BK Murli 13 July 2016 Bengali

BK Murli 13 July 2016 Bengali

 ১৩-০৭-২০১৬                প্রাতঃ মুরলী                 ওম্ শান্তি               "বাপদাদা"               মধুবন


" মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদেরকে সর্বক্ষণ নিজেদের বিষয়েই চিন্তন করতে হবে, অন্যের বিষয়ে নয়, কারণ এই জাগতিক অবিনাশী বিশ্ব-নাটকের নিয়ম অনুসারে তুমি যেমনটি যা কাজ করবে, ঠিক তেমনই ফল তুমি পাবে।"

প্রশ্ন :- 

ত্রিকালদর্শী হওয়ার কারণে আত্মার মধ্যে এমন কোন কোন স্মৃতি জাগ্রত হয় ?

উত্তর :- 

আত্মার এই স্মৃতি জাগ্রত হয় যে, আসলে তারা মূল-বতনের (পরমধামের) নিবাসী, এবং সেখান থেকে এই বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করতে এসেছে, এবং তারাই কর্ম-কর্তব্যের মুখ্য অভিনেতা হয়ে ৮৪ জন্ম ধরে এই অভিনয় করে আসছে I এখন তারাই বাবার সামনে আছে, তারপর একদিন বাবার সঙ্গেই তারা নিজেদের ঘরেই ফিরে যাবে। কিন্তু পবিত্র হয়েই সেই ঘরে যেতে হবে, তারপর আবার সুখধাম অর্থাৎ স্বর্গরাজ্যে আসবে। এই সম্পূর্ণ খেলাটাই ভারতের উপরই নির্মিত হয়েছে l ত্রিকালদর্শী হওয়ার কারণে তোমাদের এই স্মৃতিই জাগ্রত হয় I

গীত :- 

মরনা তেরী গলি মেঁ .............. (তোমার স্মরণেই আমাদের জীবন মরণ .........)

ওঁম্ শান্তি I 

এই গীত কারা গাইছে ? অবশ্যই তা বাচ্চারাই গেয়েছে I বাচ্চারা কি বলছে ? তারা বলছে, বাবা এখন আমাদেরকে তোমার গলার হার হতে হবে l এই বিনাশী শরীরটাকে তো এই পৃথিবীতেই ত্যাগ করতে হবে l বাচ্চারা জানে যে, শান্তিধাম বা নির্বাণধামে শিববাবা এবং তাঁর আত্মারূপী বাচ্চারা একসাথেই থাকে l এখন বাবা তাই প্রতি মুহূর্তেই তোমাদের বলছেন, "বাচ্চারা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করো l তোমরা জানো যে তোমরা বাচ্চারা বাবার সাথে সেই নির্বাণধামেই ছিলে, তারপর শরীর ধারণ করে ৮৪ জন্মের এই চক্র পার করেছো l বাচ্চারা জানে যে, তারা বরাবরই পরমধাম নিবাসী l আর এখন বাবা নিজেই তোমাদের কাছে এসেছেন l তাই তো তোমরা বাবাকে দেখো যে, বাবা তোমাদের সামনেই আছেন l" এই শরীর হলো তোমাদের লৌকিক শরীর l তোমরা প্রকৃত অর্থে আত্মা। কিন্তু শরীর ধারণ করে এই পৃথিবীতে এসে তোমরা সুখ এবং দুঃখের মধ্যে দিয়ে জীবন ব্যতীত করো l কিন্তু, এখন তোমরা আত্মারা, ত্রিকালদর্শী হয়েছো l শিববাবাও ত্রিকালদর্শী, তাঁর মধ্যেও তিন কাল এবং তিন লোকের জ্ঞানের পূর্ণতা রয়েছে l তোমরাও এই সমস্ত কথা জানতে পারো যে যার পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে l তাই এই ঈশ্বরীয় পড়াকে তো স্মরণে রাখতেই হবে l এখন তোমাদের সেই স্মৃতিই জাগ্রত হয়েছে l বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন যে .........তোমারই মূলবতনে ছিলে এবং এখন তোমরা ত্রিকালদর্শী হয়েছো l তোমরা সবাই জানো যে তোমরাই তোমরাই হলে এই অবিনাশী নাটকের মুখ্য অভিনেতা l এই নাটকের সম্পূর্ন জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে l তোমাদের এই স্মৃতি জাগ্রত হয়েছে যে অর্ধেক কল্প তোমরা সুখধাম অর্থাত্ স্বর্গ রাজ্যে ছিলে l সেখানে কিন্তু রাবণের অস্তিত্ব ছিলো না l তোমরা আত্মারাই ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ন করো l এখন শিববাবা তোমাদের সামনে রয়েছেন l তাই তোমরা বাবার শ্রীমতে চলে তাঁর সঙ্গেই শান্তিধামে যাবে l যতটা সম্ভব তোমরা বাবাকে স্মরণ করো l যেহেতু তোমরা ত্রিকালদর্শী তাই এই খেয়ালই তোমাদের সারাদিন থাকা উচিত l উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিব ভগবান l তাঁর সঙ্গে সঙ্গে তোমাদের বাচ্চাদের অবস্থানও উঁচুর থেকে উঁচুতে l এখন তোমাদের বাচ্চাদের ঘরের কথা মনে এসেছে l তোমরা পবিত্র হয়ে তোমাদের নিজেদের ঘর পরমধামে যাবে l শিববাবার যেমন পুজো হয়, তেমনি শালিগ্রামেরও পুজো প্রচলিত আছে l বাবা এসেই তোমাদের আত্মাদের পবিত্র করেন l একমাত্র শিববাবা ছাড়া আর কেউই আত্মাদের পবিত্র করতে পারে না l তোমরা এখন এই বিশ্ব নাটককে সম্পূর্নভাবে অনুধাবন করতে পেরেছো l তোমরা বুঝতে পেরেছো, ভারতের উপরই এই নাটক তৈরী হয়েছে l তাই এখন বাবা তোমাদের বাচ্চাদের সামনে বসিয়ে বোঝাচ্ছেন l প্রত্যেক জীবাত্মাই জানে যে শিববাবা হলেন জ্ঞানের সাগর l ভক্তিমার্গ থেকেই মানুষ বাবাকে ডেকে এসেছে এবং তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞা করে এসেছে যে বাবা তুমি যখন আসবে তখন আমরা অবশ্যই তোমার মতে চলবো l এ কিন্তু কোনো লৌকিক সম্বন্ধের কথা নয় l তোমাদের দেহী - অভিমানী হয়ে এই খেয়াল সর্বদা রাখতে হবে যে, আমাদের এক এই বেহদের শিববাবার মতেই চলতে হবে l তাঁর কথাই আমাদের মেনে চলতে হবে l বাবা তো খুব সহজ করে বুঝিয়ে বলেন l এখন তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন খুলে গেছে l এই জ্ঞান তোমাদের এই সঙ্গম যুগেই হয়েছে l মূলবতনে বাবা আর বাচ্চারা একসাথে থাকে l এখানের কেউই সেই কথা জানে না l এখন বাবা তোমাদের সম্পূর্নভাবে সবকিছু জানাচ্ছেন l বাবাই হলেন জ্ঞানের সাগর, আর কোনো সত্সঙ্গে এমন কথা বলা হয় না যে, শিববাবা এসে আত্মাদের পড়ান l এই কথা শুধু তোমরাই জানো l প্রতি মুহূর্তেই তোমাদের বলতে হয় যে, তোমরা দেহী অভিমানী হও l আত্মারা এই নাটকের এক একটি অভিনেতা,তারা এই পৃথিবীতে অভিনয় করতে আসে l তোমরা আত্মারা সকলেই এই শরীররূপী বস্ত্রের আশ্রয় নিয়েছো l লৌকিক দুনিয়ার অভিনেতারা যেমন প্রতি দৃশ্যের পর বস্ত্র পরিবর্তন করে l
তোমরা আত্মারা নিরাকারী দুনিয়া থেকে এখানে এসে শরীররূপী বস্ত্র ধারণ করো l আর লৌকিক অভিনেতারা শুধু নিজেদের বস্ত্র পরিবর্তন করে l আমাদের আত্মাদের বাবা এসে আবার রাজযোগ শেখাচ্ছেন l এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো যে .......বাবা এসে গেছেন তাই আমরা অবশ্যই বাবার সাহায্যকারী হবো l নিজেরা পবিত্র হবো এবং সারা ভারতকে পবিত্র বানাবো l আমাদের বাবার শ্রীমতেই চলতে হবে l আর বাবার শ্রীমত বলে যে সর্বদা বাবাকে স্মরণ করো l যা তোমরা করবে তাই তোমরা পাবে l সবাই তো এই পুরুষার্থ করবে না l যারা আগের কল্পে পুরুষার্থ করেছে একমাত্র তারাই করবে l এখন ঘরে যাবার সময় হয়েছে তাই পুরুষার্থ করে অবশ্যই পবিত্র হতে হবে l তোমরা সকলে উপরে মূলবতনে থাকো l সর্বপ্রথমে তোমরাই স্বর্গে এসেছিলে তারপর সিঁড়িতে নামতে নামতে নীচে চলে এসেছো l বাবা ভারতবাসীদেরই বোঝান l তিনি ভারতেই আসেন এই পরিবর্তনের জন্য l ভারতেই একমাত্র বাবাকে স্মরণ করা হয় যে বাবা তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও l তুমি শরীর ধারণ করে আমাদের শ্রেষ্ঠ কর্ম শেখাও l ব্রহ্মাবাবার শরীরের নামেরও গায়ন আছে l ব্রহ্মা বাবার শরীর হলো ভাগ্যশালী রথ l বাবাও বলেন যে তিনি সাধারণ মানুষের শরীরে প্রবেশ করেন l শিব বাবা আরো বলেন,......তোমাদের বাচ্চাদের এই স্মৃতি জাগ্রত হয়েছে যে ৫ হাজার বছর আগেও বাবা এই একই কথা বলেছিলেন , আর কেউই কিন্তু এই কথা বলে নি l শিব বাবাই বলেন, ৫ হাজার বছর আগেও তিনি এই শরীরে প্রবেশ করে বাচ্চাদের বুঝিয়েছিলেন l এখনও তোমাদের বাচ্চাদের বলছি, বাচ্চারা, তোমরা আত্ম অভিমানী হও l যেমন নাটকের অভিনেতাদের মনে থাকে তারা কোন্ কোন্ বস্ত্র পড়ে কি ধরনের অভিনয় করবে l কিন্তু তারা হলো দেহ অভিমানী l আর এ হলো বেহদের কথা l এখানে দেহী অভিমানী হতে হবে l তোমরা সকলে আসলে হলে আত্মা l এখন তোমাদের অভিনয় শেষ হয়ে এসেছে l বাবা তোমাদের সামনে এসে প্রতিটা কথা তোমাদের বুঝিয়ে বলছেন, তাই এই কথা তোমরা কখনো ভুলো না l মায়া ভীষণভাবে বিঘ্ন আনে l বাবা বোঝান ........বাচ্চারা, তোমরা কোনো বিকর্ম কোরো না l সামনে মনের ঝড় অনেক আসবে l তাতে নিজেদের পরীক্ষা করতে হবে l দেখতে হবে তোমাদের কর্মেন্দ্রিয় তো ক্রিয়াশীল হয়ে উঠলো না ? তোমরা কি কামকে জয় করতে পেরেছো ? এ তো তোমাদের জন্য খুবই সহজ ল তোমরা আত্মারা সবাই এক বাবার সন্তান l বাবার সঙ্গেই তোমাদের যোগ লাগাতে হবে l কর্মেন্দ্রিয় যদি ক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে তাহলে সেটা দেহ অভিমানের পর্যায়ে পড়ে l তোমরা কাউকেই ভয় পেয়ো না l সবসময় নির্ভয় হয়ে থাকো l যেখানেই যাও , সাক্ষী হয়ে সমস্তকিছু দেখতে থাকো l তোমরা তো সকলেই আত্মা l এই নাটকের খেলাকে তোমরা সকলেই সম্পূর্ন জেনে গেছো l বাবা হলেন উঁচুর থেকে উঁচু , এবং তিনি হলেন বিন্দু , এই কথা তোমাদের বুদ্ধিতে এসে গেছে l নিরাকারী দুনিয়া অর্থাত্ পরমধামে আত্মাদের ঝাড় রয়েছে l যেমনভাবে কোনো বীজ থেকে গাছ বের হয় তারপর আস্তে আস্তে পাতা বেরোতে থাকে তারপর ধীরে ধীরে বড় গাছের ঝাড়ে পরিণত হয় l এখানেও ঠিক নম্বরের ক্রমানুসারে আত্মারা আসতে থাকে l উপর থেকে আত্মারা ঠিক এইভাবেই ক্রমানুসারে আসে l আত্মা কিভাবে শরীরে প্রবেশ করে, কিভাবেই বা শরীর ত্যাগ করে , এই ঘটনা কেউ দেখতেই পায় না l এখন বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন যে তোমাদের আত্মা পতিত হয়ে গেছে ,তাই তোমরা তাকে আবার পবিত্র বানাও l শিববাবা, ব্রহ্মাবাবার দ্বারা তোমাদের এই কথা বুঝিয়ে বলেন l কর্মেন্দ্রিয় দিয়েই তোমরা সব কাজকর্ম করো l বিন্দু আত্মা যদি এই শরীরে না থাকে তবে তোমরা কর্মেন্দ্রিয় দিয়ে কোনো কাজই করতে পারবে না l এত ছোটো বিন্দু কিন্তু কতোখানি শক্তিশালী , এর মধ্যেই সমস্ত জ্ঞান আছে l বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, তিনি তোমাদের বসে এইসব কথা বোঝান l শিববাবার মধ্যে এই সমস্ত জ্ঞানই পূর্ণ রূপে রয়েছে l এই নাটকে তাঁরও এই পার্ট লিপিবদ্ধ আছে l তোমাদের আত্মার মধ্যেও ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে l তোমরা সুখ ও দুঃখের এই অভিনয় করো l দুঃখের সময় তোমরা খুবই কষ্ট পাও l বাবা বলেন যে, তিনি তো পুনর্জন্মে আসেন না, তোমরা আত্মারাই ৮৪ জন্ম গ্রহণ করো l বাবা তো এই ৮৪ জন্মগ্রহণ করে না l আমি এসে কেবলমাত্র বাচ্চাদের এই সহজ যুক্তি বলি যে ......বাচ্চারা, যদি তোমরা আমাকে স্মরণ করো তবেই পবিত্র হতে পারবে l অর্ধেক কল্প তোমরা কাম চিতায় বসে তমোপ্রধান হয়ে গেছো l আত্মাদের সাথেই বাবা সব কথা বলেন l আত্মার এই শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রথমে ছোটো থাকে, পরে তা ধীরে ধীরে বড় হয় l কিন্তু আত্মা তো ছোটো বা বড় কিছুই হয় না l আত্মারাই বাবাকে ডাকে ......হে পতিত পাবন এসো l তারাই বারে বারে বলতে থাকে l বাবা বলেন, তিনি কল্প কল্প আসেন বাচ্চাদের পবিত্র বানাতে l এখন তোমরা জানো যে আত্মারা উপর থেকে কিভাবে এই পৃথিবীতে আসে l মানুষ অনেক চেষ্টা করে এই দেখার জন্য যে আত্মা কেমন করে এই শরীর ত্যাগ করছে l কিন্তু আত্মা এতো সুক্ষ্ম হে তাকে দেখাই যায় না l ছোটো আত্মার মধ্যে কতো পার্ট ভরা আছে l যেমন একটা বীজের মধ্যে গাছের সমস্ত রহস্য লুকিয়ে আছে,কিন্তু বীজ তো জড় l বটগাছের কতো বড় এবং লম্বা ঝাড় হয়, কিন্তু বীজ কতো ছোটো l কলকাতার বটগাছের ঝাড় অনেকেই দেখেছে l অনেক বড় ঝাড় l কিন্তু তার নীচের গোড়া এখন অনেক নষ্ট হয়ে গেছে l কেবল গাছের ঝাড় এখন দাঁড়িয়ে আছে l এও ঠিক তেমন l দেবতা ধর্ম এখন আর নেই l দেবতা ধর্মের ঝাড়ের এখন জর্জরিত অবস্থা l এইসব কথা তোমরা জানো বলেই তোমরা সরকারকেও বলো যে আমরা এই সময়ের মধ্যে দুনিয়াকে পবিত্র করে দেখাবো l সাধারণ মানুষ এই কথা বুঝতেই পারে না l তোমরা নিশ্চিন্ত যে তোমরা ভারতকে অবশ্যই শ্রেষ্ঠ আচরণ সম্পন্ন দুনিয়া বানাবে, তখনই এই দুর্নীতি পরায়ণ দুনিয়ার অন্ত হবে l সবাই তো চায় যে শান্তি আসুক l আত্মা এতো জন্ম অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে, তাই তো তারা ডাকে .....হে শান্তি দেব, এসো l মানুষ তো বুঝতেই পারে না যে আত্মাই হলো শান্তস্বরূপ l কিন্তু এই পৃথিবীতে আত্মাকে তো তার কর্মেন্দ্রিয় দিয়ে কর্ম তো অবশ্যই করতে হবে l আত্মারা বলতে থাকে শান্তি দাও, কিন্তু একথা কিন্তু কেউই জানে না যে শান্তিধাম আলাদা এবং সুখধাম আলাদা l সুখধাম বা স্বর্গ রাজ্যে খুব অল্প মানুষই থাকে l সে হলো পবিত্র দুনিয়া l সেখানে কেউই শান্তি চায় না l সেখানেও মানুষ কর্ম করে কিন্তু সেখানে অশান্তি থাকে না l জীবনমুক্তিধাম এবং শান্তিধাম সম্পূর্ন আলাদা l সত্যযুগে জীবাত্মাদের সুখ এবং শান্তি দুইই থাকে l সবসময়ের জন্য তারা সুখ এবং সম্পদ এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় l

এখন তোমরা জানো যে স্বর্গ কাকে বলা হয় l এই দুনিয়ার মানুষ তো জানেই না যে স্বর্গ কি l এই লক্ষ্মী - নারায়ণও তো বাবার বাচ্চা তাই না ? তাঁদের এই সুখ কে দিয়েছেন l কেউ তো আছেন যিনি তাঁদের এই সুখ দিয়েছেন l এঁদের রাজত্ব কি আবার আসছে ? স্বর্গের আবার পুনরাবৃত্তি হবে l আবার তোমরা যখন স্বর্গে থাকবে তখন এই কথা কখনোই বলবে না যে নরকের আবার পুনরাবৃত্তি হবে l এখন তোমরা বলো যে পবিত্রতা, সুখ এবং শান্তির দুনিয়া আবার আসবে l এই দুনিয়া হলো পুরোনো দুনিয়া, এ হলো দুঃখধাম , একে লৌহ যুগ বলা হয় l নতুন দুনিয়াও তো একসময় ছিলো তাই না ? তাকে স্বর্গ বলা হতো l এই জ্ঞান এখন তোমাদের বুদ্ধিতে এসে গেছে l বরাবরের মতো তোমরা আবার দেবী দেবতা হতে যাচ্ছো l তোমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য এটাই l তোমরা আবার স্বর্গের বাদশাহী গ্রহণ করছো l বেহদের শিববাবার থেকে তোমরা অবশ্যই বর্ষা বা সম্পত্তি পাবে l এটা তোমরা খুব ভালো করে মনে রেখো l তোমরা আত্মারা পরমধামে থাকো, তারপর তোমরা এখানে আসো অভিনয় করার জন্য l এখন তোমাদের স্মৃতিতে এসেছে যে তোমরা ৮৪ জন্ম কেমন করে নিয়েছো l শিববাবা তোমাদের অর্থাত্ ব্রহ্মামুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণদেরই এই কথা বুঝিয়ে বলেন l তোমরা যদি ব্রাহ্মণ না হও বা প্রজাপিতা ব্রহ্মার বংশাবলী না হও, তাহলে শিববাবার থেকে বর্ষা বা সম্পত্তি কেমন করে নেবে l প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো বিখ্যাত l ব্রহ্মার দ্বারা নতুন দুনিয়ার স্থাপনা করা হয় l তাহলে নতুন দুনিয়ার রাজত্ব তাঁরই পাওয়া উচিত l ৫ হাজার বছর আগেও ব্রহ্মার দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা হয়েছিলো l এখন আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে l সেই কারণেই তোমরা তৈরী হচ্ছো l কোনো কোনো বাচ্চা জিজ্ঞেস করে - এই নাটক বড় নাকি পুরুষার্থ বড় l বাবা বোঝান যে পুরুষার্থ তো অবশ্যই করতে হবে l পুরুষার্থ ছাড়া প্রালব্ধ কি করে পাওয়া যাবে l সম্পূর্নভাবে পুরুষার্থ করতে হবে l কেউ যদি খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করে তাহলে বলা হয় যে নাটকের নিয়ম অনুসারে এর পুরুষার্থ খুব ভালো আছে l সে খুব ভালো পদও পায় l তাই তার পুরুষার্থ খুব তীব্র গতিতে চলতে থাকে l আবার এই পথে চলতে চলতে পুরুষার্থ ঠিকভাবে না করার কারণে কারোর কারোর পদ আবার কমও হয়ে যায় l ব্রাহ্মণীরাও জানে এবং তাঁদের কাছে যারা আসে তারাও জানে যে ওই বি.কে আগে খুব ভালোভাবে চলতো,কিন্তু আজকাল আর আসেই না l তারা বলে, তাদের বুদ্ধিতে এই ধারণা বসেই না, তাই তারা বাবাকে সঠিকভাবে স্মরণ করতেও পারে না l তাই তারা এই পথে চলতে অস্বীকার করে l এ হলো খুব বড় লক্ষ্য l এমন এমন কথাও তারা লিখে দেয় l আসল কথাই হলো নির্বিকারী হওয়া l বিকারকে ত্যাগ করা খুবই মুশকিল l তোমরা জানো যে নাটকের নিয়ম অনুসারে আগের কল্পের মতোই তাদের এমন অবস্থা হয়েছে l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণ, ভালোবাসা আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদেরকে নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

1)এই বেহদের খেলাকে সাক্ষী হয়ে দেখতে হবে l কাউকেই ভয় পাবার প্রয়োজন নেই l নির্ভয় হওয়ার জন্য " আমি আত্মা " এই ধারণা দৃঢ় করতে হবে l

2) নিজেকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে নিজের কোনো কর্মেন্দ্রিয় ক্রিয়মান আছে কিনা ?কাম বিকারের উপর বিজয়ী হয়েছো কি ? দেহ - অভিমানী স্থিতি কতোখানি তৈরী হয়েছে ?

বরদান :- 

আত্মস্মৃতিতে থেকে সমস্ত কর্মকে সংযম বা নিয়মের সঙ্গে পালন করার জন্য স্বয়ং মালিকস্বরূপ হও l

যেমন সাকারে নিজের স্মৃতিতে থেকে যা কর্ম তোমরা করবে তাই এই ব্রাহ্মণ পরিবারের সংযম বা নিয়ম হয়ে যাবে l যদি আত্মস্মৃতিতে থাকা যায় অর্থাত্ আমি আত্মা এই শরীরের মালিক এই মনোভাব থাকলে , যদি কখনো ভুল কাজ হয়েও যায়, আত্মস্মৃতির দ্বারা তাকে পরবর্তীকালে ঠিক করে নেওয়া যায় l তোমরা বাচ্চারা যদি নিজের স্থিতিতে স্থির থাকো তাহলে যে সংকল্প তোমরা করবে , যে বচন তোমরা বলবে অথবা যে কর্মই তোমরা করবে , সবই সংযম বা নিয়মে পরিণত হবে l

​স্লোগান :- 

পবিত্রতার পিলার বা শক্তি যদি মজবুত করো তাহলে সেই পিলার বা শক্তি লাইট হাউস বা জ্ঞানের আলোকের কাজ করবে l


***OM SHANTI***

Google+ Followers