BK Murli 9 June 2016 Bengali

BK Murli 9 June 2016 Bengali

 ০৯-০৬-১৬ প্রাত : মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - এই দুনিয়ায় নিষ্কাম সেবা একমাত্র বাবাই করেন , বাকি তোমরা , যে কর্ম করো তার ফল অবশ্যই পেয়ে যাও "

প্রশ্ন :- 

ড্রামা অনুসারে কোন্ কথা একশো ভাগই নিশ্চিত , যে কথায় তোমরা বাচ্চারা খুশি হও ?

উত্তর :- 

ড্রামা অনুসারে এটা একেবারে নিশ্চিত যে নতুন রাজধানী স্থাপন হবেই হবে l তোমাদের বাচ্চাদের খুশি এই কারণে হয় যে , শ্রীমতের পথে চলে আমরা আমাদের জন্য নতুন রাজধানী স্থাপন করছি l এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ তো অবশ্যই হবে l তোমরা বাচ্চারা যেমন পুরুষার্থ করবে তেমনই তোমাদের উচ্চ পদ প্রাপ্তি হবে l

গীত :- 

তোমাকে পেয়ে আমরা সব কিছু পেয়ে গেছি . . .
( তুম্হে পা কে হমনে জাহাঁ পা লিয়া হ্যাঁয় ). . .

ওম্ শান্তি l 

যা বাচ্চারা বলে , বাবাও তাই বলেন l বাচ্চারা বলে বাবা তোমাকে পেয়ে আমরা স্বর্গের মালিক হই l বাবাও বলেন বাচ্চারা মনমনাভব - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমাকে স্মরণ করো l তোমাদের আর আমার কথা তো একই হলো তাই -না ! সব মানুষই জিজ্ঞেস করবে ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা এই সত্সঙ্গে গিয়ে কি পায় ? তখন ব্রহ্মাকুমার -কুমারীরা বলে আমরা বাপদাদার থেকে বিশ্বের মালিকানা পাই l বিশ্বের মালিক আর অন্য কেউ হতে পারবেনা l বিশ্বের মালিক এই লক্ষ্মী -নারায়ণই হবে , শিববাবা তো আর বিশ্বের মালিক হতে পারেননা l তোমরা বাচ্চারাই বিশ্বের মালিক হও l তোমাদের বাবা বিশ্বের মালিক হননা l এরকম নিষ্কাম সেবাধারী আর হয়না l প্রত্যেকে নিজের নিজের সেবার ফল অবশ্যই পাও l ভক্তিমার্গে বা কোনও প্রকারে কেউ কিছু করলে . . . .এমনকি সমাজ -সেবকরাও সেবার ফল অবশ্যই পায় l সরকার থেকে বেতন পায় l বাবা বলেন - আমিই একমাত্র নিষ্কাম সেবা করি যে সেবায় বাচ্চাদের বিশ্বের মালিক বানাই কিন্তু নিজে কোনও মালিকানা ভোগ করিনা l বাচ্চাদের সুখী করে , সুখধামের মালিক বানিয়ে , ২১ জন্মের সুখ নিশ্চিত করে নিজের নির্বাণধামে ফিরে যাই , যেমন প্রৌঢ় বয়সে মানুষ বাণপ্রস্থে যায় সবকিছু ত্যাগ করে , আমিও বিশ্বের মালিকানা তোমাদের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিয়ে চলে যাই বিশ্রাম নিতে পরমধামে-মূল বতনে l মানুষ তার যাবতীয় যা কিছু সব দান করে বাণপ্রস্থে যায় , সত্ সঙ্গ ইত্যাদি করে l গুরু প্রভৃতি অবলম্বন করে যাতে এই গুরু মুক্তির রাস্তা বলে দিতে পারে l এখন তোমরা বাচ্চারা জেনে গেছ যে মুক্তি আর জীবনমুক্তির উপায় কোনও মানুষমাত্রেই কখনও কাউকে বলতে পারেনা l ওরা কাউকে সদ্ গতি দিতে পারেনা l নিজেরও করতে পারেনা l নিজের করতে পারলে তখন অন্যেরও সদ্ গতি করতে পারবে l বাবা আসেনই পরমধাম থেকে l উঁনি ওখানকার অধিবাসী , তোমরা- বাচ্চারাও পরমধাম নিবাসী l তোমাদের ভূমিকা পালন করতে হবে এই কর্মক্ষেত্রে l বাবাকেও একবার এখানে আসতে হয় তোমাদের -বাচ্চাদের জন্য কেননা স্বর্গ স্থাপনা যখন হচ্ছে তখন নরক তো অবশ্যই বিনাশ হবে l এখন তোমরা জেনেছ যে , শিববাবা ব্রহ্মা দ্বারা আদি সনাতন দেবী -দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছেন l তোমরা জানো আমরা আবারও মানুষ থেকে দেবতা হচ্ছি l তোমরা -বাচ্চারা বুদ্ধি দিয়ে এখন বুঝতে পারছ যে প্রত্যেক ৫ হাজার বছর অন্তর এসে আমরা আবার নতুন করে ব্রহ্মা দ্বারা শিববাবার বাচ্চা হয়ে জ্ঞানযোগের বল দ্বারা সত্যযুগের প্রাপ্তি বিশ্বের রাজ্যাধিকার পাই l পতিত-পাবন ওঁনাকেই বলা হয় l জ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানের সাগরও তিনি l যোগ অর্থাত্ স্মরণ কিভাবে করতে হবে শিখিয়ে দেন কিন্তু নিরাকার কিভাবে বোঝাবেন ! এইজন্য তিনি বলেন - ব্রহ্মা-তনে প্রবেশ করে তার দ্বারা মানুষ থেকে দেবতা তৈরী করি অর্থাত্ দেবী -দেবতা ধর্মের স্থাপনা করাই l এখন সেই ধর্ম বর্তমান নয় , আবার নির্মাণ করতে হবে l এখন নতুন করে আদি সনাতন দেবী -দেবতা ধর্ম স্থাপন করে বাকি সবাইকে মুক্তি ধামে নিয়ে যাই l ভারতবর্ষ প্রাচীন দেশ এইজন্য ভারতের আদমশুমারি (জনসংখ্যাগণনা ) বাস্তবে অনেক বেশীই হওয়া উচিত্ l এরকম একটা বিষয় অন্য কারও বুদ্ধিতে আসেনা l আদি সনাতন দেবী -দেবতা ধর্ম সর্বাপেক্ষা বড় হওয়া উচিত্ l পাঁচ হাজার বছর ধরে ভারতবাসীই সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে l অন্য সকলে তো আসেই ২৫০০ বছর পরে l ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জনসংখ্যা কম হওয়া উচিত্ , এরপরই এসে যায় বৌদ্ধধর্ম এবং এদর সাথেও জনসংখ্যার অল্পবিস্তর তফাত হওয়া উচিত্ l ইসলাম , বৌদ্ধ প্রভৃতি প্রারম্ভে সত:প্রধান হয় পরে ধীরে ধীরে তমোপ্রধান হতে থাকে l এই হিসেবও সৃষ্টি চক্রে আবদ্ধ l যে বাচ্চারা উপলব্ধি করতে সক্ষম তাদেরই খেয়াল রাখতে হবে l আজকাল লেখা হয় চাইনিজরা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশী l কিন্তু ওদের তো সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান নেই l সৃষ্টিচক্রের সমস্ত রহস্য তোমাদের - বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে l যারা শিক্ষিত তাদেরই সবিস্তারে বোঝাতে হয় l দেবী -দেবতা ধর্মের পাঁচ হাজার বছর সম্পূর্ণ প্রায় l তাই এই সময়ে তাদেরই সংখ্যা বেশী হওয়া উচিত্ l কিন্তু দেবী -দেবতা ধর্ম থেকে আবার অন্যান্য ধর্মেও অনেকে পরিবর্তিত হয়েছে l প্রথমদিকে অনেকে মুসলমান হয়ে গেছে আবার বৌদ্ধও হয়েছে অনেকে l এখানে বৌদ্ধ অনেক আছে , আর ক্রিশ্চিয়ানও আছে অগুনতি l দেবতা ধর্মের তো কোনও নিশানই নেই l যদি আমরা ব্রাহ্মণ ধর্মের কথা বলি সেও যেন হিন্দুদেরই বোঝানো হয় l এখন তোমরা জানো যে আদি সনাতন দেবী -দেবতা ধর্ম স্থাপন হতে চলেছে - আমাদের-ব্রাহ্মণদের দ্বারা শ্রীমতের অনুসরণে l এটাও বুঝতে বুদ্ধি চাই l ধর্মের কথা অনেক বড় বড় করে বলা হয় তাই -না l এখানকার মানুষ নিজেকে হিন্দু বলেই প্রতিষ্ঠিত করে l বলে - হিন্দু হলো আর্য ধর্ম , সবচেয়ে পুরানো l ভারতবাসী প্রথমদিকে আর্যই ছিল , সম্পদশালী ছিল , এখন অনার্য হয়ে গেছে l কোনও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় রাখেনা l যে যেরকমভাবে পারে সে ধর্মের নাম সেভাবে রেখে দেয় l প্রথমদিককার ধর্মস্থাপকেরা নিজ নিজ নামে ধর্মের স্থাপনা করেছিল , ধীরে ধীরে তাদের পরে পরেই অনেক ছোট ছোট ধর্মের প্রচলন হলেও সেসব ধর্মের নাম আজ আর কেউ স্মরণ করতে পারেনা l আগের ধর্মগুলোই স্থায়ী হয়েছে এবং খ্যাতি লাভ করেছে l তোমরা এখন বুঝতে পারছ আমরা বাবার থেকে স্বর্গরাজ্য লাভ করতে চলেছি l এই পবিত্র -স্বচ্ছতার অধিকার যে বাবা দিচ্ছেন তাঁকে কতটা স্মরণ করা উচিত্ ! তোমরা যত বেশী স্মরণ করবে এক তো বরসা পাবে আর তোমরা পবিত্রও হয়ে যাবে l লৌকিক বাবার থেকে ধন -সম্পত্তির অধিকার যেমন পাওয়া যায় তেমনই পতিত হওয়ার দায়ও নিতে হয় কেননা লৌকিক যা কিছু সবই পতিত হয়ে গেছে l উনি লৌকিক বাবা , উঁনি পারলৌকিক বাবা আর ইনি মাঝে অলৌকিক বাবা l এনাকে দু' তরফের সাথে জুড়ে দেওয়া হয় l শিববাবার তো কোনও অসুবিধে হয়না , এনাকে অনেক গাল-মন্দ শুনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে হয় l পরে ইনিই যখন বাস্তব জগতে শ্রীকৃষ্ণ রূপে পদার্পণ করেন তখন আর কোনও মন্দ কথা তাঁকে শুনতে হয়না l ইনি মাঝখানে থেকে গাল -মন্দের শিকার হন l যেমন কথায় বলেনা যে - রাস্তা চলতে ব্রাহ্মণ ফাঁসা ( রাস্তায় চলতে গিয়ে ব্রাহ্মণ ফেঁসেছে ) l অলৌকিক বাবাকেই সব সহন করতে হয় l এটা কারোরই জানা নেই যে শিববাবা এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করে পতিতকে পবিত্র বানান l পবিত্রতা ধারন করার পর এনাকে নানাবিধ অপমান সহ্য করতে হয় l বাবা বলেন - আমি এসেছি সবাইকে পবিত্র বানিয়ে ফেরত নিয়ে যেতে l তোমরা জানো যে মৃত্যু সামনে উপস্থিত l বিনাশের তো অবশ্যই প্রয়োজন আছে l বিনাশ ছাড়া সুখ -শান্তি কিভাবে আসবে l যখন কোনও লড়াই ইত্যাদি শুরু হয় তখন মানুষ যজ্ঞ প্রভৃতি করে যাতে লড়াই বন্ধ হয়ে যায় l তোমরা ব্রাহ্মণ কুলভূষণ জেনেছ বিনাশ অবশ্যম্ভাবী l তা' না -হলে স্বর্গের ফটক (দরজা ) কিভাবে খুলবে ! সবই তো স্বর্গে আসবে না l যারা পুরুষার্থ করবে তারাই যাবে বাকি সবাই যাবে মুক্তিধামে l এসব না জানার কারণে সবাই কত ভয় পায় l শান্তির জন্য কত মন্দিরে গিয়ে , গুরুকে ধরে এদিকে -ওদিকে ঠোক্কর খায় l কত সভা -সমিতি করতে থাকে l শুধু তোমরা ব্রাহ্মণরা জানো কিভাবে সুখধাম , শান্তিধামের স্থাপনা হচ্ছে l বিনাশ ব্যতীত স্থাপনা সম্ভব নয় l তোমরা এখন ত্রিকালদর্শী হয়েছ l জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন পেয়ে গেছ l ওরা তো কেবলই বলে শান্তি কিভাবে হয় ? অর্থাত্ কেউই লড়াই করেনি l সবাই বলে একত্ব হোক l এক -বাবার মত নিয়ে আমরা সবাই এক -বাবার সন্তান ভ্রাতৃত্বের ভাব বজায় রাখলেই তো সমত্ব এসে যাবে l এক বাবার বাচ্চা হলে তো নিজেদের মধ্যে লড়াই -ঝগড়া হওয়া উচিত্ নয় l এরকম তো সত্যযুগেই ছিল l ওখানে কেউ নিজেদের মধ্যে লড়াই করেনা l ওটা তো সত্যযুগের কথা হয়ে গেল কিন্তু এখানে তো কলিযুগ l প্রথম থেকেই সত্যযুগে দেবতা ছিল l ওখানে সুখ -শান্তি সব ছিল l এসব কথা তোমাদের বুদ্ধিতেই আছে - শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ অনুযায়ী l তোমরা বুঝেছ যে - বরাবর আমরাই সত্যযুগে রাজত্ব করেছি , কোনও সুখের অভাব ছিলনা l অদ্বৈত ধর্ম ছিল l এই জ্ঞান সবার নেই l এই সময় তোমরা জ্ঞানসম্পন্ন হও l বাবা তোমাদের নিজের সমান তৈরি করেন l বাবার যেমন মহিমা তোমাদেরও সেরকমই হতে হবে l শুধু দিব্যদৃষ্টির চাবি বাবার কাছে থাকে l বাবা বলেছেন - ভক্তিমার্গে আমাকে কাজ করতে হয় , যে যারই পূজা করুক না কেন তার মনোকামনা আমি পূরন করে দিই l এখানেও দিব্য দৃষ্টির পার্ট চলে l বলা হয় যে অর্জুন বিনাশের সাক্ষাত্কার করেছে l বিনাশ তো অবশ্যই হবে l বিষ্ণুপুরীও নিশ্চয়ই স্থাপন হবে l বাবা যেমন কল্প পূর্বে বুঝিয়েছিলেন - এখন আবার ওইভাবে বোঝাচ্ছেন l বাবা আমাদের মানুষ থেকে দেবতা বানান l যখন আমরা দেবতাস্বরূপে অবতরিত হই তখন আসুরিক সৃষ্টির বিনাশ তো হতেই হবে l চারিদিকে হাহাকার পরে যাবে l বুদ্ধির দ্বারা বুঝতে পারো যে চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে l মুষলধারে বৃষ্টিপাতও হবে l পুরানো এই দুনিয়ার সব কিছু বিনাশ হলে তখনই সত্যযুগের স্থাপনা হবে l পাঁচ তত্ত্বের এই শরীরও বিলীন হয়ে যাবে l ধরিত্রীর সবকিছুই মাটির সাথে মিলিয়ে যাবে l বাবা বলেন - এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞতে সব স্বাহা হয়ে যাবে l ভক্তি মার্গে দেখ রুদ্র যজ্ঞ কিভাবে রচিত হচ্ছে l শিবলিঙ্গ আর ছোট ছোট অনেক সালিগ্রাম বানিয়ে পুজো করে ভেঙে ফেলে , আবার নতুন করে বানায় l আবার পুজো করে ভেঙে দেয় l শিববাবার সাথে যারা সেবা করেছে তাদেরও এরা এই একই হাল করেছে l প্রত্যেক বছর রাবনের কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জ্বালানো হয় l এমনকি কোনও শত্রুরও এক -দু'বার কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জ্বালিয়ে দেয় , তবে বছর বছর জ্বালানোর কোন নিয়ম নেই l একেবারে সব রাগ বার করে দেয় l রাবণেরটা নিয়ম করে প্রতি বছর জ্বালানো হয় l এর অর্থ আদৌ কি সবাই বুঝতে পারে ! আবার বলে রাবন সীতাকে হরণ করেছে , কোনও অর্থই বুঝতে পারেনা l যারা শিববাবার জ্ঞান পায়নি তারা আর কি বুঝবে ! কিছুই না l দিন -দিন রাবনকে বড় করে বানাচ্ছে কারন রাবন অনেক দুঃখ দেয় l এখন তোমরা রাবনের ওপরে বিজয় প্রাপ্ত করেছ l সত্যযুগে এসব হয়ই না l এখানে যে কর্মফলের ভোগস্বরূপ রোগ ইত্যাদি যা হয় , তা রাবণের কারনেই হয় l বিকাররুপী রাবনের বশ্যতা স্বীকার করার কারনেই মানুষ যা কর্ম করে তা বিকর্ম হয়ে যায় l ড্রামাতে পূর্ব পরিকল্পিত রূপে সাজানো আছে এই সুখ -দুঃখের খেলা l আদি , মধ্য , অন্তের ইতি-বৃত্তান্ত কারও জানা নেই l লক্ষ্মী -নারায়ণের এই রাজ্য কিভাবে প্রাপ্ত হয়েছে তাও কেউ জানেনা l তোমরা ছোট ছোট বাচ্চারা বুঝিয়ে দাও - এই লক্ষ্মী -নারায়ণ সত্যযুগে রাজত্ব করত l সঙ্গমে এঁরা রাজযোগ শিখে এই পদ প্রাপ্তি করেছেন l বিড়লাকেও ছোট ছোট বাচ্চারা গিয়ে বোঝাতে পারো যে , এনারা কিভাবে এই রাজ্য পেয়েছেন ! এখন তো কলিযুগ , সত্যযুগ তো বলা যায়না l এখন সেই রাজত্বও নেই রাজমুকুটও নেই l শুধু চারটে ধর্ম শাস্ত্রই আছে l গীতা ধর্মশাস্ত্র , যার থেকে তিন ধর্ম - ব্রাহ্মণ ধর্ম , দেবী -দেবতা ধর্ম এবং ক্ষত্রিয় ধর্ম এখন স্থাপন হচ্ছে , সত্যযুগে নয় l এরকম কখনও নয় যে লক্ষ্মী -নারায়ণ বা রাম কোনও ধর্ম স্থাপন করেছে l এই তিন ধর্মের স্থাপনা এখন হচ্ছে পরে পরে ইসলামিক , বৌদ্ধ এবং ক্রিস্টিয়ানিটি এই সব ধর্মের প্রবর্তন হবে l ক্রিশ্চিয়ানদের বাইবেলই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ l এরপরে ধীরে ধীরে ক্রিশ্চিয়ানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে l দেবতা ধর্মই আদি সনাতন ধর্ম , এখন আবার নতুন করে দেবী -দেবতা ধর্ম স্থাপন করা হচ্ছে l তোমরা ড্রামার রহস্য ভালো ভাবে বুঝে গেছ l তোমরা খুশিও থাকো এই কারনে যে , তোমাদের -বাচ্চাদের একশো ভাগের একশো ভাগই নিশ্চয়তা আছে আমরা নতুন করে আবার রাজ্য -ভাগ্য স্থাপন করছি - এতে কোনও লড়াই-এর কথা নেই l রাজধানী স্থাপন হচ্ছেই - এটা নিশ্চিত l সেখানে যথাসময়ে যথা-নির্দিষ্ট মৃত্যু হবে l তোমরা জেনেছ আমরা আবার রাজ্য ভাগ্য লাভ করি l প্রতি কল্পে আমরা বাবার থেকে স্বর্গ রাজ্যের অধিকার প্রাপ্ত হই l যতখানি পুরুষার্থ করা যাবে পদও ততখানিই উচ্চ পাওয়া যাবে l আচ্ছা -

মিষ্টি -মিষ্টি সিকিলধে(হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমাত্মা পরমপিতা ) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মাদের ) নমস্কার l

ধরনার জন্য মুখ্য সার :-

১) বাবার যেমন মহিমা ঠিক তেমনই মহিমা নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে l বাবা - সমান মহিমার যোগ্য হতে হবে l পারলৌকিক বাবার থেকে পবিত্রতার বর্সা নিতে হবে l

২) বাবার শ্রীমত অনুসরণে নিজের তন ,মন , এবং ধনের দ্বারা এক আদি সনাতন দেবী -দেবতা ধর্মের স্থাপনা করতে হবে l

বরদান :- 

অটুট কানেকশন দ্বারা কারেন্টের অনুভবকারী মায়াজিত্ ভব (হও )

যেরকম তড়িত্ শক্তির সঙ্ঘর্ষে (প্রচন্ড ধাক্কা ) মানুষ দূরে ছিটকে পড়ে , সেরকমই ঈশ্বরীয় শক্তি মায়াকে দূরে ফেলে দেয় , এরকমই কারেন্ট হওয়া উচিত্ কিন্তু কারেন্টের আধার হল কানেকশন l চলতে -ফিরতে প্রত্যেক মূহুর্ত বাবার সাথে কানেকশন জুড়ে রাখতে হবে l এরকম অটুট জোড়বন্ধন হলে তবেই কারেন্ট আসবে আর মায়াজিত্ , বিজয়ী হয়ে যাবে l

স্লোগান :- 

তপস্বী সে -ই হয় যে ভালো -মন্দ কর্ম যারা করে তাদের প্রভাবের বন্ধন থেকে মুক্ত থাকে l


***OM SHANTI***

Google+ Followers