BK Murli 6 July 2016 Bengali

BK Murli 6 July 2016 Bengali

 ০৬-০৭-১৬ প্রাতঃ মুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন।


"মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - একমাত্র তোমরাই বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের এই অবিনাশী নাটকের আদি-মধ্য-অন্তকে জানতে পারো, যেহেতু বাবার প্রদত্ত জ্ঞানের দ্বারা তোমারা তৃতীয়-নেত্র (দিব্য-দৃষ্টি) পাও, এর ফলস্বরূপ তোমরা আস্তিক (ঈশ্বরে বিশ্বাসী) হও।

প্রশ্ন :- 

কি এরকম উপাধি বা পদবী ধর্ম-স্থাপকদের দেন না বাবা?

উত্তর :- 

বাবা হলেন স্বয়ং সদ্গুরু। কোনো ধর্ম-স্থাপককেই কিন্তু গুরু বলা যায় না। যেহেতু, গুরু তাকেই বলা যায় - যিনি তার শিষ্যদের দুঃখের মোচন করিয়ে সুখের মধ্যে এনে দেয়। যারা ধর্ম-স্থাপন করে, তাদের পিছনে তো অনেক ধর্মের আত্মারা অসীমের দুনিয়া থেকে এই জাগতিক দুনিয়ায় আসে, তারা কাউকেই সাথে করে নিয়েও যেতে পারে না। একমাত্র এই বাবা যখন এই ধরায় আসেন, তখনই সব আত্মাকে তাদের নিজের ঘর পরমধামে নিয়ে যান। সে কারনেই তো উঁনি সকলেরই সদ্গুরু।

গীত : 

ইস্ পাপ কী দুনিয়া সে লে চল্ ঔর কঁহী ... ...
(এই পাপের জগৎ থেকে নিয়ে চলো অন্য কোথাও ... ...)

মিষ্টি মিষ্টি ঈশ্বরীয় বাচ্চারা, তোমরা এই গীতের ছত্রের মাধ্যমেই তো বুঝতে পারছো- বর্তমানের এই দুনিয়াটা কি রকম পাপের দুনিয়ায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ বুঝতেই পারছো, এটা পাপী আত্মাদের দুনিয়া। কতই না খারাপ লাগে তা শুনতে। কিন্তু মানুষ তা বুঝতেই পারে না, বাস্তবে এটা কত বেশী সংখ্যক পাপ আত্মাদের দুনিয়া হয়ে পড়েছে। সে হিসাবে অবশ্যই কখনও এটা পুণ্য- আত্মাদের দুনিয়াই ছিল। যাকে স্বর্গ বলা হত। আর পাপী আত্মাদের দুনিয়াকে বলা হতো নরক। একমাত্র এই ভারতেই সেই স্বর্গ ও নরকের বিষয়ে কত আলোচনা হয়। যেমন- মানুষ মরে গেলেই বলা হয় - স্বর্গবাসী হলো। এর দ্বারাই তো প্রমাণ হয়, সে নরকবাসী ছিল। বর্তমানের এই পতিত দুনিয়া থেকে তার আত্মা পবিত্র দুনিয়ায় গেল। অথচ, মানুষের তো এই কথাটার সামান্য সেই বোধটুকুও নেই, - তাই যা মনে আসে তাই বলে। অথচ তার যথার্থ অর্থটার কোনো ধারণাই নেই। তাই এখন এই বাবা এসে তোমাদের সেই শান্তনাই দেন যে, -আর একটু ধৈর্য ধরো বাচ্চারা। যেহেতু পাপের বোঝার ভারে, বর্তমানে তোমাদের এতই কাহিল অবস্থা। তাই এখন তোমাদেরকে পুণ্য-আত্মা বানিয়ে সেই দুনিয়ায় নিয়ে যাবো, যাকে বলা হয়- 'স্বর্গ।' যেখানে পাপের নাম-গন্ধও নেই, আর না তো কেউ দুঃখী অবস্থায় থাকে। বাচ্চারা সবাই সেখানে একত্রে মিলেমিশে ধীর স্বভাবের হয়ে বসবাস করে। যদিও বর্তমানে তোমরা এই জাগতিক দুনিয়ায় রয়েছো, কিন্তু আগামীতে তোমরাই শান্তিধাম ও সুখধামে যাবে। যে রকম, অসুস্থ মানুষ একটু সুস্থ বোধ করলে, ডাক্তার আস্বাস বাণী শোনায় - অতি শ্রীঘ্রই তুমি এবার একেবারেই ভাল হয়ে যাবে। আর, এই ধৈর্য্য ধরার প্রতিশ্রুতি-বাণী সেই অসীমের বাবার। অসীম বেহদের বাবা আরও বলেন, তোমরা তো পতিত হয়ে কতই না দুঃখী হয়ে পড়েছো - তাই তো এখন তোমাদেরকে আস্তিক (ঈশ্বরে বিশ্বাসী) বানাতে হচ্ছে। এরপর এই সৃষ্টি-রচনার পরিচয়ও পাবে। ঋষি-মুনীরাও তো স্বীকার করেই থাকে যে, তারাও সেই রচয়িতা আর তার রচনাকে জানতেই পারে না। আচ্ছা, তবে তা কে জানে ? কবে, কখন বা কার দ্বারাই বা তা জানা যায় ? - এ সব কিন্তু কারোরই জানা নেই। এই বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের নাটকের চিত্রপটের আদি-মধ্য-অন্তকে তো কেউই জানে না। তাই বাবা জানান- "আমি এই সঙ্গমযুগে এসেই, নাটকের চিত্রপট অনুসারে তোমাদেরকে প্রথমে আস্তিক হবার ধারনা দেই, আর তা ধারনের পর তোমাদের এই সৃষ্টি রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য উদ্ঘাটন করি, -যে জ্ঞানের দ্বারা তোমাদের তৃতীয় নেত্র উন্মেলিত হয়। আর তোমরা তোমাদের জীবনে আলোর দিশা পাও।" যেমন চোখের দৃষ্টি চলে গেলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায় - সে রকম বর্তমান জগতের মানুষেদেরও জ্ঞানের তৃতীয় নেত্রের প্রকাশ নেই । তাই তো তারা মনুষ্য রূপধারী হয়েও, সেই বাবাকে আর তাঁর রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে জানেই না - তাই তো নির্বুদ্ধি বা বুদ্ধিহীনই বলা উচিত হবে। এটা তো কথিত আছে, - এক যে ছিল অন্ধ, সে আবার ছিল আর এক অন্ধেরই বাচ্চা। (অর্থাৎ চির দুঃখের অন্ধকারে যে নিমজ্জিত) আর অপরজন, সে রঙ্গীন সাজ-পোষাকে সেজে-গুঁজে, নাচতেই থাকে। (সর্বদাই খুশীর আনন্দে বিভোর) -সেই প্রকারেই একদিকে যেমন মহাভারতের লড়াই-এ লোকেদের ত্রাহি-ত্রাহি অবস্থা হয় - অপরদিকে তেমনি আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা কার্যও চলে। আর সে উদ্যেশেই বাবা আসেন, আত্মাদের রাজযোগ শেখাতে ও সত্যযুগীয় স্বরাজ্য প্রদান করতে। আত্মারাই তো এ সব বলে থাকে যে, আমি রাজা, আমি ব্যারিস্টার ইত্যাদি, ইত্যাদি। আর তোমাদের আত্মারাও এখন তা উপলব্ধি করতে পারছে যে - আমরাই আবার বিশ্বের স্বরাজ্য পেতে চলেছি - বিশ্বের রচয়িতা সেই বাবার দ্বারা। কিন্তু উনি কি ধরনের বিশ্বের রচয়িতা ? -- একেবারে নতুন দুনিয়ার! বাবার রচনাই তো নব-সৃষ্টি! যেহেতু উনি সৃষ্টি-কর্তা, তাই সম্পূর্ণ সৃষ্টির সব জ্ঞানই ওনার জ্ঞানে। সমস্ত বিশ্ব-জগতের এই ইতিহাস, অন্যেরা কেউ-ই আর তা জানে না। যেহেতু কারোও সেই তৃতীয় নেত্রের দিব্য জ্ঞানই যে নেই। একমাত্র এই বাবা ভিন্ন অন্য কেউই সেই তৃতীয় নেত্রের জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। বিশ্ব-জগতের ইতিহাস, ভূগোল, মূলবতন, সূক্ষ্মবতন, স্থূলবতন .......... এ সব তো কেবলমাত্র এখনই তোমরা জানতে পারছো। এই মূলবতনই আত্মাদের স্থায়ী বসবাসের স্থান। কিন্তু জাগতিক সন্ন্যাসীরা বলে থাকে যে, আমাদের (আত্মারা) ব্রহ্মে লীন (মিশে গিয়ে বিলীন) হয়ে যায় বা জ্যোতিরাত্মা জ্যোতিষ্কালোকের মধ্যে ঢুকে যায়। এসব কিন্তু আদৌ তা নয়। তোমরা তো জেনেই গেছো, তোমরা ব্রহ্ম-তত্ত্বে পৌঁছে সেখানেই বাস করো। ঐ শান্তিধামই তোমাদের ঘর। অন্যেরা তো ব্রহ্মকেই ভগবান বলে -সত্যি ধারনার কতই না পার্থক্য। ব্রহ্ম তো একটা তত্ত্ব বা লোক মাত্র। যেমন আকাশকে তত্ত্ব বলা হয়- ব্রহ্মও সেরূপ একটা তত্ত্ব মাত্র। কিন্তু যেখানে আমরা আত্মারা আর পরমাত্মা নিবাস করি - তাকে তো "সুইট-হোম্" (শান্তি-ধাম) বলা হয়। সেটাই আত্মাদের বাসস্থান। তোমাদের তো এই ধারণা হয়েই গেছে, ব্রহ্মতত্ত্বে গিয়ে আত্মারা লীন হয়ে যায় না এবং এই আত্মারা কখনই বিনাশ প্রাপ্ত (ক্ষয়) হয় না। যেহেতু আত্মারা অবিনাশী। আর বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের এই নাটকও অনিনাশী। কত বিশাল সংখ্যক অভিনয়কারীর সমাবেশে তৈরী হয়েছে এই অবিনাশী নাটকের চিত্রপট। বর্তমানের সঙ্গমযুগের অধ্যায় চলছে এই নাটকে, সেই অনুযায়ী তার সব অভিনয়কারীরাও হাজির এই বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চে। নাটকের সমাপ্তিতে রঙ্গমঞ্চে সব অভিনয়কারীরাই আর তার রচনাকার - এরা হাজির হয়। বর্তমানের এই সময়েই বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের নাটকের সমাপ্তির পর -পুনরায় তা পুনরাবৃত্তি হবে। এই জাগতিক দুনিয়ার নাটকের চিত্রপটের পরিবর্তন হয় যখন তা পুরোনো হয়, কিন্তু অসীমের নাটকের এই চিত্রপট যেমন অনাদি তেমনি অবিনাশী। তাই তো এই বাবা তোমাদেরকে ত্রিকালদর্শী-ত্রিনেত্রীর ধারণা ধারণ করান। দেবতারাও কেউ ত্রিকালদর্শী হতে পারেন না- আর না হতে পারে শূদ্র-বর্ণের কেউ। একমাত্র তোমরা ব্রাহ্মণ-বর্ণের বাচ্চারাই ত্রিকালদর্শী হও। যতক্ষণ পর্যন্ত্য ব্রাহ্মণ না হতে পারো, ততক্ষণ পর্যন্ত্য তোমাদের জ্ঞান-নেত্রের উন্মোচন হয় না। তোমরা সৃষ্টিরূপী কল্প-বৃক্ষে-ঝাড়ের আদি-মধ্য-অন্তকে এবং সব ধর্মেরই উৎপত্তিকে জানো। এই জ্ঞানের দ্বারাই তোমরাও মাস্টার নলেজফুল হও। নাবা তো তার বাচ্চাদেরকে সৌভাতৃত্ববোধ ও মিষ্ট স্বভাবের চরিত্রের তৈরী-ই করবেন। এইসব জ্ঞানের সাগর তো একমাত্র এই একজনই বাবা (পরমাত্মা), যিনি সব আত্মারই বাবা। তিনি তার সব বাচ্চাদেরকে আস্তিক (ঈশ্বরে বিশ্বাসী) বানিয়ে ত্রিকালদর্শীতে পরিনত করেন। এখন তোমরা বাচ্চারা সবাইকেই তা প্রচার করে জানাও যে, শিববাবা স্বয়ং এই ধরায় অবতীর্ণ হয়েছেন, অতএব সবাই তাঁকে স্মরণ করো। যারা আস্তিকে পরিণত হয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়, তারাই প্রেমের সাথে মনে-প্রাণে স্মরণ করে বাবাকে। বাবারও প্রাণ-ভরা ভালবাসা থাকে তোমাদের উপর। তোমাদেরকেই উনি স্বর্গের বর্সার আশীর্ব্বাদ প্রদান করেন। এ কথার প্রচলন তো আছেই, বিনাশের পূর্বে বিপরীত বুদ্ধিধারীরা বিনাশ প্রাপ্ত হয়, আর প্রীত বুদ্ধিধারীরা বিজয়-কেতন ওড়ায়। গীতাতেজ এই ধরণের কিছু কিছু বাস্তব কথা লেখা আছে। শ্রীমদ্-ভাগবৎ গীতাই হলো সর্বত্তোম শাস্ত্র। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের শাস্ত্র। তাতে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে, মুখ্য প্রধান ধর্ম-শাস্ত্র চার প্রকারের। বাকী অন্য ধর্মের যারা প্রকট হয়-তাদের কেবলমাত্র উদ্দেশ্য থাকে, নিজেদের ধর্মের স্থাপনা করা। সেক্ষেত্রে রাজ্য স্থাপন বা রাজত্বর কোনও ব্যাপার থাকে না। যাদেরকে সেভাবে গুরুও বলা যায় না। যেহেতু গুরুর প্রধান কর্তব্যই হলো, নিজের সাথে বাচ্চাদেরকেও তাদের প্রকৃত ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। ইব্রাহিম, বুদ্ধ, যীশুখ্রীষ্ট এরা ধরায় জন্মগ্রহণ করে, আর তার পিছনে পিছনে তাদের বংশাবলীরাও সব আসতে থাকে। কিন্তু, প্রকৃত গুরু তো সে, যিনি তার সন্তানদের দুঃখ মোচন করে, সুখের দিশায় নিয়ে যায়। তারা তো শুধুমাত্র ধর্ম স্থাপন করতেই আসে। কিন্তু, এই সমাজে তো অনেককেই গুরুর পদে আসীন করা হয়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরকেও কিন্তু গুরু বলা যায় না। একমাত্র শিববাবাই সবার সদ্গতি দাতা। এক রামকেই তো ডাকা হয়। শিববাকেও রাম বলা হয়। কত ভাষাই তো আছে -তাই এ রকম কত নামই তো রাখা হয়। কিন্তু ওনার প্রকৃত নাম হলো শিব। ওনাকেই আবার সোমনাথও বলা হয়। সোমরস পান করানো অর্থাৎ জ্ঞান ধন দান করা। যা প্রকৃত অর্থে কোনও রস বা জলীয় পদার্থের ব্যাপার নয় এটা। বাবা তার বাচ্চাদেরকে সামনে বসিয়ে এই ঈশ্বরীয় পাঠের দ্বারা জ্ঞানী ও স্বর্গ-সুখের মতন পরম সুখের অধিকারী বানাচ্ছেন। এই বাবা যে জ্ঞানের সাগর। তাই তো তোমরা বাচ্চাদেরকে তিনি জ্ঞানের নদীতে পরিনত করেন। সাগর তো একটাই। একটা সাগর থেকেই তো অনেক নদীর উৎপত্তি হয়। আর এই সময়ে তোমরা তার সঙ্গমে রয়েছো। বর্তমানের এই সময়ে সম্পূর্ণ দুনিয়াতেই রাবণের রাজত্ব। শুধুমাত্র একটা লঙ্কা দেশই নয় -সম্পূর্ণ পৃথিবীটাই রাবণের রাজ্য। আবার রামরাজ্যে, তখন অনেক কম সংখ্যক মানুষই থাকে। এ সব এখন শুধুমাত্র তোমরাই নিজেদের বুদ্ধি দিয়েই তা বিচার করতে পারো। বাবা জানাচ্ছেন, উনি তিনটে ধর্মের স্থাপনা করেন। ব্রাহ্মণ-দেবতা-ক্ষত্রিয়। এরপর বৈশ্য ও শূদ্র বর্ণের সময় অন্যেরা সবাই এসে যে যার নিজের নিজের ধর্ম স্থাপন করে। আর তা স্থাপিত করে, অনেক ধর্মের বিনাশ সাধন করে। ভারতে যে ত্রিমূর্তির চিত্র তৈরী করা হয়, সেখানে শিবের চিত্রকেই বাদ দিয়ে দেখানো হয়েছে। অথচ, শিবের দ্বারাই তো জানা যায় ও প্রমাণ হয় যে, পরমপিতা পরমাত্মা শিব- ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা, বিষ্ণু দ্বারা পালনা কার্য করিয়ে থাকেন। তাই তো ওনাকে 'করনকরাবনহার' বলা হয়। অর্থাৎ সব কিছু তারই ইচ্ছানুসারে সাধিত হয়। যদিও উনি নিজেও কর্মের সাথেই যুক্ত থাকেন, আবার তোমরা বাচ্চাদেরকেও তাই শেখান। কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি (পরিণতি) -কেও সেভাবেই বোঝান। এই রাবণ রাজ্যে তোমরা যা কিছুই কর্ম করো না কেন, সেগুলি সব বিকর্মেই পরিণত হয়। আবার সত্যযুগে যে সব কর্ম করো- সেগুলি অকর্ম হয়ে যায়। বর্তমানের রাবণ রাজ্যে তো বিকর্মই হবে। আর সত্যযুগে তো ৫ বিকার থাকেই না। এই সব ব্যাপারগুলির প্রত্যেক একটাকেই ভাল করে বুঝতে হবে, যা আবার মূহুর্তেই বোঝাতে হবে অন্যদেরকে। জাগতিক লোকেরা ওঁম্-কে কতই না বিস্তারে বুঝিয়ে থাকে, বাবা কত সহজ ভাবে তা বোঝান - ওঁম্ মানে আমি আত্মা আর এটা আমার শরীর। যা এতই সহজ কথা। তোমরা তো জানোই, তোমাদের যেতে হবে সুখধামেই। কৃষ্ণের মন্দিরকেও সুখধাম বলা হয়, যেহেতু তা কৃষ্ণপুরীর মতনই সুন্দর। মাতারা সেই কৃষ্ণপুরীতে যাবার জন্য কতই না পরিশ্রম করে। তোমদের এখন ভক্তি-মার্গের রীতি-নীতিতে চলতে হয় না। যেহেতু, জ্ঞান-মার্গের জ্ঞানে তোমরা রয়েছো, যা অন্যদের মধ্যে তো সেই জ্ঞানটুকুও নেই। আমিই এসে তোমাদেরকে পবিত্র পাবন বানিয়ে যাই, তোমাদেরকে আবার এই রকম পাপী-পতিত কে বানায় ? -এই প্রশ্নের উত্তর তো কেউ দিতে পারে না। স্ত্রী বা পুরুষ যারাই ভক্তি করে - তারা সবাই সীতা (আত্মা)। তাদের সবারই সদ্গতিদাতা এই বাবা (পরম-আত্মা)। সবাই এখম রাবণের কয়েদে (কারাগারে) বন্দী। তাই তো বর্তমানের দুনিয়াটাই এখন দুঃখধামে পরিনত। বাবা এসেই তোমাদেরকে আবার সুখধামের মালিক বানান। এই বাবাকে কেবলমাত্র তোমরাই দেখতে পাও- প্রতি ৫ হাজার বর্ষ পরে। লক্ষ্মী-নারায়ণের আত্মাও এই সময়কালেই সেই জ্ঞান চয়ন করে। ছোট শিশু বয়সে যার কৃষ্ণ-রূপ, তারপর যখন বড় প্রাপ্ত বয়সের হয়, তখন সেই শরীরের পরিবর্তন হয়। এই ভাবেই একসময় শরীর ত্যাগ করবে। তারপর অন্য শরীর গ্রহনও করবে। জাগতিক অন্যদের কারও এই জ্ঞানটাই যে নেই। বাবা বলছেন, তোমরা সব আত্মারা হলে পার্বতী। আর শিববাবা তোমাদেরকে অমরকথা শোনাচ্ছেন - অমর বানাবার উদ্দেশ্যে, অমরলোকে নিয়ে যাবার জন্য। বর্তমানের এই দুনিয়াটা তো মৃত্যুলোক। পার্বতীরূপী আত্মারা, তোমরা সবাই অমরনাথ (শিব) -এর দ্বারা অমরকথা শুনছো। যদি প্রকৃতই তোমরা তার হও, আর তাকেই (বাবা) স্মরণ করো, তাতে অবশ্যই তোমাদের আত্মা অমরত্ব লাভ করবে। যখন আর কোনও দুঃখের নাম-গন্ধও থাকবে না। সাপেরা যেমন তার পুরোনো খোলস্ পাল্টে তার নতুন (পরিস্কার পোষাক) ছাল ধারণ করে। আমাদের নতুন শরীর ধারণ করার ব্যাপারটাও অনেকটা সেই প্রকার। ভ্রোমরাদের উদাহরণও দেওয়া যেতে পারে। তোমরা ব্রাহ্মণরা যেমনটি করে থাকো - বিকাররূপী পোঁকাগুলিকে ত্যাগ করে দেবতায় পরিণত হও। ভ্রোমরের উদাহরণটা তো একটা দৃষ্টান্ত মাত্র - প্রকৃত অর্থে এটা তো মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারা এখন যে অমর কথা শুনছো, অন্যদের সামনে বসেও সেই জ্ঞানের কথা জানাতে থাকবে। যার দ্বারা তারাই মনুষ্য থেকে দেবতা হয়ে স্বর্গের পরী হতে পারে। কিন্তু এরকম কোনও অর্থ নেই যে, মানসরোবরে ডুব দিলেই কেউ পরী হয়ে যায়। এসবই বাজে কথা মাত্র। এই ধরণের মিথ্যা ধারণার প্রচারই তোমরা শুনে এসেছো এতদিন। কিন্তু এখন বাবা তোমাদেরকে সত্যটা জানাচ্ছেন। বাবা বলছেন, নিজেকে আত্মা রূপে ভাবো। তোমরা এই ধারণাই করবে, নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা এই মুখের (ব্রহ্মার) সাহায্যেই তা জানাচ্ছেন। আর আমরা আমাদের কানের দ্বারা তা শুনছি। এই ভাবেই আত্ম-অভিমানী হতে পারলেই, তারপরেই পরমাত্মাকে অনুধাবন করা যায়। আমি যে কে ? -অন্য কেউই কিন্তু আমাদের সেই আত্ম-অভিমানী ভাবকে এনে দিতে পারে না। একমাত্র বাবা ছাড়া আর কেউই এভাবে আত্ম-অভিমানে ভাবে আসার পদ্ধতি জানাতে পারে না। শিব-জয়ন্তি তো পালন করা হয়। কিন্তু ওনার এ কিসের জয়ন্তি- সেটাই তো জানা নেই তাদের। বাবা এসে নিজেই তা জানান। উনি বলেন- "আমি এই ধরায় অবতরণ করে কোনও এক সাধারণ বৃদ্ধের শরীরে প্রবেশ করি। তা না হলে, ব্রহ্মার আগমন ঘটবে কি প্রকারে। যদিও তা পতিত শরীর। সূক্ষ্মলোকের নিবাসী ব্রহ্মারূপে বিরাজ হয়ে তো আর ব্রাহ্মণ রচনা করা সম্ভব নয়। তাই তো প্রচারিত আছে, আমি পতিত শরীর আর পতিত দুনিয়াতেই অবতীর্ণ হই। আর এটাও তো সবার জানা - ব্রহ্মা দ্বারাই সৃষ্টির স্থাপনা কার্য সাধিত হয়।" এই ব্রহ্মা যাদেরকে স্থাপন করেন, যারাই তার জ্ঞান পেয়ে থাকে- তারাই দেবতায় পরিণত হয়। মনুষ্যরা ব্রহ্মার চিত্র দেখে তো বিমর্ষ হয়ে পড়ে। তারা বলে যে, এটা তো দাদার (লেখরাজের) চিত্র। কিন্তু প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো এই দুনিয়াতেই অবশ্যই কোথাও আছেন। যেহেতু, সূক্ষ্মলোকে বসে তো আর এই দুনিয়াতে প্রজার রচনা চলে না। যেখানে প্রজাপিতার হাজার হাজার ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী বাচ্চারা আছে। তা তো আর মিথ্যা মোটেই নয়। আমরা শিববাবার দ্বারাই সেই আশীর্ব্বাদী বর্সা পেয়ে থাকি। সেটাই তোমাদের বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়, উনিই (শিব) অব্যক্ত ব্রহ্মা। এদিকে প্রজাপিতারও তো সাকার রূপ প্রয়োজন। এই পতিত ব্রহ্মাই তখন পবিত্র-পাবনে পরিণত হন। তৎত্বম্। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি (সিকীলধে) কল্প পূর্বের হারিয়ে পাওয়া হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহসুমন আর সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় বাবা ঈশ্বরীয় বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) আত্ম-অভিমানী হয়ে শ্রবণ-ইন্দ্রিয়, এই কানের দ্বারা, অমরকথা শুনতে হবে। জ্ঞানের বাণী-গুলিকে ভ্রোমরার মতন ভুঁ ভুঁ করে সবাইকে শুনিয়ে, অন্যকেও নিজের মতন বানাবার সেবায় থাকতে হবে।

২) বাবার মতন সম্পূর্ণ জ্ঞানী, সুখদায়ী হতে হবে। সোমরস (জ্ঞানের মধু) নিজেও যেমন পান করতে হবে , তেমনি অন্যদেরকেও তা পান করাতে হবে।

বরদান :- 

'পাশ উইথ অনার’ (সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ) হওয়ার জন্য সবাইকেই সন্তুষ্ট করার পাসপোর্ট (সার্টিফিকেট) প্রাপ্ত করে সন্তুষ্টমণি হও (ভব)।

যে বাচ্চা নিজেই নিজের পুরুষার্থ বা সেবায়, ব্রাহ্মণ পরিবারের সাথে সম্পর্কে, সর্বদা সন্তুষ্ট থাকতে পারে, তাকেই সন্তুষ্টমণি বলা যায়। সব আত্মাদেরই সম্পর্কে থেকেই, আমি নিজে সন্তুষ্ট থেকে, এবং অন্য সবাইকেই সন্তুষ্ট রাখা -এতে যারা বিজয়ী হয়, তারাই বিজয় মালায় স্থান পায়। পাস উইথ অনার হতে গেলে, সবার দিক থেকেই সন্তুষ্টতার পাসপোর্ট অবশ্যই পেতে হবে। এই পাসপোর্ট পেতে গেলে কেবল সহন শক্তি আর তা প্রতিরোধ করার শক্তি ধারণ করো।

স্লোগান :- 

অপরের দুঃখে হয়ে নিরাশ আর ক্লান্ত আত্মাদের সমব্যাথী ও সাহায্যকারী হয়ে সেবা করতে হবে।

***OM SHANTI***

Google+ Followers