BK Murli 23 July 2016 Bengali

BK Murli 23 July 2016 Bengali

২৩-০৭-২০১৬. প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন।

"মিষ্টি বাচ্চারা -- এখন পর্যন্ত্য তোমরা প্রচলিত সব কথাই শুনে আসছো, কিন্তু, এবার বাবা সরাসরি স্বয়ং তোমাদের কিছু শোনাবেন, যার গুনে ওঁনার নিজের মতো জ্ঞানবানে পরিনত করবেন "

প্রশ্ন :-- 

যথার্থ পুরুষার্থী বাচ্চাদের কি কি লক্ষ্মণ দেখা যায় এবং তাদের সেই স্থিতি দেখে, অন্যেরা কি বলে ?

উত্তর :- 

যথার্থ পুরুষার্থী বাচ্চারা -- তাদের মাতা-পিতাকে সম্পূর্ণ ভাবে অনুসরন করে। নিজের জীবনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সম্পূর্ণ মনোযোগও রাখে। সামান্য কিছু সময় বের করতে পারলেও তারা বাবার স্মরণে অবশ্যই বসবে। তাই তো তাদের সেই স্থিতির এত প্রশংসা- অটল, অচল আর স্থিতাবস্থা। যে কারণে তাদেরকে মহাবীর আখ্যা দেওয়া হয় ।

গীত --: ভোলেনাথ সে নিরালা কোই নেহী ঔর নেহী। ............) 

(ভোলানাথ শিববাবার মতন এমন স্বতন্ত্র আর কেউ-ই নেই এই জগৎ সংসারে, আর না তো কেউ হবে কখনও ....... )

ওম শান্তি। 

ভক্তি মার্গের দুনিয়ায় শুধুমাত্র গুগগানই হয়। তোমরা বাচ্চারা এখন তা বুঝতে পারছো যে, ভক্তি-মার্গে আমরাও সেই গানই গাইতাম । কিন্তু এখন সেই ভোলানাথ স্বয়ং সম্মুখে উপস্থিত। এই ভোলানাথ শব্দটি - ভক্তি মার্গের। কিন্তু, জ্ঞান মার্গে তাকেই বলা হয় শিববাবা। তোমরা তো বুঝতেই পারছো যে অনাদি কাল থেকে চলে আসা অবিনাশী নাটক তার নিজস্ব চিত্রপট অনুযায়ীই চলে আসছে, তাই এখন সঙ্গমযুগে, স্বয়ং বাবাকে এসে আমাদেরকে পুরুষার্থ করাতে হচ্ছে। প্রতি কল্পেই, কল্প-কল্প ধরে এই পুরুষার্থ করিয়ে আসছেন । কত সময় ধরে তোমরা, বাচ্চারা এই ভক্তি করে এসেছো, এটাও বাবা নির্দ্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন। যে বা যারা যুগ শুরুর প্রথম দিক থেকেই ভক্তি শুরু করেছো, তারাই আগেভাগে এসে জ্ঞান নিতে আগ্রহী হবে, এবং সূর্য-বংশীর অন্তর্গত হয়ে যাবে। সত্যযুগে তো কেবল এক মাত্র লক্ষী-নারায়ণ-ই আসেন না । ওনাদের রাজবংশের (dynasty) যারা, তারাও তো আসে। যাদেরকে বলা হয় দৈবী (দেবতা) বর্ণ। এই ভারতেই একদা সেই দৈবী বর্ণ ছিলো, যা এখন আসুরী (অসুর) বর্ণের হয়ে গেছে। আর বর্তমান সময়টা হচ্ছে সঙ্গমযুগ। এখন আবার আসুরী বর্ণ থেকে দৈবী বর্ণে আসতে হবে। চিরকাল ধরেই মহাভারতের এই লড়াই চলতে থাকে যার বর্ণনা আমাদের জানা আছে। সেখানে তফাৎ শুধু এই যে, শিবের নামের বদলে কৃষ্ণের নাম উল্ল্যেখ করা হয়েছে। 'গীতা'-র মতন শাস্ত্রেরই অপভ্রংশ হলে তো বাকী সব শাস্ত্রই খন্ডিত অপভ্রংশ হয়ে যাবে। যেখানে সব শাস্ত্রেরই মূল গীতা। তাই তো এত গীতা পাঠশালা আর গীতা ভবনের স্থাপনা হয়েছে। যেখানে গীতার সেই জ্ঞান শোনার পাঠশালা। নিজের মন থেকে কিছু শোনান না, যা ঘটে গেছে তারই বর্ণন করা হয়। পুনঃ পুনঃ তাই ঘটবে। বাচ্চাদের তো বাবা রোজ রোজ প্রত্যেক দিনই কত ভালোবাসার সাথে এ সব বোঝান। বাচ্চারা জেনেছে, এই বাবা হলেন প্রেমের সাগর। তাই তিনি সবাইকে সেই ভাবেই প্রেম করতে শেখান। এই বাবা কখনো কারও উপর রাগ করেন না। সব সময়েই প্রেম পূর্বক ভাবে তা বোঝান। বাবা বলেন, বাচ্চারা- একদা এই তোমরাই সতোপ্রধান ছিলে। আবার পুনর্জন্ম নিয়ে এসেছো। তোমরা ভারতবাসীরাই প্রকৃত দেবী-দেবতা ধর্মের। একথা সকলেই বলে থাকে। তাই প্রথম দিকের আশীর্ব্বাদী বর্সার (অধিকার) কে নিতে আসবে ? -যারা কল্প পূর্বে তা নিয়েছিল, তারা তো বলবেই, বাবা আপনি ছাড়া আর কেউই নেই আমাদেরকে সাহায্য করার। আর বাবাও তাদের ক্ষমা তখনই করবেন, যখন সঙ্গমযুগ আসবে । বাচ্চারা তো এটা জানেই যে, রাবণের রাজ্যত্ব আর রাম রাজ্য এই ধরাধামেই হয়ে থাকে। আর এখন যেহেতু তারা রাবণ রাজ্য আছে বলেই সেই সুখের রাম রাজ্যের আকাঙ্খা হয়। তোমরা যখন শিববাবার নাম উচ্চারণ করো, তখনই বুদ্ধি সেই নিরাকারের দিকেই যায়। সেই নিরাকারকেই স্মরণে চলে আসে। আত্মা তো বাবাকেই (পরম-আত্মাকেই) ডাকবে। তাই তখন এমন হয় না যে বাবা বসে বসে তা শুনতে থাকেন। বাবা বলেন যে, অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুযায়ী, পতিতদের পবিত্র বানাবার জন্য আমি মনুষ্য শরীরে অবস্থান করি। তবে তা কেবলমাত্র ডাক শুনে আসি না। ভক্তির যখন পূর্ণতা হয়, তখনই আমাকে আসতেই হয়। এসব অনেক বোঝর বিষয়। সেই সময়েই আমাকে আসতে হয়, যখন বাচ্চারা আমায় ডাকতে শুরু করে। যদিও এটা তো কোথাও লেখা নেই যে, আমি কখন আসবো ? ভক্তি-মার্গের লোকেরা তো কল্পের আয়ুটাকেই ভুল (wrong) হিসেব দিয়েছেন। পরমাত্মার এই ছবি ঘরে ঘরে, প্রতি ঘরেই থাকা উচিত, যা রোজই দেখবে আর মনে করবে যে, ইনি হলেন বাবা, আর ইনি দাদা, এবং এই তাদের আশীর্ব্বাদী-বর্সা। বাবা বলেন যে বাচ্চারা, সতোপ্রধান হতে গেলে আমায় স্মরণ করো, তাবেই তোমাদের আত্মার সমস্ত খাদ (দূষণ) বেরিয়ে যাবে। এই তথ্য কেবল এই বাবা-ই বোঝাতে পারেন। বাবা এটাও জানান যে, উনি নিজেও পুরুষার্থ করেন। বাচ্চারা একে অপরকে সাবধান করে ও নিজেরা সতর্ক হয়ে নিজেদের উন্নতি করতে হবে। এসব ছবিতে খুব পরিষ্কার করে বোঝানো হয়েছে । শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারাই স্থাপনার কার্য করাচ্ছেন। সকলের সম্মুখেই এখন সেই বিশাল মহাভারতের যুদ্ধ উপস্থিত। আর তাতেই অনেক ধর্মেরও বিনাশ হবে। তাই তো সে জন্যই যুদ্ধও অনিবার্য হতেই হবে। এই কথা বাচ্চাদের ভুললে চলবে না । কলি যুগ তো চিরকালই অন্ধকারময়। এই যে এত মানুষ তারও তো বিনাশ নিশ্চয়ই হতে হবে। সত্যযুগে কেবলমাত্র একটাই ধর্ম থাকবে। সত্যযুগের প্রথম দিকে তারাই যাবে যারা ৮৪ জন্মের চক্র পুরো করেছেন। এটা তো খুবই সহজ সরল ব্যাপার। আর বাদবাকি সব ধর্মেরই বিনাশ অনিবার্য হবেই। তবেই তো আবার পূর্বের মতন এক ধর্মের স্থাপনা হতে পারবে। সবারই সদগতি দাতা কেবল মাত্র এই এক ও একমাত্র বাবা। এই বাবার থেকেই বাচ্চারা আশীর্ব্বাদী বর্সা (উত্তর অধিকার) পেয়ে থাকে। বাচ্চারা এটাও জানে যে, আমরা যে পড়াশোনা করছি তা ভবিষ্যতের একুশ জন্মের জন্য। ভগবানুবাচ- "আমি তোমাদেরকে এই পাঠ পড়িয়ে একুশ জন্মের জন্য স্বর্গের অধিকারী/মালিক বানাচ্ছি। তাতেই সূর্য-বংশী, চন্দ্র-বংশী ঘরানা স্থাপিত হচ্ছে। যে যত বেশী পরিমানে পুরুষার্থ করবে, সে ততই উঁচু পদ পাবে।" তাই তো শিববাবা বলছেন, এই যে মা (মাম্মা) আর বাবার (ব্রহ্মা) কর্ম-কর্তব্যগুলি অনুসরণ করো। এঁনাদেরকে এখন সূক্ষ্মলোকে, বৈকুণ্ঠেও দেখতে পাবে। আর নিজেদেরকেও এ ভাবেই দেখবে যে, আমরাও মহারাজা, মহারানী হয়ে গেছি। এভাবেই বৈকুন্ঠেরও দর্শণ লাভ হয়। এটা তো মনে করা হয়ই যে, প্রতি কল্পের শুরুতেই এই ভারতেই সেই বৈকুণ্ঠের অস্তিত্ব থাকে। যাকে শ্রীকৃষ্ণ-পুরী আখ্যা দেওয়া হয়। যা আজ কংসপুরীতে পরিণত হয়েছে। আগামীতে আবার তা শ্রীকৃষ্ণ-পুরীই হবে। যেমন রাতের শেষে দিন হয়। এই সৃষ্টি-চক্রেরও অর্ধেক কল্প বেহদের (অসীমের) দিন আর অর্ধেক কল্প বেহদের রাত। যে সময়কালটা অন্ধকারে খালি হোঁচটই খেতে হয়। ব্রহ্মার রাত অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের রাত। তারপর আবার তোমরা ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হও। সত্যযুগে কিন্তু কেউ আর ব্রাহ্মণ থাকে না, তারা তখন দেবতায় পরিগণিত হয় । বাচ্চারা এটাও জানে যে, ভারতেই এই পবিত্র রাজাদের-স্থান (রাজস্থান) ছিল, যা পরে অপবিত্র রাজ-স্থানে পর্যবেশিত হয়েছে। চিরকালই ভারতে রাজাদের রাজত্বের স্থান অর্থাৎ রাজস্থান ছিল। সেই রাজাদেরই কেবল রাজত্ব চলে আসছিল। যেখানে আর অন্য ধর্মাবলাম্বীদের রাজত্ব কল্প শুরুর প্রথম থেকেই থাকে না। যেহেতু স্বয়ং ভগবান নিজেই সেই রাজ্য স্থাপন করে দেন। ভগবান স্বয়ং এসে রাজযোগ শেখান। উঁনি নিরাকার জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর....... তোমরা জানতে পারছো যে, সেই বাবার থেকেই আমরা আশীর্ব্বাদী-বর্সা (অধিকার) পেয়ে আসছি অবশ্যই। আমাদের পুরুষার্থের কারণেই যা দেরি হয়। যে যত পুরুষার্থ করবে সে ততই এগিয়ে যাবে । তাই তো বাবা বলেন, যে যত আমাকে স্মরণ করবে, ততই তুমি পতিত থেকে পবিত্র হয়ে, সেই পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে পারবে । কতই সহজ এ পন্থা। লৌকিক মা-বাবা যদি এই জ্ঞানে থাকেন, তাহলে তো বাচ্চাদেরকেও তাদের মতন করে তৈরী করতে হবে। মা-বাবা সৎপথে উপার্জন করলে, বাচ্চাদেরও সৎপথেই উপার্জন করা উচিত। কোনও কোনও বাচ্চা আবার খুব ভালো সস্কারেরও হয়। তারা বলে যে, আমরা রুহানি (আত্মিক) জ্ঞানের এই ঈশ্বরীয় পাঠের পড়াশোনা করে প্রতি ঘরেই সেই সংবাদ পৌঁছে দিতে থাকবো। বাবাও তখন বলেন যে, আমিই পয়গম্বর (ধর্ম-প্রচারক) আবার আমিই মেসেন্জর (ধর্মের বার্ত্তাবাহক)। আমি স্বয়ং তোমাদেরকে সেই মেসেজ (সংবাদ) দিচ্ছি যে, এবার তোমরা নিজেদের ঘরে চলো। কিন্তু অন্য সব ধর্ম-সংস্থাপকেরা এসে তো যে যার নিজের নিজের ধর্ম স্থাপন করে । আর আমি তো সবাইকেই এই মেসেজ (বার্তা) দিচ্ছি যে, এবার তোমাদের ঘরে ফেরার পালা। এই দুনিয়া আর থাকার যোগ্যই নয় । আমাকে স্মরণ করো, তাহলেই তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। একদা তুমি তো পবিত্রই ছিলে, কিন্তু রাবণই তোমাকে এরকম পতিত বানিয়েছে। আমি আবার তোমাদেরকে পবিত্র বানাতে এসেছি। আর অল্প কিছু সময়ে পরেই হানাহানি, বোমাবাজি, ইত্যাদি শুরু হলে বুঝবে যে এটাই সেই মহাভারতের যুদ্ধ শুরু। তখন ভাববে ভগবান নিশ্চয়ই আছেন। কিন্তু অন্যেরা সবাই এটাই জানে যে গীতার ভগবান কৃষ্ণ । আমিত্বে ভরা কত ট্যাড়া স্বভাব। এই আমিত্ব যদি না থাকতো তাহলে ভগবানের আসার কি দরকার পরতো। ভক্তি-মার্গকে গোলকধাঁধার খেলা বলা হয়। তাই এখন বাবা বলছেন যে, কেবল মাত্র আমাকেই স্মরণ করো, তাহলেই এই সব ভুল ভ্রান্তি দূর হয়ে সমাপ্ত হবে। ইতিপূর্বে তোমরা নিজেদেরকে দেহ রূপে ভাবতে, এখন তো নিজেকে দেহী রুপে ভাবতে শিখেছো। এই সাবধান বাণী কেবল মাত্র এই বাবাই তোমাদেরকে জানান যে, বাচ্চারা তোমরা দেহী-অভিমানী হও । এখানে তোমরা বাবার সম্মুখে বসে আছো। আর অন্যত্র সেন্টারে তো দিদিরাই বোঝান যে, শিববাবা এমনটা বলেছেন । আর এখানে তো বাবা সরাসরি বলছেন "আমি আত্মাদের কাছে বসেই তাদের সাথেই কথা বলি । তোমরা বাচ্চারা তো বুঝতেই পারছো যে, ব্রহ্মার শরীরের সাহায্যে বাবা আমাদেরকে এ সব বোঝাচ্ছেন । এটা খুবই কল্যাণকারী মেলা। বাবা বলছেন, নিরন্তর আমাকে স্মরণ করো । যেহেতু এই বাবার থেকে তোমাদেরকে স্বর্গেরাজ্যের আশীর্ব্বাদী-বর্সা নিতে হবে । তাই বাবাকে আর স্বর্গকে স্মরণে রাখতে হবে। কোনোও প্রকারের বিকর্ম করা চলবে না । একটা বিকর্ম করলে তা একশো গুন হয়ে যাবে । আর মায়া-ই তো এই বিকর্ম করায়। তাই মায়ার প্রভাবকেই জিততে হবে। মহাবীর হনুমানজীর কথা এই উদ্যেশ্যেই রচিত হয়েছে। তোমাদেরও মহাবীর হনুমান হতে হবে। আমরা সবাই তো এখন বাবার বাচ্চা হয়েই গেছি । তাই মায়ার কাছে হার মানা চলবে না । আর এভাবেই বাবাকে স্মরণ করতে করতে আমরা সতোপ্রধান আর বিকর্মজিত হয়ে যাবো। তা না হতে পারলে তো নিজেদেরই পদ-ভ্রষ্ট হতে হবে ।পুরুষার্থী বাচ্চা যে হয় সে তো নিজের জীবনের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেই। যা কিছুই ঘটুক না কেন, সে কিন্তু সর্বদাই স্মরণের যাত্রায়, অচল, অটল,স্থির থাকবেই থাকবে । বিনাশ তো হতেই হবে । সবার মামা, কাকা, গুরু, গোঁসাই, ইত্যাদি সব কিছুই শেষ হয়ে যায় । সদগুরু (শিববাবা) বলেন যে, আমিই তো তোমাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাবো । মানুষেরা তো ঘোর অন্ধকারে ডুবে আছে, কিন্তু তোমরা জানো যে, এই শিববাবাই আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাবেন । কথায় আছে - কাল সব কিছুই খেয়ে নিল (শেষ করে দিল)। সেখানে আমি (মহাকাল) কিন্তু তোমাদেরকে শান্তিধাম নিয়ে যাই। আত্মা যখন শরীর ছেড়ে চলে যায়, তখন তাকে কাল কিন্তু নিয়ে যায় না, আত্মাকে নিজেকে কেবল বেরিয়ে যেতে হয়। । এখন তো আমি নিজেই এসেছি, তোমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য । বাবা কি বাচ্চাকে মারতে আসতে পারেন ? -অবশ্যই না । তোমাদের এই পুরনো শরীর তো ছাড়তেই হবে । আত্মাকেই তো তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে । এখন তো পাঁচ তত্ত্বই তমোপ্রধান অবস্থায় । এই জন্যই শরীরও সেই রকম হয়েছে । ওখানে (স্বর্গে) সতোপ্রধান তত্ত্ব দ্বারা শরীর তৈরী হয় তাই তা পরিস্কার স্বর্ণালী হয় । বাবা বলেন যে, আমি আবার নতুন করে সত্যযুগী আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম স্থাপন করি । তোমরাই ৮৪ জন্ম ভোগ করেছো। সেখানে তোমরাই নিজের ধর্মকে ভুলে গেছো অথচ অন্যেরা কেউ তাদের নিজের ধর্মকে ভোলেনি । তোমরা এখন জান যে, এই উচ্চ পদস্থ দেবী দেবতা ও ধর্ম কেমন করে এত নীচে হয়েছে । বাবা তো কল্প কল্প ধরেই তোমাদের এ সবই বোঝাচ্ছেন । যা তোমরা আবার অন্যদের বোঝাচ্ছো। এবার তোমাদের সেই ৮৪ জন্মের চক্র পুরো হচ্ছে, বিনাশ যে সম্মুখে উপস্থিত । তাই স্বর্গের মালিক হবার জন্য নিজেকে যোগ্য তৈরী করতে হবে । স্বর্গের মালিক হতে গেলে বাবাকে স্মরণ করতে হবে অবশ্যই। তাই সকাল সকাল উঠে বাবাকে স্মরণ করবে । এই বাবা তো চমৎকার আশ্চর্যের - নিজে থেকেই কেমন আসেন বাচ্চাদের কাছে ! গীতায় তো কৃষ্ণের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তুমি তো এখন জানো যে, এখন তো তুমি সম্মুখে বসে বাবার সাথেই কথা বলছো । এছাড়া অন্য সব তো ভক্তি মার্গের মনগড়া সব শোনা কথা। এখন তো আমরা অাত্মারা বাবার সাথে মিলিত হয়েছি। আত্মাদেরও বাবাকে পাওয়া হয় আর আত্মারা বাবার সাথে খুব প্রেমপুর্বক মিলিত হয় । এখানে সে তো নিরাকার গুপ্ত বাবা, এই জন্যই বাবা সবসময় বলেন শিববাবাকে স্মরণে সর্বদা মিলন করো। অন্য মনুষ্যরা তো কিছুই জানে না । তোমাদের মধ্যে কেউ যদিও বা জানে, আমিত্বে এসে আবার সব ভুলে যাও । আবার সেই দেহ অভিমানে এসে হাজির হও। যদিও প্রতিজ্ঞাও করো,.. বাবা আমি তো আপনারই হয়ে গেছি, মহিলা বা পুরুষ উভয় আত্মাই এই কথা বলে থাকে। মহিলা শরীরে ও পুরুষ শরীরে দুই শরীরই সেই একই কথা বলে, বাবা আমি আপনার হয়ে গেছি । বাবা আমরা আপনার থেকে সম্পূর্ণ আশীর্ব্বাদী বর্সার অধিকার নেবো। পুরোপুরি সম্পূর্ণরূপে আপনার স্মরণেই থাকবো। স্মরণ বিনা আত্মার সেই ময়লা কিছুতেই কাটবে না, তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে পারবো না। সত্যযুগে তোমার দেওয়া অখন্ড অটল, সুখ-শান্তি, সম্পত্তির রাজ্যভোগ, যা একুশ জন্মের জন্য প্রাপ্ত হয়। সেই স্বর্গের রচয়িতা বাবা অবশ্যই নিজের বাচ্চাদেরকে আশীর্ব্বাদী বর্সা (অধিকার) নিশ্চয়ই দেবেন । গানের মধ্যে আছে, মনে করেও চলি, অপার ব্রহ্ম তে থাকা পরমপিতা পরমপিতা পরমাত্মাকে । তিনি তো কল্পে একবারই আসেন । এটাও তো বোঝাবার কথা- তাই না । কিন্তু, কেউই তা বুঝতে চায় না, পরে সেই বুদ্ধির চোখ অবশ্যই খুলবে। একটু বড় লড়াই-যুদ্ধ শুরু হলেই তা বুঝতে পারবে । বাস্তবে এই যজ্ঞের রচনা করা হয়েছে লড়াই লাগবে জেনে । কিন্তু এই যজ্ঞের কারণটা কেউ জানে না । এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ এর রচনা করা হয় বিনাশের প্রাক্কালে । ভক্তি-মার্গের অন্যেরা আবার যজ্ঞের রচনা করেন যাতে করে বিনাশ না হয় । শান্তি বজায় থাকে । কিন্তু এই যজ্ঞ তো অবশ্যই রচিত হতে হবে । তারা তো তা জানে না বিনাশ হবার পর তারপরে কী হবে ? এখন তোমরা বাচ্চারা সম্পূর্ণ বিশ্বের আদি, অন্ত, মধ্য সবটাই জানো । সবারই বেহদ এর জন্ম কাহিনীকেও জানো। কিন্তু এমন কেউই নেই যে, সে বলবে পরমপিতা পরমাত্মার জীবন কাহিনী বলতে পারবে। অথচ সেই পরমাত্মাকেই সবাই স্মরণ করে, ডাকে, তাই না । মুর্হুু মুর্হুু স্মরণ করে আর বলে, ভগবান এই সন্তান দিলেন, এটা করলেন, ওটা করলেন। কেউ কেউ আবার এটাও ভাবে .. যার তা ছিল সে নিয়ে নিয়েছে । এই রকম বুঝদার পুরুষও অনেকে হয় । কত প্রকারেরই মানুষ হয়। এখন তুমি যখন বাবাকে পেয়েছো তো বাবাকেই স্মরণ করতে থাকো। স্মরণের দ্বারা অর্জন করতে পারবে । তাতেই তোমরা বিষ্ণুপুরীর মালিক হতে পারবে । তুমি সত্যযুগের শুরু থেকে কলিযুগের অন্ত অবধি পুরো চক্রটাকেই জেনে গেছো। তোমার বুদ্ধিতে হুবহু তা চিত্রিত হয়ে আছে। যেমনটা বাবার বুদ্ধিতে চিত্রিত আছে -এই জন্যই তো ওনাকে জ্ঞানের সাগর, জ্ঞানদীপ্ত(knowledgefull) বলা হয় । এখন তুমি বাবার থেকে আশীর্ব্বদী-বর্সা (অধিকার) নিচ্ছো। তাই বাচ্চারা তোমাদের এখন অচল, স্থির থাকা দরকার। এরকম যেন না হয় যে, মায়া এসে বার বার দোদুল্যমান করে তুলবে। লজ্জাবতী লতার মতো হয়ো না । বাবাকে স্মরণ না করলে সে নেতিয়ে শুকিয়ে যায় । বর্তমানে তোমরা বাবাকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করছো । সময় যতই নিকটবর্তী হবে , তখন তুমি দেখতে পাবে, তোমাদের পুরুষার্থ সম্পূর্ণ হলো কিনা । অন্তিম সময় যে উপস্থিত । আচ্ছা ! 

মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে (হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি মা-বাবা, বাপদাদার স্মরণে ভালোবাসা আর সুপ্রভাত। রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার : -

১) রুহানি (ঈশ্বরীয়) পাঠের ধারণাকে ধারণ করে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে ও অন্যদেরও তাতে উৎসাহিত করাতে হবে । আপন ঘরে ফিরে যাবার বার্তা সবাইকে জানাতে হবে । এখন থেকে আর কোনো বিকর্ম করা উচিত নয় ।

২) সকালে ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম প্রেম-পূর্বক বাবাকে স্মরণ করতে হবে। ছোট খাটো ব্যাপারে ঝগড়াঝাঁটি বা মন্তব্য করবে না । নিজের স্থিতিকে অচল, অটল বানাতে হবে ।

বরদান :- 

মনসা রূপী মহাদানের দ্বারা প্রত্যেকটা সংকল্পের সিদ্ধি প্রাপ্ত করানোর দ্বারা মাস্টার সর্বশক্তিমান ভবঃ (হও)

যে সব বাচ্চারা মনসার দ্বারা শক্তির দান করে তাদের মাষ্টার সর্বশক্তিমানের বরদান প্রাপ্ত হয়। কেননা মনসার দ্বারা শক্তির দান করলে, সংকল্পতে এতই শক্তি জমা হয় যে, তাতে প্রত্যেকটা সংকল্পই সিদ্ধি লাভ করে। তারা নিজের সংকল্পকে এক সেকেন্ডের মধ্যেই যেখানে খুশী সেখানেই লাগাতে পারে, সংকল্প তখন তাদের বশেই থাকে। আর ঐ সব বাচ্চারা তাদের সংকল্পে জয়ী হবার জন্য, যাদের চঞ্চল সংকল্প হয়, তাদের কিছু সময়ের জন্য অচল এবং শান্ত বানিয়ে রাখতে পারে ।

শ্লোগান :- 

নিরন্তর এক বাবার সঙ্গে যদি থাকো, তাহলে সঙ্গদোষ থেকে বাঁচতে পারবে ।



***OM SHANTI***

Google+ Followers