BK Murli 20 June 2016 Bengali

BK Murli 20 June 2016 Bengali

 ২০-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা - শিববাবা তোমাদের ফুল এবং পূজার আনুসাঙ্গিক জিনিস স্বীকার করতে পারেন না, কেননা তিনি পূজ্য বা পূজারী কিছুই হন না, তাই তোমাদেরও এই সঙ্গম যুগে ফুল, মালা পরার প্রয়োজন নেই l "

প্রশ্ন :- 

ভবিষ্যতে রাজ্য সিংহাসনের অধিকারী কারা হবে ?

উত্তর :- 

যারা এখন মাতা - পিতার হৃদয় - সিংহাসনকে জয় করতে পেরেছে, তারাই ভবিষ্যতে সিংহাসনের অধিকারী হবে l এমনই আশ্চর্য যে এখানে বাচ্চারা মাতা -পিতার উপরও বিজয়ী হতে পারে l তারা পরিশ্রম করে মাতা - পিতার থেকেও আগে এগিয়ে যেতে পারে l

গীত :-

 ছোড় ভি দে আকাশ সিংহাসন .........
ছেড়ে দাও আকাশ সিংহাসন .....

ওম্ শান্তি l 

মিষ্টি - মিষ্টি সিকিলধে ( হারানিধি ) বাচ্চারা এই গান শুনেছে l এই গানের দ্বারাই ঈশ্বর যে সর্বব্যাপী নন তা সহজেই বোঝা যায় l তোমরা এখন এই কথাই ভাবো যে, ভারত কতো দুঃখী হয়ে গেছে l এই সব গান নাটকের নিয়ম অনুসারেই তৈরী হয়েছে l কিন্তু এই দুনিয়ার মানুষ তা কিছুই জানে না l শিববাবা এই দুনিয়ায় আসেনই পতিত মানুষকে পবিত্র করার জন্য এবং দুঃখী মানুষকে দুঃখ থেকে উদ্ধার করে সুখের জগতে নিয়ে যাবার জন্য l বাচ্চারা এখন জেনে গেছে যে....সেই শিববাবাই এসেছেন l সেই পরিচয় বাচ্চাদের মিলেই গেছে l বাবা নিজেই তোমাদের বলেন ......আমি একজন সাধারণ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এই সারা সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের রহস্য তোমাদের শোনাই l এই সৃষ্টি কিন্তু একটাই, সেটাই নতুন এবং পুরোনো হতে থাকে l যেমনভাবে তোমাদের শরীর ছোটবেলায় নতুন, তারপর ধীরে ধীরে পুরোনো হতে থাকে l নতুন শরীর , পুরোনো শরীর এইরকম দুটো শরীরের কথা তো বলা হয় না, তাই না ? আসলে তো একটাই শরীর, প্রথমে নতুন তারপর পুরোনো হতে থাকে l ঠিক তেমনি এই দুনিয়াও একটাই l সেটাই এখন নতুন থেকে পুরোনো হয়ে গেছে l নতুন কখন ছিলো ? এই দুনিয়ার মানুষ এটা বলতেই পারবে না l বাবা এসেই তোমাদের বলেন, বাচ্চারা, যখন নতুন দুনিয়া ছিলো তখন ভারত সম্পূর্ণ নতুন ছিলো l তাকে সত্যযুগ বলা হতো l সেই ভারতই এখন পুরোনো হয়ে গেছে l এখন একে পুরোনো ওল্ড ওয়ার্ল্ড বলা হয় l নতুন পৃথিবী থেকে এখন পুরোনো পৃথিবী হয়ে গেছে, এখন একে আবার অবশ্যই নতুন বানাতে হবে l নতুন দুনিয়ার সাক্ষাত্কার তোমরা বাচ্চারা করেছো l আচ্ছা বলতো, সেই নতুন দুনিয়ার মালিক কে ছিলেন ? বরাবরই এই লক্ষ্মী নারায়ণই সেই নতুন দুনিয়ার মালিক ছিলেন l আদি সনাতন দেবী দেবতারা সেই নতুন দুনিয়ার মালিক ছিলেন l এই কথা বাবা তোমাদের বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলছেন l বাবা বলেন যে এখন তোমরা নিরন্তর এই কথাই স্মরণ করো যে, শিববাবা পরমধাম থেকে তোমাদের পড়াতে এসেছেন l রাজযোগও তিনিই শেখাতে এসেছেন l মহিমা কেবলমাত্র শিববাবারই , এই ব্রহ্মাবাবার কিন্তু কোনো মহিমা নেই l এখন তোমাদের বুদ্ধি তুচ্ছ হয়ে গেছে, তাই তোমরা কিছু বুঝতে পারছো না, সেই কারণেই আমি এসেছি আর এই গানও সেইজন্যই তৈরী হয়েছে l ভগবান যে সর্বব্যাপী নয় এই জ্ঞান তো তোমাদের হয়েছে l কারণ তোমরা বুঝেছো বাবা পরমধাম থেকেই আসেন l প্রত্যেকের পার্ট আলাদা আলাদা দেওয়া আছে l বাবা বার বার বলেন যে,তোমরা দেহ অভিমান ছেড়ে আত্ম অভিমানী হও আর এই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা এই ঈশ্বরীয় শিক্ষাকে ধারণ করো l যদিও চলতে ফিরতে তোমরা ব্রহ্মা বাবাকে দেখো কিন্তু স্মরণ এক শিববাবাকেই করো l শিববাবাই সবকিছু করেন এই কথাই তোমরা স্মৃতিতে রাখো l ব্রহ্মা কিন্তু কিছুই করেন না l যদিও তাঁর চেহারা তোমরা চোখে দেখতে পাও l তোমাদের বুদ্ধি শিববাবার দিকেই হওয়া উচিত l শিববাবা না থাকলে ব্রহ্মাবাবার আত্মা বা শরীর কোনো কাজের হতো না l প্রতি সময় এই অনুভব করো যে ব্রহ্মা বাবার মধ্যেই শিববাবা আছেন l তিনি এই শরীরের দ্বারাই তোমাদের পড়ান l ব্রহ্মা বাবা কিন্তু তোমাদের শিক্ষক নন l তোমাদের সুপ্রীম শিক্ষক একমাত্র শিববাবা l স্মরণ তোমরা তাঁকেই করবে l কোনো সময়ই তোমরা কোনো শরীরকে স্মরণ করবে না l বুদ্ধিযোগ একমাত্র শিববাবার সাথেই লাগিয়ে রাখবে l বাচ্চারা বাবাকে স্মরণ করে ...... বাবা তুমি আবার এসে আমাদের জ্ঞান - যোগ শেখাও, কারণ পরমপিতা পরমাত্মা ছাড়া কেউই রাজযোগ শেখাতে পারেন না l বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই কথা আছে যে শিববাবাই এই গীতাজ্ঞান শোনান তারপর এই জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যায় l কারণ সত্যযুগে এই জ্ঞানের দরকার হয় না l রাজধানী স্থাপন হয়ে গেলে সবার সদ্গতি হয়ে যায় l দুর্গতি থেকে সদ্গতি পাবার জন্যই এই জ্ঞান দেওয়া হয় l বাকি সবকিছুই হলো ভক্তিমার্গের শাস্ত্র কথা l মানুষ জপ, তপ, দান, পুণ্য যা কিছুই করে সকলই ভক্তিমার্গের কথা, এর দ্বারা কখনোই বাবাকে পাওয়া যায় না l আত্মার ওড়ার ডানা ভেঙ্গে গেছে, যার ফলে আত্মার বুদ্ধি পাথর তুল্য হয়ে গেছে l আবার এই পাথর থেকে পরশ পাথর বানানোর জন্যই বাবাকে আসতে হয় l বাবা বলেন ........এখন দেখো কতো মানুষ l সর্ষের মতো এই সংসার ভোরে আছে l এই সবই এখন শেষ হয়ে যাবে l সত্যযুগে তো এতো মানুষ থাকবে না l নতুন দুনিয়ায় অনেক বৈভব থাকবে, কিন্তু মানুষ কম থাকবে l এখন তো এতো মানুষ যে ঠিকমতো খাদ্যবস্তু পাওয়া যায় না l এখানে সব পুরোনো অনুর্বর জমি কিন্তু সত্যযুগে সব নতুন হয়ে যাবে l সেখানে সমস্তকিছুই নতুন l নামই কতো সুন্দর দেখো ......স্বর্গ, বেহস্থ, দেবতাদের নতুন দুনিয়া l তোমাদের তো এখন পুরোনো কে ছেড়ে নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য মন হচ্ছে তাই না ? এখন হলো নতুন দুনিয়া অর্থাত্ স্বর্গে যাবার কথা l তাই এখন তোমাদের এই পুরোনো শরীরের কোনো মূল্য নেই l শিববাবার তো কোনো শরীর নেই l 
বাচ্চারা বলে .......বাবাকে হার পরাবো l কিন্তু বাবাকে যদি তোমরা হার পরাও তাহলে তোমাদের বুদ্ধিযোগ হারের দিকেই চলে যাবে l শিববাবা বলেন যে হারের কোনো দরকার নেই l কেননা তোমরাই পূজ্য হবে l আবার পূজারীও তোমরাই হবে l তোমরাই পূজ্য আবার তোমরাই পূজারী l তোমরাই আবার নিজের ছবিকেই পুজো করবে l বাবা বলেন যে আমি কখনোই পূজ্য হই না, তাই আমার ফুলের কোনো প্রয়োজন নেই l আমি কেন এই মালা পড়বো,তাই আমি ফুল, মালা কোনোকিছুই গ্রহন করি না l তোমরা যখন পূজ্য হবে তখন যত খুশী ফুলের মালা গলায় দিও l আমি তো তোমাদের বাচ্চাদের সবথেকে প্রিয় এবং বাধ্য বাবা, আমিই তোমাদের শিক্ষক এবং সেবকও আমি l বড় বড় ঐতিহ্য সম্পন্ন মানুষ যখন সই করে তখন নামের আগে মিন্টো , বা কার্জন ইত্যাদি লিখে দেয় .......কিন্তু নিজেদের কখনোই লর্ড বলে লেখে না l আর এখানে তো শ্রী লক্ষ্মী - নারায়ণ , শ্রী গণেশ ইত্যাদি লেখা হয় l অর্থাত্ নামের আগে শ্রী অক্ষর লেখা হয় l সুতরাং বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন ,এই শরীরকে এখন আর তোমরা স্মরণ কোরো না l নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে এক বাবাকে স্মরণ করো l এই পুরোনো দুনিয়ায় আত্মা এবং শরীর দুইই তোমাদের পতিত l সোনা যদি ৯ ক্যারেটের হয় তাহলে গয়নাও ৯ ক্যারেটেরই হবে l সোনাতেই খাদ দেওয়া হয় l আত্মাকে কখনোই নির্লিপ্ত ভাববে না l এই জ্ঞান তোমাদের এখন হয়েছে l তোমরা যখন ২১ জন্মের জন্য এই প্রারব্ধ লাভ করছো তখন তোমাদের কতোখানি পুরুষার্থ করতে হবে l কিন্তু বাচ্চারা প্রতি মুহুর্তেই ভুলে যায় l শিববাবা, ব্রহ্মাবাবার দ্বারা তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন l ব্রহ্মার আত্মাও শিববাবাকেই স্মরণ করে l ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকর হলো সূক্ষ্মবতনবাসী দেবতা l বাবা সবার প্রথমে সূক্ষ্ম সৃষ্টি রচনা করেন, নির্বাণধাম হলো উঁচুর থেকে অনেক উঁচুতে l আত্মাদের নির্বাণধাম হলো সবার থেকে উপরে l এক ভগবানকেই সমস্ত ভক্তরা স্মরণ করে l কিন্তু মানুষ যেহেতু তমোপ্রধান হয়ে গেছে তাই বাবাকে ভুলে অনেককিছুর পূজাই করতে থাকে l তোমরা জানো যে যা কিছু হচ্ছে সবই নাটকে লিপিবদ্ধ হতে থাকছে l নাটকের ছবি যেমন একবার তোলা হয়ে গেলে সেখানে কোনো সিনে যদি কোনো পাখি উড়ে বেড়ায় এবং পরবর্তীকালে যতবারই সেই নাটকটি দেখানো হোক না কেনো, প্রতিবারেই সেই পাখিটিকেও উড়ন্ত অবস্থায় দেখা যাবে l শ্যুটিংএর সময় যদি কোনো পতঙ্গ উড়ে যায় তবে বারবার সেটাই রিপিট হতে থাকে l এই বিশ্ব নাটকও ঠিক তেমন ভাবেই সেকেন্ডে সেকেন্ডে আবর্তিত হচ্ছে l এই নাটকও শ্যুট হতে থাকে l এই নাটক সম্পূর্ণ ভাবে বনানো আছে l তোমরা অভিনেতারা এই সমস্ত নাটককে সাক্ষী হয়ে দেখতে থাকো l প্রতিটা সেকেন্ডই নাটকের নিয়ম অনুসারেই হয়ে চলেছে l কোনো গাছের পাতাও যদি হেলে তবে সেটাও নাটকের নিয়ম অনুসারে l এমন নয় যে ভগবানের নির্দেশেই গাছের পাতাও হেলে l এই সমস্তকিছুই নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l তাই এই নাটককে খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে l শিববাবাই এসে তোমাদের রাজযোগ শেখান এবং সঙ্গে সঙ্গে এই নাটক সম্বন্ধে জ্ঞানও দিয়ে থাকেন l ছবিও দেখো কতো সুন্দরভাবে বানানো হয়েছে l এই সঙ্গম যুগে ঘড়ির কাঁটাও দেখানো হয়েছে l কলিযুগের শেষ এবং সত্যযুগের শুরুর সময়কেই সঙ্গম বলা হয় l এখন এই পুরোনো দুনিয়ায় অনেক ধর্ম আছে l নতুন দুনিয়ায় কিন্তু এতো ধর্ম থাকবে না l তোমরা বাচ্চারা এই কথাই ভাবো যে ......আমাদের শিববাবা এসে পড়ান, তাই আমরা ঈশ্বরীয় ছাত্র l ভগবান উবাচঃ ......আমি তোমাদেরকে রাজার রাজা বানিয়ে দিই l রাজারাও দেখবে লক্ষ্মী নারায়ণকে পুজো করে l এই লক্ষ্মীনারায়ণকে পূজ্য আমিই বানাই l যারা একসময় পূজ্য ছিলো তাঁরাই এখন পূজারী হয়ে গেছে l তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝে গেছো, তোমরাই একদিন পূজ্য চলে আবার তোমরাই আবার পূজারী হয়েছো l বাবাতো এইসব কিছুই হন না l বাবা বলেন যে ..........না আমি পূজারী হই আর না আমি পূজ্য হই, সেই কারণে আমি হার পরি না, না আমাকে যে পরায় সে পরে l তাহলে আমি কেন সেই ফুল স্বীকার করবো l তোমরাও তা স্বীকার করতে পারো না l এই ফুলের অধিকার দেবতাদেরই আছে, কারণ তাদের আত্মা এবং শরীর দুইই পবিত্র l তাই তারাই এই ফুলের অধিকারী l স্বর্গে তো অনেক সুগন্ধযুক্ত ফুল থাকে l সুগন্ধের জন্যই এই ফুলের প্রয়োজন l আবার এই সুগন্ধযুক্ত ফুল মালা করে পরার জন্যও দরকার হয় l বাবা বলেন যে .....এখন তোমরা বাচ্চারা বিষ্ণুর গলার হার তৈরী হচ্ছো l পুরুষার্থর নম্বর হিসাবেই তোমরা আসনের অধিকারী হবে l যারা আগের কল্পে যেমন পুরুষার্থ করেছিলো , তেমনভাবেই এখন করছে আর ভবিষ্যতেও তেমন করবে l কিন্তু তাও পুরুষার্থর নম্বর অনুসারে এই প্রাপ্তি হয় l আবার বুদ্ধি কখনো বলে, এই বাচ্চাখুবই সেবাপরায়ণ l যেমন কোনো ব্যবসা বা দোকানের ক্ষেত্রে কেউ কেউ শেঠ হয়, কেউ আবার ব্যবসার ভাগীদার হয়, কেউ আবার ম্যানেজারও হয় l যারা আবার তলার দিকে থাকে তারা তাদের একাগ্রতার জন্য চট্ করে উপরেও উঠতে পারে l এখানেও অনেকটা তাই l তোমাদের বাচ্চাদেরও তোমাদের মাতা - পিতার উপর বিজয়ী হতে হবে l তোমরা আশ্চর্য হয়ে যাও যে মাতা - পিতার আগে তোমরা কেমন করে যাবে l বাবাই বাচ্চাদের পরিশ্রম করিয়ে এই আসনে বসার উপযুক্ত করেন l তাই বাবা বলেন, তোমরা আমার হৃদয় সিংহাসনের অধিকারী হলে ভবিষ্যতে মহাসিংহাসনে বিরাজ করতে পারবে l এমন পুরুষার্থ তোমরা করো যে নর থেকে নর থেকে নারায়ণ হতে পারো l তোমাদের মুখ্য উদ্দেশ্যই হলো এই একটা, তারপর যখন রাজধানী স্থাপন হবে তখন তখন বিভিন্ন রকম পদের অধিকারী মানুষ থাকবে l তোমাদের মায়ার উপর বিজয় পাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করতে হবে l সন্তানদের ভালোবেসে তত্ববধায়ক হয়ে তবে সামলাও l ভক্তিমার্গে তোমরা তো বলেই থাকো .......প্রভু এই সকলই তোমার দেওয়া l তোমার দেওয়া সব জিনিস তুমি নিয়ে নিয়েছো l তাহলে কান্নার তো কোনো কারণ থাকে না কিন্তু এই দুনিয়া হলো কান্নার দুনিয়া l মানুষ অনেক গল্প কথা শোনায় l মোহজিত রাজার গল্পও মানুষই শোনায় l তখন তো কোনো দুঃখের অনুভবও হয় না l সত্যযুগে তোমরা এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর নেবে কিন্তু কোনো রোগের নামমাত্রও থাকবে না l ২১ জন্মেরও জন্য তোমরা সুস্থতা, এবং নিরোগী শরীর পাবে l বাচ্চাদের সবই সাক্ষাত্কার হবে l l সেখানকার নিয়ম কানন, রীতি অনুষ্ঠান কেমন , তারা কি ধরনের পোশাক পরিচ্ছদ পড়ে , সয়ংবর কেমনভাবে হয় .....এই সবের সাক্ষাত্কার বাচ্চারা আগে করেছে l সেই সব অংশ এখন শেষ হয়ে গেছে l সেই সময় এতো জ্ঞান ছিলো না l এখন দিনে দিনে তোমাদের বাচ্চাদের মধ্যে অনেক শক্তির সঞ্চার হয়েছে l এও সবই নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l আশ্চর্যের কথা তাই না ? পরমপিতা পরমাত্মারও কতো দায়িত্বের পার্ট রয়েছে l এখন নিজে এসে তোমাদের বোঝাচ্ছেন আবার ভক্তিমার্গেও ওপরে থেকেই সকলের মনোকামনা পূর্ণ করেন l নীচে তো তিনি কল্পে একবারই আসেন l অনেকেই নিরাকারের পূজারী হয় কিন্তু নিরাকার পরমাত্মা কেমন করে এসে তোমাদের পড়ান এই কথা সবই গুপ্ত হয়ে গেছে l যখন গীতাতে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন থেকেই নিরাকারের সঙ্গে তোমাদের প্রেমের বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে l এখন তো পরমাত্মা এসেই সহজ রাজযোগ শিখিয়ে এই দুনিয়াকে বদলাচ্ছেন আর এই এই দুনিয়াও একটু একটু করে বদলাচ্ছে l আবার এইভাবেই এর পুনরাবৃত্তি হবে l এই নাটকের চক্রকে তোমরা এখন বুঝে গেছো l দুনিয়ার মানুষ কিন্তু কিছুই জানে না l তারা সত্যযুগের দেবী দেবতাদেরও জানে না l কেবল মাত্র দেবতাদের চিহ্ন থেকে গেছে , সুতরাং বাবা তোমাদের বলেন , সবসময় তোমরা ভাবো যে, তোমরা হলে শিববাবার সন্তান l শিববাবাই তোমাদের পড়ান l শিববাবা এই ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদের শিক্ষা দেন l শিববাবাকে স্মরণ করলে তোমরা অনেক আনন্দ পাবে l এমন গড ফাদার কে আছে ? শিববাবা হলেন একাধারে তোমাদের বাবা, শিক্ষক, এবং সত্গুরু l লৌকিক বাবা যখন তার বাচ্চাকে পড়ান , তখন বাচ্চারা বলে ইনি আমাদের বাবা , তিনি যদিও বা শিক্ষক হন কিন্তু তাকে কখনোই গুরু বলা হয় না l লৌকিক বাবা শিক্ষক হতেই পারেন l কিন্তু বাবাকে কখনো গুরু বলা হয় না l ব্রহ্মাবাবার বাবা শিক্ষক ছিলেন, উনি পড়াতেন l তিনি ছিলেন এই লৌকিক দুনিয়ার একাধারে বাবা এবং শিক্ষক l আর শিববাবা হলেন বেহদের শিক্ষক l তোমরা যদি নিজেদের ঈশ্বরীয় ছাত্র ভাবো তাহলে তোমাদের অশেষ সৌভাগ্য l গড ফাদার তোমাদের পড়ান, কতটা পরিষ্কার এই কথা l তাহলে তোমাদের বাবা কতটা মিষ্টি l মিষ্টি জিনিসকে সবসময় মানুষ মনে করে l যেমন প্রেমিক আর প্রেমিকার প্রেম হয় না ? বিকারের কারণে তাদের প্রেম থাকে না l তারা একজন অপরজনকে দেখতেই থাকে l কিন্তু তোমাদের এখানে হলো আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার যোগ l আত্মা বলে আমাদের বাবা হলো জ্ঞানের সাগর , প্রেমের সাগর l তিনি এই পতিত দুনিয়া এবং এই পতিত শরীরে এসে আমাদের কতো উঁচু বানান lএমন গায়নও আছে যে মানুষ থেকে দেবতা বানাতে এক সেকেন্ড সময় লাগে l সেকেন্ডের মধ্যে তোমরা বৈকুণ্ঠতে যাবে আবার সেকেন্ডের মধ্যেই তোমরা মানুষ থেকে দেবতা হতে পারবে l এই তোমাদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য l এর জন্য ঈশ্বরীয় পড়া করার প্রয়োজন l গুরু নানকও বলেছিলেন, নোংরা লক্ষ্য সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে l বাবাও বলেন , আমিও ঠিক এমনই ধোপার কাজ করি l তোমাদের শরীররূপী বস্ত্র এবং আত্মা উভয়কেই আমি কত শুদ্ধ বানাই l তাই তোমরা ব্রহ্মা বাবাকে কখনো স্মরণ কোরো না l এই সমস্ত কাজ একমাত্র শিববাবার তাই তাঁকেই স্মরণ করো l ব্রহ্মাবাবার থেকেও শিববাবা মিষ্টি l আত্মাদের বাবা বলেন , তোমরা এই চোখের দ্বারা ব্রহ্মাবাবার শরীররূপী রথকেই দেখতে পাও , কিন্তু তোমরা স্মরণ শিববাবাকেই করো l শিববাবা এনার দ্বারাই তোমাদের সামান্য কড়ি থেকে মহামূল্যবান হীরাতে পরিণত করেন l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি ( সিকিলধে ) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা বাপদাদার স্মরণ , ভালোবাসা এবং সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :- 

1) বাবার হৃদয় সিংহাসনকে জয় করার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে l পরিবারে তত্বাবধায়ক(ট্রাস্টী) হয়ে ভালোবাসার সঙ্গে সকলকে পালন করতে হবে l মোহকে জয় করে মোহজিত হতে হবে l

2) যোগবলের দ্বারা আত্মাকে স্বচ্ছ বানাতে হবে l এই দৃষ্টির দ্বারা সমস্তকিছু দেখলেও এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l এই দুনিয়ার ফুল, মালা স্বীকার না করে নিজেকে সুগন্ধযুক্ত ফুল তৈরী করতে হবে l

বরদান :- 

এই সঙ্গমযুগে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করে ডবল প্রাপ্তির অধিকারী হও l 

যে সকল বাচ্চারা এই সঙ্গমযুগে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করেছে , তাদের সর্বদা শান্তি এবং সুখের ডবল প্রাপ্তির নেশা থাকে কেননা অতীন্দ্রিয় সুখের মধ্যেই এই দুই প্রাপ্তি নিহিত থাকে l এখন তোমরা বাচ্চারা বাবার থেকে যে বর্ষা বা সম্পত্তির প্রাপ্তি করছো তা তোমরা সারা কল্পেও পাবে না l এই সময়ের অতীন্দ্রিয় সুখ এবং জ্ঞানের যে প্রাপ্তি , তা তোমাদের আর কখনো মিলবে না l তাই এই ডবল প্রাপ্তির অধিকারী হও l

স্লোগান :- 

একে অপরের সংস্কার জেনে মিলেমিশে চলা- এটাই হলো উন্নতির একমাত্র সাধন l

***OM SHANTI***

Google+ Followers