BK Murli 13 June 2016 Bengali

BK Murli 13 June 2016 Bengali

 ১৩-০৬-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মীঠে বাচ্চে - বাবার শ্রীমত হল এই, যে পুরানো দুনিয়া থেকে নিজের মুখ ঘুরিয়ে নাও, জীবনমুক্তির জন্যে তুমি দৈবী সহবত(ম্যানার্স) ধারণ করো"

প্রশ্ন :- 

কোন্ সহবত (ম্যানার্স) বাবা ছাড়া অন্য কেউ শেখাতে পারবেনা ?

উত্তর :- 

পবিত্র হওয়া আর পবিত্র করা - এই হল সবচেয়ে বিশাল দৈবী সহবত( ম্যানার্স) । তুমি গৃহস্থে থেকে পবিত্র থাকো, এই শিক্ষা একমাত্র বাবা-ই দিতে পারেন , অন্য কেউ দিতে পারবেনা । তোমাদের হল বেহদের সন্ন্যাস । তুমি এই পুরানো দুনিয়াকেই বুদ্ধি দিয়ে ভুলে যাও। তুমি জানো পবিত্রতার ধারণার সাহায্যে বাকি সব ম্যানার্স স্বত:তই এসে যায়।

গান :- 

আজ অন্ধকারে রয়েছি আমরা ....

ওমশান্তি ! 

বাচ্চারা গানের একটি লাইন শুনলো। একদিকে হল সম্পূর্ণ দুনিয়া - ভক্তি মার্গের মানুষ আর অন্য দিকে হলে তোমরা বাচ্চারা জ্ঞান মার্গের । তারা ভক্তির সিঁড়ি আরোহণ করে আর তুমি জ্ঞানের সিঁড়ি । তোমরা ভক্তির সিঁড়ি অবতরণ করো। বাচ্চারা জানে অর্ধকল্প ভক্তির সিঁড়ি চড়তে হয়। ভক্তিও প্রথমে হয় অব্যাভিচারী , পরে হয়ে যায় ব্যাভিচারী। একেবারেই অন্ধশ্রদ্ধায় এসে যায়। কিছুই বোঝেনা । গায়নও আছে - আমরা অন্ধকারে রয়েছি। সদ্গুরু বিনে ঘোর অন্ধকার । গুরু তো এখানে অনেক আছে । এবারে সত্য গুরু হল কে? সাধু সন্ন্যাসী , মহাত্মা , ভক্ত ইত্যাদি সবাই সাধনা করে বা স্মরণ করে। শাস্ত্র , বেদ, উপনিষদ ইত্যাদি পড়ে তবুও বলে , ভগবান এসেই আমাদের সদ্গতি করবেন । সদ্গতি দাতাকেই পতিত-পাবন বলা হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা ঘোর অন্ধকারে আর নেই । তুমি জ্ঞানের প্রকাশে এসেছ। পতিত-পাবন বাবাকে জানো আর ওঁনাকেই স্মরণ করো। যে বাচ্চা যত স্মরণ করে আর জ্ঞানের ধারণা করে তার ততই অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশ হয়ে যায় । এবারে প্রকাশে নিয়ে যেতে পারেন সে তো একমাত্র বাবা-ই । জ্ঞান অঞ্জন দিয়েছেন সদ্গুরু .... কোনো সুরমা বা কাজল নয়। এই হল জ্ঞানের কথা । জ্ঞানের সাথে যোগও থাকে । যারা ভক্তি করা শেখায় তাদের সঙ্গেও যোগ নিশ্চয়ই থাকে । এখন তোমাদের বুদ্ধিযোগ রয়েছে নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে । তোমাদের মধ্যেও রয়েছে নম্বরওয়ার অর্থাৎ ক্রমানুসারে। আর কোনো মানুষ মাত্রের পরমপিতা পরমাত্মা সর্বশক্তিমানের সঙ্গে যোগ-ই নেই তোমাদের মতন । তোমাকে বাবার সঙ্গে , মুক্তি জীবনমুক্তিধামের সঙ্গে যোগ লাগাতে হয়। জীবনমুক্তির জন্যে দৈবী ম্যানার্সও খুব উঁচু দরের হওয়া চাই। এইসময় তো সবার ম্যানার্স হল অসুরী । পরমপিতা পরমাত্মার গুণও গায়ন আছে কিনা । তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ , সত্য , চৈতন্য , আনন্দের সাগর, জ্ঞানের সাগর । তিনিই হলেন চিরকালের পবিত্রতার সাগর হলেন । ওঁনার এই পদ হল অবিনাশী আর কোনো মানুষের এই অবিনাশী পদ হতে পারবেনা । ভালাই এখন তুমি জ্ঞানের সাগর , পবিত্রতার সাগর হও কিন্তু এক নিশ্চিত সীমাবদ্ধ স্বরূপ । বাবা বলেন আমি হলাম আনলিমিটেড বা অপরিসীম । তোমাকে আনলিমিটেড করা যাবেনা । নাহলে এই সৃষ্টির খেলা চলবে কিভাবে ? ৮৪ জন্ম ভোগ করবে কিভাবে ? তুমি ফর-এভার বা চিরকালের জন্যে পরিণত হতে পারবেনা । তোমাদের লিমিটেড রূপে পরিণত করি, ২১ জন্মের জন্যে তোমরা পরিণত হও। ২১ পুরূষ লেখা রয়েছে । তোমরা ফর-এভার রূপে পরিণত হবে এইরকম ড্রামায় নিয়ম নেই। আমি হলাম এভার পিওর । আমি বাস করি পরমধামে । আমার কাছে জ্ঞান , পবিত্রতা ইত্যাদি তো আছেই । তুমি ভুলে যাও তাই এইসময় বাবা এসে বাচ্চাদের ঘোর অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে জ্ঞান আর যোগ দ্বারা পবিত্র করেন আর কেউ এইরকম বলতে পারবেনা যে আমি পরমধাম থেকে এসেছি , এখন আমারে স্মরণ করো। আমার এই মহাবাক্যের কেউ কপি বা অনুকরণ করতে পারবেনা । আমি আসিই তোমাদের ২১ জন্মের জন্যে রাজার রাজা বানাতে। তাই রাজার রাজা হওয়া উচিত কিনা । হবেও তারা যারা পূর্ব কল্পেও পরিণত হয়েছিল । তুমি জানো - কত বাচ্চারা পবিত্র হয়, কতজন অজামিল সম পাপী হয়ে যায়। কতজন অশুদ্ধ হয়ে যায় । বাবাকে এসে ময়লা কাপড় পরিষ্কার করতে হয়। আত্মা-ই ময়লা হয়। আত্মাকে বোঝান হয় যে তোমাকে মায়া কত ময়লা করেছে , শুধু এই এক জন্মের কথা নয়। এই হল জন্ম-জন্মান্তরের কথা, আত্মাকে শুদ্ধ করতে লক্ষ্য - সাবান দিয়েছি । আমাকে স্মরণ করলে তোমার আত্মা জ্যোতি যে নিভে রয়েছে এই যোগের দ্বারা প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে - যত সময় আমাকে (শিববাবাকে) স্মরণ করবে। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন , তোমাকে আমি স্বর্গে পাঠিয়ে ছিলাম মায়া এসে ময়লা করে দিয়েছে । এবার আমি পুনরায় এসে তোমাকে স্বর্গের মালিক করছি । আমি এই ব্রহ্মা দেহ দ্বারা শিক্ষা দিচ্ছি । আত্মার সঙ্গে কথা বলে , হে বাচ্চারা লৌকিক বাবাকে বিস্মৃত করো অর্থাৎ ভুলে যাও। দেহ সহ দেহের সব সম্বন্ধ গুলিকে ভুলে আমারে নিজের পিতাকে স্মরণ করো তো তোমার আত্মা পরিষ্কার হতে থাকবে । তোমায় আবার ভবিষ্যতে নতুন দেহের প্রাপ্তি হবে। সেখানে তত্ত্ব ইত্যাদি সব নতুন সতোপ্রধান হয়ে যায়। বাবা বলেন - এখন এই পুরনো দুনিয়াকে ভুলে যাও। আমারে স্মরণ করলে তুমি আমার কাছে আসবে তারপর আবার স্বর্গে যাবে। এই হল পুরনো দুনিয়া। এখানে কোনো বস্তু তৈরী করলে তার নতুন নাম রেখে দেয়। যেমন নতুন দিল্লি , পুরনো দিল্লি বলা হয়। কিন্তু দুনিয়াটাতো পুরনো কিনা । এখন তোমাদের এই পুরনো দুনিয়া থেকে বুদ্ধিযোগ একেবারেই মিটে যাওয়া উচিত । আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের সুইট হোম অর্থাৎ সুমিষ্ট নিবাস বা নির্বাণধাম আছে , সেখানে যেতে হবে। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করতে হবে। বাবা বলেন আমারে স্মরণ করো তাহলে অন্ত কালে যেমন মতি আত্মার হবে তেমনি গতি , হয়ে যাবে। মানুষ যে অনেককে স্মরণ করে। কেউ কোনো গুরুকে, কেউ কৃষ্ণকে । কৃষ্ণ ইত্যাদি কোথায় গেছে? এইসব কেউ জানেনা । এই কথা বোঝেনা - যে পুনর্জন্মে সবাইকে আসতে হবে। এই রেওয়াজ সৃষ্টির আদি সময় থেকে চলে আসছে । সত্যযুগ আদিকালে দেবী-দেবতা থাকে, নিশ্চয়ই পুনর্জন্ম সেখান থেকেই আরম্ভ হয়েছে । প্রথম প্রথম হলেন শ্রীকৃষ্ণ ফার্স্ট পবিত্র মানুষ , তাঁরই মহিমা অনেক বেশী । লক্ষ্মী-নারায়ণের এতো নেই কেননা বাচ্চারা হয় পবিত্র সতোপ্রধান তাই বাচ্চাদেরই মহিমা গায়ন আছে। কৃষ্ণেরও অনেক মহিমা আছে । কিন্তু এই কথা জানেনা যে কৃষ্ণপুরী আছে কোথায় । বৈকুন্ঠও বলা হয় সত্যযুগকে কিন্তু না জানি কেন কৃষ্ণের নাম দ্বাপরে লিখে দিয়েছে । সেই জিনিষ অন্য কোনো নাম, রূপ , দেশে আসতে পারবেনা । সেই নাম রূপ অন্য জন্মে হতে পারবেনা । কৃষ্ণ ছিল সত্যযুগে । তুমি জানো এই জগতঅম্বা , জগতপিতা সেখানে লক্ষ্মীনারায়ণ রূপ ধারণ করেন। সত্যযুগকে কৃষ্ণপুরী বলা হয়। এখন হল কংসপুরী । এইসব হল অসুরী নাম। সেখানে ছিল দৈবী সম্প্রদায় , এখানে হল অসুরী সম্প্রদায় । বাবা বসে বাচ্চাদের সঙ্গমযুগে বোঝাচ্ছেন , সেই বাবা হলেন রচয়িতা। ওঁনাকে বলা হয় মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ । তো নিশ্চয়ই নতুন মনুষ্য সৃষ্টির রচনা করবেন । তুমি গেয়েও থাকো বাবা আপনি হলেন পতিত-পাবন । এই পতিত সৃষ্টিকে এসে পবিত্র করো । পবিত্র সৃষ্টির রচনা করে পতিত সৃষ্টির বিনাশ ঘটাও। বরাবর ব্রহ্মা দ্বারা পবিত্র সৃষ্টির রচনা করে শঙ্কর দ্বারা পতিত সৃষ্টির বিনাশ করিয়ে দেন। এই কথা আর কেউ জানেনা । এখন তুমি বাবার সঙ্গে যোগ করছো। তুমি দেখছো বাবা ময়লা কাপড় কিভাবে ধোলাই করেন। কেউ ছিঁড়ে যায় কেউ ভেঙে যায় । কেউ আবার অনেক ময়লা , অজামিল সম পাপী হয়, যাদের একেবারেই ধারণা হয়না । বাবা কত ভাল কথা বোঝাচ্ছেন । মীঠে লাডলে অর্থাৎ মিষ্টি স্নেহের বাচ্চারা আমারে অতি প্রিয় বাবাকে স্মরণ করো। অতি প্রিয় সুখধামকে স্মরণ করো। এইসব কথা তুমি এখন জানো। দুনিয়ায় কেউ জানেনা । এখন হল অতি দুঃখধাম । মনুষ্য ত্রাহি ত্রাহি করে, একে অপরকে আঘাত করে। তারপর বলে ভগবান রক্ষা করো, এই কথা নিশ্চয়ই মুখ দিয়ে বেরোবে । বাবা হলেন লিবরেটার ।
তুমি জানো বাবা এসেছেন আমাদের ইনপার্টিকুলার আর সবাইকে ইনজেনারেল সুখধামে নিয়ে যেতে। তোমাদের মধ্যেও ক্রমানুসারে রয়েছে যাদের নেশা আছে । এই পড়াশোনা কোনো কম নয়, পড়াচ্ছেনও দেখো কাদের । অজামিল সম পাপী আত্মাদের পড়িয়ে স্বর্গের মালিক বানিয়ে দেন। সবাই এখন তমোপ্রধান , তাদেরকেই সতোপ্রধান দুনিয়ায় নিয়ে যেতে হয়। বাচ্চাদের বারংবার বোঝান হয় যে এখানে দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে। এখানে তোমার বুদ্ধিতে মুখ্য উদ্দেশ্য ( এইম অবজেক্ট ) রয়েছে । এই পবিত্রতার ম্যানার্স আর কেউ শেখায়না। সন্ন্যাসীরা তো ঘর-দুয়ার ত্যাগ করায়। এখানে বাবা বলেন - তোমাকে ঘর-দুয়ার ত্যাগ করতে হবেনা । তোমাকে তো এই পুরনো দুনিয়াকেই ত্যাগ করতে হবে। ঐ হল হদের সন্ন্যাস আর এই হল বেহদের সন্ন্যাস । ঐ সন্ন্যাসীদেরকেও কত সম্মান প্রাপ্ত হয়। সাধু সমাজ সরকারকেও পরামর্শ দেয়। ভবিষ্যতে এই সন্ন্যাসী ইত্যাদি তোমাদের অর্থাৎ মাতাদের চরণে এসে মাথা নোয়াবে। মাতাদের আশীর্বাদ ছাড়া তাদের উদ্ধার হতে পারেনা কেননা তুমি নলেজ দাও। বাকি চরণে মাথা নোয়ানোর কোনো কথা নেই । কেউ নমস্তে বা রাম-রাম বললে প্রত্যুত্তর দিতে হয়। বাবাও বলেন বাচ্চে নমস্তে । আমি তোমাদের নিজের থেকেও উঁচু স্বরূপ প্রদান করি। তোমাকে ব্রহ্মান্ড এবং সৃষ্টি দুই স্থানের মালিকানা অধিকার প্রদান করি আর নিজে বানপ্রস্থে চলে যাই। কিন্তু এরজন্য তোমাদের শ্রীমত অনুসরণ করতে হয়। এই পুরনো দুনিয়ার মোহ থেকে নিজেকে দূরে সরাতে হয়। রাম, রাবণ এবং সীতার খেলার বস্তু কিনা । সীতা রাবণের দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসে এবং রামের দিকে মুখ । কৃষ্ণের ছবিও রয়েছে - নরককে লাথি মারছে আর স্বর্গের গোল্লা হাতে নিয়েছে । বাবা খুব সহজ করে বোঝাচ্ছেন কিন্তু কোনো চতুর ব্যবসায়ী ব্যতিক্রম হলেই এই ব্যবসা করতে পারবে । বাবাকে নিজস্ব পুরনো দেহ মন ধন-সম্পদ দিয়ে নতুন নিতে পারে। এই হল একমাত্র ফার্স্টক্লাস ইন্সিওরেন্স। বাবা বলেন তুমি নিজের আত্মাকে পবিত্র করলে শরীরও পবিত্রই প্রাপ্ত করবে। তারপর তুমি স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করবে সেইজন্যই ওঁনাকে সওদাগর , জাদুকর বলা হয়। পতিতকে পবিত্র করা- এই হল ঈশ্বরীয় জাদু কিনা । বাবা বলেন নরকবাসীদের স্বর্গবাসী করো , কেমন ফার্স্টক্লাস জাদু তাইনা । এতেই সর্বোত্তম প্রাপ্তি আছে । বাবা বলেন - রাজার রাজা হও , ফলো করো। বাবা তো বসেই আছেন কিনা । ইনি হলেন অধরকুমার , মাম্মা হলেন কুমারী কন্যা । তাই ফলো করতে হবে। বর্সা অর্থাৎ স্বর্গের অধিকার তো বাবার থেকেই প্রাপ্ত হবে। তোমরা বলবে আমরা ভাই-বোন বাবার কাছেই বর্সা প্রাপ্ত করি। এমনিতে লৌকিক বোনেরা সম্পত্তির অধিকার পায়না ভাইরা পায়। এখানে তো তোমাদের সবাইকে অধিকার প্রাপ্ত হবে কারণ তোমরা সবাই হলে আত্মা কিনা । বাবা বলেন যে তোমাদের সবাইকে আমার কাছে আসতে হবে। তখনতো এই ভাই-বোনের সম্পর্ক মিটে যাবে। সেখানে আছে শুধুমাত্র পিতা এবং সন্তানের সম্পর্ক, নির্বাণধামে তাই বলা হয় আমরা সবাই হলাম ভাই-ভাই । যদি ঈশ্বরকে সর্বব্যাপী বলা হবে তাহলেতো ফাদারহুড হয়ে যাবে। এই সর্বব্যাপীর জ্ঞান কত ক্ষতি করেছে ।

এখন তোমাদের কাছে বাবার স্মৃতি রয়েছে । বাবাকে স্মরণ করাতেই হল সবচেয়ে বেশী পরিশ্রম । এমনও নয় যে তোমাকে কেউ নিষ্ঠা সহ বসানো হবে । তোমাকে তো লক্ষ্য দেওয়াই হয়েছে । এখানেতো তুমি শুধুমাত্র বসে মুরলী শোনাও। যোগ তো তোমার সর্বক্ষণ রয়েছে । মুরলী শুনে চলতে ফিরতে স্মরণ করতে হবে। আমরা যাত্রায় রয়েছি। যতদূর সম্ভব স্মরণে মগ্ন থাকতে হবে। ৮ ঘন্টা সার্ভিসে থাকো , তারও ছুটি রয়েছে । বাকি সময় দিতে হবে। মুখ্য কথা হলই পবিত্রতার । তুমি জানো এই হল কাঁটা গাছের জঙ্গল । একে অপরকে কাঁটা লাগাতেই থাকে। এখন বাবা বলেন শ্রীমত অনুযায়ী চলো। শিববাবাও কথা বলেন । ব্রহ্মাও কথা বলেন কিন্তু তুমি জানো শিববাবা আমাদের পড়াচ্ছেন , তুমি হলে স্টুডেন্ট । তোমরা বলো তিনি হলেন আমাদের পিতা , শিক্ষক এবং সদ্গুরু । গ্যারান্টী করেন তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাব। এমন গ্যারান্টী অন্য আর কেউ করতে পারেনা। এই কথাতো বাবাও বলেন গডফাদারই সুখদায়ী ধর্মের স্থাপনা করেন। ঐ পিতাকে কেউ জানেনা । যদি পিতাকে জানবে তাহলেতো পিতার সম্পত্তিকেও জানবে। আচ্ছা !
মীঠে মীঠে সিকীলাধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদেরকে নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার:-

১. মুখ্য লক্ষ্যকে (এম্ অবজেক্ট ) সর্বদা সামনে রেখে দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে। সতোপ্রধান দুনিয়ায় যাওয়ার জন্যে পবিত্রতার ম্যানার্স ধারণ করতে হবে। বুদ্ধি দ্বারা বেহদের সন্ন্যাস করতে হবে। 

২. মোস্ট বিলাভেড অতি প্রিয় বাবাকে আর নিজের সুখধামকে স্মরণ করতে হবে। এই দুঃখধামের প্রতি বুদ্ধিযোগ মেটাতে হবে।

বরদান :- 

মালিকানা স্মৃতির দ্বারা হাইয়েস্ট অথোরিটির অনুভব কারী কম্বাইন্ড স্বরূপ অর্থাৎ সংযুক্ত স্বরূপ ভব। 

ব্যাখ্যা :- প্রথমে নিজের শরীর এবং আত্মার সংযুক্ত স্বরূপ স্মৃতিতে রাখো। শরীর হল রচনা , আত্মা হল রচয়িতা। এর সাহায্যে মালিকানা স্মৃতি সহজ হবে । মালিকানা স্মৃতি দ্বারা স্বয়ংকে হাইয়েস্ট অথোরিটি অনুভব করবে। শরীর চালানোর শক্তি স্বরূপ অনুভব করবে । দ্বিতীয় - বাবা এবং সন্তান (শিবশক্তি) এই সংযুক্ত স্বরূপের স্মৃতি দ্বারা মায়ার বিঘ্ন গুলি অথোরিটি সহ পার করে নেবে।

শ্লোগান :- 

বিস্তারকে সেকেন্ডে অন্তর্লীন করে নিয়ে সার তত্ত্বকে অনুভব করো এবং করাও।

***OM SHANTI***

Google+ Followers