BK Murli 10 August 2016 Bengali

BK Murli 10 August 2016 Bengali

 ১০-০৮-১৬         প্রাতঃমুরলী        ওম্ শান্তি         "বাপদাদা"          মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - নিজের কাছে নিজেই প্রতিজ্ঞা করো যে আমাদের অতি মধুর হতে হবে, সকলকে সুখের, স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে, কখনো কারও নাম রূপে আকৃষ্ট হবেনা"

প্রশ্ন :- 

যোগের সিদ্ধি কি ? সত্যকার যোগীর লক্ষণ কি ? শোনাও l

উত্তর :- 

সকল কর্মেন্দ্রীয় একেবারে শান্ত , শীতল হয়ে যাবে - এই হ'লো যোগের সিদ্ধি l বিশেষ যোগী বাচ্চা তাঁরাই , যাঁদের কর্মেন্দ্রীয় সামান্যতমও চঞ্চল হয় না । ক্ষণকালের জন্যও কোন দেহধারীর প্রতি দৃষ্টি যায় না । মিষ্টি বাচ্চারা , এখন আর তোমরা তরুণ নও, তোমাদের এখন বাণপ্রস্থ অবস্থা ।

গীত :- 

জাগো সজনী জাগো ......

ওম্ শান্তি । 

মিষ্টি মিষ্টি রূহানী বাচ্চারা গান শুনলো । এই গানের অর্থেই মনে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে আর খুশীতে থাকতে হবে, কারণ এইসব হলো নতুন দুনিয়ার নতুন কথা । এখন এইসব নতুন কথা শুনতে হবে । বাচ্চারা জানে যে নতুন দুনিয়ার স্থাপনা কোনো মনুষ্য দ্বারা সম্ভব নয় । তোমরা যখন এইসব কথা শুনতে থাকো তখন তোমরা বোঝো যে এইসব পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বলা পুরোনো কথা বাবা আবার নতুন করে শোনাচ্ছেন , পুরনো যা তাই নতুন , আর যা নতুন তা' আবার পুরনো হয়ে যায় । এখন তোমরা জানো পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বলা সেই কথাগুলি বাবা নতুন করে শোনাচ্ছেন । কথা সব পুরনোই l তাহলে বাবা কি কারনে শোনাচ্ছেন? নতুন দুনিয়ায় রাজ্য অধিকার প্রাপ্ত করাবার জন্য । নতুন রাজ্যের অধিকারী হতে গেলে তোমাদের জ্ঞান নৃত্য করতে হবে । ভক্তি মার্গে তো অনেক নৃত্য হয় । চারিদিকে ভক্তি ছড়িয়ে দিতে তারা নৃত্য করে । জ্ঞান নৃত্য তো খুবই সহজ এক পদ্ধতি । ভক্তি মার্গে কর্মেন্দ্রীয় সবসময় সচল রাখতে হয় l পরিশ্রম অনেক করতে হয় । এখানে তো অন্তর্মনে জ্ঞান নৃত্য চলতে থাকে । সৃষ্টি চক্র কিভাবে আবর্তিত হয় , এই সব জ্ঞান বুদ্ধিতে থাকে । কোনো কিছুতেই অসুবিধা হয় না । হ্যাঁ , শুধু স্মরণে পরিশ্রম হয় । বাচ্চারা অনেকবার ফেলও হয়ে যায় । কোথাও না কোথাও ভুল করে ফেলে l সবচেয়ে বড় কথা হলো কখনো কোনো নামরূপে আকৃষ্ট হয়ো না । স্ত্রী পুরুষ নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ে কামে বশীভূত হয় । প্রথম প্রথম এইসবে বেশি করে সামলে থাকতে হয় । কারোরই নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ো না । নিজেকে আত্মা বুঝে চলতে হবে । আমরা আত্মারা অশরীরী অবস্থায় এসেছি, আবার আমাদের অশরীরী হয়েই ফেরত যেতে হবে । এই শরীরের ভানকে ভাঙ্গতে হবে । নাম রূপে আকৃষ্ট হওয়া খুবই খারাপ অসুখ । বাবা বাচ্চাদের সাবধান করেন । কেউ কেউ আবার এইসব কথা বোঝে না । তারা বলে বাবা এমনি বলেন যে নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ে আছ , কিন্তু এটি হলো গুপ্ত অসুখ । এই কারণে সাজন সজনীকে অথবা বাবা বাচ্চাদের জাগাতে আসেন l বাচ্চারা জাগো , এবার আবার কলিযুগের পরে সত্যযুগ আসবে । বাবা আত্মার জ্যোতি জাগ্রত করতে আসেন । মানুষের মৃত্যু হলে তাদের সামনে জ্যোতি অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালানো হয়, তারপর আবার সেই প্রদীপকে সামলে রাখা হয় , যাতে প্রদীপ নিভে না যায় । আত্মার যাতে অন্ধকার না হয় । বাস্তবে এইসব হলো ভক্তি মার্গের কথা । আত্মা তো সেকেন্ডে বেরিয়ে যায় । অনেক লোকেরা আবার জ্যোতিকেও ভগবান মানে । ব্রহ্মকে বড় জ্যোতি বলে । ব্রাহ্ম সমাজীদের মন্দির হয়, যেখানে রাতদিন জ্যোতি অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালানো থাকে । কত খরচা হয় । অনর্থক ঘৃত (ঘি) নষ্ট হয় । এখানে কিছু দেওয়ার থাকে না। স্মরনই ঘৃতের (ঘিএর) কাজ করে , স্মরণ-রূপী ঘৃত । এইসবই মিষ্টি বাচ্চারা জানে । কথাগুলি নতুন হওয়ার কারণে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয় । বাবা বলেন আমি আসি সুইট চিলড্রেন-এর (মিষ্টি বাচ্চাদের ) কাছে আর আসি ভারতেই । আপন জন্ম , আপন দেশ সবারই আদরের হয় , তাই না ! বাবার তো সকলকেই ভালোলাগে , তবুও আমি নিজের দেশ , ভারতেই আসি । গীতায় যদি কৃষ্ণের নাম না থাকতো , তাহলে মনুষ্যমাত্রই শিববাবাকে মানত । শিবের মন্দিরে কত ভক্তের সমাগম হয় । সবচেয়ে বড় মন্দির হলো সোমনাথ-মন্দির । এখন তো কত কত মন্দির তৈরী হয়েছে । কৃষ্ণকে ঈশ্বর রূপে মানা হয়না , বেহদের বাবাই সকলের ঈশ্বর , তাঁকেই সকলে মানে । এই সময় তোমাদের কাছে বাবার মতন আদরের আর কিছুই নেই । এখানে সাকারের কোনো মহিমা হয় না । এইসব তো নিরাকারের মহিমা , যিনি হন অভোক্তা । যেখানে বেহদের বাবা স্বর্গের রচয়িতা , তখন তো ওঁনার থেকেই অধিকার প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ করা দরকার, তাই না ! আজ কাল করতে করতে সময়ই শেষ হয়ে যাবে l সময় খুব অল্পই বাকি আছে l বাবার থেকে রাজ্য অধিকার তো নিয়ে নাও । সমস্যার কথা যখন লেখে , তখন বোঝাতেও হয় । যেখানে এই নিশ্চয় আছে যে বেহদের বাবা উপস্থিত আছেন, তখন বাবার থেকে বর্সা (অধিকার) প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ তো করো , নইলে তো বাইরে যাওয়ার সাথে সাথেই সব কিছু ভুলে যাবে l বাবাতো কল্যাণকারীই । তিনি বলেন এই যোগের দ্বারাই একুশ জন্মের জন্য তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে । বাচ্চাদেরও ঘরে বোঝাতে হবে যে এবার দুঃখ দূর করার জন্য বেহদের বাবাকে স্মরণ করলেই তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে l পবিত্র তো অবশ্যই থাকতে হবে । মূল কথাই হলো পবিত্রতার । স্মরণে যত বেশী থাকবে, ইন্দ্রিয়ও ততই শান্ত হয়ে যাবে । যতক্ষণ যোগে সাফল্য লাভ না হয় , ততক্ষণ ইন্দ্রিয়ও শান্ত হয় না । প্রত্যেকে নিজেকে যাচাই করো যে কাম বিকারের বশীভূত হয়ে পরছিনা তো ! আমি যদি পুরোপুরি যোগী হই , তাহলে তো কোনো চঞ্চলতা থাকা উচিত নয় , কারণ এখন হলো বানপ্রস্থ অবস্থা , আর এখন শুধুই বাবাকে স্মরণ করে যেতে হবে l এই সবকিছু বাবা বাচ্চাদের (আত্মাদের) বুঝিয়ে দিচ্ছেন l যখন তোমরা ভালো যোগী হয়ে যাবে, তখন কোনো দিকেই তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে না আর তোমাদের ইন্দ্রিয় সকল শান্ত হয়ে যাবে । মুখ্য এটাই , যা সকলকে বিভ্রান্ত করে l যোগের যথার্থ রীতি এবং স্থিতি রপ্ত হলে তখন অনুভব হবে যে আমরা তারুণ্যে বাণপ্রস্থ অবস্থায় এসে গেছি । বাবা বলেন যে কাম হলো মহাশত্রু , তাই তোমরা নিজেকে যাচাই করতে থাকো । যত বেশী সময় স্মরণে স্থির থাকবে , কর্মেন্দ্রীয় তত শান্ত হতে থাকবে আর তোমাদের স্বভাব হয়ে যাবে অতি মধুর l অনুভব হবে যে প্রথমে আমি কত কঠোর মনোভাব পোষণ করতাম , আর এখন কত নমনীয় হয়েছি l বাবা হলেন প্রেমের সাগর , তাই বাচ্চাদেরও সেইরকম প্রেমপূর্ণ হতে হবে । সেইকারনে বাবা বলেন সকলের প্রতি প্রীতিপূর্ণ দৃষ্টি রাখো । যদি কাউকে দুঃখ দাও তবে দুঃখী হয়েই মৃত্যুকে বরণ করতে হবে , তাই -তো তোমাদের অতি মধুর হতে হবে l বাবা বলেন আমিই তো রূপ বসন্ত । বাবার থেকে কত অমূল্য জ্ঞান রত্ন প্রাপ্ত হয় , যে রত্নাদিতে তোমরা নিজেদের ঝুলি ভরে থাকো । ওরা আবার শঙ্করের সামনে গিয়ে বলে আমাদের ঝুলি ভরে দাও । ওরা এটা জানে না যে শঙ্কর কারোর ঝুলি ভরেন না l এখন তোমরা বুঝতে পারছ , জ্ঞানসাগর বাবা আমাদের বাচ্চাদের জ্ঞানের রত্ন দ্বারা ঝুলি ভরে দেন । তুমিও , রূপ বসন্ত । তোমরা , প্রতিটি আত্মাই হ'লে রূপ বসন্ত । নিজেদের দেখতে থাকো - আমরা কত জ্ঞান রত্ন ধারন করে জ্ঞান নৃত্য করছি অথবা রত্নের দান করছি l সবচেয়ে ভালো রত্ন হলো মনমনাভব-র মন্ত্র । বাবাকে স্মরণ করে বাবার থেকে বর্সা (অধিকার) প্রাপ্ত করো । বাবা যেমন জ্ঞানপূর্ণ , সেইরকম বাবা বাচ্চাদেরকেও নিজ সম তৈরী করেন । গুরুরাও নিজের মতন বানান । ইনি হলেন বেহদের বাবা আর যাঁর রূপ হলো বিন্দু । তোমাদেরও বিন্দু রূপ। তোমাদের নিজ-সমান জ্ঞানের সাগর তৈরী করেন । যত ধারণা করতে পারবে , আর করাতে পারবে ... তারা বোঝে আমাদের পদ উচ্চ স্থানে l অনেকের কল্যাণের নিমিত্ত হতে হবে, তাহলে অনেকের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে । বাবাও রোজ সার্ভিস করেন , তাই না ! এই যে গুলজার বাচ্চাটি আছে , কত মিষ্টি বোঝায় । সকলেই পছন্দ করে । মনে হয় এরকম ব্রাহ্মণী আমরাও পাই । এবার এক ব্রাহ্মণী তো সর্বত্র যেতে পারে না । তবুও বাবা বলেন যারা বোঝে যে আমরা ভালো বোঝাই , তাদের অলরাউন্ড (চতুর্দিকে ) সার্ভিস করা উচিত্ l এক্ষেত্রে নিজেরই শখ থাকতে হয় - আমি সেন্টার্সে চক্কর লাগাব ...। যারা মনে করছে আমি অন্যদের কল্যাণ করতে পারি , আমার থেকে জ্ঞান রত্নের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে , তাদের তো শখ থাকাই উচিত্ । তারা নিয়মিত দশ পনেরো দিন সেন্টার থেকে ঘুরে আসলে তখন সেই একজনকে দেখেই অন্যেরা আরও ভালোভাবে শিখবে । যে এমন সেবা করবতে পারবে , তারই প্রাপ্তি হবে । এই সেবা হলো অনেক কল্যাণকারী । তোমরা মানুষদের জীবন দান দাও , উত্তম থেকেও উত্তম এই কার্য l ব্যবসায়ীরাও বুদ্ধি করে সময় বার করে সার্ভিসে যেতে পারে । সার্ভিসেবল বাচ্চাদের বাবা স্নেহ তো করেনই আর সাথে সাথে বাবা লালনপালনও করেন । যাদের সার্ভিসের শখ আছে , তারা সার্ভিস ব্যতীত থাকতে পারে না । বাবাও তো সহায়তা করেন, তাই না ! বাচ্চাদের অনেক দয়ালু হতে হবে l নিরুপায় , ভাগ্যহীন আত্মাদের খুবই দুঃখের জীবন । তোমরা সকলকে জীবনদান দিয়ে থাকো , কাউকে অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান করার মতন সর্বোত্তম জ্ঞান দান আর কিছুই হয়না । সেই কারনে অনেক রহমদিল (দয়াবান ) হতে হবে । ব্রাহ্মণী দুর্বল হওয়ার কারনে সার্ভিসের গতি ধীর হয়ে যায় , সেই কারণে তারা ভালো শিক্ষক চাইতে থাকে । যখনই মনে হবে আমি হাল ধরতে পারি , তখনই চলে যাওয়া উচিত্ ।বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হয় - বাবা কোন সেন্টার্স ধীর গতিতে চলছে , আমরা গিয়ে ঘুরে আসি l বাবা বলেন - প্রদর্শনীর চিত্র তো আছে , চিত্রেই বেশী ভালো ভাবে বোঝাতে পারবে । খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা কিভাবে সার্ভিসকে বাড়াতে পারি । বাবাও সকলের জীবন হীরের মতন তৈরী করেন । তোমরা বাচ্চারাও সার্ভিস করতে পারো । বন্দেমাতরম্ গান গাওয়া হয় , কিন্তু কেউই অর্থ বোঝে না । পতিত মানুষের অথবা পৃথিবীর ইত্যাদির কখনো বন্দনা করা হয় না । এতো পাঁচ তত্ত্ব ! তার আবার বন্দনা কি করে হবে ! পাঁচ তত্ত্ব দ্বারা তৈরী এই শরীর, তো এই শরীরেরই পুজো করা মানে জড়বস্তুর পূজো করা । শিববাবার শরীর হয় না অর্থাৎ তিনি হন নিরাকার । ওঁনার পূজো হলো সবচেয়ে উত্তম, আর বাকী হলো সব মধ্যম । আজকাল তো যারা পতিত হয় , তাদের পূজো করা হয় । মহান আত্মারা তো দেবতা হয় । সন্ন্যাসীদের থেকেও বেশী পবিত্র । এখন তোমরা জানো আমরা দেবতা হতে চলেছি l বাবা আমাদের এই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দান করা শেখাচ্ছেন । এইরকম উচ্চ দান আর কোনোটাই হয় না । শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে । শিব আর লক্ষ্মী নারায়ণের চিত্র তো আছে , প্রত্যেকে নিজেদের ঘরে লাগিয়ে দাও, তাহলে স্মরণ থাকবে । শিববাবা আমাদের লক্ষ্মীনারায়ণে পরিণত করছেন l এই সময়ে তুমি তৈরী হচ্ছ । শিববাবাই হলেন স্বর্গের রচয়িতা l সত্যযুগে তো বর্সা (অধিকার) দেবেন না । এই অন্তিম জনমে শিববাবা বলেন আমায় স্মরণ করো তাহলে তোমরা এই লক্ষ্মী -নারায়ণ হতে পারবে l আর সব কথা ছেড়ে শুধুমাত্র সার্ভিস আর সার্ভিস করো । বাবাকে স্মরণ করাও একটা বড় সেবা । তত্ত্ব ইত্যাদি সব পবিত্র হওয়া শুরু হয় । যোগের মহিমা এতো বিশাল হয় । দুনিয়ায় যোগ আশ্রম তো অনেক আছে , কিন্তু সেসব হলো শারীরিক হঠযোগ আর তোমাদের হলো রাজযোগ । যার দ্বারা তোমাদের জীবন রূপী তরনী পার হয়ে যায় । ঐসব অনেক প্রকারের হঠযোগ ইত্যাদি দ্বারা সিঁড়ি নেমে এসেছো । আসল কথা হলো স্মরণের । দেখতে হবে আমাদের মন কোনও বিকারের দিকে যাচ্ছে না তো ? বিকারীকেই পতিত বলা হয় অর্থাৎ কড়ির মতন । বিকারগ্রস্ত হলে নিজেরই ক্ষতি হয় l যেমন করবে , তেমন ফল পাবে l বাবা দেখুক বা না দেখুক , নিজেদের যাচাই করতে হবে আমরা কি বাবার সার্ভিস করছি ! আমাদের মধ্যে কোনো অবগুণ নেই তো ! যদি থাকে তো সেসব উপড়ে ফেলতে হবে । নিজের থেকে অবগুণ বার করার জন্য বাবা অনেক বোঝাতে থাকেন । নির্গুণের অর্থ কেউই বোঝে না । নির্গুণ বালক মণ্ডলী কতটুকু সেবা করতে পারবে , যার মধ্যে কোনো গুণই নেই । কোনও বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে না বুঝেই যা মনে আসে বলে দেয় l মত তো অনেক আছে , কিন্তু তোমাদের তো অনেক মত নয় , তোমরা এক মতের অর্থাত্ বাবার শ্রীমত্ অনুসারেই চলো , সুতরাং তোমাদের অপার খুশীতে থাকা চাই ! বাবা শুধু বলেন , "আমাকে স্মরণ করো আর কমল ফুল (পদ্মফুল ) সমান পবিত্র হও । মনসা-বাচা-কর্মণায় পবিত্র হও l" তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা ব্রাহ্মণরা শ্রীমতেই নিজের তন মন ধন দ্বারা নিজেদের আর সারা বিশ্বের সেবা করছি । বাবা তো ভারতেই আসবেন, তাই না ! তোমরা পান্ডবরা ভারতকে স্বর্গ বানানোর সেবা করছো । তোমরা নিজেদেরই কাজ করছ । অন্তিমে বিজয়ী তো পান্ডবরাই হবে , এইসবে লড়াইয়ের কোনও কথা নেই । তুমি হলে ননভায়োলেন্স (অহিংসক) । না বিকারে যাও আর না গুলি চালাও । ভায়োলেন্স দ্বারা কেউই বিশ্বে বাদশাহী প্রাপ্ত করতে পারে না । বাবা বুঝিয়েছেন ক্রিশ্চানরা যদি একে অপরের সাথে মিলে কাজ করে, তাহলে তারা বিশ্বে বাদশাহী প্রাপ্ত করতে পারে । কিন্তু ড্রামাতে এরকম লিপিবদ্ধ থাকে না । ক্রিশ্চানরাই কৃষ্ণপুরীকে গ্রাস করেছে । আসলে ভারত তো কৃষ্ণেরই পুরী ছিল, তাই না ! লড়াই করে বাদশাহী বাজেয়াপ্ত করেছে , অনেক ধন নিয়ে চলে গেছে । এবার ধন আবার ফিরে আসছে আর তুমি বিশ্বের মালিক হয়ে যাচ্ছ l বাবা কত উপায় বলে দেন । ক্রিশ্চানরাই তোমাদের রাজ্য ছিনিয়ে নিয়েছে এবং পরে আবার নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধিয়ে দেয় আর তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাও । কত বিশাল এই বাদশাহী। পরিশ্রম শুধু এইটুকুই , বাবাকে স্মরণ করতে থাকো আর আপন অধিকার (বর্সা ) প্রাপ্ত করো । এর জন্য বিরক্ত হওয়া উচিত্ নয় l আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহ, সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) অন্য সব কথাবার্তা ছেড়ে জ্ঞান দান করতে হবে । রূপ বসন্ত হতে হবে । নিজের অবগুণকে উপড়ে ফেলার পুরুষার্থ করতে হবে । অন্যদের দেখার কোনও দরকার নেই ।

২)নিজ স্বভাবকে মধুর করতে হবে । সকলকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে । কাউকেই দুঃখ দেওয়া চলবে না । কর্মেন্দ্রীয়জিত্ হতে হবে ।

বরদান :- 

ক্লান্ত অথবা অশান্ত আত্মাদের সিদ্ধি দেওয়ার জন্য খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরীয় সেবক) ভব !

আত্মাদের অনেক কাল ধরে নির্বাণ অথবা মুক্তিধামে যাওয়ার ইচ্ছা অথবা আশা আছে । এইজন্যই তারা জন্ম জন্মান্তরে অনেক প্রকারের সাধনা করতে করতে ক্লান্ত বোধ করছে । তাই এখন প্রত্যেকেই সাধনা নয় , সিদ্ধি চাইছে । সিদ্ধি অর্থাৎ সদ্‌গতি, তাই এরকম অশান্ত , অসহায় , ক্লান্ত, তৃষ্ণার্ত আত্মাদের তৃষ্ণা মেটাবার জন্য তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা নিজেদের সাইলেন্সের শক্তি অথবা সর্ব শক্তির দ্বারা এক সেকেন্ডে সিদ্ধি দাও , তাহলেই বলা যাবে খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরীয় সেবক) ।

স্লোগান :- 

দুর্বল সংস্কারই মায়ার প্রবেশের গুপ্ত পথ , এই পথ বন্ধ করে দাও ।

***OM SHANTI***

Google+ Followers