BK Murli 12 July 2016 Bengali

BK Murli 12 July 2016 Bengali

   ১২-০৭-১৬ প্রাত :মুরলি ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন


" মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা বাবার কাছে এসেছ নিজেদের জীবন হীরে সমান বানাতে , বাবার স্মরণেই এইরকম জীবন তৈরি হতে পারে "

প্রশ্নঃ 

নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদ পাওয়ার জন্য বিশেষ কোন্ পুরুষার্থ করতে হবে ?

উত্তরঃ 

বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা , যে পুরানো সম্পর্কগুলো এত দুঃখ দিয়েছে , এখন তাদের মোহজাল থেকে বুদ্ধি সরিয়ে এক আমাকে স্মরণ করো l ওদের সাথে থেকেও মন আমাতে দাও l 'মনমনাভব'- এই মন্ত্র সর্বদা মনে রাখলে তোমরা নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদ পাবে l

গীত :- 

তুমি রাতগুলি করেছ ব্যর্থ ....

ওম্ শান্তি l 

বাচ্চাদের যেমন সব শাস্ত্রের সার বোঝানো হয় ঠিক তেমনই গীতেরও সার বোঝানো হয় l তিনি , সবার রুহানি বাবা , রুহানি বাচ্চাদের ব্রহ্মা তনে বসে বুঝিয়ে দিচ্ছেন l বাবা বুঝিয়ে দেন বাচ্চাদের যে তোমাদের এখন হীরে তুল্য জন্মের প্রস্তুতি চলছে l বাবার কাছে তোমরা এসেছই হীরে সমান জন্ম পাওয়ার জন্য l স্বর্গবাসীর জন্ম হলো হীরে তুল্য আর কড়ি তুল্য জন্ম হলো নরকবাসীর l তোমরা সঙ্গমযুগকে জেনেছ , আমরা এখন সবাই সঙ্গমযুগবাসী l কল্যাণকারী এই সঙ্গমযুগে সবার সদগতি প্রাপ্ত হয় l এখন প্রশ্ন হলো এই সদগতি কে দেন ? পরমধাম থেকে পরম অতিথি এসে সদগতি করেন l উঁনি অতিথি l তোমরা অতিথি নও , তোমরা এসে আর যেতে চাও না ! বাবা বলেন - আমি পুরনো দুনিয়ায় এসে আবার ফিরে যাই l বাচ্চারা জানে এই সেবা একমাত্র পরমধাম থেকে আসা অতিথিই করেন l যিনি এসে আমাদের-বাচ্চাদের অনেক সেবা করেন l এইরকম সেবা আর কেউ করতে পারেনা l সেবা করার জন্য তাঁকে ডাকা হয় , বলা হয় এসে আমাদের পতিতদের পবিত্র করে গড়ে তোল l বাবাও বলেন " আমি বাচ্চাদের সেবায় এসেছি কেননা বাচ্চারা খুব দুঃখী হয়ে আছে l" বাচ্চারা ডেকে বলে আমাদের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করো l দুটো জিনিস সবসময় মনে থাকে -এক হলো সুখ আর এক হলো শান্তি l এই পুরনো দুনিয়ায় দুঃখ আর অশান্তি ছেয়ে থাকায় তাঁকে ডাকা হয় l বাবা এসে সৃষ্টি চক্রের সকল রহস্য বুঝিয়ে দেন এবং বাচ্চাদের বোধগম্য হয় ভক্তি মার্গের পথ শেষ হয়েছে l কলিযুগের অন্ত অর্থাত্ ভক্তি মার্গ সম্পূর্ণ হয়ে শেষ ধাপে চলে এসেছে l জ্ঞানের দ্বারা চড়তি কলার স্থিতি এসে যায় l তোমাদের উঁচু থেকেও উঁচু পদের প্রাপ্তি হলে তারপরে ভোগের দ্বারা ধীরে ধীরে প্রারব্ধ-এর (পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফল ) ক্ষয় অর্থাত্ সুখ কমতে থাকে l ভারতে ভক্তির যত জাঁকজমক এরকম আর কোথাও হয়না l অর্ধকল্প ভক্তিমার্গে কেটে যায় l যখন থেকে দ্বাপর এবং অন্যান্য ধর্ম স্থাপন শুরু হয় তখন থেকেই ভক্তির শুরু হয় l ভক্তিও প্রথম দিকে খুব ভালো ছিল l যেমন স্বর্গ প্রথম -প্রথম খুব ভালো হয় পরে কলা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে l ভক্তির শুরুতে প্রথম -প্রথম শিবের পূজারী হয় l অর্ধ কল্প কোনও পূজা হয়না l তারপরে ভক্তিমার্গ শুরু হয় আর সেই সঙ্গে অন্য ধর্মেরও আসা শুরু হয়ে যায় l এত ভক্তি আর কেউ করতে পারেনা , পুরো অর্ধ কল্প ভক্তিকে অবলম্বন করে চলে l এটাও তোমরা বাচ্চারা জানো বাবা , যিনি সবার অত্যন্ত প্রিয় ভারতের সদগতি প্রদান করেন এবং স্বর্গেরও মালিক বানান l তিনি , দূরদেশের অতিথি এসেছেন আবার নতুন করে আমাদের বাচ্চাদের বাদশাহী দিতে l কত জবরদস্ত এই রাজত্বের অধিকার l কিন্তু কেউ এই একটা কথা বুঝতে পারেনা l ভারতে ভক্তি কত করা হয় ,কত মন্দিরও আছে l ভারতখন্ডে অনেক যে মন্দির আছে সেইগুলো কার মন্দির এসব কিছু এখন তোমরা জেনেছ l শুরু -শুরুতে শিববাবার মন্দির তৈরি হয় , তারপরে তৈরি হয় দেবতাদের l সেই মন্দির তোমাদের সামনে বর্তমান l একদিকে শিববাবার পূজা করে চলেছ আর অন্যদিকে শিববাবা তোমাদের পূজ্যরূপে গড়ে তুলছেন l তোমরা এখানে এসেছ পূজ্য দেবতা হতে l যারা দেবতাদের পূজারী , বাস্তবে তারাও এখানে এসে ব্রাহ্মণ হবে l ধীরে ধীরে বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে l সবাই একসাথে পড়তে পারেনা , সময় লাগে l কল্প পূর্বে যারা পড়েছিল তারাই আবারও পড়বে l একে অপরকে পড়াতে হবে l সবাইকে বাবা আর সৃষ্টির আদি -মধ্য -অন্তের জ্ঞান শোনাতে হবে যাতে মানুষ স্বর্গের মালিক হতে পারে l সেইজন্য এসে শুনে বোঝ l তোমরা বাচ্চারা বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পার এই নাটকের চক্র কিভাবে পরিক্রমণ করে l কাহিনী তো লাখ লাখ বছরের বলে শোনাতে পারবে না l তোমরা জানো পাঁচ হাজার বছরের আগে কি ছিল , কার রাজ্য ছিল ! ভারতে আমরা যে দেবী -দেবতা ছিলাম , আমাদেরই (দেবী -দেবতাদের ) রাজ্য ছিল l স্মরণে এসেছে তো - আমরাই পূজ্য ছিলাম আবার পূজারী হয়েছি l প্রথমে এইসব জানা ছিল না আমরা সেই পূজ্য দেবতা ছিলাম , পরে আবার ৮৪ জন্ম নিয়েছি l ৮৪ জন্মের কাহিনী লক্ষ্মী -নারায়ণের l তোমরা নিজের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাও l ওদের তো নিজের কাহিনী লিখতে অনেক সময় লেগে যায় l তোমরা এক মিনিটে ৮৪ জন্মের কাহিনী বলতে পারবে l ওরা এক জন্মের কাহিনী লেখে l নিজের কাহিনীতে শৈশবে কি কি করেছে সেগুলো বলে l আমরা ৮৪ জন্মের চক্র কিভাবে পরিক্রমা করি , সেখানে তো কোনও একজনের কথা নয় , বহু ব্রাহ্মণ একইভাবে ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করে l তোমরাই এই চক্রকে জান l এই চক্রকে জানার মাধ্যমে তোমরা রাজা -রানী হতে পার আবার অন্যদেরও বানাতে পার l ভক্তিও ভারতবাসীদের মতো কেউ করেনা l আর যা -ও মঠ ,পন্থ ,ধর্ম ইত্যাদি আছে সেসবই আমাদের ভক্তির সময় স্থাপন হয়েছে l প্রথম -প্রথম আমাদের ফুলের ঝাড় কত ছোট ছিল , একেবারে রুহানি বাগিচা ! তোমাদের মতো জ্ঞানসম্পন্ন ফুলে সাজানো ছিল বাগান l তারপরে এই সুন্দর ফুলের বাগান আস্তে আস্তে কাঁটার বাগিচায় পরিণত হতে থাকে l এই সময় সব কাঁটায় পরিণত , আবার কাঁটা থেকে ফুল কিভাবে তৈরি হওয়া যাবে বাবা বসে তা বুঝিয়ে দেন l একে অপরকে দুঃখ দেওয়া মানেই হলো কাঁটা লাগানো l স্টুডেন্ট লাইফ ইস দি বেস্ট বলা হয়ে থাকে , সত্যিই খুব ভালো হয় l বাচ্চারা খুব আনন্দের সাথে পড়ে l বিবাহ হল তো আরও দু -একজন একে অপরকে কাঁটা লাগানো শুরু করে l সত্যযুগে কেউ কাউকে কাঁটা লাগায় না l তোমরা এখন আবার ফুল তৈরি হচ্ছ l তোমরা জানো , ভারত যখন স্বর্গ ছিল তখন কত অপার সুখ ছিল l সোনার খনি ছিল যা এখন খালি হয়ে গেছে l আবার তোমরা সোনায় ভরা খনি পাবে l ভারতেই সোনা ,হীরে ,জহরতের খনি ছিল l সেই সময় আমেরিকা ইত্যাদি কিছুই থাকেনা , বম্বেও না l কত আশ্চর্যের ব্যপার তাই না ! কলিযুগের শেষে দেখার মতও অল্প সোনা অবশিষ্ট থাকেনা l সত্যযুগে আবার সোনার খনি ভরপুর হয়ে যায় l সোনার মহল তৈরি হয় l কত আশ্চর্য্য লাগে ! ওখানে খনি থেকে কত সোনা বেরোয় l যেমন এখানে মাটির ইঁট তৈরি হয় ওখানে সোনার ইঁট তৈরি হয় , মায়া মাদারি খেলা (ভোজবাজি) দেখাতে শুরু করে l ধ্যানে বসে দেখা এখানে তো সোনাই সোনা l সত্যি সত্যিই সত্যযুগে সোনার ছড়াছড়ি থাকবে l এখানে তো দেখ মাটির ইঁটও পাওয়া যায় না l যত ইঁট এখানে পয়সার বিনিময়ে পাওয়া যায় , ততখানি ইঁট ওখানে বিনামূল্যে পাওয়া যায় l রাত দিনের ফারাক হয়ে যায় l তবে বুঝতে তো হবে পুরুষার্থ করতে হবে কি হবেনা - নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদ পাওয়ার জন্যে ! এখানের মোহজালে কেন আটকা পড়ে আছ ! বাবা বলেন - তোমরা পুরনো সম্বন্ধে থেকে শত দুঃখ পেলেও বাবা এরকম কখনও বলেননা যে তোমরা এদেরকে ছেড়ে দাও l শুধুমাত্র বুদ্ধিযোগ এক বাবার সাথে জুড়ে নাও তবে তোমরা বিশ্বের মালিক হতে পারবে l ' মনমনাভব ' -এর অর্থই হলো আমাকে স্মরণ করো আর বিষ্ণু চতুর্ভুজের অর্থাত্ বিষ্ণুপুরীর স্মরণ করো l মূল কথা হলো এক অক্ষরের , বাবা l ভক্তিমার্গে পঞ্চায়েত অনেক আছে l*( এখন তোমরা সব আত্মারা সাজন , একমাত্র সজনী পরমপিতা পরমাত্মার l)* উঁনি তোমাদের সুখধামের মালিক হওয়ার অধিকার প্রদান করেন l সকল আত্মা তাঁকেই স্মরণ করে l তোমরা রুহানি আশিক , রুহানি মাশুকের সাথে একই বার মিলিত হতে পার l বাকি সব মানুষ শারীরিক ভাবে প্রেমিক-প্রেমিকা l এখন বেহদের আশিকদের সাথে বেহদের মাশুক এসে মিলিত হয়েছেন l ওঁনাকে বলাও হয় - এসো , এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করে তোল l এক্ -এরই আহ্বান হয় l তোমরা জানো যে আমাদের আত্মা পতিত হয়েছে সেইজন্য সকলে ডাকছে পতিতপাবন এস l কুম্ভ মেলায় গিয়ে কত জনে যে গঙ্গা স্নান করে কিন্তু কোনও লাভ নেই l কেউই এভাবে পবিত্র হয়না l বাবা এসে জ্ঞান বর্ষণ করেন l তোমাদের জ্ঞান বর্ষায় অবগাহন করিয়ে বাবা আবার নতুন করে কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগিচায় সাজিয়ে তুলবেন l তোমরা জেনেছ বিশ্বের রাজ্যভার বাবা যখন তোমাদের হাতে তুলে দেবেন তখন সেখানে কোনও অপবিত্র কিছুই থাকবেনা l সারা বিশ্ব জ্ঞান বর্ষণে সিক্ত হয়ে যায় l সবকিছু তখন পরিপূর্ণতায় ভরে যায় l হীরে জহরতের খনিগুলোও নতুন ভাবে সেজে ওঠে l তোমাদের-বাচ্চাদের এখন কতই-না খুশির মেজাজ ! তোমরা সামনে দেখতে পাচ্ছ বাবা সম্মুখে বসে বোঝাচ্ছেন -" তোমরা আমাকে স্মরণ কর তবে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l" তোমরা যে কোন স্থানে বস - স্নান কর , বুদ্ধিতে সবসময় বাবা স্মরণে থাকবেন l ওখানে তো স্মরণের কোনও অবকাশ নেই l বাবাকে যত স্মরণ করবে ততই উপার্জন হবে অর্থাত্ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসার উপযুক্ত হবে l স্মরণেই প্রাপ্তি l এরকম কী শুনেছ স্মরণ করায় প্রাপ্তি আছে ! কত বড় প্রাপ্তি , তোমরা বিষ্ণুপুরীর মালিক হতে চলেছ l তোমরা জেনেছ আমাদের-আত্মাদের বাবা নিরাকার l উঁনি এই শরীরের (ব্রহ্মা তনের) আধার নিয়েছেন l ভাগীরথেরও তো বর্ণনা তোমরা শুনেছ l ভাগ্যশালী রথ , যে রথে পরমপিতা পরমাত্মা সওয়ার হয়ে আসেন l আত্মার রথ যখন সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয় ঠিক তখনই আত্মা এসে প্রবেশ করে l বাবাকে এই রথে এসে কেবল জ্ঞান প্রদান করতে হয় l এনারও বহু জন্মের অন্তিমের জন্মে যখন বাণপ্রস্থ অবস্থা হয় তখন বাবা বলেন - আমি এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করি অথবা এই রথে বিরাজমান হই l অন্য কোনও গাড়ী বা রথের কথা নয় l তোমরা এখন এই জ্ঞান পেয়েছ l বাবা তোমাদের সম্মুখে বসে এই জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে দিচ্ছেন l তোমাদের শুধুই খুশি থাকা উচিত্ l আই . সি . এস পরীক্ষার পড়ায় অনেক নেশা চাই l সেটা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা l তোমাদেরও এসব পাঠের পড়া l এখানে ভগবানের পাঠশালা l এখন প্রশ্ন ওঠে ভগবান কে ? শ্রীকৃষ্ণ অথবা শিববাবা ? সবার ভগবান কে ? এক নিরাকার ছাড়া সকলে তো কৃষ্ণকে মানবে না l সকল আত্মার বাবা তিনি , নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা l তিনি সর্বদা পরমধামে থাকেন l একবার -ই আসেন - বাচ্চাদের স্বর্গের মালিক বানাতে l ভারত এখন ভিখারী হয়ে গেছে l এরপর অন্য জন্মে কি হবে , তোমাদের সব সাক্ষাত্কার হয়েছে , বিনাশেরও সাক্ষাত্কার হয়েছে l এমনকি স্থাপনারও হয়েছে l ভগবান উবাচঃ " আমি তোমাদের রাজারও রাজা বানাই l " অনেক দান -পুণ্য করলে কারও কারও স্বল্পকালের জন্যে সুখ মেলে l রাজার ঘরে জন্ম নিয়েও সাথে সাথে মারা যায় আবার কেউ কেউ গর্ভেই মারা যায় l কেউ কাটা হাত -পায়ে আবার কেউ কানাও হয় l যেরকম কর্ম করে তেমনই পদ পায় l তোমাদের এখন রাজারও রাজা বানানো হয় l তোমরা বলো - বাবা আমরা আত্ম-নিবেদন করব l তবে তো অবশ্যই রাজত্ব তোমরা পাবে l ভারতকে মহাদানী খণ্ড বলা হয় l এখানে দান -পুণ্য অনেক হয় l তারপর আবার শুরু হয় ভক্তি মার্গে l এখন বাবা তোমাদের ২১ জন্মের জন্যে দান দেন l তোমরা এখন তন ,মন ,ধন সবকিছু দিয়ে বাবার কাছে আত্ম -নিবেদন করছ l আর বাবা বলছেন ট্রাস্টি হয়ে থাকতে l নিজের ঘর -সংসার সামলাতে l সবই শিববাবার l আমি তোমাদের এবং তোমাদেরই স্মরণ করি l আন্তরিকভাবে তোমাদের কাছে সমর্পন করি l বাবা বলেন - যতই মহলে থাক , ঘোরো -ফেরো , আনন্দ-মজা করো , শুধুমাত্র আমাকে স্মরণ করো, তবে তোমরা খুশিতে থাকবে l তোমরা বিশ্বের মালিক ছিলে l এখন পুরুষার্থ করে তোমরা আবার বিশ্বের মালিক হতে চলেছ l বাবা বোঝান - মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা এই যোগ বলের দ্বারাই তোমরা বিকর্মজিত্ হয়ে যাবে l বাবাকে স্মরণ করেই তোমরা বিশ্বের মালিক হতে পার l আচ্ছা –

মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার(পরমাত্মা পরমপিতা) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মাদের) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) রাজকীয় পদ পেতে গেলে সম্পূর্ণরূপে বাবার কাছে আত্ম-সমর্পণ করতে হবে l তন -মন -ধন সব সমর্পণ করে ট্রাস্টি হয়ে থাকতে হবে l বিকর্মজিত্ হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে l

২) স্মরণেই পাওয়া যাবে শ্রেষ্ঠত্বের আসন , এইজন্য নিরন্তর স্মরণে থাকার পুরুষার্থ করতে হবে l এমন রুহানি ফুল হতে হবে যাতে ফুলের দুনিয়ার অধিকারী হতে পারবে l অন্তর্মনে কোনও কাঁটা না থাকে l

বরদান :- 

অলৌকিক খেলা এবং খেলনা দিয়ে খেলতে খেলতে সদা শক্তিশালী হওয়ার অধিকারী অচল -অটল ভব (হও )

অলৌকিক জীবনে মায়ার বিঘ্ন আসাও অলৌকিক খেলা , যেমন শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের খেলার আয়োজন করা হয় ঠিক তেমনই অলৌকিক যুগে পরিস্থিতিকে খেলনা ভেবে এই খেলা খেলো l এতে ভয় পেয়ো না বা ঘাবড়ে যেও না l সমস্ত সংকল্পের সাথে নিজেকে বাপদাদার কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করে দাও তবে মায়া কখনও আঘাত করতে পারবে না l রোজ অমৃতবেলায় সাক্ষী হয়ে নিজের সর্বশক্তির দ্বারা শৃঙ্গার করলে অচল -অটল থাকবে l

শ্লোগান :- 

কোনো প্রকারের সংসার -সমাচার শোনা বা শোনানো উভয়ই নিজের মধ্যে আবর্জনা জমানোর সামিল l


***OM SHANTI***

Google+ Followers