BK Murli 23 June 2016 Bengali

BK Murli 23 June 2016 Bengali

 ২৩-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

" মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা - অমৃতবেলার সময় খুবই সুন্দর , তাই ভোরবেলা উঠে একান্তে বসে বাবার সাথে মিষ্টি -মিষ্টি বাক্যালাপ করো l "

প্রশ্ন - 

নিরন্তর যোগী হওয়ার জন্য কোন্ জ্ঞান সবথেকে বেশী সাহায্য করে ?

উত্তর :- 

এই বিশ্বনাটকের জ্ঞান l যা কিছু হযে গেছে তা এই নাটকেই ছিলো l তোমাদের নিজের স্থিতিতে যেন কখনো চঞ্চলতা না আসে l পরিস্থিতি যাই আসুক, তা সে ভূমিকম্পই হোক বা ব্যবসাতে লোকসানই হোক, কোনো সংশয় যেন মনে না আসে .......এমন স্থিতি যে তৈরী করতে পারবে তাকেই মহাবীর বলা হবে l যদি তোমাদের এই নাটকের যথার্থ জ্ঞান না থাকে , তাহলে কঠিন পরিস্থিতিতে চোখে জলের ধারা বইতে থাকবে l নিরন্তর যোগী হওয়ার জন্য এই নাটকের জ্ঞান অনেক সাহায্য করে l

গীত :- 

ওম্ নম শিবায় .........

ওম্ শান্তি l 

বাচ্চারা এখন খুব ভালোভাবে বুঝে গেছে যে এই পতিত দুনিয়ার অন্তিম সময় উপস্থিত l আর পবিত্র দুনিয়া শুরু হচ্ছে l এই কথা শুধু তোমরা বাচ্চারাই জানো l বাচ্চারা এই নির্দেশ বা শ্রীমত পেয়ে থাকে l এই শ্রীমত কে দেয় ? উঁচুর থেকে উঁচু সর্বোচ্চ ভগবান l তিনি তোমাদের বোঝাতে থাকেন, তোমাদের এখন পতিত থেকে পবিত্র হতে হবে l এই জ্ঞান শুধুমাত্র তোমাদের জন্য , আর বাকী দুনিয়ার আন্যান্য মানুষ তো সকলেই পতিত l এই পতিত দুনিয়ার অবশ্যই বিনাশ হবে l একমাত্র বিকারীদেরই পতিত বলা হয় l বাবা তোমাদের বলেন , তোমরা জন্ম জন্মান্তর একে অপরকে দুঃখ দিয়ে এসেছো, তাই তোমরা আদি , মধ্য এবং অন্ত সময়েও দুঃখ পাও l একজন অপরজনকে তোমরা পতিত বানিয়ে ফেলো l নিজেরাই তোমরা বলো যে ....আমরা পতিত , কিন্তু এই কথা তোমাদের বুদ্ধিতে ঠিকভাবে বসে না l তোমরা ডাকো, হে পতিতপাবন এসো, কিন্তু তবুও তোমরা এই পতিতপনা ছাড়তে চাও না l এখন তোমরা বুঝতে পারো সমস্ত ব্যাপারই হলো পবিত্রতা ধারণের উপর l এইটা বোঝার জন্যও তো কাউকে চাই l আর যিনি বোঝাবেন তিনি তো একমাত্র শিববাবা l বাকী যারা গুরুরা আছেন তারা কাউকে পবিত্র বানাতে পারেন না l এই পবিত্রতাও কেবলমাত্র এক জন্মের জন্য নয়, জন্ম জন্মান্তরের জন্য ধারণ করতে হবে l তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানবান তারা এই জ্ঞানে তীক্ষ্ণ হয় l এই সমস্তকিছুই নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l তোমাদের মধ্যেও মহাবীরের মনোভাব চাই l এই মহাবীরেরাই আসবে বাবার স্মরণে থাকার জণ্য l বাবা খুব ভালোকরে তোমাদের এই কথা বুঝিয়ে বলেন l যেমনভাবে বাবা বলেন যে ভোরবেলা উঠে বাবাকে স্মরণ করো l স্মরণ করার জন্য ভোরের এই সময় খুব সুন্দর , যাকে প্রভাত বলা হয় l ভক্তিমার্গেও বলা হয় প্রভাতকালে মন দিয়ে রামকে স্মরণ করো l বাবাও বলেন , সকাল সকাল উঠে যদি বাবাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের খুবই আনন্দ হবে l বাবার স্মরণে যখন তোমরা বসবে তখন তোমরা ভাববে কি ভাবে অন্যকে এই কথা বোঝানো যায় l অমৃতবেলার বায়ুমন্ডল খুবই শুদ্ধ থাকে l দিনেরবেলায় মানুষের বিভিন্ন কাজকর্মের কারণে বায়ুমন্ডল বিকারগ্রস্থ থাকে l আবার রাত ১২ টা পর্যন্ত এই বায়ুমন্ডলে বিকারী অবস্থা থাকে l সাধু - সন্ত , ভক্তরা তাদের ভক্তি কিন্তু এই প্রভাতের সময়েই করে l এমনিতে তো দিনের বেলা স্মরণ করাই যায় l নিজের কাজ কারবার করতে থাকলেও বুদ্ধির যোগ যে দেবতার পূজারী হয় তাঁর প্রতিই থাকা উচিত l কিন্তু এমন কারোরই থাকে না l ভক্তিমার্গে মানুষ ঈশ্বরের দর্শনের জন্য পরিশ্রম করে l কিন্তু এই দর্শনে বিশেষ কিছুই লাভ হয় না l তাদেরও একদিন ভক্তি করতে করতে তমোপ্রধান হতেই হবে l ভক্তিমার্গেও শিবের উপর লোকে বলি যায় যাকে কাশী কলবট বলা হয় l সেখানে শিবকে স্মরণ করতে করতে মানুষ কুয়োতে ঝাঁপ দেয় l শিবের উপর বলি চড়ায় l সে হলো ভক্তিমার্গের বলি l আর এ হলো তোমাদের জ্ঞানমার্গের বলি l ভক্তিমার্গও মুশকিল, জ্ঞানমার্গও মুশকিল l এই বলির জন্য ভক্তিমার্গে কোনো লাভ হয় না l এটা কেবল আত্মা নিজের শরীরের উপর আঘাত করে l এটা কোনো জ্ঞানের কথাই নয় l ভক্তিতে বলা হয় আত্মাই হলো পরমাত্মা l আত্ম - অভিমানী একমাত্র বাবাই, যিনি বাচ্চাদের বোঝান যে , পরমাত্মা তো আমি শিববাবাই l আমরা আত্মারাই হলাম পরমাত্মা ........এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা l এটা তো হতেই পারে না l 
বাবা বলেন যে ........আমি পতিত মানুষকে পবিত্র বানাতে আসি , এবং পবিত্র বানাচ্ছিও l বাকী তো নাটকে যা আছে তাই হবে l তোমরা ভাবো যখন ভূমিকম্প হয় , ছাদ ভেঙ্গে পরে, তখন ভাববে আগের কল্পেও এমনই হয়েছিলো l এতে দ্বিমত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই l নাটকের উপর দৃঢ় থাকো l একেই মহাবীর বলা হয় l দুর্ঘটনাও তো অনেক হযে থাকে l এই দুর্ঘটনার হাত থেকে তো কাউকে রক্ষা করা যায় না l এওতো নাটকেই রয়েছে l তাদের পার্ট নাটকে এমনভাবেই রয়েছে l যারা এই নাটককে জানে না, তারাই দেহকে স্মরণ করে চোখের জল ফেলতে থাকে l তারা কখনোই শিববাবাকে স্মরণ করতে পারবে না কারণ শিববাবার সঙ্গে তাদের সেই ভালোবাসাই গড়ে ওঠে নি l সত্যিকারের ভালোবাসা তৈরীই হয় নি l বাবার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভালোবাসার সম্পর্ক থাকতে হবে l প্রতি কল্পেই শিববাবার সঙ্গে তোমাদের প্রীত বুদ্ধির যোগ হয় l দেবতাদের বাবার সঙ্গে প্রীত বুদ্ধি ছিলো এই কথা বলা যাবে না l দেবতারা এই সঙ্গম যুগে বাবার সঙ্গে প্রীত বুদ্ধির কারণেই সত্যযুগে দেব পদ পেয়েছিলেন l তখন তো তোমাদের মনেই থাকবে না .........সারা কল্পে তোমাদের শিববাবার কথা মনেই থাকে না, যে কারণে তোমরা তাঁর সঙ্গে প্রীত বুদ্ধির যোগ জুড়তে পারো l এখন বাবা এসে তোমাদের নিজের পরিচয় নিজেই দিচ্ছেন l এখন বাবা তোমাদের বলেন যে অন্য সব সম্বন্ধ ছেড়ে এক আমাকেই স্মরণ করো l এই বিনাশ কাল তো অবশ্যই আসবে l একথাও তোমরা বাচ্চারা জানো l আর দুনিয়ার মানুষতো ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আছে l তোমরা এখন জানো তোমাদের বাবার থেকে পুরো বর্ষা নিতে হবে l বাবাকে স্মরণ ছাড়া তোমরা সতোপ্রধান হতে পারবে না l সার্জন হয়ে নিজের রোগকে তোমাদেরই দেখতে হবে l শ্রীমতকে ধারণ করে তোমাদের দেখতে হবে যে তোমাদের বাবার সঙ্গে কতোটা প্রীতির সম্পর্ক আছে l অমৃতবেলার সময় বাবাকে স্মরণ করা সবথেকে ভালো l এই প্রভাতের সময় খুবই ভালো l এই সময় মায়ার ঝড় আসে না l আবার রাত ১২ টা অবধি তপস্যা করে কোনো লাভ হয় না , কারণ এই সময় অতটা ভালো নয় , কারণ দুনিয়াতে এই সময় বিকারের প্রভাব বেশী থাকে l এই সময় বায়ুমন্ডলও খারাপ থাকে l তাই রাত ১ টা অবধি সময় ছেড়ে দেওয়া দরকার l এই রাত ১ টার পরে বায়ুমন্ডল ভালো হতে শুরু করে l বাবা বলেন যে .......তোমাদের তো সহজ রাজযোগ , তোমরা ভালো করে আরাম করে বসো l ব্রহ্মা বাবা তোমাদের নিজের অনুভবও শোনান l কেমনভাবে তিনি বাবার সঙ্গে কথা বলতেন l তিনি বলতেন .......বাবা কতো আশ্চর্য সুন্দর এই নাটক l তুমি কেমন করে এসে মানুষকে পতিত থেকে পবিত্র মানুষে পরিণত করো l সারা দুনিয়াকে কিভাবে বদলে ফেলো l খুবই আশ্চর্যের এই ঘটনা l যেমনভাবে বাবার খেয়াল আসে ঠিক তেমনভাবে বাচ্চাদেরও এই খেয়াল আসা উচিত যে কেমন করে মানুষকে এই বৈতরণী পার করবে l বাবা বলেন যে .......তোমরা আমাকে ডাকো, হে পতিতপাবন এসো l এখন আমি এসেছি তাই তোমরা আর পতিত কাজ কোরো না l পতিত হয়ে এই সভায় এসে বোসো না l তাহলে তোমরা এই বায়ুমন্ডলকে অশুদ্ধ করে দেবে l বাবা তো সবই জানতে পারেন l দিল্লী এবং বোম্বেতে এমন বিকারে যাওয়া মানুষরা এসে বসে যেত l এই কথা প্রচলিত আছে যে অসুর এসে যজ্ঞতে বিঘ্ন করতো l বিকারে যারা যায় তাদের অসুর বলা হয় l বায়ুমন্ডলের পরিবেশকে তারা খারাপ করে l তাদের জন্য খুব কড়া সাজা আছে l বাবা তো তোমাদের অনেক করে বোঝান , কিন্তু তবুও তোমরা নিজেদের অবনতি নিজেরাই করো l তোমরা মিথ্যা কথাও বলো l তখনই তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে এই কথা বাবাকে লিখে দেওয়া উচিত ........বাবা আমাদের এই ভুল হয়ে গেছে , ক্ষমা করো l নিজে যা পাপ করেছো তা বাবাকে লিখে জানাও l নাহলে এই পাপের বৃদ্ধি হতে থাকবে আর তোমরা রসাতলে চলে যাবে l এসেছিলে এখানে কিছু নিতে কিন্তু কান কেটে চলে যাবে l এও নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l এমন অসুর আগের কল্পেও ছিলো, এখনো আছে l অমৃত ছেড়ে তারা বিষ পান করে l নিজেরও লোকসান করে আর অন্যেরও লোকসান করে l এরা বায়ুমন্ডলকে খারাপ করে দেয় l ব্রাহ্মণীরাও সবাই একসমান হয় না l মহারথী , ঘোড়সওয়ার, পেয়াদা সবধরনেরই হয় l
তোমাদের বাচ্চাদের অথৈ খুশী হওয়া উচিত ........বাবাকে পেয়েছি আর কি চাই l হ্যাঁ, নিজের সংসারে বাচ্চাদের তো অবশ্যই সামলাতে হবে l এমন নয় যে বাবাকে বললে, বাবা এইসবই তোমার, তুমি সামলাও l আমি তো তোমার হয়ে গেছি l বাবা তোমাদের বোঝান যে গৃহস্থ জীবনে থাকলেও তোমরা পদ্মের মতো পবিত্র থাকো l কোনো পতিত কাজ কোরো না l প্রথম কথাই হলো কামবিকারের l দ্রৌপদীও ডেকেছিলো বস্ত্র হরণের সময় l তখনই বাবাকে ডেকেছিলো যখন বাবা এই ধরায় এসেছিলো l বাবার আসার আগে কেউই বাবাকে ডাকে না কারণ কাকে ডাকবে ?বাবা এসেছে, তখনই তো বাবাকে ডাকবে l পতিত থেকে পবিত্র হয়ে তোমরা কোথায় যাবে ? শান্তিধামে যাবে l এইসবই তো এই সঙ্গমযুগের কথা l সবার সদ্গতিদাতা , উদ্ধারকর্তা হলেন একজনই , শিববাবা l এই দুনিয়া হলো দুঃখের দুনিয়া l সাধু সন্তরাও পুরোপুরি সুখী নয় l সবারই কোনো না কোনো দুঃখ , শোক , রোগ ইত্যাদি আছে l কোনো কোনো গুরু অন্ধও হয় l নিশ্চই এমন কোনো কাজ করেছিলো যার ফলে এই জীবন পেয়েছে l সত্যযুগে কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধী মানুষই থাকবে না l এইসব কথা মানুষ বুঝতেই পারে না l বাবা এসেই তোমাদের এই কথা বোঝান l শিববাবাই হলেন জ্ঞানের সাগর এবং পতিত-পাবন l বাকী সবাই হলো ভক্ত l ভক্তিমার্গ সম্পূর্ণ আলাদা l আর এ হলো সিঁড়িতে নীচের দিকে নামার মার্গ l এই নীচে নামতে বা জীবনবন্ধ অবস্থায় আসতে মানুষের ৮৪ জন্ম সময় লাগে, কিন্তু জীবনমুক্ত অবস্থায় আসতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় লাগে l যদি তোমরা বাবার শ্রীমতে চলে বাবাকে স্মরণ করো তবেই হবে l কিন্তু সবই নম্বরের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে l কেউ কেউ বলে আমি যদি ওই শিক্ষককে পেতাম তাহলে ভালো হতো l অবশ্যই নিজে কমজোর বলেই বলে ওই শিক্ষককে ২ - ৪ মাসের জন্য পাঠিয়ে দাও l বাবা বলেন যে এটাও ভুল কথা l তোমরা ব্রাহ্মণীদের কেন স্মরণ করো, যেখানে বাবা তোমাদের বলেন যে কেবলমাত্র বাবাকেই স্মরণ করো আর স্বদর্শন চক্র ঘোরাও আর অন্যদেরও এই কথা বোঝাও l এখানে ব্রাহ্মণী এসে কি করবে ? এ তো এক সেকেন্ডের কথা l তোমরা কাজকারবার করতে করতে সব ভুলে যাও , তখন ব্রাহ্মণীরাও তোমাদের একই কথা বলবে মনমানাভব..... l কোনো কোনো বুদ্ধিহীন মানুষ এই কথা বুঝতে পারে না , কেবল বলে ভালো ব্রাহ্মণী চাই l জ্ঞান তো তোমরা পেয়েই গেছো l তাই বাবা আর তাঁর বর্ষা বা সম্পত্তিকে স্মরণ করো l দেহ অভিমানকে ত্যাগ করো l এটা আমাদের সেন্টার , ওইটা ওদের সেন্টার এই ধরনের কথা ত্যাগ করো l ওই জিজ্ঞাসুরা ওখানে কেন যায় ......এ সবই দেহ অভিমানের কথা l সবই শিববাবার সেন্টার , তোমাদের কারোর নয় l তোমাদের এই কথা কেন মনে হয় যে ওই শিক্ষিকা আমাদের সেন্টারে কেন আসেন না l বাবা বলেন , যেখানেই যাও কারোর থেকে কিছু চেও না l এতো বুঝতে পারছো বীজ না বপন করলে তোমরা কি পাবে ? ভক্তিমার্গেও দানপুণ্য করার চল আছে l ভক্তিমার্গে তোমরা পরোক্ষভাবে ঈশ্বরকে অর্থ দিতে l সাধু সন্ন্যাসীদেরও তোমরা অনেকই দিতে l নাহলে দান গরীবদেরই দেওয়া হয় , সাহুকারদের নয় l এর মধ্যে সব্জির দান সবথেকে ভালো l এও বাবা বলেন যে , দান করলে পরজন্মে তোমরা তার ফল পাও lঈশ্বরই সবাইকে এই ফল দেন l সাধু সন্ত তোমাদের এই দানের পরিবর্তে কোনো ফল দিতে পারে না l ফল দেন একমাত্র শিববাবাই l তিনি কারোর মাধ্যমে এই ফল দেন l বাবা তোমাদের বোঝান যে তোমরা ঈশ্বরীয় কার্যে অর্থ দিতে তার ফলে পরের জন্মে তোমরা প্রাপ্তি করতে l এখন তো শিববাবা প্রত্যক্ষভাবে তোমাদের কাছে এসেছেন l এখন তোমরা ২১ জন্মেরও জন্য বাবার থেকে প্রাপ্তি করবে l এখন তো মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে l ভক্তিমার্গে এই কথা কখনো বলা হয় না যে মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে তাই নিজের জীবনকে সফল করো l তাই এখন বাবা বলেন .......যার ইচ্ছা হয় , এই রুহানি হাসপাতাল খোলো l কেউ যদিও বলে বাড়ি বানাবো তো তাতেও এই রুহানি হাসপাতালের ব্যবস্থা করো l বাবা বলেন আজ বাড়ি তৈরী করে কাল যদি মরে যাও তবে তো সব শেষ হয়ে যাবে l এই শরীরের উপর কোনো ভরসা নেই l বাড়িতে যাই জায়গা থাকুক , একটি ঘর রেখে দাও , যেখানে এই রুহানি হাসপাতাল বা রুহানি কলেজ বানাও l অনেকের কল্যাণ করতে পারবে , তাহলে অনেক উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি ( সিকিলধে ) বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা , বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :- 

১) শ্রীমতে চলে নিজেকে দেখো যে এই বিনাশকালে তোমাদের কি এক বাবার সাথে সত্যিকারের প্রীতির সম্পর্ক আছে ? অন্য সব সম্পর্ককে ছেড়ে এক শিববাবার সঙ্গে সব সম্পর্ক জুড়েছো কি ? কখনো কোনো বিকর্ম করে অসুরের জীবন তো গ্রহণ করো নি ? এইভাবে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করে পরিবর্তন করতে হবে l 

২) এই শরীরের কোনো ভরসা নেই , তাই তোমাদের নিজেদের সবকিছু সফল করতে হবে l নিজেদের স্থিতি একরস এবং অচল বানানোর জন্য এই নাটকের রহস্যকে বুদ্ধিতে ধারণ করে চলতে হবে l

বরদান :- 

শ্রেষ্ঠ কর্মের দ্বারা স্মরণযোগ্য হওয়ার জন্য যোগযুক্ত এবং যুক্তিযুক্ত হও l

তোমাদের প্রত্যেকটি কর্ম যতখানি শ্রেষ্ঠ হবে , ততই শ্রেষ্ঠ আত্মাদের মধ্যে তোমাদের স্মরণ হবে l ভক্তিতে দেবী দেবতাদের নামের স্মরণ হয় , আর এখানে যে শ্রেষ্ঠ আত্মারা আছেন তাদের তাঁদের গুণ আর কর্মকে উচ্চ বানানোর জন্য স্মরণ করা হয় l তাই তোমরা শ্রেষ্ঠ কর্মের আধারে স্মরণযোগ্য হতে থাকবে আর সেইজন্য যোগযুক্ত হবার অভ্যাস করো l যোগযুক্ত হলে প্রত্যেকটি সংকল্প , শব্দ বা কর্ম অবশ্যই যুক্তিযুক্ত হবে , তখন তোমাদের অযুক্তির কর্ম বা সংকল্প হবেই না .....এটাও হলো যোগ l

স্লোগান :- 

নিমিত্ত আর নির্মাণচিত্ত ........এই হলো সত্যিকারের সেবাধারীর লক্ষণ l


***OM SHANTI***

Google+ Followers