BK Murli 28 June 2016 Bengali

BK Murli 28 June 2016 Bengali

 ২৮-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন


" মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা - অমর বাবা এই ধরায় এসেছেন তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রদান করতে , তাই এখন তোমরা তিন কাল আর তিন লোক সম্বন্ধে সবকিছুই জানো l "

প্রশ্ন :- 

আত্মার বাবা পরমাত্মা কোন্ আধারের উপর আত্মাদের বর্ষা দেন ?

উত্তর :- 

এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনার আধারের উপর l যে সব বাচ্চারা খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করে , নিজেদের দেহ অভিমানকে ত্যাগ করে দেহী অভিমানী হওয়ার প্রযত্ন করে , তারাই বাবার এই বর্ষা ( সম্পত্তি ) প্রাপ্ত করতে পারে l লৌকিক বাবা তার সন্তানকে কেবলমাত্র লৌকিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে কিন্তু এই পারলৌকিক শিববাবার সম্বন্ধ আত্মাদের সাথে , তাই তিনি আত্মাদেরই বর্ষা ( সম্পত্তি ) দিয়ে থাকেন l

গীত :- 

ভোলানাথের থেকে নিরালা ..............

ওম্ শান্তি l 

রুহানি বাচ্চারা ( আত্মা ) রুহানি বাবার ( পরমাত্মা ) থেকে এই অমর কথা শুনছে .........এই মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে যাবার জন্য l নির্বাণধামকে কিন্তু অমরলোক বলা হয় না l অমরলোক হলো সেই দুনিয়া যেখানে তোমাদের অকালে মৃত্যু হয় না , তাই সেই দুনিয়াকে অমরলোক বলা হয় l আত্মার বাবা পরমাত্মা, তাঁকেই তো অমরনাথ বলা হয় l তাহলে অবশ্যই তিনি সেই অমরলোকে নিয়ে যাবার জন্য এই মৃত্যুলোকেই অমরকথা শোনাবেন l তিন ধরনের কথা এই ভারতবর্ষে বিখ্যাত l অমরকথা , সত্যনারায়ণের কথা আর তিজরীর কথা l ভক্তিমার্গে তো এই তিজরীর অর্থ কেউই বোঝে না l জ্ঞানের এই তৃতীয় নয়ন জ্ঞানের সাগর অমর শিববাবা ছাড়া কেউই দিতে পারে না l তাই এই সকল কথাই হলো গল্পকথা l মিষ্টি মিষ্টি রুহানি বাচ্চারা এখন জেনে গেছে যে তারা এই জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন পেয়েছে, যেই তৃতীয় নয়নের সাহায্যে তারা তিন কাল এবং তিন লোক সম্বন্ধে জানতে পেরেছে l মূলবতন , সুক্ষ্ম বতন এবং স্থূল বতন আর আদি , মধ্য , অন্ত সম্বন্ধেও তোমরা জানতে পেরেছো , তাই তোমরা নিজেদের ত্রিকালদর্শী বলেও মনে করতে পারো l তোমরা মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা ছাড়া এই সৃষ্টির আর কেউই ত্রিকালদর্শী হতে পারে না l তিন কাল অর্থাত্ এই সৃষ্টির আদি , মধ্য এবং অন্তের খবর কেউই জানে না l মূলবতন, সুক্ষ্ম বতন, স্থূল বতনকে অনেকেই জানে l কিন্তু এই তিন কালের আদি,মধ্য এবং অন্তকে কেউই জানে না l এখন মিষ্টি মিষ্টি রুহানি বাচ্চারা রুহানি বাবার থেকে এই কথাই শুনছে l তোমরা সবাই তাঁর সন্তান হয়েছো l এই একবারই তোমরা রুহানি বাচ্চারা তোমাদের এই রুহানি শিববাবাকে পেয়েছো l বাবা তোমাদের আত্মাদের পড়ান ,কিন্তু দেহ অভিমানী হওয়ার কারণে তোমরা বলো যে ........আমরাই এই পড়া পড়ছি l আমরাই এই কাজ করছি l "আমি " ভাব অর্থাত্ তোমাদের দেহ অভিমান চলে আসে l এখন এই সঙ্গমযুগে রুহানি শিববাবা এসে রুহানি বাচ্চাদের বলেন যে তোমরা খুব ভালোভাবে পড়ো l বাবার থেকে সমস্ত বাচ্চারাই এই বর্ষা ( সম্পত্তি ) নেওয়ার অধিকারী কারণ তোমরা সকলেই হলে রুহানি বাচ্চা l লৌকিক সম্বন্ধে শুধু বাচ্চা তার বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় l আর এই পারলৌকিক সম্বন্ধে সমস্ত আত্মারা তাদের পরমাত্মা বাবার থেকে ঈশ্বরীয় সম্পত্তি অর্থাত্ স্বর্গের বর্ষার অধিকারী হয় l অমরনাথের কথাও প্রচলিত আছে l সেখানে বলা হয় যে শিব পার্বতীকে পাহাড়ের উপর গুহার ভিতরে গিয়ে এই কথা শুনিয়েছিলেন l কিন্তু এ সকলই ভুল কথা l এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক l সত্যি কথা তো একমাত্র সদা সত্য শিববাবাই তোমাদের শোনাবেন l বাবা কেবল একবারই তোমাদের সত্যি কথা শুনিয়ে , সত্যখন্ডের মালিক বানিয়ে দেন l তোমরা জানো যে এই মিথ্যা দুনিয়াতে একদিন আগুন লাগবে l যা কিছু তোমরা এখন দেখতে পাচ্ছো, এ সব কিছুই একদিন থাকবে না l খুবই অল্প সময় রয়েছে l এ হলো শিববাবার বিশাল জ্ঞান যজ্ঞ l যেমন ভাবে লৌকিক সম্বন্ধে বাবা যজ্ঞ রচনা করেন , কেউ কেউ রুদ্র যজ্ঞ করেন , কেউ আবার গীতা যজ্ঞ l কেউ আবার রামায়ণের যজ্ঞও রচনা করেন l আর এই যজ্ঞ হলো শিববাবার রুদ্রজ্ঞান যজ্ঞ l এই যজ্ঞই হলো অন্তিম যজ্ঞ l 
তোমরা এখন জানো যে তোমারা সকলেই এখন অমরপুরীতে যাবে l তার জন্য খুব অল্প সময়ের রাস্তাই বাকী আছে l এই খবর দুনিয়ার অন্য মানুষেরা কেউই জানে না l তারা বলে যে মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে যাওয়ার জন্য এখনো 40,000 বছর বাকী আছে l সত্যযুগকে অমরলোক বলা হয় l তোমাদের বাচ্চাদের বাবা সামনে বসিয়ে অমরকথা, তিজরীর কথা আর সত্যনারায়ণের কথা শোনাচ্ছেন l ভক্তিমার্গে কি হয় তোমরা সকলেই জানো l ভক্তিমার্গের পূজা পদ্ধতির কতো বিস্তার আছে l যেমন কল্পের ঝাড়ের অনেক বড় বিস্তার দেখানো হয়েছে ঠিক তেমনি ভক্তিমার্গের কর্মকান্ডের অনেক বড় ঝাড় আছে l যজ্ঞ , ব্রত , বিভিন্ন নিয়ম , জপ , তপ ইত্যাদি অনেক কিছুই সেখানে করা হয় l এই জন্মেও অনেক ভক্ত রয়েছে l মানুষের বৃদ্ধি তো হতেই থাকে l যখন তোমরা ভক্তি মার্গে অর্থাত্ ত্রেতা যুগে এলে তখন থেকেই আন্যান্য ধর্ম স্থাপন হতে শুরু করে l প্রত্যেকটি মানুষের তার নিজের ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া থাকে l প্রত্যেক ধর্মের নিয়ম বা অনুষ্ঠান আলাদা l একসময় এই ভারত অমরপুরী ছিলো কিন্তু এখন এই ভারত মৃত্যুলোকে পরিণত হয়েছে l তোমরাই ছিলে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের মানুষ l কিন্তু এখন পতিত হওয়ার কারণে তোমরা নিজেদের দেবতা বলতে পারো না l এই কথা তোমরা ভুলে গেছো যে তোমরাই দেবতা ছিলে l যেমন ক্রিশ্চিয়ানরা বলে যে , যেহেতু ক্রাইস্ট আমাদের ধর্ম স্থাপন করেছিলো তাই আমরা সেই ধর্মের সকলেই ক্রিশ্চিয়ান হয়েছি l এমন নয় যে আমরা ইউরোপিয়ান ধর্মের l তেমনি তোমরা হিন্দুস্থান বা ভারতের অধিবাসীরা আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ছিলে l কিন্তু এখন তোমরা নিজেদের দেবতা বলতে পারো না l তোমরা ভাবো যে তোমরা এখন পাপী , নীচ , কাঙ্গাল এবং বিকারী হয়ে গেছো l ভক্তিমার্গে মানুষ যখন দুঃখী হয় তখন বাবাকেই ডাকতে থাকে l কিন্তু এখন তোমরা বাবার ব্রাহ্মণ বাচ্চারা জানো যে, যেই বাবাকে তোমরা এতদিন ডেকে এসেছো , তিনিই এখন তোমাদের বেহদের বর্ষা দিচ্ছেন এবং এই অমর কথা শোনাচ্ছেন l তোমরাই অমরপুরীর মালিক হবার যোগ্য তৈরী হচ্ছো l এই অমরপুরীকেই স্বর্গ বলা হয় l তোমরা বলবে যে , তোমরা এই অমরপুরী স্বর্গের অধিবাসী হওয়ার জন্যই পুরুষার্থ করছো l এই কলিযুগে মানুষ মারা গেলে বলা হয় যে স্বর্গবাসী হয়েছে l কিন্তু সেই মানুষ স্বর্গে যাবার জন্য কোনো পুরুষার্থ কি করেছে ?তোমরা তো সবাই পুরুষার্থ করছো অমরপুরী বৈকুণ্ঠ লোকে যাবার জন্য l এই পুরুষার্থ তোমাদের কে করাচ্ছেন l অমর শিববাবা , যাকে অমরনাথও বলা হয় l এই যজ্ঞকে আবার পাঠশালাও বলা হয় l এই দুনিয়ার দ্বিতীয় কোনো পাঠশালাকে কিন্তু যজ্ঞ বলা হয় না l দুনিয়াতে যজ্ঞ আলাদা ভাবে রচনা করা হয় , যেখানে ব্রাহ্মণ লোক বসে মন্ত্র পাঠ করে l বাবা বলেন যে এ তোমাদের কলেজও আবার যজ্ঞও , দুটোই একসাথে lতোমরা জানো যে এই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা বিনাশ জ্বালা প্রজ্বলিত হয়েছে , এই অগ্নিতেই সারা দুনিয়া স্বাহা হয়ে যাবে l তারপর আবার নতুন দুনিয়া আসবে l এইযে বিকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে একেই বলা হয় মহাভারী মহাভারতের লড়াই l এই লড়াইয়ের মতো লড়াই আর কখনো হয় না l বলা হয় যে মহাভারতের যুদ্ধে মুশল দিয়ে লড়াই হয়েছিলো l কিন্তু তোমাদের মধ্যে তো এই ধরনের লড়াই হয় না l তাহলে একে মহাভারতের লড়াই কেন বলা হয় ? ভারতে তো একই ধর্ম থাকবে l তোমরা আত্মজ্ঞানী হবে l তাই মৃত্যু তো অন্য দেশের মানুষ দেখবে l তোমাদের মধ্যে লরাইয়ের কোনো কথাই থাকতে পারে না l শিববাবা তোমাদের বোঝান যে তোমাদের জন্য নতুন দুনিয়ার প্রয়োজন ,তাই পুরোনো দুনিয়ার বিনাশের দরকার l
তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই বিরাট রূপের সমস্ত জ্ঞানই রয়েছে l এটাও তোমরা বুঝতে পেরেছো যারা কল্পের প্রথমে এসেছিলো , তারাই আসবে দেবতা হওয়ার জন্য l এ হলো বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করার কথা l তোমরা যত ব্রাহ্মণ হয়েছো তারাই আবার দেবতা হবে l প্রজাপিতা ব্রহ্মার গায়ন আছে তাই না ? পরমপিতা পরমাত্মা এই ব্রহ্মার দ্বারা মনুষ্য সৃষ্টির রচনা করেছিলেন , তাই ব্রহ্মাকে প্রজাপিতা বলা হয় l কিন্তু কেমনভাবে এবং কখন এই রচনা করেছিলেন ?এসব কথা কেউই জানে না l শুরুতে যে মানুষ থাকবে তাদের রচনা তো করবেনই l তোমরা তো বাবাকে ডাকতেই থাকো , হে পতিত পাবন এসো l তাহলে মানুষ যখন পতিত হবে , তখনই তো তিনি আসবেন তাই না ?এই দুনিয়ার পরিবর্তন হবেই l বাবাই তোমাদের নতুন দুনিয়ার যোগ্য বানান l এখন তোমরা তমোপ্রধান পুরোনো দুনিয়াতে রয়েছো ,এরপর সবকিছুই আবার সতোপ্রধান হয়ে যাবে l বাবা তোমাদের বোঝান যে ........ এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ এবং প্রতিটা জিনিস সতো , রজো এবং তমো এই তিন অবস্থাতেই আসে l এই দুনিয়াও নতুন থেকে অবশ্যই পুরোনো হয় l তোমরা যে বস্ত্র পড়ো তাও নতুন থেকে একদিন পুরোনো হয় l তোমরা বাবার এই জ্ঞান পেয়েছো , এবং সত্যি সত্যি সত্যনারায়ণের কথা এখনই শুনছো l এই গীতাই হলো সর্ব শাস্ত্রের শিরোমণী l বাকী সমস্ত শাস্ত্র এর কাছে ছোটো l যেমন ব্রহ্মার বংশাবলী বলা হয় , তেমনি গীতাকেও মুখ্য বলা হয় l উঁচুর থেকে উঁচু অর্থাত্ সর্ব্বোচ্চ হলেন এই মা - বাবা , বাকী সবাই তাঁদের সন্তান -সন্ততি l এখন তোমরা মা বাবার থেকে বর্ষা পেতেই পারো l বাকী যতোই শাস্ত্র পড়ো বা যা কিছুই করো , তোমরা এই বর্ষা পেতে পারবে না l যারা সকলকে নিয়মিত শাস্ত্র পাঠ করে শোনায় তাদের অনেক উপার্জন হয় l অবশ্য এগুলো সবই অল্পকালের জন্য l আর এখানে যে তোমরা এই পড়া করছো তাতে তোমাদের প্রাপ্তি ......২১ জন্মের জন্য , তাহলে তোমরাই বিচার করো l দুনিয়াতে একজন শাস্ত্র পাঠ করে শোনায় ,আর সকলে তাদের পয়সা দেয় l আর এখানে বাবা তোমাদের শোনান .........আর তোমরা ২১ জন্মের জন্য সাহুকার বা ধনী হয়ে যাও l দুনিয়াতে যারা শাস্ত্র শোনায় তাদের পকেট ভর্তি হয় l ভক্তি করা হলো প্রবৃত্তি মার্গের লোকেদের কাজ l তোমরাই হলে প্রবৃত্তি মার্গের l তোমরা জানো যে স্বর্গ লোকে তোমরাই পূজ্য ছিলে l নাহলে ৮৪ জন্মের হিসাব কোথা থেকে আসবে ? এ সবই হলো আত্মিক জ্ঞান , যা পরমাত্মা জ্ঞানের সাগরের থেকেই পাওয়া যায় l পতিতপাবন শিব বাবাই হলেন সবার সদ্গতি দাতা l তিনিই তোমাদের বাচ্চাদের এই অমরকথা শোনাচ্ছেন l জন্ম জন্মান্তর তোমরা সব ভুল কথা শুনে এসেছো l এখন সমস্ত সত্যি কথা শুনে তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ হবে l চন্দ্রকে ১৬ কলা সম্পূর্ণ বলা হয় l সূর্যের জন্য কিন্তু এই কথা বলা হয় না l তোমরা জানো যে তোমরা আত্মারা ভবিষ্যতে সর্বগুণ সম্পন্ন , ১৬ কলা সম্পূর্ণ হবে l আবার অর্ধেক কল্পের পরে তোমাদের আত্মার মধ্যে খাদ পড়তে থাকবে l এখন তোমরা জানো যে তোমরা নতুন করে আবার সর্বগুণ সম্পন্ন , ১৬ কলা সম্পূর্ণ ......সেই দেব পদ আবার নতুন করে লাভ করছো l তোমরা আত্মারা প্রথমে তোমাদের নিজের ঘর শান্তিধামে যাবে তারপর শরীর ধারণ করে আবার দেবতা হবে , তারপর আবার চন্দ্রবংশী ঘরানায় জন্ম নেবে l ৮৪ জন্মের হিসাব তো চাই l কোন্ যুগে , কোন্ বছরে তোমাদের কতবার জন্ম হয়েছে , বাবা তোমাদের এই ৮৪ জন্মের সত্যি সত্যি কথা এখন শোনাচ্ছেন l তোমাদের বাবা বলেন যে তোমরা ভারতবাসীরাই এই ৮৪ জন্মগ্রহণ করো l এক তো তোমরা নিজেদের এখন ব্রাহ্মণ মনে করো l তোমরা মাম্মা , বাবা এই কথা বলো , বর্ষা ( সম্পত্তি ) কিন্তু তোমরা শিববাবার থেকেই পাও ব্রহ্মা বাবার দ্বারা l ব্রহ্মাও তো শিববাবার সন্তান l তাই ব্রহ্মার থেকে বর্ষা পাওয়া যায় না l ব্রহ্মা তো তোমাদের ভাই হলো তাই না ? উনিও তো শরীরধারীই হলেন l তোমরা সকলেই বর্ষা ( সম্পত্তি ) শিববাবার থেকেই নাও , ব্রহ্মা বাবার থেকে নয় l যার থেকে বর্ষা বা সম্পত্তি পাওয়া যায় না তাকে স্মরণ করা উচিত নয় l এক শিব বাবাকেই স্মরণ করো l তাঁর জন্যই বলা হয় .......তুমি আমাদের মাতা পিতা , আমরা তোমাদের সন্তান l তোমরা যখন ব্রহ্মা বাবার কাছে যাও , তোমাদের বুদ্ধিতে থাকা উচিত যে আমরা শিব বাবার কাছেই এসেছি l তোমরা সবসময় স্মরণ কিন্তু শিববাবাকেই করবে l আত্মা হলো খুব ছোটো বিন্দু , তাতেই ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে l আত্মা ভ্রুকুটির মাঝে অবস্থান করে l সে এক সেকেন্ডেই উড়তে পারে , আত্মা এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীরে প্রবেশ করে l এই আত্মা ভ্রুকুটির মাঝে গিয়ে অবস্থান করে l তোমরা বুদ্ধি দিয়ে তো বুঝতে পারো তোমাদের আত্মা এইরকম l সত্যযুগে তোমরা এইধরনের কোনো জিনিস দেখার আশাই করতে পারবে না l আত্মাকে কেবল দিব্য দৃষ্টির দ্বারাই দেখা যায় l এই চর্মচক্ষুর দ্বারা একে দেখা যায় না l ভক্তিমার্গেসাক্ষাতকার করা যায় l যেমন রামকৃষ্ণের শিষ্য বিবেকানন্দ ছিলেন তিনি বলেছিলেন .......আমি সামনে বসেছিলাম আর ওনার আত্মা বের হয়ে আমার মধ্যে প্রবেশ করেছিলো l কিন্তু এমন তো কিছুই হয় না l আত্মা কেমন করে এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীরে প্রবেশ করে তা বাবা তোমাদের বোঝান lএখন তোমরা বুঝতে পারছো যে তোমরা অমরলোকে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো , তাহলে তোমরাই অমরলোকে জন্ম নেবে l সেখানে তোমরা গর্ভ মহলে জন্ম নেবে l আর এখানে তো তোমরা গর্ভজেলে ত্রাহি ত্রাহি রবে চিত্কার করো l এখন বাবা তোমাদের অর্ধেক কল্পের জন্য দুঃখ থেকে মুক্ত করতে এসেছেন l তাহলে কতো ভালোবাসার সঙ্গে তোমাদের বাবাকে স্মরণ করতে হবে l আচ্ছা l 

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি(সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা , বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

1) নিজেকে আত্মা মনে করে , আত্মার পিতা পরমাত্মার থেকে ঈশ্বরীয় পড়া পড়ে পুরো বর্ষা ( সম্পত্তি ) নিতে হবে l সত্য খন্ডের মালিক হবার জন্য সত্যিকারের অমরকথা শুনতে হবে আর অন্যকে শোনাতে হবে l

2) যেই বাবার থেকে তোমরা বেহদের বর্ষা প্রাপ্ত করো , একমাত্র সেই শিববাবাকেই স্মরণ করতে হবে l কোনো দেহধারীকেই স্মরণ করবে না l এই পুরোনো দুনিয়া ধংস হয়ে যাবে তাই একে দেখেও না দেখার অভ্যাস করো l

বরদান :- ঈশ্বরীয় ব্যক্তিত্ব আর ক্ষমার গুণের দ্বারা বিশ্বের নব নির্মাণ করার জন্য বিশ্ব কল্যাণকারী হও l 

বিশ্বকল্যাণকারী হবার জন্য মুখ্য দুটি ধারণার প্রয়োজন , এক হলো ঈশ্বরীয় ব্যক্তিত্ব আর অন্যটি হলো ক্ষমা ভাব l যদি ঈশ্বরীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমাভাব আর স্বমান রাখতে পারো তাহলে আত্মিক স্থিতিতে সহজেই স্থির হতে পারবে l তাই যখনই কোনো কর্তব্য করবে বা মুখের দ্বারা কোনো ঈশ্বরীয় বাণীর বর্ণনা করবে , তখন নিজেকে পর্যবেক্ষণ করো যে তোমার ঈশ্বরীয় ব্যক্তিত্ব আর ক্ষমার ভাব সমান পর্যায়ে আছে কিনা ? শক্তির যে চিত্র দেখানো হয় সেখানে এই দুই গুণকে সমানভাবে দেখানো হয় , তাই এই আধারের উপর বিশ্ব নব নির্মাণের নিমিত্ত হতে পারবে l

স্লোগান :- 

বাবার ভালোবাসার কাছে নিজের ব্যর্থ সংকল্পকে বিকিয়ে দাও .......এই হলো সত্যিকারের বলিদান l


***OM SHANTI***

Google+ Followers