BK Murli 22 November 2016 Tamil

BK Murli 22 November 2016 Tamil

২২-১১-১৬ প্রাতঃ মুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা বিচার সাগর মন্থন করো, সেবা করার বিভিন্ন উপায় বের করো, যাতে সবাই বাবার পরিচয় পেতে পারেl"

প্রশ্ন :- 

বাবা প্রত্যেক বাচ্চাকে উচ্চ ভাগ্য বানাবার জন্য কি কি যুক্তি বলেন ?

উত্তর :-

 যদি নিজের ভাগ্য উচ্চ বানাতে হয় , তাহলে ভিতরের সমস্ত ছি - ছি খারাপ স্বভাবকে দূর করো l যেমন মিথ্যা কথা বলা, ক্রোধ করা, এসব খুবই খারাপ অভ্যাস l সেবা কাজের শখ রাখো, যেমন বাবা স্বয়ং নিরহংকারী হয়ে সেবা করতেন l এমন ভাব ধারায় যতটা সময় থাকতে পারা যায়, অন্যের কল্যাণের নিমিত্তে সেই রুহানি সেবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখো l

গীত :- 

তোমার স্মরণে থেকেই বাঁচা, আবার তোমার স্মরণেই যেন মরা ..........

ওঁম্ শান্তি l 

মিষ্টি-মিষ্টি রুহানি বাচ্চাদের সর্বপ্রথমে এই কথাই বুঝতে হবে এবং অন্যকেও তা বোঝাতে হবে যে, বাবা আসলে কে ! বাচ্চারা তখনই অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করতে পারবে, যখন তারা নিশ্চিত হয় যে, আমরা হলাম সেই বেহদের বাবার সন্তান l এই একটি কথাতেই খুশীর পারদ চড়তে থাকে l এটা হলো স্থায়ী খুশীর একটি পয়েন্ট l তোমরা জানো যে তোমরা নিজেদেরকে যে ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারী বলে পরিচয় দাও, তা হলো এক নতুন ধারার রচনা l তাই সবার প্রথমে সকলকে এটা নিশ্চিত করাতে হবে যে ইনি হলেন আমাদের বাবা l (যা ত্রিমূর্তির চিত্রে আছে) চিত্রে বাবার নীচে আছেন বিষ্ণু, তিনি যেখানে বাবার থেকেই বিষ্ণুপুরীর বর্সা পান, তাই তো তাঁর কত খুশী হওয়া উচিত l এই কথা নিশ্চিত করেই তারপর তা লেখানো চাই l বিষ্ণুর অর্থ- যখন মানুষ নিজেকে বৈষ্ণব মনে করে l ভারতবাসী তা খুব ভালোই জানে যে এই দেবী-দেবতারা কিন্তু নির্বিকারী ছিলেন l স্বর্গে এনারাই পবিত্র প্রবৃত্তি-মার্গে ছিলো l তাই তাদের এই গুন-গানও মানুষ গায় যে- আপনারা হলেন সম্পূর্ণ নির্বিকারী, আর আমরা হলাম বিকারী l সত্যযুগ হলো সম্পূর্ণ নির্বিকারী দুনিয়া l আর কলিযুগের মানুষ সম্পূর্ণ বিকারী l বিকারীদের পতিত, দুর্নীতিগ্রস্থ বলা হয় l সন্ন্যাসীদের মধ্যেও ক্রোধ থাকে l তাই অন্যদেরকে প্রথমের দিকেই বাবার পরিচয়ই দিতে হবে l উঁচুর থেকে অতি উঁচু বাবা যখন ভারতে আসেন, তখনই এই মহাভারতের লড়াই অবশ্য করেই শুরু হয়। কারণ পরমাত্মা এসেই আমাদের পতিত থেকে পবিত্র দুনিয়ার দিশায় নিয়ে যান l এই পার্থিব শরীরের তো বিনাশ হয়েই যায় l এই কথা তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তোমাদের বাবা স্বয়ং পড়ান, তাই তোমাদের এই পড়া প্রতিদিনই অভ্যাস করতে হবে l এখানে কোনো হোস্টেল নেই, কারণ হোস্টেল বানাতে গেলে অনেক বড় বড় বাড়ী চাই l ৭ দিন বা ৪ দিনের জন্য এলেও তো অনেক ঘর-বাড়ী লাগবে l তাই বাবা বলেন যে, তোমরা গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেই কিন্তু বাবাকে স্মরণ করবে l একমাত্র এই বাবাই হলেন পতিত-পাবন l বাবা বলেন যে কেবলমাত্র আমাকেই স্মরণ করো - আমি তোমাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি যে তোমাদের সব পাপ তাতেই ভস্ম হয়ে যাবে l পারলে প্রথমে কিন্তু এই কথা লিখিয়ে নিতে হবে যে, বরাবর আমরাই হলাম শিববাবার সন্তান, তাই আমরাই এই বিশ্বের মালিকানার অধিকারী হবো l যদিও রাজা-রাণী, প্রজা সকলেই সেই বিশ্বের মালিক l প্রদর্শনীতে যারা বোঝান, বাবা তাদের নির্দেশ দেন - উঁচুর থেকেও অতি উঁচু ভগবান হলেন একজনই , এই মূল বিষযকে়ই তোমাদের বুঝিয়ে বলতে হবে l তিনিই হলেন জ্ঞানের সাগর এবং পতিত - পাবন l জ্ঞানের সাগর যিনি একমাত্র তিনিই তো সেই নির্দেশ দেবেন l কৃষ্ণ কিন্তু এই নির্দেশ দেবেন না l যেহেতু শিববাবা ছাড়া আর কেউই কিন্তু ভগবান নন l ব্রহ্মা , বিষ্ণু , শংকরও হলেন দেবতা l আর স্বর্গে থাকে দৈবীগুণ সম্পন্ন মানুষ এবং এই কলিযুগে থাকে আসুরী গুণ সম্পন্ন মানুষ l এটাও শেষের দিকে বোঝাতে হবে l প্রথমের দিকে তো বাবার পরিচয় দিয়ে সবাইকে সই করাতে হবে l বিচার সাগর মন্থন করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি বের করতে হবে তারপর বাবাকে বলতে হবে , বাবা লোকে এই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে আর আমরা এইভাবে তার বর্ণনা করি l তখন বাবাও এমন সব পয়েন্ট শোনাবেন যা শুনলে তাদের উপর তার প্রভাব পড়বে। বাবাকে সর্বব্যাপী বলা অথবা কচ্ছপ , মাছ ইত্যাদি অবতার বলাও এক ধরনের বাবার গ্লানি করা, তাই সকলকে বাবার প্রকৃত পরিচয় দিতে হবে l বাবাই তো তোমাদের এই বিশ্বের মালিক বানান l এই লক্ষ্মী - নারায়ণও এই বিশ্বের মালিকও ছিলো এবং সতোপ্রধানও ছিলো l তারপর এরা পুনর্জন্ম নিতে নিতে তমোপ্রধান হয়ে গেছে l এখন বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো তাহলে আবার সতোপ্রধান হতে পারবে l যে কোনো ধর্মের লোকই হোক না কেন , বাবার এই খবর সবার জন্য l তাঁকেই বলা হয় গড ফাদার , উদ্ধারকর্তা l মানুষকে উদ্ধার করতে অবশ্যই তাঁকে এই পতিত দুনিয়াতেই আসবে l এই কলিযুগের শেষে সমস্ত দুনিয়াই যে তমোপ্রধান , যখন এই দুনিয়া সতোপ্রধান হবে তখন সেই নতুন দুনিয়ায় তোমরাই যেতে পারবে l বাকি যারা সেখানে যেতে পারবে না তারা তখন শান্তিধামে থাকবে l এই কথা অবশ্যই বুদ্ধিতে রাখতে হবে, যারা বুঝবে তারা জানবে যে আমাদের এই বাবাকে স্মরণ করতে হবে l কোনো দেহধারীকে স্মরণ করা যাবে না l বাবা হলেন বিদেহী এবং বিচিত্র , আর অন্য সকলের চিত্র ভিন্ন - ভিন্ন l তোমাদের সকলের অন্যদের বোঝানোর জন্য আগ্রহ থাকা চাই l প্রদর্শনীতে অনেক লোক আসে l সেন্টারে কিন্তু এতো লোক আসে না l সেবাকাজের মধ্যে থাকলে বাচ্চারা খুবই আনন্দে থাকে l অন্যত্র থাকলে বাবাকে প্রতি মূহুর্তেই ভুলে যায় l কিন্তু সেবায় থাকলে তোমরা এই স্মরণের যাত্রাকে ভুলবে না l তখন তোমরা নিজেরাও স্মরণ করতে পারবে এবং অন্যকেও স্মরণ করাতে পারবে l তোমরা বাচ্চারা এখন সেই ঈশ্বরীয় পড়াই পড়ছো l তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে তোমরা এই রাজত্ব অবশ্য করেই নেবে l এই কথা স্মরণে থাকলেও তোমরা খুশীতে থাকতে পারবে l আর এই কথা যখন ভুলে যাও তখন তোমরা ঘাবড়ে যাও l তাই বাবাকে লেখা উচিত যে বাবা আমরা অতীন্দ্রিয় সুখে আছি l বাকি আর অল্প সময়ই অবশিষ্ট আছে , তারপর তো আমরা সুখধামেই যাবো l এই ৬৩-জন্ম ধরে আমরা অসুস্থই ছিলাম l জ্ঞানের ওষুধ না পাওয়ার কারণে অসুস্থই থেকে গেছি l আমাদের সামলানোর জন্যও কেউ ছিল না। তাই এই রোগ আমাদের ভিতরে ঢুকে গেছে l আর এই রোগ এমনই যে একমাত্র সেই অবিনাশী সার্জন ছাড়া কেউই আমাদের মুক্ত করতে পারবে না l এখন সবারই রোগ মুক্ত হবার সময় l পবিত্র হয়েই সবাই মুক্তিধামে চলে যাবে l কেউ কেউ বলে মুক্তিতে থাকা খুব ভালো l তখন আত্মার কোনো পার্টই থাকবে না l যেমন কোনো নাটকে কেউ অল্প পার্ট করলে তাকে হিরো, হিরোইন বা উঁচু পার্টধারী বলা যায় না l বাবা বোঝান যে যতটা সম্ভব বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা এই বিষয়ে পাকাপোক্ত ধারণার হয়ে যাবে l বাবাকে স্মরণ করা থেকে কিন্তু বিরত থাকা যাবে না l যেহেতু মুখ্য হলেন একমাত্র বাবা l বাকি যে ছোটো ছোটো ছবিগুলি আছে বোঝানোর জন্য , তা দিয়ে প্রমান-সিদ্ধ করতে হবে যে শিব ও শংকর এক নয় l এছাড়া সুক্ষ্ম বতনে তো কোনো কথা হয় না l এখন তোমরা বোঝো যে এইসব ছিলো ভক্তি মার্গ , কিন্তু জ্ঞান দাতা হলেন কেবলমাত্র একজন- তিনি শিববাবা l এই জ্ঞান তিনি দেন কেবল মাত্র সঙ্গম যুগেই , এই কথা তোমরা নিশ্চিত করো l ভারতবাসীরা তো কল্পে কল্পেই স্বর্গের বর্সা বা সম্পত্তি প্রাপ্ত করে আসছে। আর এই কল্প হলো ৫০০০ বছরের কথা l অথচ দুনিয়াদারীর মানুষেরা একে লাখ লাখ বছর এমনটাই বলে দেয় l ওরা বলে শুধু মাত্র কলিযুগই হলো লাখ বছরের আর আমরা বলি সম্পূর্ণ চক্রটাই হলো ৫০০০ বছরের l এ কতো বড় মিথ্যা কথা l মানুষ ডাকতে থাকে "হে পতিত - পাবন l" কৃষ্ণকে তো আর পতিত - পাবন বলা হবে না l কোনো ধর্মের লোকই কৃষ্ণকে উদ্ধারকর্তা বলবে না l যখন মানুষ হে পাতিত - পাবন বলে ডাকে তখন বুদ্ধি ওপরের দিকেই যায়, তবুও মানুষ তা বুঝতে পারে না l মায়া কতখানি অন্ধকার সৃষ্টি করে রেখেছে। তাইতো এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে যায় l অজ্ঞানী মানুষেরা বলে যে শাস্ত্র হলো অনাদি l কিন্তু সত্যযুগ আর ত্রেতা যুগে এই মায়ার প্রভাব থাকে না l এই ঈশ্বরীয় পড়া হলো এমনই যা অসুস্থ অবস্থাতেও ক্লাসে বসে পড়া যায় l এখানে কোনো বাহানা করা চলে না l গরু তো খুবই ভালো, আবার কোনো কোনো গরু অনেক লাথিও মারে l এখানেও যার ক্রোধ বেশী থাকে সে অহংকারের বশে অন্যকে লাথিও মেরে দেয় l সে সেবা বিরোধী কাজ করে ফেলে l তাই কোনো ধরনের অপগুণ রাখা চলবে না l কিন্তু কর্মবন্ধন এমনই থাকে যে উঁচু পদ পেতে দেয় না l বাবা উচ্চ ভাগ্য বানানোর রাস্তা বলে দেন l কিন্তু কেউ যদি না তা বানাতে চায় তাহলে বাবা আর কি বা করবেন , এ যে হলো খুব বড় কামাই l এই কামাই করার ইচ্ছা থাকা চাই l কামাই না করলে তার পরিনাম কি হবে l কল্প কল্প তবে এমনই হাল হবে l বাবা তো সকলকেই সাবধান করেন, কিন্তু অপমান করেন না l এমন কিছু কিছু অভ্যাস বাচ্চাদের মধ্যে থাকা উচিত নয় l যেমন মিথ্যা কথা বলা খুবই খারাপ l এই যজ্ঞের সেবা খুশী সহকারে করা উচিত l বাবার কাছে এলে বাবা ইঙ্গিত দেন যে তোমরা সেবা করো l যিনি তোমাদের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁর সেবা তো অবশ্যই করতে হবে l আর এই সেবা করা বাবাই শেখান l তোমরা দেখো , উঁচুর থেকে উঁচু বাবাও তোমাদের উনি কত সেবা করেন l যেই কাজ অজ্ঞান অবস্থায় কখনও করোনি, প্রয়োজনে তাও করতে হবে l এতটাই নিরহংকারী হতে হবে তোমাদেরl নিয়ম বিরুদ্ধ কোনো কাজই করা যাবে না l যতটা পারা যায় অন্যের কল্যাণ নিমিত্তেই সবকিছু নিজের হাতে করতে হবে l হতাশা বা বেপরোয়া অবস্থায় কিছু করানো হলে সে হোলো অন্য কথা l নিজেকে নিরহংকারী আর নির্মোহী বানাতে হবে l বাবার স্মরণ ছাড়া কারোরই কল্যাণ করা যায় না l যতই বাবাকে স্মরণ করবে ততই পবিত্র হতে পারবে l কিন্তু এই স্মরণেই যত বিঘ্ন আসতে থাকে l জ্ঞানে এতো বিঘ্ন হয় না , জ্ঞানে তো কত অনেক পয়েন্ট থাকে l নিরন্তর বাবার স্মরণে থাকলেই তোমরা সুগন্ধযুক্ত ফুল তৈরী হবে l আর যদি কম করে স্মরণ করো তাহলে রতন - জ্যোতি (জুঁই ফুল) হবে l কেউ কেউ আকন্দ ফুলও তো হয় l তাই নিজেকে সুগন্ধযুক্ত ফুলই বানানো চাই l তাই কোনো দুর্গন্ধ যেন তোমাদের মধ্যে না থাকে l আত্মাকে সুগন্ধযুক্ত হতেই হবে l এতো ছোটো বিন্দুর মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞানটাই ভরা আছে -এ তো খুবই আশ্চর্যের l এই সৃষ্টি কিন্তু অবস্থান করে একই জায়গায় l ওপরে বা নীচে আর কোথাও তা নেই l ত্রিমূর্তির অর্থও তোমরা জানো l অন্যেরা কেবল তার নাম রেখেছে - ত্রিমূর্তি মার্গ l কেউ কেউ আবার ব্রহ্মাকেই ত্রিমূর্তি বলে দেয় l যদিও তাঁর জীবনী সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না l শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ আছে শ্রেষ্ঠাচারী মানুষের জীবন কাহিনী l লক্ষ্মী - নারায়ণ, রাধা - কৃষ্ণ ইত্যাদি তারা সকলেই হলেন মানুষ l কিন্তু অন্য সকলেরই জীবন কাহিনীকে শাস্ত্র বলা যাবে না l কেবল দেবতাদের জীবন কাহিনীকেই শাস্ত্র বলা হয় l কিন্তু শিববাবার জীবন কাহিনী- তা আছে কোথায় ? যেহেতু শিববাবা হলেন নিরাকার l তাই তিনি নিজেই বলেন, আমি হলাম পতিত - পাবন , আমাকেই সবাই বাবা বলে ডাকে l আমিই এসে স্বর্গের স্থাপন করাইl ভারত ৫০০০ বছর আগে স্বর্গই ছিলো l এখন আবার সেই স্বর্গেরই স্থাপন হবে l এ কতো সহজ সরল কথা l কিন্তু মানুষের বুদ্ধি এতই পাথরতুল্য নির্বুদ্ধির হয়েছে যে তাদের মগজের সেই তালা-ই খোলে না l জ্ঞান আর যোগের এই তালা বন্ধই হয়ে আছে I বাবা বলেন যে প্রতি ঘরে ঘরেই খবর দাও যে উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিব বাবা l ফার্স্ট ফ্লোর হলো মূলবতন আর সেকেন্ড ফ্লোর হলো সূক্ষ্ম বতন l আর থার্ড ফ্লোর হলো এই সাকারী দুনিয়া l যদি বাচ্চাদের এই ফ্লোর-ও স্মরণে আসে তাহলেও বাবাকে অবশ্যই স্মরণে আসবে l সার্ভিস করার জন্য তোমাদের কিন্তু চারদিকেই ছুটতে হবে l বাবা কোথাও যাবার জন্য তোমাদেরকে কিন্তু বারণ করেন না l বিয়ে বাড়ী বা তীর্থস্থান যেখানেই যাও, সেখানেই সেবা করো l ভাষণ দাও - বলো এক হলো রুহানী যাত্রা আর দ্বিতীয়টি হলো শরীরের সাহায্যে তীর্থ-যাত্রা l পয়েন্ট তো তোমরা অনেকই পাও l বানপ্রস্থী লোকেদের দলে গিয়ে সেবা করো l তাদের কথাও শোনো, ওনারা কি কি বলেন l হাতে তোমাদের পর্চা বা বিজ্ঞাপণপত্র থাকা দরকার l সেখানে মুখ্য ৪/৫-টি কথা যেন অবশ্যই লেখা থাকে - ঈশ্বর সর্বব্যাপী নয়, গীতার ভগবান কৃষ্ণ নন, এই কথাগুলি পরিষ্কার ভাবে লিখে দাও l যে কেউ এই কথা পড়লে তা বুঝতে পারবে- তাই তো এটা তো সত্যি! যদিও এর জন্য অনেক বুদ্ধি থাকা দরকার l বাবা ত্রিমূর্তির জন্যও বুঝিয়ে বলেন l প্রতি মুহুর্তে সেটা প্যাকেট থেকে বের করে দেখতে থাকো l যে কোনো কাউকেই বুঝিয়ে বলো - ইনি হলেন বাবা , আর এই তাঁর বর্সা বা সম্পত্তি l বিষ্ণুর চিত্রও খুব সুন্দর l ট্রেনে গিয়েও তোমরা সার্ভিস করতে পারো - সবাইকে বলো যে বাবাকে স্মরণ করো তাহলেই বিশ্বের মালিক হতে পারবে l এই সেবা কিন্তু অনেক ধরনের হয় l কিন্তু কারোরই বুদ্ধিতে তা আসে না l তোমাদের কিন্তু অনেক পুরুষার্থ করতে হবে l লড়াইয়ের ময়দানে আলস্য করা চলবে না l তোমাদের খুব সতর্কও থাকতে হবে l মন্দিরেও কিন্তু অনেক সেবাকাজ হতে পারে l বাবা কেবলমাত্র বলেন , "মনমনাভব l" আর তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হও l এই মুখ্য বিষয়টাকেই পাকা করতে হবে l বাচ্চাদের এই সেবার ইচ্ছা ও আগ্রহ খুবই রাখতে হবে l এই ত্রিমূর্তির ছবিতেই সম্পূর্ণ জ্ঞান ভরা আছে l সিঁড়ির ছবিও খুবই সুন্দর l ধন বা সৌভাগ্য কামানোর জন্য প্রত্যেকটি মানুষই নিজের উন্নতি চায় l ছোটো বাচ্চাদেরও এই সেবার বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে বলো, দেখো তারাও তখন সেবায় যোগ দেবে l এটাই ব্রহ্মাকুমার - কুমারীর অতি আশ্চর্যের বিষয় যে ছোটো ছোটো বাচ্চারাও এতো জ্ঞানের কথা জানে যা সন্ন্যাসীরাও দিতে পারে না l নিঃখরচায় কোনো জিনিস পাওয়া গেলে ভাববে এ আমাদের কল্যাণের জন্যই দিচ্ছে l বলো, এ হবো ফ্রি l তোমরা পড় আর নিজেদের কল্যাণ করো l শিববাবা হলেন ভোলা ভাণ্ডারী l তাঁর অনেক বাচ্চা l বাবার পয়সার কি প্রয়োজন l ট্রেনেও কিন্তু তোমরা অনেক সেবা করতে পারো l কোনো ভালো মানুষকে যদি দেখো, তাহলে চট্ করে তাকে বুঝিয়ে ছবি দিয়ে দেওয়া দরকার l তাদের বলো যে তোমরা নিজেদেরও কল্যাণ করো আর সঙ্গে সঙ্গে অন্যেরও কল্যাণ করো l আচ্ছা l
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা ও বাপদাদার স্নেহ সুমনের স্মরণ, ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) নিয়ম বিরুদ্ধ কোনও কার্যই করবে না l খুবই নিরহংকারী আর নির্মোহী থাকতে হবে l যতটা সম্ভব নিজের কাজ নিজের হাতেই করতে হবে l এই যজ্ঞের সেবা খুব খুশীর সঙ্গে করতে হবে l

২) এই ঈশ্বরীয় পাঠেতে কোনো বাহানা করা চলবে না l অসুস্থ অবস্থাতেও এই পড়া অবশ্যই পড়তে হবে l সবসময় আনন্দে থাকার জন্য মনেতে সেবার শখ রাখতে হবে l

বরদান :- মনমত, পরমতকে দূর করে বাবার শ্রীমতে চলে প্রতি পদে কামাই জমা করে পদমাপদম ভাগ্যশালী হও l

বিস্তার :- 

শ্রীমতে চলতে থাকা বাচ্চাদের কোনও সংকল্পেই মনমত বা পরমতের মিশ্রণ চলবে না। নিজের স্থিতির গতি যদি তীব্র না হয়, তবে অবশ্যই সেই শ্রীমতে কিছু না কিছু মনমত বা পরমতের মিশ্রণ ঘটেছে। মনমত অর্থাৎ অল্প জ্ঞানধারী আত্মার সংস্কার অনুসারে যে সংকল্প উৎপন্ন হয়, আর তাতেই স্থিতি নড়বড়ে হতে থাকে। এই কারণেই নিজের মতকে যেমন তা পরীক্ষা করবে, অপরকেও তা করতে বলবে। লক্ষ্য রাখবে কোনও কার্যই যেন শ্রীমত ছাড়া না হয় - এমনটি হলেই পদ্মাপদম্ কামাই জমা করে, পদ্মাপদম্ ভাগ্যশালী হতে পারবে।

স্লোগান :- 

মনে সবার প্রতিই কল্যাণের ভাবনা যেন সদা জাগ্রত থাকে - এটাই হলো বিশ্ব কল্যাণকারী আত্মার কর্তব্য l


Google+ Followers