BK Murli 18 June 2016 Bengali

BK Murli 18 June 2016 Bengali

 ১৮-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার সঙ্গে হালকা হয়ে উড়ে বেড়াবার জন্য পুরোপুরি পবিত্র হও, বাবাকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করো, এই দেহ আমার নয় - সম্পূর্ণ অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করো l"

প্রশ্ন :- 

উচ্চ শিখরের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কোন্ ভয় সর্বপ্রথম দূর করা উচিত ?

উত্তর :- 

কোনো কোনো বাচ্চা মায়ার ঝড়ের কাছে খুবই ভয় পায় l তারা বলে, বাবা এই মায়ার ঝড় খুবই অস্থির করছে আমাদের, তাই এই ঝড়কে তুমি থামাও l বাবা বলেন, বাচ্চারা, এ হোলো মুষ্ঠিযুদ্ধ l এই যুদ্ধে কখনো একদিক দিয়ে আঘাত আসে না l যদি একজন দশবার আঘাত করে তবে দ্বিতীয়জনও অবশ্যই পাঁচবার আঘাত করবে, তাই তোমরা ভয় পেয়ো না l তোমাদের মাহাবীর হয়ে বিজয়ী হতে হবে, তবেই উঁচু লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে l

গীত :- 

দ্বার পর আয়ে হ্যায় কসম লেকে .........
দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে প্রতিজ্ঞা নিয়ে .........

ওম্ শন্তি l 

বাচ্চারা এই গান শুনেছে l অবশ্যই এই গানে কোনো রহস্য আছে l তাই এই গানের রেকর্ড কিনে বাবা তোমাদের এর অর্থ বোঝাচ্ছেন l একে বলা হয় ....জীবনমৃত হয়ে সম্পূর্ণ বাবার হওয়া l বাবার হওয়ার পর যিনি এই জ্ঞানের শিক্ষক তার হওয়া,এরপর বেশীরভাগ গুরুর কাছে যায় l ক্রিশ্চিয়ান লোকেদেরও সন্তান হওয়ার পরে তারা তাদের ক্রিশ্চিয়ান ধর্মে দীক্ষিত করে l সেই সন্তানকে তারা গুরুর কোলে সমর্পণ করে l সে পাদ্রীই হোক বা অন্য কেউই হোক l পাদ্রীকে তো আর ক্রাইস্ট বলা যাবে না l তারা বলে, ক্রাইস্টের নামে আমরা সবাই ক্রিশ্চান হয়েছি l এখন তোমরা বাচ্চারা সর্বপ্রথম বাবার হয়েছো, তাই তোমরা অশরীরী হও l তোমাদের তন, মন, ধন যা কিছু আছে সবই বাবাকে অর্পণ করো l বেঁচে থেকেও মৃত্যুতুল্য জীবন গ্রহণ করো, কারণ তোমরা আত্মারা এখন বাবার হয়েছো l এই কথা তোমাদের বুদ্ধিতে থাকা চাই l যে সকল ভারী বস্তু, যেমন তোমাদের শরীর, ধন, দৌলত, সম্বন্ধী যা কিছু আছে সবই ভোলার চেষ্টা করো l যেমন মৃত্যুর পরে মানুষ তো সবকিছুই ভুলে যায়, তাই না ? তাহলে তোমাদের জীবনের কতো বড় লক্ষ্য! তোমরা সকলেই হলে অশরীরী আত্মা l একথা তোমাদের দৃঢ় করতে হবে l এমন নয় যে, তোমরা এখনই শরীর ছেড়ে দিলে আর মৃত্যু লাভ করলে l না,এমন হয় না, কারণ আত্মারা এখনো পুরোপুরি পবিত্র কেউই হয় নি l যদিও তোমরা বাবার হয়েছো......তবুও বাবা বলেন এখনো তোমাদের আত্মা অপবিত্র l আত্মার ওড়ার ডানা এখন ভেঙ্গে গেছে l তাই এখন আত্মারা পুরোপুরি উড়তে পারে না l তমোপ্রধান হওয়ার কারণে একজন মানুষও ঘরে ফিরে যেতে পারে না l মায়া তোমাদের ডানা একদম ছেঁটে দিয়েছে l বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন, আত্মা সবথেকে তীব্র গতিতে যেতে পারে l এর থেকে তীব্র গতিতে কেউই যেতে পারে না l অর্থাত আত্মার আগে কেউই যেতে পারে না l এর পরে অর্থাত্ অন্তসময়ে মশার মতো সমস্ত আত্মারা ওপরে যেতে থাকবে l এই আত্মারা কোথায় যাবে ? অনেক দূরে .........চন্দ্র, সূর্যকে পার করে l সেখানে গিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব নয় l এখানকার রকেট তো মহাকাশে গিয়ে আবার ফিরে আসে, সূর্য পর্যন্তও সেই রকেট যেতে পারে না l তোমাদের তো তার থেকেও অনেক দূরে যেতে হবে l তোমাদের সূক্ষ্মবতন ছেড়ে আরো উপরে মূলবতনে যাত্রা করতে হবে l আত্মারা বাবার থেকে এই ওড়ার জন্য ডানা পেয়ে থাকে l বহু জন্মেরও হিসাব মিটিয়ে আত্মা এই শেষ জন্মে পবিত্র হয়ে যায় l এই শেষ সময়ের মহিমা কিন্তু অনেক লেখা আছে l প্রত্যেক আত্মাকে তার হিসাব মিটিয়েই তবে যেতে হবে l এখন তো সব আত্মাই পাপের ভারে ময়লা হয়ে গেছে l তাই সকলেই এখন পাপ আত্মা l যতই এখন তারা গুরু বা সাধু সন্ন্যাসী হোক না কেন l গুরুরা ভাবে আমরা হলাম গুরু , " অহম্ ব্রহ্মস্মি .......অহম্ ব্রহ্ম ......" অর্থাত্ আমরাই হলাম ব্রহ্ম l আমরা ব্রহ্মতে পৌঁছে গেছি l কিন্তু তারা তো এখানে বসে, কি করে তারা ব্রহ্মতে পৌঁছাবে l এখন তোমরা জেনে গেছো যে, তোমরা আত্মারা সেই ব্রহ্মেরই অধিবাসী l কিন্তু এখন ওখানে কেউই যেতে পারবে না l সমস্ত আত্মারা এখানেই পুনর্জন্ম গ্রহণ করে l এ হোলো এই বেহদের নাটক l সমষ্টি অভিনেতাকেই তার নিজের অভিনয় করার জন্য ওপর থেকে এখানে অবশ্যই আসতে হবে l সমস্ত আত্মাই এই বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে আসবে l যখন বিনাশের সময় উপস্থিত হয়, তখন সমস্ত আত্মাই এই বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে হাজির হয়,কারণ তখন উপরে থেকে কি করবে lঅভিনেতা তার অভিনয় না করে কি কখনও ঘরে বসে থাকে ? নাটকে অভিনয় তো সকলকে করতেই হবে l যখন মূলবতন থেকে সকলেই এই পৃথিবীতে চলে আসে, তখনই বাবা এসে সকলকেই ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যান l বাবা বলেন যে, আমি এখানে থাকলেও আত্মারা ওপর থেকে আসতেই থাকে, কারণ নম্বর অনুসারে এই ঝাড়ের বৃদ্ধি তো হতেই থাকে l আবার তোমরা বাবার সঙ্গে যাবেও নম্বর অনুসারে l এই সমস্তকিছুই তোমাদের স্থিতির উপর নির্ভর করে, তাই তোমাদের নিজেকে জীবনমৃত অবস্থায় আনতে হবে l আমরা আত্মা .....এই কথা নিশ্চয় করাই পরিশ্রমের l বাচ্চারা মুহূর্তেই দেহ অভিমানে এসে সবকিছু ভুলে যায় l বাবাকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে পারলে , অর্থাত্ বাবা, এ সমস্তকিছুই তোমার এই ভাবতে পারলে তবেই দেহী অভিমানী স্থিতি তৈরী হবে l বাবা আমিও তোমার l এই দেহও তো আমার নয় তাই এই দেহে অভিমানও আমি ছেড়ে দিচ্ছি l বাবা আমি শুধুই তোমার l বাবা বলেন যে, আমার হয়ে পৃথিবীর সবকিছুর থেকে মমত্ব দূর করো l আবার এমনও নয় যে, সব ছেড়ে তোমাদের এখানে এসেই বসে থাকতে হবে l তোমাদের নিজের কাজকর্মও তো করতে হবে l ঘর সংসারও সামলাতে হবে l মা, বাবার ঋণও তোমাদেরই শোধ করতে হবে l তাদের সেবা করে তোমাদের এই ঋণ শোধ করতে হবে l মা, বাবাকে দেখাশোনার দায়িত্ব সন্তানেরই হয় , এই ঋণও তাদের মাথার উপরই থাকে l এখন শিববাবা তোমাদের পালন করছেন l শুরুতে অর্থাত্ প্রথমে যারা এসেছিলো, তারা সহজেই বাবার কাছে সব সমর্পণ করে দিয়েছিলো l তারা নিজের কাছে কিছুই রাখে নি, এবং সেই ধনের সাহায্যেই তোমরা এই ভারতকে পবিত্র করার কাজ করছো l একসময় এই ভারত সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলো l ভারতবাসীদের মতো পবিত্র আর সুখী আর কেউই ছিলো না l ভারত সবথেকে বড় তীর্থস্থান ছিলো l যেখানে পতিত পাবন শিববাবা এসে এই সারা সৃষ্টির পতিত মানুষকে পবিত্র বানান l এখন কিন্তু এই পঞ্চতত্ব সবই তোমাদের শত্রু হয়ে গেছে l এর পরে ভূমিকম্প হবে , তুফান আসবে, কেননা এই পৃথিবী তমোপ্রধান হয়ে গেছে l যখন প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসবে , তখন সবাই অনেক দুঃখ পাবে l এখন চারিদিকে সবই দুঃখের জিনিস l সত্যযুগে সমস্ত কিছুই সুখের l ওখানে তুফান বা ঝড় , গরম হাওয়া কিছুই থাকে না l তোমাদের মধ্যে খুব অল্পই এই কথা বুঝতে পারে l আজকে আছে , কালকে না থাকলে বলবে কিছুই বুঝলাম না l যদিও এখানে অনেকেই আসে , কিন্তু সবাই এখানে থাকতে পারে না l এখান থেকে ছেড়ে যাবার ১০ দিনে বাদেই আমাকে লিখবে যে......বাবা , ওকে মায়া গ্রাস করেছে l এমনই বারে বারে হতে থাকে l ছোটো ফুল যখন ধীরে ধীরে বড় হয়, তখনই তাতে ফল ধরে l তেমনই আত্মাও যখন জ্ঞান এবং যোগে সমৃদ্ধ হয়, তখনই সে অন্যকে নিজের মতো বানানোর শক্তি অর্জন করতে পারে l তখন তার ফল দৃশ্যমান হয় l 
যখন তোমরা বাবার হয়ে যাবে তখন তোমরা প্রজাও বানাতে থাকবে, এবং তোমাদের উত্তরাধিকারীও বানাতে হবে l পান্ডা হয়ে বাবার কাছে এলেই ভাববে না যে আমরা সব পেয়ে গেছি l না , তোমাদের লক্ষ্য কিন্তু অনেক বড় l বলা হয় যে মায়ার ঝড় অনেক আসবে l তোমরা বাবার হয়েছো, এই ঝড় তো তোমাদের জীবনে অনেক আসবে l তোমরা বলো, বাবা আমি তোমার ছিলাম l তোমার থেকেই এই বর্ষা নিয়েছিলাম , তারপর ৮৪ জন্ম পার করে আবার এসে তোমার হয়েছি l আমি তো তোমার কাছ থেকে সম্পূর্ণ বর্ষা নেবো l তাই বাবাকে এতটাই স্মরণ করো যাতে অন্যকে নিজের মতো বানিয়ে এই জ্ঞানরূপী ফল প্রদান করতে পারো l তা নাহলে কেমন করে মালাতে স্থান পাবে l বাবার উত্তরাধিকারীও তোমরা কেমন করে বানাবে l যেমন প্রজাও চাই , তেমনই উত্তরাধিকারীও চাই যে পরবর্তীকালে গদিতে বসতে পারবে l বাবার কাছে অনেকেই আসে কিন্তু সবাই থাকতে পারে না l বুদ্ধিযোগ যেই ছিন্ন হয়ে যাবে তখনই এই খেলা শেষ হয়ে যাবে l
কোনো কোনো বাচ্চা বাবাকে এসে জিজ্ঞেস করে ......বাবা আমাদের স্থিতিকে আমরা কেমন করে ঠিক রাখবো, যাতে কোনো তুফান আমাদের স্পর্শ করতে না পারে l এই রাস্তাতো আমি তোমাদের বলতেই থাকি, একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করো l তুফান বা ঝড় তো জীবনে আসবেই l মুষ্ঠিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় এমন কি কখনও দেখেছো , যে একজনই মার খেতে থাকে l অবশ্যই দুজনের মধ্যেই শক্তি থাকে l একজন যদি পাঁচটা আঘাত করে তবে অপরজন দশটি আঘাত ফিরিয়ে দেয় l এটাও সেই ধরনের খেলা l বাবাকে স্মরণ করতে থাকলে মায়া দূরে চলে যেতে থাকবে কিন্তু সেটা তো খুব সহজে হবে না l মায়ার সঙ্গে কুস্তি তো লড়তেই হবে l এমন ভেবো না যে মায়া তোমাদের আঘাত করবে না l যে কেউই হোক না কেন এ বড় কুস্তির খেলা l অনেকেই ভয় পেয়ে যায় কারণ মায়া একদম দমবন্ধ অবস্থা তৈরী করে দেয় l এতো যুদ্ধক্ষেত্র তাই না ? বাবার সঙ্গে বুদ্ধির যোগ লাগানোতেও মায়া অনেক বড় বিঘ্ন এনে হাজির করে l সমস্ত পরিশ্রমই এই যোগের উপর l যদিও বাবা বলেন যে জ্ঞানী তু আত্মাই বাবার প্রিয় l কিন্তু এমনও নয় যে, জ্ঞান দান করা বাচ্চারাই বাবার প্রিয় হয় l প্রথমে তো খুব ভালোভাবে যোগ করা চাই l বাবাকে স্মরণ করতেই হবে l মায়ারূপী বিঘ্নকে কখনও ভয় পাবে না l তোমরা তো এই বিশ্বের মালিক হতে যাচ্ছো l সবাই কি হবে ? ১৬১০৮য়ের মালা তো অনেক বড় l অন্ত সময়ে এসে এই মালা সম্পূর্ণ হবে l ত্রেতার শেষ পর্যন্ত কতো রাজা, রাণী হবে তার তো কিছু চিহ্ন থাকবে l ৮ এর মালারও কিছু চিহ্ন থাকবে l ১০৮ এরও চিহ্ন থাকবে l একথা সম্পূর্ণ সত্যি l ত্রেতার শেষ অবধি ১৬১০৮ জন রাজা, রাণী হবে l কিন্তু শুরুতে তো এতো রাজারাণী থাকবে না l প্রথমে অল্প থাকবে তারপর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হতে থাকবে l সেই সব পদের উপযুক্ত তোমরা এই সঙ্গমযুগেই তৈরী হয়ে যাও l এই সুযোগ খুবই ভালো কিন্তু এতে অনেক পরিশ্রম l গানেও এই কথা বলা হয় যে .....কখনোই ছাড়বো না ......তাহলে মরে যাবো .......lবাবা এই তন, মন, ধন সবই তোমার l আমরা অশরীরী হয়ে তোমাকে স্মরণ করছি l বুদ্ধিযোগ তোমার সঙ্গেই লাগাচ্ছি আমরা l বাবা তখন তোমাদের বলেন এই সকলই তোমাদের বাচ্চাদের জন্য l বাচ্চারাও বাবাকে বলে ........বাবা , আমাদের সমস্তকিছুই তোমার l মানুষ বলে না, ভগবানই আমাদের সমস্তকিছু দিয়েছেন l এখন বাবা তোমাদের বলছেন ......এই পৃথিবীতে যা দেখছো, এই সবই শেষ হয়ে যাবে l তোমাদের কাছে কি আছে ? এই শরীরটাও একদিন শেষ হয়ে যাবে l এখন আমি তোমাদের এই শরীরটাকে বদল করে দিচ্ছি l যেমনভাবে এক্সচেঞ্জ করে l তাই বাবা বলেন ........বাচ্চারা ,তোমরা অশরীরী হয়ে যাও l আমাকে স্মরণ করো l বুদ্ধির সাহায্যে সমস্তকিছু আমাকে সমর্পণ করো l রাজা হরিশচন্দ্রের কথা তোমরা শুনেছো না l তিনি বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দান করে দিয়েছিলেন l
বাবা বলেন যে ......আমি তোমাদের সমস্ত শাস্ত্রের সার বুঝিয়ে বলছি l আমিই তোমাদের ব্রহ্মার মুখ দ্বারা রাজা রাণী বানিয়েছিলাম l আবার এখন আমি এসেছি তোমাদের পুনরায় রাজারাণী বানাতে l কোনো মানুষই অন্য মানুষকে গীতা শুনিয়ে বা রাজযোগ শিখিয়ে রাজারাণী বানাতে পারে না l তাহলে গীতা শুনে লাভই বা কি ? শিববাবা তোমাদের বলেন যে .......আমিই কল্প কল্প এসে তোমাদের এই স্বর্গের মালিক বানাই l তোমরা যদি আমার হতে পারো তবেই এই স্বর্গের উত্তরাধিকারী হতে পারবে l তাই যত যোগে থাকতে পারবে ততোই শুদ্ধ হতে পারবে l সবসময় এমন ভাববে , বাবা এই সমস্তকিছুই তোমার l আমরা কেবলমাত্র তত্বাবধায়ক l তোমার অনুমতি ছাড়া আমরা কিছুই করবো না l কেমনকরে তোমরা শরীর নির্বাহ করবে সেই মতও তোমরা বাবার কাছ থেকেই নেবে l বেশীরভাগ দেখা যায় গরীবরাই বাবাকে পোতামেল বা চার্ট লিখে দেয় l সাহুকারেরা কিন্তু দেয় না l সাহুকারেরা নিজেকে সমর্পণ করতে পারে না, তাদের মধ্যে সমান্য কয়েকজনই নিজেকে সমর্পণ করে l যেমন রাজা জনকের নাম কথিত আছে l সন্তান সন্ততি থাকলে বা জয়েন্ট সম্পত্তি থাকলে এর থেকে বেরোনো সম্ভব হয় না l সাহুকারেরা নিজেদের সম্পত্তি সহজে বার করতে পারে না,তাহলে তারা নিজেদের সমর্পণ কি করে করবে ? বাবা হলেনই গরীবের ভগবান l সবথেকে গরীব হলেন মায়েরা l তাদের থেকেও গরীব হলেন কন্যারা l কন্যাদের কখনো এই সম্পত্তির নেশা থাকে না l বাচ্চাদের সবসময় লৌকিক বাবার সম্পত্তির নেশা থাকে l তাই এই সমস্তকিছু ছেড়ে তোমাদের বৈকুণ্ঠর বর্ষা নিতে হবে l সবসময় গরীবকেই দান দেওয়া হয় l ভারত হোলো সবথেকে গরীব দেশ, আর আমেরিকা হোলো বড়লোকের জায়গা l তাহলে কি তাদের বর্ষা দেবার প্রয়োজন আছে ? ভারত একদিন সবথেকে সাহুকার দেশ ছিলো, এখানে অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না, একই দেবী দেবতা ধর্ম ছিলো l এখানে একমাত্র ভারতবাসীই ছিলো l একই ভাষা ছিলো l ঈশ্বর এক, এই মনোভাব ছিলো l আমি এসে আবার এক দেশ , এক ভাষা আর এক ধর্ম স্থাপন করি l একজনই সর্বশক্তিমান সরকার স্থাপন করি l এই একের থেকেই আবার দুই বা তিন হতে থাকে l এখন তো অনেক ধর্ম তাই অবশ্য করে সেই এক ধর্মকে আনতে হবে l এতো ৫০০০ বছরের কথা l তখন এক ধর্ম ছিলো l কিন্তু শাস্ত্রজ্ঞ লোকেরা সত্যযুগের আয়ু লাখ বছর করে দিয়েছে l তারা বোঝেই না যে সত্যযুগ কেমন ছিলো l তারা ভাবে যে স্বর্গবাসী হয়েছে মানে সম্ভবত উপরে চলে গেছে l দিলওয়ারা মন্দিরেও স্বর্গকে উপরে ছাদে দেখানো হয়েছে l তাই মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায় l বাস্তবে স্বর্গ কখনো ওপরে থাকে না l তোমরা এখন জানো, তোমরা বাবার কাছে গিয়ে আবার এখানে এসেই স্বর্গের রাজত্ব ভোগ করবে l l এই জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে রাখা দরকার যাতে তোমরা অন্যকে বোঝাতে পারো l যারা জ্ঞানে কাঁচা হয় তাদের তো মায়া বশ করে নেয়, তাই ফটোও যেমন চাওয়া হয় তেমনি নামের হিসেবও রাখা হয় l 
বাবার কাছে এই খবরও আসে যে ......বাবা,উনি এমন জ্ঞানের কথা বুঝিয়েছেন যে, আমি তোমার হয়ে গেছি l শাস্ত্রতেও এই কথা লেখা হয়েছিলো যে, কুমারীদের দ্বারাই জ্ঞানের তীর মারা হয়েছিলো l বাবাকে কেন তোমরা ভুলে রয়েছো ? বাবাকে স্মরণে রাখো, একেই জ্ঞান বাণ বলা হয় l শুধু বাবাকেই মনে রাখতে হবে l বাকী অন্যকিছু হিংসক বাণ বা তীরের কথা কিন্তু নয় l বাবা বলেন যে আমি ব্রহ্মামুখের দ্বারা সমস্ত শাস্ত্রের রহস্য তোমাদের বুঝিয়ে বলি l ব্রহ্মাকে তো এখানেই হতে হবে তাই না ?দুনিয়ার মানুষ কিন্তু বিষ্ণুর নাভিকমল থেকে ব্রহ্মার জন্ম দেখিয়েছে l কিছুই তারা জানে না l মানুষতো নিজের বুদ্ধিতে যা মনে এসেছে তাই লিখে দিয়েছে l আবর্জনা তো অনেকই আছে l আবার ঋদ্ধি - সিদ্ধিয়ালা মানুষ তো এখন অনেক হয়ে গেছে l যখন সত্যি সামনে বেরিয়ে আসে তখন মিথ্যা তার সামনা করে পরাস্ত হয় l এখন তোমরা জানো যে শিববাবা হলেন নিরাকার আর এই ব্রহ্মা হলেন সাকার l বাকী নাভি ইত্যাদির তো কোনো কথাই হতে পারে না l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি ( সিকিলধে ) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণ, ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :- 

1) এখন তোমাদের জ্ঞানী তু আত্মা হতে হবে l কেবলমাত্র জ্ঞান শুনলে আর অন্যকে শোনালেই হবে না l শিববাবার স্মরণের যাত্রাকেও তীব্র করতে হবে l অশরীরী হয়ে অশরীরী বাবাকে স্মরণ করতে হবে l 

2) একমাত্র বাবার হয়ে অন্য সমস্তকিছু থেকে মমত্ব দূর করতে হবে l এই দেহও তোমাদের ভারী হবে না, যদি তোমরা পুরো দেহী -অভিমানী হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বাবার কাছে সমর্পণ করতে পারো l

বরদান :- সময় এবং সংকল্পকে সঙ্গে নিয়ে নিজের সবকিছুকে বাবাকে সমর্পণ করে মোহজীত হও ( ভব ) l 

যেমন বাচ্চাদের তার বাবা মা সব সম্পত্তি উইল করে দিয়েছিলেন, তেমনি তোমরাও বাবাকে নিজের উত্তরাধিকারী বানিয়ে সমস্তকিছু যদি উইল করে দাও তাহলে তোমাদের উইল পাওয়ার বাড়তে থাকবে l এই উইল পাওয়ার এলে মোহ তত্ক্ষণাত্ নষ্ট হয়ে যাবে l যেমন সাকার ব্রহ্মাবাবা নিজেকেই পুরো বাবাকে উইল করে দিয়েছিলেন, তেমনি তোমাদেরও সমস্ত স্মৃতি, সময় এবং সংকল্পের যে সম্পত্তি আছে, তা যদি বাবাকে উইল করে দাও অর্থাত্ বাবার শ্রীমতে থেকে নিজেকে এই সেবাকাজে লাগাও তাহলে মোহজীত এবং বন্ধনমুক্ত হতে পারবে l

স্লোগান :- 

একে অপরের কাছে স্নেহী হতে হলে সরলতা আর সহনশীলতার গুণ ধারণ করো l

***OM SHANTI***

Google+ Followers