BK Murli 16 April 2016 In Bengali

BK Murli 16 April 2016 In Bengali

১৬-০৪-২০১৬ প্রাতঃ মুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - শান্তিতে থাকাই তোমাদের (আত্মাদের) স্বধর্ম। একমাত্র শান্তিধামেই প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায়। প্রচার করে সবাইকেই তা জানাতে হবে। আত্মারা যেন তাদের নিজের স্বধর্মে থাকে।"

প্রশ্ন :- 

এক ও একমাত্র এই বাবার নিকট ভবিষ্যতের এমন কি জ্ঞান আছে, যা বর্তমান সময়েই তোমরা তা জানতে পারো ?

উত্তর :- 

পাপ আর পুণ্যের জ্ঞান ! এই ভারতবাসীরাই যখন থেকে বাবাকে নিন্দা-মন্দ করতে শুরু করলো, তখন থেকেই তারা পাপ আত্মায় পর্যবসিত হতে থাকলো। আবার যখন থেকে বাবা আর অবিনাশী নাটককে জানতে পারলো, তখন থেকে আবার পুণ্য আত্মা হতে শুরু করলো। যেহেতু এই জ্ঞানের পাঠ, তোমরা বাচ্চারা বর্তমান সময়েই ধারণ করছো। তোমরা এটাও জানতে পারছো, সবারই সদ্গতিদাতা এই একজনই, যিনি এই এক ও একমাত্র বাবা। যেহেতু কোনও মনুষ্য, অন্য কোনও মনুষ্যের সদ্গতি অর্থাৎ মুক্তি বা জীবন-মুক্তি করতে বা করাতে পারে না।

গীত :- 

ইস্ পাপ কী দুনিয়া সে লে চল্ কৌই, ঔর কৌই।

(এই পাপের জগৎ থেকে অন্যত্র নিয়ে চলো প্রভু, দূরে- বহুদূরে!)

ওঁম্ শান্তি! 

বাবা তাঁর বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন, বর্তমানের এই দুনিয়া একেবারেই পাপ আত্মাদের দুনিয়াতে পরিণত হয়েছে। এটাই সেই ভারত, একদা যা ছিল পুণ্য আত্মাদের দুনিয়া। যেখানে দেবী-দেবতাদের রাজত্ব ছিল। এই ভারতখন্ডই যা সুখধাম ছিল, তখন অবশ্য অন্য কোনও খন্ডও ছিল না। যা ছিল, তা পুরোটাই ভারতখন্ড ছিল। সুখ আর শান্তি সেই সত্যযুগেই ছিল- যা স্বর্গ নামে পরিচিত ছিল। তার অবস্থা এখন এই প্রকারের নরকে পরিণত হয়েছে। এই ভারতখন্ডই একদা যা ছিল স্বর্গরাজ্য, তা এখন নরক। তাই তো এই নরকে, স্বর্গের সেই সুখ-শান্তি কি করেই বা থাকবে। কলিযুগকেই সেই নরক বলা হয়। কলিযুগের অন্তিম সময়কে মহা আতঙ্কের নরক বলা হয়। অর্থাৎ দুঃখধামের যা চরম অবস্থা। অথচ, এই ভারতই সেই সুখধাম ছিল- যখন এখানে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। ভারত-বাসীদের সেই গৃহস্থ-ধর্ম কত পবিত্র ছিল। যেমন ছিল পবিত্রতা, আর তেমনই ছিল সুখ-শান্তি, ধন-সম্পদেও পরিপূর্ণ। আর সেই ভারত কিনা আজ পতিত ভারতে পরিণত হয়েছে। মূল কারণ, যেহেতু সব কিছুই এখানে এখন বিকারী অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই তো এটা অতি দুঃখধামে পরিনত হয়েছে। এই ভারত এতই সুখের ধাম ছিল, যে সব আত্মারা এখানে বসবাস করতো, তারা এতই সুখে দিনযাপন করতো, যার ফলে তাকে বলা হতো, শান্তিধাম। সর্বপ্রকারের শান্তিই সেই শান্তিধামে বিরাজ করতো। তাই তো আত্মারা সেখানে শান্ত থাকত। আর যেখানে নিরাকারী আত্মাদের বাস, তাকে বলা হয় মিষ্টিধাম অর্থাৎ শান্তিধাম। যা কেবল আত্মাদের বসবাসের ঘর। ওখানে আত্মারা যখন অবস্থান করে, তখন খুব শান্তিতেই থাকে। সেই শান্তি কিন্তু অন্য কোথাও-অন্যত্র বা জঙ্গলে গিয়ে পাওয়া যায় না। শান্তি তো এখানেই এই দুনিয়াতেই। সত্যযুগেই সেই শান্তিও থাকে আর সেই সুখও থাকে। কিন্তু বর্তমানের এই দুঃখধামে শান্তি তো থাকতেই পারে না। তা শুধু সেই শান্তিধাম প্রতিষ্ঠা হলেই তা পাওয়া যেতে পারে। সুখধামেও কর্ম-কর্তব্যের ব্যাপার থাকে, যা এই শরীর দ্বারাই নির্বাহ করতে হয়। বর্তমানের এই দুঃখধামের দুনিয়াতে, এমন কোনও মনুষ্যই নেই, যে সুখে-শান্তিতে আছে। যেহেতু এটা তো ভ্রষ্টাচারী পতিত-ধাম। তাই তো পতিত-পাবনকে ডাকতে থাকে সাহায্যের জন্য। কেউ কিন্তু সেই প্রকৃত পতিত-পাবন বাবাকে জানে না, যে কারনে তারা এইরূপ দুঃখী ও হত-দরিদ্র অবস্থা ভোগ করে। পিতৃহীন হবার কারনেই তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই-ঝগড়াতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে তারা আরও কত বেশী দুঃখ-অশান্তি, মারা-মারিতে জড়িয়ে পড়ে। যেহেতু এই রাবণের শাষণ-তন্ত্রে আছে এরা। তাই তো এদের আকাঙ্খা রাম-রাজ্যের। রাবণ-রাজ্যে কোনও প্রকারের না সুখ- না শান্তি, কিছুই তো পাওয়া যায় না। কিন্তু রাম-রাজ্যে, দুটোই পাওয়া যায়। সুখও থাকে আবার শান্তিও থাকে। নিজেদের মধ্যে কোনও প্রকারের ঝগড়া-ঝাঁটিও হয় না কখনও। স্বস্তির পরিবেশ। যেহেতু সেখানে ৫ বিকারের প্রশ্নই নেই। বর্তমানের এই দুনিয়াটা তো ৫ বিকারের জালে অস্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। যার মধ্যে প্রধান হলো-'দেহ-অভিমান'। এছাড়া তো কাম, ক্রোধ...... এসব তো আছেই। ভারত যখন স্বর্গ-রাজ্য ছিল, তখন এই সব বিকারের নাম-গন্ধও ছিল না। সেই সময়কালে সবাই 'দেহী-অভিমানী' স্থিতিতে স্থিত থাকতো। যেখানে এখনকার মনুষ্যরা সবাই 'দেহ-অভিমান' স্থিতিতেই রয়েছে। দেবতারা ছিলেন 'দেহী-অভিমানী'। 'দেহ-অভিমানে' থাকা মনুষ্যরা কখনও কারওকে সুখ দিতে পারে না - কিন্তু একে অপরকে দুঃখ দিতেই থাকে কেবল। একথা ভাবার কোনও কারন নেই যে, যারা লাখপতি, কোটিপতি বা পদমপতি - হয়েছে বলে, তারা খুবই সুখী। না ঐ বিষয়-সম্পত্তি তো সব মায়ার বিনাশের খেলা। যেহেতু মায়ার অধীনে মায়ার রাজত্বে বাস করতে হচ্ছে। আর সেই বিনাশের কারন হিসাবে সামনেই মহাভারতের ভীষণ লড়াই অপেক্ষা করছে। যার সমাপ্তিতর পর, তারপরেই স্বর্গের দ্বার খুলে যায়। এর অর্দ্ধেক কল্প পরে আবার নরকের দ্বার খোলে। যদিও এগুলি কোনও পুঁথি-পত্র, শাস্ত্র আদিতে লেখা নেই। ভারতবাসীদের ধারণা, ভক্তিতে ভগবান মেলে। বাবা তখন তাদেরকে যুক্তি দিয়ে বোঝান- অথচ বাস্তবে তোমাদের এই ভক্তি করতে করতে তো নিম্নগতি থেকে অতি নিম্নে অধোগতিতেই পতন হয়। তখন আর উপায়ন্তর না পেয়ে আমাকে স্মরণ করো, আর তখন তো আমাকে আসতেই হয়, আবার স্বর্গ-রাজ্য স্থাপনের জন্য-অর্থাৎ ভারতকে স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে। একদা এই ভারতই যেখানে স্বর্গ ছিল-তার এখন এই নরকের অবস্থা কেন ? রাবণই তাকে এই নরকের অবস্থা বানিয়েছে। গীতার ভগবান শিববাবার থেকে তোমাদের এই রাজ্য-সুখ প্রাপ্ত হয়েছিল, তাতেই ২১ জন্ম স্বর্গের রাজত্বে ছিলে। তারপর দ্বাপর পেরিয়ে কলিযুগে এসেছো, অর্থাৎ যা নিম্ন গতির কলায় পৌঁছে গেলে, তাই তো তোমরা সবাই আমাকে ডাকতে থাকো, হে পতিত-পাবন তুমি এবার আসো। যেহেতু পতিত মানুষদের কোনও প্রকারের সুখ-শান্তি এই পতিত দুনিয়া থেকে পাওয়া যায় না। তাই তো তারা এত দুঃখ-কষ্টে ভোগে। আজ হয়ত কারও টাকা-পয়সা চুরি হয়ে গেল, হয়ত কেউ দেউলিয়া হয়ে গেল, কেউ বা রুগী হয়ে গেল, - এইভাবে কেবল দুঃখ আর দুঃখ। তাই তো তোমরা সুখ-শান্তির বর্সা পাবার লক্ষ্যে এই পুরুষার্থ করে চলেছো। বাবার কাছ থেকে স্বর্গ-সুখের বর্সা পাবার বিশেষ পুরুষার্থ। সদা সুখী বানাতে পারেন, এই এক ও একমাত্র বাবা-ই। আর সদা দুঃখী বানায় সেই রাবণ। যা ভারতবাসীরাই ভুলে বসে আছে। সত্যযুগে কোনও প্রকার দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারই নেই। সেখানে কারওকে কখনই কাঁদতেও হয় না। সর্বদা লাগাতর সুখ আর সুখ। সেখানে দেহ-অভিমান অথবা কাম-ক্রোধ ইত্যাদি কিছুই থাকে না। যতক্ষণ পর্যন্ত্য না ৫- বিকারের দান (পরিত্যাগ করা) দেওয়া যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত্য গ্রহণের দশা কাটে না। তা তো প্রবাদ বাক্যেই আছে- "দে দান তো ছুটে গ্রহণ।" ( বিকারকে ছাড়তে পারলেই গ্রহের দশা থেকে মুক্তি।) বর্তমান সময়ে তো সম্পূর্ণ ভারতেই এই ৫-বিকারের গ্রহণে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত্য এই ৫-বিকারের দান সম্পূর্ণ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত্য ১৬-কলা সম্পূর্ণ দেবী-দেবতা হওয়া যায় না। এক বাবা-ই সবার সদ্গতিদাতা। যেমন বলা হয়ে থাকে,-"গুরু বিনা গতি নাই", কিন্তু এই গতি কথার অর্থটাই জানা নেই তাদের। মনুষ্যের গতি-সদ্গতির মানে মুক্তি-জীবনমুক্তি। যা একমাত্র এই বাবা-ই করতে পারেণ। বর্তমান সময়ে তো সবারই সদ্গতির প্রয়োজন। দিল্লীকে যেমন নতুন দিল্লী- পুরোনো দিল্লী বলা হয়, অথচ, যা এখন নতুন নয়। নতুন দিল্লী বলা তখনই ঠিক হবে, যখন আবার নতুন দুনিয়ার রচনা হবে। পুরোনো এই দুনিয়াতে তো তা পুরোনো দিল্লীই হবে। একেবারে যমুনার তট বরাবর। এই সেই দিল্লী, যা একসময় পরিস্তান (রূপকথার দেশ) ছিল। যেহেতু সেটা ছিল সত্যযুগ। সেটা ছিল দেবী-দেবতাদের রাজ্য। বর্তমান এই পুরোনো দুনিয়ায় তো পুরোনো দিল্লী হবে। যখন তা নতুন দুনিয়া ছিল, সর্বপ্রথম লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। ভারতবাসীরাই তা ভুলে বসে আছে। নতুন ভারতখন্ড, নতুন দিল্লীতেই তো হবে তাদের রাজধানী, যেহেতু অন্য আর কোনও খন্ডও ছিল না তখন। এ সব রহস্যের কথা তো আর অন্যেরা জানে না সেভাবে। সরকারের দিক থেকেও সে সব পড়ানো হয় না। যেহেতু তার (ঘটনাবলীর) দলিল প্রমাণের পুরো ইতিবৃত্ত নেই। কিন্তু যখন থেকে ইসলামী, বৌদ্ধরা এসেছে- তখন থেকে তার ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্বের কোনও ঠিকানাই নাই-ইতিহাসে। সেই সব এই বাবার কাছ থেকে জেনে থাকি। পুরো সৃষ্টি-চক্র কিভাবে ফিরে ফিরে আসে। ভারতে যখন স্বর্গ-রাজ্য ছিল, তখন ছিল স্বর্ণ-যুগ। আর এখন সেই ভারতেরই কি নিদারুণ অবস্থা, যা চোখে দেখা যায় না। এই ভারতকেই আবার হীরে-তুল্য বানাবে কে ? বাবা তা খোলসা করে জানান, যখন তোমরা অতি পাপ-আত্মায় পরিণত হও, তখন আমাকে আসতে হয়, তোমাদেরকে পুন্য-আত্মা বানাবার জন্য। অবিনাশী বিশ্ব-নাটকের চিত্রপট অনুযায়ী। যেই চিত্রপট কেউ-ই জানে না। আর এই জ্ঞানের পাঠও বাবা ছাড়া আর কেউ দিতেই পারে না। একমাত্র বাবাই এই জ্ঞানে জ্ঞানী। তাই তো এই পাঠ ওনাকেই পড়াতে হয়। কোনও মনুষ্যই অন্য কোনও মনুষ্যকে সদ্গতির ব্যাবস্থা করতে পারে না। কিন্তু তারা যখন দেবী-দেবতা ছিলেন, তখন তো সবাই একে অপরকে নানা প্রকার সুখের বন্দোবস্ত করতেন। কেউ অসুস্থ হতো না। কারও কোনও প্রকারের রোগভোগও ছিল না। কিন্তু বর্তমান দুনিয়ায় তো সবাই রোগী। তাই তো বাবা এখন এসেছেন, আবার একে স্বর্গ-রাজ্য বানাতে। বাবা একে স্বর্গ বানান আর রাবণ এসে তাকেই নরক বানায়। এই খেলাকে কেউ বুঝে উঠতে পারে না। শাস্ত্রের যে জ্ঞানের পাঠ আছে, যাকে ফিলোজফী বা দর্শণশাস্ত্র বলা হয়,-তা তো ভক্তি-মার্গের। তা কোনও সদ্গতির মার্গ নয়। আবার তা কোনও শাস্ত্রেরও দর্শণ নয়। আবার এই বাবা কোনও শাস্ত্রও শোনান না। এ হলো সম্পূর্ণ ভাবে আধ্যাত্মিক-জ্ঞান। তাই তো বাবাকে আধ্যাত্মিক বা রূহানী বাবা বলা হয়। প্রকৃত অর্থে যিনি সব আত্মাদেরই একমাত্র পিতা। বাবা নিজেই তার পুষ্টিকরণ করে জানান, উনি-ই মনুষ্য সৃষ্টির বীজ-রূপ। যিনি সমস্ত জ্ঞানেরই ধারক। বর্তমান সময়ে মনুষ্য সৃষ্টিরূপী বৃক্ষের আয়ুস্কাল কত হয়েছে, কি করে তার বৃদ্ধি ঘটে, তারপর আবার কোন পরিস্থিতিতে ভক্তি-মার্গের শুরু হয়, -এই সব জ্ঞান কেবলমাত্র উনি-ই জেনে থাকেন। আর তোমাদের বাচ্চাদেরকে সেই জ্ঞানী বনিয়ে স্বর্গের অধিকারী বানিয়ে দেই, তারপর তোমরাই সেখানে রাজত্ব করতে থাকো। কল্পকালে একবারই মাত্র তোমরা সেই জ্ঞান পেয়ে থাকো, তদ পশ্চাৎ যা পরে লুপ্ত হয়ে যায়। যেহেতু সত্যযুগ ও ত্রেতাতে এই জ্ঞান ব্যাবহারের প্রয়োজন পরে না। এই বিশেষ জ্ঞান কেবলমাত্র তোমরা ব্রাহ্মণরাই পেয়ে থাকো। যা দেবতাদেরও থাকে না। অর্থাৎ পরম্পরা হিসাবে এই জ্ঞান চলতে থাকে না। এই জ্ঞান তোমরা বাচ্চাদেরও, এক বারই প্রাপ্তি হয়। যার দ্বারা তোমরা জীবন-মুক্ত হতে পারো। বাবার থেকেও আশীর্ব্বাদের বর্সা পেয়ে থাকো। যার ফলে তোমাদের কাছে অনেকেই আসতে থাকে- আর তারা জানতে চায়, মনের শান্তি কিভাবে পাওয়া যায়। অবশ্য এটা বলা যায় না যে, মন আর বুদ্ধি আত্মার ইন্দ্রিয় বা অঙ্গ। যে রকম শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে আর কি। 
বাবা এসেই পাথর-বুদ্ধির আত্মাদেরকে পারস-বুদ্ধির (স্পর্শমণি) আত্মায় জ্ঞানী করেন। যার গুনাগুন সত্যযুগ পেরিয়ে ত্রেতা পর্যন্ত্যচলতে থাকে। তারপর আবার রাবণের রাজত্বকাল আসার ফলে, আবার পাথরের মতন বুদ্ধি হয়ে যায়। চক্রবৎ পটচিত্র অনুসারে এখন আবার সেই পাথর বুদ্ধি থেকে স্পর্শমনি পারস বুদ্ধির হবার সময়। তোমাদের যেই এত মূল্যবান পারস বুদ্ধিসম ছিল, তাতেই ধীরে ধীরে নানা কিছুর মিশ্রনে তা নোংরা-আবর্জনা যুক্ত হতে থেকেছে। যার ফলে তা পাথর-এর মতন নিম্ন মানের বুদ্ধিধারীতে পরিনত হয়েছো। তাই তো এখন তোমরা সেই স্পর্শমনির পারস পাথর আর নও। কিন্তু তোমাদেরকেই তো সেই স্পর্শমনি পারস পাথর হতে হবে, কিন্তু তা কি প্রকারে ? বাবা নিজে তা জানাচ্ছেন, "হে আত্মারা আমাকে স্মরণ করো, স্মরণের যাত্রায় থাকলেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে। আর পবিত্র হলেই আমার নিকটে আসতেও পারবে।" অন্যেরা যে বলে থাকে, মনের শান্তি- কিন্তু তা কিভাবে পাওয়া যায় ? তাদেরকে বলো- এই পতিত দুনিয়ায় সেই শান্তি আসবে কোথা থেকে। এটা যেখানে দুঃখধামে পর্যবেশিত হয়েছে, বিকারে পরিপূর্ণ জগৎটাই। তা তো কেবলমাত্র বেহদের বাবার থেকেই শান্তির আশীর্ব্বাদী বর্সা পাওয়া যায়। আবার যখন তোমরা রাবণের সাথে সখ্যতা করো, তখন থেকে ধীরে ধীরে পতিত হতে থাকো। কিন্তু, বাবা তোমাদের পবিত্র-পাবন বানাতে পারেন মূহুর্ত্তমাত্র সময় কালেই। তাই তো এখন তোমরা বাবার কাছে এসেছো জীবন-মুক্তির আশীর্ব্বাদের বর্সা পাবার লক্ষ্যে। এই বাবা যেমন জীবন-মুক্তির বর্সা দেন, রাবণ তেমনি জীবন-বন্ধের অভিশাপ দেন। যার ফল কেবল দুঃখ আর দুঃখ। এটাই বিশ্ব-নাটকের চিত্রপট, যা সবারই জানা দরকার। এই দুঃখধাম দুনিয়াতে কারও কোনও প্রকারেরই সুখ-শান্তি পাবার উপায়ই নেই। যেখানে আমরা জানি, আত্মার স্ব-ধর্মই হলো শান্তি। আত্মাদের বাসগৃহও শান্তিধাম। আত্মারা নিজেরাই তা বলে থাকে, আমাদের স্ব-ধর্মই শান্ত-স্বরূপ। যদিও এই শরীর কোনও বাদ্যযন্ত্র নয়, তবুও তাকে নানা সুরে-তালে বাজাতে হয়। (অভিনয় করতে হয়) একসময় তার পতন ঘটে, অর্থাৎ তার দ্বারা আর কোনও কার্য করা হয় না। কিন্তু কতক্ষণ বা তাকে এমনিতে ফেলে রাখা যায়! কর্ম তো তাকে করতেই হবে। যতক্ষণ না মনুষ্যরা সেই অবিনাশী নাটককে বুঝতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত্য মনে দুঃখ পেতেই থাকে। বাবা তাদেরকে শান্তনা দিয়ে বলেন, বাচ্চারা- তোমাদের এই বাবা গরীবদের উদ্ধারকারী। তাই তো এখানে গরীবেরাই আসবে। দুনিয়াদারীর সম্পদশালী ধনীদের কাছে তো বর্তমানের এই দুনিয়াটাই স্বর্গ-রাজ্য। তাই তো তাদের ভাগ্যে প্রকৃত-স্বর্গসুখ ভোগ নাই। বাবা তাই জানাচ্ছেন, যেহেতু উনি গরীবের উদ্ধারকারী, তাই এই দুনিয়ার বিত্তশালীদের ঐ দুনিয়ায় (স্বর্গ-রাজ্যে) গরীব আর এই দুনিয়ার গরীবদের ঐ দুনিয়ার সম্পদশালী ধনীতে পরিণত করেন। বর্তমানের সম্পদশালীরা সে জাতীয় উঁচু পদ পেতে পারে না, যেহেতু তাদের মধ্যে বিত্তশালীর গর্বের নেশা থাকে। তবে হ্যাঁ, প্রজাতে তারা আসতে পারে। যদিও স্বর্গ তাদের অবস্থান থাকবে। কিন্তু, উচ্চ-পদের অধিকারী কেবল গরীবেরাই হবে। অর্থাৎ তখন এই গরীবরাই বিত্তশালী হবে। যেহেতু বিত্তশালীদের দেহ-অভিমান থাকে,-তারা নিজেরা ভাবে, আমরা কতই না বিত্তবান। কিন্তু বাবা তদেরকে এও জানিয়ে দেন- এই সমস্ত সম্পত্তি, ধন-মাল সবকিছুই তো এই মাটিতেই মিশে যাবে। বিনাশ যে দোরগোড়ায়। দেহী-অভিমানী হতে গেলে পরিশ্রম অবশ্যই হয়। যেখানে বর্তমানে সবাই দেহ-অভিমান স্থিতিতে রয়েছে। কিন্তু, তোমাদেরকে তো এখনই দেহী-অভিমানী হতে হবে। তোমাদের আত্মারাই জানাচ্ছে যে, আত্মাদের ৮৪-জন্মের চক্র পুরো হয়েছে। অতএব বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের অবিনাশী নাটকও সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এবার তো নিজধামে ফেরার পালা। বর্তমান সময়কালও কলিযুগের শেষ আর সত্যযুগের শুরুর মধ্যি-খানের সন্ধিকাল, অর্থাৎ সঙ্গমকাল। তাই বাবা জানাচ্ছেন, প্রতি ৫-হাজার বর্ষ পরে, এই সময়কালেই উনি আসেন। আবার ভারতকে হীরে-তুল্য বানাতে। কল্পের এই ইতিহাস-ভূগোল একমাত্র বাবা-ই জানাতে পারেন। আচ্ছা!
" মিষ্টি মিষ্টি অনেক দিনের হারিয়ে যাওয়া হারানিধি বাচ্চারা এবং আবার ফিরে পাওয়া সিকিলধে বাচ্চাদেরকে তাদের মাতা-পিতা বাপদাদা স্মরণ করছেন আর জানাচ্ছেন স্নেহ-সুমন ও সু-প্রভাত ! আত্মাদের রূহানী পিতা তার রূহানী আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার !

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) বাবার থেকে জীবনমুক্তির বর্সা পেতে গেলে, অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। বিশ্ব-রঙ্গমঞ্চের অবিনাশী নাটককে বুদ্ধিতে ধারণ করে, বর্তমানের এই দুঃখধামে থেকেই নিজেকে দুঃখ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। 

২) ধন-সম্পত্তির বা বিত্তশালী অভিমানের নেশাকে ছেড়ে 'দেহী-অভিমানী' ভাবে থাকার পুরুষার্থ করতে হবে।

বরদান :- নিজের আরামকে ত্যাগ করে, সেবার প্রতি উৎসর্গিত হয়ে সর্বদা সন্তুষ্ট ও হর্ষিত (ভবঃ) হও। 

বিস্তার :- 

সেবাধারী রাত-দিন নিজের আরামকে ত্যাগ করে, সেবার মধ্যে থেকেই আরাম অনুভব করে। যে বা যারা ওনার সম্পর্কে থাকে বা কোনও প্রকার নিকট সম্বন্ধে যে আসে, সেও সেই প্রকারের শীতলতা বা শক্তি আর শান্তির ঝর্ণার নীচে বসে আছে- এরূপ অনুভব করে। শ্রেষ্ঠ চরিত্রবান সেবাধারী কামধেনুর মতন সব সময়ই সবার মনোকামনা পূর্ণ করে দেয়। এই প্রকারের সেবাধারী-ই সর্বদা হর্ষিত এবং সদা সন্তুষ্ট থাকার বরদান স্বতঃসিদ্ধ প্রাপ্ত হয়।

স্লোগান :- 

জ্ঞান-স্বরূপ হতে গেলে, সর্বদাই জ্ঞানের পাঠে মনোযোগ ও আকর্ষণ রাখো। বাবাকে আর তাঁর পাঠকে সমান ভাবেই ভালবাসবে। 

***OM SHANTI***




Google+ Followers