BK Murli 16 August 2016 In Bengali

BK Murli 16 August 2016 In Bengali

১৬-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন"

মিষ্টি বাচ্চারা -- বিশাল বুদ্ধি হয়ে বড় বড় লোকেদের মতামত নিয়ে অনেক আত্মাদের কল্যাণের নিমিত্ত হতে হবে, তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ ইত্যাদি নিয়ে অনেক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে হবে "

প্রশ্ন -- 

এখন তোমরা কোন্ স্মৃতি স্মরণ করলে কখনও দুঃখী থাকবে না ?

উত্তর - 

এখন স্মরণে আসছে যে আমরা পূজ্য রাজা ছিলাম , আবার ভিখারী হয়েছি । এখন পুনরায় বাবা আমাদের রাজা তৈরী করছেন । বাবা আমাদের এখন সারা বিশ্বের খবরাখবর শোনাচ্ছেন । আমরা বিশ্বের হিস্ট্রি -জিওগ্রাফী বাবার দ্বারা জানতে পেরেছি । এইসব স্মৃতি স্মরণ করলেই কখনও নিজেদের দুঃখী মনে হবে না, সদাই খুশীতে থাকতে পারব ।

গীত --:

 নয়নহীনকে পথ দেখাও প্রভু ...........

ওম শান্তি । 

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকীলধে) রূহানী (আত্মিক) বাচ্চারা এই গান শুনলো । বাচ্চারা বোঝে যে বাবাকে পাওয়া অথবা বাবার থেকে অধিকার (বর্সা ) প্রাপ্ত করা অনেকই সহজ । গাওয়াও হয় , বাবার থেকে এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তির অধিকার প্রাপ্ত হয় । জীবনমুক্তি অর্থাৎ সুখ-শান্তি-সম্পত্তির অধিকার । এখন জীবনমুক্তি আর জীবনবন্ধ দুটো শব্দ l বাচ্চারা জানে এই সময়ে ভক্তি মার্গে আর রাবণরাজ্যের কারণে সকলে জীবনবন্ধনে বন্দী হয়ে আছে । বাবা এসে সকলকে বন্ধন থেকেমুক্ত করেন আর অধিকার দেন । যেমন সন্তান জন্ম গ্রহন করলে মাতাপিতা, আত্মীয় স্বজন সকলে বুঝে যায় যে উত্তরাধিকার জন্ম গ্রহণ করেছে । এসব বোঝা যেমন সহজ হয় , সেইরকম এটাও সহজ হয় । বাচ্চারা বলে , বাবা পূর্ব কল্পের মতন এই কল্পেও আপনি এসে আমাদের সাথে মিলিত হয়েছেন । আপনার থেকেই সহজভাবে অধিকার প্রাপ্ত করার পথ পেয়েছি । প্রত্যেকেই জানে যে নতুন সৃষ্টির রচয়িতা হলেন স্বয়ং ভগবান । তিনি আমাদের এদিক ওদিক ঘোরাফেরার থেকে রক্ষা করেছেন । আমরা কাল ভক্তি করতাম আর আজ বাবার থেকে সহজ জ্ঞান আর রাজযোগের পথ পেয়েছি । 

বাচ্চারা নিজেদের অনুভব শোনায় , আমরা বি.কে-র দ্বারা দুজন বাবার কথা শুনেছি । তোমাদের ছাড়া আর কারও মুখে দুজন বাবার কথা শোনা যায় না । তোমাদের প্রতিটি কথাই আশ্চর্যজনক । এখন মনে পড়ছে , যারা এখানকার হবে , তাদের স্মৃতিতে এসব কথা অনায়াসে চলে আসবে । তবে হ্যাঁ , স্মৃতি আসার পরেও মায়া অনেক সময় তীব্র গতিতে এসে পথ রুদ্ধ করে দিয়ে বিস্মৃত করে দেয় ।সেইকারনে বাচ্চাদের অনেক সাবধান থাকতে হয় । স্মৃতি তো বাবা ফিরিয়ে দিয়েছেন। পবিত্রতার কঙ্গন অর্থাত্ বলয় সম্পূর্ণরূপে ধারন করতে হবে । রাখীবন্ধনের রহস্য কি , এইসব এখন তোমরা জেনেছ । প্রতিজ্ঞা কে করিয়েছেন ! কাম মহাশত্রু ; বাবা বলেন , আমার নিকট প্রতিজ্ঞা করো , কখনও পতিত হব না আর আমায় (শিববাবাকে) স্মরণ করলে তো অর্দ্ধকল্পের পাপ দগ্ধ হয়ে পাপমুক্ত হয়ে যাবে। বাবা আশ্বস্ত করেন , বাচ্চারা এইসব বোঝেও , বাবা যখন ভরসা দিচ্ছেন তখন তাঁর সবকথাই তো ঠিক ! স্বর্ণকার কি-ই বা ভরসা দিতে পারে যে তার কথায় আমরা পুরনো গহনা দিয়ে নতুন বানিয়ে নিতে পারি ! তাদের কাজ তো এটাই। আগুনে দিলে তো অবশ্যইতা' খাঁটি সোনায় পরিণত হবে। তাই বাবা বোঝাচ্ছেন যে আত্মায়ও খাদ পড়ে আছে , কিভাবে সতো, রজো, তমোতে আসে , এইসব হলো খুবই সহজ ।চিত্রও এইজন্য তৈরী হয়েছে, যাতে সহজভাবে বোঝানো যায় । ইউনিভার্সিটি, কলেজে অনেক প্রকারের নকশা থাকে । তোমাদেরও এইসব হলো নকশা , যার ফলে তোমরাও কাউকে ভালোভাবে বোঝাতে পারবে । জ্ঞানসাগর পতিত পাবন বাবাই এসে এই পথ দেখান । আর কেউই পতিতকে পাবন করতে পারে না । মানুষরা হলো নয়নহীন দুঃখী । তোমরা বাচ্চারা জানো প্রথম দুটি যুগে দুঃখ আর ভক্তি হয় না । সেটা হলোই স্বর্গ । বর্তমান সময়ের মনুষ্য আর প্রাচীন ভারতের মনুষ্যের আচরণ বিপরীতধর্মী হয় , তাই না । কিন্তু এইসব কেউই বোঝে না । কত পূজো চলতে থাকে । যে যত বিত্তবান হয় , তারা তত দেবী-দেবতাদের নানা আভূষনে সুসজ্জিত করে । বাবা হলেন নিজেই অনুভবী । বম্বেতে লক্ষ্মী নারায়ণের যে মন্দির আছে , সেখানকার যিনি ট্রাস্টী, তিনি লক্ষ্মীনারায়নেরমূর্তির জন্য হীরের হার তৈরী করেছিলেন । বাবার তো সেই ট্রাস্টীর নামও স্মরণ আছে । প্রথমে শিববাবার মন্দির বানিয়েছে আর তাঁকে নানা আভূষনে সুসজ্জিত করেছে , তারপর দেবতাদের জন্য, লক্ষ্মী নারায়ণ ইত্যাদিকেও নানা আভূষণে সুসজ্জিত করেছে । তাহলে সেই সময়ে কত ধন ছিল ! মুহম্মদ গজনবী লুঠ করে উঁটের পিঠে চাপিয়ে নিয়ে গেছে । ভারতে তো বিশাল ধনরাশি ছিল । এইসব তোমরা যথার্থ রীতিতে বুঝতে পেরেছ l আমাদের ভারত কি ছিল ! কুবেরের খাজানা ছিল আমাদের ভারতে । হীরে-জহরতের মন্দির তৈরী করতো । 

এখন সেসব আর কিছুই নেই, সবকিছুই লুঠ করে নিয়ে গেছে । এখন তো কি অবস্থাই না হয়েছে ! তুমিই পূজ্য দেবতা ছিলে, আবার তুমিই চুরাশী জন্ম গ্রহণ করে পুরো দরিদ্র হয়েছ । এইধরণের কথা মুহুর্মুহু স্মরণ করা দরকার । তাহলে তোমাদের নিজেকে কখনও দুঃখী মনে হবে না l আমরা বাবার থেকে কি কি প্রাপ্ত করছি , এইসব কথা মনে স্মরণ করতে হবে। বাবা এসে আমাদের পুরো বিশ্বের খবরাখবর শোনান । বিশ্বের হিস্ট্রি জিওগ্রাফী সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না । তোমরা জানো ভারতে প্রথমে এক ধর্ম, এক রাজ্য, এক মত , এক ভাষা ছিল । সকলেই সুখী ছিলো । পরে এরাই নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া করতে শুরু করে আর সুখী ভারত টুকরো টুকরো হয়ে যায় l প্রথমে ভারত এইরকম ছিল না । সেখানে তখন কোনো প্রকারের দুঃখ ছিল না । অসুখের লেশমাত্র ছিল না । তার নামই হলো স্বর্গ l সবকিছু তোমাদের স্মৃতিতে এসেছে । নিয়মানুসারে প্রতি কল্পে আমাদের বিস্মৃতি হয় পরে আবার স্মৃতি ফিরে আসে l একটাই ভুল হয়েছে, তোমরা রচয়িতা আর ওঁনার রচনাকে ভুলে গেছ l এখন তুমি আদি-মধ্য-অন্তকেজেনেছ । সত্যযুগে এইসব জ্ঞান থাকে না । পরম্পরা তাহলে কি ভাবে চলবে ! সেই সময়ে রাজাই মুখ্য হয়, ঋষিমুনি নয় l তারা তো দ্বাপরযুগ থেকে আসতে শুরু করে । তাদের (ঋষিমুনিদের)ভরণপোষণ রাজাদের থেকে প্রাপ্ত হতো । রাজারা সামলাতো কেননা তারা তো তবু সন্ন্যাস ধর্ম পালন করত , তাই না ! প্রাচীন ভারতে প্রাচীন রাজযোগের বর্ণনা করা হয়েছে । প্রাচীন ঋষিমুনি বলাহয় না । তারা তো আসেই দ্বাপরযুগে l রাজাদের সহায়তায় তাদের দিন গুজরান হত l তারা বলে , আমরা রচয়িতা আর ওঁনার রচনাকে জানি না । বাবা বলেন , রাজারা নিজেরাও জানে না । বিশ্বে কেউই এই জ্ঞান সম্বন্ধে কিছুই জানে না । এখন তোমরা বাচ্চারা সমঝদার হয়েছ । লক্ষ্মী নারায়ণের মন্দির যে বানায় , তাকে তোমরা লিখতে পারো। এত লক্ষ টাকা দিয়ে যাঁদের মন্দির তৈরী করেছেন তাঁদের জীবনকাহিনী সম্পর্কে কি জানেন ? ওনারা (লক্ষ্মী নারায়ণ ) রাজ্য কিভাবে প্রাপ্ত করেছেন আবার কোথায় বা চলে গেলেন ! এখন কোথায় আছেন ? আমরা আপনাকে সবকিছুর রহস্য বলতে পারি । এরকম ভাবে তাকে লিখতে পারো । তোমরা বাচ্চারা প্রত্যেকের জীবনকাহিনী জেনেছ , তাহলে তো তোমরা লিখতেই পার l আমাকে সময় দিলে তো আমি প্রত্যেকের জীবনকাহিনী বলতে পারি । শিবের মন্দির যে তৈরী করে , তাকেও তোমরা লিখতে পারো । বেনারসে শিবের মন্দির কত বড় ! সেখানেও ট্রাস্টী হবে । চেষ্টা করা দরকার - বড় বড় লোকেদের বোঝানো । তারা বুঝলে তো তাদের আওয়াজেই গরীব লোকেরা কোনরকম দ্বিধা না করেই শুনবে । বড় বড় লোকেদের সাহায্য তো নিতে হবে । তাদেরও মতামত লেখা দরকার , কারন তাদের আওয়াজই আমাদের অনেক সহায়তা করবে । বাস্তবে যতটা হওয়া দরকার, ততটা আওয়াজ তারা করে না । প্রেসীডেন্টকেও তোমরা বোঝাতে পারো । বড় বড় লোকেরাও বলে । মুখ্যমন্ত্রী, গভর্নর, এরা উদ্বোধন করেন । লেখেনও তাঁরা বি.কে. তো ঈশ্বরের সাথে মিলিত হওয়ার সহজ পথ বলে , কিন্তু ঈশ্বর কি ব্যপার , তারা কিছুই বোঝে না । সেই সময়ে শুধু বলে , পথ খুব ভালো । শান্তি প্রাপ্ত করার ভালো পথ , কিন্তু তারা নিজেরা বোঝে না l বাবা বড় বড় লোকেদেরও বোঝাবার কথা বলছেন । বড় বড় লোকেদের কাছে যে বড় বড় নামীদামী হল থাকে , সেগুলি নেবারব্যবস্থা করতে হবে । বলবে আমরা সকলে মনুষ্যের কল্যাণের জন্য সদাকালের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে চাই, শুধু বিজ্ঞাপন দিতে চাই । এইরকম পঞ্চাশ অথবা একশো হল নেওয়া দরকার । 

ভারত তো অনেক বড় , তাই না! এক একটি শহরে দশ-বারোটা হল নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করলেই খুব সহজে খবরের কাগজে ছেপে যাবে । যাদের বোঝার আছে , তারা এসে বুঝবে । তাহলেই তো কতজনের কল্যাণ হবে । বাচ্চাদের বিশাল বুদ্ধির হতে হবে । সার্ভিস তোবাচ্চাদের করতে হবে ,তাই না! বাবা সকল বাচ্চাদের পূর্ণোদ্যমে প্রদর্শনী শুরু করতে বলছেন । বাবা প্রস্তুত করাচ্ছেন । বাচ্চাদের চেষ্টা করা দরকার । সমস্ত কিছুই তো বুঝতে হবে l ভগবান আসেন আর প্রজাপিতা ব্রহ্মা দ্বারা প্রজাররচনা করেন । তবে তো নিশ্চয়ই অনেক ব্রাহ্মণ রচনা করেছেন ? এখন আবার রচনা করছেন । কত ব্রাহ্মণ -ব্রাহ্মণী আছে ! বাবা এই সঙ্গমেই ব্রাহ্মণ ধর্ম রচনা করেন l বাস্তবে তোমরা দেখছো আর বুঝতে পারছ । এইসব কথা কোনো শাস্ত্রে লেখা থাকে না । তোমরা বাচ্চারা বুঝতে পেরেছ , বাবা তখনই আসেন যখন পতিত দুনিয়ার পবিত্র হওয়ার সময় হয় l এও বোঝে পরমাত্মা , প্রজাপিতা ব্রহ্মা দ্বারাই রচনা করেন । কিন্তু কখন রচনা করেন এইসব বোঝে না । তারা বোঝে কেউ হয়তো নতুন রচনা করছেন । মনে করে ব্রহ্মা তো সূক্ষ্ম বতনের । এখন তোমরা বুঝেছ প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো এখানে আছেন । তুমি সূক্ষ্ম বতনে গিয়ে থাকো । পবিত্র ফরিস্তাহয়ে সাক্ষাৎকার করো । বাচ্চারা এসে শোনায় যে সেখানে মুভী চলে । সেটা তো হলোই মুভী ওয়ার্ল্ড, তোমরা মুভী বায়স্কোপও দেখেছো । এখন বাস্তব কথা সবই জেনেছ l মূল বতন হলো সাইলেন্স ওয়ার্ল্ড, যেখানে আত্মাদের নিবাস। সূক্ষ্ম বতনে সূক্ষ্ম শরীর হয় । তাহলে তো অবশ্যই কিছু ভাষাও হবে । তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে , আমাদের আত্মাদের নিবাস স্থান হলো শান্তিধামে, তারপরে হয় সূক্ষ্ম বতনে, যেখানে ব্রহ্মা বিষ্ণু শঙ্কর থাকেন । আর এই হলো কলিযুগ আর সত্যযুগের সঙ্গম । এখানে বাবা আসেন আর এখান থেকেই তোমরা , ব্রাহ্মণ ঘরে ফিরে যাও l বাবার বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ি , তাই না ! এখানে দুটোই তোমাদের বাবার বাড়ি । বাপদাদা দুজনেই পরিশ্রম করে বাচ্চাদের ফুল (গুলগুল) রূপে গড়ে তোলার জন্য । মুসলমানরাও বলে গার্ডেন অফ আল্লাহ (ভগবানের বাগান ) । করাচিতে এক পাঠান ছিল, সে সামনে এসে দাঁড়াত আর মুহূর্ত মধ্যে পড়ে যেত, জিজ্ঞেস করলে বলত আমি খুদার বাগিচায় গেছিলাম তো খুদা ফুল দিয়েছেন ।এবার তার জ্ঞান তো ছিল না । তোমরা এখন বুঝতে পারছ বাগিচা কাকে বলা হয় । 

এই হলো কাঁটার জঙ্গল আর ওটা হলো ফুলের বাগান । তোমাদের বুদ্ধিতে বিশ্ব নাটকের সারা রহস্য ভরে আছে । সত্যযুগ আর কলিযুগ l তোমাদের অনেক খুশি হওয়া উচিত্ l সৃষ্টি চক্রের সম্পূর্ণ জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে আছে l বিস্তার তো এইসবের অনেক আছে । তোমাদের বুদ্ধিতে সংক্ষিপ্তসার আছে । তোমরা বাচ্চারা রচয়িতা বাবার দ্বারা রচয়িতা (ব্রহ্মাবাবা) এবং তাঁর রচনাকে জানতে পেরেছ । ব্রহ্মাকে রচয়িতা বলা হয় না । রচনা এক বাবার আর সমর্পণও একের-ই । প্রথম প্রথম রচনা হয় ব্রহ্মার , তারপর বলা হবে কৃষ্ণের । ব্রহ্মা তো আছেন, ব্রাহ্মণও অবশ্যই দরকার । পান্ডবদের ব্রাহ্মণ বোঝান হয়না l ব্রহ্মা দ্বারা সৃষ্ট ব্রাহ্মণ দরকার । এইসব হলো রূহানী যজ্ঞ, একে স্পিরিচুয়াল নলেজ বলা হয় অর্থাত্ আধ্যাত্মিক জ্ঞান l আত্মাদের তিনিই , বাবা, জ্ঞান দেবেন l তোমরা জানো আমাদের কোনো মনুষ্য পড়ায় না । সকল আত্মাদের বাবা পড়ান । বাবা বলেনও ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা । কৃষ্ণের কথা তো বলবেন না । সে তো হতেই পারে না । ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনার কার্য কেকরান ? কৃষ্ণ কি ? না , পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনার কার্য্য করান । বিষ্ণুর দ্বারা পালন করান । ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর কত পার্ট আছে । ব্রহ্মা মুখবংশাবলীরাই গিয়ে বিষ্ণুপুরীর দেবতা হয় । ব্রহ্মা আর বিষ্ণু, বিষ্ণু আর ব্রহ্মা । বাচ্চাদের এইসবও বোঝানো হয়েছে । ব্রহ্মা থেকে বিষ্ণু হতে লাগে এক সেকেন্ড, আর বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা হতে চুরাশী জন্ম গ্রহন করতে হয় । কত আশ্চর্যজনক কথা , তাই না । কেউই বোঝে না । এইসব হলো বেহদের (অলৌকিক) কথা । বেহদের বাবার নিকট থেকে বেহদের পাঠ পড়ে বেহদের রাজ্য অধিকার প্রাপ্ত করতে হবে । সৃষ্টি চক্রকে জানতে হবে । আত্মাই শরীরের দ্বারাজানতে পারে । এরকম নয় , শরীর আত্মার দ্বারা জ্ঞান প্রাপ্ত করে । না , আত্মাই জ্ঞান প্রাপ্ত করে । তোমাদের কতটা খুশীতে থাকা উচিত । অন্তর্মনে কত গুপ্ত খুশী হওয়া উচিত্ । পাঠ পড়ার সংস্কার আত্মার মধ্যেই থাকে । দুঃখও আত্মা অনুভব করে । বলা হয় আমাদের আত্মাকে দুঃখী কোরো না । বাচ্চাদের এখন কত জ্ঞানের আলোর প্রাপ্তি হয়েছে l তোমরা খুশীতে আছ । সাগরের থেকে রিফ্রেশ হয়ে মেঘেদের একত্রে বৃষ্টিপাত ঘটাতে হবে অর্থাত্ জ্ঞান সাগর বাবার সাথে যোগযুক্ত হয়ে জ্ঞানী আত্মাদের মিলিতভাবে জ্ঞানবর্ষার বর্ষণকরতে হবে l নিজেরা একসাথে মিলিত হয়ে প্রদর্শনীর প্রস্তুতিতে সাহায্য কর l শখ থাকা চাই l সার্ভিস, সার্ভিস আর শুধু সার্ভিস । আচ্ছা !মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে (হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহের সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারনার জন্য মুখ্য সার --:

১) বাবার দ্বারা প্রাপ্ত জ্ঞানকে স্মরণ করে অসীম খুশীতে থাকতে হবে । বিশাল বুদ্ধি হয়ে জোর কদমে সার্ভিস করতে হবে ।

২) বাবার দ্বারা যে স্মৃতির জাগরণ হয়েছে , সেগুলো বিস্মৃতির আড়ালে নিয়ে যেও না । বাবার কাছে যে পবিত্রতার প্রতিজ্ঞা করেছ , তাতে অটল থাকতে হবে ।

বরদান --: 

করা আর বলা -- এই দুইকে এক সমান করে উচ্চমানের সেবায় সত্য সেবাধারী ভব!সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে প্রথমে করে দেখাতে হবে , পরে বলতে হবে । বলা খুবই সহজ হয়, করায় পরিশ্রম হয় , আর পরিশ্রমের ফল ভালো হয় । কিন্তু যদি অন্যদের বলবে আর নিজে করবে না তাহলে সেবার সাথে সাথে তা' সেবা বিরোধী কাজ বলে প্রতীয়মান হবে l যেমন অমৃতের মধ্যে বিষের এক ফোঁটা পড়লে পুরো অমৃত বিষ হয়ে যায় , সেইরকম যতই সেবা করো , ছোট একটা ভুলে কিন্তু সেবা সমাপ্ত হয়ে যায় । একারণে প্রথমে নিজের ওপরে অ্যাটেনশান দাও, তবে বলা যাবে সত্যকার সেবাধারী ।

স্লোগান --: 

বহুর মধ্যে একতা আনা , ভাগ্যকে তৈরী করা - এটাই হ'ল সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ।



***Om Shanti***

Google+ Followers