BK Murli 4 June 2016 Bengali

BK Murli 4 June 2016 Bengali

 ০৪.০৬.২০১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি “বাপদাদা” মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা – তোমরা পারলৌকিক বাবাকে যথার্থ ভাবে জানো তাই তোমাদেরই হল সত্যিকারের প্রীত বুদ্ধি বা আস্তিক বলা হবে |”

প্রশ্ন : 

বাবার কোন্ কর্তব্যের দ্বারা সিদ্ধ হয় যে তিনি হলেন ভক্তদের রক্ষক ?

উত্তর : 

সব ভক্তদের রাবণের জেল থেকে ছাড়ানো, ইনসলভেন্ট থেকে সলভেন্ট বানানো, এটা হলো এক বাবারই কর্তব্য | যারা পুরনো ভক্ত তাদের ব্রাহ্মণ বানিয়ে দেবতা বানিয়ে দেওয়া – এটাই হলো তাদের জন্যে রক্ষা | ভক্তদের রক্ষক এসেছেন – তাঁর সকল ভক্তদের মুক্তি-জীবনমুক্তি দিতে |

গীত : 

ভোলেনাথের থেকে নিরালা ...
ভোলেনাথের থেকে অনন্য....

ওম্ শান্তি | 

এটা কার্ মহিমা বাচ্চারা শুনলো ? গায়ন আছে উচ্চ থেকে উচ্চ হলেন ভগবান আর ভগবানকেই বাবা বলা হয় | সেই হলো এই সারা রচনার রচয়িতা | যেমন লৌকিক বাবাও হলেন রচয়িতা নিজের রচনার | প্রথমে কন্যাকে নিজের স্ত্রী বানায় তারপর ওর থেকে রচনার রচনা করে | ৫-৭ সন্তান উত্পত্তি করে | তাদের বলা হবে রচনা | বাবা হলো রচয়িতা | ওরা হলো হদের রচয়িতা | এটাও বাচ্চারা জানে যে রচনারা রচয়িতাদের থেকে অধিকার(বর্ষা) প্রাপ্ত করে | মানুষের তো দুটো বাবা হয়ই এক লৌকিক, দ্বিতীয় পারলৌকিক | বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে যে জ্ঞান আর ভক্তি হলো আলাদা-আলাদা, তারপর আছে বৈরাগ্য | এই সময়ে তোমরা বাচ্চারা সঙ্গমে বসে আছ আর বাকি সকলে কলিযুগে বসে আছে | সকলে তো হলো সন্তানই কিন্তু তোমরা বেহদের বাবাকে জেনেছ যে হলো সারা রচনার রচয়িতা | লৌকিক বাবা হওয়া সত্তেও ওই পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করে | সত্যযুগে লৌকিক বাবা হওয়াতে পারলৌকিক বাবাকে কেও স্মরণ করে না কারণ সেটা হল সুখ ধাম | ওই পারলৌকিক বাবাকে দুঃখে স্মরণ করে | এখানে পড়ানো হয়, মানুষকে বুদ্ধিমান বানানো হয় | ভক্তিমর্গে মানুষ বাবাকেও জানে না | বলেও পরমপিতা পরমাত্মা, হে গড ফাদার, হে দুঃখ হর্তা সুখ কর্তা | তারপর বলে দেয় সর্ব ব্যাপী | পাথরে,প্রতিটি কণায়, কুকুর, বেড়ালে সবার মধ্যে আছে | পরমাত্মা বাবাকে গালি দিতে লেগে পরে | তোমরা বাবার হয়েছ তো তোমরা হয়ে গেলে আস্তিক | তোমাদের বাবার সাথে প্রীত বুদ্ধি আছে | বাকি সবার বাবার সাথে বিপরীত বুদ্ধি আছে | এখন তোমরা জানো মহাভারী লড়াই সামনে দাড়িয়ে আছে | পুরনো দুনিয়ার বিনাশ অর্থে প্রত্যেক ৫ হাজার বর্ষ পরে কলিযুগী পতিত দুনিয়া পুরো হয়ে তারপর সত্যযুগী পাবন দুনিয়া স্থাপন হয়, বাবার দ্বারা | যার সরণই করা হয় – পতিত-পাবন সীতারাম ... হে রাম সব সীতাদের পাবন বানাও | তোমরা সকলে হলে সীতা, ভক্ত | সে হলো ভগবান, সকলে তাকে ডাকে | সে তোমাদেরকে পতিত থেকে পাবন বানাচ্ছে | তোমাদের কথাও ধাক্কা খাওয়ায় না | এমনটা বলে না তীর্থে যাও, কুম্ভের মেলাতে যাও | না, এই নদীগুলো কোনটাই পতিত-পাবনী নয় | পতিত-পাবন হলো এক জ্ঞানের সাগর বাবা | সাগর বা নদীদের কেও সরণ করে না | ডাকে বাবাকে, হে পতিত-পাবন বাবা আমাদের পাবন বানাও | বাকি জলের নদী তো সারা দুনিয়াতে রয়েছে, সেগুলো তো পতিত-পাবনী নয় | পতিত-পাবন এক বাবাকেই বলা হয় | সে যখন আসবে তখন এসে পাবন বানাবে | ভারতের মহিমা হলো অনেক ভারী | ভারত হলো সব ধর্মের তীর্থ স্থান | শিব জয়ন্তীরও এখানে গায়ন করা হয় | সত্যযুগ তো হলো পাবন দুনিয়া, ওতে দেবী-দেবতারা থাকে | দেবতাদের মহিমার গান করা হয়, সর্বগুন সম্পন্ন ১৬ কলা সম্পূর্ণ ... চন্দ্রবংশী কে ১৪ কলা বলা হয় | তারপর সিঁড়ি নিচে নামতেই থাকে | বাবা এসে সেকেন্ডে সিঁড়ি চড়িয়ে শান্তিধাম-সুখধামে নিয়ে যায় | তারপর ৮৪ র চক্র লাগিয়ে সিরি নামতে থাকে | ৮৪ জন্ম কেও তো অবশ্যই নিয়েছে | মুখ্য হলো সর্বশাস্ত্রমই শিরোমনি গীতা, শ্রীমত ভগবৎ মানে ভগবানের গান | কিন্তু ভগবান কাকে বলা হয় – এটা পতিত মানুষ জানে না | পতিত-পাবন সকলের সত্গতিদাতা হলেন এক নিরাকার শিব কিন্তু তিনি কখন এসেছেন , এটা কেও জানে না | বাবা নিজের থেকে এসেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন | এখন দেখো এখানে বাচ্চারা আর বাচ্চিরা দুজনেই বাবা বলে | গায়ন আছে তুমি মাতা-পিতা ... তোমার এই রাজযোগ শেখার ফলে গভীর সুখের প্রাপ্তি হয় | রাবণও ভারতেই দেখানো হয় | কিন্তু কোনো অর্থই জানে না | শিব হলেন আমাদের বেহদের বাবা, এটা একজনও জানে না শুধু পূজা করতে থাকে | যখন সম্পূর্ণ ঝাড় তমোপ্রধান হয়ে যায় তখন বাবা আসেন | নতুন দুনিয়াতে ভারত স্বর্গ ছিল | ভারতেই সত্যযুগ ছিল | ভারতেই এখন কলিযুগ আছে | বাবা বোঝায় প্রথম-প্রথম তোমরা স্বর্গের মালিক ছিলে | এখন তোমরা ৮৪ জন্ম ভোগ করে নরকবাসী হয়েছ | এখন আমি তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে মনুষ্য থেকে দেবতা, পতিত থেকে পাবন বানাই | ভক্তি অর্থাৎ ব্রহ্মার রাত | জ্ঞান অর্থাৎ ব্রহ্মার দিন | তোমরা ব্রহ্মাকুমার কুমারীরা দিনে যাচ্ছ | এই পুরনো দুনিয়ার এখন আগুন লেগে যাবে, অবশ্যই এটা হলো মহাভারত লড়াই | অবশ্যই এই মহাভারত লড়াইয়ের পর ভারত স্বর্গ হয়ে যাবে | অনেক ধর্মের বিনাশ হয়ে এক ধর্মের স্থাপনা হয় | তোমরা বাচ্চারা বাবার সহযোগী হয়ে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছ | তোমরা স্বর্গের মালিক হওয়ার লায়ক হয়ে যাবে তখন বিনাশ শুরু হয়ে যাবে | এটা হলো শিববাবার জ্ঞান যজ্ঞ তারপর শিব বলো বা রুদ্র বলো | কৃষ্ণ জ্ঞান যজ্ঞ কখনো বলা হয় না | সত্যযুগ ত্রেতাতে কখনো যজ্ঞ হয় না | যজ্ঞের রচনা তখন হয় যখন উপদ্রব হয় | অনাজ হবে না বা লড়াই লেগে যায় তখন যজ্ঞের রচনা করা হয় শান্তির জন্যে | তোমরা বাচ্চারা জানো – বিনাশ হওয়া ছাড়া ভারতে স্বর্গ হতে পারে না | ভারত মাতা শিবশক্তি সেনার গায়ন আছে | বন্দনা পবিত্ররই করা হয় | তোমরা মাতাদেরকে বন্দে মাতরম বলা হয় কারণ তোমরা শ্রীমতে ভারতকে স্বর্গ বানিয়েছ | এখন বাবা বলে মৃত্যু তো সকলের মাথার ওপরে আছে তাই এখন এই একটা জন্ম পবিত্র হও আর বাবাকে সরণ করো তাহলে তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে | এখন তোমরা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়ে তারপর দেবতা হবে, এটা কোনো নতুন কথা নয় | কল্প-কল্প প্রত্যেক ৫ হাজার বছর পড় এই চক্র ফিরতেই থাকে | নরক থেকে স্বর্গ হয় | পতিত দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু কর্ম করে সেগুলো বিকর্মই হয় | বাবা বলে – ৫ হাজার বর্ষ আগেও তোমাদের কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি বুঝিয়েছি | এখন আবার তোমাদেরকে বোঝাচ্ছি | আমি পরমপিতা পরমাত্মা নিরাকার হলাম তোমাদের বাবা | এই শরীর, যার আমি আধার নিয়েছি, এ কোনো ভগবান নয় | মনুষ্যকে দেবতাও বলা হবে না | তো মনুষ্যকে ভগবান কেমন করে বলা হবে | বাবা বোঝায়, তোমরা ৮৪ জন্ম নিতে-নিতে সিড়ি নেমে এসেছ, ওপরে কেও যেতে পারে না | সকলে পতিত হওয়ারই রাস্তা বলে, নিজেরাও পতিত হতে থাকে | তখন বাবা বলে তাদেরও উদ্ধার করার জন্যে আমাকে আসতে হয় | এটা হলো রাবণ রাজ্য | তোমরা এখন রাবন রাজ্য থেকে বের হয়ে এসেছ | ধীরে-ধীরে সকলে জেনে যাবে | ব্রাহ্মন হওয়া ছাড়া শিববাবার থেকে বর্ষা প্রাপ্ত হতে পারে না | বাবা আছেই দুটো | এক নিরাকার বাবা, এক সকারী বাবা | বর্ষা প্রাপ্ত হয় এক সাকারী বাবার থেকে সাকারী বাচ্চাদের আর তারপর নিরাকারী বেহদের বাবার থেকে বর্ষা প্রাপ্ত হয় নিরাকারী আত্মাদের | এখন তোমরা বাচ্চারা জানো – মিষ্টি-মিষ্টি শিববাবার থেকে আমরা ২১ জন্মের জন্যে সুখ্ধামের বর্ষা নেওয়ার জন্যে এসেছি | বিশ্বের মালিক হই যোগবলের দ্বারা | কোনো হাতিয়ার ইত্যাদি নেই | তো বাবার থেকে যোগ লাগিয়ে বিকর্ম বিনাশ করে বিষ্ণুপুরীর মালিক হই | এখন অমরলোকে যাওয়ার জন্যে অমরকথা সুনছি | ওখানে অকালে মৃত্যু কখনো হয় না | দুঃখের নাম-চিহ্ন নেই | তোমরা বাচ্চারা এসেছ বেহদের বাবার শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ট থেকে শ্রেষ্ট দেবী-দেবতা হতে | এটা কোনো সাস্ত্রের জ্ঞান নয় | দেখানো হয় বিষ্ণুর নাভি থেকে ব্রহ্মা বের হয় | তার হাতে তারপর সস্ত্র দেওয়া হয় | বাবা বলে – ব্রহ্মার দ্বারা আমি তোমাদের সারা রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনাচ্ছি | আমি হলাম জ্ঞানের সাগর | গান করে জ্ঞান সূর্য প্রগট হয় ... অজ্ঞান অধকারের বিনাশ | সত্যযুগে অন্ধকার হয় না | ওটা সত্যখন্ড ছিল তো ভারত হীরের মতো ছিল, হিরে জহরতের মহল বানানো হতো | এখন মনুষ্যের তো পুরো খাবারের প্রাপ্তিও হয় না | ইনসলভেন্ট বিশ্বকে আবার সলভেন্ট কে বানাবে ! এটা হলো বাবারই কাজ | বাবারই দয়া হয় | বলে তোমাদের রাজযোগ সেখাতে এসেছি | নর থেকে নারায়ণ, নারী থেকে লক্ষী বানাই | ভক্তদের রক্ষক হলো বাবা | তোমাদের রাবনের জেল থেকে ছাড়িয়ে সুখধামে নিয়ে যাই সারা দুনিয়াতে যারা ব্রাহ্মন হবে তারা দেবতা হবে | ব্রহ্মার নামও প্রসিদ্ধ আছে – প্রজাপিত ব্রহ্মা | তোমরা ব্রাহ্মনেরা হলে সব থেকে উত্তম, তোমরা ভারতের সত্যিকারের রুহানি সেবা করছ | বাবার সরণের দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হবে | আর কোনো রাস্তা নেই – পতিত থেকে পাবন হওয়ার | ইয়াদের থেকেই খাদ ভস্য হবে | সোনার লোকেরা জানে সত্যিকারের সোনা, মিথ্যা সোনা কেমন করে তৈরী হয় | ওতে চান্দি-তম্বা-লোহা দেওয়া হয় | তোমরাও আছে তমোপ্রধান ছিলে তারপর তোমাদের মধ্যে খাদ পরে, তমোপ্রধান হয়ে গেছ | এখন আবার সতপ্রধান হতে হবে তখন সত্যযুগে যেতে পারবে | বাবা বলে – কোনো দেহধারীকে সরণ করবে না | গৃহস্থ ব্যবহারে থাকা সত্তেও এক বাবা ছাড়া আর কারো সরণ করবে না তাহলে তোমরা স্বর্গপুরীর মালিক হয়ে যাবে | স্বর্গ অথবা বিষ্ণুপুরি ছিল, এখন রাবনপুরী আছে | আবার বিষ্ণুপুরী হবে অবশ্যই | সাধু-সন্ত ইত্যাদি সকলের উদ্ধার করার জন্যে আসি, তাই জন্যই বলা হয় য়াদা য়াদাহি ধর্মস্য ... এটা হলো ভারতেরই কথা | সকলের সত্গতি দাতা হলাম আমি এক শিব বাবা | শিব, রুদ্র সব হলো তারই নাম, অথহ নাম রেখে দিয়েছে | বাবা বলে – আমার আসল নাম তো হলো একটাই – শিব | আমি হলাম শিব, তোমরা হলে শালিগ্রাম বাচ্চারা | তমরা অধাকল্প দেহ-অভিমানী থেকেছ | এখন দেহী-অভিমানী হও | এক বাবাকে জানলে বাবার দ্বারা তোমরা সব কিছু জেনে যাও | মাস্টার জ্ঞান সাগর হয়ে যাও | আচ্ছা -

aমিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি(সিখিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা বাসা আর গুড মর্নিং | রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে নমস্কার |

ধারণার জন্য মুখ্য সার :

১) শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ দেবতা হতে হবে | সারা বিশ্বের সত্যিকারের রুহানি সেবা করতে হবে | আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনাতে বাবার পুরো সহযোগী হতে হবে |

২)আত্মাকে সত্যিকারের সোনা বানানোর জন্যে এক বাবা ছাড়া কোনো দেহধারীকে স্মরণ করবে না | পারলৌকিক বাবার সাথে সত্যিকারের প্রীত রাখতে হবে |

বরদান : 

শক্তির কিরণের দ্বারা দুর্বলতা (কমী কমজোরী) রুপী আবর্জনাকে ভস্ম কারী মাস্টার জ্ঞান সূর্য ভব !

যে সব বাচ্চারা হলো জ্ঞান সূর্যের সমান মাস্টার সূর্য তারা নিজেদের শক্তির কিরণের দ্বারা যে কোনো প্রকারের আবর্জনা অর্থাৎ দুর্বলতাকে(কমী বা কমজোরী) , সেকেন্ডে ভস্ম করে দিতে পারে | সূর্যের কাজ হল আবর্জনাকে এমন ভাবে ভস্ম করে দেওয়া যাতে তার নাম, রূপ, রং সদাকালের জন্যে সমাপ্ত হয়ে যায় | মাস্টার জ্ঞান সূর্যের প্রত্যেকটি শক্তি অনেক চমত্কার করতে পারে কিন্তু সময়ে ব্যবহার করা আসতে হবে | যে সময় যে শক্তির প্রয়োজন হবে ওই সময় ওই শক্তির দ্বারা কাজ নাও আর সকল দুর্বলতাকে (কমজোরীকে) ভস্ম করো তখন বলা হবে মাস্টার জ্ঞান সূর্য |

স্লোগান : 

গুণের প্রতিমূর্তি হয়ে নিজের জীবন রূপী ফুলের বাগানে দিব্যতার গন্ধ ছড়িয়ে দাও |

***OM SHANTI***

Google+ Followers