Showing posts with label BK-Bengali-Murlis. Show all posts
Showing posts with label BK-Bengali-Murlis. Show all posts

BK Murli In Bengali 14 August 2016

BK Murli In Bengali 14 August 2016

১৪-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "অব্যক্ত-বাপদাদা" রিভাইস: ০৩-১১-৮১ মধুবন' যোদ্ধা নয় দিলতখ্তনশীন অর্থাৎ হৃদয় আসনে বিরাজমান হও 'আজ দূরদেশ নিবাসী বিদেশী পিতা নিজের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন । বাচ্চাদেরও স্বদেশের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং সমর্থ স্বরূপে পরিণত করে সঙ্গে নিয়ে যেতে এসেছেন । স্বদেশ স্মরণে এসেছে তাইনা ? এই হল অন্যের দেশ, অন্যের রাজ্য, যেখানে সবকিছু পুরনো দেখা যায়। ব্যক্তি দেখো কিংবা বস্তু সবকিছুই কি রূপ দেখা যায় ? সবকিছুই জর্জরিভূত অবস্থায় পৌঁছেছে । চতুর্দিকে অন্ধকার ছেয়ে আছে। এমন দেশে তোমরা সবাই বন্ধনে থেকে বন্ধনযুক্ত আত্মা রূপে পরিণত হয়েছ তখন বাবা এসে স্বরূপ এবং স্বদেশের স্মৃতি দ্বারা বন্ধনমুক্ত করে স্বদেশে নিয়ে যাচ্ছেন । সাথে সাথে স্বরাজ্যের অধিকারীওকরছেন । তাহলে সবাই নিজের স্বদেশে ফিরে যেতে তৈরী হয়েছ তো ? অথবা যেমন তোমরা একটা ড্রামা দেখাও যে স্বর্গে যাওয়ার ইচ্ছে থাকা সত্বেও কেউ বিশেষ জনই যাওয়ার জন্যে তৈরী হয়। এমনভাবে কথা ঘুরিয়ে " যাব-যাব " বলবে না তো ?হিসাব নিকেশ মিটিয়ে নিয়েছ নাকি এখনও কিছু বাকি রয়েছে ? নিজের হিসাব নিকেশের সমাপ্তির সমাপ্তি সমারোহ পালন করেছ নাকি এখনও তৈয়ারী চলছে? এমন ভাবছ না তো যে অন্ত সময়ে সমাপ্তি সমারোহ পালন করবে? সমাপ্তি সমারোহ এখন থেকে পালন করলে তবেই অন্ত সময়ে সম্পূর্ণতার সমারোহ পালন করতে পারবে l এই পুরনো হিসেব নিকেশ সমাপ্ত করতে হবে। সেইসব এখন করলে বহুকালের জন্যে বন্ধনমুক্ত , জীবনমুক্ত পদের প্রাপ্তি করতেপারবে । নাহলে অন্ত সময় পর্যন্ত যোদ্ধা স্বরূপ রয়ে যাবে। যেঅন্ত সময় পর্যন্ত যোদ্ধা জীবনে থাকে তার প্রালব্ধ কি রূপ হবে? যোদ্ধা জীবন তো শৈশবের জীবন । এবারে তো স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছ? স্মৃতির তিলক , বাবার হৃদয় আসনে বিরাজমান হয়েছ। আসনে বিরাজিত হয় যারা যোদ্ধা হয় কি তারা ? যুদ্ধের প্রালব্ধ সিংহাসন এবং মুকুটের প্রাপ্তি তো হয়েছে। বর্তমানের প্রালব্ধ বা প্রত্যক্ষফল প্রাপ্ত হয় নি এখনও ?এইসঙ্গমযুগের প্রালব্ধ প্রাপ্ত হয়েছে নাকি প্রাপ্ত হয়নি ? কিগান গাও তোমরা ? যা পাওয়ার ছিল পাওয়া হয়েছে ? যখন বর্তমানের সাথে ভবিষ্যতের সম্বন্ধ রয়েছে , তো ভবিষ্যতের প্রালব্ধ হল ২৫০০ বর্ষের, তবে কি বর্তমানের প্রালব্ধ অন্ত সময়ের ৫-৬ মাসের হবে অথবা ৫ দিনের হবে বা ৫ ঘন্টার হবে অথবা সঙ্গমযুগ বহুকালের হবে? যদি সঙ্গমযুগের প্রালব্ধ বহুকালের না হয় তো ভবিষ্যতের প্রালব্ধ বহুকালের হবে কিভাবে ?ওখানকার ২৫০০ বর্ষ , এখানের ২৫ বছরও নয় ? ডাইরেক্ট বাবার বাচ্চা হয়ে সঙ্গমযুগের সদাকালের বর্সার প্রাপ্তি না করলে আর করলে কি? সর্ব খাজানার মালিকের বালক হয়ে খাজানা সম্পন্ন না হলে মালিকের সন্তান হয়ে লাভ কি?" সফলতা হল আমাদের জন্ম সিদ্ধ অধিকার " । এই কথা বলে সদা সফলতার অনুভব না করলে জন্ম সিদ্ধ অধিকারী হয়ে করলে কি? ভাগ্য বিধাতা দুই পিতার সন্তান হয়ে সদা পদমাপদম ভাগ্যশালী না হলে দুই পিতার সন্তান হয়ে লাভ কি? শ্রেষ্ঠ কর্মের বা শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অতি সহজ বিধি বরদাতা বাবা দিয়েছেন তবুও সিদ্ধি স্বরূপ না হলে লাভ কি?যুদ্ধ করা, পরিশ্রম করা , ধীরে ধীরে আরামে চলা .... এইসব কি খুবই পছন্দের ? যুদ্ধের মাঠ পছন্দ হয়? হৃদয় আসন পছন্দ নয় কি? যদি আসন পছন্দ তাহলে আসনে বিরাজিত রইলে মায়ার আগমন ঘটবেনা। আসন ছেড়ে নীচে যুদ্ধের মাঠে নেমে যাও তাই পরিশ্রম করতে হয়। যেমন অনেক বাচ্চারা আছে , লড়াই ঝগড়া ছাড়া থাকতে পারেনা আর যে আসবে তার সঙ্গেই নিজের থেকে কিছু না কিছু নিয়ে কষাকষি করতেই থাকবে। যুদ্ধের সংস্কার রাজ্য সিংহাসন ছাড়িয়ে যুদ্ধের ময়দানে নিয়ে যায়। এখন যুদ্ধের সংস্কার সমাপ্ত করো।রাজ্যের সংস্কার ধারণ করো , প্রালব্ধের অধিকারী হও তবেই ভবিষ্যতের বহুকালের প্রালব্ধের অধিকারী হবে। অন্ত সময় পর্যন্ত যোদ্ধা স্বরূপ জীবন রইলে কি পদ প্রাপ্ত করবে? চন্দ্রবংশী হতে হবে।সূর্যবংশীদের চিহ্ন কি - সদা খুশীর রাসক্রিয়ায় মগ্ন থাকে তারা। সর্বদা অতিন্দ্রীয় সুখের দোলায় দোল খায় তারা। চন্দ্রবংশী রামকে কখনো দোলনায় ঝোলানো হয়না। রাস দেখানো হয়না । যুদ্ধের তীর ধনুক দেখানো হয়। পিছনের রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করবে। অর্ধেক সময়ের রাজ্য বহুকালের তো হলনা তাইনা !তো সর্বদা দোলনায় দোল খাও । সর্বের সঙ্গে রাস মিলিয়ে খুশীর রাস করতে থাকো। একেই বলা হয় সঙ্গমযুগের প্রালব্ধ স্বরূপ। পুরুষার্থী , এই শব্দটিও কতটা পর্যন্ত ?এখনই পুরুষার্থী , এখনই প্রালব্ধের অধিকারী । সঙ্গমের পুরুষার্থী , সত্যযুগের প্রালব্ধের অধিকারী হবেনা । সঙ্গমযুগের প্রালব্ধী হতে হবে। এখনই বীজ বপণ করো, এখনই ফল খাও। যখন সাইন্স প্রতিটি কাজে প্রাপ্তির গতি তীব্র করেছে, তো সাইলেন্সের শক্তি সমূহ নিজের গতি তারচেয়ে তীব্র করবে নাকি এক জন্মে করবে আর পরের জন্মে পাবে ? তারা ধ্বনির গতি থেকেও তীব্র যেতে চায়। সব কর্ম সেকেন্ডের গতি থেকেও এগিয়ে করতে চায়। এত বিশাল বিশ্বের বিনাশ কার্য কত অল্প সময়ের মধ্যে করতে রেডি হয়েছ ? তাহলে স্থাপনার কার্যে নিমিত্ত আত্মারা সেকেন্ডে করা, সেকেন্ডে প্রাপ্তি , এমন তীব্র গতির অনুভবী হবেনা । বুঝলে - এখন তোমাদের কি করণীয় ? প্রত্যক্ষফল খাও। প্রত্যক্ষফল ভাল লাগেনা ? পরিশ্রমের ফল ভাল লাগে? পরিশ্রমের শুকনো ফল খেয়েই এমন দুর্বল , নয়নহীন , বুদ্ধিহীন , শ্রেষ্ঠ কর্মহীন হয়েছ। এবারে তো তাজা প্রত্যক্ষফল খাও। মেহনতকে মুহব্বতে অর্থাৎ পরিশ্রমকে প্রেম-ভালবাসায় পরিবর্তন করো। আচ্ছা ।এমনই সর্বদা রাজ্য বংশী সংস্কার যুক্ত , সদা সর্ব খাজানার অধিকারী অর্থাৎ যে বালক সেই মালিক , সদা সঙ্গমযুগী প্রালব্ধের অধিকারী স্বরূপ সংস্কার যুক্ত , প্রত্যক্ষফল গ্রহণকারী , এমনই সদা প্রাপ্তি স্বরূপ , সদা সর্ব বন্ধনমুক্ত, সঙ্গমযুগী জীবনমুক্ত , এমন তখ্ত - তাজধারী অর্থাৎ রাজ সিংহাসন - রাজমুকুটধারী বাচ্চাদেরকে বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং নমস্কার ।পার্টিদের সাথে পার্সোনাল সাক্ষাৎকার :-১. সর্বদা রূহানী নেশায় স্থিত থাকো কি? রূহানী নেশা অর্থাৎ আত্ম-অভিমানী স্বরূপে স্থিত হওয়া । সর্বদা চলতে ফিরতে আত্মা দর্শন করা , এই হল রূহানী নেশা । রূহানী নেশায় সর্বদা প্রাপ্তির অনুভব সহজেই হবে। যেমন স্থূল নেশায় মত্ত মানুষ নিজেকে প্রাপ্তিবান ভাবে তেমনই এই রূহানী নেশায় থাকলে আত্মারা সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপে পরিণত হয়। এই নেশায় থাকলে সর্বপ্রকারের দুঃখ মিটে যায়। দুঃখ এবং অশান্তির বিদায় ঘটে । যখন সদাকালের জন্যে সুখদাতার , শান্তিদাতার সন্তান হয়েছ তবে দুঃখ অশান্তির বিদায় তো ঘটেছে তাইনা ! অশান্তির নাম-গন্ধ নেই । শান্তির সাগরের সন্তান অশান্ত কিভাবে হতে পারে ? রূহানী নেশায় অর্থাৎ দুঃখ অশান্তির সমাপ্তি । এর বিদায় সম্মেলন পালন করেছ ? কারণ দুঃখ অশান্তির উৎপত্তি হয় অপবিত্রতার আধারে। যেখানে অপবিত্রতা নেই, সেখানে দুঃখ অশান্তি আসবে কোথা থেকে। পতিত-পাবন পিতার সন্তান মাস্টার পতিত-পাবন হল কিনা। যে অন্যদের পতিত থেকে পবিত্র করে , সে স্বয়ং পবিত্র তো হবেই তাইনা । যে আত্মা পবিত্র পাবন , তার কাছে সুখ এবং শান্তি স্বত:তই থাকে। তাহলে পবিত্র আত্মা, শ্রেষ্ঠ আত্মা বিশেষ আত্মা হলে কিনা? বিশ্বের মহান আত্মা হয়েছ কারণ বাবাকে আপন করেছ। সবচেয়ে বিশাল মহানতা হল পবিত্র স্বরূপে পরিণত হওয়া সেইজন্য আজও এই মহানতার সম্মুখে মাথা নোয়ায়। সেই সব জড়- চিত্র গুলি কাদের ? এখন মন্দিরে গিয়ে কি বুঝবে ? কাদের পূজো হচ্ছে ? স্মৃতিতে আসে কি এই সবই আমাদের জড়-চিত্র । নিজেকে এমন মহান আত্মা ভেবে চলো। এমনই দিব্য দর্পণ হয়ে যাও যাতে অনেক আত্মারা নিজের আসল চেহারা দেখতে পায়।২. সর্বদা চড়তি কলায় অর্থাৎ আরোহী কলায় এগিয়ে চলেছ তো ? প্রতিটি পদক্ষেপে আরোহী কলার অনুভবী । সঙ্কল্প , বচন , কর্ম , সম্পর্ক এবং সম্বন্ধে সর্বদা আরোহী কলা কারণ বর্তমান সময়টাই হল আরোহী কলায় যাওয়ার সময় আর অন্য কোনো যুগ আরোহী কলার সময় নয়। সঙ্গমযুগই হল আরোহী কলায় যাওয়ার যুগ , তাহলে যেমন সময় তেমনই অনুভব হওয়া উচিত । যে সেকেন্ড পার হল তার পরের সেকেন্ড এল , প্রতি সেকেন্ডে আরোহী কলা। এমন নয় দুই মাস পূর্বে যেমন ছিলে এখনও তেমনই রয়েছ। প্রতিটি সময় পরিবর্তন । কিন্তু পরিবর্তনও হওয়া উচিত আরোহী কলার। কোনো কথায় থামলে চলবেনা । আরোহী কলায় এগিয়ে যেতে হবে, সর্বদা অন্যদেরও এগিয়েনিয়ে যেতে হবে।প্রশ্ন : - যে সর্বদা উড়ন্ত পাখি হবে তার প্রমাণ কি ?উত্তর :- তারা হবে চক্রবর্তী । অলরাউন্ড পার্টধারী । উড়তি কলার আত্মারা এমনই নির্বন্ধন হবে যে যেখানেই সেবা প্রয়োজন, তারা পৌঁছে যাবে। এবং সব রকমের সেবায় সফলতামূর্ত হবে। যেমন বাবা হলেন অলরাউন্ড পার্টধারী , বন্ধুও হতে পারেন পিতাও হতেপারেন , এমনই উড়তি কলার অধিকারী যখন যে সেবার প্রয়োজন পড়বে তখনই সম্পন্ন স্বরূপ দ্বারা পার্ট প্লে করতে পারবে, একেই বলা হয় - ' অলরাউন্ড উড়ন্ত পাখি ' । আচ্ছা ।প্রশ্ন : - সাকার ব্রহ্মার অনেক ভূজা বিখ্যাত কেন ? এই কথাটি কাদের স্মৃতিচিন্হ ?উত্তর :- এই কথাটি হল তোমাদের সহযোগী স্বরূপের স্মৃতি চিহ্ন। যেমন দেহের বিশেষ কার্যকর্তা হল ভূজা তেমনই বাপদাদার কর্তব্যে কার্যকর্তা নিমিত্ত রূপে তোমরা হলে সবাই বাচ্চারা। যে বাচ্চারা সর্বদা যথার্থ রূপে সাথী ও সহযোগী রূপে রয় তাদের বলা হয় - রাইট হ্যান্ড ।প্রশ্ন :- রাইট হ্যান্ডের বিশেষত্ব গুলি কি ??উত্তর :- রাইট হ্যান্ড সদা স্বচ্ছ অর্থাৎ শুদ্ধ এবং শ্রেষ্ঠহয়। যেমন কোনো শ্রেষ্ঠ ও শুদ্ধ কর্ম শরীরের রাইট হ্যান্ডের দ্বারা করা হয় , তেমনই বাপদাদার সহযোগী রাইট হ্যান্ড সদা কথায় , কর্মে এবং সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ ও শুদ্ধ অর্থাৎ পিওর থাকে।২. যেমন ভূজার দ্বারা কার্য সম্পন্ন করার শক্তি একমাত্র আত্মা , ভূজা হল করনহার (যে করে) এবং আত্মা হল করাবনহার ( যে করায় ) , তেমনই রাইট হ্যান্ড সদা সহযোগী নিজের করাবনহার বাবার স্মৃতিতে থেকে নিমিত্ত করনহার রূপে পরিণত হয়। স্বয়ংকে করাবনহার ভাবেনা , তাই তাদের প্রতিটি কর্মে পৃথক ভাব ( ডিট্যাচ ) , নিরহংকারী স্বরূপ এবং নম্রচিত্ত স্বরূপ এই তিনটি স্বরূপের নব-নির্মাণের শ্রেষ্ঠতা ভরা থাকে।৩. রাইট হ্যান্ড বিশেষ শক্তিশালী হয় । রাইট হ্যান্ড সহযোগী আত্মা সদা বিশ্ব-কল্যাণ , বিশ্ব-পরিবর্তকের কার্যের দায়িত্বের ভার সহজেই নিতে পারে।৪. তাদের কাজের গতি অর্থাৎ স্পীড তীব্র হয়। তারা প্রতিটি বিষয়ের ধারণা এবং প্র্যাক্টিকাল স্বরূপ প্রত্যক্ষ করতে তীব্র পুরুষার্থী হবে , সর্বদা এভাররেডি হবে।প্রশ্ন :- লেফ্ট হ্যান্ড সহযোগী ভূজাদের চিহ্ন কি?উত্তর :- তাদের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে অস্বচ্ছতা অর্থাৎ সংকল্প , বাণী ও কর্মে কখনও কিছু-কিছু অশুদ্ধতা থেকে যায় অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়না ।২. তাদের পুরুষার্থের গতিতে তীব্রতা কম থাকে । করবে , ভাববে , কিন্তু লেফ্ট অর্থাৎ লেট করবে। সঙ্গে থাকবে , কর্ম করবে, কিন্তু পূর্ণ দায়িত্ব নেবার সাহস থাকবেনা । সদা হিম্মত , উল্লাসে ভরপুর থাকবে কিন্তু নিরাধার হবেনা ।৩. তাদের স্টেজ কতকটা উকিল অর্থাৎ ল'য়ার স্বরূপ থাকে। কায়দা বেশী ভাববে আর ফায়দা ( লাভ ) কম পাবে। স্বয়ং , স্বয়ং-এর জাস্টিস হতে পারবেনা । প্রতিটি ছোটো কথায় ফাইনাল জাজমেন্টের জন্যে জাস্টিসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। তাহলে এবারে নিজেকে চেক করো যে রাইট হ্যান্ড নাকি লেফ্ট হ্যান্ড ?প্রশ্ন :- সব বাচ্চাদের মনে যে বিশ্ব-পরিবর্তনের শুভ সঙ্কল্প আছে, সেই সঙ্কল্প কবে পুরো হবে?উত্তর :- যখন নিজের সম্পূর্ণ পরিবর্তন করবে। যত নিজের পরিবর্তনে ঘাটতি থাকবে ততই বিশ্ব-পরিবর্তনের গতি কম হবে। স্বয়ং-এর পরিবর্তনের সাহায্যে সময়ের পরিবর্তন করতে পারবে । স্বয়ংকে দেখো তাহলেই সময়ের জ্ঞান স্বত:তই প্রাপ্ত করবে কারণ পরিবর্তনের সময়ের ঘড়িও হলে তুমি । বিশ্বের অর্থাৎ সর্ব আত্মাদের নজর , এবারে তোমরা যে সময়ের ঘড়ি রূপে নিমিত্ত আত্মারা রয়েছ , তাদের উপরে রয়েছে যে এখন আর কত সময় বাকি আছে।বরদান :- মনন শক্তির সাহায্যে শক্তিশালী হয়ে বিঘ্নের গতিকে সমাপ্ত করতে পারে এমন সর্ব আকর্ষণ মুক্ত ভব।ব্যাখ্যা :- বর্তমান সময় মননশক্তি দ্বারা আত্মাতে সর্ব শক্তি ভরার প্রয়োজন । এর জন্যে অন্তর্মুখী হয়ে প্রতিটি পয়েন্টকে মনন করো তাহলেই মাখন বের হবে এবং শক্তিশালী স্বরূপে পরিণত হবে। এমন শক্তিশালী আত্মারা অতিন্দ্রীয় সুখের প্রাপ্তির অনুভব করে , তাদের অল্পকালের কোনো বস্তু নিজের দিকে আকর্ষিত করতে পারেনা। তাদের মগ্ন অবস্থা দ্বারাযে আত্মিক শক্তিশালী স্থিতি নির্মিত হয় তার দ্বারা বিঘ্নেরগতি সমাপ্ত হয়ে যায়।শ্লোগান :- ব্রাহ্মণ সংসারে সবার সম্মান যারা প্রাপ্ত করে তারা-ই তখ্তনশীন বা আসনে বিরাজিত হয়।


***Om Shanti***

BK Murli 11 August 2016 Bengali

BK Murli 11 August 2016 Bengali

 ১১-০৮-২০১৬ : প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন।

"মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছো যে, তোমরা তোমাদের যোগবলের দ্বারা এই ভারত-ভূমিকেই স্বর্গে পরিণত করবে। যেখানে একটি মাত্র ধর্ম এবং একটি মাত্র রাজত্ব থাকবে।"


প্রশ্ন :- 

মায়ার এমন কোন বিঘ্নের হাত থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে পারলে, চমৎকার কিছু করে দেখানো যায় ?

উত্তর :- 

মায়ার সবচাইতে বড় বিঘ্ন হলো - দেহ-অভিমান জাগ্রত করিয়ে একে অপরের নাম-রূপের মোহজালে জড়িয়ে রাখে l কিন্তু যারা মায়ার প্রবঞ্চনার বিঘ্ন থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পারে, সে অনেক কিছুই দক্ষতা দেখাতে পারে। তার মন-বুদ্ধিতেও সেবা-কার্যের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন পরিকল্পনা আসতে থাকে। আর এই সেবা-কার্য তখনই উন্নতমানের হয়, যখন সে দেহী-অভিমানী স্থিতিতে থাকতে পারে।

ওঁম্ শান্তি ! 

বাবা ধরায় অবতরণ করেছেন - রূহানী (ঈশ্বরীয়) বাচ্চাদের ওঁনার শ্রীমত জানাতে। বাচ্চারা তো অবগত আছেই যে, অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুযায়ী আর অল্প কিছু কালের মধ্যেই যুগ পরিবর্তনের সব কার্য্যই সম্পূর্ণ হতেই হবে। এই রাবণ-পুরীই তখন বিষ্ণু -পুরীতে পরিবর্ত্তিত হবে। নিরাকার বাবা স্বয়ং যেমন গুপ্ত - ওঁনার শিক্ষা পদ্ধতিও তেমনি গুপ্ত। যদিও এখন প্রচুর সংখ্যাতেই সেন্টার এবং পাঠশালা আছে। ছোট বা বড়, গ্রাম বা শহরে, সেন্টার তো সর্বত্রই আছে। সেগুলিতে বহু বাচ্চাদেরও সমাগম হয়। এরপর দিন-প্রতিদিন তারও বৃদ্ধি হতে থাকবে। পুঁথি-পত্রে, গল্পে-সাহিত্যেও একথা লেখা আছে যে, আমরা এই ভারত-ভূমিতেই স্বর্গের রচনা করবো। তাই তো এই ভারত-ভূমি তোমাদের এত ভাল লাগে, যেহেতু তোমাদের স্মৃতিতে তা সুপ্ত অবস্থায় আছে , এই ভারত-ভূমিই একদা স্বর্গ-রাজ্য ছিল। যা ৫ হাজার বছর পূর্বে ঘটেছিল। তখন, ভারত খুবই উন্নত ও প্রতিপত্তিশালী রাজ্য-ভূমি ছিল। আর এ সব কথা কেবল তোমরাই জানো- যারা ব্রহ্মার মুখ-বংশাবলী বাচ্চা হয়েছো। শ্রীমত অনুসারে চলেই, এই ভারত-ভূমিতেই আবার স্বর্গরাজ্য স্থাপন করতে হবে। আর সবাইকেই সে দিশা জানাতে হবে- তবে এ জন্য কিন্তু কারও সাথেই কোনও প্রকারের মত পার্থক্যে যাবে না। নিজেদের মধ্যেই তা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে, কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে - কোন্ কোন্ চিত্রে কি কি বিজ্ঞাপন দেবে সংবাদ-পত্রে। বাবার শ্রীমতের বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে চর্চা করবে। যেমনটি সরকারের আধিকারীকেরা করে থাকে। আর তার পরেই তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন - কিভাবে ভারতের উন্নতি করা যায়। যেহেতু ভারত-ভূমিতে এত মতভেদ, তাই তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তা ঠিক করে, কি করে এখানে সুখ-শান্তি স্থাপন করা যায়। ঠিক সেই প্রকারের তোমরা বাচ্চারা তো রূহানী পাণ্ডব সরকার। যা এত বিশাল ঈশ্বরীয় পরিবার সরকার। পতিত পাবন বাবাই পতিত বাচ্চাদেরকে পবিত্র বানিয়ে, পবিত্র দুনিয়ার রাজ্য-অধিকারীর উপযুক্ত বানান। আর এই রহস্যটা কেবল তোমরা বাচ্চারাই জানো। ভারতের আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মই-- প্রধান ধর্ম। যা স্থাপিত হয়, রুদ্র-জ্ঞান যজ্ঞ দ্বারা। শিববাবাকেই রুদ্র বলা হয়। এই বাবা এসেই তোমাদের চেতনাকে সজাগ করেছেন। তোমদেরও সেরূপে অন্যদেরকে সজাগ করতে হবে। যা অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুসারে, তোমরা অবশ্য তাই করে থাকো। এ পর্য্যন্ত যারা যারা যে প্রকারের যতটা পুরুষার্থ করেছো, কল্প পূর্বেও তোমরা ঠিক ততটাই করেছিলে। এটা একটা রুহানী অলৌকিক লড়াই। কখনও মায়ার প্রবঞ্চনার বল বেশী তো কখনও ঈশ্বরীয় শক্তির ! সেবাকার্য কখনও বেশ জোর কদমেই চলতে থাকে - আবার কখনও বা কারও কারও ক্ষেত্রে মায়ার বিঘ্ন পড়ে। তখন মায়া তাকে একেবারেই জ্ঞান-শূন্য করে ছাড়ে। যেহেতু এটা এক প্রকারের যুদ্ধক্ষেত্র। মায়া তখন রামের (শিবের) সন্তানদের অজ্ঞান বানিয়ে রাখে। ঠিক যেন লব-কুশের গল্পের মতন ! সেখানে রামের দুটি পুত্র বলা হয়েছে। কিন্তু, এখানে তো বাবার কত বাচ্চা ! বর্তমানে সকল মনুষ্যই কুম্ভকর্ণের মতন গভীর নিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে। তাই তারা এটাও জানতে পারে না যে, পরমপিতা পরমাত্মা (বাবা) এই ধরাতেই অবতরণ করেছেন, তাঁর বাচ্চাদেরকে বিশ্ব-রাজ্যের অধিকার (বর্সা) দেবার উদ্দেশ্যে। বাবা ভারত-ভূমিতেই অবতরণ করেন। এই কথাটাও একেবারে ভুলে বসে আছে। এই ভারত-বাসীরাই একদা সেই স্বর্গ-রাজ্যের অধিকারী ছিল- এতে কোনও সন্দেহই নেই। পরম পিতা পরমাত্মার (শিবের) জন্মও (অবতরণ) এখানেই হয়-তাই তো শিব-জয়ন্তী অনুষ্ঠানও ভারতেই পালন করা হয়। উঁনি অবতারিত হয়ে, অবশ্যই ওঁনার কর্ম-কর্তব্যের অভিনয় এখানেই করে থাকবেন। বুদ্ধিতে তো এটাই আসে যে, বাবা এসে অবশ্যই স্বর্গ-রাজ্যের স্থাপনা করেন। প্রেরণার দ্বারা তো আর স্থাপনা কার্য সম্ভব নয়। তোমরা , বাচ্চাদেরকে এখানে রাজযোগ শেখানো হয়ে থাকে। স্মরণের যাত্রা কিভাবে করতে হয়, তাও শেখানো হয়। প্রেরণা তো হয় নিঃশব্দে। অনেকেরই ধারণা যে, শংকর (সূক্ষ্ম-লোকের দেবতা) প্রেরণার দ্বারা বিনাশ কার্য করিয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে প্রেরণার দ্বারা তা সম্ভব নয়। তোমরা তো জানোই- অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুযায়ী, নাটকে ওনার কর্ম-কর্তব্য মিসাইল তৈরীতে সাহায্য করা। যা বিনাশের উদ্দেশ্যেই বানানো হয়। আর প্রেরণা শব্দটি শাস্ত্রে ব্যাবহৃত শব্দ। বিনাশের ক্ষেত্রে প্রেরণার প্রসঙ্গই নেই। আবার শংকর-ও তো সূক্ষ্ম-লোকের বাসিন্দা। এই অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুযায়ী, বিনাশ তো অবশ্যই হতে হবে। মহাভারতেও তা বলা হয়েছে, সেই যুদ্ধেও মিশাইল ইত্যাদি অস্ত্রের ব্যাবহার হয়েছিল। আর যা একবার ঘটে গেছে, তার পুনরাবৃত্তি আবারও হতে হবে। তোমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছো যে, যোগবলের দ্বারা তোমরাই এখানে স্বর্গের স্থাপনা করবে, যেখানে একটাই মাত্র ধর্ম থাকবে। আচ্ছা, তবে অন্য সব ধর্মগুলির কি হবে ? সেগুলির বিনাশ তো হতেই হবে। এ তো সহজ সমীকরণ। এ তো বলাই হয়, ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা, বিষ্ণুর দ্বারা পালনা- তা সম্পূর্ণই সঠিক। কিন্তু শংকরকে শিবের সাথে গুলিয়ে দিয়েছে- যা একেবারেই ভুল তথ্য। তাকে আবার শিব-শংকরও বলা হয়। যেহেতু, শংকরের তো কোনও কর্ম-কর্তব্যের পাঠ নেই, তাই শিবের নামের সাথে তাকে যোগ করে দেখানো হয়েছে। অথচ, শিববাবা নিজেই বলেন, ওনাকে তো কত কিছুই কর্ম-কর্তব্য করতে হয়। সবাইকে পবিত্র বানাতে হয়। ওঁনাকে ব্রহ্মার শরীরের আধার নিয়ে, এই সাকার দুনিয়ার স্থাপনা কার্য করাতে হয়। এই কার্যে শংকরের কোনও ভূমিকাই নেই। তাই তো কেবল শিবেরই পূজা হয়ে থাকে। শিববাবাই একমাত্র কল্যাণকারী যিনি সবাইকেই সব কিছু প্রাপ্তি করান। তাই তো বলা হয় শিব-পরমাত্মায়ে নমঃ। আর ব্রহ্মা হন প্রজাদের পিতা অর্থাৎ প্রজাপিতা। এই ব্রহ্মাই পরে বিষ্ণুরূপে প্রকাশ পান। আবার সেই বিষ্ণুকেই পরে ব্রহ্মা রূপে আসতে হয়-যা খুবই গুপ্ত রহস্যে ঘেরা। যা কেবল তোমরা বাচ্চারাই জানো। বিচক্ষণ সচেতন বাচ্চারাই বুদ্ধির দ্বারা এই জ্ঞানকে মূহুর্ত্তেই বুঝতে পারে। সাধারণ মনুষ্যদের তো একথা বোধেই আসে না যে, পতিত-পাবন বাবা কোন সময়ে আসে। বর্তমান সময়কালটা তো কলিযুগের অন্তকাল। কিন্তু যদি বলা যায় যে, কলিযুগের আয়ুকাল আরও ৪০ হাজার বছর বাকী আছে- সে হিসেবে তো পতিতদের সংখ্যাটা আরও কত গুন বেড়ে যাবে। দুঃখের মাত্রাও কত গুন বেড়ে যাবে-যা সহনও করতে হবে। যেহেতু কলিযুগে তো আর সুখ পাওয়া যায় না। এ সব কিছু না জানার কারণেই, বিচার শক্তিটাই ঘোর তমসাচ্ছন্ন হয়ে আছে। তোমাদের বাচ্চাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে যুগ্ম সিদ্ধান্তে আসা উচিত কি প্রকারে এই ঈশ্বরীয় সেবার বিস্তার বাড়ানো যায়। বাবা তো নানা পরিকল্পনা জানাতেই থাকেন, কিন্তু তোমাদের মধ্যেও তার সমন্বয় দরকার। চিত্রগুলির বিষয়কে খুব ভাল করে বোঝাতে হবে। অবিনাশী নাটকের সময় অনুসারে ধীরে ধীরে চিত্রও পরিবর্তন হতে থাকছে। বাচ্চাদের তো তা জানাই আছে, যেমন যেমন সময় অতিবাহিত হচ্ছে, নাটকের পট-ও হুবহু সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাচ্চাদেরও অবস্থা কখনও ভালো, কখনও মন্দ হয়ে পড়ছে। অবশ্য এরকম তো হয়েই থাকে। বাবাও সাক্ষী-স্বরূপে তা দেখতে থাকেন। বাচ্চাদের উপর গ্রহের প্রকোপ হলে তা সমাধানের চেষ্টাও করে থাকেন বাবা। সেই কারণেই (ব্রহ্মা) বাবা বার বার বলতে থাকেন, শিববাবাকে স্মরন করতে থাকো। কিন্তু যখন বাচ্চারা দেহ-অভিমান স্থিতিতে এসে পড়ে, তখন বার বার ঠোকর খেতে হয়। সেই সময়কালে দেহী-অভিমানী স্থিতিতে থাকা উচিত। কিন্তু, বেশীর ভাগ বাচ্চাদের মধ্যে দেহ-অভিমান ভাবের লক্ষণ প্রবল। আর যখন তোমরা দেহী-অভিমানী ভাবে থাকতে পারবে, তখন সহজেই বাবাকে স্মরন করতে পারবে। ফলে ঈশ্বরীয় সেবারও উন্নতি হতে থাকবে। ভালো পদের অধিকারী হতে গেলে সর্বদাই এই ঈশ্বরীয় সেবায় নিয়োজিত হতে হবে। ভাগ্যে যদি তা না থাকে তো প্রচেষ্টার আগ্রহও আসে না। তখন তারা নিজেরা হতাশ হয়ে বলে যে, বাবা আমার তো ধারণারই অভাব রয়েছে-তাই সঠিক ভাবে বুদ্ধিতেও তা টেকে না। আর ধারণা না থাকলে তো খুশীও আসে না সেভাবে। যে ধারণাকে ধারণ করতে পারে- একমাত্র সে খুশীতে থাকতে পারে। তারা এও বুঝতে সক্ষম হয়, শিব বাবা ধরায় অবতরণ করেছেন। বাবা বাচ্চাদেরকে বলছেন - তোমরা খুব সুন্দর রীতিতে বুঝে নিয়ে, সেগুলি অন্যদেরকে সেভাবে বোঝাও। অনেকে এই ঈশ্বরীয় সেবায় নিমগ্ন হয়ে যায়- যা তাদের পুরুষার্থ হতে থাকে। তোমরা বাচ্চারা তো জানোই কি, প্রতিটা সেকেন্ড মুহূর্তই সে ভাবেই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, ঠিক যেমনটি অবিনাশী নাটকের চিত্রপটে খোদিত আছে। বাচ্চাদেরকে এটাও বোঝানো আছে যে, বাইরে কোথাও ভাষণ করার সময়, সেখানে অনেক প্রকারের লোকজনই তো আসে। তোমরা তো জানই, অন্যেরা সবাই তো বেদ, শাস্ত্র, গীতা, ইত্যাদির উপরেই ভাষণ করে থাকে, তাদের ধারণায় তো এটাই নেই যে, স্বয়ং ঈশ্বর নিজের ও তাঁর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্যগুলিকে জানিয়ে থাকেন। চিত্রেও সেগুলিকেই কত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা রয়েছে- পরমাত্মা কে। এইসব কথাগুলিকে তো আর প্রোজেক্টরের দ্বারা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রদর্শনীগুলিতে চিত্রগুলির সামনে দাঁড়িয়ে, তাদেরকে বুঝিয়ে, তারপর জিজ্ঞাসা করতে পারো- এবার বলো তো গীতার ভগবান কে ? কে এই জ্ঞানের সাগর ? আর কে বা পবিত্রতা, সুখ-শান্তির সাগর, আর মুক্তিদাতা ও পথ প্রদর্শকের দিশাই বা কে দেখান ? তারা তখন কৃষ্ণের নাম বলার যুক্তি আর খুঁজে পাবে না। যেহেতু পরমাত্মার মহিমা, গুণ ও কর্তব্যই ভিন্ন প্রকারের। প্রথমে এই (পয়েন্ট) সূত্রগুলিকে কাগজে লিখে প্রমাণ স্বরূপ তাদের হস্তাক্ষরও নিয়ে রাখা উচিত। পাখীরা যেমন নিজেদের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া করে - বর্তমান সময়ে সম্পূর্ণ দুনিয়াতেই সেরূপ চলছে। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেই চলেছে। মানুষের বেলায় যেমন ৫ বিকারের কথা বলা হয়, পশু-পক্ষীদের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটি বলা যায় না। অথচ ...। পবিত্র উন্নত দুনিয়া আর অপবিত্র অনুন্নত দুনিয়া - সে তো মনুষ্যদের জন্যই। যেমন কলিযুগ আসুরী সম্প্রদায়ের আর সত্যযুগ দৈবী সম্প্রদায়ের। বর্তমানের মনুষ্যরা এতই তমোপ্রধান বুদ্ধির হয়ে পড়েছে যে, তারা নিজেরাই বুঝতে পারছে না যে, তাদের স্বভাব-সংস্কার আসুরী সম্প্রদায়েরই হয়ে গেছে। তাই তো দেবতাদের সামনে গিয়ে প্রার্থণার সুরে বলতে থাকে - 'আমি এত নীচ পাপিষ্ঠ যে আমার কোনও গুনই নেই।' তোমরাই তাদেরকে তা বুঝিয়ে প্রমাণ করে দেখাতে পারো। ৮৪ জন্মের উত্থান-পতনের সিঁড়ির চিত্রে তা খুব সুন্দর সহজ-সরল ভাবেই বর্ণিত আছে। উত্থান ও পতনের কারণকেও বিশ্লেষণ করা আছে। এই সিঁড়ির চিত্রই ভারত-বাসীদের জন্য মুখ্য চিত্র। সবচাইতে সুন্দর পন্থা। এই চিত্রের দ্বারাই খুব সুন্দর ভাবে বোঝাতে পারবে। ৮৪তম জন্ম সম্পূর্ণ করে আবার প্রথম রূপের জন্মে আসতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে পতন হতে হতে আবার উত্থানের অবস্থায় আসতে হবে। প্রত্যেকেরই ভাবনায় এটা থাকা উচিত যে, সবাইকেই সেই উত্থানের দিশা কি ভাবে বোঝানো যায়। এ সব চিন্তাধারা মনে না রাখলে, ঈশ্বরীয় সেবা হবে কি করে। চিত্র দিয়ে বোঝানোটা তো যথেষ্টই সহজ পন্থা। সত্যযুগের পরেই ধীরে ধীরে পতনের শুরু। (আত্মারা) বাচ্চারাও তখন বুঝতে পারে যে, এবার তাদের স্বভাব-সংস্কারেরও পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থাৎ অন্যযুগে প্রবেশ করছে তারা। একধাপেই কেউ সত্যযুগে পৌঁছতে পারে না। প্রথমে তো শান্তিধামে যেতেই হয়। তোমাদের কর্ম-কর্তব্যের অভিনয় তো করতেই হয়। আর যে নিজের কর্ম-কর্তব্যের বিষয়টা ভালরূপে বুঝে এই বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চে তা সঠিক ভাবে করতে পারে, সেই অনুপাতেই সে তার ক্রমিক নম্বর প্রাপ্ত করে। জাগতিক দুনিয়ার অন্যেরা এভাবে কেউ বলতেই পারে না যে, আমরা এই অবিনাশী নাটকে অভিনয় করি মাত্র। অথচ আমরা (বি.কে.-রা) তা লিখেও দিতে পারি, প্রত্যেকটি মানুষ মাত্রই এই অসীমের নাটকের অভিনয়কারী। যার মধ্যে প্রধান নায়ক, নির্দেশক, পরিচালককে আর নাটকের আদি-মধ্য-অন্তের ঘটনাবলী যে জানতে চায় না, সে তো অবুঝই থাকবে। এ সব লিখিত আকারে দিলেও, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। এক কানে শুনে অপর কান দিয়ে বের করে দেওয়া উচিত নয় মোটেই। ঈশ্বরীয় সেবা, সেবা আর সেবা। এমনটা হলে, তার ফলে কোনও প্রকার গ্রহের প্রকোপই পড়তে পারে না। বাবা তো জানেনই, বচ্চাদের উপর গ্রহের প্রকোপ কখনও না কখনও পড়েই থাকে - তখন তাদের কত লোকসানও হয়। ধনী ব্যবসায়ীও হত দরিদ্রে পরিণত হয়। অবশ্য তার পেছনে কারণও থাকে কিছু না কিছু। অনেককে বাবা আবার বুঝিয়েও থাকেন, যাতে তারা কখনও নাম-রূপের আধারে ফেঁসে না যায়। না হলে মায়া এমন ভাবে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে থাকবে, ফলে গাড্ডায় পড়ে হাবুডুবুই খেতে হবে। মায়া খুবই প্রবঞ্চক। সে কখনও কারওকে ভালবাসতে পারে না। প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম কখনও বিকারের রূপ নিতে পারে না। একে অপরের নাম-রূপে মুগ্ধ হয় না। তোমরা তো দেখেও থাকবে, সেন্টারেও এরূপ মায়ার বিঘ্ন পড়ে কদাপি কখনও। তারা একে অপরের নাম-রূপেই ফেঁসে যায়। মায়া আবার এমনও করে, মাতা- সে নিজেরই নাম-রূপে, কন্যা - সে নিজেরই নাম-রূপে (অহংকারে) ফেঁসে যায়। এমন কি যারা পুরুষার্থ করতে থাকে, তাদেরকেও মায়া তার প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে দেয় না। এই জন্যই বাবা সাবধানী বাণী শোনান -বাচ্চারা, মায়া তোমাদের নানা ভাবেই ফাঁসাতে চেষ্টা করবে, কিন্তু তোমরা যেন ওর জালে ফেঁসে যেও না। দেহ-অভিমানে আসা মোটেই উচিত নয়। নিজেকে আত্মা স্বরূপ স্থিতিতে রেখে বাবার স্মরণেই থাকবে। তবেই মায়ার প্রবঞ্চনা থেকে বাঁচতে পারবে। তোমাদেরকে বাবা ফুলের মতন সুন্দর সর্বগুণের বানাতেই এসেছেন। অতএব কোনও বিষয়েই বাবার প্রতি সংশয় আসা উচিত নয়। কিন্তু তবুও যদি সংশয় আসে, তখন তো ঈশ্বরীয় সেবা সঠিক ভাবে করতেই পারবে না। নিজে নিজেই ঢোঁক গিলতে থাকবে। তাই এতে সাহস রাখতে হবে। এদিকে হাতে সময়ও খুব কম। বাবার মুরলী শুনলেই আবার স্ফূর্ত্তি-উৎসাহেরও জোগান হবে মনে। আত্মপ্রকাশ বাচ্চা সঠিক রীতিতেই চিত্রগুলির প্রতি মনোনিবেশ করেছে। বোম্বেতে যারা আছে, তাদেরও তা ভাবনা-চিন্তা করা উচিত। প্রধান চিত্রটা প্রথমে বানাতে হবে। তারপর তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে, সময় অনুসারে বাবাও নির্দেশ দিতে থাকেন, কি ভাবে চিত্রেউত্কর্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এরকম কোনও যুক্তি বের করো সিঁড়ির (৮৪ জন্মের উত্থান-পতনের ধারা) চিত্রকে বিমান-বন্দরে রাখা যায়। যা দেখে সবাই খুশী হবে। তখন তারাও ভাববে, এই যুক্তিগুলিকে তো খণ্ডন কেউ-ই করতে পারবে না। বাচ্চারাও খুব উৎসাহ বোধ করবে। আচ্ছা !
মিষ্টি মিষ্টি (সিকীলধে) হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের সুমন ভালবাসা আর সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় বাবার নমস্কার ঈশ্বরীয় বাচ্চাদের প্রতি।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) তোমরা বাচ্চারা এখন জীবন-যুদ্ধের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে, মায়া আর রাবণের সাথে যুদ্ধ চলছে তোমাদের। এই মায়াই তোমাদের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী । তাই নিজেদেরকে খুব সাবধানে রাখতে হবে।

২) প্রত্যেককে নিজেই নিজের উন্নতির কথা ভাবতে হবে। চিত্রে যে রকম বোঝানো আছে, ঈশ্বরীয় সেবা সে ভাবেই বাড়াতে হবে। আর চিন্তন করতে হবে, চিত্রে আর কি দেখানো যেতে পারে, যাতে মনুষ্যরা আরও সহজেই তা বুঝতে পারে।

বরদান :- 

বুদ্ধিযোগের প্রেম এক ও একমাত্র প্রেমিকের সাথে নিবিষ্ট হয়ে সর্বদাই সে নিকটে, এই অনুভূতির বিজয়ী রত্ন হও।

প্রীত বুদ্ধি অর্থাৎ বুদ্ধিযোগে এক ও একমাত্র প্রেমিকের সাথেই মগ্ন হয়ে থাকতে হবে। যার এই একের সাথে প্রেম হয়ে যায়, তার আর অন্য কোনও ব্যাক্তি বা বৈভবের সাথে প্রেম হতেই পারে না। সে সদা বাপদাদাকেই নিজের সামনে অনুভব করতে থাকবে। তার মনে শ্রীমতের বিপরীত ব্যর্থ সংকল্প বা বিকল্প কোনও কিছু আসতেই পারে না। তার মুখ থেকে ও মন থেকে সর্বদা এ কথাই বেরোবে- তোমার সাথেই খাই, তোমার সাথেই বসি ...... তোমার সাথেই সর্ব সম্বন্ধ পালন করি ...... এই ধরণেরই সর্বদা প্রীত বুদ্ধি ধারণ করতে পারলে সে বিজয়ী রত্ন হতে পারে।

স্লোগান :- 

চাই, চাই, আরও চাই - তা সংকল্পে আসা মানেই, রাজকীয় ভাবের প্রত্যাশা।

***OM SHANTI***

BK Murli 10 August 2016 Bengali

BK Murli 10 August 2016 Bengali

 ১০-০৮-১৬         প্রাতঃমুরলী        ওম্ শান্তি         "বাপদাদা"          মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - নিজের কাছে নিজেই প্রতিজ্ঞা করো যে আমাদের অতি মধুর হতে হবে, সকলকে সুখের, স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে, কখনো কারও নাম রূপে আকৃষ্ট হবেনা"

প্রশ্ন :- 

যোগের সিদ্ধি কি ? সত্যকার যোগীর লক্ষণ কি ? শোনাও l

উত্তর :- 

সকল কর্মেন্দ্রীয় একেবারে শান্ত , শীতল হয়ে যাবে - এই হ'লো যোগের সিদ্ধি l বিশেষ যোগী বাচ্চা তাঁরাই , যাঁদের কর্মেন্দ্রীয় সামান্যতমও চঞ্চল হয় না । ক্ষণকালের জন্যও কোন দেহধারীর প্রতি দৃষ্টি যায় না । মিষ্টি বাচ্চারা , এখন আর তোমরা তরুণ নও, তোমাদের এখন বাণপ্রস্থ অবস্থা ।

গীত :- 

জাগো সজনী জাগো ......

ওম্ শান্তি । 

মিষ্টি মিষ্টি রূহানী বাচ্চারা গান শুনলো । এই গানের অর্থেই মনে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে আর খুশীতে থাকতে হবে, কারণ এইসব হলো নতুন দুনিয়ার নতুন কথা । এখন এইসব নতুন কথা শুনতে হবে । বাচ্চারা জানে যে নতুন দুনিয়ার স্থাপনা কোনো মনুষ্য দ্বারা সম্ভব নয় । তোমরা যখন এইসব কথা শুনতে থাকো তখন তোমরা বোঝো যে এইসব পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বলা পুরোনো কথা বাবা আবার নতুন করে শোনাচ্ছেন , পুরনো যা তাই নতুন , আর যা নতুন তা' আবার পুরনো হয়ে যায় । এখন তোমরা জানো পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বলা সেই কথাগুলি বাবা নতুন করে শোনাচ্ছেন । কথা সব পুরনোই l তাহলে বাবা কি কারনে শোনাচ্ছেন? নতুন দুনিয়ায় রাজ্য অধিকার প্রাপ্ত করাবার জন্য । নতুন রাজ্যের অধিকারী হতে গেলে তোমাদের জ্ঞান নৃত্য করতে হবে । ভক্তি মার্গে তো অনেক নৃত্য হয় । চারিদিকে ভক্তি ছড়িয়ে দিতে তারা নৃত্য করে । জ্ঞান নৃত্য তো খুবই সহজ এক পদ্ধতি । ভক্তি মার্গে কর্মেন্দ্রীয় সবসময় সচল রাখতে হয় l পরিশ্রম অনেক করতে হয় । এখানে তো অন্তর্মনে জ্ঞান নৃত্য চলতে থাকে । সৃষ্টি চক্র কিভাবে আবর্তিত হয় , এই সব জ্ঞান বুদ্ধিতে থাকে । কোনো কিছুতেই অসুবিধা হয় না । হ্যাঁ , শুধু স্মরণে পরিশ্রম হয় । বাচ্চারা অনেকবার ফেলও হয়ে যায় । কোথাও না কোথাও ভুল করে ফেলে l সবচেয়ে বড় কথা হলো কখনো কোনো নামরূপে আকৃষ্ট হয়ো না । স্ত্রী পুরুষ নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ে কামে বশীভূত হয় । প্রথম প্রথম এইসবে বেশি করে সামলে থাকতে হয় । কারোরই নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ো না । নিজেকে আত্মা বুঝে চলতে হবে । আমরা আত্মারা অশরীরী অবস্থায় এসেছি, আবার আমাদের অশরীরী হয়েই ফেরত যেতে হবে । এই শরীরের ভানকে ভাঙ্গতে হবে । নাম রূপে আকৃষ্ট হওয়া খুবই খারাপ অসুখ । বাবা বাচ্চাদের সাবধান করেন । কেউ কেউ আবার এইসব কথা বোঝে না । তারা বলে বাবা এমনি বলেন যে নাম রূপে আকৃষ্ট হয়ে আছ , কিন্তু এটি হলো গুপ্ত অসুখ । এই কারণে সাজন সজনীকে অথবা বাবা বাচ্চাদের জাগাতে আসেন l বাচ্চারা জাগো , এবার আবার কলিযুগের পরে সত্যযুগ আসবে । বাবা আত্মার জ্যোতি জাগ্রত করতে আসেন । মানুষের মৃত্যু হলে তাদের সামনে জ্যোতি অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালানো হয়, তারপর আবার সেই প্রদীপকে সামলে রাখা হয় , যাতে প্রদীপ নিভে না যায় । আত্মার যাতে অন্ধকার না হয় । বাস্তবে এইসব হলো ভক্তি মার্গের কথা । আত্মা তো সেকেন্ডে বেরিয়ে যায় । অনেক লোকেরা আবার জ্যোতিকেও ভগবান মানে । ব্রহ্মকে বড় জ্যোতি বলে । ব্রাহ্ম সমাজীদের মন্দির হয়, যেখানে রাতদিন জ্যোতি অর্থাৎ প্রদীপ জ্বালানো থাকে । কত খরচা হয় । অনর্থক ঘৃত (ঘি) নষ্ট হয় । এখানে কিছু দেওয়ার থাকে না। স্মরনই ঘৃতের (ঘিএর) কাজ করে , স্মরণ-রূপী ঘৃত । এইসবই মিষ্টি বাচ্চারা জানে । কথাগুলি নতুন হওয়ার কারণে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয় । বাবা বলেন আমি আসি সুইট চিলড্রেন-এর (মিষ্টি বাচ্চাদের ) কাছে আর আসি ভারতেই । আপন জন্ম , আপন দেশ সবারই আদরের হয় , তাই না ! বাবার তো সকলকেই ভালোলাগে , তবুও আমি নিজের দেশ , ভারতেই আসি । গীতায় যদি কৃষ্ণের নাম না থাকতো , তাহলে মনুষ্যমাত্রই শিববাবাকে মানত । শিবের মন্দিরে কত ভক্তের সমাগম হয় । সবচেয়ে বড় মন্দির হলো সোমনাথ-মন্দির । এখন তো কত কত মন্দির তৈরী হয়েছে । কৃষ্ণকে ঈশ্বর রূপে মানা হয়না , বেহদের বাবাই সকলের ঈশ্বর , তাঁকেই সকলে মানে । এই সময় তোমাদের কাছে বাবার মতন আদরের আর কিছুই নেই । এখানে সাকারের কোনো মহিমা হয় না । এইসব তো নিরাকারের মহিমা , যিনি হন অভোক্তা । যেখানে বেহদের বাবা স্বর্গের রচয়িতা , তখন তো ওঁনার থেকেই অধিকার প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ করা দরকার, তাই না ! আজ কাল করতে করতে সময়ই শেষ হয়ে যাবে l সময় খুব অল্পই বাকি আছে l বাবার থেকে রাজ্য অধিকার তো নিয়ে নাও । সমস্যার কথা যখন লেখে , তখন বোঝাতেও হয় । যেখানে এই নিশ্চয় আছে যে বেহদের বাবা উপস্থিত আছেন, তখন বাবার থেকে বর্সা (অধিকার) প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ তো করো , নইলে তো বাইরে যাওয়ার সাথে সাথেই সব কিছু ভুলে যাবে l বাবাতো কল্যাণকারীই । তিনি বলেন এই যোগের দ্বারাই একুশ জন্মের জন্য তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে । বাচ্চাদেরও ঘরে বোঝাতে হবে যে এবার দুঃখ দূর করার জন্য বেহদের বাবাকে স্মরণ করলেই তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে l পবিত্র তো অবশ্যই থাকতে হবে । মূল কথাই হলো পবিত্রতার । স্মরণে যত বেশী থাকবে, ইন্দ্রিয়ও ততই শান্ত হয়ে যাবে । যতক্ষণ যোগে সাফল্য লাভ না হয় , ততক্ষণ ইন্দ্রিয়ও শান্ত হয় না । প্রত্যেকে নিজেকে যাচাই করো যে কাম বিকারের বশীভূত হয়ে পরছিনা তো ! আমি যদি পুরোপুরি যোগী হই , তাহলে তো কোনো চঞ্চলতা থাকা উচিত নয় , কারণ এখন হলো বানপ্রস্থ অবস্থা , আর এখন শুধুই বাবাকে স্মরণ করে যেতে হবে l এই সবকিছু বাবা বাচ্চাদের (আত্মাদের) বুঝিয়ে দিচ্ছেন l যখন তোমরা ভালো যোগী হয়ে যাবে, তখন কোনো দিকেই তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে না আর তোমাদের ইন্দ্রিয় সকল শান্ত হয়ে যাবে । মুখ্য এটাই , যা সকলকে বিভ্রান্ত করে l যোগের যথার্থ রীতি এবং স্থিতি রপ্ত হলে তখন অনুভব হবে যে আমরা তারুণ্যে বাণপ্রস্থ অবস্থায় এসে গেছি । বাবা বলেন যে কাম হলো মহাশত্রু , তাই তোমরা নিজেকে যাচাই করতে থাকো । যত বেশী সময় স্মরণে স্থির থাকবে , কর্মেন্দ্রীয় তত শান্ত হতে থাকবে আর তোমাদের স্বভাব হয়ে যাবে অতি মধুর l অনুভব হবে যে প্রথমে আমি কত কঠোর মনোভাব পোষণ করতাম , আর এখন কত নমনীয় হয়েছি l বাবা হলেন প্রেমের সাগর , তাই বাচ্চাদেরও সেইরকম প্রেমপূর্ণ হতে হবে । সেইকারনে বাবা বলেন সকলের প্রতি প্রীতিপূর্ণ দৃষ্টি রাখো । যদি কাউকে দুঃখ দাও তবে দুঃখী হয়েই মৃত্যুকে বরণ করতে হবে , তাই -তো তোমাদের অতি মধুর হতে হবে l বাবা বলেন আমিই তো রূপ বসন্ত । বাবার থেকে কত অমূল্য জ্ঞান রত্ন প্রাপ্ত হয় , যে রত্নাদিতে তোমরা নিজেদের ঝুলি ভরে থাকো । ওরা আবার শঙ্করের সামনে গিয়ে বলে আমাদের ঝুলি ভরে দাও । ওরা এটা জানে না যে শঙ্কর কারোর ঝুলি ভরেন না l এখন তোমরা বুঝতে পারছ , জ্ঞানসাগর বাবা আমাদের বাচ্চাদের জ্ঞানের রত্ন দ্বারা ঝুলি ভরে দেন । তুমিও , রূপ বসন্ত । তোমরা , প্রতিটি আত্মাই হ'লে রূপ বসন্ত । নিজেদের দেখতে থাকো - আমরা কত জ্ঞান রত্ন ধারন করে জ্ঞান নৃত্য করছি অথবা রত্নের দান করছি l সবচেয়ে ভালো রত্ন হলো মনমনাভব-র মন্ত্র । বাবাকে স্মরণ করে বাবার থেকে বর্সা (অধিকার) প্রাপ্ত করো । বাবা যেমন জ্ঞানপূর্ণ , সেইরকম বাবা বাচ্চাদেরকেও নিজ সম তৈরী করেন । গুরুরাও নিজের মতন বানান । ইনি হলেন বেহদের বাবা আর যাঁর রূপ হলো বিন্দু । তোমাদেরও বিন্দু রূপ। তোমাদের নিজ-সমান জ্ঞানের সাগর তৈরী করেন । যত ধারণা করতে পারবে , আর করাতে পারবে ... তারা বোঝে আমাদের পদ উচ্চ স্থানে l অনেকের কল্যাণের নিমিত্ত হতে হবে, তাহলে অনেকের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে । বাবাও রোজ সার্ভিস করেন , তাই না ! এই যে গুলজার বাচ্চাটি আছে , কত মিষ্টি বোঝায় । সকলেই পছন্দ করে । মনে হয় এরকম ব্রাহ্মণী আমরাও পাই । এবার এক ব্রাহ্মণী তো সর্বত্র যেতে পারে না । তবুও বাবা বলেন যারা বোঝে যে আমরা ভালো বোঝাই , তাদের অলরাউন্ড (চতুর্দিকে ) সার্ভিস করা উচিত্ l এক্ষেত্রে নিজেরই শখ থাকতে হয় - আমি সেন্টার্সে চক্কর লাগাব ...। যারা মনে করছে আমি অন্যদের কল্যাণ করতে পারি , আমার থেকে জ্ঞান রত্নের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে , তাদের তো শখ থাকাই উচিত্ । তারা নিয়মিত দশ পনেরো দিন সেন্টার থেকে ঘুরে আসলে তখন সেই একজনকে দেখেই অন্যেরা আরও ভালোভাবে শিখবে । যে এমন সেবা করবতে পারবে , তারই প্রাপ্তি হবে । এই সেবা হলো অনেক কল্যাণকারী । তোমরা মানুষদের জীবন দান দাও , উত্তম থেকেও উত্তম এই কার্য l ব্যবসায়ীরাও বুদ্ধি করে সময় বার করে সার্ভিসে যেতে পারে । সার্ভিসেবল বাচ্চাদের বাবা স্নেহ তো করেনই আর সাথে সাথে বাবা লালনপালনও করেন । যাদের সার্ভিসের শখ আছে , তারা সার্ভিস ব্যতীত থাকতে পারে না । বাবাও তো সহায়তা করেন, তাই না ! বাচ্চাদের অনেক দয়ালু হতে হবে l নিরুপায় , ভাগ্যহীন আত্মাদের খুবই দুঃখের জীবন । তোমরা সকলকে জীবনদান দিয়ে থাকো , কাউকে অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান করার মতন সর্বোত্তম জ্ঞান দান আর কিছুই হয়না । সেই কারনে অনেক রহমদিল (দয়াবান ) হতে হবে । ব্রাহ্মণী দুর্বল হওয়ার কারনে সার্ভিসের গতি ধীর হয়ে যায় , সেই কারণে তারা ভালো শিক্ষক চাইতে থাকে । যখনই মনে হবে আমি হাল ধরতে পারি , তখনই চলে যাওয়া উচিত্ ।বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হয় - বাবা কোন সেন্টার্স ধীর গতিতে চলছে , আমরা গিয়ে ঘুরে আসি l বাবা বলেন - প্রদর্শনীর চিত্র তো আছে , চিত্রেই বেশী ভালো ভাবে বোঝাতে পারবে । খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা কিভাবে সার্ভিসকে বাড়াতে পারি । বাবাও সকলের জীবন হীরের মতন তৈরী করেন । তোমরা বাচ্চারাও সার্ভিস করতে পারো । বন্দেমাতরম্ গান গাওয়া হয় , কিন্তু কেউই অর্থ বোঝে না । পতিত মানুষের অথবা পৃথিবীর ইত্যাদির কখনো বন্দনা করা হয় না । এতো পাঁচ তত্ত্ব ! তার আবার বন্দনা কি করে হবে ! পাঁচ তত্ত্ব দ্বারা তৈরী এই শরীর, তো এই শরীরেরই পুজো করা মানে জড়বস্তুর পূজো করা । শিববাবার শরীর হয় না অর্থাৎ তিনি হন নিরাকার । ওঁনার পূজো হলো সবচেয়ে উত্তম, আর বাকী হলো সব মধ্যম । আজকাল তো যারা পতিত হয় , তাদের পূজো করা হয় । মহান আত্মারা তো দেবতা হয় । সন্ন্যাসীদের থেকেও বেশী পবিত্র । এখন তোমরা জানো আমরা দেবতা হতে চলেছি l বাবা আমাদের এই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দান করা শেখাচ্ছেন । এইরকম উচ্চ দান আর কোনোটাই হয় না । শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে । শিব আর লক্ষ্মী নারায়ণের চিত্র তো আছে , প্রত্যেকে নিজেদের ঘরে লাগিয়ে দাও, তাহলে স্মরণ থাকবে । শিববাবা আমাদের লক্ষ্মীনারায়ণে পরিণত করছেন l এই সময়ে তুমি তৈরী হচ্ছ । শিববাবাই হলেন স্বর্গের রচয়িতা l সত্যযুগে তো বর্সা (অধিকার) দেবেন না । এই অন্তিম জনমে শিববাবা বলেন আমায় স্মরণ করো তাহলে তোমরা এই লক্ষ্মী -নারায়ণ হতে পারবে l আর সব কথা ছেড়ে শুধুমাত্র সার্ভিস আর সার্ভিস করো । বাবাকে স্মরণ করাও একটা বড় সেবা । তত্ত্ব ইত্যাদি সব পবিত্র হওয়া শুরু হয় । যোগের মহিমা এতো বিশাল হয় । দুনিয়ায় যোগ আশ্রম তো অনেক আছে , কিন্তু সেসব হলো শারীরিক হঠযোগ আর তোমাদের হলো রাজযোগ । যার দ্বারা তোমাদের জীবন রূপী তরনী পার হয়ে যায় । ঐসব অনেক প্রকারের হঠযোগ ইত্যাদি দ্বারা সিঁড়ি নেমে এসেছো । আসল কথা হলো স্মরণের । দেখতে হবে আমাদের মন কোনও বিকারের দিকে যাচ্ছে না তো ? বিকারীকেই পতিত বলা হয় অর্থাৎ কড়ির মতন । বিকারগ্রস্ত হলে নিজেরই ক্ষতি হয় l যেমন করবে , তেমন ফল পাবে l বাবা দেখুক বা না দেখুক , নিজেদের যাচাই করতে হবে আমরা কি বাবার সার্ভিস করছি ! আমাদের মধ্যে কোনো অবগুণ নেই তো ! যদি থাকে তো সেসব উপড়ে ফেলতে হবে । নিজের থেকে অবগুণ বার করার জন্য বাবা অনেক বোঝাতে থাকেন । নির্গুণের অর্থ কেউই বোঝে না । নির্গুণ বালক মণ্ডলী কতটুকু সেবা করতে পারবে , যার মধ্যে কোনো গুণই নেই । কোনও বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে না বুঝেই যা মনে আসে বলে দেয় l মত তো অনেক আছে , কিন্তু তোমাদের তো অনেক মত নয় , তোমরা এক মতের অর্থাত্ বাবার শ্রীমত্ অনুসারেই চলো , সুতরাং তোমাদের অপার খুশীতে থাকা চাই ! বাবা শুধু বলেন , "আমাকে স্মরণ করো আর কমল ফুল (পদ্মফুল ) সমান পবিত্র হও । মনসা-বাচা-কর্মণায় পবিত্র হও l" তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা ব্রাহ্মণরা শ্রীমতেই নিজের তন মন ধন দ্বারা নিজেদের আর সারা বিশ্বের সেবা করছি । বাবা তো ভারতেই আসবেন, তাই না ! তোমরা পান্ডবরা ভারতকে স্বর্গ বানানোর সেবা করছো । তোমরা নিজেদেরই কাজ করছ । অন্তিমে বিজয়ী তো পান্ডবরাই হবে , এইসবে লড়াইয়ের কোনও কথা নেই । তুমি হলে ননভায়োলেন্স (অহিংসক) । না বিকারে যাও আর না গুলি চালাও । ভায়োলেন্স দ্বারা কেউই বিশ্বে বাদশাহী প্রাপ্ত করতে পারে না । বাবা বুঝিয়েছেন ক্রিশ্চানরা যদি একে অপরের সাথে মিলে কাজ করে, তাহলে তারা বিশ্বে বাদশাহী প্রাপ্ত করতে পারে । কিন্তু ড্রামাতে এরকম লিপিবদ্ধ থাকে না । ক্রিশ্চানরাই কৃষ্ণপুরীকে গ্রাস করেছে । আসলে ভারত তো কৃষ্ণেরই পুরী ছিল, তাই না ! লড়াই করে বাদশাহী বাজেয়াপ্ত করেছে , অনেক ধন নিয়ে চলে গেছে । এবার ধন আবার ফিরে আসছে আর তুমি বিশ্বের মালিক হয়ে যাচ্ছ l বাবা কত উপায় বলে দেন । ক্রিশ্চানরাই তোমাদের রাজ্য ছিনিয়ে নিয়েছে এবং পরে আবার নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধিয়ে দেয় আর তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাও । কত বিশাল এই বাদশাহী। পরিশ্রম শুধু এইটুকুই , বাবাকে স্মরণ করতে থাকো আর আপন অধিকার (বর্সা ) প্রাপ্ত করো । এর জন্য বিরক্ত হওয়া উচিত্ নয় l আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহ, সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) অন্য সব কথাবার্তা ছেড়ে জ্ঞান দান করতে হবে । রূপ বসন্ত হতে হবে । নিজের অবগুণকে উপড়ে ফেলার পুরুষার্থ করতে হবে । অন্যদের দেখার কোনও দরকার নেই ।

২)নিজ স্বভাবকে মধুর করতে হবে । সকলকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে । কাউকেই দুঃখ দেওয়া চলবে না । কর্মেন্দ্রীয়জিত্ হতে হবে ।

বরদান :- 

ক্লান্ত অথবা অশান্ত আত্মাদের সিদ্ধি দেওয়ার জন্য খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরীয় সেবক) ভব !

আত্মাদের অনেক কাল ধরে নির্বাণ অথবা মুক্তিধামে যাওয়ার ইচ্ছা অথবা আশা আছে । এইজন্যই তারা জন্ম জন্মান্তরে অনেক প্রকারের সাধনা করতে করতে ক্লান্ত বোধ করছে । তাই এখন প্রত্যেকেই সাধনা নয় , সিদ্ধি চাইছে । সিদ্ধি অর্থাৎ সদ্‌গতি, তাই এরকম অশান্ত , অসহায় , ক্লান্ত, তৃষ্ণার্ত আত্মাদের তৃষ্ণা মেটাবার জন্য তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা নিজেদের সাইলেন্সের শক্তি অথবা সর্ব শক্তির দ্বারা এক সেকেন্ডে সিদ্ধি দাও , তাহলেই বলা যাবে খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরীয় সেবক) ।

স্লোগান :- 

দুর্বল সংস্কারই মায়ার প্রবেশের গুপ্ত পথ , এই পথ বন্ধ করে দাও ।

***OM SHANTI***

BK Murli 9 August 2016 Bengali

BK Murli 9 August 2016 Bengali

 ০৯-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মীঠে বাচ্চে - এখনও পর্যন্ত যাকিছু পড়েছ , সেসব ভুলে একমাত্র বাবাকে স্মরণ করো"

প্রশ্ন :- 

ভারত ভূমিতে সত্যযুগী স্বরাজ্য স্থাপন করতে কোন্ বল বা শক্তির প্রয়োজন ?

উত্তর :- 

পবিত্রতার বল বা শক্তি । তুমি সর্বশক্তিমান বাবার সঙ্গে যোগ যুক্ত হয়ে পবিত্র হও। এই পবিত্রতারই শক্তি দ্বারা সত্যযুগী স্বরাজ্যের স্থাপনা হয়, এতে লড়াই ইত্যাদির কোনো কথাই নেই । জ্ঞান এবং যোগবলই পবিত্র দুনিয়ার মালিক রূপে পরিণত করে দেয়। এই বল দ্বারাই এক মতের স্থাপনা হয়।
গান :- অবশেষে সেই দিন এলো আজ ...
(আখির বহ দিন আয়া....)

ওমশান্তি । 

বাচ্চারা গান শুনলো । এই গান নিজেদের তৈরী করা গান নয়। যেমন অন্য বেদশাস্ত্র ইত্যাদির সার বোঝান হয়েছে । তেমনই এই গানও যে তৈরী হয়েছে , এই গানের সার বোঝান হচ্ছে । বাচ্চারা জানে যে খিবৈয়া বা নাবিক , বাগবান( বাগানের মালিক) অথবা সদ্গতি দাতা হলেন একমাত্র বাবা। ভক্তি করে সবাই জীবনমুক্তির জন্যে । কিন্তু জীবনমুক্তি বা সদ্গতি দাতা হলেন এক ভগবান । এই কথার অর্থ বাচ্চারা বুঝেছে , মানুষ বুঝতে পারেনা। সদ্গতি অর্থাৎ দুঃখ থেকে মুক্ত করে শান্তি প্রদান করেন। ভারতবাসী বাচ্চারা জানে যে এখানে পবিত্রতা সুখ শান্তি ছিল , যখন এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। রাধেকৃষ্ণের রাজত্ব বলা যাবেনা । বাস্তবে মাতাদের সমজিন্স হল রাধে । তাকেই বেশী ভালবাসা উচিত তবুও কৃষ্ণকে বেশী ভালবাসে। দোলনায় ঝোলানো হয়। কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন হয়। রাধের জয়ন্তী পালন হয়না । বাস্তবে দুইজনেরই পালন করা উচিত । বুঝতে কিছুই পারেনা । তাঁদের জীবন কাহিনি তো কেউ জানেনা । বাবা এসে নিজের এবং সবার জীবন কাহিনী শোনাচ্ছেন । মানুষ বলেও থাকে শিব পরমাত্মায় নম: কিন্তু ওঁনার জীবন কাহিনীকে জানেনা । মানুষের জীবন কাহিনীকে হিস্ট্রী জোগ্রাফি বলা হয় , দুনিয়ার হিস্ট্রী জোগ্রাফি তো গায়নে রয়েছে - কতোটা এলাকায় রাজত্ব ছিল , ভূমির কতোটা স্থানে রাজ্য ছিল। কিভাবে রাজত্ব করল তারা কোথায় গেল .... এইসব কথা কেউ জানেনা । তোমাদের ভাল রীতি বোঝান হচ্ছে । রচয়িতা এবং রচনার নলেজ বাচ্চাদের বোঝান হয়। তোমরা জেনেছো যে বরাবর এই হল কলিযুগের অন্ত সময় এবং সত্যযুগের আদি । সঙ্গমেই পরমপিতা পরমাত্মা এসে মানুষকে পতিত থেকে পবিত্র দেবতা রূপে পরিণত করেন। উত্তম পুরুষ বা পুরুষোত্তম স্বরূপে পরিণত করেন কারণ এই সময়ের মানুষ উত্তম নয় , কনিষ্ঠ । উত্তম , মধ্যম, কনিষ্ঠ , সতো রজো তমো হয়। যে ভাল রীতি জ্ঞান শুনবে তাকে সতোগুণী বলা হবে । যে একটু শুনবে তাকে রজোগুণী বলা হবে আর যে শুনবেই না তাকে তমোগুণী বলা হবে । পড়াশোনায় এমন হয়। তোমাদের পড়াশোনা সতোপ্রধান হওয়া উচিত সেইজন্য সতোপ্রধান লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বরূপে পরিণত হওয়ার জ্ঞান তোমাকে দেওয়া হয়। নর থেকে নারায়ণ , নারী থেকে লক্ষ্মী হতে হবে। গীতার জন্যেও তোমরা বলো এই হল সত্য গীতা। তোমরা লিখতেও পারো এই হল সত্যিকারের গীতা পাঠশালা অর্থাৎ সত্য নারায়ণ স্বরূপে পরিণত হওয়ার ব্রতকথা অথবা সত্য অমরকথা , সত্য তিজরীর(তৃতীয় নেত্র লাভের) ব্রতকথা । চিত্র তো সব তোমার কাছেই আছে , তাতে সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে । তোমরা এখন প্রতিজ্ঞা করেছ যে আমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার কুমারীরা ভারতকে সতোপ্রধান স্বর্গে পরিণত করবই। তোমাদের সংবাদ পৌঁছাতে হবে। গান্ধীজিও চাইতেন পবিত্র রাজ্য হোক তো নিশ্চয়ই এখন হল পতিত রাজ্য । এই কথা কেউ বুঝতে পারেনা যে আমরা নিজেরাই হলাম পতিত । রাবণ হল পাঁচ বিকার । বলে রামরাজ্য চাই তো নিশ্চয়ই অসুরী সম্প্রদায় হল তাইনা , কিন্তু এইসব কারুর বুদ্ধিতে আসেনা। বড় বড় গুরু ইত্যাদিরাও এতোটা বুঝতে পারেনা। তোমরা সংবাদ পৌঁছে দাও যে আমরা শ্রীমত অনুযায়ী ব্রহ্মা দ্বারা ৫ হাজার বর্ষ পূর্ব অনুরূপ দৈবী রাজ্যের স্থাপনা করব। এই হল পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ যখন কনিষ্ঠ পুরুষ থেকে সতোপ্রধান পুরুষোত্তম রূপে পরিণত হও। মর্যাদা পুরুষোত্তম আদি সনাতন দেবীদেবতা ধর্মই হয়। এখন একটি দেবীদেবতা ধর্মের স্থাপনা হয় অন্য ধর্ম থাকবেই না। তোমরা প্রমাণ করে বোঝাও যে সত্যযুগে এক ধর্ম একই রাজ্য ছিল । ভালাই ত্রেতায় এসে সূর্য্যবংশী থেকে পরিবর্তিত হয়ে চন্দ্রবংশী রূপে পরিণত হও কিন্তু ভাষা থাকবে একটি । এখন ভারতে হল অনেক ভাষা । বাচ্চারা জানে যে আমাদের রাজ্যে একটি ভাষা ছিল । আজকাল তো অনেক কিছু দেখবে । যেমন যাত্রা থেকে ফেরার সময়ে নিজের দেশের কাছে আসার আনন্দ হয় যে নিজের ঘরে ফিরেছি। এবারে গিয়েই দেখা হবে। তোমাদেরও নিজের রাজধানীর সাক্ষাতকার হতে থাকবে। নিজের পুরুষার্থের সাক্ষাতকারও হবে। দেখবে বাবা আমাদের কত বলছেন যে পুরুষার্থ করো। না হলে হায়-হায় করবে তাতে পদ আরও কম হয়ে যাবে। যোগের যাত্রা সবাইকে বলো। বোঝান তো খুবই সহজ। সিঁড়ির চিত্র কতটা সহজ। যারা দেরীতে আসে তাদের দিন-প্রতিদিন সহজ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। এক সপ্তাহ বুঝলেই সহজে বুঝতে পারবে । চিত্র এমনই রয়েছে , যাতে অ্যাকুরেট বোঝান হয়েছে । ৮৪ জন্মের চক্র একেবারে সঠিক । এইসব হল ভারতবাসীদের জন্যে । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে । তুমি জানো যে পতিত-পাবন , সদ্গতি দাতা শিববাবার মতানুসারে আমরা পুনরায় সহজ রাজযোগের শক্তি দ্বারা , নিজের তন-মন-ধন দ্বারা ভারতকে স্বর্গে পরিণত করি। অন্য কারুর নয় , নিজেদের তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করি। যে যত করবে সে নিজের ভবিষ্যত তৈরী করবে । তোমরাই হলে ঘরের সদস্য । তোমাদের সাহায্যেই বাবা সত্যযুগী স্বরাজ্যের স্থাপনা করছেন । যাবতীয় খরচাও তোমরাই করবে। তোমার কোনো অতিরিক্ত খর্চা নেই । তোমাকে শুধুমাত্র শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে, কন্যাদের কি খরচা করতে হয় ? তাদের কাছে কিছু আছে কি ? বাবা বাচ্চাদের কাছে কি ফিস নেবেন । কিছুই না। স্কুলে তো প্রথমে ফিস ইত্যাদির কথা বলা হয়। সেখানে পড়াশোনায় কত খরচ হয়। এখানে শিববাবা বাচ্চাদের কাছে কিভাবে পয়সা নেবেন । শিববাবার নিজের বাড়ি তৈরী করার আছে কি ? যার জন্যে পয়সা নেবেন তিনি । তোমাদের ভবিষ্যতে স্বর্গে গিয়ে হীরে জহরতের মহল তৈরী করতে হবে সেইজন্য তোমরা এখানে যা করো তার রিটার্নে ভবিষ্যতে তুমি মহল প্রাপ্ত করো। এইসব খুবই বুঝবার কথা। যে যত তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করবে , সে সেইরকম সেখানে প্রাপ্ত করবে। কলেজ বা হাসপাতাল তৈরী করতে ১০ বা ২০ লক্ষ লাগাতে হয়। এখানেতো এত খরচ করতে হয়না । ছোটো বাড়িতে রূহানী কলেজ কাম হাসপাতাল তৈরী হয়। পান্ডবদের আদি পতি কে ছিলেন ? তারাতো কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে । বাস্তবে হলেন নিরাকার ভগবান। তোমাকে শ্রীমত দিচ্ছেন যিনি , তিনি হলেন ভগবান । বাকিরা সবাই হলেন রাবণের মতানুসারে , রাবণ রাজ্যে । রাবণের মতানুসারে কত ডার্টি বা পতিত হয়েছে। এবারে এই সৃষ্টি হল পুরনো , সেই আবার নতুন হবে। সৃষ্টিতে ভারত-ই ছিল । ভারতকেই নতুন এবং ভারতকেই পুরনো বলা হবে । নতুন ভারত সেতো স্বর্গ ছিল । সেই ভারত পুরনো হয়ে নরক হয়েছে । একেই বলা হয় রৌরব নরক । মানুষেরই কথা । এখানে সুখের নাম-গন্ধ নেই । এইসব কি আর সুখ নাকি । সন্ন্যাসীরাও বলেন বর্তমানের সুখ হল কাগবিষ্ঠার সমান , তাই তাঁরা গৃহস্থ ব্যবহার ত্যাগ করেন। তাঁরা স্বর্গ বা সত্যযুগের স্থাপনা করতে পারেননা । কৃষ্ণপুরীর স্থাপনা কেবল পরমাত্মাই করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের আত্মা এবং শরীর দুই-ই সমান রূপে পবিত্র ছিল সেইজন্যই কৃষ্ণকে সবাই ভালবাসে কারণ পবিত্র কিনা । গায়নও আছে শিশু হল ব্রহ্ম জ্ঞানী সম। শিশুদের বুদ্ধিতে বিকারের জ্ঞান থাকেনা । সন্ন্যাসীরা তবুও জানে। শিশু জন্ম থেকেই মহাত্মা । শিশুদের পবিত্র ফুল বলা হয়। এক নম্বর ফুল হলেন শ্রীকৃষ্ণ । স্বর্গ নতুন দুনিয়ার প্রথম প্রিন্স হলেন তিনি । জন্ম নিলেই বলা হবে ফার্স্ট প্রিন্স । কৃষ্ণকে সবাই স্মরণ করে শ্রীকৃষ্ণ সম সন্তান প্রাপ্তির জন্যে । এবারে বাবা বলছেন যা হতে চাও হতে পারো। শুধুমাত্র একজনই কৃষ্ণ সম থোরাই হবে । প্রিন্স অফ ওয়েল্স কয়জন হয়? সেকেন্ড থার্ড হয় কিনা । তো এখানেও সেইরকম ডিনায়স্টি আছে । বাবার পরে দ্বিতীয় জন সিংহাসনে বসে। যেমন ঐ বংশাবলী চলে তেমনই এই বংশাবলী চলে । তোমার কনেক্শান হল ক্রিশ্চানদের সাথে । কৃষ্ণ এবং ক্রিশ্চানদের রাশি হল এক। নিজেদের মধ্যে দেয়া- নেয়া অনেক হয়। ভারত থেকে তারা কত ধন নিয়ে গেছে । এখন রিটার্নে দিচ্ছে । রিটার্ন সার্ভিস করছে । এই ইউরোপবাসী নিজেদের মধ্যে লড়াই করে শেষ হয়ে যাবে। এই বিষয়ে একটি কাহিনি রয়েছে - দুই বেড়ালের লড়াইয়ে বানরে মাখন খায়। এই কথাটি বর্তমান সময়ের । তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে আর রাজ্য - ভাগ্য তোমরা পেয়ে যাবে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে অথাহ জ্ঞান রয়েছে । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে আমরা সবাই হলাম ব্রহ্মাকুমার - কুমারী। এমন নয় আমরা হলাম গুজরাটী বা বাঙালী । এই রূপ নয়। এই মতভেদও বেরিয়ে যাওয়া উচিত । আমরা হলাম এক পিতার সন্তান । ব্রহ্মা দ্বারা শিববাবার শ্রীমতে পুনরায় আমরা নিজের স্বরাজ্য স্থাপন করছি - জ্ঞান এবং যোগবল দ্বারা । যোগবল দ্বারা-ই আমরা পবিত্র হই। বাবা হলেন সর্বশক্তিমান , ওঁনার থেকেই শক্তি প্রাপ্ত হয়। তুমি বিশ্বের বাদশাহী নিচ্ছো । লড়াই ইত্যাদি এতে কিছুই হয়নি । সমস্ত কিছু পবিত্রতার বল । বলাও হয় যে এসে পতিত থেকে পবিত্র করো , তো এই হলই স্মরণের বল। এমন নয় যে সেখানে গোরখধান্ধায় গিয়ে সব ভুলে যাবে। এখানে সম্মুখে তো জ্ঞানসাগরের লহর বা ঢেউ দেখতে পাওয়া যায়। নদীতে সেই ঢেউ থাকেনা। সাগরের একটি ঢেউও কত ক্ষতি করে দেয়। যখন ভূমিকম্প হবে তখন সাগরও উথলে উঠবে । সাগর শুকিয়ে ভূমি নিয়ে সেই ভূমি কত দামে বিক্রি হয়। তুমি জানো যে এই মুম্বাই থাকবেই না। প্রথমে এই মুম্বাই থোরাই ছিল নাকি , ছোট একটি গ্রাম ছিল । এই মাতারা হলেন ভোলা মনের। এরা এতোটা পড়াশোনা করেনি । এখানেতো পড়াশোনা সব ভুলে যেতে হবে। তুমি কিছু পড়াশোনা না করে থাকলে ভাল। শিক্ষিত মানুষ বুঝতে বুঝতে কত প্রশ্ন করে। এখানেতো শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কোনো দেহধারী মানুষকে স্মরণ করার কথাই নেই । মহিমা আছেই শুধুমাত্র এক বেহদের বাবার । তুমি জানো যে উঁচু থেকে উঁচু হলেন এক ভগবান তারপর দ্বিতীয় নম্বরে হলেন ব্রহ্মা । ওঁনার চেয়ে উঁচু আর কেউ নয়। এঁনার (ব্রহ্মাবাবা) চেয়ে বড় আসামী কেউ নয় , কিন্তু দেখ কত সাধারণ রূপে আছেন । কেমন সাধারণ রীতিতে বাচ্চাদের মতন বসে আছেন । ট্রেনে যাত্রা করেন, কেউ কি জানে যে ইনি হলেন কে? ভগবান এসে জ্ঞান দিচ্ছেন , নিশ্চয়ই প্রবেশ করে জ্ঞান দেবেন তাইনা । যদি কৃষ্ণ হতেন তাহলেতো ভিড় জমে যেত পড়াতে পারতেন না, শুধুমাত্র দর্শন হত। এখানেতো বাবা গুপ্ত সাধারণ বেশে বসে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন ।
তুমি হলে ইনকগনিটো(গুপ্ত বেশধারী সেনা) সেনা। তুমি জানো আমরা আত্মারা যোগবলের দ্বারা পুনরায় নিজের রাজত্ব স্থাপন করি। এই পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নবীন গৌরবর্ণ দেহ ধারণ করি। এখন হল অসুরী সম্প্রদায় তারপরে হবে দৈবী সম্প্রদায় । আত্মা বলে যে আমরা নতুন দুনিয়ায় দৈবী দেহ ধারণ করে রাজত্ব করব। আত্মা হল মেল বা পুরুষ , শরীর হল প্রকৃতি । আত্মা হল সদৈব পুরুষ । বাকি শরীর হিসাব নিকেস অনুসারে মেল-ফিমেলের প্রাপ্ত হয়। কিন্তু আমি হলাম অবিনাশী আত্মা । এই চক্র ঘুরতেই থাকে। কলিযুগের বিনাশ নিশ্চয়ই হবে । বিনাশের লক্ষণ সম্মুখে রয়েছে । সেই মহাভারতের লড়াই তাহলে ভগবানও উপস্থিত থাকবেন । কোন্ রূপে , কোন্ দেহে আছেন , সেই কথা তোমরাই জানো আর কেউ নয়। বলেন তিনি - আমি একেবারে সাধারণ দেহে প্রবেশ করে দুনিয়ায় আসি। আমি কৃষ্ণের দেহে প্রবেশ করিনা । ইনিই (ব্রহ্মাবাবা) সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নিয়েছেন। আমি এঁনার অনেক জন্মের অন্তে এসে প্রবেশ করি। ৮৪ জন্ম সূর্যবংশী বংশধারীরা নেয়। তারা-ই প্রথম নম্বরে আসবে । সাকারী বৃক্ষ এবং নিরাকারী বৃক্ষের সম্পূর্ণ জ্ঞান তোমাদের রয়েছে । মূলবতন অর্থাৎ পরমধাম থেকে আত্মারা ক্রমানুসারে আসতে থাকে। সর্বপ্রথম দেবীদেবতা ধর্মের আত্মারা আসে তারপর ক্রমানুসারে অন্য ধর্মীয় জনেরা আসে। চিত্র ইত্যাদিতে অনেক উচ্চ রূপে বোঝান হয়েছে । বাচ্চাদের বোঝাতে হবে , কুমারীদের দাঁড়াতে হবে। যখন ছোটো বাচ্চারা এমন কথা বোঝাবে তখন তো কামাল হয়ে যাবে তাইনা । কত নাম হয়ে যাবে। লৌকিক অলৌকিক দুই স্থানেরই নাম উঁচুতে নিয়ে যাবে। আচ্ছা ।
মীঠে মীঠে হারানিধি (সিকীলাধে) বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা আর গুডমর্ণিং । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. সঙ্গমযুগে শ্রেষ্ঠ কর্ম করেই পুরুষোত্তম স্বরূপ হতে হবে। এমন কোনো কর্ম করা চলবেনা যাতে কনিষ্ঠ রূপে পরিণত হয়ে যায়।

২. গুপ্ত রূপে বাবার সহযোগী হয়ে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করার সেবা করতে হবে। নিজের তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করে ভারতকে স্বর্গ বানাতে হবে। স্মরণ এবং পবিত্রতার বল জমা করতে হবে।

বরদান :- 

শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা প্রবৃত্তিকে প্রগতির সাধনে পরিণত করতে পারে এমন সদা সমর্থবান ভব।

ব্যাখ্যা :- প্রবৃত্তিতে সর্বপ্রথম বৃত্তিতে পবিত্র বা অপবিত্র হও। যদি বৃত্তিকে সর্বদা একমাত্র বাবার সঙ্গে যুক্ত রাখো, একমাত্র বাবা অন্য কেউ নয় - এমন উঁচু বৃত্তি থাকলে প্রবৃত্তি প্রগতির সাধন হয়ে যাবে। বৃত্তি উঁচু এবং শ্রেষ্ঠ থাকলে চঞ্চল হবেনা । এমনই শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা প্রগতি লাভ করতে করতে গতি-সদ্গতি সহজেই প্রাপ্ত হবে। তাহলেই সব রকমের কমপ্লেন কমপ্লিট হয়ে যাবে।

শ্লোগান :- 

যদি পবিত্রতা স্বপ্ন মাত্রেও নাড়া দেয় তবে নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশান পাক্কা নয় , কাঁচা ।


***OM SHANTI***

BK Murli 8 August 2016 Bengali

BK Murli 8 August 2016 Bengali

 ০৮-০৮-১৬ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা , মনসা -বাচা -কর্মনার দ্বারা কাউকে কখনও দুঃখ দিও না , কখনও কারও ওপর রাগ করোনা , ভালবাসা অতি মধুর এক জিনিস যা দিয়ে তুমি যে -কোনও কাউকে বশ করতে পারো l "

প্রশ্নঃ - 

বাবা বাচ্চাদের বিশ্বের দ্বিমুকুটধারী মালিক বা সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য কোন উপায়ের কথা বলেছেন ?

উত্তরঃ - 

দৈবীগুণ ধারণ করে অতিশয় মধুর হও l পরস্পর পরস্পরকে ভ্রাতৃত্বের অথবা ভ্রাতা-ভগিনীর দৃষ্টিতে দেখ l নিজের পুরুষার্থ দ্বারা নিজেকে রাজটীকা লাগাও l ২) স্বয়ং ঈশ্বর , বাবা তোমাদের পড়াচ্ছেন সেইজন্য নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করো , যত পড়বে , পড়াবে , নিজের সংস্কারও ততটাই শ্রেষ্ঠ হবে l

ওম্ শান্তি l 

মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি বাচ্চারা জেনেছে আমরা এখন নরকের শেষ প্রান্তকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলেছি , মাঝের এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ একেবারে আলাদা l মাঝ দরিয়ায় ভাসছে তোমাদের তরী l এখন না তোমরা সত্যযুগীয় আর না -ই তোমরা কলিযুগীয় l তোমরা হ'লে পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগীয় সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ l ব্রাহ্মণদের জন্যই এই সঙ্গমযুগ l ব্রাহ্মণ হলো উচ্চ শিখর l ব্রাহ্মণদের এই যুগ খুব ছোট l এ হ'লো এক জন্মের যুগ ; তোমাদের খুশি থাকার যুগ l কিন্তু এই খুশি কিসের জন্য ? ভগবান আমাদের পড়ান l তাই -তো এই পড়ুয়ারা কত খুশি থাকে l সারা চক্রের জ্ঞান এখন তোমাদের বুদ্ধিতে l তোমরা বুঝতে পারছ আমরা হলাম সেই ব্রাহ্মণ যারা পরে আবারও দেবতা হবে l প্রথমে নিজের ঘর , সুইট হোমে যাব এবং সেখান থেকে ঘুরে নতুন দুনিয়ায় আসব l আমরা ব্রাহ্মণরাই স্ব-দর্শন চক্রধারী l আমরা ডিগবাজির খেলা খেলি l এই বিরাট রূপ তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারাই জেনেছ - বুদ্ধিতে সারাদিন এই বিষয়ের স্মরণই করতে হবে l এই হ'লো তোমাদের অতি আনন্দদায়ক পরিবার , তোমাদের প্রত্যেককে অতীব প্রীতিপূর্ণ হতে হবে l বাবা নিজে মধুময় ব'লে বাচ্চাদেরও সেরকমই মাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তোলেন l কখনও কারোর ওপরে রাগ করা সমীচীন নয় l তোমাদের মনসা -বাচা -কর্মনায় কেউ যেন দুঃখ না পায় l বাবা কাউকে কখনও দুঃখ lদেন না , বাবাকে যত স্মরণ করবে নিজেরা ততই অতি সুন্দর হয়ে উঠতে পারবে l ব্যস্ ! শুধুমাত্র এই স্মরণেই হদের সীমানা পার হয়ে যাবে - এই হ'লো স্মরণের যাত্রা l স্মরণের পথে চলতে চলতে শান্তিধাম হয়ে সুখধামে যেতে হবে l বাবা এসেছেনই বাচ্চাদের সর্বদা সুখী হওয়ার চাবিকাঠি দিতে l ভূত দূর করার অর্থাত্ বিকার দূর করার উপায় বলতে এসেছেন বাবা - "আমাকে স্মরণ করলে এই বিকারের ভূত বেরিয়ে যাবে l কারও মধ্যে যদি বিকাররূপী ভূত থাকে , আমার কাছে ছেড়ে যাও l তোমরা তো বলেও আসছ 'বাবা আমাদের সকল অপগুণ বিনষ্ট করে পতিত থেকে পবিত্র বানাও' l" তবে ! বাবা কত সুন্দর সুগন্ধি ফুল তৈরী করছেন ! বাবা আর দাদা দু'জনে মিলে তোমাদের-বাচ্চাদের শৃঙ্গার করেন l লৌকিক বাবা হলো হদের আর ইঁনি হলেন বেহদের বাবা l সুতরাং বাচ্চাদের অতীব ভালবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে চলতে হবে আর চালাতে হবে l সমস্ত বিকার দান করে দিতে হবে l দে দান তো ছুটে গ্রহণ অর্থাত্ বিকারের মতো মস্ত অপগুণ বাবার কাছে অর্পণ করে দিলে দোষমুক্ত হতে পারবে l এর মধ্যে কোনরকম ছল নেই l ভালবাসা দিয়ে তোমরা যে কোনও কাউকে বশ করতে পার l প্রেমপূর্বক বোঝাতে হবে , প্রেম এক অতি সুন্দর আর পবিত্র বোধ , যা অন্যকে মুগ্ধ করে l বাঘ , হাতি প্রভৃতি জানোয়ারকে মানুষ ভালবাসা দিয়ে বশ করতে পারছে আর তারা আসুরিক হলেও তবু তো মানুষ , তোমরা তো এখন দেবতা হতে চলেছ l সুতরাং দৈবীগুণ ধারণ করে অতিশয় মধুরতায় নিজেদের ভরিয়ে তুলতে হবে l তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভ্রাতৃরূপে বা ভ্রাতা-ভগিনীরূপের দৃষ্টিতে দেখ l আত্মা , আত্মাকে দুঃখ দিতে পারেনা l বাবা বলেন - "মিষ্টি বাচ্চারা , আমি তোমাদের রাজ্যভাগ্য দিতে এসেছি l তোমাদের এখন যা চাই তা' আমার থেকে নিয়ে নাও l আমি তো তোমাদের বিশ্বের দ্বিমুকুটধারী মালিক বানাতে এসেছি , কিন্তু পরিশ্রম তোমাদের করতে হবে , আমি কারও মাথার ওপর মুকুট রাখব না , পুরুষার্থের দ্বারা তোমরা নিজেরা নিজেদের রাজতিলক এঁকে দেবে l" বাবা পুরুষার্থের উপায় বলে দেন যে এইভাবে -এইভাবে করলে নিজেকে বিশ্বের মালিক, দ্বিমুকুটধারী বানাতে পারবে l পাঠাভ্যাসে পুরোপুরি মনোযোগ দাও , কখনও এই পড়া ছেড়োনা l ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া তোমরা , বেহদের বাবা স্বয়ং ঈশ্বরের কাছে তোমরা পড়ছ l পড়ে পূজ্য দেবতা তৈরী হচ্ছ l সেইজন্য স্টুডেন্টকেও নিয়মাধীন হতে হবে , স্টুডেন্ট লাইফ ইস্ দি বেস্ট অর্থাত্ ছাত্রজীবন হলো সবচেয়ে ভালো l যত পড়বে , পড়াবে আর সংস্কার শোধন করবে ততই অতি উত্তম হতে পারবে l মিষ্টি বাচ্চারা , এবারে তোমাদের ফেরার সময় , যেমন সত্যযুগ থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ত্রেতা , দ্বাপর , কলিযুগ পর্যন্ত নীচে নেমে এসেছ ঠিক তেমনই তোমাদের এখন লৌহযুগ (আয়রণ এজ) থেকে উপরে স্বর্ণযুগ (গোল্ডেন এজ) পর্যন্ত যেতে হবে l যখন সিলভার এজ পর্যন্ত পৌঁছবে তখন আবার এই কর্মেন্দ্রিয়ের চঞ্চলতা শেষ হয়ে যাবে সেইজন্য যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই তোমাদের , আত্মাদের থেকে রজো, তমঃ-র জং পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং জং যত পরিষ্কার হবে ততই বাবা-চুম্বকের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকবে l আকর্ষণ না হলে বুঝতে হবে আত্মায় জং লেগে আছে ; জং একেবারে নির্মূল হয়ে তোমরা খাঁটি সোনায় পরিণত হবে , এবং তা' হবে তখন অন্তিম কর্মাতীত অবস্থা l মিষ্টি বাচ্চাদের সারবস্তু বাবা বুঝিয়ে দেন , বলেন - "দেহী-অভিমানী হও , দেহ সম্বন্ধীয় সকল সম্পর্ক ভুলে মামেকম্ ইয়াদ করো অর্থাত্ আমাকে স্মরণ করো , পবিত্র তো অবশ্যই হতে হবে l" কুমারী যখন পবিত্র থাকে সকলে তাকে বিবাহ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে , বিবাহ হলে সে পূজারীর মতো সকলের কাছে মাথা নত করে থাকে l কণ্যা যখন পিতার ঘরে থাকে তখন এত বেশী সম্বন্ধ মনে আসেনা l বিবাহের পরে দেহ-সম্বন্ধও বাড়তে থাকে আর স্বামী সন্তানের প্রতি মোহও বাড়তে থাকে l শ্বশুর-শাশুড়ী ইত্যাদি সব সম্পর্ক মনে আনাগোনা করে l প্রথমে শুধু মা -বাবার প্রতি মোহ থাকে l এখানে এসে আবার বাবার এবং স্বামীর ঘরের সেইসব সম্বন্ধ ভুলতে হয় , কেননা তোমাদের সত্যকার মাতা-পিতা তো আছেন l এই হলো ঈশ্বরীয় সম্বন্ধ l সর্বদাই তো গানের কলিতে সুর তুলছ ত্বমেব মাতা পিতা ত্বমেব - তুমিই মাতা, পিতা তুমিও ...এই মাতা-পিতা তো তোমাদের বিশ্বের মালিক বানিয়ে দেন এইজন্য বাবা বলেন , "আমি বেহদের বাবাকে নিরন্তর স্মরণ করো আর কোনও দেহধারীর সাথে মমত্ব রেখোনা l" বেহদের এই বাবা তোমাদের স্বর্গে নিয়ে যান , এই রকম মিষ্টি বাবাকে আন্তরিক ভালবাসায় স্মরণ করো আর স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাক l স্মরণের এই বল দ্বারাই তোমরা আত্মারা সোনা হয়ে অর্থাত্ পবিত্র হয়ে স্বর্গের মালিক হবে l স্বর্গের নাম শুনেই মন খুশিতে নেচে ওঠে l যারা নিরন্তর স্মরণ করে আর অন্যদেরও করায় সেই তারাই উচ্চ পদের অধিকারী হয় l এইরকম পুরুষার্থ করতে করতে অন্তিমে তোমাদের সেই অবস্থা স্থিত হবে l এই দুনিয়াও পুরনো , আর দেহও পুরনো ; দেহ সম্বন্ধীয় সব সম্বন্ধও পুরনো , এই সমস্ত কিছুর থেকে বুদ্ধিযোগ সরিয়ে এক বাবার সাথে জুড়তে হবে , যা অন্তিমসময়ে সেই এক বাবাই স্মরণ থাকে , অন্য কারও সম্বন্ধ স্মরণে থাকলে অন্তিমে পৌঁছে তখন সে -ই স্মরণে আসবে এবং পদভ্রষ্ট হয়ে যাবে l অন্তিমে যার বেহদের বাবার স্মরণ থাকবে সেই নর থেকে নারায়ণ হবে l বাবার স্মরণ করলে শিবালয়ের দূরত্ব কমে আসে l মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চারা বেহদের বাবার কাছে আসে রিফ্রেশ হওয়ার জন্য কেননা বাচ্চারা জানে বেহদের বাবার থেকে অসীম বিশ্বের বাদশাহী পাওয়া যায় , এই কথা কখনও ভুলে গেলে চলবেনা l তিনি সর্বদা স্মরণে থাকলে বাচ্চাদের মনে অপার খুশি থাকে l এই ব্যাজ চলতে ফিরতে , মুহুর্মুহু দেখ , হৃদয়ের সাথে জুড়ে নাও l আহা ! ভগবানের শ্রীমতে আমরা এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়ে উঠছি l ব্যস্ ,শুধু ব্যাজ দেখে দেখে এঁদের ভালবাসতে শেখ l বাবা -বাবা করতে থাকলে তবে সর্বদা স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে থাকবে l আমরা বাবার দ্বারা লক্ষ্মী-নারায়ণ হই l মিষ্টি বাচ্চাদের বিশাল বুদ্ধি হওয়া চাই l সারাদিন সেবারই চিন্তা ভাবনা চলতে থাকে l বাবা সেইরকম বাচ্চাই পছন্দ করেন যারা সার্ভিস ছাড়া সময় কাটানোর কথা ভাবতেই পারেনা l তোমাদের বাচ্চাদের সারা বিশ্বে জ্ঞান-গঙ্গা বইয়ে দিতে হবে এবং পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানাতে হবে l সারা বিশ্বকে দুঃখধাম থেকে সুখধামে পরিণত করতে হবে l টিচারেরও পড়াতে কত আনন্দ হবে l তোমরা তো এখন অনেক উচ্চমানের টিচার হয়েছ l টিচার খুব ভালো হলে তিনি অন্যকেও নিজের সমান তৈরী করে নিতে চেষ্টা করেন l কখনও পরিশ্রান্ত হননা l ঈশ্বরীয় সেবায় খুব খুশি থাকে l বাবার সহায়তা পাওয়া যায় l এ হলো বেহদের বড়রকমের ব্যাপার , ব্যাপারী লোকেরাই ধনবান হয় l তারা এই জ্ঞানমার্গেও অতি আগ্রহী হয় l বাবা বেহদেরই তো ব্যাপারী ! সওদা অতি উচ্চমানের কিন্তু এতে অনেক সাহস ধারণ করতে হয় l নতুন -নতুন বাচ্চারা পুরনোদের থেকেও পুরুষার্থেএগিয়ে যেতে পারে l প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ভাগ্য যখন , তখন তো পুরুষার্থও ব্যক্তিগতভাবে আলাদা আলাদা করতে হবে , পূর্ণমাত্রায় নিজের চেকিং করতে হবে l এইভাবে চেকিং করায় সমর্থ আত্মারা রাতদিন পুরুষার্থ করতে নিজেদের ব্যস্ত রাখে , বলবে সময় কেন নষ্ট হতে দেব ! যতটা সম্ভব সময়কে নিরাপদ করে তুলতে হয় l নিজের কাছে কঠিন প্রতিজ্ঞা করে 
আমরা বাবাকে কখনও ভুলব না , স্কলারশিপসহ পাশ করবই l এই ধরনের বাচ্চারা বাবার থেকে সাহায্যও পায় অর্থাত্ বাবার স্নেহ -সান্নিধ্যে থাকে l এই রকম নতুন নতুন পুরুষার্থী বাচ্চাদের তোমরা দেখবে , সাক্ষাত্কার হতে থাকবে l যেমন শুরুতে হয়েছিল তা'ই আবার পরেও দেখবে , ঘরে ফেরার সময় যত নিকটবর্তী হতে থাকবে খুশিতে ততই নাচতে থাকবে l পাশাপাশি ওদিকে খুনখারাপির বিধ্বংসী খেলাও চলতে থাকবে l তোমাদের বাচ্চাদের ঈশ্বরীয় প্রতিযোগিতা চলছে , যত সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে ততই নতুন দুনিয়ার দৃশ্য কাছে আসতে থাকবে , খুশি বাড়তে থাকবে , যার কাছে নতুন দুনিয়ার দৃশ্য সামনে আসবেনা তার খুশিও হবেনা l এখন তো কলিযুগিয় দুনিয়ার সাথে বৈরাগ্য আর সত্যযুগিয় নতুন দুনিয়ার সাথে প্রীতিপূর্ণ ভাব গড়ে ওঠা উচিত্ l শিববাবা স্মরণে থাকলে স্বর্গের রাজ্য অধিকারও স্মরণে থাকবে l আবার স্বর্গের অধিকার মনে থাকলে শিববাবাও স্মরণ থাকবে l তোমরা বাচ্চারা জেনেছ এখন আমরা স্বর্গের দিকে চলেছি , পা নরকের দিকে আর মাথা রয়েছে স্বর্গের দিকে l এখন ছোট বড় সকলের বাণপ্রস্থ অবস্থা l বাবার ( ব্রহ্মাবাবার) সবসময় এই নেশা থাকে ওহো ! আমরা স্বর্গে এইরকম বাল-কৃষ্ণ হব , যাঁকে সময়ের পূর্বেই উপহারও পাঠিয়ে দেন l যাদের সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চয় থাকে সেই গোপিনীরা উপহার পাঠায় , তাদের অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব হয় l আমরাই অমরলোকে দেবতা হই l কল্প পূর্বেও আমরাই হয়েছিলাম , তারপর আবারও ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করি l এই বাজোলি অর্থাত্ ডিগবাজির মতো আমরা যে চক্রাকারে আবর্তন করে চলেছি তা' স্মরণে থাকলে তা' আমাদের পরম সৌভাগ্য - সদা অপার খুশিতে থাকব l অনেক বড় লটারি পাওয়া যাচ্ছে l পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও আমরা রাজ্যভাগ্য পেয়েছিলাম আগামী সময়ে আবারও পাব , বিশ্ব-নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l যেরকম কল্প পূর্বেও জন্ম নিয়েছিলাম সেইভাবেই নেব , ওখানে আমাদের মাতা -পিতা থাকবেন l যিনি কৃষ্ণের বাবা ছিলেন তিনিই আবারও কৃষ্ণের পিতা হবেন l এইভাবে যে সারাদিন বিচার মন্থন করবে সে খুব রমণীয় হবে , বিচার মন্থন না করলে সবই অসমাপ্ত থেকে যাবে l আচ্ছা ! 
মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি /সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমাত্মা পরমপিতা) রুহানি বাচ্চাদের ( আত্মাদের) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) ঈশ্বরীয় সেবা কাজ করতে কখনও শ্রান্ত হয়োনা , ভালো টিচার হয়ে নিজসমান তৈরী করার সেবা করতে হবে l

২) স্মরণের বল দ্বারা আত্মাকে খাঁটি সোনায় পরিবর্তিত করতে হবে , কোনও দেহধারীর প্রতি মমত্ববোধ রাখা ঠিক নয় l

বরদান :- 

কম কথায় জ্ঞানের সর্ব রহস্য ব্যক্ত করতে সমর্থ , যথার্থ আর শক্তিশালী ভব

কোনও জিনিস যত অধিক শক্তিশালী হয় ততই তা'সংখ্যায় কম হয় l এইরকমই যখন তুমি নিজের নির্বাণ স্থিতিতে স্থিত হয়ে বাণী শোনাবে তখন শব্দের সংখ্যা কমে আসবে কিন্তু যথার্থ আর শক্তিশালী হবে l একটা শব্দের মধ্যেই হাজার হাজার শব্দের রহস্য সমাহিত হয়ে আছে , যার দ্বারা ব্যর্থ বাণী স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক্যালি) সমাপ্ত হয়ে যাবে l এক শব্দের দ্বারা জ্ঞানের সব রহস্য স্পষ্ট করলে , বিস্তার সমাপ্ত হয়ে যাবে l

শ্লোগান :- 

অন্তর থেকে বাবা বলা অর্থাত্ খুশি আর শক্তির প্রাপ্তি l

***OM SHANTI***

BK Murli 7 August 2016 Bengali

BK Murli 7 August 2016 Bengali

 ০৭-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি "অব্যক্ত-বাপদাদা" রিভাইস : ০১-১১-৮১ মধুবন

  "সেবায় সফলতার চাবিকাঠি"

আজ বাপদাদা সর্ব বাচ্চাদের কোনরূপে দেখছেন ? আজ বিশ্ব সেবাধারী বাবা নিজের সেবাধারী বাচ্চাদের দেখছেন অর্থাৎ নিজের পরমাত্ম সেবায় নিমিত্ত সেবাধারীদের দেখছেন । যারা হল সত্যিকারের পরমাত্ম সেবাধারী তাদের পরমাত্মা এবং সেবা দুইয়েরই স্মৃতি সহজ এবং নিরন্তর থাকে। এমনিতেও আজকালকার দুনিয়াতে কেউ কারুর কাজ করেনা বা সহযোগী হয়না তখন একে অপরকে বলে যে ভগবানের নামে এই কাজ করো বা খোদার নামে এই কাজ করো কারণ এই কথা ভেবে নেয় যে ভগবানের নামে সহযোগ এবং সফলতার প্রাপ্তি রয়েছে । কেউ অসম্ভব কাজ বা হোপলেস বিষয়ে বলাও হয় " ভগবানের নাম নাও তাহলেই কাজ হয়ে যাবে" । এর দ্বারা কি প্রমাণিত হয় ? অসম্ভবকে সম্ভব স্বরূপ প্রদান , হতাশ কার্যে আশার সঞ্চার ইত্যাদি বাবা-ই এসে করেন তাইতো এখনো এইরূপ কথা আজও বলা হচ্ছে । কিন্তু তোমরা সকলেই হলে খোদাই খিদমতগার অর্থাৎ পরমাত্ম সেবাধারী । শুধুমাত্র ভগবানের নাম নেওয়া নয় ভগবানের সাথী হয়ে শ্রেষ্ঠ কর্ম করো তোমরা। তাই খোদাই খিদমতগার বাচ্চাদের সকল কর্ম সফল হয়েই রয়েছে । খোদাই খিদমতগার বাচ্চাদের জন্যে কোনো কর্ম অসম্ভব নয়। সবকিছুই সম্ভব এবং সহজ। খোদাই খিদমতগার বাচ্চাদের বিশ্ব পরিবর্তনের কাজ মুশকিল মনে হয় কি? সম্পন্ন হয়েই রয়েছে । এমন অনুভব হয় তো ? সর্বদা এই অনুভব হয় তো যে এই সেবা অনেক বার করা হয়েছে । কোনো নতুন কথা অনুভূতি হয়না। হবে কি হবেনা , কিভাবে হবে , এইরকম প্রশ্নের স্থান নেই কারণ বাবার সঙ্গে রয়েছ তোমরা । যখন কেবলমাত্র বাবার নামেই সকল কার্য সম্পন্ন হয় তখন সাথে সেবারত বাচ্চাদের প্রতিটি কার্যে সফলতা নিশ্চিত, তাই বাপদাদা বাচ্চাদের সফলতামূর্ত বলেন । সফলতার নক্ষত্রবিশেষ নিজের সফলতার সাহায্যে বিশ্বকে আলোকিত করতে পারে। তাহলে সর্বদা নিজেকে এমনই সফলতামূর্ত অনুভব করো কি ? যদি চলতে ফিরতে কখনও অসফলতা বা মুশকিল অনুভব হয় তার কারণ শুধুমাত্র সেবাধারী হয়েছ। পরমাত্ম সেবাধারী নয়। পরমাত্মাকে সেবা থেকে আলাদা করলেই একাকী অনুভব করো তাই সফল কার্য মুশকিল হয়ে যায় আর সফলতার লক্ষ্য দূরে প্রতীত হয়। কিন্তু নামই হল পরমাত্ম সেবাধারী । তো কম্বাইন্ড স্বরূপকে আলাদা কোরোনা। কিন্তু আলাদা করে দাও কিনা ! সর্বদা এই নাম স্মৃতিতে থাকলে সেবায় স্বত:তই পরমাত্ম জাদু ভরা থাকবে । সেবার ক্ষেত্রে যে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের স্বয়ং প্রতি বা সেবার প্রতি বিঘ্নের আগমন হয় , তার কারণ হল এই যে স্বয়ংকে শুধুমাত্র সেবাধারী ভেবে চলো। কিন্তু ঈশ্বরীয় সেবাধারী , কেবলমাত্র সার্ভিস নয় বরং গডলী সার্ভিস - এই স্মৃতিতে রইলে স্মরণ এবং সেবা স্বত:তই কম্বাইন্ড হয়ে যায়। স্মরণ এবং সেবার সদা ব্যালেন্স বজায় থাকে। যেখানে ব্যালেন্স আছে সেখানে স্বয়ং সর্বদা ব্লিসফুল অর্থাৎ আনন্দ স্বরূপ এবং অন্যের প্রতি সর্বদা ব্লেসিং অর্থাৎ কৃপা-দৃষ্টি সহজেই প্রত্যক্ষ হয়। কারুর প্রতি কৃপা করি এই কথা ভাববার প্রয়োজন পড়েনা । তোমরা হলেই কৃপালু । কাজই হল সর্বদা কৃপা করা। এমন অনাদি সংস্কার স্বরূপ হয়েছ কি ? যেইরূপ বিশেষ সংস্কার হয় সেইরূপ স্বত:তই কাজ সম্পন্ন হয়। ভেবে চিন্তে করতে হয়না কিন্তু স্বত:তই কার্যে পরিণত হয়। বার-বার এই বলো যে এমনই আমার সংস্কার , তাই এই কাজ হয়েছে । আমার মনের ভাব , আমার উদ্দেশ্য ছিলনা কিন্তু এইরকম হয়ে গেল। কেন ? সংস্কার হল এইরকম । বলো কিনা ? অনেকে বলে আমি ক্রোধ করিনা আমার বলার সংস্কার হল এইরকম । এর দ্বারা কি প্রমাণিত হয় ? অল্পকালের সংস্কারও স্বত:তই এইরূপ কথা এবং কর্ম করাতেই থাকে। তাহলে ভাবো - অনাদি অরিজিনাল সংস্কার তোমাদের মতন শ্রেষ্ঠ আত্মাদের মধ্যে কোনগুলি আছে ? সদা সম্পন্ন আর সফলতামূর্ত । সদা বরদানী এবং মহাদানী - তাহলে এই সংস্কার স্মৃতিতে থাকলে স্বত:তই সর্বের প্রতি কৃপা-দৃষ্টি সহজ থাকবেই ।

অল্পকালের সংস্কারকে অনাদি সংস্কারে পরিবর্তন করো। তো ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের বিঘ্ন , অনাদি সংস্কার ইমার্জ হলে সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখনও পর্যন্ত স্ব-পরিবর্তন বা বিশ্ব পরিবর্তনের সেবায় পরিশ্রম দেখে বাপদাদার সহ্য হয়না । পরমাত্ম সেবাধারী এবং পরিশ্রম । যখন নাম দিয়েই কাজ করিয়ে নাও , তবেতো তোমরা হলে অধিকারী স্বরূপ । তোমাদের পরিশ্রম হবে কিভাবে ? তারপর আবার ছোট ছোট ভুল করো , সেই ভুলটা হল কি জানো ? খুব ভাল জানো তবুও করো কেন ? বাধ্য হয়ে যাও। একটি ছোটো ভুল - " আমার সংস্কার , আমার স্বভাব " । অনাদি কালের সংস্কারের বদলে মধ্যকালের সংস্কারকে নিজের ভেবে নাও। মধ্যকালের সংস্কারকে , স্বভাবকে আমার সংস্কার , আমার স্বভাব ভেবে নেওয়াই তোমাদের ভুল । এই সংস্কার স্বভাব তো হল রাবণের সংস্কার স্বভাব । পরের জিনিসকে নিজের ভেবে নেওয়াতেই ভুল হয়ে যায়। আমার বললেই আমার ভাবলেই আমার শব্দে সহজেই মন পড়ে যায় তাই ত্যাগ করতে পারোনা । বুঝলে - ভুলটা হল কি ?
তাই সর্বদা স্মরণে রাখো - আমরা হলাম পরমাত্ম সেবাধারী । "আমি করেছি" এইরূপ নয় , খোদা আমার দ্বারা করিয়েছেন । এই একটি মাত্র স্মৃতি দ্বারা সহজেই সর্ব বিঘ্নের বীজকে সদাকালের জন্যে সমাপ্ত করো। সর্বপ্রকারের বিঘ্নের বীজ দুটি শব্দে রয়েছে । সেই শব্দ দুটি হল কোনটি , যে শব্দ দুটি থেকে বিঘ্নের রূপ উৎপন্ন হয়? বিঘ্ন আগমন হওয়ার দ্বার কোনটি জানো কি ? তো নামীগ্রামী সেই দুটি শব্দ গুলি কোনটি ? বিস্তৃত রূপ অনেক কিন্তু দুটি শব্দে সার নিহিত রয় । ১. অভিমান ২. অপমান । সেবাক্ষেত্রে বিশেষ বিঘ্ন এই দুটি পথ দিয়েই প্রবেশ করে। "আমি করেছি " এই হল অভিমান বা আমায় কেন বলা হয়নি অথবা আমায় করতে বলা হয়েছে কেন , এইরূপ আমার অপমান করা হয়েছে । এই অভিমান এবং অপমানের ভাবনা ভিন্ন ভিন্ন বিঘ্নের রূপে এসে পড়ে। যখন হলেই খোদাই খিদমতগার বা পরমাত্ম সেবাধারী , করন-করাবনহার বাবা আছেন তো অভিমান আসবে কোথা থেকে ? আর অপমান কিভাবে হল ? তাহলে ছোট্ট ভুল হয়েছে কিনা ? সেইজন্য বলা হয়েছে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখোনা। সেবায় সর্বদা কম্বাইন্ড রূপ স্মরণে রাখো। খোদা এবং খিদমত । পরমাত্মা এবং সেবা। তো এই সেবা করতে পারো কি ? খুবই সহজ। পরিশ্রম হবেনা । বুঝলে কি করবে ? আচ্ছা !

এমন সর্বদা অনাদি সংস্কারের স্মৃতি স্বরূপ , সর্বদা স্বয়ংকে নিমিত্ত মাত্র আর বাবাকে করন-করাবনহার অনুভব করে, সর্বদা স্বয়ং অনাদি স্বরূপ অর্থাৎ ব্লিসফুল , যে কোনো প্রকারের বিঘ্নের বীজ সমাপ্ত করতে পারে এমন সমর্থ আত্মারা , এমন সর্বদা বাবার সাথী , ঈশ্বরীয় সেবাধারীদের বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং নমস্তে ।
অধর কুমারদের সঙ্গে কথোপকথন :

সকলেই নিজেকে বাবার স্নেহী এবং সহযোগী শ্রেষ্ঠ আত্মা ভাবো তো ? সর্বদা এই নেশা থাকে তো যে আমরা হলাম শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ আত্মা কারণ বাবার সঙ্গে পার্ট প্লে করি। সমস্ত চক্রে এইসময় বাবার সঙ্গে পার্ট প্লে করার নিমিত্ত হয়েছ। উঁচু থেকে উঁচু ভগবানের সঙ্গে পার্ট প্লে করার নিমিত্ত আত্মারা কত উঁচু হয়েছে । লৌকিক জগতেও কোনো শ্রেষ্ঠ পদধারীর সঙ্গে কাজ করার কত নেশা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারীর কত নেশা থাকে । তাহলে আপনারা কার সঙ্গে রয়েছ ? উঁচু থেকে উঁচু বাবার সঙ্গে আর তার চেয়ে বিশেষ ব্যাপার হল এই যে একটি কল্পের জন্যে নয় , অনেক কল্প এই পার্ট প্লে করছি এবং সর্বদা প্লে করতেই থাকব। পরিবর্তন হবেনা । এমন নেশায় রইলে সর্বদা নির্বিঘ্ন থাকবে । কোনো বিঘ্ন আসে না তো ? বায়ুমন্ডলের , ভাইব্রেশনের , সঙ্গ - এর কোনো বিঘ্ন নেই তো ? কমল পুষ্পের সমান অর্থাৎ পদ্ম ফুলের ন্যায় রয়েছ তো ? পদ্ম ফুলের মতন নেয়ারা ও পেয়ারা ( ডিট্যাচ এবং লাভলী ) । বাবার কত প্রিয় হয়েছি , এর হিসেব ডিট্যাচ থাকার প্রতিশত কত , তার উপরে নির্ভর করছে। একটু মাত্রায় ডিট্যাচ , বাকি টুকু বন্ধনে অর্থাৎ প্রিয় হওয়ার মাত্রাও ততটাই । যে সদা বাবার প্রিয় তার চিহ্ন হল - সহজ স্মৃতি । প্রিয় বস্তু সহজ এবং স্বত:ই স্মরণে থাকে। বাবা তো কল্প কল্পের প্রিয় বস্তু হলেন তাইনা । একবার বাবার আপন হওনি , কল্প কল্প হয়েছ। তাহলে এমন প্রিয় বস্তুকে কেউ কিভাবে ভুলে যাবে? ভুলে যাওয়ার কথা তখনই আসে যখন বাবার চেয়েও বেশী কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে প্রিয় ভেবে নাও। যদি সর্বদা বাবাকে প্রিয় ভাববে তাহলে ভুলতে পারবেনা । এই কথা ভাববার প্রয়োজন হবেনা যে স্মরণ করব কিভাবে , বরং ভুলব কিভাবে - এই আশ্চর্য হবে। তো নাম হল অধরকুমার কিন্তু তোমরাও হলে ব্রহ্মাকুমার । ব্রহ্মাকুমার মানেই বিজয়ী তাইনা ? অধরকুমার অর্থাৎ অনুভবী কুমার । সব অনুভব করা হয়েছে। অনুভবী কখনও মিথ্যের জালে জড়ায়না। অতীত এবং বর্তমান - দুইয়ের সমান অনুভবী । প্রত্যেক অধরকুমার নিজ অনুভবের সাহায্যে অনেকের কল্যাণের নিমিত্ত হতে পারে। এই হল বিশ্ব কল্যাণকারী গ্রুপ । আচ্ছা !
মাতাদের সঙ্গে কথোপকথন :

প্রবৃত্তিতে থেকে একমাত্র বাবা আর কেউ নয় , এই স্মৃতিতে থাকো , এর চেকিং করো কি ? কেননা প্রবৃত্তির বায়ুমন্ডলে থেকে , সেই বায়ুমন্ডলের প্রভাব না থাকুক , সর্বদা বাবার নিকটের প্রিয়জন হয়ে থাকার চেকিং চাই। প্রবৃত্তি হল নিমিত্ত মাত্র কিন্তু বাবার স্মরণে থাকাই হল মুখ্য কথা। পরিবারের সেবার পার্ট যতই প্লে করতে হোক কিন্তু ট্রাস্টী হয়ে । ট্রাস্টী হলে নষ্টোমোহা হয়ে যাবে। গৃহস্থে পরিণত হলে মোহ আসবে। বাবা স্মরণে নেই মানেই মোহ রয়েছে । বাবার স্মৃতির সাহায্যে প্রবৃত্তির প্রতিটি কর্ম সহজ হয়ে যাবে কেননা স্মরণের দ্বারা শক্তি প্রাপ্ত হয়। তো বাবার স্মরণের ছত্রছায়ার তলে থাকো তো ? ছত্রছায়ার তলে যারা থাকে সর্বদা নির্বিঘ্ন থাকে। মাতা তো বাপদাদার প্রিয়জন কারণ মাতারা অনেক সহ্য করেছে। তাই বাবা এমন বাচ্চাদের সহ্য করার ফল সহযোগ এবং স্নেহ রূপে দিচ্ছেন । সর্বদা সৌভাগ্যবতী হয়ে থেকো। এই জীবনে কত শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য প্রাপ্ত করেছ। যেখানে সৌভাগ্য সেখানে ভাগ্য তো আছেই , তাই সর্বদা সৌভাগ্যবতী ভব !

উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাট জোন বাপদাদার সম্মুখে বিরাজিত , বাপদাদা তাদের বিশেষত্ব শোনাচ্ছেন :

সর্ব স্থানের নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে । উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাট কেউ কম নয়। দিল্লির পরে উত্তরপ্রদেশকে স্থান দেওয়া হয়েছে । যারা আদি সময়ে স্থাপনার কার্যে নিমিত্ত স্বরূপ তাদেরই ড্রামায় বিশেষ পার্ট রয়েছে । তবুও আদি সময়ের বিশেষ আত্মারা ডবল লটারিতো নিয়েছে তাইনা । সাকার এবং নিরাকার - ডবল লটারি প্রাপ্ত হয়েছে। এইটিও কিছু কম তো নয়! কল্পে-কল্পের চরিত্রে সদা সঙ্গে থাকার স্মৃতিচিন্হ তো রয়েছেই । এই হল বিশেষ ভাগ্যের পরিচয় ।

এখনও বাপদাদা অব্যক্ত রূপে সব পার্টই প্লে করছেন তবুও সাকার তো সাকারই হয়। সাকারে পার্টধারীদের আলাদা বিশেষত্ব আছে এবং এদের নিজস্ব ভিন্ন বিশেষত্ব রয়েছে । এরা অব্যক্ত রূপের মাধ্যমে সাকারী স্বরূপের স্নেহ প্রাপ্ত করে নেয় । অনেকে এমনও আছে যারা সাকারে সাথে থাকা বাচ্চাদের চেয়েও বেশী স্নেহ অনুভব করে । তাহলে সবাই একে অপরের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে । আচ্ছা !
আজ হল উত্তরপ্রদেশের চান্স । নদীর ধারে উত্তরপ্রদেশের বসতি হল বেশী । যমুনার ধারে রাজধানী এবং রাস দেখানো হয় কিন্তু উত্তরপ্রদেশের পতিত-পাবনী হল বিখ্যাত , অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশকে সেবাস্থল রূপে দেখানো হয়েছে । তাই এমন কেউ উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে বেরিয়ে আসবে যে অনেকের সেবার নিমিত্ত হবে। এমন কেউ তৈরী হয়ে যাবে। যেমন আমেরিকায় একের দ্বারা অনেকের সেবা হচ্ছে তেমনই উত্তরপ্রদেশ থেকেও কেউ এমন বেরিয়ে আসবে যার দ্বারা একের সাহায্যে অনেকের সেবা হয়ে যাবে। আওয়াজ তো ছড়াবেই তাইনা ! যখন বিদেশ থেকে আওয়াজ আসবে তখন সবার চোখ খুলবে । এখনও কেউ বড় ভিআইপি বেরোয়নি । এখনও যে ভিআইপিরা বেরিয়েছে তাদের চেয়ে নামীগ্রামী ভিআইপিরা হল বিদেশের কিনা ! যারা প্র্যাক্টিকালে অনেককে সংবাদ দেওয়ার নিমিত্ত রূপে পরিণত হচ্ছে । ভারতও আগে যেতে পারে কিন্তু সেতো বর্তমানের কথা। শেষ সময়ে জয়-জয়কার তো ভারতেই হবে তাইনা ! বিদেশীদের জয়-জয়কারের সমূহ ধ্বনি শোনা যাবে বিদেশ থেকে কিন্তু তারা এসে পৌঁছাবে তো ভারতেই তাইনা ! তাদের মুখেও এই কথাই শোনা যাবে - আমাদের ভারত। ভারতে বাবা এসেছেন , এমন বলা হবেনা যে ইউনাইটেড নেশনে বাবা এসেছেন । বিদেশ এখন রেসে এগিয়ে রয়েছে । এখন উত্তরপ্রদেশের কোনো বিশেষ ভিআইপিকে আনো। পতিত-পাবনী কাউকে পাবন বা পবিত্র করে ছু- মন্ত্র করো। গুজরাট নম্বরওয়ান বৃদ্ধি করেছে। ভিআইপিরাও স্টেজে এসে পড়বে । এমন ভিআইপিরা আসুক যারা বেহদের সেবা করবে। গুজরাটের সেবা গুজরাটী করবে , তাহলেতো মাইক হয়ে গেল ছোট্ট । চতুর্দিকের সেবা করলে তাকে বড় মাইক বলা হবে। আচ্ছা !

বরদান :- নিজের চঞ্চল বৃত্তিকে পরিবর্তন করে সতোপ্রধান বায়ুমন্ডল নির্মাণের কাজে দায়িত্বশীল শ্রেষ্ঠ আত্মা ভব ।
ব্যাখ্যা : 

যে বাচ্চারা নিজের চঞ্চল বৃত্তিকে পরিবর্তন করে নেয় সেই বাচ্চারাই সতোপ্রধান বায়ুমন্ডল নির্মাণ করতে পারে কারণ বৃত্তি দ্বারা বায়ুমন্ডল নির্মিত হয়। বৃত্তি চঞ্চল তখনই হয় যখন বৃত্তিতে এই বিশাল কার্যের স্মৃতি থাকেনা । যদি কোনো অতি চঞ্চল বাচ্চা বিজী হওয়া সত্ত্বেও চঞ্চল বৃত্তিকে ত্যাগ করতে পারেনা তখন তাকে বাঁধনে রাখতে হয়। তেমনই যদি জ্ঞান-যোগে বিজী হওয়া সত্ত্বেও বৃত্তি চঞ্চল রয় তবে একমাত্র বাবার সঙ্গে সর্ব সম্বন্ধের বন্ধনে বৃত্তিকে বেঁধে দাও তাহলেই চঞ্চলতা সহজে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

শ্লোগান :- 

অমনোযোগিতার (আলবেলাপন) ঢেউ সমাপ্ত করার সাধন হল বেহদের বৈরাগ্য ।

***OM SHANTI***

BK Murli 6 August 2016 Bengali

BK Murli 6 August 2016 Bengali

  ০৬-০৮-১৬          প্রাত: মুরলী          ওম্ শান্তি            "বাপদাদা"            মধুবন

​"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা তোমাদের যোগবলের দ্বারা এই পুরানো দুনিয়ার পরিবর্তন করে নতুন দুনিয়া বানাচ্ছ, তোমরা প্রকট হয়েছো এই রুহানি সেবাকাজের জন্য l "

প্রশ্ন :- 

সত্যিকারের বিশ্বাসী পুরুষার্থী বাচ্চাদের চিহ্ন কি হবে ?

উত্তর :- 

বিশ্বাসভাজন বাচ্চারা কখনো নিজেদের ভুলকে লুকাবে না l সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভুলের কথা বাবাকে শোনাবে l এইসব বাচ্চারা খুবই নিরহংকারী হয়, তাদের বুদ্ধিতে সবসময় থাকে যে আমরা যেমন কর্ম করবো তেমন ফল পাবো l 
2) তারা কোনোরকম সেবাবিরোধী কাজের কথা কখনো বলবে না l সবসময় নিজের সেবাকাজেই তারা লেগে থাকবে l তারা কারোর অপগুণ দেখে নিজেরা মাথা খারাপ করবে না বা বিরক্ত হবে না l

গীত :- 

ধৈর্য ধর হে মানব ........

ওম্ শান্তি l 

মিষ্টি--মিষ্টি রুহানি বাচ্চাদের রুহানি বাবা ধৈর্য ধরতে বলছেন l যেমন ভাবে লৌকিক বাবাও নিজের বাচ্চাদের ধৈর্য ধরতে বলেন l কোনো সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে লৌকিক বাবা তাদের আশ্বাস বা ভরসা দেন l তোমাদেরও এই যে বিকারের অসুখের দুঃখের দিন বদলে সুখের দিন আসবে l লৌকিক বাবা লৌকিক ভরসা বা আশ্বাস দেন l আর ইনি হলেন বেহদের শিব বাবা l তিনি সন্তানদের বেহদের ধৈর্য্য প্রদান করেন l বাচ্চারা, এখন তোমাদের সুখের দিন আসছে l আর সামান্য কিছুদিনই আছে l এখন তোমরা বাবার স্মরণে থাকো এবং অন্যকেও বাবাকে স্মরণ করা শেখাও l কেননা তোমরাই হলে শিব শক্তি l শিব বাবার এই শক্তি সেনা আবার নতুন করে প্রকট হয়েছে l এই গোপীরাও হলেন আত্মা l এরা সবাই শিবের থেকে শক্তি গ্রহন করে l তোমরাও এই শক্তিগ্রহন করো l বাবা তোমাদের বুঝিয়ে বলেন যে এখানে কৃপা বা আশীর্বাদের কোনো কথা নেই l বাবার স্মরণে থেকে বাবার থেকে শক্তি গ্রহণ করো l এই স্মরণের দ্বারাই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে আর তোমরা শক্তিমান হতে পারবে l শিবের শক্তিসেনারা এতোখানি শক্তিমান ছিলো যে তারা পুরোনো দুনিয়াকে বদলে নতুন দুনিয়ার নির্মাণ করেছিলো l তোমরা জানো যে তোমরা এই যোগবলের দ্বারাই পুরোনো দুনিয়ার বদল করাও l আঙ্গুলের দ্বারাও মানুষ ওপরের দিকে দেখিয়ে ইশারা করে যে ভগবানকে বা আল্লাকে স্মরণ করো l বাচ্চারা এখন জানে যে .....বাবার এই স্মরণের দ্বারাই এই পাথরের পাহাড়রূপী পুরোনো দুনিয়া বদল হয়ে যাবে l এখন তোমরা পরীস্থান স্থাপন করছো l বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন - তোমরা খুব প্রদর্শনী করো, এই প্রদর্শনী নিয়ে তোমরা অনেক পরিশ্রম করো,যে সময় পাও এই সেবা আরো ভালো করে শেখো l এতো খুবই সহজ l বাচ্চারা সব ধরনের শিক্ষাই প্রাপ্ত করে l প্রত্যেকের নিজেদের কর্মের হিসাব আছে l কন্যাদের কর্ম খুবই ভালো হয় l যে সব কন্যাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে তারা বলে .....এইসময় আমরা যদি কুমারী কন্যা হতাম তাহলে আমাদের কোনো ধরনের বিঘ্ন থাকতো না, আমরা স্বাধীন হতাম l কুমারী কন্যারা তো সম্পূর্ণ স্বাধীন l কিন্তু অনেকেরই খারাপ সঙ্গের কারণে ক্ষতি হয়ে যায় l স্ত্রীদের পুরুষ আর বাচ্চাদের নিয়ে কতো শৃঙ্খল থাকে, নিয়ম কানুনেরও কতো বন্ধন থাকে l কিন্তু কুমারী কন্যাদের কোনো বন্ধন থাকে না l এখন বোম্বের কন্যারাও তৈরী হচ্ছে l তারা বলে যে .....আমাদের জায়গাকে আমরা নিজেরা সামলাবো l সবাই তাদের নিজেদের জায়গার জন্য কতো পরিশ্রম করে l কেউ বলে আমার গুজরাট , কেউ বলে আমার ইউ. পি........ কিন্তু তোমরা এখন স্বরাজ্য অধিকারী হচ্ছো, তাই আমি অমুক বা আমি অমুক প্রান্তরের এমন কথা যেন তোমাদের মধ্যে না থাকে l কারোর উপর তোমাদের ঈর্ষা যেন না থাকে l কারোর অপগুণ দেখে তোমাদের মাথা যেন খারাপ না হয় বা তোমরা যেন বিরক্ত না হও l নিজেদের দেখো যে তোমরা কতোজন আত্মাকে , কতোজন ভাই - বোনকে সুখের রাস্তা দেখিয়েছো l যদি তাদের রাস্তা না দেখাতে পারো তাহলে কোনো কাজই হবে না l তাহলে তোমরা বাবার হৃদয় আসনে বিরাজ করতে পারবে না l বাপদাদার হৃদয়ে বিরাজ করতে না পারলে তোমরা সিংহাসনের অধিকারীও হতে পারবে না l বাবা জানেন যে কোনো কোনো বাচ্চাদের সেবা করার অনেক শখ থাকে l তাদের দেহ অভিমান বলতে গেলে থাকেই না l আবার কেউ কেউ তো খুবই অহংকারী হয় l তারা ভাবে যে তারা নিজেকে নয় বাবাকে দয়া করেছে l কখনোই কারোর অপগুণকে তোমাদের দেখা চলবে না l অমুকে এমন , সে এমন এমন কাজ করে এই কথা বলাও চলবে না l আজকাল এমন অনেকে আছে যারা একে অপরের সেবার নিন্দা করে l অমুকে এই করছে , সেই করছে বলতে থাকে l আরে , তুমি তোমার কাজ করো l ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের কাজই হলো সেবাকাজে লেগে থাকা l বাবা এখানে আছেন এবং বাবার কাছে সমস্ত খবর আসে l প্রত্যেকের আবস্থা সম্বন্ধে বাবা সচেতন l প্রত্যেকের সেবা দেখে বাবা তাদের মহিমাও করেন l বাচ্চাদের মধ্যে এই সেবার খুব শখ থাকা দরকার l এই ঈশ্বরীয় সেবা কাজের মাধ্যমে প্রত্যেকেরই নিজেদের কল্যাণ করতে হবে l লৌকিক জগতের কাজকর্ম , ব্যবসা ইত্যাদি তো জন্ম জন্মান্তর ধরে তোমরা করে আসছো l এই এই সেবা কাজ কোনো কোনো বিশেষ জনই করতে পারে l এই সেবার নিয়ম বাবা খুব সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলেন l কোনদিনই তোমরা অপরের নিন্দা করো না l এমন নিন্দা কিন্তু অনেকেই করে l খুব বড় বড় মহারথীরাও এই মায়ার দ্বারা আক্রান্ত হয় l বাবাকে স্মরণ না করলে এই মায়া তোমাদের গ্রাস করবে l বাবাও বলেন -যেহেতু আমি সধারন মানুষের শরীরে আসি তাই অনেকেই চিনতে পারে না l ব্রহ্মাবাবাকেও তারা মত দেয় যে এমনভাবে বা এইভাবে করতে হবে l তারা এমন ভাবে যে বাবা কিছুমাত্র অন্য কিছু করলেই বিশ্বাসঘাতক হয়ে যাবে l তারা বাবাকেও নিজের মতামত জানায় l প্রবাদ আছে না যে ইঁদুর যখন হলুদের বস্তায় ঢোকে তখন সে নিজেকে কেউকেটা বা বড় ব্যবসায়ী বলে মনে করে l তাই এই ধরনের বাচ্চারা ভাবেই না যে তাদের ডিসসার্ভিস হয়ে যাচ্ছে l ভুল তো অনেকেরই হয়ে যায় l কখনো নিজের স্থিতি উপরে কখনো বা নীচে হয়ে যায় l প্রত্যেকেই তোমরা নিজের আবস্থাকে দেখো l যারা বিশ্বাসী বাচ্চা তারা নিজের আবস্থাকে দ্রুত বদলাতে পারে l আবার কেউ কেউ নিজের ভুলকে লুকিয়ে যায় l তাই এই কথাকে প্রকাশ করতে গেলে নিরহংকারী হওয়ার প্রয়োজন l এই সেবাকে এগিয়ে নেবার জন্য নিজেদের সচেষ্ট হতে হবে l সবসময় এই কথা খেয়াল রাখতে হবে .......যেমন কাজ আমরা করবো, আমাদের দেখে অন্যেরা অনুপ্রাণিত হবে l আমি যদি কারোর নিন্দা করি তবে আমাকে দেখে অন্যেরাও সেই কাজ করতে থাকবে l অনেকেরই এইসব কথা খেয়াল থাকে না l বাবা বুঝিয়ে বলেন যে .....তোমরা এখন সেবা কাজে লেগে যাও l না হলে পরবর্তীকালে অনেক পস্তাতে হবে l অনেক শত্রুও এখানে তৈরী হয় l 

তোমরা এখন শূদ্র থেকে পরিবর্তিত হয়ে ব্রহ্মামুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ তৈরী হয়েছো l যাদের মধ্যে পাঁচ বিকার থাকে তারা আসুরী সম্প্রদায়ের হয় l আর তোমরা হলে দৈবী সম্প্রদায়ের l তোমরা দেবতা হওয়ার জন্য এই বিকারের উপর বিজয় পাওয়ার চেষ্টা করছো l এখানে তো কেউই দেবতা নয় l দেবতারা থাকে সত্যযুগে l তোমরা এখন দৈবী সম্প্রদায়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছো l করতে হবে l সমস্ত কাজকর্ম থেকে কিছুটা সময় বার করে তোমাদের এই সেবা কাজে সময় লাগাতে হবে l এমন নয় যে তোমরা বলবে যে সময় পাও না lতোমাদের বাচ্চাদের এখন সকলকে বোঝানোর জন্য সুযোগ মিলেছে l প্রদর্শনীতে গিয়ে তোমরা সকলকে বোঝাও l প্রদর্শনী আর মেলাতে সকলের অবস্থান সম্বন্ধে বোঝা যায় l প্রজেক্টর দিয়ে তো সকলকে বোঝানো যাবে না l সামনে বসে বোঝালে সকলেই বুঝতে পারবে l প্রদর্শনী বা মেলা খুবই ভালো জিনিস, সেখানে তোমরা লিখেও বোঝাতে পারো l এই প্রদর্শনী বা মেলার শখ তোমাদের থাকা চাই l রোজ যদি তোমরা পড়া অভ্যাস করো তাহলে তোমাদের এই নেশা বাড়তে থাকবে l যারা বন্ধনে থাকো, তারা যদি ঘরে বসেও বাবাকে স্মরণ করো তাহলেও তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l ঘরে বসেও বাবাকে স্মরণ করা খুবই ভালো l কিন্তু এই স্মরণ করাও বাচ্চাদের পক্ষে মাঝে মাঝে খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে l যে বাবার থেকে তোমরা ২১ জন্মের বর্ষা বা স্বর্গের অধিকার পাও তাঁকেই তোমরা সঠিকভাবে স্মরণ করো না l খুব বড় বড় মহারথী যারা খুবই ভালো ভাষণ দিতে পারে তারাও অনেক সময় বাবাকে সঠিকভাবে স্মরণ করে না l তারা ভোরবেলাও ওঠে না l বা উঠলেও বাবার স্মরণে বসে ঝিমতে থাকে l বাবাকে স্মরণ করার জন্য এই ভোরের সময় খুবই ভালো l ভক্তিমার্গেও এই ভোরে উঠে ঈশ্বরকে স্মরণের প্রথা প্রচলিত l তবে ভক্তিমার্গে সবারই উতরতি কলা l আর এখানে তো সবই ওপরে ওঠার কথা l মায়া তোমাদের সামনে কতো বিঘ্ন এনে উপস্থিত করে l যদি তোমরা ভোরবেলা উঠে বাবাকে স্মরণ না করো তাহলে তোমাদের ধারণাও তৈরী হবে না আর তোমাদের বিকর্মও বিনাশ হবে না l বাকি মুরলী পড়া ......সে তো ছোটো বাচ্চারাও শিখে বুঝিয়ে দিতে পারে l তবে এই পড়া বড়দের জন্য l এই বিশ্ববিদ্যালয় কতো বড় l তোমাদের কে পড়ান .....এই নেশাও বাচ্চাদের থাকে না l মায়া যদি কাউকে ধোকা দেয়,তবে তাকে না দেখে নিজের সেবায় লেগে যাও l বাবার কাছে সব খবরই আসে l কেউ কেউ দেহ অভিমানে এসে অন্যকে দেখতে থাকে, তার কাজের ভুল ধরে, তাদের নিন্দা করে নিজের অমূল্য সময় নষ্ট করে l তোমাদের কাজই হলো এই সেবা করা l কোনো সমস্যা তৈরী হলে সমস্তকিছু বাবাকে সমর্পণ করো l পরচিন্তন কখনোই করো না l বাচ্চাদের দিন রাত এই সেবাতে লেগে থাকতে হবে l এটাই তোমাদের একমাত্র কাজ l প্রদর্শনীতে গিয়ে রোজ বোঝাও যে ইনি হলেন শিববাবা আর ইনি হলেন প্রজাপিতা ব্রহ্মা l আগের কল্পেও প্রজাপিতা ব্রহ্মার গায়ন আছে l প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা এই মনুষ্য সৃষ্টির রচনা হয় l এমন নয় যে মানুষ এখানে একদমই ছিলো না l মনুষ্য সৃষ্টির রচনা অর্থাত্ মানুষকে কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করা l ব্রহ্মার দ্বারা যখন সৃষ্টির রচনা হয়, তখন এই সৃষ্টি নিশ্চই উপরে রচনা হয় না l ব্রহ্মা তো এখানেই আছেন l বাবা কতো সহজ করে এই কথা বুঝিয়ে বলেন l

বাবা বলেন যে অনেক জন্মের শেষে আমি এই শরীরে প্রবেশ করে মানুষকে দেবতায় পরিণত করি l তাই বাচ্চাদের এই সেবাতে রাত দিন পরিশ্রম করতে হবে l সমস্ত কাজ থেকে কিছু সময় বার করে তোমাদের এই সেবাতে লেগে যেতে হবে l এমন নয় যে তোমরা সময় পাও না lঅসুখ হলেও কি তোমরা বলবে যে সময় নেই পুরুষার্থ তোমাদের করতেই হবে l শুধুমাত্র প্রেরণা দিয়ে কিছুই হবে না l ভগবান প্রেরণা দিলেই কোনো কাজ হয় না , সেখানে মানুষের প্রেরণায় কি কাজ হবে l মানুষ ভাবে যে ভগবান কি না করতে পারে l মরা মানুষকেও বোধ হয় বাঁচাতে পারে l ভগবানকে তোমরা বলো যে, হে পতিত পাবন তুমি এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র বানাও, এর থেকে দ্বিতীয় কোনো কথা হতেই পারে না l অল্প মানুষই কেবলমাত্র বলে যে মৃত মানুষকে জীবন্ত করে দাও l বাবা হলেন পতিত পাবন l ভারত একদিন সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলো l বাবা বলেন যে .....আমি কল্পে কল্পে এসে তোমাদের পবিত্র বানাই l আবার মায়া এসে তোমাদের পতিত বানিয়ে দেয় l এখন আমি আবার এসেছি তোমাদের পবিত্র বানাতে l এ কতো সহজ সরল কথা l হাকিমেরা অনেক বড় রোগকে জরি - বুটি দিয়ে ঠিক করে দেয় তখন তাদেরও খুব মহিমা হয় l আবার কেউ কেউ সন্তান লাভ করলে বা ধন প্রাপ্ত করলে বলতে থাকে যে গুরু কৃপা করেছেন l বাচ্চা মরে গেলেও মানুষ ভাবে যে এ আমার ভাগ্যে ছিলো l এই সব কথা এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝতে পার l সন্ন্যাসীরা পবিত্র জীবন যাপন করেন, তাই মানুষ তাঁদের খুব সম্মান করে l কিন্তু অনেকেই হঠযোগী আছেন, তারা রাজযোগ শেখাতেই পারেন না l তাঁরা সন্ন্যাসী আর তোমরা হলে গৃহস্থী তাই তোমাদের সন্ন্যাসীদের অনুসরণকারী বলা যাবে না l বাবা বাচ্চাদের বলেন তোমাদের সম্পূর্ণভাবে বাবার কথাকে মানতে হবে অর্থাত্ .....মনমনাভব l অর্থাত্ আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমরা পবিত্র হতে পারবে আর আমার সাথে যেতে পারবে l আমি তো সবসময় পবিত্র l মানুষ পতিত হয় আর আমি এসে তোমাদের পবিত্র বানাই l বাবা হলেন পবিত্রতা, সুখ আর শান্তির সাগর l তোমাদেরও এমনই হতে হবে l তোমরা যোগবলের দ্বারাই আত্মাকে পবিত্র বানাও l তোমরা জানো যে তোমরা সুদর্শন শরীর এবং নীরোগ শরীর প্রাপ্ত করবে l মানুষকে সত্যিকারের দেবতা হতে হবে l কেবলমাত্র দেবতাদের জামাকাপড় পড়লেই হবে না নিজের উপর পুরো নজর দিতে হবে l তোমাদের দেহ - অভিমান যেন না আসে l মনে যেন এই ভাব থাকে যে বাবা আমরা তো তোমার থেকে বর্ষা বা স্বর্গের অধিকার নিয়েই ছাড়ব l তোমরাও বল যে , আমরা ভারতকে শ্রেষ্ঠ আচরণ সম্পন্ন দুনিয়া বানিয়েই ছাড়বো l যারা নিশ্চতবুদ্ধিসম্পন্ন তারাই এই কাজ করতে পারবে l অনেকে আবার বলে যে এতো কম সময়ে এটা কি করে সম্ভব হবে l বাস্তবে কিন্তু তোমাদের এই সংশয় আনলে চলবে না l সংশয় এলে সেবা তোমরা ঠিকভাবে করতেই পারবে না l সময় কিন্তু খুবই অল্প আছে l তাই যতটা পারো তোমরা পুরুষার্থ করে নাও l সামান্য লড়াই বা হাঙ্গামা উপস্থিত হলে দেখো না কতো পরিশ্রম করতে হয় l তোমরা তো বুঝতে পারো .....আমরা যদি বাবার স্মরণে সম্পূর্ণ না থাকি তাহলে সেই লড়াই বা হাঙ্গামার সময় আমরা তো টানাপোড়েনে পড়ে যাব না ?l সেই সময় তো অনেক বিপদ আপদ উপস্তিত হবে তাই বাবা বলেন, এখন তোমাদের স্মরণের শক্তিকে বাড়িয়ে যাও l এ হলো আত্মাদের দৌড় প্রতিযোগিতা l বাবা কতো ভালো করে তোমাদের এইসব কথা বুঝিয়ে বলেন l তোমাদের লক্ষ্য বাবার ঘর পরমধামে গিয়ে আবার নতুন দুনিয়ায় চলে আসতে হবে l এ খুবই সুন্দর দৌড় প্রতিযোগিতা l বাবা বলেন যে.......আমাকে ছুঁয়ে অর্থাত্ মূলবতনে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তোমাদের নতুন দুনিয়ায় চলে আসতে হবে l যারা যোগযুক্ত থাকবে তারাই প্রথমের দিকে আসবে l সবাই চায় মুক্তিধামে যেতে l বাবা বলেন যে আমাকে স্মরণ করলেই তোমরা সেখানে যেতে পারবে l মুক্তিধাম তো সকলেরই পছন্দ, তারপর তোমরা সকলেই আসবে এই দুনিয়ায় অভিনয় করতে l কেউই মোক্ষলাভ করে না l ঈশ্বরীয় ইতিহাসে মোক্ষ নামের কোনো শব্দ নেই l তোমরা এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তি পাবে আর বাকি সবাই মুক্তিধামে চলে যাবে l এই রাবণরাজ্য থেকে তোমাদের মুক্তি পেতেই হবে আর যারা পুরুষার্থ করবে তারাই উঁচু পদ পাবে l তোমাদের বাচ্চাদের খুবই মধুর হতে হবে l তোমাদের স্বভাব খুবই মিষ্টি হতে হবে l তোমরা কিন্তু দুর্বাসার মতো ক্রোধী হবে না l রাজঋষিদের মধ্যে অনেকেই এমন ক্রোধী ছিলেন l সবসময় নিজের মনকে প্রশ্ন করো যে আমি কি করছি l আমি যে কাজ করছি তাতে আমি কি পদ প্রাপ্ত করতে পারবো l যদি তোমরা সেবা না করো বা নিজের মতো অন্যকে না বানাও তবে তোমরা কি পদ প্রাপ্ত করবে l অল্পেই তোমরা খুশী হবে না l বাবা বলেন যে .....আমি এসেছি বাচ্চাদের সম্পূর্ণ বাদশাহী দিতে l তাই নিজেদের মধ্যে সাহস রেখে সব কাজ তোমাদের করে দেখাতে হবে l শুধু মুখে বললেই তো আর কিছু হবে না l বাবার এই সেবাকাজে তোমাদের অস্থির ও বলিদান দিতে হবে l তোমরা চেষ্টা করো কিন্তু মাঝে মাঝে দেহঅভিমান আসার কারণে জাগতিক নেশা এসে যায় আর তোমাদের পতন হয় l মায়াও কিন্তু কম শক্তিশালী নয় l বাবার শ্রীমতে না চললেই মায়া তোমাদের আক্রমণ করবে আর তখন তোমরা বাবাকেই ছেড়ে দেবে l বাবা তোমাদের সুখধামের মালিক বানান, তাই তোমাদের নিজের উপর দয়া আসা উচিত l বাবা খুবই সাধারণ রায় দেন l মায়ার তুফান তো তোমাদের উপর অনেক আসবে কিন্তু তোমাদের মহাবীর হয়ে থাকতে হবে l আচ্ছা l 

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ, ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :- 

1) সেবা করার শখ মনে রেখে নিজের আর অপরের কল্যাণ করতে হবে l কারোর সেবা বিরোধী কাজের কথা তোমরা বলো না l পরচিন্তন করে নিজের সময় নষ্ট করো না l

2) বিশ্বাসী আর নিরহংকারী হয়ে সেবার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে l ভোরবেলা উঠে বাবাকে খুব ভালোবেসে স্মরণ করতে হবে l তোমাদের মুখের কথা আর কাজ যেন সমান হয় l

বরদান :- 

জ্ঞান আর যোগের শক্তিশালী কিরণের দ্বারা পুরানো সংস্কাররূপী কীটানুদের ভস্ম করে মাষ্টার জ্ঞান সূর্য্য হও l

যে কোনো রকমের পতিত বায়ুমন্ডলকে বদলের জন্য বা পুরোনো সংস্কাররূপী কীটানুদের ভস্ম করার জন্য " আমি মাষ্টার জ্ঞান সূর্য " এই কথা সর্বদা স্মৃতিতে ধারণ করো l সূর্যের কর্তব্যই হলো আলো দেওয়া আর জীবাণুকে বিনাশ করা l তাই তোমাদের জ্ঞান আর যোগের শ্রেষ্ঠ পথে থেকে এই কর্তব্যই করে যেতে হবে l যদি তোমাদের শক্তি কম হয়ে যায় তাহলে এই জ্ঞান শুধুমাত্র আলো বিতরণ করবে কিন্তু পুরোনো সংস্কাvররূপী জীবাণুদের শেষ করতে পারবে না l তাই সর্বপ্রথমে যোগ আর তপস্যার দ্বারা শক্তিশালী হও l

স্লোগান :- 

শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার শ্রেষ্ঠ সংকল্পই তোমাদের জমার খাতা বাড়াতে থাকবে l


***OM SHANTI***

BK Murli 5 August 2016 Bengali

BK Murli 5 August 2016 Bengali

    ০৫-০৮-১৬        প্রাতঃমুরলী        ওম শান্তি         "বাপদাদা"        মধুবন


"মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার দক্ষিণ-হস্ত (সুযোগ্য সহকারী) হতে গেলে, প্রত্যেকটা ব্যাপারেই ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ হও। সর্বদা শ্রেষ্ঠ কর্ম করো।"

প্রশ্ন :- 

আমাদের কোন এমন সংস্কার যার কারণে সেবার কাজে খুব বিঘ্ন সৃষ্টি করে ?

উত্তর :- 

জীবন যাত্রার ভাব, স্বভাবের কারণে নিজের ভিতরে দ্বৈত মতের যে সংস্কার তৈরী হয়, সেই কারণে সেবার কাজে যথেষ্ট বিঘ্নের সৃষ্টি হয়। এই দ্বি-মতের জন্য অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তখন ক্রোধের ভূত এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ভগবানকেও রেয়াত করতে চায় না। এই জন্যই বাবা বলেন, মিষ্টি বাচ্চারা, যদি এমন কোনো সংস্কার তোমাদের থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বর্জন করো।

গীত :- 

তকদীর জাগাকর আয়ী হুঁ ............।  (তোমাদের ভাগ্যকে জাগ্রত করতেই এসেছি.......।)

ওম শান্তি। 

মিষ্টি-মিষ্টি রুহানি (ঈশ্বরীয়) বাচ্চারা, তোমরা গীত তো শুনলে। রুহানি বাচ্চারা- শিববাবা, যিনি সর্বোত্তম (রুহু) পরম-আত্মা, ওনার সন্তানেরা অর্থাৎ আত্মারা শরীর রূপী কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা এই গীত শুনলো। অতএব এখন তো সেই বাচ্চাদেরকে আত্ম-অভিমানী হতে হবে। যদিও এর জন্য প্রচুর পরিশ্রমও করতে হবে। বারে বারে প্রতিটি মুহূর্তেই, নিজেকে আত্মা ভেবে, এক ও একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। যেহেতু এটা হচ্ছে গুপ্ত প্রচেষ্টা। বাবা নিজেও যেমন গুপ্ত, তাই সে পরিশ্রমও তিনি গুপ্ত ভাবেই করান। বাবা স্বয়ং এসে বলছেন, বাচ্চারা- তোমরা যদি আমাকে স্মরণ করো, তাহলে কল্পের পাঁচ হাজার বছর পূর্বের মতো আবার সতোপ্রধান হয়ে যাবে। আর বাচ্চারাও তা জানো যে, আমরাই একদা সতোপ্রধান ছিলাম, আবার সেই আমরাই এখন তমোপ্রধান হয়েছি। তাই আবার অবশ্যই সতোপ্রধান হতেই হবে। গীতের মাধ্যমেও তাই জানাচ্ছেন -আমাদের যে ভাগ্য হারিয়ে গেছে- তা আবার ফিরে পাবার প্রয়াস ও ব্যবস্থা করছেন এক ও একমাত্র সর্বশক্তিমান এই বাবা। তিনিই সবাইকে পবিত্র-পাবন বানান। বাবা বলেন, "হে রুহানি বাচ্চারা, এখানে তো তোমরা ভাগ্য গড়তেই এসেছো। ছাত্ররা বিদ্যালয়ে ভাগ্য তৈরি করতেই তো যায়। কিন্তু তারা তো তখন ছোটো বাচ্চা। কিন্তু তোমরা তো আর ছোটো নও, তোমরা তো পরিণত, বয়স্ক। নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে তুলছো। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার অতি বৃদ্ধজনও আছেন। বৃদ্ধাবস্থা থেকে কম বয়সেই পড়াশোনা ভালো হয় । কম বয়সে বুদ্ধিও তরতাজা ও তীক্ষ্ণ থাকে । এই কথাটা বোঝা সবার জন্যই খুব সহজ। তোমার শরীরটা বড়, আর ওরা তো শিশু, তাই সবটুকু সেভাবে বুঝতে পারবে না, কেননা এদের অঙ্গ-প্রতঙ্গ, ইন্দ্রিয়গুলি যথেষ্ট ছোটো। স্তুতি-নিন্দা, সুখ-দুঃখ এই সব কথা কেবল তোমরাই বুঝতে পারবে। আত্মা তো বিন্দু-স্বরূপ। শরীর বেড়ে যায়, কিন্তু আত্মা সেই এক রকমই থেকে যাবে। তা কখনো ছোট বা বড় হয় না। সেই আত্মার সুবুদ্ধির জন্য বাবা কস্তুরীর মতো সুন্দর উপহার দিচ্ছেন, কারণ এখন যে বুদ্ধি সম্পুর্ণ ভাবেই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। এই ব্যাপারটা এখন খুব পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আত্মশুদ্ধি হচ্ছে আমাদের। তাই এইসব চিত্র, দৃশ্য বা চিত্রনাট্য অন্যদেরকে বোঝাতে খুব সাহায্য করবে। ভক্তি মার্গে দেবতাদের সামনে মাথা নত করে পূজো করতে হয়। ইতিপূর্বে তোমরাও অন্ধ-বিশ্বাসী হয়ে তাই করতে। শিবের মন্দিরে যখন যেতে, তখন কি তোমরা জানতে যে, কে এই শিববাবা। যেই বাবার থেকে পূর্বে নিশ্চয়ই আশীর্ব্বাদী বর্সা (অধিকার) পেয়ে এসেছো, তবেই না ওনার এত মহিমা কীর্তন করতে পারছো। কেউ যদি কোনও মহৎ কাজ করে থাকে, তাহলেই তো তার মহিমা গুণকীর্তন করা হয়। অতএব শিববাবারও মোহর (স্ট্যাম্প) বানানো উচিত। "শিববাবাই হলেন গীতার সারাংশ..."। তাই এই মোহর (স্ট্যাম্প) সহজেই ওনার উদ্দেশ্যে তৈরি হতেই পারে। যেহেতু এই বাবা প্রত্যেককেই সুখ প্রদান করেন। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে সুখধামের মালিকে (অধিকারী) পরিনত করি। বৃদ্ধজনেরা এটা তো বুঝতেই পারে যে, আমরা শিববাবার কাছেই এসেছি, যিনি বিচিত্র (আকার বিহীন)। যিনি এই চিত্রে (ব্রহ্মার তনুতে) প্রবেশ করেছেন। নিরাকার কেই বিচিত্র (বিদেহী) বলা হয়। তাই বুদ্ধিতে এটা থাকা উচিত যে আমরা সেই শিববাবার কাছেই যাই। যিনি সাময়িক ভাবে এই চিত্র (আকার বা তনু) ধারণ করে আছেন। যিনি পতিতদের পবিত্র বানিয়ে মুক্তি আর জীবনমুক্তি দিয়ে থাকেন। অথবা শান্তিধাম, মুক্তি ধামের বাসিন্দা বানিয়ে দেন। মনুষ্যরা শান্তির জন্য কতই প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু ভগবানকে পেলেই তো প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সুখ পাবার জন্য তারা এত পুরুষার্থ করে না। তাদের আকাঙ্খা, একমাত্র বাবার কাছে আপন ঘরে গেলেই ভগবানকে পাবো। এই সময় প্রত্যেকেই মুক্তির ইচ্ছা মনে পোষণ করে থাকে। কিন্তু একমাত্র তোমরা ব্রাহ্মণেরাই জীবন মুক্তি পেতে পারো। বাকি অন্যেরা সবাই তো জীবন মুক্তির আশায় থাকে। যেহেতু জীবন মুক্তির পথ প্রদর্শক অন্য আর কেউই নেই। লোকেরা সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে যায় শান্তির খোঁজে। সেখানে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, মনের শান্তি কেমন করে পাবো- কিন্তু যারা সেই পথ প্রদর্শক, তিনিও তো সেই মুক্তির খোঁজেই বেরিয়েছেন। মোক্ষ ব্যাপারটা কি - বুদ্ধিতে সেই ধারণাটাই তো নেই। অস্বস্তিতে, শেষে না পেরে তারা বলেন যে, মুক্তির পথে যাওয়াই ভালো। বাস্তবে মুক্তিধাম তো হলো আত্মাদের থাকার স্থান। এই যে এতো সেন্টার, কত বাচ্চারা আছে, তারা সবাই জানে যে, আমরা নতুন দুনিয়ায় (সত্যযুগের স্বর্গরাজ্যে) রাজ্য-ভাগ্যের অধিকারী হবো। এই বাবাই আমাদেরকে সেই নতুন দুনিয়ার রাজ্য-ভাগ্য প্রদান করেন। কিন্তু কোথায় সেই রাজ্য দেবেন ? তা কি নতুন দুনিয়ায় না এই পুরোনো দুনিয়ায় দেবেন ? বাবা বলেন, আমি তো কেবল সঙ্গমেই আসি। আমি না সত্যযুগে আসি আর না তো কলিযুগে আসি। এই দুই যুগের মধ্যকালে আসি। যেহেতু এই বাবাকেই তো সবার সদগতি করতে হবে। তাই না ? এমনটা তো হতে পারে না যে, আমাদেরকে দুর্গতির মধ্যেই ছেড়ে চলে যাবেন। সদগতি আর দুর্গতি দুটো তো আর একসাথে থাকতে পারে না। বাচ্চারা তো জানেই, এই পুরোনো দুনিয়ার বিনাশ অবসম্ভাবী। এই জন্যই তো পুরোনো দুনিয়ার প্রতি মোহ থাকা ঠিক নয়। বুদ্ধিতে তো এটাই আসে যে, বর্তমানে আমরা সঙ্গম যুগেই আছি। আর এই দুনিয়ার পরিবর্তন তো হতেই হবে। আর এখন তো বাবা স্বয়ং এসেছেন, বাবা নিজেই তা বলেন - - - আমি কল্পে কল্পে প্রতি সঙ্গম কালেই আসি। তোমাদের দুঃখ দূর করে হরির-দ্বারে নিয়ে যাই । এসব অবশ্য জ্ঞানের কথা। হরিদ্বার মানে কৃষ্ণের দ্বার অর্থাৎ কৃষ্ণপুরী বলা হয় যাকে। তারপরে আছে লছ্মন ঝুলা। কিন্তু আগে তো হরিদ্বারই আসবে। সত্যযুগকেই হরির-দ্বার বলা হয়। তার পর রাম, লক্ষণ ইত্যাদি সবাইকেই দেখানো হয়। আসলে এই সব ঘটনা তো ছিলই না। এ সব মনগড়া ঘটনা। রামেরা কত ভাই বলা হয়েছে ! (সত্যযুগে) ৪ ভাই তো হয় না । ৪--৮ ভাই তো এখন (কলিযুগে) হয়। যার এক দিকে থাকে ঈশ্বরীয় সন্তানেরা আর অপর দিকে থাকে আসুরী সন্তানেরা। এখন তোমরা জেনেছো যে শিববাবা এই ব্রহ্মার শরীরে অবস্থান করছেন। শিববাবা হলেন বাবা আর ব্রহ্মা হলেন দাদা। যিনি আবার প্রজাপিতাও (প্রজাদের পালক) বটে। আর উনি (শিব) আত্মাদের পিতা, যা অনাদি কাল থেকেই চলে আসছে। উনিই এই সময় কালে ব্রাহ্মণদের রচনা করান। কিন্তু তার মানে এমন নয় যে শিববাবা শালিগ্রাম এর রচনা করেছেন। না, শালিগ্রাম (আত্মা) তো আগে থেকেই অবিনাশী। বাবা এসে তাদেরকে পবিত্র করেন মাত্র। যতক্ষণ না পর্যন্ত্য আত্মা পবিত্র হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত্য শরীর কেমন করে পবিত্র হবে ? আমাদের আত্মারা যখন পবিত্র ছিলো তখন আমরাও সতোপ্রধান ছিলাম। আর এখন আমরা অপবিত্র, তমোপ্রধান হয়েছি, আবার তাহলে সতোপ্রধান কেমন করে হবো। এটা তো অতি সহজেই বোধগম্য। তোমাদের আত্মায় ময়লা-খাদ (দূষণ) ভরে যাওয়ায় পতিত ও তমোপ্রধান হয়ে গেছো। এখন আবার তোমাদেরকে সতোপ্রধান হতে হবে। জাগতিক হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দিয়ে সবাইকেই শান্তিধাম বা সুখধামে যেতে হবে। আত্মারা নিরাকারের ঘর থেকে কেমন করে আসে, তারই স্মরণে, খৃষ্টানরা গাছে আলো দিয়ে সাজিয়ে তাকে মনে করে। তোমরা জানো যে এখানে অনেক ধর্ম আছে, তাদের আলাদা আলাদা শাখাও আছে। আবার ওখান থেকে আত্মারা ক্রমিক অনুসারে ক্রমান্বয়ে কেমন করে নীচে আসে- তার জ্ঞানও তোমরা প্রাপ্ত করেছো। আমাদের আত্মাদের ঘর শান্তিধামে। এখন তো সঙ্গম। ওখান থেকে সব আত্মা এসে গেলেই, তারপর আবার সবাই মিলে সেখানেই যাবো। প্রলয় কিন্তু হবার নয়। তোমরা জানো যে, আবার আমরা বাবার কাছে ভাগ্য তৈরি করার জন্য ও স্বরাজ্য নিতেই এসেছি। এটা শুধু কথার কথা নয়। স্মরণের যোগ দ্বারাই আশীর্ব্বাদী বর্সা (অধিকার) পাওয়া যায়। বাবা বলেন - দেহ সহিত দেহের সম্পর্কিত সব সম্পর্ক, বন্ধু, আত্মীয় ইত্যাদি সমস্ত কিছুকেই ভুলে যাও। এগুলি সব আকার (চিত্র), আর (আত্মা) আকার বিহীন (বিচিত্র)। আকার বিহীন তাকেই বলা হয় যাকে দেখা যায় না। এই সব খুবই সূক্ষ্মকথা। আত্মা কত ছোট আকারের। তাকেই তো বারে বারে কর্ম-কর্তব্যের অভিনয় করতে হয়। যা অন্যদের কারো বুদ্ধিতে এই কথাগুলি আসে না। প্রথমে তো বুদ্ধিতে এটাই ধরে রাখতে হবে যে, আমরা আত্মা, আর উনি (শিব) আমাদের বাবা। ওনাকেই আমরা পতিত-পাবন, হে, ভগবান বলে স্মরণ করি। তাই অন্য কোনো জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই। আর স্মরণ তো ঐ একজনকেই করতে হবে। ভগবানকে স্মরণ করলে নিশ্চয়ই ওনার থেকে কিছু প্রাপ্তি তো হবেই। তাহলে এদিকে ওদিকে ঘুরে ঘুরে ধাক্কা খেতে যাবে কেন ! ভগবানকে তো পরমধাম থেকে এখানে আসতেই হবে। আমরা তো আর সেখানে যেতে পারব না। কারণ আমরা যে পতিত হয়ে আছি। পতিতেরা ওখানে যেতে পারে না। এসব জেনে এখন তোমরা খুব আশ্চর্যই হচ্ছো। ভক্তি-মার্গের কর্ম-কর্তব্যের অভিনয়ও কেমন আশ্চর্য জনক। সবাইকেই সেই এক ভগবানকেই স্মরণ করতে হয়। কেউ বলে- হে ঈশ্বর, কেউ হে পরমপিতা, আবার কেউ oh god father.(ও ঈশ্বরীয় পিতা)। যখন জানোই যে উনি একক ও একমাত্র, তাহলে আবার অন্য দিকে ধাক্কা খেতে যাও কেন ! সেই তিনিই যিনি অসীমে থাকেন। আর এই সবই অবিনাশী নাটকের চিত্রপটের মধ্যে গাঁথিত আছে, এবং সেই অনুযায়ী ভক্তি করা হয়- যা একদম অবুঝ ভাবে। কিন্তু, এখন আবার তোমরা অনেক বিচক্ষণ হয়েছো। শ্রীমত অনুসারে যারা চলে, একমাত্র তারাই বিচক্ষণ হতে পারে। তখন তাদের জ্ঞানের প্রতিভাকে কেউ ঢেকে রাখতে পারে না। যেহেতু তার সব কিছুই সর্বদা শ্রেষ্ঠ কর্মই প্রমাণ করে। বাবা বলেন - আমি তো দুঃখ-হর্তা, সুখ-কর্তা। সেখানে আমার বাচ্চাদেরও তো কত মিষ্ট-স্বভাবের (ভালো) হতে হবে। তোমাদেরকেই তো বাবার দক্ষিণ-হস্ত (সাহায্যকারী) হতে হবে। এই রকম বাচ্চাই বাবার খুব প্রিয় হয়। তাই তো তোমরা বাবার সাহায্যকারী হতে পারো। তোমরা তো জানোই, বাম হাত দিয়ে অনেক কিছু কাজ করা যায় না । কেননা ডান হাতই সঠিক ভাবে (ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ) কাজ করে। এই জন্যই তো ডান হাত দিয়ে শুভ কাজ করা হয়। পূজোও সব সময় ডান হাত দিয়েই করা হয়। তাই বাবা বলেন, প্রত্যেকটা ব্যাপারেই সুদক্ষ হও। এমন বাবাকে যখন পেয়েছো সেখানে তো কত খুশী হওয়া উচিত। বাবা আরও বলেন, মামেকম্ (আমাকেই) স্মরণ কোরো, তাহলেই অন্তিমে সুখদায়ী গতি হবে । মত আর গত, অথবা গতি করার মতি- একই তো হলো। গীতেও তা গাওয়া হয় ... ঈশ্বরের মতিগতি একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। পতিত-পাবনও একমাত্র উনিই। উনিই একমাত্র জানেন, মনুষ্যগণকে পবিত্র-পাবন বানিয়ে দুর্গতি থেকে সদগতি কেমন করে প্রাপ্ত করাতে হয়। ভক্তি-মার্গে তো কত শত পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তু তাতে তো আর সদগতি হয় না, ফল কিছুই পাওয়া যায় না। যেহেতু সেই সদগতিদাতা তো এই একমাত্র বাবাই। ভক্তি-মার্গে ভক্তি সহকারে যে যেমন ভাব নিয়ে পূজো করে, তাকে তেমন ফল- আমিই দিয়ে থাকি। এটাও অবিনাশী নাটকের চিত্রপটের মধ্যে গাঁথা আছে। যার যে ফল, সেই ফল সে নিজেই প্রাপ্ত করে, - - - নিজের পুরুষার্থ দ্বারা । এখন বাচ্চাদের নিজেদেরকেই পুরুষার্থ করে পবিত্র হতে হবে। তাই বাবা বার বার বলছেন - মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা, এই এক বাবাকেই কেবল স্মরণ করো। তিনিই সর্ব-শক্তিমান, অলমাইটি অথরিটি-সব কিছুরই অধিকারীসম্পন্ন নির্ভরযোগ্য। কত ভালো ভাবে যোগ্য তৈরি করেন আমাদের । তোমরা তো এ সব জেনেই গেছো, তাই এবার বাবার থেকে সেই আশীর্ব্বাদী বর্সা (অধিকার) নিতে পারছো। রচয়িতা আর রচনা দুটোরই জ্ঞান এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। তোমরা তো জানতেই- এই জ্ঞান পূর্বে তো আমাদের ছিল না। যজ্ঞ, তপস্যা ইত্যাদি করা, শাস্ত্র পড়া, এই সবই হচ্ছে শাস্ত্রের জ্ঞান। যাকে ভক্তি বলা হয়। যার মধ্যে কোনও লক্ষ্য উদ্দেশ্য, দিশা ইত্যাদি কিছুই নেই। পড়াশোনাতেও তো উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ইত্যাদি থাকে। কোনও না কোনও জ্ঞানও তো থাকে তাতে। কিন্তু, আমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র হবার জ্ঞান- এই এক পতিত পাবন বাবাই দিয়ে থাকেন। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের- এই সব জ্ঞানই বাবা দিয়েছেন। এই সৃষ্টির চক্র কেমন করে আবর্তিত হয়, এতে সবাই তাদের নিজের নিজের কর্ম-কর্তব্যের অভিনেতা । এই ভাবেই এই অবিনাশী অনাদি নাটক তৈরী করা আছে। এই অসীম বেহদ-এর (আলৌকিক) জ্ঞান নিশ্চয়ই থাকা দরকার । বাচ্চারা, তোমরা এখন জানো যে, আমরা ঘোর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত সময়ের দিকেই যাচ্ছি। তোমরাই এখন দেবতায় পরিনত হতে যাচ্ছো। এটাও বোঝা দরকার যে, আদি সনাতন ধর্মই হলো দেবী-দেবতা ধর্ম। যাকে পরিবর্তন করে হিন্দু ধর্ম বলে প্রচার করা হয়। আস্তে আস্তে এসব রহস্যের কথাও বুঝতে পারবে তোমরা। এর প্রচারে বাচ্চাদেরও জমায়েত হওয়া উচিত। যার জন্য অনেক বাচ্চাদের দরকার। দিল্লিতেও সভা-অধিবেশন, কনফারেন্স ইত্যাদি করা উচিত। দিল্লিকেই পরীস্থান বলা হয়। এখানেই যমুনা নদীর উপকন্ঠ ছিল, তখনও দিল্লি-ই ছিল রাজধানী। যা পরে অনেকেরই হাত বদল হয়েছে। দেবতাদের রাজধানীও এখানেই ছিল। তাই তো দিল্লিতেই খুব বড় আকারের কনফারেন্স হওয়া উচিত। কিন্তু মায়া এমনই -যা করতেই দেয় না। সর্বদাই বিঘ্নের সৃষ্টি করে। আজকাল তো লোকেদের হাবভাব-স্বভাব নানা প্রকারের হয়ে গেছে। তাই বাচ্চাদেরকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সেবার কাজে যুক্ত হতে হবে। যেহেতু অন্যেরা নিজেদের মধ্যে মিলে মিশে থাকে না- তাই তাদের রাজত্বেরও স্থায়িত্ব থাকে না। পার্টি দু-ভাগ হয়ে যায়। আর তখন প্রেসিডেন্ট কেও সরিয়ে দেয়। এই দ্বিমতই বড় ক্ষতিকারক। তারপর তো তারা ভগবানেরও মোকাবিলা করতে ছাড়ে না। ফলে তাদর ক্ষয়-ক্ষতিও হয় যথেষ্ট। ক্রোধের ভুত মাথায় ভর করলে, তখন যা সব করে, সে কথা জিজ্ঞাসা না করলেই ভাল। তাই বাবা বলেন, তুমি জানো আর তোমার কর্ম জানে। বাবা বাচ্চাদের সৃষ্টির আদি-মধ্য - অন্তের জ্ঞান জানিয়েছেন। এবার সেটা কেউ ধারণ করুক আর নাই করুক, সেটা তার পুরুষার্থ উপর নির্ভর করবে। কিন্তু এমনটা তো আর হবে না যে, বাবা সবাইকেই একই সমান আশীর্বাদ বা কৃপা করবেন। এখানে কৃপা, ইত্যাদি পাবার যোগ্য হওয়া চাই। যা চাইবার দরকার পড়ে না। বাবা বলেন যে, প্রেরণার দ্বারাই যদি যোগ আর জ্ঞান শেখানো যেত, তাহলে আমি এই কলুষিত দুনিয়ায় আসবোই বা কেন ? প্রেরণা, আশীর্বাদ এই সব তো ভক্তি মার্গের কথা। কিন্তু, এখানে তো পুরুষার্থ করতে হবে, প্রেরণার কোনো ব্যাপারই নেই। তোমরা তো তিনটি ইঞ্জিন পেয়েছ একসাথে। জাগতিক রীতিতে বাবা আলাদা, শিক্ষক আলাদা, পরে গুরুকে পাওয়া যায়। এখানে তো এই তিনটির সমন্বয় একসাথে রয়েছে। বাবা বলেন, আমিই তোমাদের পূজ্য বানাই, তারপর তোমরা নিজেরাই পূজারী হয়ে যাও। খুব যুক্তি সহকারে এর ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হবে তোমাদেরকেই। এমন যেন না হয় যে, এ কথা শুনে কেউ যেন আবার অজ্ঞান না হয়ে যায়। সর্ব প্রথমে প্রধান হবে দুজন বাবার বিষয়টা। ভগবানই আমাদের বাবা। ওনার জন্মদিন শিব জয়ন্তী তিথি এই ভারতেই পালন করা হয়। তাই উনি ভারতকে স্বর্গ বানিয়ে দেবেন নিশ্চয়ই। যেহেতু একদা এই ভারতই স্বর্গরাজ্য ছিলো। যা এখন নরকের রাজ্যে পরিনত হয়েছে, আর তাই মহা বিনাশের নিমিত্তে মহাভারতের যুদ্ধও দোরগোড়ায় উপস্থিত। বাবা নিশ্চয়ই সেই নূতন দুনিয়া স্থাপনের উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করছেন। বাবার শ্রীমতের অনুসরণ করেই আমরা ভারতকে আবার পবিত্র পাবন ভারতভূমি হিসাবে গড়ে তুলবো। আচ্ছা!!

মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্মরণ-সুমন ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। আর রইলো সুপ্রভাত। রুহানি বাবা রুহানি বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :- 

১) বাবা যেমন দুঃখ-হর্তা, সুখ-কর্তা, বাচ্চাদেরকেও তেমনি বাবার মতনই হতে হবে। খুব মিষ্ট-স্বভাবের হতে হবে। সর্বদা শ্রেষ্ঠ কর্ম করে বাবার দক্ষিণ-হস্তের মতো সাহায্যকারী হতে হবে।

২) কখনো দ্বিমতের মধ্যে আসবে না। জীবন যাত্রার ভাবে-স্বভাবে এর প্রভাব পড়ে। নিজেদের মধ্যে একে অপরের মোকাবিলা করবে না। ক্রোধের ভুতকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও।

বরদান :- 

নিমিত্ত হয়ে থাকা আত্মাদের দ্বারা কর্মযোগী হওয়ার বরদান প্রাপ্ত করার যোগ্য মাস্টার বরদাতা ভবঃ (হও)।

যখন কোনো প্রকার জিনিস সাকার রুপে দেখা হয়, তখন সেটা খুব শীঘ্রই গ্রহণ করতে পারা যায়। এই জন্যই নিমিত্ত হয়ে থাকা যে সব আত্মারা আছেন তাদের সেবার কাজ, ত্যাগ, স্নেহ, সবার সাথে সহযোগিতাপূর্ণ বাস্তবিক কর্মধারা দেখে যে প্রেরণা পাওয়া যায় সেটাই বরদান হয়ে যায়। আবার নিমিত্ত হয়ে থাকা আত্মাদের কাজ কর্মের এই সব গুণ দেখে যে ধারণা তৈরি হয়, তাতে সহজে কর্ম যোগী হবার বরদান প্রাপ্ত হয়। যিনি এমন সব বরদান প্রাপ্ত করে থাকেন তিনি স্বয়ং মাষ্টার বরদাতা হয়ে যান।

স্লোগান :- 

নাম কে কেন্দ্র করে সেবা কর্ম করা, অর্থাৎ উচ্চ পদকে পিছনে ঠেলে দেওয়া- সেই নামের আশায়।


***OM SHANTI***