BK Murli 24 August 2016 In Bengali

BK Murli 24 August 2016 In Bengali

২৪-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা -- বাবা আর দাদারও (ব্রহ্মাবাবার) চমৎকার একটি কাহিনী আছে, বাবা যখন দাদার (ব্রহ্মাবাবার ) শরীরে প্রবেশ করেন তখন তোমরা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী উত্তরাধিকারের অধিকারী হও"

প্রশ্ন :- 

নিশ্চিত ড্রামার রহস্য জেনেও তোমাদের বাচ্চাদের কোন লক্ষ্যে স্থির হতে হবে?

উত্তর :- 

পুরুষার্থ করো এবং দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাও অর্থাৎ বিনাশের পূর্বে বাবার স্মরণে থেকে কর্মাতীত হওয়ার লক্ষ্যে স্থির হতে হবে । কর্মাতীত অর্থাৎ আয়রন এজেড থেকে গোল্ডেন এজেড (তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান) হতে হবে। পুরুষার্থে খুবই অল্প সময় আছে , তাই বিনাশের পূর্বে নিজেদের অবস্থাকে অচল-অডোল করতে হবে ।

ওম শান্তি । ওম শান্তি । কারা দুজন ওম শান্তি বললেন ? এক ছিলেন বাবা , আর এক ছিলেন দাদা । গল্প শোনানো হয়েছে, না , এক ছিল রাজা আর এক ছিল রাণী । এবার এইসব হলো নতুন কথা । এক বাবা আর এক দাদা , তোমরা বলবে পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও এক ছিলেন শিববাবা আর অপর জন ছিলেন ব্রহ্মা দাদা । এবার শিবের সন্তান তো সকলেই । সকল আত্মারা এক বাবার সন্তান তো হয়ই । ব্রহ্মার সন্তানরা ব্রাহ্মণ হয় । প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান হল ব্রহ্মাকুমার-কুমারী । তাদের পড়ান কে ? স্বয়ং শিববাবা (ঈশ্বর )। প্রজাপিতা ব্রহ্মার ব্রহ্মাকুমার-কুমারী ঢের হয় , তাই না! ব্রহ্মাকুমার-কুমারী অর্থাৎ আমরা শিববাবার সন্তানও, আর পৌত্রও । আত্মা হিসেবে সন্তান তো হয়ই , এখন পৌত্র হয়েছে, ব্রহ্মা দ্বারা দাদুর (শিববাবার) নিকট থেকে অধিকার প্রাপ্ত করতে । এখন তোমাদের দাদুর নিকট থেকে অধিকার প্রাপ্ত হয় , যাঁকে শিববাবা বলা হয় । কিন্তু ব্রহ্মাকুমার-কুমারী হওয়ার কারণে ওঁনাকে আমরা দাদাও বলি । অধিকার দাদুর হয় , ব্রহ্মাদাদার নয় । বৈকুণ্ঠ বাসী হওয়ার অধিকার বাবার নিকট থেকে প্রাপ্ত হয় । অর্দ্ধকল্প অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার পরে তোমরা রাবণ দ্বারা অভিশপ্ত হও নীচে নামবার । যেমন গ্রহের দশা লাগলে নীচে নামা হয় । এবার তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো যে আমাদের রাহুর দশা সমাপ্ত হয়েছে । রাহুর দশা হলো সবচেয়ে খারাপ । উচ্চ থেকে উচ্চ হলো বৃহস্পতির দশা , রাহুর দশা লাগলে পাঁচ বিকারের ফলে আমরা কালো হয়ে যাই । এবার আবার বাবা বলেন দাও দান তো ছুটে গ্রহণ অর্থাৎ গ্রহণ মুক্ত হও । হচ্ছে তোমাদের কথা, তারা আবার সূর্য চন্দ্রমার গ্রহন বোঝে । যখন গ্রহন লাগে তখন দান চাওয়া হয় । এখানে বাবা তোমাদের বলেন যে পাঁচ বিকারের দান দিয়ে গ্রহের দশা থেকে মুক্ত হও । এই বিকারের দ্বারাই তোমরা পাপ আত্মা হয়েছো । আসল হল দেহ অভিমান। প্রথমে সতোপ্রধান ছিলে, তারপর রজো, তমো হয়েছো । চুরাশী জন্ম গ্রহণ করেছো । এটা তো নিশ্চয় আছে যে দেবতারাই চুরাশী জন্ম গ্রহণ করে । তাই তাদের প্রথম বাবার নিকট থেকে অধিকার প্রাপ্ত হওয়া দরকার । গায়ন আছে আত্মা পরমাত্মা আলাদা ছিল .....বহুকাল । বাবা বলেন প্রথম প্রথম তোমাকে সত্যযুগে পাঠিয়েছিলাম । তারপর এখন তুমিই এসে মিলিত হয়েছো । প্রথমে তো শুধু গান গাইতে, ঐসবের যথার্থ অর্থ তো বাবা এখন বসে বোঝাচ্ছেন । সব বেদশাস্ত্র, জপ ,তপ, স্লোগান ইত্যাদি যা আছে , সবারই সার বাবা এখন বসে বোঝাচ্ছেন । চক্র তো খুবই সহজ । এখন কলিযুগের আর সত্যযুগের সঙ্গম হয় । লড়াই তো সামনে দাঁড়িয়ে আছে । এখন তোমাদের নিশ্চয় আছে যে এবার সত্যযুগের স্থাপনা হবে । কলিযুগে যতজনও আছে , তাদের সকলের শরীর শেষ হবে আর বাকি আত্মারা পবিত্র হয়ে হিসেব নিকেশ মিটিয়ে যাবে । এখন হলো বিনাশের সময় । আত্মারা শরীর ত্যাগ করে পরমধাম যাবে । এইসব এখন তোমাদের বুদ্ধিতে ভরে আছে , যতক্ষণ আমরা কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত না করছি , ততক্ষণ আমরা সঙ্গমে দাঁড়িয়ে আছি । একদিকে কোটি কোটি মনুষ্য আর অপরদিকে তোমরা অল্প কজন । তোমাদের মধ্যেও অনেক আছে , যারা নিশ্চয় বুদ্ধিধারী হয় । নিশ্চয় বুদ্ধি বিজয়ন্তী, তারাই গিয়ে বিষ্ণুর গলার মালা তৈরী হবে । এক হলো রুদ্রাক্ষের মালা,দ্বিতীয় হলো রূণ্ড মালা । ঐ রূণ্ড মালায় ছোট ছোট চেহারা (মুণ্ড ) থাকে , এই মালার এই চিহ্ণই হয় । আমরা আত্মারাই বাবার গলার মালার দানা তৈরী হবো , তারপর ক্রমানুসারে এখানে আসবো । মালা আটের হয় , একশত আটের হয় আবার ষোলো হাজার আটেরও হয় । এবার ষোলো হাজার অথবা পাঁচ -দশ হাজার , এর কোনো হিসেব বার করা হয় না । এই মালাই গাওয়া হয় । বাবা বলেন এইসব তোমরা চিন্তা করো কেন? পূর্বে কল্পে সত্যযুগ ত্রেতায় যারা রাজা হয়েছিল, তারাই হবে । এবার সেটা একশো হোক বা দুশো তিনশো, জিজ্ঞাসা করার কিছুই নেই । বাবা বলেন যে তোমরা যত নিকটে আসতে থাকবে তত এইসব বুঝতে থাকবে । আজ আমরা এখানে আছি , কাল বিনাশ হবে । সত্যযূগে তারপর অল্প কিছু দেবীদেবতা হবে , পরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত করতে থাকবে । খুব শীঘ্রই কলিযুগের সমাপ্তি আর সত্যযুগের আগমনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে । বাকী লাখ গিয়ে থাকবে , এবার লাখ থাকবে না নয়-দশ লাখ থাকবে , এটা হুবহু বলা যাবে না । তবে হ্যাঁ , তুমি যখন এক্যুরেট সম্পূর্ণ হওয়ার যোগ্য হবে, তখনই তোমার আরও বেশী সাক্ষাৎকার হবে । এখন তো অনেক কিছুই বোঝার আছে । সাক্ষাৎকার অনেক হতে থাকবে । লড়াইয়ের তৈয়ারীও শুরু আছে । সব জিনিসেরই দাম বাড়ছে । বিলেতেও এবার অনেক ট্যাক্স লাগবে । অনেক অনেক মূল্য বৃদ্ধি আবার একদম সস্তা হয়ে যাবে । সত্যযুগে কোনো জিনিসের খরচা হবে না । সব খনি ভরপুর থাকবে । নতুন দুনিয়ায় ধন, সম্পদ প্রাচুর্যে ভরা থাকবে । লক্ষ্মী নারায়ণের কাছেও অনেক ঐশ্বর্য ছিল, তাই না! শ্রীনাথ দ্বারেও মুর্তিদের সামনে অতি সৌন্দর্যের সহিত ভোগ নিবেদন করা হয় । সেখানে অনেক জিনিস তৈরী করা হয় আর খাওয়াও হয় । তারা বলে যে দেবতাদের ভোগ নিবেদন না করলে তারা নাকি রেগে যান ।এবার এখানে রেগে যাওয়ার কি আছে ! তুমি তো কারও ওপরেই রাগ করো না । জানো যে ড্রামা অনুসারে বিনাশ হওয়ারই আছে । কলিযুগ পরিবর্তন হয়ে সত্যযুগ হবে । আমরা ড্রামা অথবা নাটককে বুঝেছি যে নাটক অনুসারে এখন নতুন চক্র প্রারম্ভ হওয়া বাকী আছে । তুমিও নাটকের বশে বশীভূত আছো । নাটক অনুসারে বাবাও এসেছেন । নাটকে এক মিনিটও নীচে ওপরে হয় না । তোমরা দেখলে যে বাবা যেমন এই কল্পে এলেন, সেইরকম কল্পে পরেও বাবা আসবেন । শাস্ত্রে তো কল্পের আয়ু অনেক লম্বা লিখেছে । এখন তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে । এখন তুমি পুরুষার্থ করে জ্ঞানের খাজানাকে আত্মসাৎ করছো । তোমরা জানো বাবাকে স্মরণ করে আমাদের কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত করতে হবে অর্থাৎ স্মরণের দ্বারা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে । যদি এখনও পুরুষার্থ না করো , তাহলে পদ ভ্রষ্ট হবে । হে আত্মারা এখন তোমরা পতিত হয়ে গেছো । এইসবও জানো যে অনেক আসবে ,যারা অন্য ধর্মে আছে , তারাও বেরিয়ে আসবে । ব্রাহ্মণ ধর্মে না আসলে দেবতা ধর্মে কিভাবে যাবে । ব্রাহ্মণ তো দিন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাবে । যখন দেখবে বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে, তখন বলবে যে এরা তো ঠিক আর বৃদ্ধি হতে থাকবে । ব্রাহ্মণদের ঝাড় যখন বৃদ্ধি পেয়ে ভরে যাবে, তখন আমরা ঘরে ফেরত যাবো আর দেবতাদের ঝাড় বৃদ্ধি পাবে । 
এখন তোমরা সঙ্গমে রাজযোগ শিখছো । এই সঙ্গমকে কল্যাণকারী যুগ বলা হয় । সঙ্গমেই গায়ন আছে যে গঙ্গা সাগরের মেলা দেখানো হয় । সবকিছুই হয় ভক্তি মার্গের । আর তোমরা হলে জ্ঞানসাগর আর জ্ঞানসাগর থেকে বেরোনো জ্ঞান গঙ্গা । জ্ঞান সাগর থেকেই পতিত পাবন অক্ষরটি লাগে । মানুষরা বোঝে পতিত পাবনী হয় গঙ্গা, আর সেই কারণেই তারা গঙ্গায় স্নান করতে যায় । এইসব নদী তো সত্যযুগ থেকে চলে আসছে , তবে আজকাল তো নদীই আবার কখনও কাউকে কোথাও ডুবিয়ে দেয় । প্রকৃতিও তমোপ্রধান, সাগরও তমোপ্রধান হয়ে পড়েছে । এবার সাগর একটু উথালপাতাল করলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে । সত্যযুগে শুধুমাত্র আমরা অল্পই কজন ভারত ভূমির যমুনা কন্ঠে গিয়ে থাকবো । দিল্লি পরীস্তান ছিল, আবার দিল্লিই পরীস্তান হবে । সত্যযুগে অল্পই জীব আত্মা থাকে , তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে । এখন হলো কলিযুগের অন্তিম সময় । কত বিশাল মনুষ্য হয়ে গেছে, এবার হচ্ছে তো বেহদের নাটক, যেটাকে ভালো ভাবে বুঝতে হবে । যদিও কেউ নিজেকে অভিনেতা বোঝে, কিন্তু কল্প যে পাঁচ হাজার বছরের হয় , সেটা জানে না । কোথায় চুরাশী জন্ম , আর কোথায় চুরাশী লাখ । এখন তোমরা জ্ঞানের আলোকে আলোকিত । তোমরা বাবার নিকট থেকে অধিকার প্রাপ্ত করো । বাবা বলেন মনমনাভব অর্থাৎ নিরন্তর বাবাকে স্মরণ করতে হবে । শিব ভগবানুবাচ, কৃষ্ণ থোড়াই জ্ঞানের সাগর । ভগবানের মহিমায় আর দেবতাদের মহিমায় অনেক তফাত থাকে । বাবা যে নতুন রচনা করেন, তাদের মহিমা হলো সর্বগুনসম্পন্ন ...... , এখন তোমরা এইরকম তৈরী হচ্ছ । বাবার মহিমা আর এদের মহিমায় রাতদিনের তফাত আছে । রাজযোগ হয় , তাই তো! গায়ন আছে যে ভগবান রাজযোগ শেখান । তিনি হলেন নিরাকার, সেই কারণে ওঁনাকে নিরাকার থেকে সাকারে আসতে হয় । ভগবানের এত মহিমা আছে যে ওঁনাকে আসতে হয় । ওঁনার জন্ম হলো দিব্য অলৌকিক আর কারও দিব্য জন্ম গায়ন হয় না । বাচ্চাদের এইসবও বোঝানো হয়েছে যে এক হলো অলৌকিক পিতা, দ্বিতীয় হলো পারলৌকিক পিতা, ওঁনাকেই ভগবান বলে স্মরণ করা হয় আর তৃতীয় হলো অলৌকিক পিতা । ইনি হন অতি উত্তম পিতা । বাবা দত্তক নেন তো তাই মাঝে এই অলৌকিক এসে যায় । প্রজাপিতা ব্রহ্মার কত ঢের বাচ্চা আছে , শিববাবা এসে ব্রহ্মা দ্বারা তোমাদের আপন বানান । কত ব্রহ্মাকুমার-কুমারী হয়েছে । লৌকিক পিতার তোমার আট দশটা বাচ্চা হয় । আচ্ছা, শিববাবাও পারলৌকিক পিতা । ওঁনার তো অনেক বাচ্চা হয় । এবার সকল আত্মারা বলে যে আমরা সবাই হলাম ভাই-ভাই । এই সঙ্গমে আমরা আমাদের অলৌকিক পিতাকে পেয়েছি । এইসব জ্ঞান তোমাদের ওখানে থাকবে না । প্রজাপিতা ব্রহ্মা বাবা তখনই মিলিত হয় , যখন বাবা এসে নতুন সৃষ্টির রচনা করেন , তাহলে অলৌকিক জন্ম হলো কিনা! এইসব কেউই বুঝতে পারে না । লৌকিক, তারপর পারলৌকিক আর এই হলো অলৌকিক পিতা । লৌকিক পিতা তো সত্যযুগ থেকে হয়ে আসছে । পারলৌকিক পিতাকে তো সেখানে কেউই স্মরণ করে না । সেখানে হয়ই একজন পিতা । হে ভগবান, হে পরমাত্মা বলে কেউ স্মরণ করে না । তারপর দ্বাপরযুগে যখন ভক্তি মার্গ শুরু হয়, তখন পিতা দুজন হয় আর সঙ্গমে হয় তিনজন । প্রজাপিতা ব্রহ্মাকেও এখন পেয়েছি, এখন তোমরা ওনার হয়েছো । জানো তোমরা ইনি হলেন অলৌকিক পিতা । এখন তোমরা এইসব কথাকে ভালো ভাবে বুঝেছো আর স্মরণ করছো । নিজেকে আত্মা বুঝে বাবাকে স্মরণ করো । সত্যযুগে স্মরণ করার দরকার নেই । সবাই দুঃখে পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ করে । এইসব তো একদম সহজ কথা । সত্যযুগ ত্রেতায় বাবা এক হয় , দ্বাপরে দুজন বাবা হয় । এই সময়ে তোমরা অলৌকিক বাবার সন্তান হয়েছো, যার দ্বারা তোমরা অধিকার প্রাপ্ত করো । তোমরা বাচ্চরাই ব্রাহ্মণ তৈরী হও, যারাই পরে গিয়ে দেবতা হবে । তোমাদেরই বিনাশকে দেখতে হবে , যেটা তোমরা বাচ্চারা এই দুই চোখ দ্বারা দেখবে । বম্বস যেগুলি ফেলবে তাতে তো কত মনুষ্য মরবে, তাই না! জাপানে যখন বম্বস ফেলেছিল, তখন দেখেছো না, কত মনুষ্য মরেছে । এবার এখানেও লড়াই হতে থাকবে । নিজেরাও তো বলো বিরক্ত লাগছে । দশ-দশ বছর পর্যন্তও লড়াই চলে । বম্বসে তো সেকেন্ডে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে । একটু আগুন লাগলেই তো শহর নষ্ট হয়ে যায় আর এটা তো বম্বস হয় । তবে আগুনও লাগবে । তোমরা বাচ্চারা জানো যে বাবা আসেনই স্থাপনা আর বিনাশ করাতে । তাই এইসব তো হবেই । পুরুষার্থ করার এখনই সময় । মায়া মুহূর্তে মুহূর্তে তোমাদের বুদ্ধিযোগ ভেঙ্গে দেয় । তোমরা অডোল স্থির হয়েছো কি ? বাবা মায়ার তুফান অনেক আসে । কেউ কেউ তো সারাদিনে আধা ঘন্টাও স্মরণ করে না । বাবা বলেন যে তোমরা হলে কর্মযোগী । আট ঘণ্টা তো এই সেবা করবে ! আট ঘণ্টা স্মরণ তো করতে পারো, আর এতোটা পুরুষার্থ করতে হবে । স্মরণে থাকলেই বিকর্ম বিনাশ হবে । একেই বলা হয় যোগ অগ্নি । আর এটাই হলো পরিশ্রম । গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও শুধুমাত্র স্মরণ করতে হবে । বাবা এটাও বলেন যে যারা গৃহস্থ ত্যাগ করে বাচ্চা হয়েছে, তারাও এতো স্মরণ করে না, যত গৃহস্থীরা স্মরণ করে । অর্জুন আর একলব্যের উদাহরন আছে না ! পরিশ্রম হলো বাবাকে স্মরণ করা আর চক্রকে বোঝা । মহাভারতের লড়াই তো অবশ্যই লাগবে । সত্যযুগে এইসব লড়াই থোড়াই থাকে । তোমাদের বাচ্চাদের তো অন্ধের যষ্টি হতে হবে । সকলকে বাবাকে স্মরণ করার পথ দেখাতে হবে আর চক্রকে স্মরণ করতে হবে । স্ব-দর্শন চক্রধারী তৈরী হও । আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহ সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার --:

১) কমপক্ষে আট ঘণ্টা স্মরণে থাকার পুরুষার্থ করতে হবে । নিজের অবস্থাকে অচল অডোল রাখার জন্য স্মরণের অভ্যাসকে বাড়াতে হবে । গাফিলতি করা চলবে না ।

২) ড্রামা একদম এক্যুরেট তৈরী হয়েছে, এইজন্য কারও ওপরে রাগ করা উচিত নয় । নিশ্চয় বুদ্ধিধারী হতে হবে ।

বরদান --: 

স্নেহী হওয়ার গুহ্য রহস্যকে বুঝে সর্বকে রাজী করাতে রাজযুক্ত, যোগযুক্ত ভব ! 

যে বাচ্চারা এক সর্বশক্তিমান বাবার স্নেহী হয়ে থাকে ,তারা সর্ব আত্মাদের স্নেহী স্বতঃ হয়ে যায় । এই গুহ্য রহস্যকে যারা বুঝে যায় , তারা রাজযুক্ত যোগযুক্ত অথবা দিব্য গুণ দ্বারা যুক্তিযুক্ত তৈরী হয় । এরকম রাজযুক্ত আত্মারা সর্ব আত্মাদের সহজেই রাজী করিয়ে নিতে পারে । যারা এই রহস্যকে বোঝে না, তারা কখনো অন্যদের বিরক্ত করে আবার কখনও নিজেই বিরক্তির ভাব প্রকাশ করে । এইজন্য সদা স্নেহীর রহস্যকে জেনে রাজযুক্ত হও ।

স্লোগান -- 

যারা নিমিত্ত হয় , তারা দায়িত্ব সামলেও সদা হাল্কা থাকে ।




***OM SHANTI***

Google+ Followers