BK Murli 19 May 2016 In Bengali

BK Murli 19 May  2016 In Bengali

 ১৯-০৫-১৬ প্রাত : মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - বিনাশের সময় এখন একেবারেই নিকটবর্তী , এইজন্য এক্ বাবার প্রতি সত্যকার ভালবাসা রাখো, কোনও দেহধারীর সাথে নয় l

প্রশ্ন :- 

যে বাচ্চাদের এক্ বাবার প্রতি গভীর ভালবাসা থাকবে তাদের লক্ষণ কি হবে ?

উত্তর :- 

১- তাদের বুদ্ধিযোগ কখনও দেহধারীর সাথে জুড়তে পারে না l তারা নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রেমিক -প্রেমিকাও হতে পারে না l ২- যাদের সত্যিই বাবার প্রতি গভীর ভালবাসা আছে তারা বিজয়ী হয় l বিজয়ী অর্থাৎ সত্যযুগে মহারাজা -মহারানীর পদ প্রাপ্তি হয় l ৩- সন্তুষ্ট বুদ্ধিই সবসময় বাবার প্রতি সততা বজায় রাখে l কিছুই গোপন রাখতে পারে না l ৪- রোজ অমৃতবেলায় উঠে ভালবেসে বাবাকে স্মরণ করবে l দধীচি মুনির মত অন্যের মঙ্গলের জন্য আত্মদান করবে l ৬- তাদের বুদ্ধি দুনিয়াদারির ব্যপারে কখনও বিচলিত হয় না l

গীত :- 

তিনি কখনও আমাদের থেকে বিছিন্ন হবেন না ...
( ন ওহ্ হমসে জুদা হোঙ্গে...)

ওম্ শান্তি l 

এই ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী , ব্রাহ্মণ কুলভূষণ প্রতিজ্ঞা করে যে , তাদের ভালবাসা এক্ বাবার সাথেই জুড়ে থাকবে l তোমরা জানো যে এখন বিনাশের সময় l বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়ে দেন বিনাশ তো অবশ্যম্ভাবী (হতেই হবে ) l বিনাশকালে যাদের বুদ্ধিযোগ এক্ বাবার সাথে জুড়ে থাকবে তারাই বিজয় প্রাপ্ত হবে অর্থাত্ সত্যযুগের মালিক হবে l শিববাবা বুঝিয়েছেন - বিশ্বের মালিক তো রাজাও হয় ,প্রজাও হয় কিন্তু পদপ্রাপ্তির বিচারে কম বেশী হয়ে যায় l বাবাকে যত ভালবাসবে ,যত বেশী স্মরণ করবে ততই উচ্চ পদের অধিকারী হবে l বাবা বুঝিয়েছেন - বাবাকে স্মরণ করলেই বিকর্মের বোঝা ভস্ম হবে l তোমরা লিখতে পার যে ,বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি . . . এসব লেখায় কোন ভয়ের কথা নেই , বাবা নিজেই বলেন , বিপরীত বুদ্ধি থাকলে বিনাশ হবে আর প্রীত বুদ্ধির বিজয় - বাবা একদম সহজ করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় (খোলাখুলিভাবে ) বলছেন l এই দুনিয়ায় গভীর ভালবাসা তো কারও নেই l তোমাদের আছে , বাবার সাথে জুড়ে থাকার আনন্দ l বাবা বলেন - বাচ্চারা , তোমরা পরমাত্মা আর শ্রীকৃষ্ণের মহিমার ভিন্নতা যদি বোঝাতে পারো তবে প্রমাণ হয়ে যাবে গীতার ভগবান কে ! এটা তো আবশ্যক তাই না ! দ্বিতীয়ত বাবা বোঝান - পতিত-পাবন পরমপিতা জ্ঞানের সাগর নাকি জলের নদী ? কি বাহিত হচ্ছে জ্ঞান গঙ্গা নাকি জলের নদী ? এতো খুব সহজ ব্যাপার l আরও একটা কথা , যখন প্রদর্শনী করো সবকিছুর আগে নিমন্ত্রণ জানানো উচিত্ গীতা পাঠশালার উদ্যোক্তাদের , অনেকেই তো আছে l তাদেরই বিশেষ করে আমন্ত্রণ জানাতে হবে যারা নিয়মিত ভাগবত গীতার পাঠাভ্যাস করে , প্রথম নিমন্ত্রণ ওদের দিতে হবে কেননা ওরাই বাবার পরিচয় , নিজেরাও ভোলে অন্যদেরকেও ভুলিয়ে দেয় l ওদের ডেকে আনা দরকার - এখানে এসে বিচারবুদ্ধির দ্বারা বুঝে তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে l তাহলে মানুষেরাও বুঝবে যে এরা কেবল গীতা পাঠকদেরই ডাকে , এঁরা বোধহয় গীতার ওপরেই প্রচার করেন l গীতা জ্ঞানই স্বর্গ স্থাপনার সূচনা l গীতার মহিমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ভক্তিমার্গের গীতা নয় l বাবা বলেন - আমি তোমাদের কাছে প্রকৃত সত্যই উদ্ঘাটন (প্রকাশ ) করি l মানুষ গীতার তাত্পর্য একেবারে ভুল ব্যখ্যা করে l কেউই যাথার্থ্য সত্য বলেনা , নির্ভুলভাবে সত্য আমিই বলি l পরমাত্মা সর্বব্যাপী বলাও সত্য নয় , এই সব ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বিনাশ প্রাপ্ত হবে আর কল্প কল্প তাই হয়েও চলেছে l তোমাদের প্রথম প্রথম এই মূল বিষয়ই বোঝাতে হবে l বাবা বলেন - ইউরোপবাসী যাদবদেরই বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি l এরা বিনাশের জন্যই তো কত বুদ্ধি খরচ করে শাক্তিশালী বোমা ইত্যাদি বানাচ্ছে , অন্যের বিনাশ করতে গিয়ে যে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে এই সামান্য বুদ্ধিও তাদের নেই l তোমরাও পাথরবুদ্ধি ছিলে , এখন পারসবুদ্ধি হতে হবে l পারসবুদ্ধিই তো ছিলে তারপর কিভাবে পাথরবুদ্ধি হলে এও এক আশ্চর্যজনক ঘটনা l বাবাকে বলাই হয়ে থাকে জ্ঞানময় , দয়াময় l বাকি যারা নিজের কল্যাণ করতে অপারগ তারা অন্যের কল্যাণ কি করে করবে ! যারা জ্ঞান ধারন করতে পারেনা তারা পদও সেরকমই পাবে , যারা জ্ঞান ধারন করে অন্যকেও জ্ঞানদানের সেবা করছে তারাই উচ্চপদ পাবে l ওঁদেরকেই বাবা ভালোবাসেন l শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থীরাই শ্রেষ্ঠ পদপ্রাপ্ত হয় l কেউতো এটাও বোঝেনা , আমাদের প্রীতি বাবার সাথে না থাকলে তো পদেরও প্রাপ্তি হবেনা , পাপও স্খলন হবেনা l বাবার শ্রীমত মানো বা নাই মানো , বিনাশকালে বাবার সাথে মন -বুদ্ধি জুড়তে না পারলে , বাবার শ্রীমত্ পথ সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করতে না পারলে নীচু পদই পাবে l দৈবীগুণ সম্পন্নও হতে হবে l কখনও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া উচিত্ হবে না l বাবা বলেন- আমি যাথার্থ্য সত্য বলি , আমার সাথে যার প্রীত (প্রেম ) নেই তার কোনো পদপ্রাপ্তি হবেনা l চেষ্টা করে অর্থাত্ পুরুষার্থ করে ২১ জন্মের রাজ্য অধিকার নিতে হবে l সেজন্য প্রদর্শনীতে , মেলায় প্রথম- প্রথম গীতা পাঠশালার তরফে নিমন্ত্রণ জানাতে হয় কারন ওরা তো ভক্তই , তাই -না ! গীতা পাঠকদের তিন কালের জ্ঞান নেই বলে তারা না বুঝেই কৃষ্ণকে স্মরণ করে l বাবা বলছেন , কৃষ্ণই যদি গীতার জ্ঞান মুরলি শুনিয়েছে তবে তখন রাধা কোথায় ছিল ! ওরা তো সরস্বতীর হাতে বীণা আর কৃষ্ণের হাতে মুরলি দিয়ে দিয়েছে ! মানুষেরা বলে - আমাদের আল্লা /ঈশ্বর জন্ম দিয়েছেন , কিন্তু আল্লাকে / ঈশ্বরকে জানেনা l এসব ভারতেরই কথা l ভারতেই দেবতাদের রাজ্য ছিল , ওঁদেরই চিত্র মন্দিরে মন্দিরে পূজা করা হত , এখনও সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে l আর বাকি যে রাজা-প্রজা তাদের মূর্তি তৈরী করে মন্দিরের বাইরে স্থাপন করে , যেখানে কাক পক্ষীতে নোংরা করে l লক্ষ্মী -নারায়ণ , রাধা -কৃষ্ণ এঁদের মত আরও যারা আছে তাদের মূর্তি , কত সুন্দর আর শ্রেষ্ঠ জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেছে l ওদেরই মহারাজা -মহারাণী বলা হয় , ইংরেজিতে বলে কিং (king) l কত লাখ লাখ টাকা খরচ করে মন্দির বানায় কারন ওই মহারাজা -মহারাণী পবিত্র ছিল l রাজা -রানীর মত তাদের প্রজারাও পূজ্য ছিল l তোমরাও পূজ্য থেকে পূজারী হয়েছ l একদম প্রথম কথাই হলো বাবাকে স্মরণ করো l বাবাকে স্মরণ করার অভ্যাস হলে ধারণাও তৈরী হয়ে যাবে l এক্ -এর সাথে মনের তার না -ই যদি জুড়তে পারো তবে তো আরও অন্যদের সাথে মন জুড়ে যাবে l এরকম অনেক বাচ্চারা আছে যারা দু' -একজনকে এত ভালবাসে যে শিববাবার প্রতিও এত ভালবাসা নেই l শিববাবা বলছেন , তোমাদের বুদ্ধিযোগ আমার সাথে জুড়বে নাকি একে অন্যের প্রেমিক -প্রেমিকা হয়ে যাবে l আর তখন তো আমাকে একেবারে ভুলেই যাবে l তোমার বুদ্ধিযোগ তো আমারই সাথে জুড়তে হবে এতে অনেক পরিশ্রম লাগে , কিন্তু জ্ঞান -বুদ্ধি ধারণ করলে এসবে কোনো পরিশ্রমের ব্যপারই নেই l শিববাবার বদলে দিন -রাত একে অপরের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে বাবা এরকম কারোর নাম জানালে বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেরি করেনা , এমনকি মন্দ কথাও বলে দেয় l এই বাবাকে মন্দ কথা বললে শিববাবা সঙ্গে সঙ্গে শুনে নেবেন l বাবা বলছেন যে , ব্রহ্মার কাছে না পড়লে শিববাবার কাছেও পড়তে পারবেনা l ব্রহ্মা ছাড়া শিববাবাও শুনতে পাননা , এইজন্য বলা হয়ে থাকে , কিছু জানার থাকলে দেহধারী ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জানো l lকোনো কোনো ভালো বাচ্চা আছে যারা সকার ব্রহ্মা বাবাকে মানেনা l ভাবে---- ইনি তো পুরুষার্থীl l পুরুষার্থী তো সবাই কিন্তু তোমাকে তো মা -বাবাকেই অনুসরণ করতে হবে l কয়েকজন আছে যাদের বোঝালে বুঝে যায় কিন্তু কারোর ভাগ্যে যদি না থাকে পুরুষার্থ করা তাহলে সে বুঝবে না l বাবার দেওয়া জ্ঞান রত্ন ধারণকরতেও ব্যর্থ হবে l বুদ্ধি তো এক্ বাবার সাথেই রাখতে হবে l আজকাল এমন অনেকে এসে বলছে - আমার মধ্যে শিববাবা আসেন , এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে l মায়া নানাভাবে প্রবেশ করছে , তাকে রুদ্ধ করার জন্য আগে শ্রীনারায়ণ এবং তার মতো অনেকে থাকত , মায়া জারিজুরি খাটাতে পারত না l কিন্তু ওরা এখন নেই l মায়া প্রবেশ করলেও কিছু করতে পারেনা l বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো l আর যারা বলছে আমার মধ্যে এ -ও আসে .... এসবকিছু মায়া l আমার স্মরণ যদি না -ই আসে তবে প্রাপ্তি কি হবে , যতক্ষণ বাবার সাথে সরাসরি যোগ রাখতে না পারলে তো পদ কিভাবে পাবে , ধারনা কি করে হবে l বাবা বলেন - তুমি আমাকে স্মরণ করো l ব্রহ্মা দ্বারাই আমি বোঝাই যে , এই ব্রহ্মা দ্বারাই সৃষ্টির স্থাপনা হয়েছে l ত্রিমূর্তিরও অবশ্যই প্রয়োজন আছে l কেউ তো ব্রহ্মার চিত্র দেখে চলেও যায় , কেউ আবার কৃষ্ণর ৮৪ জন্মের রহস্য জেনে অবিশ্বাস করে l চিত্র ছিঁড়েও ফেলে , এই চিত্র তো বাবা বানিয়েছেন , এরা তা মানতে চায়না l তাই বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন - ভুলে যেওনা , শুধু বাবাকেই স্মরণ করতে থাকো l যে স্ত্রী , কন্যাদের ওপর পরিবারের অনেক দায় -দায়িত্বের বন্ধন থাকে তারা হা হুতাশ না করে ঘরে বসেই বাবাকে স্মরণ করতে থাকো l যারা সংসারের মধ্যে থেকেও বাবাকে স্মরণ করছে তারা আরও উচ্চ পদ পেতে পারে l তোমাদের -বাচ্চাদের জ্ঞানদাতা এক্ বাবা , আধ্যাত্মিক জ্ঞান এক জ্ঞানসাগর বাবা ছাড়া আর কারও নেই l জ্ঞানের সাগর এক্ পরমপিতা পরমাত্মাই হন , ওঁনাকে মুক্তিদাতা বলা হয় l এটা ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয় l বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়ে দেন , বাচ্চারা আবার পরে অন্যদের বোঝাবে l বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে সদগতি প্রাপ্ত হবে l সত্যযুগে একটাই রাজ্য ছিল ,রামরাজ্য , কলিযুগে তা নেই l তোমাদের মধ্যে যারা তীব্র পুরুষার্থী , তাদের বুদ্ধিতেই সৃষ্টিচক্রের রহস্যের ধারনা থাকে l যাদের ধারনা হয়না তারা বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধির তকমা পাবে , কোনো পদ পাবেনা l বিনাশ তো সবার হবে , এটা কি খুব সহজ আর সধারন কথা ! শিববাবা বলেন - বিনাশকালে স্থির -বুদ্ধি হও l তোমাদের এটা অন্তিম জন্ম , আর এই জন্মে যদি সন্তুষ্টতা না রাখতে পারো তবে পদও পাওয়া যাবেনা l সন্তুষ্ট মনের ওপরেই বাবা বিরাজ করেন l দধীচি মুনি যেমন তার হাড় পর্যন্ত উত্সর্গ করেছিল তেমনভাবে মন -প্রাণ দিয়ে তোমাদেরও সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে l কখনও কারোর ওপর মায়া ভর করল তো বাবার প্রতি সব ভালবাসাও উধাও হয়ে যায় আর তারপরে নানারকম বাধা -বিঘ্ন আসতে থাকে l মুখে বলেও , এর থেকে লৌকিক জগতে চলে যাওয়া ভালো , এখানে তো কোন মজাই নেই l ওখানে তো নাটক , বায়োস্কোপ ইত্যাদি অনেক আছে l যারা এই সবেই অভ্যস্ত তাদের এখানে থাকা খুব মুশকিল l বাবার শ্রীমতে থেকে পুরুষার্থ করে উচ্চ পদ পেতে পারে , সবসময় খুশী হয়ে সব কিছু করতে হবে l বাবা (ব্রহ্মাবাবা ) নিজে বলেন - সকালবেলায় উঠে না বসলে আনন্দই হয়না , রাতে দেরি করে শোয়ার কারনে হয়তো ঝিমুনি আসে l কিন্তু উঠে বসলে ভালো ভালো পয়েন্টস্ বেরিয়ে আসে , খুব আনন্দ অনুভব হয় l বিশ্বের যে মালিকানা আমরা বাবার থেকে নিতে চলেছি সেইসময় আর বেশী বাকি নেই l এখানে (সংগঠনে ) বসে বাবাকে স্মরণ করলে তো খুশী অনেক বেশী হয় l সকালে নেওয়া সংকল্পে স্থির থাকলে দিনভর খুশিই থাকবে l যদি খুশি না থাকে তবে বুঝতে হবে , নিশ্চয়ই বাবার সাথে বুদ্ধিযোগ হয়নি l অমৃতবেলায় একান্তে থেকে যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই খুশির অনুভব হবে l এই ঈশ্বরীয় পড়াতে মায়ার উপদ্রব হয় , যেহেতু সবাই বাবাকে ভুলে যায় l বাবার থেকে রাজ্য -অধিকার নিতে হলেমনসা -বাচা -কর্মনা দ্বারা সেবা করতে হবে l এই সেবার মাধ্যমে অন্তিম জন্ম অতিবাহিত করতে হবে l আর যদি দুনিয়ার বৈষয়িক , সাংসারিক ব্যাপারে মন দাও তাহলে আর সেবা কখন করবে ! কালের (আগামীদিনের ) ভরসায় থাকলে কালই (সময় ) শেষ হয়ে যাবে l বাবা এসেছেনই স্বর্গে নিয়ে যাবার জন্যে l এখানে তো লড়াই করে কত শত মরে যায় , কত লোকের দুঃখও হয়তো হয় l ওখানে তো লড়াই ইত্যাদি কিছু হবেনা l এ সবকিছুই পরে কলিযুগে হবে , সবার বিনাশ অবশ্যই হবে l যাদের কাছে বাবার জ্ঞান-ধন নেই সেই নির্ধনের বিনাশ এমনিই হবে , আর যারা বাবার জ্ঞান রত্ন ধারণ করেছে সেই ধনীরা অর্থাত্ শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থিরা বিশ্বে রাজত্ব করার সৌভাগ্যের অধিকারী হবে l 
প্রদর্শনীতেও বোঝাতে হবে আমরা নিজের উপার্জনে (বাবার অষ্ট শক্তি আর সপ্ত গুণ ধারণ করে ) নিজের তন - মন -ধনের দ্বারা নিজেদের রাজ্য স্থাপন করছি l আমরা কারোর কাছে ভিক্ষা চাইনা , কারন তার কোনো আবশ্যকতা নেই l অনেক ভাই -বোন আছে , একসাথে জোটবদ্ধ হয়ে রাজধানী স্থাপনা করছে l তোমরা নিজেদের কোটি কোটি টাকা জমাও তারপর বোমা ইত্যাদি বানিয়ে নিজেদের বিনাশের পথে নিয়ে যাও আর আমরা পাই পাই পয়সা একজায়গায় করে ঈশ্বরীয় পথে চলে বিশ্বের মালিক হয়ে যাই l কত আশ্চযের আর সুন্দর পরিকল্পনা তাই -না ! আচ্ছা -

মিষ্টি -মিষ্টি হরানিধি /সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার ( পরমাত্মা ) রুহানি বাচ্চাদের (আত্মা ) নমস্কার l

ধারনার জন্য মুখ্য সার :-

১) অমৃতবেলায় একান্তে বসে বাবাকে ভালবেসে স্মরণ করতে হবে l দুনিয়াদারির বিষয় ছেড়ে ঈশ্বরীয় সেবায় যুক্ত হতে হবে l

২) বাবার প্রতি আন্তরিক ভালবাসা থাকতে হবে l নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রেমিক - প্রেমিকা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় l প্রীত একমাত্র বাবার সাথে জুড়তে হবে , দেহধারীদের সাথে নয় l

বরদান :- 

এই হীরে তুল্য যুগে হীরে দেখে অর্থাত্ অন্যের বিশেষত্ব দেখে নায়কের ভূমিকা পালনকারী তীব্র পুরুষার্থী ভব ( হও )

যেরকম জহুরির নজর সবসময় হীরের ওপরে থাকে , তোমরাও সবাই রত্ন প্রস্তুতকারক -তোমাদের নজরও যেন পাথরের দিকে না যায় , হীরেকেই দেখ l প্রত্যেকের বিশেষ গুণের প্রতিই যেন নজর থাকে l সঙ্গমযুগও হীরে সমান যুগ l পার্টও হীরো , যুগও হীরে সমান , সেজন্যই হীরে দেখ অর্থাত্ অন্যের অসামান্য গুণ দেখ তবে নিজের শুভ ভাবনার কিরণ চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে পারবে l বর্তমান সময়ে এই বিষয়ের দিকেই বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত্ l এইরকম পুরুষার্থীকেই তীব্র পুরুষার্থীবলা হয়ে থাকে l

স্লোগান :- 

বায়ুমণ্ডল বা বিশ্ব পরিবর্তনের আগে স্ব- পরিবর্তন করো l

***OM SHANTI***

Google+ Followers