্গের স্থাপনা কিভাবে হবে ! তোমরা বলবে এটা মহাভারতের লড়াই , যুদ্ধে অধর্ম অর্থাত্ তমোপ্রধান দুনিয়ার বিনাশ হয়ে স্বর্গের দ্বার খুলে যাবে l মনুষ্য এসব কিছু বোঝেনা l তোমরা তোমাদের বুদ্ধি দিয়ে দৈবী স্বরাজ্যের সুখানুভূতি উপলব্ধি করতে পারছ l আর ওরা নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া করছে l ওরাও মনুষ্য তোমরাও মনুষ্য , কিন্তু ওরা আসুরিক সম্প্রদায় আর তোমরা দৈবী সম্প্রদায় l বাবা যখন তোমাদের সামনে বসে বোঝান তোমাদের মন তখন আনন্দে ভরে থাকে l অনেকবার তোমরা এই রাজধানী নিয়েছ যেমন এখন নিচ্ছ l ওরা নিজেদের মধ্যে দুই বিড়ালের মতো ঝগড়া করে l তোমরা সারা বিশ্বের বাদশাহীর সুখ স্বাচ্ছন্দ প্রাপ্ত করো l তোমরা এখানে আসই বিশ্বের মালিক হতে l তোমরা জানো যে , আমরা বাবার সাথে যোগ লাগিয়ে কর্মাতীত অবস্থায় পৌঁছে যাব l ওরা নিজেরা লড়াই করবে , আমরা বিশ্বের রাজত্ব প্রাপ্ত করব l এটা খুবই সধারন কথা l ওই বাহুবলীরা বিশ্বের রাজত্ব নিতে পারবেনা l তোমরাই যোগবলের দ্বারা বিশ্বের মালিক হবে l তোমাদের তো অহিংসাই পরম দৈবী ধর্ম l ওখানে কোনও হিংসা থাকেই না l কাম-বিকারের হিংসা সবচেয়ে খারাপ যা তোমাদের আদি -মধ্য -অন্ত পর্য্যন্ত দুঃখ দেয় l রাবন রাজ্য কবে হয় তা কারোরই জানা নেই l এখন ডাকছে - এসে আমাদের পবিত্র বানাও , তাহলে তো অবশ্যই কখনও পবিত্র ছিলে l ভারতের বাচ্চারাই বলে - দুঃখ থেকে মুক্ত করো , শান্তিধাম নিয়ে চলো , দুঃখ দূর করে সুখ দাও l কৃষ্ণকে হরি নামেও ডাকে , বলে- বাবা হরির দ্বারে নিয়ে চলো l হরির দ্বার কৃষ্ণপুরী l এই হলো কংসপুরী l এই কংসপুরী বাবার পছন্দ নয় l মায়া মাদারির খেলা (ভোজবাজি )দেখায় l তোমরা তো জানোই রাবণের রাজ্য দ্বাপর থেকে শুরু হয় l দেবতারা যাঁরা পবিত্র ছিলেন তাঁদেরও পতন শুরু হয় , এর নিদর্শন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গায়ে l এই দুনিয়ায় চতুর্দিকে খারাপ জিনিসের ছড়াছড়ি l এখন তো আমরা সেসব গালগল্প থেকে দূরে পরিস্তানে চলে যাই l এতে বিশাল বুদ্ধি আর মনের প্রবল শক্তি চাই l বাবা বলেন - বাচ্চারা কোনও দেহধারীতে মোহ-বন্ধন রেখোনা l যদি কোথাও মোহ-বন্ধন হয় তবে একেবারে ধ্বসে যাবে l এখানে তো মোহ-বিছিন্ন হওয়ার জ্ঞান পেয়েছ - মা মারা গেলে হালুয়া খাওয়ার মতো মন তৈরি করতে হয় . . . l বাবা সামনে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন যদি কাল তোমার কেউ মারা যায় তবে কাঁদবে না তো l চোখে জল এলো মানে তুমি ফেল হয়ে গেলে l এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর নেবে এর মধ্যে কান্নার কি আছে ! একথা কেউ শুনলে বলবে মুখ খুলবে তো ভালো কথাই বলো l ভালোই বলা হচ্ছে - সত্যযুগে কান্নার কোন ব্যাপারই নেই , তোমাদের এই জীবন সত্যযুগিয় দেবী দেবতার থেকেও উচ্চ l তুমিই সবাইকে কান্না থেকে বাঁচাবে ,তবে তুমি কি করে কাঁদতে পার l আমি প্রভুরও প্রভুকে পেয়েছি যিনি আমাকে স্বর্গে নিয়ে যান l তাহলে যে নরকে নিয়ে যায় তার জন্য কান্না কেন আসবে ! বাবা কত মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনান , স্বর্গের রাজত্ব নেওয়ার জন্য l এই সময় ভারতে অকল্যাণ ছেয়ে আছে , বাবা এসে কল্যাণ করেন l ভারতকে মগধ দেশ বলা হয় l সিন্ধুদের মতো ফ্যাশন -দুরস্ত কেউ হয়না , বিলেত থেকে ফ্যাশন শিখে আসে l নানারকমের চুল বাঁধার জন্য আজকাল মেয়েরা কত খরচা করে l ওদের বলা হয় নরকের পরী l বাবা তোমাদের স্বর্গের পরী বানিয়ে দেন l ওরা বলে আমাদের জন্য এটাই স্বর্গ , এখানের সুখ তো নিয়ে নিই l কাল কি হবে - আমি তার কি জানি l এরকম বিচারধারায় বিশ্বাসী অনেকে আসে l আচ্ছা -

মিষ্টি -মিষ্টি সিকিলধে/হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমাত্মা ) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মা ) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার ; -

১) সত্যকার রুহানি বাচ্চা হয়ে সকলকে ঘরের রাস্তা দেখাতে হবে l শরীর নির্বাহ করার জন্য অর্থ উপার্জন হেতু কাজ কারবার করতে করতে স্মরণের যাত্রায় থাকতে হবে l কার্য্য-ব্যবহারে থেকে বিরক্ত হওয়া ঠিক নয় l

২) জ্ঞান-শৃঙ্গার করে নিজেকে স্বর্গের পরী বানাতে হবে l এই তমোপ্রধান দুনিয়ায় শরীরের শৃঙ্গার কোরোনা l কলিযুগের ফ্যাশন ছেড়ে জ্ঞান শৃঙ্গারে সজ্জিত হও l

বরদান :- 

ত্যাগ , তপস্যা দ্বারা সেবায় সফলতা প্রাপ্ত করে সর্ব -কল্যাণকারী ভব (হও )

যেরকম স্থূল অগ্নি দূর থেকে নিজের অনুভব করায় ঠিক .সেরকমই তোমার ত্যাগ আর তপস্যার ঝলক দূর থেকে সবাইকে আকর্ষিত করুক l সেবাধারী হওয়ার সাথে সাথে ত্যাগী , তপস্যামূর্ত হও তবেই সেবার প্রত্যক্ষ ফল দেখা যাবে l ত্যাগী অর্থাত্ কোনও পুরনো সঙ্কল্প বা সংস্কার মনে থাকবে না l তপস্বী অর্থাত্ বুদ্ধির স্মৃতি বা দৃষ্টিতে আত্মিক স্বরূপ ভিন্ন আর কিছুই প্রকাশ না পায় l যে সঙ্কল্প মনে আসবে তাতে সব আত্মার কল্যাণ সমাহিত থাকুক তবেই বলা যাবে সবার কল্যাণকারী l

স্লোগান :- 

দেহ ভানের উর্ধে যাওয়ার জন্য চিত্র(শরীর) না দেখে চেতনযুক্ত চরিত্রকে দেখ l

***OM SHANTI***

Google+ Followers