BK Murli 11 July 2016 Bengali

BK Murli 11 July 2016 Bengali

 ১১-০৭-১৬ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দিয়ে তোমাদের বাচ্চাদের ঝুলি ভর্তি করতে , এই এক একটি জ্ঞান রত্ন লাখ টাকার সমান l "

প্রশ্ন :- 

গুপ্ত দানের এতো মহত্ব কেন ?

উত্তর :- 

কেননা শিববাবা তোমাদের এখন গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান করছেন , এই গুপ্ত দানের কথা এই দুনিয়ার লোক কেউ জানে না , এই গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান যদি তোমরা দুনিয়ার মানুষকে করো, তাহলে তোমরা এই বিশ্বের রাজত্বের অধিকারী হবে l এটা সম্পূর্ন গুপ্ত কারণ এখানে কোনো লড়াই ঝগড়া নেই , যুদ্ধের জন্য কোনো বারুদ নেই, আর এই দানে কোনো খরচাও নেই l গুপ্ত রীতিতেই বাবা তোমাদের এই বিশ্বের রাজত্বের দান দিচ্ছেন, তাই গুপ্ত দানের এতো মহত্ব l

ডবল ওম্ শান্তি l 

একটা শিববাবা বলছেন আর একটা ব্রহ্মাবাবা বলছেন l দুজনেরই স্বধর্ম হলো শান্তি l দুজনেই কিন্তু শান্তিধামে থাকেন l তোমরা বাচ্চারাও সেই শান্তিধামে থাকো l নিরাকার দেশে থাকা তোমরা আত্মারা এই সাকারী দুনিয়ায় আসো অভিনয় করার জন্য কেননা এটা হলো বিশ্বনাটক l উপর থেকে নীচে অবধি অর্থাত্ সত্য যুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত এই বিশ্ব নাটকের আদি, মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান তোমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এখন আছে l উঁচুর থেকে উঁচু হলো ভগবান,এবং তাঁর সঙ্গে তোমরা বাচ্চারা আছো l এই কথাকে খুব ভালো করে বোঝো l তোমরা ছাড়া এই অবিনাশী জ্ঞান আর কারোর মধ্যে নেই l তোমরা সবাই ঈশ্বরীয় স্কুলে পড়াশোনা করো l ভগবানুবাচঃ হল- ভগবান একজন l ১০ বা ২০ জন ভগবান হতে পারে না l সমস্ত ধর্মের যতো আত্মাই আছে সকলেরই বাবা একজনই l তবুও শিববাবা যখন এই সৃষ্টি রচনা করেন তখন প্রজাপিতা ব্রহ্মার নামই হয় l শিববাবাকে কখনোই প্রজাপিতা বলা হয় না l আবার এই প্রজারা কিন্তু জন্ম মরণে আসে l আত্মারা তাদের সংস্কারের আধারেই এই জন্ম মরণ চক্রে আসে l এইজন্য প্রজাপিতা ব্রহ্মারও প্রয়োজন l পরমপিতা পরমাত্মা প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা এই সৃষ্টি রচনা করেছিলেন , এমন গায়নও আছে l হে পতিতপাবন এসো .......এই বলে তাঁকে ডাকাও হয় l যখন এই দুনিয়া পতিত হয়ে তার অন্ত সময় উপস্থিত হয়, তখনই বাবা আসেন তোমাদের পতিত থেকে পবিত্র বানাবার জন্য l এখন তোমরা জেনে গেছো যে বাবা এই পৃথিবীতে একবারই আসেন এবং তিনি কখন আসেন l এখন তোমাদের এইসব জ্ঞান হয়েই গেছে l তোমরা তো সকলেই এই নাটকের অভিনেতা l এই নাটকের অভিনেতাদের অবশ্য করে সবার পার্টই জানা উচিত যে কার কি কি ধরনের পার্ট আছে l পৃথিবীতে যে নাটক অভিনীত হয় সে হলো ছোটো এই ভৌতিক জগতের (হদের) নাটক, তা সবাই জানে l তোমরাও গিয়ে সেই নাটক দেখে আসো l সেই নাটক তোমরা লিখতেও পারো, আবার মনে রাখতেও পারো l সেই নাটক হলো ছোটো l আর এ হলো বিশাল বড় অসীমের (বেহদের) নাটক, যাতে তোমরা সত্যযুগের শুরু থেকে কলিযুগের শেষ অবধি জানতে পারো l এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে, বেহদের শিববাবার থেকে তোমরা এই বেহদের বর্ষা বা সম্পত্তি পাও l আবার এই হদের বাবা অর্থাত্ জন্মদাতা বাবার থেকে তোমরা এই পৃথিবীর সম্পত্তি বা হদের সম্পত্তি পাও l বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন যে এক জন্ম প্রচুর দানপূণ্য করলে এক জন্মের জন্য রাজা হওয়া যায় l এমন নয় যে পরের জন্মেও তারাই আবার রাজা হবে l তোমরা তো সত্যযুগে রাজা মহারাজা ছিলে l এমন নয় যে সেই রাজত্ব তোমাদের এক জন্মেই শেষ হয়ে যেতো, আবার ভক্তিমার্গে এসে তোমাদের মধ্যে যারা প্রচুর দানপূণ্য করে তারা আবার রাজা হতে পারে l কিন্তু এই ভক্তিমার্গের রাজা হলো বিকারী রাজা l তোমরা যারা পূজ্য ছিলে তারাই আবার পূজারী হও l কিন্তু সেই সুখ হলো অল্পকালের সুখ l দুঃখ কিন্তু তোমরা এখন পেয়ে থাকো l কিন্তু তোমাদের এই তমোপ্রধান অবস্থাতেও তোমরা সুখী থাকো কারণ তোমাদের মধ্যে কোনো লড়াই ঝগড়া থাকে না l লড়াই ঝগড়া তো অনেক পরে যখন লাখ লাখ লোক হয়ে যায় তখন শুরু হয় l তোমাদের বাচ্চাদের সত্য, ত্রেতা এবং দ্বাপরে সুখই সুখ থাকে l যখন তমোপ্রধান অবস্থা শুরু হয় তখন তোমাদের অল্প দুঃখ আসে l এখন তো পুরোপুরি তমোপ্রধান অবস্থা l বাবা বলেন যে এই দুনিয়া হলো তমোপ্রধান দুনিয়া l তোমরা জানো যে, এ হলো বেহদের নাটক, এর থেকে কেউই মুক্ত হতে পারে না l মানুষ যখন দুঃখে জর্জরিত হয়ে পরে তখন বলতে থাকে যে ভগবান এমন খেলা কেন রচনা করেছিলেন l যদি ভগবান এই রচনা না করতেন তাহলে এই দুনিয়া থাকতো না আর এসব কিছুই হতো না l রচয়িতা আর তাঁর রচনা দুটোই তো আছে l সত্যযুগ থেকে কলিযুগের বিস্তারিত সময় , আর এখন খুবই অল্প সময় বাকি আছে l তোমরাও এই শেষ সময় প্রত্যক্ষ করবে l প্রথমে তো এই ঘটনা দেখানো হবে না l ৫০০০ বছর শেষ হতে খুব সামান্য সময় বাকি আছে l এখন অল্প দেখবে , কিন্তু যখন বিনাশের ঘটনা ঘটবে তখন তোমরা সাক্ষী হয়ে সব দেখবে l যা আগের কল্পে ঘটেছিল সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হবে l তোমরা তো দেখছোই সেই বিনাশের তৈরী এখন হচ্ছে l এই বিনাশ তো অবশ্যই হবে l সেই সমস্তকিছুই তৈরী হচ্ছে l এই সমস্ত ঘটনাই এই বিশ্বনাটকে লিপিবদ্ধ আছে l তাই এই বিনাশ হবেই l বাবা বলেন জে তোমাদের আত্মা তমোপ্রধান হয়ে গিয়েছিলো , তাকে আবার সতোপ্রধান হতে হবে l তোমরা এখন এই কথাটা খুব ভালো করে বুঝেছো l
শিববাবা তোমাদের কাছে গুপ্তরূপে আসেন , আবার গুপ্তভাবেই তিনি তোমাদের জ্ঞান দেন l এই দুনিয়ার কেউই তা জানে না l গুপ্ত রীতিতেই তোমরা এই দুনিয়ার রাজত্ব গ্রহণ করো, কেউ জানতেই পারে না l একে গুপ্ত দানও বলা হয় l শিববাবা এসেই বাচ্চাদের এই অবিনাশী জ্ঞান রত্নের গুপ্ত দান দেন l তোমাদের শিববাবাও গুপ্ত থাকেন , কেউই তাঁকে জানতে পারে না l ব্রহ্মাকুমার, কুমারীরা কোথায় যায়, তারা কি করে, দুনিয়ার মানুষ কিছুই বুঝতে পারে না l তোমরা বাচ্চারা জানো, শিববাবা নিজেকে কতোখানি গোপন রাখেন l তোমাদের বাচ্চাদের তিনি গুপ্তভাবেই এই বিশ্বের মালিক বানান l এই বিশ্বের মালিক বানাবার জন্য কোনো লড়াই, বারুদ বা কোনো টাকাপয়সার প্রয়োজন পরে না l আর এই দুনিয়ায় ছোটো একটি গ্রাম দখল করবার জন্যও কতো ঝগড়া, মারামারি চলতেই থাকে l তাই শিববাবা এসেই তোমাদের এই গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান দেন l এই অবিনাশী জ্ঞানরত্ন দিয়ে তোমাদের ঝুলি তিনি ভর্তি করে দেন l এই কথাও বলা হয় যে, "শিব ভোলা ভাণ্ডারী, ভরে দেন ঝুলি l" 
তোমরা সবাই জানো যে, শিববাবা তোমাদের ঝুলি অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দিয়ে ভরে দিচ্ছেন l এই এক একটি রত্ন লাখ টাকার সমান l তোমরা কতো রত্ন মানুষকে দান করো l তাহলে তোমরা কতো বড় মহাদানী l এটাও একটা গুপ্ত কথা l ভক্তিমার্গে দেবতাদের অনেক হাত আর সেই হাতে অনেক অস্ত্রশস্ত্র দেখানো হয় l বাস্তবে এইসব কিছুই থাকে না l সত্যযুগে দেবতাদের এতো হাত, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি থাকবে না l কলিযুগে দেবতাদের হাতে কতো অস্ত্রশস্ত্র দেখানো হয় l বিনাশের জন্য বোম্ব তৈরী আছে তবে তলোয়ার , বাণ ইত্যাদির কি প্রয়োজন l তোমরা বলো জ্ঞানের খড়গ, জ্ঞানের তলোয়ার, সেইগুলোই এই দুনিয়ার মানুষ হাতিয়ার হিসাবে দেখিয়ে দিয়েছে l আসলে এইগুলো কিছুই থাকে না দেবতাদের হাতে l তোমরা বাবার কাছ থেকে গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান পাও l এই গুপ্ত দান তোমরা আবার সবাইকে দাও l তোমরা জানো যে শিববাবা তোমাদের শ্রীমত দান করেন, আর এই শ্রীমত শিব ভগবানেরই l তোমরা জানো যে তোমরা এই ঈশ্বরীয় বিদ্যালয়ে এসেছো নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য l নারায়ণকে সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ন দৈবী গুণধারী বলা হয় l দৈবীগুণ দেবী দেবতাদের মধ্যে থাকে তারপর ধীরে ধীরে কলা কমতে থাকে l যেমন পূর্ণ চন্দ্রের কিরণ সুন্দর হয়, তারপর তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে l কমে কমে সেই চন্দ্র সরু লাইনের মতো হয়ে যায় l পুরো চাঁদই প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায় lসরু রেখার মতো যখন হয়, তাকে অমাবস্যা বলা হয় l এখন তোমাদের হলো বেহদের কথা l তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ন তৈরী হচ্ছো l শাস্ত্রে দেখানো হয় যে কৃষ্ণের মুখে মায়েরা চাঁদকে দেখতে পেতেন l এ হলো সাক্ষাৎকারের কথা, যাকে বাবা তোমাদের বুঝিয়ে বলেন l এখন তোমাদের সম্পূর্ণ হতে হবে l চারিদিকে মায়ার সম্পূর্ণ গ্রহণ লেগে আছে l যেটুকু সীমারেখা বাকি আছে তা সিঁড়ি নামতে নামতে একেবারে নীচে নেমে এসেছে l সবাইকেই এই সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে হবে , তারপর সবাইকে ঘরে ফিরে যেতে হবে l তোমরা এখন অল্প সংখ্যক আছো l পরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হবে l এই পড়ায় অনেকেই পাশ করতে পারে না l তোমাদের সেন্টারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে l বিনাশের সময় যখন ধীরে ধীরে কাছে আসবে, তখন সবাই বুঝতে পারবে তোমাদের মধ্যে কি আছে l দিন প্রতিদিন তোমাদের বৃদ্ধি হতে থাকবে l এখন তো অনেকেই বলে , আমরা বুঝেছিলাম এই পৃথিবী আর কতোদিন চলবে , একদিন তো এর শেষ হবেই l শুরুর দিকে এই কথা শুনে ভয় পেয়ে অনেকেই ছেড়ে চলে গিয়েছিলো l তারা ভেবেছিলো , কি জানি কি হবে ? না এখানকার আর না ওই দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত কোনো জায়গারই থাকতে পারবো না তাই এখান থেকে পালাও l কিছু লোক পালিয়ে গিয়েছিলো, আবার তাদের মধ্যে থেকে কিছু মানুষ আবার ফিরে এসেছে l শিববাবা কতো সহজ করে তোমাদের বোঝান l এই পৃথিবীর অবলা নারী, অহল্যারা ( পতিত নারী ), এদেরও তিনি কষ্ট দেন না l এদেরও তো উদ্ধার হতেই হবে l তারা বলে .....বাবা আমরাতো লেখাপড়া কিছুই জানি না l বাবা বলেন যে, কিছু পড়ো নি সেও ভালো, যদি শাস্ত্র কিছু পড়েও থাকো সেও ভুলে যাও l আমি খুব বেশী বা শক্ত কিছু পড়াই না l শুধু বলি, আমাকে যদি স্মরণ করো তাহলে এই পৃথিবীর বাদশাহী তোমাদের l তাহলেই তোমাদের জীবন তরণী পার হয়ে যাবে l লৌকিকে বাচ্চার হলে সেই বাচ্চা যখন বাবা বলে ডাকতে শেখে, তখনই সে বাবার সম্পত্তির অধিকারী হয়ে যায় l আর এখনেও তোমরা বাবার সম্পত্তির অধিকারী হও l বাপদাদাকে স্মরণ করলেই এই বিশ্বের রাজধানী তোমাদের, সেইজন্য গায়ন আছে যে ......এক সেকেন্ডেই জীবনমুক্তি l সাহুকার বা ব্যবসায়ী লোকেরা পরের দিকে আসবে l প্রথমে গরীবরা আসবে l তোমাদের কাছে তারা নিজেরাই আসবে l নিম্নশ্রেণীর মানুষ যেমন মেথর, তাদেরও উদ্ধার হয় l ভীল জাতীরও উদ্ধার হয় l ভীলের গায়ন তো আছেই l বলা হয় যে শ্রীরাম ভীলের দেওয়া কুল খেয়েছিলো l বাস্তবে রাম বা শিববাবা কেউই ছিলো না l এও হতে পারে ব্রহ্মা বাবাকে সেই ফল খেতে হয়েছিলো l ভীলনীরাও এখানে আসবে l ধরো, তারা যদি টোলি বা প্রসাদ জাতীয় কিছু এনে তোমাদের দেয় তাহলে তোমরা কি করে অস্বীকার করবে l ভীলনী বা গণিকারা নিয়ে এলে তোমাদেরও তখন খেতে হবে l শিববাবা বলেন যে ........আমি তো খাবো না কারণ আমি অভোক্তা l তোমাদের কাছে সকলেই আসবে l সরকারও তোমাদের সাহায্য করবে তাদের উন্নতির জন্য l তোমাদেরও এমনিতেই প্রেরণা হতে থাকবে l তোমরা ভাববে, বাবা যখন গরীবের ভগবান বা রক্ষাকর্তা, তখন আমরাও গরীবকে বোঝাবো l ভীলনীদের থেকেও অনেকেই তোমাদের সঙ্গে চলে আসবে l এই সৃষ্টির ঝাড় এতো বড়, এখানে আর একজনও দেবী দেবতা ধর্মের নেই, সবাই অন্য ধর্মে পরিবর্তিত হয়েছে l বাবা তোমাদের বলেন ......এখনো যারা ভক্তি করছে, তোমরা গিয়ে তাদের বোঝাও l তোমরা দেখেছো কেমন করে মানুষের মনে এই জ্ঞানের চারা বা বীজ বপন করা হয় l ব্রাহ্মণ কিভাবে হয় l যারা সূর্য্য বংশী এবং চন্দ্র বংশী দেবতা হবে পরবর্তীকালে তারাই ব্রাহ্মণ হবে l একবার যদি কেউ এই জ্ঞানের কথা শোনে তারা অবশ্যই স্বর্গে আসবে l বাবা কাশীকলবটের ঘটনাও শুনিয়েছেন l শিবের উপর গিয়ে মানুষ আত্ম বলি দিতো l তাদেরও কিছু না কিছু পাওয়া উচিত l তোমরাও নিজেদের বিকারকে বলি দিচ্ছো l রাজপদ পাবার জন্য তোমরা পুরুষার্থ করছো l ভক্তিমার্গে তো রাজা থাকে না l মৃত্যুর পর কেউই শান্তিধামে যেতে পারে না l মানুষ যে সব পাপ কাজ করে তার ফল তাকে ভোগ করতে হয় l তারপর নতুন জন্ম হয় l মানুষ আবার পাপ করতে শুরু করে l সবাইকে পাপের ফল ভোগ করা পর্যন্ত এখানেই থাকতে হয় l নম্বর হিসাবে তোমরাই আগে আছো l তোমরাই ৮৪ জন্মগ্রহণ করো l তোমাদের সকলকেই সত, রজ এবং তমো এই তিন গুণের মধ্যে দিয়ে যেতেই হয় l বাবা বলেন যে এই সময় এই মনুষ্য সৃষ্টির ঝাড় জর্জরিভূত অবস্থায় আছে l মানুষ তো এখন ঘোর অন্ধকারে কুম্ভকর্ণের ঘুম ঘুমোচ্ছে l এরকম একজন কুম্ভকর্ণ নয় , অনেকেই আছে l তোমরা তাদের কতো করে বোঝাও কিন্তু তারা শুনতেই চায় না l যাদের এই পুরুষার্থ করাতে পার্ট আছে তারাই এই পুরুষার্থ করবে এবং তারাই মা , বাবার হৃদয়ে স্থান পাবে l সিংহাসনে তারাই বসবে l কতো বাচ্চারা বাবাকে জিজ্ঞেস করে .....বাবা কি করবো, আমাদের সন্তানদের তো শাসন করতেই হয় l বাবা বলেন যে, এতোকিছু করো না l তোমরা ডাকতে থাকো, বাবা , তুমি এসে আমাদের পতিত মানুষদের পবিত্র করো l বাবাও তোমাদের বলেন, কাম হলো মহাশত্রু l ক্রোধকে কিন্তু শত্রু বলা হয় না l এই ক্রোধ মায়েদের মধ্যে এতো থাকে না, কিন্তু পুরুষ মানুষরা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে অনেক লড়াই ঝগড়া করে l এখন শিব বাবা তোমাদের মায়েদের সামনে রেখেছেন l তাই বলা হয় "বন্দে মাতরম l " নাহলে মায়েদের কেন বলা হয় , পতিই তোমাদের গুরু এবং ঈশ্বর l তার মতে তোমরা চলো l যেই দুজনের এক হাত হলো , পতিত জীবনে চলে এলো l মেয়েরা পতিকেই ঈশ্বর মানে l এখন রাম রাজ্য স্থাপন হচ্ছে, বাকি সব মানুষ মরে যাবে l বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন, বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি এই কথা প্রচলিত আছে l কিন্তু বিনাশকালে প্রীত বুদ্ধি রাখতে হয় l তোমাদের পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে প্রীত বুদ্ধি আছে l তোমাদের আত্মা জানে যে শিব বাবা এই ব্রহ্মা বাবার মধ্যে আসেন, আর এই ব্রহ্মা বাবার দ্বারাই আমরা এই জ্ঞানের কথা শুনতে পাই l শিববাবা হলেন খুবই ছোটো জ্যোতির্বিন্দু l ব্রহ্মাবাবা হলেন শিববাবার সাময়িক রথ,এনার দ্বারাই এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করা হয়েছে,যা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকবে, আস্তে আস্তে এক একটি বাচ্চা এক এক ফোঁটা জলের মতো এই যজ্ঞরূপী পুকুরকে ভর্তি করে দেবে l বাচ্চারাও এইসময় নিজেদের জীবনকে সফল করে নেয় কারণ তারা জানে যে এই সমস্তকিছুই একদিন মাটিতে মিশে যাবে অর্থাত্ সব শেষ হয়ে যাবে l কিছুই আর থাকবে না l তাই আমাদের জীবন কিছু হলেও তো সফল করে নি l সুদামার কাহিনী তো সবাই জানে l কিভাবে কৃষ্ণকে সে অন্তর থেকে সামান্য চালভাজাই খাইয়েছিলো l তেমনি বাচ্চারাও বাবার কাছে এসে একমুঠো চাল বা তাদের ক্ষমতামতো ৬ - ৮ টাকা দেয় l বাহ্ বাচ্চারা l বাবা তো তোমাদের গরীবদেরই রক্ষাকর্তা বা ভগবান l এই সমস্তকিছুই এই বিশ্বনাটকে লিপিবদ্ধ আছে, আবার পরের কল্পেও এই একই জিনিস ঘটবে l সংসারের বন্ধনে যে সব মায়েরা আবদ্ধ বাবা তাদের বলেন .......তোমরা তো ভাগ্যশালী, তোমরা শিববাবার সাথ পেয়েছো l একদিন আর্য সমাজ থেকেও অনেক লোকজন এখানে আসবে l মানুষ কোথায় বা যাবে ? মুক্তি আর জীবনমুক্তি তো একই জায়গা থেকে পেতে হবে l সাজা খেয়েই সবাই মুক্তিতে চলে যাবে l এখন এই দুনিয়ার শেষ সময় চলছে l সবাই ঘরে ফিরে যাবে l এ হলো বাবার প্রেমিকের বরযাত্রী l কেমনকরে এই বরযাত্রী যাবে সেই সাক্ষাত্কারও তোমাদের হবে l তোমরা ছাড়া আর কেউ দেখতেই পাবে না l আচ্ছা l 
মিষ্টি - মিষ্টি সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণ, ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

1) বাবার কাছ থেকে জ্ঞানের যে গুপ্ত দান তোমরা পেয়েছো, তার মূল্য বুঝে সেই জ্ঞান রত্ন দিয়ে নিজেদের ঝুলি ভর্তি করতে হবে l সবাইকে এই গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান ও করতে হবে l

2) কল্পের এই শেষ সময়ে অর্থাত্ যখন ঘরে যাবার সময় হয়েছে , তখন নিজেদের সমস্তকিছুই এই যজ্ঞসেবায় সফল করতে হবে l বাবার প্রতি প্রীত বুদ্ধি রাখতে হবে l মুক্তি আর জীবনমুক্তির পথ সকলকে দেখাতে হবে l

বরদান :-

 বুদ্ধিরূপী চরণকে মর্যাদার সীমারেখায় রেখে সর্ব প্রাপ্তি সম্পন্ন শক্তিশালী হও l

যে সব বাচ্চারা তাদের বুদ্ধিরূপী চরণকে কখনোই মর্যাদার সীমারেখার বাইরে নেয় না, তারা ভাগ্যবান এবং বাবার প্রিয় হয় l তাদের জীবনে কখনো বিঘ্ন , সমস্যার ঝড়, বিভিন্ন চিন্তা বা উদাসভাব আসে না l যদি এই সমস্ত চিন্তা আসে তবে বুঝতে হবে বুদ্ধিরূপী চরণ তোমাদের মর্যাদার সীমারেখার বাইরে বেরিয়ে গেছে l সীমারেখার বাইরে যাওয়া মানে ভাগ্যহীন হওয়া তাই কখনও ভিখারী অর্থাত্ কারোর সামনে হাত পেতো না, সর্ব প্রাপ্তি সম্পন্ন শক্তিশালী হও l

স্লোগান :- 

যারা সর্বদা শরীর থেকে পৃথক এবং বাবার প্রিয় হতে পারে তারা সবসময় সুরক্ষিত থাকে l

***OM SHANTI***

Google+ Followers