BK Murli 25 July 2016 Bengali

BK Murli 25 July 2016 Bengali

 ২৫-০৭-১৬            প্রাত: মুরলী          ওম্ শান্তি             "বাপদাদা"             মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের দুঃখের দিন শেষ হয়েছে, এখন তোমাদের নতুন দুনিয়ায় যেতে হবে, তাই তোমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া সমস্ত পুরোনো ঘটনাকে ভুলে যাও l"

প্রশ্ন :- 

তোমাদের কর্মযোগী বাচ্চাদের কোন্ অভ্যাস নিরন্তর করা উচিত ?

উত্তর :- 

যখনই শরীর নির্বাহের প্রয়োজন হবে তখনই দেহে অবতরিত হও , আবার জাগতিক কর্তব্য সমাধা হলে দেহী অভিমানী স্থিতিতে স্থিত হও l দেহের স্মৃতি ছাড়া তো কোনো কর্মই করা যাবে না, তাই কর্ম করার জন্য দেহ - অভিমানী হও, আবার কর্ম শেষ হলে ততক্ষণাতৎ দেহী-অভিমানীর স্থিতাবস্থায় ফিরে যাও l এই অভ্যাস তোমরা বাচ্চারা ছাড়া এই দুনিয়াতে কেউই করতে পারবে না l

গীত ......


সজনীরা এবার জাগো ..........

ওম্ শান্তি l 

রুহানি বাবা বলছেন ....মিষ্টি - মিষ্টি আত্মারা , বাচ্চারা , এই গান শুনেছে l এই গান হলো জ্ঞানের গান l এই গানতো খুবই সুন্দর l তোমরা আত্মারা এখন জাগ্রত হয়েছ l এই বিশ্ব নাটকের রহস্যকেও তোমরা এখন জেনে গেছ l ভক্তি মার্গের মজা তো তোমরা দেখেই নিয়েছ l যা কিছু ভক্তিমার্গে ঘটে গেছে সবই এখন তোমাদের বুদ্ধিতে পরিষ্কার হয়ে গেছে l তোমরা এখন তোমাদের ৮৪ জন্মের ইতিহাস জেনেছ l বাবা তোমাদের ৮৪ জন্মের ইতিহাস জানিয়েছেন l নতুন দুনিয়ার জন্য এ সবই নতুন কথা l বাবার কাছেই তোমরা এই নতুন কথা শুনেছ l শিববাবা তোমাদের বাচ্চাদের ধৈর্য্য ধরতে বলেন l তিনি বলেন ....বাচ্চারা, এখন নতুন দুনিয়াতে যেতে গেলে পুরোনো সমস্ত কথা ভুলে যাও l ভক্তিমার্গের যে সমস্ত বেদ শাস্ত্র, পুরান ইত্যাদি আছে, এই সকলই একদিন শেষ হয়ে যাবে l নতুন দুনিয়ায় ভক্তিমার্গের কোনো চিহ্নই থাকবে না l ওখানে তো ভক্তির প্রারব্ধ ভোগ করে l বাবা এসেই ভক্তদের এই ফল প্রদান করেন l বাচ্চারা এখন জেনেছে যে বাবা কেমনভাবে ভক্তদের ভক্তির ফল দেন, ভক্তিমার্গে যে যতো বেশী ভক্তি করেছে, সে ফলও ততো ভালো পেয়েছে l জ্ঞানের পুরুষার্থও সে বেশী করে l তোমরা জানো যে তোমরা আত্মারা অনেক বেশী ভক্তি করেছিলে l যারা বেশী ভক্তি করেছে তারাই জ্ঞানের পথে তীব্র গতিতে এগিয়ে যায় এবং লক্ষ্মী নারায়ণের মতো উঁচু পদ পায় l এখন তোমরা পুরুষার্থ করছ জ্ঞান আর যোগের দ্বারা l সময় অনুসারে তোমাদের দেহ-অভিমানী আর দেহী-অভিমানী দুই-ই হতে হবে l সমস্ত কর্ম করাকালীন এক শিববাবাকেই স্মরণ করতে হবে l দেহ ছাড়া তোমরা তো কোনো কর্মই করতে পারবে না l এই কথা তো ঠিক যে বাবাকে স্মরণ করতেই হবে, কিন্তু নিজেকে আত্মা মনে করে দেহকে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে তাহলে হবে না কারণ এই দেহের সাহায্যেই কর্ম করতে হবে l বাবার স্মরণ করলে তোমরা অনেক আনন্দ পাবে l উঠতে, বসতে, চলতে, ফিরতে যেমন বাবাকে স্মরণ করতে হবে ঠিক তেমনই শরীর নির্বাহের জন্য খাদ্যও গ্রহন করতে হবে l আবার তোমাদের দেহী অভিমানী স্থিতিতেও থাকতে হবে lতোমরা বাচ্চারা ছাড়া এখন দেহী - অভিমানী স্থিতিতে কেউই নেই l দুনিয়ার মানুষ যদিও বা নিজেদের আত্মা ভাবে কিন্তু পরমাত্মার পরিচয় কেউই জানে না l যদিও বা তারা বোঝে যে আমরা আত্মা, আমরা অবিনাশী কিন্তু আমাদের এই শরীর বিনাশী , তবুও এইটুক বুঝলেও কোনো বিকর্ম বিনাশ হবে না l কথায় আছে পূণ্য আত্মা আর পতিত আত্মা l আমি আত্মা আর এই হলো আমার শরীর এ তো খুবই সাধারণ কথা l আসল কথা হলো তোমরা বাবাকে স্মরণ করো l শরীর নির্বাহের জন্য তোমাদের দেহ - অভিমানে তো আসতেই হবে l এই দেহকে খাদ্যও দিতে হবে l দেহ ছাড়া তো কিছুই হবে না l প্রতি জন্মে তোমরা শরীর নির্বাহ করেই এসেছো, তাই কর্ম করতে করতে তোমাদের প্রিয়তম বাবাকে স্মরণ করতে হবে l এই প্রিয়তমকে সঠিকভাবে কেউই জানে না l এই প্রিয়তম বাবার থেকেই তোমরা বর্ষা বা সম্পত্তি পাও আর সেই বাবাকে স্মরণ করলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয় এই কথা কেউই বোঝে না l তোমরা বাচ্চারা এখন এই নতুন কথা শুনছ l তোমরা জানো যে আমরা এখন ঘরে ফিরে যাওয়ার পথ পেয়েছি l আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে তারপরে আবার নতুন রাজধানীতে আসব l বাবা যখন নতুন রাজধানী স্থাপন করছেন তখন তোমাদের তো ওখানে যাবার আগ্রহ অবশ্যই হচ্ছে l এখন তোমরা যে পথ পেয়েছ তা দুনিয়ার অন্য কোনও মানুষর জানেই না l যতই জপ, তপস্যা ইত্যাদি করুক ওইভাবে সদ্গতি পাওয়া যায় না l এই পদ্ধতিতে এই দুনিয়া থেকে স্বর্গ রাজ্যের পবিত্র দুনিয়াতে যাওয়া সম্ভব নয় l এও তোমাদের বোঝা দরকার l শাস্ত্রে এর হিসাব লাখ বছরের লিখে দিয়েছে, তাই এই বিষয়ে মানুষের বুদ্ধি কাজ করে না l তোমরা ভালোভাবে বুঝতে পারো, এতো বলতে গেলে প্রায় কালকের কথা l ভারতেই স্বর্গ রাজ্য ছিলো আর তোমরাই ছিলে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের মানুষ l দেবী দেবতা ধর্ম খুবই সুখ প্রদানকারী l ভারতের মতো সুখ আর অন্য কোনো দেশের মানুষ পাবে না l যতই তারা চেষ্টা করুক l অন্য কোনো ধর্মের মানুষ তো স্বর্গে যেতেই পারবে না l তোমাদের মতো সুখী আর কেউই হবে না l যতোই চেষ্টা করুক l প্রচুর অর্থ খরচ করলেও স্বর্গ সুখ পাওয়া সম্ভব নয় l কারোর যদি অর্থ থাকে সে আবার সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নাও হতে পারে l আবার কারোর সুন্দর স্বাস্থ্য থাকলেও অর্থ নাও থাকতে পারে l এ হলো দুঃখের দুনিয়া, তাই বাবা এখন বলেন যে, আত্মারা এবার জাগো......তোমাদের এখন জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন মিলেছে l তোমরা এখন জাগ্রত হয়েছ l তোমাদের এখন এই দুনিয়ার ইতিহাস নখদর্পণে l বাবাই হলেন এই সবকিছুর জানানহার l এর মানে এই নয় যে বাবা সবার মনের কথাই জানেন l বাবা কত বুঝিয়ে বলেন l কিন্তু কোন মানুষ কতখানি পবিত্র,বাবাকে কতখানি স্মরণ করে, বাবা তা জানেন না l বাবা কেবল এই কথাই বলেন যে, তোমরা আত্মারা তোমাদের পরমপিতা পরমাত্মা বাবাকে স্মরণ করো l এই সৃষ্টি চক্রকেও তোমাদের বুদ্ধিতে রাখতে হবে l দেহী - অভিমানী তো তোমাদের অবশ্যই হতে হবে l দেহ - অভিমানী হওয়ার কারণে আজ তোমাদের এই দুর্গতি l এখন তোমাদের কেবল বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l গৃহস্হ জীবনে থাকলেও তোমাদের কমল ফুলের মতো পবিত্র থাকতে হবে l তোমরাই হলে স্বদর্শন চক্রধারী কারণ দেবতাদের হাতে তো শঙ্খ জাতীয় কিছুই থাকে না l এই জ্ঞান শঙ্খ তোমাদের ব্রাহ্মণদের l শিখ ধর্মের লোকেরা শঙ্খ বাজায় , তাতে অনেক জোরে শব্দ হয় l তোমরাও এখানে জ্ঞান বিতরণ করো l কিন্তু তোমাদের লাউড স্পিকারের প্রয়োজন হয় না l বড় সভাতে লাউড স্পিকার লাগে l কিন্তু তোমরা শিক্ষিকারা যখন পড়াবে তখন তোমাদের লাউড স্পিকারের কিসের প্রয়োজন l এখানে কেবল শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে l তাহলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l তোমাদের শিববাবা হলেন সর্বশক্তিমান l তোমরা লাউড স্পিকার লাগাও যাতে দূরের মানুষ শুনতে আসে l তারাও পরবর্তীকালে কাজে আসবে l তোমাদের এই কথা সবাইকে বলতে হবে যে মৃত্যু সবার শিয়রে l এখন সবার ঘরে ফিরে যাবার সময় হয়েছে l মহাভারতের যুদ্ধও সামনে রয়েছে l গীতাতেও এই কথা লেখা আছে যে মহাভারতের লড়াই হওয়ার ফলেই বিনাশ হয়েছিলো l তারপর কি হয়েছিলো ? পাণ্ডবরাও মৃত্যুবরণ করেছিলো l বাবা তোমাদের বুঝিয়ে বলেন, প্রথমেই যদি বিনাশ হয়ে যায় তাহলে এই ভারত খণ্ড তো খালি হয়ে যাবে l কিন্তু ভারত তো অবিনাশী খণ্ড, তাই সম্পূর্ণ খালি হয় না কখনো l তোমরা তো জানো যে প্রলয় কখনো হয় না l তোমাদের শিববাবা হলেন অবিনাশী, তাই তাঁর জন্মস্থানও অবিনাশী l বাচ্চারা এই ভেবে খুশীতে থাকো যে তোমাদের শিববাবা হলেন সদ্গতিদাতা এবং সুখ শান্তির কর্তা l সকলেই যখন বাবার কাছে আসে, তারা বলে, বাবা, শান্তি চাই l আত্মাদের মনে এতো শান্তির চাহিদা হয় কেন ? কারণ শান্তিধামই হলো আত্মাদের ঘর l কার না নিজের ঘরের কথা স্মরণে আসে ? যদি বিদেশের মাটিতে কারো মৃত্যু হয় তাহলে সকলেই চায় এনাকে নিজের জন্মভূমিতে নিয়ে যাওয়া হোক l সকলে যদি জানতো যে সবার সদ্গতিদাতা , দুঃখের মুক্তিদাতা শিববাবার জন্মভূমি এই ভারত, তাহলে তোমাদের বাবার অনেক মান হতো l তখন সবাই এক শিবকেই ফুল নিবেদন করতো l এখন তো কতজনের উপরই ফুল নিবেদন করা হয় l যিনি সকলকে সুখ শান্তি দেন তাঁর নাম ঠিকানাই হারিয়ে গেছে l যারা বাবাকে খুব ভালোভাবে জানতে পেরেছে, তাঁরাই বাবার থেকে বর্ষা বা সম্পত্তি নেবার পুরুষার্থ করবে l বাবা বলেন যে....আমার নামই হলো দুঃখহর্তা এবং সুখকর্তা l তিনি দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়ে কি করবেন l তোমরা সবাই জানো যে শান্তিধামে সবাই শান্তিতে থাকে, আর সুখধামে সুখে l শান্তিধাম এক জায়গায় আর সুখধাম এক জায়গায় l আর এ তো হলো দুঃখধাম l এখানে এখন সকলেই দুঃখে রয়েছে l এখন তোমরা জানো যে, তোমরা কিভাবে সেই সুখের দুনিয়ায় যাও যেখানে ২১ জন্মের জন্য তোমাদের কোনো দুঃখই থাকে না l ওই দুনিয়ার নামই হলো সুখধাম l কতো মিষ্টি এই নাম l বাবা বলেন যে, তিনি তোমাদের কোনো ধরনের পরিশ্রমই করান না l কেবলমাত্র তোমরা তোমাদের বাবা আর তাঁর বর্ষা বা সম্পত্তিকে স্মরণ করো l আর নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো l এই জ্ঞানই এখন তোমাদের বাবা শেখাচ্ছেন l সত্যযুগে এই জ্ঞান তোমাদের-আত্মাদের থাকবে যে, আমরা আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে দ্বিতীয় শরীর ধারণ বা দ্বিতীয় জন্মগ্রহণ করছি l এই স্থিতিকেই আত্ম - অভিমানী বলা হয় l এ হলো আত্মার জ্ঞান যা আর কেউই তোমাদের দিতে পারে না l আত্মাদের, আত্মার বাবা এসেই এই জ্ঞান দেন l তিনি এই জ্ঞান প্রতি ৫০০০ বছর অন্তর এসে দেন l এই দুনিয়ার মানুষ তো ঘোর অন্ধকারে রয়েছে l তোমরা এখন জ্ঞানের আলো পেয়েছো, তাই অজ্ঞানের ঘুম থেকে জেগে উঠেছো l তোমাদের সব সজনীদের একই সাজন ......এক শিববাবা l বাবা বলেন যে .....আমি তোমাদের বাবাও, সাজনও আবার গুরুদেরও গুরু l আমি হলাম তোমাদের সুপ্রীম শিক্ষক l সর্বগুরুর সদ্গতিদাতা আমি হলাম এক সত্গুরু l আমি বলি, বাচ্চারা, আমি তোমাদের সবার সদ্গতি করি l গতির পরেই তোমাদের সদ্গতি হয় l বাবা তোমাদের বুঝিয়ে বলেন যে, প্রত্যেকটি আত্মাকেই ঘরে ফিরে যেতে হবে l আত্মাই সতোপ্রধান থেকে সতো, রজ এবং তমো এই ধাপগুলি অতিক্রম করে l অনেক আত্মার খুবই অল্প পার্ট থাকে l তারা আসে আর যায় l যেমনভাবে মশারা জন্মায় আর মরে l এরা বাবার থেকে বর্ষা বা সম্পত্তি নেয় না l বাবার থেকে আত্মারা পবিত্রতা, সুখ এবং শান্তির বর্ষা বা সম্পত্তি গ্রহণ করে l নিরাকার বাবা তোমাদের আত্মাদের বুঝিয়ে বলেন l ব্রহ্মাবাবার মুখের মাধ্যমেই তিনি বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন l এই পৃথিবীতে শিববাবার মন্দির কতো উঁচু বানানো হয় l সবাই তীর্থ করার জন্য কতো দূরে যায় l এতো খরচা করে কিন্তু জ্ঞান অমৃত পান করার জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেই l এই তীর্থযাত্রী দের জন্য সরকারকে কতো ব্যবস্থা করতে হয় l কতো পরিশ্রমও হয় l মানুষ এই তীর্থস্থানে ছোটো বাচ্চাদের কেমন করেই বা নিয়ে যাবে ? বাচ্চাদের কারোর কাছে রেখেই তারা যায় l সাথে করে নিয়ে যায় না l দু, তিন মাসের তীর্থযাত্রা তারা করে l এখানে কিন্তু তোমরা এসে এই কথা শান্তিতে শোনো l ছোটো বাচ্চারা তো এই কথা শুনবে না l তোমরা এখানে যোগ আর জ্ঞান শেখার জন্য আসো l বাবা যখন তোমাদের এই জ্ঞানের কথা শোনান তখন কোনো আওয়াজ করা উচিত নয় l আওয়াজ হলে তোমাদের মন সেই দিকে চলে যায় l যোগ তো খুবই সহজ l তোমরা যে কাজই করো, তোমাদের বুদ্ধির যোগ যেন বাবার সঙ্গে জুড়ে থাকে l বাবার স্মরণে থেকেই তোমাদের নিজের হাতে ভোজনও তৈরী করতে হবে l তোমরা হাতে বিভিন্ন কাজ করো, কিন্তু স্মরণ একমাত্র বাবাকেই করো l এতে তোমাদেরও কল্যাণ হবে আর বাবার স্মরণে থাকার ফলে তোমাদের হাতের তৈরি খাবারও খুব সুস্বাদু হবে l তোমরা শিববাবার থেকে এই বিশ্বের বাদশাহীর অধিকারী হও l লক্ষ্মী - নারায়ণ হওয়ার জন্যই তোমরা এখানে আসো l সবাই বলে যে তোমরা সূর্য্যবংশীয় রাজা হবে l তোমরা সকলেই জানো যে তোমাদের মাম্মা - বাবা এই সময় ব্রহ্মা আর সরস্বতী l এনারাই পরবর্তী জন্মে লক্ষ্মী আর নারায়ণ হবেন l আর বাকী সবাই ভবিষ্যতে কি জন্ম নেবে সেই খবর কেউ জানে না l যেমন, নেহেরু পরবর্তী জন্মে কি হবেন সেই খবরও কেউই জানে না l যদি কেউ ভাল দান ধ্যান করে তাহলে তারা ভালো বংশে জন্ম নেয় এখন তোমরা সবই জানো l এখন এনাদের নাম হলো আদিদেব ব্রহ্মা আর আদিদেবী সরস্বতী l এরাই পরবর্তীকালে স্বর্গের মালিক হবেন l এঁদের বাচ্চারাও এঁদের সাথে থাকবে l তারাও বলবে যে আমরাও স্বর্গের মালিক হবো l এ তো সব ঠিকই হয়ে আছে l সুক্ষ্মবতন থেকেও তোমরা দেখো - দেব, দেবীর মন্দিরের সামনেও অনেক মেলা বসে l কিন্তু জগদম্বা তো একজনই l তাঁর ছবিও একটাই হওয়া চাই l তোমরা মাম্মাকেও দেখো l তোমাদের বাচ্চাদেরও অনেক ছবি আছে l যার নাম রাখা হয়েছে ....অধর কুমারী l তোমরা জানো যে এই অধর কুমারী তোমরাই হও l তোমরা সবাই হলে ব্রহ্মা কুমার, কুমারী l যারা যুগল অর্থাত্ স্বামী - স্ত্রী হয়, তারাও বলে যে ........আমরাও ব্রহ্মাকুমার, কুমারী l তোমাদেরই পরে স্মরণ হয় l বরাবর তোমরাই এই জ্ঞান সবাইকে দিয়ে আসছো, যার নমুনা অর্থসহিত দিলওয়ারা মন্দিরে দেখানো হয়েছে l এই সমস্তকিছু তোমরাই বুঝিয়ে বলতে পারো l তোমরা জানো যে, তোমরা এখন এই সত্যযুগের স্থাপন কার্য করছো, এই রাজযোগের সাহায্যে বাবার শ্রীমতে চলে এই ভারতকে স্বর্গ বানানোর কাজ করছো l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি / সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

1) জ্ঞান এবং যোগের উপর পুরো মনোযোগ দাও l শোনার সময় খুবই শান্ত এবং একাগ্রচিত্ত হয়ে বসো l তোমাদের কর্মযোগীও হতে হবে l

2) বাবা তোমাদের যে ঘর বা পরমধামের পথ দেখিয়েছেন, তা সবাইকে জানাতে হবে l স্বদর্শন চক্রধারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান শঙ্খও তোমাদেরই বাজাতে হবে l

বরদান :- 

সমস্ত দায়িত্ব সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে আকারী আর নিরাকারী স্থিতির অভ্যাসের দ্বারা সাক্ষাত্কারমূর্ত হও l

যেভাবে ব্রহ্মাবাবা সাকার রূপে থেকে এতোবড় দায়িত্ব সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে আকারী আর নিরাকারী স্থিতির অনুভব করাতেন, এমনভাবে তোমরাও বাবাকে অনুসরণ করো l সাকার রূপে সবাইকে ফরিস্তার অনুভূতি করাও l কেউ যদি তোমাদেরই সামনে অশান্ত, অস্থির আর ভয় পেয়ে আসে, তোমাদেরই একটি দৃষ্টি, বৃত্তি আর স্মৃতির শক্তি যেন তাদের পুরোপুরি শান্ত করে দেয় l তারা ব্যক্ত ভাবে আসবে আর তোমাদের থেকে অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করবে, তখনই তোমাদেরই সাক্ষাত্কারমূর্ত বলা হবে l

স্লোগান :- 

যাদের মধ্যে সত্যিকারের দয়া আর ক্ষমাভাব থাকে তাদের দেহ বা দেহ - অভিমানের কোনো আকর্ষণ থাকে না l



***OM SHANTI***

Google+ Followers