BK Murli 25 April 2016 Bengali

BK Murli 25 April 2016 Bengali

 ২৫.০৪.২০১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "বাপদাদা " মধুবন

"মীঠে বাচ্চে - ভোলানাথ মোস্ট বিলাভেড (অতি প্রিয় ) বাবা তোমার সম্মুখে বসে আছেন , তুমি ভালোবেসে স্মরণ করো তাহলে ভালোবাসা বাড়বে , বিঘ্ন বিপদ মিটে যাবে "

প্রশ্ন :- 

ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের কোন্ কথা সর্বদা স্মরণে থাকলে কখনও বিকর্ম হবে না ? 

উত্তর :- 

আমরা যে কাজ বা কর্ম করব , আমাদের দেখে অন্যরাও করবে - এই কথা স্মরণে থাকলে বিকর্ম হবে না । যদি কেউ গুপ্ত রূপে পাপ করে তাহলেও ধর্মরাজের চোখে লুকোনো সম্ভব নয়, অবিলম্বে তার দন্ড মিলবেই। আগামী সময়ে আরও কঠোর নিয়ম (মার্শাল 'ল) হয়ে যাবে। এই ইন্দ্র সভায় কোনো পতিত লুকিয়ে বসতে পারে না ।

গান:- 

ভোলানাথের চেয়ে নিরালা ....

ওম্ শান্তি ! 

মীঠে মীঠে রূহানী বাচ্চারা জানে যে এখন রূহানী পিতা আমাদের সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনাচ্ছেন । ওঁনার নাম হল ভোলানাথ । বাবা হলেন অনেক সরল, কষ্ট হলেও বাচ্চাদের পড়ান। পালনা করেন । বাচ্চারা বড় হলে সবকিছু তাদের দিয়ে নিজে বানপ্রস্থে চলে যান। ওঁনার কর্তব্য সম্পূর্ণ হয় তারপর বাচ্চাদের উপরে ছেড়ে দেন। তাহলে বাবা ভোলানাথ হলেন কিনা । এই কথাও এখন বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন কারণ তিনি স্বয়ং হলেন ভোলানাথ । হদের পিতার জন্যেও বুঝিয়ে দেন তিনি কত ভোলা মনের । উনি হলেন হদের ভোলা মনের অধিকারী । ইনি হলেন বেহদের ভোলানাথ পিতা । পরমধাম থেকে নেমে আসেন পুরনো দুনিয়ায় পুরনো শরীরে তাই মানুষ ভাবে পুরনো পতিত শরীরে আসেন কিভাবে । না বোঝার কারণেই পবিত্র দেহধারী কৃষ্ণের নাম রেখে দিয়েছে । এই গীতা বেদশাস্ত্র ইত্যাদি তবুও তৈরী হবেই । দেখো শিববাবা হলেন কত ভোলা মনের। আসেন কিন্তু এমন অনুভব করান যেন বাবা এখানেই বসে আছেন। এই সাকার পিতাও হলেন ভোলা মনের। কোনো দোপাট্টা নেই কোনো তিলক নেই । বরং সাধারণ বাবা তো হলেন বাবাই । বাচ্চারা জানে এই এত জ্ঞান শিববাবাই দিতে পারেন আর কারোর এই জ্ঞান দেওয়ার সামর্থ্য নেই । দিন-প্রতিদিন বাচ্চাদের লগনে বৃদ্ধি হতে থাকে । বাবাকে যত স্মরণ করবে ভালোবাসা ততই বাড়তে থাকবে । বাবা বিলাভেড মোস্ট হলেন কিনা । শুধুমাত্র এখনই নয় কিন্তু ভক্তি মার্গেও তুমি বাবাকে বিলাভেড মোস্ট - ই ভেবেছো । বলতে - বাবা আপনি যখন আসবেন তখন অন্য সম্বন্ধের ভালোবাসা ছেড়ে একমাত্র আপনার সাথেই ভালোবাসার সম্পর্কে মগ্ন থাকব। তুমি এখন জানোও কিন্তু মায়া ভালবাসতে দেয় না । মায়া একেবারেই চায় না যে তাকে ছেড়ে কেউ বাবাকে স্মরণ করবে । সে চায় সবাই দেহঅভিমানী থেকে মায়াকে ভালবাসবে। এইসব মায়ার ইচ্ছে তাই এত বিঘ্ন বিপদের সৃষ্টি করে। তোমাকে বিঘ্ন বিপদ কাটাতে হবে । বাচ্চাদের কিছু একটু পরিশ্রম তো করতেই হবে কিনা । পুরুষার্থ দ্বারাই তুমি নিজের প্রালব্ধ প্রাপ্ত করো। বাচ্চারা জানে উচ্চ পদ প্রাপ্তির জন্যে কত পুরুষার্থ করতে হবে । এক তো বিকারের দান করতে হবে , দ্বিতীয় বাবার কাছে যে সব অবিনাশী জ্ঞান রত্নের ধন প্রাপ্তি হয় সেসব দান করতে হবে । যে অবিনাশী ধন দ্বারাই তুমি এত ধনী হও। জ্ঞানই হল উপার্জনের স্রোত ....... সোর্স অফ ইনকাম । সেসব হল শাস্ত্রের ফিলোসফী , এইসব হল স্পিরিচুয়াল নলেজ ... আধ্যাত্মিক জ্ঞান । শাস্ত্র ইত্যাদি পড়েও অর্থ উপার্জন করা যায়। একটি কুটিরে গ্রন্হাদি রেখে একটু আধটু শোনালেই ব্যাস ইনকাম হয়ে যাবে । ঐসব কোনো যথার্থ জ্ঞান নয়। যথার্থ জ্ঞান কেবল বাবা-ই দিয়ে থাকেন। যতক্ষণ এই রূহানী বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রাপ্ত হয়না ততক্ষণ বুদ্ধিতে শাস্ত্রের জ্ঞান ভরা থাকে । তোমাদের কথা কানে নেই না । তোমরা সংখ্যায় হলে অল্প । এই কথা তো ১০০% নিশ্চিত যে এই রূহানী বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান তোমরা বাচ্চারা রূহানী বাবা (আত্মাদের পিতা) শিববাবার কাছেই প্রাপ্ত করো। জ্ঞানই হল সোর্স অফ ইনকাম অর্থাৎ উপার্জনের স্রোত । অনেক ধন প্রাপ্তি হয়। যোগের দ্বারা সোর্স অফ হেল্থ অর্থাৎ নিরোগী কায়া বা সুস্থ সবল দেহ প্রাপ্ত হয়। জ্ঞানের দ্বারা ধন সম্পদ। এই হল দুটি মুখ্য বিষয় । তারপরে কেউ ভালরীতি ধারণ করে , কেউ বা একটু কম । তাই ধন সম্পদও কম প্রাপ্ত হয় ক্রমানুযায়ী । দণ্ড ইত্যাদি ভোগ করে পদ প্রাপ্ত করে। সম্পূর্ণ স্মরণ না করলে বিকর্মের বিনাশ হয়না । ফলে দণ্ড ভোগ করতে হয়। তাতে পদও ভ্রষ্ট হয়ে যায়। যেমন স্কুলে হয়। এই হল বেহদের জ্ঞান , এর দ্বারা জীবন তরী পার হয়। ঐ জ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যারিস্টারী , ডাক্তারী, ইন্জিনিয়ারিং বিষয় পড়তে হয়। পড়াশোনার জন্যে এই বিষয় হল মাত্র একটি -ই। যোগ এবং জ্ঞানের দ্বারা এভারহেল্দী , এভারওয়েল্দী অর্থাৎ সদা সুস্থ , সদা সমৃদ্ধ হওয়া যায়। রাজপুত্র বা প্রিন্স হওয়া যায়। সেখানে স্বর্গে কেউ ব্যারিস্টার , জজ ইত্যাদি থাকেনা । সেখানে ধর্মরাজের বিচারের প্রয়োজন পড়েনা। না গর্ভজেলের দণ্ড ভোগ থাকে আর না-ই ধর্মরাজপুরীর দণ্ড ভোগ করতে হয়। গর্ভমহলে সবাই পরম সুখী হয়। এখানেতো গর্ভজেলের দণ্ড ভোগ করতে হয়। এইসব কথা তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পারো। বাকি শাস্ত্রে সংস্কৃত শ্লোক ইত্যাদি সব মনুষ্য রচিত । জিজ্ঞাসা করে সত্যযুগে কি ভাষা থাকবে ? বাবা বলেন দেবতাদের যে ভাষা সে-ই ভাষাই চলবে । ওখানকার ভাষা অন্যত্র হতে পারেনা। এমনও হতে পারেনা যে সেখানে সংস্কৃত ভাষা চলবে । দেবতাদের এবং পতিত মানুষের একই ভাষা হতে পারেনা। ওখানকার ভাষা ওখানেই চলবে। এইসব জিজ্ঞাসা করার কথাই নয়। প্রথমে বাবার কাছে বর্সা (স্বর্গ বা জীবনমুক্তি ) তো প্রাপ্ত করো। কল্প পূর্বে যা ঘটেছে তাই পুনরায় ঘটবে । প্রথমে বর্সা প্রাপ্ত করো, অন্য কোনো কথা জিজ্ঞাসা কোরোই না। আচ্ছা , ৮৪ জন্ম নয়, ৮০ বা ৮২ যাই হোক , এইসব কথা তুমি ভেবোনা , ছেড়ে দাও। বাবা বলেন অল্ফকে স্মরণ করো অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। স্বর্গের বাদশাহী বরাবর প্রাপ্ত করো তোমরা । অনেক বার স্বর্গের বাদশাহী প্রাপ্ত করেছ তোমরা । উচ্চ স্থান থেকে নীচে নামতেই হয়। এখন তোমরা মাস্টার জ্ঞান সাগর , মাস্টার সুখের সাগর স্বরূপে পরিণত হও। তোমরা হলে পুরুষার্থী । বাবা হলেন কমপ্লিট বা সম্পূর্ণ । বাবার কাছে যে জ্ঞান ভান্ডার রয়েছে বাচ্চাদের কাছেও রয়েছে । কিন্তু তোমাকে সাগর বলা চলবেনা । সাগর তো হয়ই একমাত্র শুধু নাম অনেক রাখা হয়। তোমরা হলে জ্ঞান সাগর থেকে উৎপন্ন হওয়া নদী । তুমি হলে মানসরোবর, নদী বৃন্দ । নদীরও নাম রয়েছে । ব্রহ্মপুত্র হল বিশাল নদী । কোলকাতায় নদী এবং সাগরের সঙ্গম আছে , নাম হল ডায়মন্ড হার্বর। তুমি ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী , হীরে তুল্য হতে চলেছ। বিরাট মেলার আয়োজন হয়। বাবা এই ব্রহ্মা দেহে এসে বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করেন। এইসব হল বুঝবার কথা । তবুও বাবা বলেন মনমনাভব । বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। তিনি হলেন অতি প্রিয় , সমস্ত সম্বন্ধের স্যাকারিন । ঐ সব সম্বন্ধ হল বিকারী , দুঃখদায়ী । বাবা তোমাকে সবকিছুর রিটার্ন দিয়ে দেন। সর্ব সম্বন্ধের সুখ ও ভালোবাসা দেন। অন্য কেউ এত সুখ দিতে পারেননা । কেউ দিলেও অল্প সময়ের জন্যে । সন্ন্যাসীরা যাকে কাগ- বিষ্ঠা সম সুখ বলে গণ্য করেন। দুঃখধামে তো অবশ্যই দুঃখ হবে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা এই পার্ট অনেক বার প্লে করেছি। কিন্তু উঁচু পদ প্রাপ্তির চিন্তা থাকা উচিত । অনেক পুরুষার্থ করতে হবে যাতে ওখানে ফেল না হই। ভাল নম্বরে পাশ করলে উঁচু পদ এবং খুশী দুই-ই প্রাপ্ত হবে। সবাই একরকম হতে পারবেনা ,যোগের মাত্রা অনুযায়ী । অনেক গোপিকা আছে যাদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাত হয়নি। বাবার সঙ্গে মিলনের অপেক্ষায় আছে । সাধুসন্ন্যাসীদের কাছে ব্যাকুলতার কোনো কথাই নেই । এখানেতো সবাই শিববাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে । আশ্চর্যজনক কথা কিনা । ঘরে বসে স্মরণ করে, শিববাবা আমরা হলাম আপনার সন্তান । আত্মার এইসব মনে পড়ছে । তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা শিববাবার কাছে প্রতি কল্পে বর্সা নেই । সেই বাবা , কল্পের পরে এসেছেন । তাই সাক্ষাৎ না করে থাকতে পারেনা । আত্মা জানে যে বাবা এসেছেন । শিব জয়ন্তীও পালন করা হয়, কিন্তু কিছুই জানেনা । শিববাবা এসে পড়াচ্ছেন , এইসব কিছুই জানেনা । নামমাত্র শিব জয়ন্তীও পালন করে। ছুটিও থাকেনা । বর্সা যিনি দিয়েছেন তার কোনো মহত্ব নেই । আর যাঁকে বর্সা দিয়েছেন (কৃষ্ণকে) তাঁর নাম প্রসিদ্ধ করে দিয়েছে । বিশেষভাবে এসে ভারতকে স্বর্গ বানিয়েছেন । বাকি সবাইকে মুক্তি দিয়েছেন । সবাই ইচ্ছাও করে। তুমি জানো মুক্তির পরে জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হবে। বাবা এসে মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত করেন । বাবাকে বলা হয় সর্বজনের সদ্গতি দাতা । জীবনমুক্তি তো সকলেই প্রাপ্ত করে। ক্রমানুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে । বাবা বলেন , এই হল পতিত দুনিয়া দুঃখধাম। সত্যযুগে তোমরা কত সুখ ভোগ করো। তাকে বলা হয় স্বর্গ (বহিশ্ত)। আল্লাহ বহিশ্ত বা স্বর্গের রচনা কেন করেছেন ? শুধু কি মুসলমানদের জন্যে রচনা করেছেন ? নিজের নিজের ভাষায় কেউ স্বর্গ বলে , কেউ বহিশ্ত বলে। তুমি জানো হেভেনে কেবল ভারত থাকে । এইসব কথা তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে ক্রমানুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে । এক মুসলমান বলতো আমি আল্লার বাগানে বা গার্ডেনে গিয়েছিলাম । এইসব সাক্ষাৎকার হয়েই থাকে। ড্রামাতে প্রথম থেকেই কল্পিত আছে । ড্রামাতে যা হয় , যে সেকেন্ড পার হয় বলা হবে কল্প পূর্বেও এইরকম হয়েছিল । অথচ আগামী কাল কি হবে সে কথা জানা নেই । ড্রামাতে নিশ্চয় থাকা উচিত , তাহলে আর দুশ্চিন্তা হবেনা । আমাদের তো বাবা হুকুম দিয়েছেন - মামেকম স্মরণ করো আর বর্সাকে (স্বর্গকে) স্মরণ করো। শেষ তো সবাইকে হতেই হবে। কেউ একে অপরের জন্যে চোখের জলও ফেলতে পারবেনা । মৃত্যু আসবে আর নিয়ে যাবে , চোখের জল ফেলার অবসর থাকবেনা । আওয়াজও করতে পারবেনা । আজকাল তো অস্থি অবশেষ নিয়ে কত পরিক্রমা করে । অন্তরে ভাবনা এইরূপ ভরা রয়েছে । সবকিছু সময় নষ্ট .... ওয়েস্ট অফ টাইম, এইসব করে কি লাভ। মাটি , মাটিতে মিশে যাবে। এইসব করলে ভারত পবিত্র হবে কি? পতিত দুনিয়ায় যা কিছু করণীয় , পতিত তা তো করবেই। দান-পুন্য ইত্যাদিও করতেই থাকে । ভারত পবিত্র হয়েছে কি? সিঁড়ি নামতেই হবে। সত্যযুগে সূর্য্যবংশী , তারপর সিঁড়ি নামতে হয় , ধীরে ধীরে পতন ঘটে । যতই যজ্ঞ তপ ইত্যাদি করা হোক , পর জন্মে অল্পকালের ফলই প্রাপ্ত হবে। কেউ খারাপ কাজ করলে তার ফলও ভোগ করবে। বেহদের বাবা জানেন বাচ্চাদের উনি পড়াতে এসেছেন । সাধারণ দেহেই ওঁনার আগমন ঘটেছে । কোনো তিলক ইত্যাদির প্রয়োজন নেই । তিলক তো সব ভক্তরা দেয় আর লোককে ঠকায়। বাবা বলেন , আমি সাধারণ দেহে প্রবেশ করি আর এসে বাচ্চাদের পড়াই। বানপ্রস্থ অবস্থা কিনা । কৃষ্ণের নাম কেন দেওয়া হয়েছে ? এই কথা বিচার করার বুদ্ধি টুকুও নেই । এখন বাবা রাইট- রং অর্থাৎ ঠিক-ভুলের বিবেচনা করার বুদ্ধি দিয়েছেন ।
বাবা বলেন , তুমি যজ্ঞ তপ , দান পুণ্য করে , শাস্ত্র ইত্যাদি পড়ে এসেছ। সেই শাস্ত্রে কিছু আছে কি? আমি তো তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে বিশ্বের বাদশাহী দিচ্ছি , নাকি কৃষ্ণ দিয়েছে ? বিচার করো। বলে - বাবা আপনিই তো আমাদের শুনিয়েছেন । কৃষ্ণ তো শিশু প্রিন্স , সে কিভাবে শোনাবে । বাবা আপনারই রাজযোগ দ্বারা আমরা এইরূপে পরিণত হই। বাবা বলেন , শরীরের কোনো ভরসা নেই । অনেক পুরুষার্থ করতে হবে। বাবাকে এসে সংবাদ দেয় যে অমুক হল খুবই তীক্ষ্ণ নিশ্চয়বুদ্ধি । আমি বলি একেবারেই নিশ্চয় নেই , যাদেরকে খুব ভালবেসেছি তারা আজ নেই । বাবা তো সবাইকে সমান রূপে ভালবাসেন । যেমন কর্ম আমি করব , আমারে অনুকরণ অন্যরা করবে । অনেকে বিকারযুক্ত কর্মে লিপ্ত থাকে , তারপর এসে লুকিয়ে বসে থাকে । বাবা সংবাদ বাহককে অবিলম্বে জানিয়ে দেন। এমন কর্ম যারা করে তারা শক্তিহীন হতে থাকবে । আগামী সময়ে আর চলতে পারবেনা । ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সময়ে যদি কেউ ভুল করে তবে কঠোর নিয়ম চালানো হবে। আগামী দিনে তুমি সব দেখতে পাবে । বাবা কি কি করেন। বাবা নিজে থোরাই দন্ড দেবেন , ধর্মরাজের দ্বারা দেওয়াবেন। জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রেরণার কোনো কথাই নেই । ভগবানের উদ্দেশ্যে সকল মানুষই বলে থাকে - হে পতিত-পাবন আসুন , এসে আমাদের পবিত্র করুন । সব আত্মারাই দেহের কর্মেন্দ্রীয়ের সাহায্যে আহ্বান করে। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর । ওঁনার কাছে অনেক (বক্খর) ভেরাইটি বস্তু রয়েছে । এমন বস্তু আর কারো কাছে নেই । কৃষ্ণের মহিমা হল একেবারেই আলাদা । বাবার শিক্ষা দ্বারা এঁরা লক্ষ্মী-নারায়ণ রূপে পরিণত হয়েছেন কিভাবে ? পরিণত করেছেন তো একমাত্র বাবা-ই । বাবা স্বয়ং এসে কর্ম , অকর্ম , বিকর্মের গতি বুঝিয়ে দেন। এখন তোমাদের তৃতীয় নেত্র খুলেছে। তোমরা এখন জানো যে এই হল 5 হাজার বছরের কথা। এবার নিবাস স্থানে ফিরে যেতে হবে , পার্ট প্লে করতে হবে। এই স্ব-দর্শন চক্র আছে কিনা । তোমার নামই হল স্বদর্শন চক্রধারী , ব্রাহ্মণ কুলভূষণ , প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার - কুমারী। লক্ষ লক্ষ স্বদর্শন চক্রধারী রূপে পরিণত হবে। তোমরা কত জ্ঞানের কথা পড়ছো । আচ্ছা !
মিষ্টি মিষ্টি অনেক দিনের হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়া (সিকীলধে) বাচ্চাদেরকে মাতাপিতা বাপদাদা স্মরণ করছেন জানাচ্ছেন স্নেহ -সুমন আর সুপ্রভাত I আত্মাদের পিতা(রূহানী) আত্মা রূপী (রূহানী) বাচ্চাদের জানায় নমস্কার I

ধারণার জন্যে মুখ্য সার:-

১. এই সময়টি হল খুবই চূড়ান্ত সময় সেইজন্য কোনোরকম উল্টো কর্ম করবে না । কর্ম -অকর্ম-বিকর্মের গতি খেয়ালে রেখে সর্বদা শ্রেষ্ঠ কর্ম করতে হবে।

২. যোগের সাহায্যে নিজের শরীর সুস্থ সবল রাখতে হবে । একমাত্র বিলাভেড মোস্ট বাবাকেই স্মরণ করতে হবে । বাবার কাছে যে অবিনাশী জ্ঞানের ধন প্রাপ্ত হয় সেসব দান করতে হবে।

রদান :- 

একসঙ্গে তিনটি রূপ দ্বারা সেবা করে এমন মাস্টার ত্রিমূর্তি ভব।

ব্যাখ্যা :-

যেমন বাবা সর্বদা তিনটি স্বরূপ দ্বারা সেবা করেন সেবায় উপস্থিত থাকেন পিতা , শিক্ষক এবং সদ্গুরু , তেমনই তোমরা বাচ্চারাও প্রতি সেকেন্ডে মন, বানী ও কর্ম এই তিনটি দ্বারা একসঙ্গে সার্ভিস করো তবেই বলা হবে মাস্টার ত্রিমূর্তি । মাস্টার ত্রিমূর্তি স্বরূপে যে প্রতিটি সেকেন্ড তিনটি রূপের সাহায্যে সেবায় উপস্থিত থাকে সে-ই বিশ্বের কল্যাণে যোগদান করতে পারে কারণ এই বৃহৎ বিশ্বের কল্যাণে যখন একই সময়ে তিনটি রূপের সাহায্যে সেবা করা হয় তখনই এই সেবার কাজ সম্পন্ন হয়।

শ্লোগান :- 

উচ্চ ব্রাহ্মণ হল সে , যে নিজের শক্তি দিয়ে খারাপকে ভাল রূপে পরিবর্তন করে দেয়।

***OM SHANTI***

Google+ Followers