BK Murli 22 June 2016 Bengali

BK Murli 22 June 2016 Bengali

 ২২-০৬-১৬ প্রাত : মুরলি ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - পুরোপুরি রাজ্যাধিকার নেওয়ার জন্য এক বাবার সাথে সম্পূর্ণ প্রীত রাখো , তোমাদের প্রীত কোনও দেহধারীর প্রতি রাখা উচিত্ নয় "

প্রশ্ন:- 

যারা দৈবী সম্প্রদায়ের হবে তাদের কাছে কোন্ কথার গুরুত্ব থাকবে ?

উত্তর :- 

যখন তোমরা ওদের বলবে যে , বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হয় আর দেবী -দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয় , তখন এই কথাগুলো ওদের মনে গুরুত্ব পাবে l ওদের বুদ্ধিতে আসবে আমাদের দেবী -দেবতা তৈরি হতে হবে এইজন্য আমাদের খাওয়া -দাওয়া শুদ্ধ রাখা উচিত্ l

গীত :- 

ভোলানাথের থেকে নিরালা. . .

ওম্ শান্তি I 

ভোলানাথের বাচ্চারা ভোলানাথের থেকে শুনছে l ভোলানাথ শিবকেই বলা হয়ে থাকে l ওঁনার নামই শিব l ভোলানাথের বাচ্চা অর্থাত্ শিবের বাচ্চা l আত্মারা এই কান দ্বারা শুনছে l এখন তোমরা বাচ্চারা আত্ম -অভিমানী হয়েছ l বাচ্চারা টেপ রেকর্ডে মুরলি শুনে বুঝে যায় শিববাবা আমাদেরকে নিজের পরিচয় দিছেন , আমি সব আত্মাদের পিতা- যাঁকে তোমরা পরমপিতা পরম আত্মা বা পরমাত্মা বলো l ওনাকে সর্বদা ফাদরই বলা হয় l উনি যে ফাদর এ কথা কে বলে ? আত্মা l আত্মার এখন জ্ঞান হয়েছে আর কোনও মনুষ্য মাত্রেই এই জ্ঞান নেই l আমরা আত্মাদের দুই বাবা l এক হলেন সাকার আরেক হলেন নিরাকার l উঁনি যে পরমপিতা এই বোধোদয় আর কেউ জাগাতে পারেনা l বাবা ছাড়া এই কথা দ্বিতীয় কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারেনা l বাবাই জিজ্ঞাসা করেন তোমরা যে বলো পরমপিতা পরমাত্মা ,গড ফাদর ওই শব্দ তোমরা কার জন্য বল ? লৌকিক বা পারলৌকিক বাবার জন্য ? লৌকিক বাবাকে গড ফাদর কি বলবে ? হিন্দি শব্দ পরমপিতা তো এক নিরাকারই বোঝায় l ঈশ্বর ,প্রভু বা ভগবান বললে বাবা প্রমাণ হয়না l গড ফাদর শব্দ বেশ ভালো l আত্মা বলেছে উঁনি আমাদের গড ফাদর l লৌকিক ফাদর শুধুমাত্র শরীরের বাবা l তোমাদের সকলকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে -তোমাদের বাবা ক'জন ? এক তো লৌকিক ,দ্বিতীয় পারলৌকিক l এই দুইয়ের মধ্যে বড় কে ? নিশ্চয়ই বলবে পারলৌকিক ফাদর l ওঁনার মাহাত্ম্য উঁনি সব পতিতকে পবিত্র বানান l এখন তোমরা তা বুঝে গেছ l দুনিয়ার লোকেরা কেউ এসব বোঝেনা l বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন - তোমাদের পারলৌকিক বাবার সাথে প্রীত থাকে l অন্যদের হয় বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি l মহাভারতের যে গল্প তোমরা শুনেছ তা এখন শুরু হবে l যুদ্ধ - বিমান , কামান ইত্যাদি সকলেই একে অপরের সাথে যার যেরকম চাই পয়সার বিনিময়ে আদানপ্রদান করছে l ধার-বাকিতেও নেয় l প্লেন , বারুদ ইত্যাদি সব কেনে , এসবই অত্যন্ত দামী l বিলেতের লোকেরা তৈরি ক'রে সেসব আবার বেচে দেয় l ভারতবাসী আদৌ এরোপ্লেন ইত্যাদি বিক্রি করে ! এই জিনিস সবই বাইরে থেকে আসে l এখন যে জিনিস কেনা হচ্ছে তার তো অবশ্যই ব্যবহার হবে l ফেলে দেওয়ার জন্য তো আর নেয় না ! ওরা সব বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি যাদব সম্প্রদায় , যারা ইউরোপে থাকে l ওদের মধ্যে সব এসে গেছে l ভারত তো অবিনাশী খণ্ড কেননা অবিনাশী বাবার জন্মভূমি l বাবা আসেনই তখন ,যখন পুরনো দুনিয়া সমাপ্তির মুখে আর জন্ম সেখানেই নেন যেখানে কখনও শেষ হয়না l বাবা এসেছিলেন তাই তো শিব জয়ন্তী পালন হয় কিন্তু ওদের এটা জানা নেই শিববাবা কখন আসেন ! আসেন সেই সময়ে যখন বিনাশের প্রস্তুতি চলে l এখন বাবা বলেন যে ইউরোপবাসী যাদব সম্প্রদায়ের সত্যযুগে কোনো ভূমিকা থাকেনা l না বৌদ্ধ , কৃশ্চিয়ানদের কোনো ভূমিকা থাকে l বাবা এখন বলছেন ওদেরই বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি কেননা ওরাই পরমাত্মা বাবাকে সর্বব্যাপী বলে l বিনাশকালে তোমাদেরই প্রীত বুদ্ধি থাকে l তোমরা বাবাকে জানো l তোমরা বুঝেছ -আমরা ৮৪ জন্ম নিয়েছি l ৮৪ জন্ম নিতে নিতে আমরা পাপ আত্মা , তমোপ্রধান হয়ে গেছি l ভারতবাসী ৮৪ জন্ম নিয়েছে l এখন নাটকে সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে , সবাইকে ফিরে যেতে হবে l তোমাদের বাবা রাজাযোগ শেখাচ্ছেন l এটা সকলের অন্তিম সময় অর্থাত্ মৃত্যুর সময় l যাদবদেরও ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা জন্মায়নি , এইজন্য বিনাশ কালে তাদের বিপরীত বুদ্ধির উদয় হয় l কোনও দেহধারী মনুষ্যের প্রতি প্রীত রাখা ঠিক নয় l ওরা তো হচ্ছেই রচনা , বাবার থেকে ওরা বরসা পায়না l ভাই ভাইয়ের কাছ থেকে বিশ্বের রাজ্য অধিকার তো পেতে পারেনা তাই -না ! এতো যাথার্থ্য ভাবে বোঝানো হয়েছে l বাবা এসে আবার কাঁটা থেকে ফুল বানিয়ে তোলেন l মনুষ্য পাঁচ বিকারে মধ্যে পড়ে পতিত হয়ে যায় l এখন হচ্ছেই রাবন রাজ্য l সত্যযুগ ছিল দৈবী রাজ্য l শিববাবাই স্বর্গপুরী রচনা করেন l এই স্বর্গপুরীতে সূর্যবংশীয় লক্ষ্মী -নারায়ণের রাজত্ব ছিল l এখন তোমরা জেনেছ স্বর্গরাজ্যের স্থাপনা শুরু হয়েছে l বিনাশকালে তোমাদের প্রীত বুদ্ধির জন্যই বিজয় প্রাপ্ত হয় l এটাই খুব ভালো করে স্মরণে রাখতে হবে l আমরা ভারতবাসী যারা কলিযুগে আছি তারা আবার পতিত থেকে পবিত্র হয়ে পুরানো দুনিয়াকে ত্যাগ করে স্বর্গে চলে যাব l এই বিকারি সম্বন্ধ হলো বন্ধনের আরেক নাম l তোমরা বিকারী বন্ধন থেকে নির্বিকারী সম্বন্ধে গেলে তবে পরের জন্মে বিকারী বন্ধনে আসতে হবেনা l ওখানে সবই নির্বিকারী সম্বন্ধ , এই সময়ের বন্ধন আসুরিক l আত্মা বলে আমাদের শিববাবার সাথে ভালবাসা . . . তোমাদের ব্রাহ্মণদের প্রীত আছে কেননা তোমরা প্রকৃতরূপে বাবাকে জেনেছ l বাবাকে , সৃষ্টিচক্রকে জেনে তোমরা আবার অন্যদেরকেও বোঝাও l যে যত অন্যকে বোঝাবে সে ততো অনেকের কল্যাণ করবে l যে যথার্থভাবে বুঝে জ্ঞান ধারন করতে পারে সেই উঁচু পদ পায় l সর্ভিস কম করলেও পদ কম হয়ে যাবে l সারা দুনিয়া পতিত হয়েছে l প্রত্যেককে পবিত্র হওয়ার রাস্তা দেখাতে হবে , এছাড়া কোনও উপায় নেই l স্মরণের পথেই বিকর্ম বিনাশ হবে l যারা দৈবী সম্প্রদায়ের তাদের মধ্যে শব্দগুলো গুঞ্জরিত হবে (গুনগুন করা ) , বুঝতে পারবে এতো সব ঠিক কথা l বরাবর আমরা দেবী -দেবতা হয়ে এসেছি l আমাদের ভোজনও শুদ্ধ হওয়া চাই l এখানে দৈবী গুণ ধারণ করে সর্বগুণসম্পন্ন হতে হবে l এখন তোমরা তৈরি হচ্ছ l তোমরা বাচ্চারা এখন জেনেছ - বিনাশকালে ওরা বিপরীত বুদ্ধিতে চলবে আর তোমাদের প্রীত বুদ্ধি থাকবে বাবার সাথে l এর মধ্যেও যে তীব্র প্রীত বুদ্ধির সে বাবার সাথে সম্পূর্ণ রূপে আনন্দিত থাকবে l আমরা বাবার থেকে ২১ জন্মের স্বর্গের রাজ্যভার নিই l একমাত্র বাবাই ঠিক বলেন যে , অন্য কারও সাথে সন্তুষ্টি না রাখতে l যখন নতুন বাড়ী বানানো হয় ,তখন নতুন বাড়ীর প্রতি একটা ভালবাসা তৈরি হয় l বোঝাই যায় যে পুরানো বাড়ী ভাঙা হবে l সেরকম আমরাও পুরানো দুনিয়া থেকে আমাদের মন সরিয়ে নিচ্ছি l বাবা বোঝাচ্ছেন - দিনকে দিন বায়ুমণ্ডল খারাপ হতে থাকবে l দেখছই তো কত অশান্তি ,গন্ডগোল লেগেই রয়েছে , এইসব থেকে বুঝবে এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে l আমাদের যেতে হবে নতুন দুনিয়াতে l তাই নতুন দুনিয়াকে স্মরণ করতে হবে l বেহদের বাবা আর বিশ্বের রাজত্ব স্মরণ করতে হবে , অন্য কাউকে স্মরণ করলে কিছুই পাওয়া যাবেনা lমনুষ্য ভক্তিমার্গে কত স্মরণ করে l মা -বাবা , বন্ধু -বান্ধব ,পরিজনকে স্মরণ করেও আবার দেবী -দেবতাদের কত স্মরণ করে l গঙ্গাজলে স্নান করে , এই গঙ্গাকে পতিত -পাবনী বলে l দেখানো হয়েছে তীর মেরেছে আর গঙ্গা বেরিয়ে এসেছে l মৃত্যু সময় উপস্থিত হলে মুখে গঙ্গাজল দেয় l ভাবে একটু গঙ্গাজল পেলে মুক্তি পেয়ে যাবে l বাবা বলেন - এখানে হয় জ্ঞানের কথা l তুমি অল্প জ্ঞানও যদি শোনো তার ফল পেয়েই যাবে l এই জ্ঞান , শোনার জন্য l অমৃত পানের জিনিস নয় , এটা হচ্ছে জ্ঞান অর্থাত্ জ্ঞানামৃত l এরকম ভেবোনা যে ভোগের দিন অমৃত পান করানো হয় l না , সেতো মিষ্টি জল l এখানে তো হচ্ছে জ্ঞানের কথা l জ্ঞান অর্থাত্ বাবা আর সৃষ্টির আদি -মধ্য -অন্তকে জানা - কিভাবে এই সৃষ্টিচক্র ঘোরে , কে ৮৪ জন্ম নেয় l সবাই এই জ্ঞান নিতে পারেনা l প্রথম -প্রথম ভারতবাসীই আসে , তারাই ৮৪ জন্ম নেয় l যাঁরা দেবতা ছিলেন তাঁরাই ৮৪ জন্ম ভোগ করে পতিত হয়ে যান l এই লক্ষ্মী -নারায়ণ দেবী -দেবতা , এনাদের ভোগে কি সিগারেট ইত্যাদি দেওয়া হয় ? সিগারেটে আসক্ত কেউই উঁচু পদ পেতে পারেনা l এটা কোনও দৈবী জিনিস নয় l সিগারেট বা পিঁয়াজ ,রসুন খেলে আরও নীচে নেমে যাবে l বলে , এসব খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীর খারাপ হয়ে যায় l বাবা বলেন - শিববাবাকে স্মরণ করো l এই সব অভ্যাস ছেড়ে দিলে তোমাদের সদগতি হবে l সিগারেটের অভ্যাস অনেকের মধ্যেই থাকে l বুঝিয়ে দেওয়া হয় , দেবতাদের কখনও এই ভোগ দেওয়া হয়না l তোমাকে তো এঁদের মতো এখানেই তৈরি হতে হবে l তুমি খারাপ জিনিস খেতে থাকলে তার একটা গন্ধও বেরোতে থাকবে l সিগারেট বা মদাসক্ত লোকেদের দূর থেকে গন্ধ আসে l তাই তোমাদের -বাচ্চাদের দৈবী গুণ ধারন করে বৈষ্ণব হতে হবে l বিষ্ণুর সন্তান যেমন হয় , তোমরা বিষ্ণু অর্থাত্ দৈবী সন্তান হয়ে উঠছ l এখানে তোমরা ঈশ্বরীয় সন্তান l এটা তোমাদের সর্বোত্তম জন্ম l দেবতাদের থেকেও তোমরা উত্তম l তোমরা আরও অনেককে উত্তম বানাতে চলেছ l এই হচ্ছে বেহদের বাবার মেশিনারী l কৃশ্চিয়ানদের মেশিনারী হয় তাই না ! কৃশ্চিয়ানরা অনেককে নিজেদের ধর্মে পরিবর্তিত করেছে l কিন্তু এখানে ঈশ্বরীয় মেশিনারী l তোমরা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ ধর্মে পরিবর্তিত হয়ে আবার দেবতা ধর্মে পরিবর্তিত হও l তোমরা জানো আমরা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছি l তোমরা জীবনে থেকেও জীবনের সকল স্পৃহা থেকে নিজদের মুক্ত করে তারপরে দেবতা হতে পার l সত্যযুগে তোমাদের জন্ম হবে গর্ভমহলে l এখানে বাবা তোমাদের ধর্মের বাচ্চা বানিয়েছেন অর্থাত্ ধর্মের পথে চালিত করেছেন , তোমাদের ধর্মাত্মা তৈরি করতে l বাবা তোমাদের আপন করেছেন l বাচ্চাদের বাবা শেখান , ব্রাহ্মণ থেকে আবার দেবতায় পরিণত হও l এই মনুষ্যরা কত উঁচুতে , দৈবীগুণ সম্পন্ন l যখন তোমরা আত্মারা পবিত্র হবে তখন শরীরও পবিত্র হতে হবে l পুরানো শরীর শেষ হয়ে আবার তোমাদের নতুন সতোপ্রধান শরীর চাই l সত্যযুগে পাঁচ তত্ত্বও সতোপ্রধান হয়ে যাবে l বাবা বলেন - তোমরা শূদ্র বর্ণের ছিলে l এখন আবার ব্রাহ্মণ বর্ণের হয়েছ তারপরে আবার দৈবী বর্ণে এসে যাবে l ৮৪ জন্ম যে নিতে হবে l ব্রাহ্মণ বর্ণকে নিশ্চল করে রেখেছে l এখন বাবা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ বানিয়ে পুনরায় দেবতা বানান l এখন তোমরা ব্রাহ্মণেরা শীর্ষস্থানে পৌঁছেছ l ডিগবাজি খেলা (মাথা নীচু করে পা শূন্যে তুলে উল্টে পড়া ) তাই -না ! অর্থাত্ আমরা প্রথমে শীর্ষে থাকি ধীরে ধীরে কলা কমে শীর্ষ থেকে নীচে নেমে আসি , আদি -মধ্য -অন্তকাল ধরে এই ডিগবাজি খেলা চলতে থাকে l এখন ব্রাহ্মণ আবার দেবতা , ক্ষত্রিয় . . . .একেই চক্র বলা হে থাকে l এখন তোমরা ব্রাহ্মণ বর্ণের হয়েছ l এই জ্ঞান তোমাদের হয়েছে পরে তো প্রারব্ধ ভোগ করবে (পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফল ) l এই সময়ে পুরুষার্থ করে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে তারা ওখানে ২১ জন্ম যাবৎ সদা সুখী থাকবে l কেউ রাজ বংশে , কেউ প্রজাতে যাবে l রাজ পরিবারে সুখই সুখ তারপরে আবার কলা কমে যায় l তোমরা ৮৪ জন্মের জ্ঞান পেয়েছ l স্মৃতিতে আসছে l বাবা এসে বুঝিয়ে দেন মিষ্টি -মিষ্টি বাচ্চারা , তোমাদের এখন ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হয়েছে l কেউ কেউ ৮৪ জন্ম , ৮০, ৫০, বা ৬০ জন্মও নিয়ে থাকে l সবার থেকে বেশী সুখ তোমরা ভারতবাসীরা দেখ l এই ড্রামাতে তোমাদের নাম সবচেয়ে উপরে l দেবতাদের থেকেও তোমরা উঁচুতে l তোমরা জানো যে আমরাই সেই পূজ্য হই l সত্যযুগে আমরা কাউকে পুজো করিনা আবার আমাদেরও কেউ পুজো করে না l ওখানে আমরা হচ্ছিই পূজ্য , পরে ধীরে ধীরে কলা কম হয়ে যায় l আমরা পূজ্য থেকে আবার পূজারী হয়ে মাথা নত করি l দ্বাপরে এসে আমরা পূজারী হতে শুরু করি l অন্তিমে সবাই আবার ব্যভিচারী হয়ে যাই l এই শরীর পাঁচ তত্ত্বের তৈরি , এই শরীরের যদি কেউ পুজো করে তবে তাকে বলা হয়ে থাকে ভূত পুজো l প্রতি একজনের মধ্যে পঞ্চভূত ( পাঁচ বিকার ) আছে l দেহ -অভিমানের ভূত , আবার কাম -ক্রোধের ভূত l ভূত সম্প্রদায় বলো বা আসুরিক সম্প্রদায় বলো ব্যাপার একই l বাবা এসে আবার দৈবী সম্প্রদায় তৈরি করেন l বাবা আসেন ভূতের অর্থাত্ পাঁচ বিকারের কবল থেকে উদ্ধার করতে এবং নিজের সাথে যোগ লাগিয়ে দেবতা বানাতে l গুরু নানকও মহিমা গেয়েছেন পরমপিতা পরমাত্মা মনুষ্যকে দেবতা বানিয়েছেন l উঁনিই পতিতকে পবিত্র বানানোর কারিগর l আচ্ছা l

মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি(সিকীলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা -পিতা , বাপ দাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমপিতা পরমাত্মা )রুহানি বাচ্চাদের (আত্মাদের ) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য যে -যে খারাপ অভ্যাস আছে সে সব ছাড়তে হবে l শূদ্রকে ব্রাহ্মণ ধর্মে পরিবর্তিত করে দেবতা বানানোর জন্য ঈশ্বরীয় মিশনের কার্যে সহযোগী হতে হবে l মদ , সিগারেট অথবা যে কোনও বাজে অভ্যাস যা কিছু আছে তা ত্যাগ করতে হবে l

২) এই বিনাশ কালের সময় এক বাবার সাথে সত্যকার ভালবাসা রাখতে হবে l পুরানো বাড়ী ভাঙা পড়বেই এইজন্য এর থেকে মন সরিয়ে নতুনের সাথে জুড়তে হবে অর্থাত্ পুরানো দুনিয়ার বিনাশ অবশ্যম্ভাবী জেনে নতুন দুনিয়ার স্থাপনায় মন লাগাতে হবে l

বরদান :- মরজীবা স্থিতি দ্বারা হিম্মত আর উল্লাসের অবিনাশী স্ট্যাম্প লাগানোর কারিগর ,প্রাপ্তি সম্পন্ন ভব (হও )

যে প্রাপ্তির দ্বারা সম্পন্ন হবে তার প্রত্যেক আচার -ব্যাবহারে , নয়নে নিশ্চয়তার উদ্যম -উৎসাহ প্রকাশ পাবে l কিন্তু হিম্মত আর উল্লাসের অবিনাশী স্ট্যাম্প লাগানোর জন্য নিজের অতীত বা ঈশ্বরীয় মর্যাদার বিপরীত সংস্কার ,স্বভাব , সঙ্কল্প বা কর্ম যা কিছু হয় তার থেকে মরজীবা হও l প্রতিজ্ঞারুপী স্থিতিতে স্থিত হয়ে বাস্তবে প্রতিজ্ঞা প্রমাণ হয়ে চলতে থাকো l হিম্মতের সাথে উল্লাস থাকলে প্রাপ্তির ঝলক দূর থেকেই দেখা যাবে l

স্লোগান :- 

অনেকের মাঝে বা সংকট কালে ডাবল লাইট স্থিতিতে থাকার অধিকারীই ধারণামূর্ত হয় l

***OM SHANTI***

Google+ Followers