BK Murli 6 June 2016 Bengali

BK Murli 6 June 2016 Bengali

 ০৬-০৬-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এই ধরায় এসেছেন তোমাদের বাচ্চাদের সেবা করার নিমিত্তে , তোমরাও বাবার মতো হয়ে এই দুনিয়ার সকলের সেবা করো l "

প্রশ্ন :- 

ব্রহ্মাবাবার কোন্ বিষয়ের উপর নিজের মনে সর্বক্ষণ বিচার চলতে থাকতো , যা দেখে শিববাবা বলতেন , অপেক্ষা করো এবং দেখতে থাকো , কোনো চিন্তা কোরো না l

উত্তর :-

 বাবার মনে এই বিচার চলতো যে বর্তমান সময় এখন খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে , বাচ্চাদের অবিনাশী জ্ঞান রত্ন ধারণ করার জন্য বাবার কাছে আসতেই হবে , এতো বাচ্চারা এখানে এসে কোথায় থাকবে l কতো নতুন বাড়ি তৈরী করতে হবে l শিববাবা বলছেন , অপেক্ষা করো আর দেখতে থাকো l আগের কল্পেও যেভাবে এসে বাচ্চারা একসঙ্গে ছিলো , এবারও ঠিক তেমনি থাকবে l তুমি চিন্তা কোরো না , তুমি নিজের এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনায় মগ্ন থাকো আর "মনমানাভব "অর্থাত্ বাবার স্মরণে থাকো l তোমাকে কর্মাতীত হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে l

গীত :- 

"তুমহে পাকে হামলে সারা জাহা পা লিয়া"..........
তোমায় পেয়ে আমি নিখিল বিশ্ব পেয়ে গেছি...

ওম্ শান্তি l 

বাবাও বলেন বাচ্চারা , ওম্ শান্তি l আর কি বলবেন l বাবা বাচ্চাদের বলেন বাচ্চারা , ওম্ শান্তি , "তত ত্বম্ ", তুমিও আমারই মতন অর্থাত্ আমরা একই গুণের অধিকারী l হে বাচ্চারা , তোমরাও আমারই মতো শান্তস্বরূপ l তোমরাও হলে মাস্টার পতিত পাবন l এমন আর কেউই তোমাদের বলেন না l এই কথা দুনিয়ায় প্রচলিত যে যেমন বাবা তেমনই তার বাচ্চা l তোমরা বাচ্চারাও এখন তাই জানো , যেমন আমাদের বাবা , ঠিক তেমনই তাঁর মতো গুণসম্পন্ন আমরা বাচ্চারা l বাবা বলেন যে আমি হলাম জ্ঞানের সাগর l তোমরা বাচ্চারাও বুঝবে যে তোমরা হলে মাস্টার জ্ঞান সাগর অর্থাত্ নদীর মতো l সাগরের তো অনেক সন্তান সন্ততি থাকে l বড় বড় নদী থাকে , বড় বড় পুকুর বা সরোবরও থাকে l ওইগুলো হলো জড় বস্তু আর তোমরা হলে চৈতন্ন আত্মা l সাগর বাবার থেকেই তোমরা এসেছো l অনেক বাচ্চারা আবার এই কথা ঠিকমতো বুঝতে পারে না কারণ তারা ঠিকমতো এই ঈশ্বরীয় পড়া করে না l বাবা একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন , চিনি কিসের থেকে তৈরী হয় ? গুড়ই বা কিসের থেকে তৈরী হয় ? তখন কেউ কেউ বলেছিল , লাল আখ থেকে গুড় আর সাদা আখ থেকে চিনি তৈরী হয় l তো এই কথা কাজে লেগে গেছে l এখন তোমাদের আমি কতো বড় কথা বুঝিয়ে বলছি l সাগরের জল থেকে কোনো নদীর জল তৈরী হতে পারে l মানুষ তো অনেক বেড়ে গেছে , তাই জলেরও অনেক প্রয়োজন l তাই কতো খালবিলও তৈরী করা হয় l সুতরাং তোমাদের বাচ্চাদের উঠতে বসতে , চলতে ফিরতে এই কথাই স্মরণে রাখতে হবে যে , তোমরা এই পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানানোর দ্বায়িত্ব নিয়েছো l গানের মাধ্যমেও তোমরা বাবাকে বলো , বাবা আমরা তোমার থেকে এই বিশ্বের বাদশাহীর বর্ষা গ্রহণ করছি l এই সম্পত্তি আমাদের থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না l 21 জন্মের জন্য আমাদের এই রাজত্ব বজায় থাকবে l বেহদের বাবা এসে আমাদের এই বেহদের রাজ্য ভাগ্য দিয়ে থাকেন l তিনিই আমাদের এই রাজত্ব চালাবার অধিকারী বানান l আবার তিনিই আমাদের পবিত্র বানান l আমরা তো তাঁকেই ডাকি যে , হে পতিতপাবন এসো l কৃষ্ণকে কিন্তু কেউ এইকথা বলে না l নিরাকার ভগবান শিববাবাকেই সবাই ডাকে l যখন পতিত পাবন বলে সবাই বাবাকে ডাকে তখন বুদ্ধি কিন্তু কৃষ্ণকে স্মরণ করে না , নিরাকার পরমাত্মা শিববাবাকেই স্মরণ করতে থাকে l বাবা এসে তোমাদের প্রত্যেকটি কথা বুঝিয়ে বলেন l এখন তোমরা বাচ্চারা বাবার সামনেই বসে আছো l এটা কিন্তু কোনো সাধু সন্তর প্রতিষ্ঠান নয় l তোমরা সকলেই জানো যে নিরাকার শিববাবা এই ব্রহ্মার শরীরে প্রবেশ করে তোমাদের এই শিক্ষা দেন l পরমপিতা পরমাত্মা , ব্রহ্মার শরীরকে আশ্রয় করে এই আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা করেন এই ধরনের গায়নও প্রচলিত আছে l নতুন স্থাপনার পরেই বিনাশের কার্য শুরু হয় l এর থেকে এই কথাই সিদ্ধ হয় যে বাবা এই পুরোনো দুনিয়াতে এসেই স্থাপনার কার্য সম্পাদন করেন l ব্রহ্মার দ্বারা বাবা স্থাপনার কার্য করেন আর শঙ্করের দ্বারা অনেক ধর্মের বিনাশ করান l সত্যযুগে একই ধর্ম ছিলো কিন্তু এখন তো ধর্ম অনেক ভাগে বিভক্ত l এক ধর্মের দেবী দেবতাদের চিহ্ন চক্র হিসাবে দেখানো হয় l এই লক্ষ্মী নারায়ণকে বিশ্বের মালিক বলা হয় l যিনি স্বর্গের মালিক তিনিই তো এই বিশ্বের মালিক হবেন , কারণ স্বর্গ তো এই পৃথিবীতেই l এই কথা এখন তোমরা বাচ্চারা বুদ্ধিতে ধারণ করতে পেরেছো l বাবা বলেন যে বাচ্চারা , " মনমানাভব "l অর্থাত্ মন আমাতে লাগাও l প্রতি মুহূর্তে বাবা বাচ্চাদের এই সাবধানী দেন l বাচ্চারা , তোমরা বাবাকে আর তাঁর বর্ষাকে স্মরণ করো l এই কথা তোমরা ভুলো না আর বাবার শ্রীমতের সূত্রকেও ভুলো না l এটাই মুখ্য কথা l শিববাবা হলেন পতিত পাবন l তিনি তোমাদের পবিত্র হওয়ার সব যুক্তি বলে দেন l বাবা বলেন যে তোমরা একসময় সতোপ্রধান ছিলে l আর এখন তোমরা তমোপ্রধান পতিত হয়ে গেছো l তোমরাই পুরো ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছো l এখন আবার তোমাদের সতোপ্রধান হতে হবে l সতোপ্রধান হলেই তোমরা পবিত্র দুনিয়ায় যাওয়ার অধিকারী হবে l নিরাকারী দুনিয়া অর্থাত্ শান্তিধাম ও পবিত্র , আবার সাকারী দুনিয়া অর্থাত্ সত্যযুগও পবিত্র l এই কলিযুগ হলো অপবিত্র পতিত দুনিয়া l যেহেতু এখন তোমাদের আত্মা তমোপ্রধান তাই শরীরও তমোপ্রধান হয়ে গেছে l এ হোলো সৃষ্টিচক্রের নাটক , এর মধ্যে ব্রহ্মাণ্ড এবং সূক্ষ্মবতনও থাকে l সৃষ্টিচক্র এই পৃথিবীতেই আবর্তিত হয় l সত্যযুগ আর ত্রেতাযুগ এখানেই হয় l সূক্ষ্মবতন বা মূলবতনে কিন্তু হয় না l এই চার যুগ এই পৃথিবীতেই হতে থাকে l একে মনুষ্য সৃষ্টিও বলা হয় l মূলবতন হলো আত্মাদের নিরাকারী দুনিয়া l আর সূক্ষ্মবতন হলো ব্রহ্মা , বিষ্ণু এবং শঙ্করের আকারী দুনিয়া l এই সাকারী সৃষ্টি দেখো কতো বড় l কিন্তু সত্যযুগে সৃষ্টিতে কতো অল্পসংখ্যক মানুষ থাকবে l সেখানে এক ধর্ম থাকবে l বাকি মানুষ যা বলে সত্যযুগে দৈত্য আদি ছিলো , দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধ হতো , এ সকলই ভুল কথা l তোমরা জানো যে নতুন দুনিয়ার স্থাপনা আর পুরোনো দুনিয়ার বিনাশ তো বলাই আছে l সবার বিনাশ হবে আর সত্যযুগে স্বর্গ রাজ্যের স্থাপনা হবে l তোমরাও বাবাকে এইকাজে সাহায্য করো l বাবাও বাচ্চাদের সাহায্য করতেই আসেন l ইনি হলেন বেহদের বাবা , শিববাবা l তিনি দেখেন যে তাঁর বাচ্চারা খুবই দুঃখী হয়ে পড়েছে তাই তাঁর খুব দয়া হয় l শিববাবা হলেন তোমাদের দয়ালু বাবা l এখন তো সারা দুনিয়ায় খুবই অশান্তি চলছে l তাই এক বাবা ছাড়া আর কেউই শান্তি দিতে পারবে না l হটযোগী তো অনেক আছে l আত্মার সম্বন্ধে সবাই বলে যে , আত্মা সবসময় নির্লিপ্ত থাকে l সাধারণ মানুষকে অনেক উল্টো কথা বোঝানো হয় l বাস্তবে আত্মারই শুদ্ধতা দরকার l আত্মাতেই খাদ লাগে এটা কেউই জানে না l এমনিই মানুষ বলে এ হলো পাপ আত্মা l এ অনেক পাপ করেছে l আর ইনি হলেন মহাত্মা বা পূণ্যাত্মা l কিন্তু মহান পরমাত্মা এই কথা তো বলা হয় না l সন্ন্যাসীদের জন্য আবার বলা হয় এনারা হলেন পবিত্র আত্মা কারণ এনারা সন্ন্যাস ধর্ম নিয়েছেন l এখন বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন যে .........একমাত্র পরমাত্মা শিববাবা ছাড়া আর কেউই আত্মাকে পবিত্র বানাতে পারে না l এই পতিত দুনিয়াতে পুরোপুরি পবিত্র কোনো আত্মাই থাকতে পারে না l এখন তোমাদের মধ্যে জ্ঞানের বা পবিত্রতার চারাগাছ লাগানো হয়েছে l আস্তে আস্তে এই চারাগাছ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে l এখন তো অনেক ছোটো ছোটো মঠ , বা ধর্মের অনেক পথ রয়েছে l এখানে কোনো পরিশ্রমের প্রয়োজন পরে না l এরা অনেক প্রকার মন্ত্র বা বিভিন্ন দেবদেবীর মন্ত্র দিয়ে থাকে l এগুলোও একধরনের বশীকরণ মন্ত্র , এর দ্বারাও পাঁচ বিকারের উপর জয় প্রাপ্ত করা যায় l অনেকে রাম রাম মন্ত্র জপ করে l এর দ্বারা খুব বেশী উপকার হয় না l তাই বাবা বলেন যে একমাত্র আমাকেই স্মরণ করো তাহলেই তোমাদের পাপের বিনাশ হবে l তোমরা পবিত্র আত্মায় পরিণত হবে l বাবার স্মরণকেই যোগ বলা হয় l ভারতের প্রাচীন যোগের খুবই মহিমা আছে l এই যোগের দ্বারাই তোমরা বিশ্বের উপর বিজয় লাভ করতে পারো l ভারতের রাজযোগ খুবই বিখ্যাত l এই যোগ এক শিববাবা ছাড়া আর কেউই শেখাতে পারেন না l তোমারই হলে ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারী l এই সঙ্গম যুগেই তো বী .কে হবে তাই না ? প্রজাপিতা ব্রহ্মার বাচ্চারা তো ব্রহ্মার সঙ্গেই থাকবে l কারণ ব্রাহ্মণ কুল তো অবশ্যই চাই l একেই বলা হয় সর্বোত্তম বা সর্ব্বোচ্চ ব্রাহ্মণ কুল l এখন তোমরা ব্রাহ্মণ , কিন্তু পরে আবার তোমাদের পরিবর্তন হবে l বাজোলী ( ডিগবাজী ) খেলা আছে না l তোমরা শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছো , এর পরে আবার দেবতা , ক্ষত্রিয় ........এইভাবে ঘুরতে থাকবে l তাই বাবা বলেন যে মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা , খুব অল্পই কথা যে তোমরা বাবাকে স্মরণ করো l এই কথা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে বাবা তোমাদের ৮৪ জন্মের রহস্য বলছেন l ৮৪ লাখ বা ৮৪ জন্মের হিসাব তো তোমাদের জানা চাই l কেউই এটা সঠিক জানে না l ৮৪ লাখ জন্মের হিসাব তো কেউ বলতেই পারবে না l মানুষ মাত্র ৮৪ জন্মের চক্র লাগায় l আত্মারা পরমধাম থেকে এই দুনিয়াতে আসে অভিনয় করার জন্য l সত্যযুগ থেকে শুরু করে কলিযুগের অন্ত সময় পর্যন্ত আত্মারা উপর থেকে আসতেই থাকে l প্রত্যেক আত্মাই তাদের নিজের নিজের অভিনয় করতে থাকে l এইসব কথা কোনো মানুষই সঠিক জানে না l কেবলমাত্র বাবাই এই কথা জানেন l কোনো মানুষকে কখনো পরমপিতা বা গড ফাদার বলা হয় না l গড ফাদার বললে বুদ্ধি কিন্তু নিরাকার শিববাবার দিকেই যায় l কারণ শিববাবা আমাদের সকল জীব আত্মাদেরই বাবা l আত্মা এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর গ্রহণ করে l আমাদের নিরাকার বাবার নাম হলো শিব l তোমাদেরও একটাই নাম , আত্মা l কিন্তু তোমরা যখন শরীর ধারণ করো তখন তোমাদের অনেক নাম হয় l পরমপিতা পরমাত্মাও কিন্তু শরীরের মাধ্যমেই এই জ্ঞান শোনান l শরীর ছাড়া তিনি কি করে শোনাবেন l বাবা বলেন যে , এই ব্রহ্মাবাবার তো শরীরের নাম আছে , কিন্তু শিববাবার কোনো শরীর হয় না , তাই তাঁর কোনো আলাদা নামও হয় না l তিনি পুনর্জন্মও গ্রহণ করেন না l শিববাবা ব্রহ্মাবাবার মধ্যে প্রবেশ করেন , সেটা ব্রহ্মা বাবাও প্রথমে জানতেন না l এই প্রবেশ করার কোনো তিথি বা তারিখ তো ছিলো না l হ্যাঁ , অবশ্যই তিনি কল্পের অন্তে অর্থাত্ কলিযুগীয় রাতের সময়ই এখানে আসেন l এই সময় কে তো রাতই বলা হবে কারণ এ তো পতিত মানুষদের দুনিয়া l বাবা আসেনই পবিত্র দুনিয়া আর্থাত দিন বানানোর জন্য l ব্রহ্মা বাবাও জানতেন না যে শিববাবা তাঁর মধ্যে কবে প্রবেশ করেছিলেন l হ্যাঁ , ব্রহ্মা বাবা বিনাশের সাক্ষাতকার করেছিলেন l তিনি অনেক ধ্যান করতেন কিন্তু শিববাবার প্রবেশের কোনো তিথি , তারিখ সময় বলতে পারেন নি l মানুষ তো কৃষ্ণেরও কতো পুজো করে , আবার কৃষ্ণের জন্ম রাত্রে দেখানোর হয় l কখন জন্ম হয়েছে সেই সময় , মিনিটও দেখানো হয় l বাবা বলেন যে আমি হলাম নিরাকার l যেমনভাবে সব মানুষরা জন্মগ্রহণ করে , আমি তেমনভাবে জন্মগ্রহণ করি না l আমার জন্ম হলো দিব্য এবং অলৌকিক l আমি এই ব্রহ্মার মধ্যে প্রবেশ করি আবার আমার এই বিশ্ব পরিবর্তনের কাজ করে আবার চলে যাই l আমি কখনোই ষাঁড়ের উপর ঘুরে বেড়াই না l বাচ্চারা আমাকে যেই সময় ডাকে আমি সেই সময়ই হাজির হই l আমি এসে বাচ্চাদের সঙ্গে মিলিত হই তাদের সুপ্রভাতও জানাই l যেমনভাবে মানুষ একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে রাম রাম বা নমস্কার করে শুভেচ্ছা বিনিময় করে l এই কথা এখন তোমাদের আত্মার বাবা বা বেহদের বাবা এসে বোঝাচ্ছেন l তিনি বলছেন , আমি তোমাদের সব বাচ্চাদেরই বাবা l তাই শিববাবার সন্তান তোমরা সব বাচ্চারা হলে ভাই ভাই l এই খুশীর আনন্দ তোমাদের সবসময় থাকা উচিত l বেহদের বাবা এসে এখন তোমাদের বেহদের বর্ষা দিচ্ছেন , অর্থাত্ এই বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন l এতো বাচ্চাদের দেখে বাবাও অত্যন্ত খুশী হচ্ছেন l l বাচ্চারাও জানে যে বাবা তাদের স্বর্গের মালিক বানাচ্ছেন l রাজত্বের অধিকারী করছেন l তখন প্রজারাও বলবে ......এ আমাদেরই রাজ্য l যেমনভাবে ভারতবাসী বলে ভারতবর্ষ আমাদের দেশ l রাজা এবং প্রজা উভয়েই বলবে এ আমাদের রাজ্য l তোমরা বাচ্চারা এখন নরকবাসী , ভবিষ্যতে তোমরাই স্বর্গবাসী হবে l বাবা কেবল বলেন তোমরা বাবাকে আর তাঁর বর্ষাকে স্মরণ করো , তোমাদের আর কোনো কষ্ট করতেই হবে না l গৃহস্হ জীবনেই তোমরা থাকো , এখানে এসে থাকার তোমাদের কোনো প্রয়োজন নেই l সবাই যদি এই সেন্টারে চলে আসে তখন বাবা সবাইকে কেমনকরে রাখার ব্যবস্থা করবেন l এতো বাচ্চাদের কি করে একসাথে রাখা যাবে l সব সেন্টারের বাচ্চারা একবারে একসঙ্গে কি করে থাকবে l এতো খুবই মুশকিল l দিনে দিনে অনেক বাচ্চা বাড়তে থাকবে l এর জন্যও উপায় বার করতে হবে l আসেপাশের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে l বাড়ির মালিকদের জিজ্ঞেস করতে হবে তারা ভাড়া হিসাবে কত টাকা চান l কারণ প্রয়োজন হলে তো এই বাড়ি নিতেই হবে l পয়সার চিন্তা করলে তো হবে না l সময়ের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকেই যাচ্ছে l বাবা এবং বাচ্চারা উভয়েই অবিনাশী l বাবা তাই বাচ্চাদের অবিনাশী সম্পত্তি দান করেন l এখানে অনেক বাচ্চা ভবিষ্যতে আসবে l তাই বাবা বিচার করে দেখেন যে এতো বাচ্চাদের কোথায় রাখা হবে l বাবা বলেন যে তোমরা চিন্তা কোরো না l তোমরা অপেক্ষা করো এবং দেখতে থাকো l তোমরা তোমাদের পড়া করতে থাকো আর অবশ্যই বাবার স্মরণে থাকো অর্থাত্ " মনমনাভব "l তোমাদের বাচ্চাদের এই কথা যেন স্মরণে থাকে যে , এখন তোমাদের কর্মাতীত অবস্থা তৈরী করতে হবে সতোপ্রধানও হতে হবে l বাবার স্মরণ করলেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে l বাবা তো খুব সহজ করেই তোমাদের বোঝান l এ খুবই সহজ , কেবল বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l বাবা বলেন দেখো , যখন গরুর বাচ্চার অর্থাত্ বাছুরের তার মায়ের কথা মনে পরে ,তখন সে চিত্কার করে তার মাকে ডাকতে থাকে l এ তো হলো পশু l তোমরা বাচ্চারাও অনেককাল ধরে এই দুঃখের মধ্যে রয়েছো l আগে তোমরাও চিত্কার করে বাবাকে ডাকতে থাকবে , বাবাকে অনেক স্মরণ করতে থাকবে l তোমরা বাচ্চারা এখন জানো বাবা এসেছেন তাই বিনাশ তো এখন হতেই হবে l প্রকৃতিক বিপর্যয়ও অনেক আসবে l সবাই নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া করতে থাকবে l কতো খরচা করে মানুষ বোম্ব তৈরী করে , অনেক পয়সা এর পিছনে খরচা হয় l এতো টাকা কোথা থেকে আসছে l মানুষ মৃত্যুকেও ভয় পায় l কিন্তু তবুও তো বোম্ব বানানো তারা বন্ধ করে না l এই বোম্বএর যুদ্ধ চলতে থাকবে l এমন ভাবেই মানুষ বোম্ব তৈরী করে , যেখানে এই বোম্ব পড়বে , সেখানেই প্রচুর মানুষ মারা যাবে l এই বোম্ব তৈরী করতে আগে অনেক সময় লাগতো কিন্তু এখন খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে এই বোম্ব মানুষ তৈরী করতে পারে l খুব তাড়াতাড়ি এই বোম্ব এখন তৈরী হয় l এই বোম্ব কি খুব অল্প তৈরী হবে ? না l তোমরা বাচ্চারা জানো এই পুরোনো সৃষ্টির বিনাশ হবে l তাই এখন তোমাদের বেহদের শিববাবার থেকে বর্ষা নিতে হবে l গীতা হলো তোমাদের ভারতবাসীদের , দেবী দেবতা ধর্মের শাস্ত্র l বাকি তো অনেক ছোটো ছোটো শাস্ত্র আছে , যার গায়ন খুব একটা নেই l তোমাদের এই ব্রাহ্মণ ধর্ম হলো সর্ব্বোচ্চ l ব্রাহ্মণদের কাজই হলো মানুষদের ধর্মের কথা শোনানো l তোমরা বলতে পারবে যে আমরা ব্রহ্মাকুমার , কুমারীরা হলাম ব্রহ্মার সন্তান , তাই দাদার ( শিববাবা ) থেকে আমরা এই সম্পত্তির অধিকার পাই l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি ( সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা , বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদের প্রতি নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

1 ) নাটকের সব গুপ্ত রহস্যকে জেনে কোনো বিষয়েই কোনো চিন্তা করবে না l এই ঈশ্বরীয় পড়ার অভ্যাস তৈরী করবে l "মনমানাভব " হয়ে কর্মাতীত অবস্থা তৈরী করার প্রয়াস করতে হবে l নিজেকে তমোপ্রধান অবস্থা থেকে সতোপ্রধান অবস্থায় উন্নীত করতে হবে l

2 ) আমরা আত্মারা সকলেই শিববাবার সন্তান , তাই আমরা সকলেই ভাই - ভাই l শিববাবার থেকে আমরা সত্যযুগীয় বর্ষা বা সম্পত্তির অধিকার গ্রহণ করছি l এই খুশীতেই তোমাদের থাকতে হবে l

বরদান :- 

পরতন্ত্রতার বন্ধনকে সমাপ্ত করে সত্যিকারের স্বতন্ত্রতাকে অনুভব করে মাস্টার সর্বশক্তিমান হও ( ভব ) l

এই বিশ্বকে সর্বশক্তির দান দেবার জন্য স্বতন্ত্র আত্মা হও l সর্বপ্রথম স্বতন্ত্রতা হলো শরীরের সর্ব সম্বন্ধের প্রতি কারণ পরতন্ত্রতা তোমাদের না চাওয়া সত্বেও অনেক বন্ধনে বেঁধে রাখে l পরতন্ত্রতা সর্বদা আধোগতির পথেই নিয়ে যায় l যার ফলে দুশ্চিন্তা এবং নীরস স্থিতির অনুভব হতে থাকে l এই পরিস্থিতি তৈরী হলে কোনোরকম অবলম্বন তোমরা খুঁজে পাবে না l না দুঃখের অনুভব , না সুখের অনুভব এইরকম স্থিতি তৈরী হয় l তাই মাস্টার সর্বশক্তিমান হয়ে সর্ব বন্ধন থেকে মুক্ত হও , নিজের সত্যিকারের স্বতন্ত্রতা দিবস পালন করো l


স্লোগান :- 

পরমাত্ম মিলনের দ্বারা সর্ব প্রাপ্তির আনন্দ অনুভব করার জন্য সন্তুষ্ট আত্মা হও l


***OM SHANTI***

Google+ Followers