BK Murli 19 July 2016 Bengali

BK Murli 19 July 2016 Bengali

 ১৯-০৭-১৬ প্রাত :মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

" মিষ্টি বাচ্চারা - এই ভারত ভূমি নিরাকার বাবার জন্মভূমি , এখানেই বাবা আসেন তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে রাজত্ব প্রদান করতে l "

প্রশ্নঃ

 শিববাবা নিজের প্রত্যেক বাচ্চাকে দিয়ে কোন প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেন ?

উত্তরঃ 

মিষ্টি বাচ্চারা - প্রতিজ্ঞা করো যে , 'আমি কোনও বিকর্ম করবনা l পাঁচ বিকার আমি দান করে দিচ্ছি l' অন্তরে ভয় থাকতে হবে - যদি দান দিয়ে আমি ফিরিয়ে নিই তবে অনেক পাপ হয়ে যাবে যার জন্য কড়া সাজা খেতে হবে l হরিশচন্দ্রের কাহিনীও এইভাবেই তৈরি হয়েছিল l 

ওম্ শান্তি l 

এই হলো বাচ্চাদের ঈশ্বরীয় স্টুডেন্ট লাইফ (ছাত্র জীবন ) l বাচ্চারা জানে যে আমি তাদের কাছে এসেছি l প্রতি কল্পে কল্পে এসে এই ভারতবাসী বাচ্চাদের রাজ্য-ভাগ্য গড়ে দিই l এই হলো ভারত ভূমি , এখানেই তো প্রতি কল্পে আমার আসা l নিজের ভূমির জন্য অনেক ভালবাসা আর শ্রদ্ধা থাকে l যেমন বিদেশের কোনও বিখ্যাত কারোর মৃত্যু হলে তাঁকে তাঁর স্বভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আবার এখানের বিখ্যাত কেউ বিদেশে মারা গেলে তাঁকে এখানে ফিরিয়ে আনা হয় l স্বভূমির নাম উজ্জ্বল করার জন্য l ভারতকে বলা হয় ভগবানের জন্মভূমি l তোমরা এও জানো যে যাঁকে ভগবান অথবা আল্লাহ্ , পরমাত্মা বলা হচ্ছে তাঁর সামনেই তোমরা বসে আছ l নাম তো অবশ্যই থাকতে হবে l আল্লাহ্ নামে ডাকলেও লিঙ্গের পূজা হয় l ঈশ্বর বা খুদা বললেও তো অবশ্যই তাঁর নিশান চাই l সকলে লিঙ্গের পূজা করে l চিত্রতেও আজকাল দেবতাদের সামনে পরমপিতা পরমাত্মার চিত্র লিঙ্গরূপে দেখানো হয় l উঁনি হলেন সবচেয়ে উঁচুতে , উঁনি নিজে দেহরহিত , নিরাকার l উঁনি মূর্তিবিশিষ্ট নন l তোমরা বাচ্চারা এখন জেনেছ যে আমরা কল্পে কল্পে তাঁর সামনে উপস্থিত হই শিক্ষা গ্রহণ করতে l ভগবানুবাচ অর্থাত্ ভগবান যখন বলছেন তখন তো তিনি অবশ্যই রাজযোগ সম্বন্ধে শেখাবেন l স্টুডেন্ট , যাঁদের তিনি রাজযোগ শিখিয়েছিলেন তাঁরাই পরবর্তীকালে রাজা -রানী হয়েছিলেন l লড়াই ইত্যাদির কোনও কথা নেই , এই লক্ষ্মী -নারায়ণের বাদশাহী-র প্রাপ্তি কোনও লড়াইয়ের মাধ্যমে আসেনি l একেবারেই না l দুনিয়া জানেই না সত্যযুগে এঁদের রাজ্যলাভ কিভাবে হয়েছিল l তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পার আমরা বাবার থেকে রাজ্যভার নিতে চলেছি l আমরা তাঁরই সামনে বসে , ইনিই বাবা , কৃষ্ণ নন l কৃষ্ণ ছোট বাচ্চা , রচনা l বরাবরের মতো কৃষ্ণও এখন নিজের পদ প্রাপ্ত করতে চলেছে পরে ভবিষ্যতে কৃষ্ণ নামে ভূষিত হবে l এই হলো সমস্ত পড়ার মুখ্য বিষয় l তোমরা জানো , বাবা আমাদের রাজযোগ শেখান l যেমন মানুষ ,মানুষকে পড়িয়ে ব্যরিস্টার , ইঞ্জিনিয়র তৈরি করে l মানুষই তো পড়ার পাঠ পড়ে l তোমরা বুঝতে পেরেছ আমরা মানুষ তবে পতিত l এখন বাবা আমাদের পবিত্র করে তোলেন এবং রাজ্যভার সঁপে দেন l পবিত্র দুনিয়াই হবে নতুন দুনিয়া l সেখানেই হবে বিশ্ব-রাজত্বের অধিকার স্থাপন l এখন তোমরা বাবার সম্মুখে বসে আছ l লৌকিক বাবা যেমন বাচ্চাদের সামনে বসিয়ে আদর করে বুঝিয়ে দেয় , ইনি , পারলৌকিক বাবাও বিচিত্র রূপে (নানা বিষয় ও রূপসমন্বিত ) বাচ্চাদের বুঝিয়ে দেন l যাঁর জন্য তোমরা গেয়ে আসছ তুমিই মাতা আবার পিতাও তুমি ...তোমরা জেনেছ এই সময় ইঁনি নিজস্ব ভূমিকা পালন করছেন , ভক্তিমার্গে যা আমরা গানের মাধ্যমে বলি l তোমরা বলো যে আমরা শিববাবার কাছে এসেছি l চিঠিও লেখ - শিববাবা কেয়ার অফ ব্রহ্মাবাবা l কাউকে পোস্ট দেখালে সে আশ্চর্য্য হয়ে যাবে - তারা ভাববে শিববাবা কেয়ার অফ ব্রহ্মা এরকম তো কখনও শুনিনি l শিববাবা ব্রহ্মাতনে এসে বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা করছেন , সামনে তিনি দাঁড়িয়ে l শিববাবা উপরে অধিষ্ঠান করেন l তিনি ব্রহ্মা দ্বারা যেমন আগেও স্থাপনা করেছিলেন , এখন আবারও ঠিক সেভাবে নতুন করে স্থাপনা করছেন l এখানে সংসার জীবন , ভোগের পথ l রাজবিদ্যা , ব্যরিস্টার পড়ান সেখানে ছেলে বা মেয়ে উভয়েই পড়ে l মেয়েরাও জজ , ব্যরিস্টার , ডাক্তার প্রভৃতি তৈরি হয় l এও এক প্রবৃত্তি মার্গ l সন্ন্যাসীদের হলো নিবৃত্তি মার্গ , সেটা আলাদারকম l বাবা এই সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন - শঙ্করাচার্য না এলে পবিত্রতার লেশমাত্র থাকত না l ভারত জলকষ্টে একেবারে শেষ হয়ে যেত l এও ড্রামাতে লিপিবদ্ধ আছে - ভারতকে রক্ষা করতে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন l ভারত অনেক পবিত্র ছিল , পরে অপবিত্রতা ছেয়ে গেছে l ভারত সব হারিয়ে এখন কাঙাল হয়েছে l বলা হয় সোনার লঙ্কা সমুদ্রের নীচে চলে গেছে l লঙ্কা তো এখন সোনার হতেই পারে না l বসে বসে এইসব কাহিনী লেখা হয়েছে যাতে কোনও লাভ হয়না l তোমরা বাচ্চারা জানো যে চিরকাল বাবা আমাদের সহজভাবে স্মরণের বল দ্বারা কত উচ্চ করে গড়ে তোলেন l বাবা প্রতিজ্ঞা করেন , নিরন্তর স্মরণ করার পুরুষার্থ করলে তবে বিকর্ম বিনাশ হবে l ভক্তিমার্গেও তো স্মরণের মাধ্যমে পুরুষার্থ করেছ l স্মরণ কেন করতে হয় ? যাতে আমাদের সাক্ষাত্কার হতে পারে l স্মরণ কিন্তু এভাবে নয় যে , কৃষ্ণপুরীর বাদশাহী পাওয়া যাবে বা আমরা নর থেকে নারায়ণ হয়ে যাব , না , একেবারেই নয় l তোমাদেরও এই আশা ছিল , আমরা মানুষ থেকে দেবতা হব l গেয়েও থাকে মানুষ থেকে দেবতা করে ... তোমরা দেখতে পাও বরাবর কলিযুগের পরে সত্যযুগ আসে l কলিযুগে মানুষের সংখ্যা বহুরও অধিক l সত্যযুগে এক ধর্মের স্থাপনা হবে l তোমাদের এখন আত্মা -পরমাত্মার জ্ঞান প্রাপ্ত করেছো , দুনিয়ায় এমন একজন মানুষও নেই যার আত্মার জ্ঞান আছে l আত্মাতে ৮৪ জন্মের পার্ট কিভাবে গ্রথিত হয়েছে তা কেউ জানেনা l এইরকম শব্দও কেউ কখনও শোনেনি l বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর , পতিতপাবন , নিরাকার l তোমরা জেনেছ আমরা আত্মারা এখন পাপ আত্মা থেকে পুণ্য আত্মায় পরিণত হচ্ছি l সত্যযুগে সব পুণ্য আত্মা l পাপ আত্মারা এখানে l অনেক দান -পুণ্য করলেই যে তাকে পুণ্য আত্মা বলা যাবে সেরকম কিছু নয় l পুণ্য আত্মা সব সত্যযুগেই বিরাজ করে l এখানে যে মানুষ দানপুণ্য করে তাঁকে পুণ্য আত্মা মনে করে l ওখানে তোমাদের দানপুণ্য ইত্যাদি করার দরকারই থাকে না , কারন গরীব বলে ওখানে কেউ হয়না l সবসময়ে তোমরা ওখানে পুণ্য আত্মারূপে বিরাজিত l তোমরা তন , মন , ধন সব কিছু বেহদের বাবার উদ্দেশে দিয়ে দাও , যাকে আত্ম -বলিদান বলা হয়ে থাকে l বাবা জিজ্ঞেস করেন "প্রথমে আত্মবলি আমি দিই নাকি তোমরা ?" বাবাই আবার উত্তর দেন - "প্রথমে তোমরাই আত্মবলি দাও সেইজন্যই বলিদানের ফলস্বরূপ ২১ জন্মের বাদশাহী অর্জন করতে পার l" এই সমস্ত কথা এখন তোমরা যথার্থই বুঝতে পার , সামনাসামনি বসে শুনছ যে ! ঘরে থেকে যে মুরলি শুনছ তা' তোমরা মাধ্যম দ্বারা দূর থেকে শুনছ l এখন তো বাবার সম্মুখে বসে আছ l বাবা বাচ্চাদের বলেন -"আমি তোমাদের বাবা l কোনও অন্ধশ্রদ্ধার কথা নয় l আমিই তোমাদের বাবা , তোমাদের শিক্ষক l" বাবাকে যথার্থভাবে জানলে তিনি শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বাচ্চাদের শিক্ষা দেন , এই সারা জ্ঞান এখন তোমাদের বুদ্ধিতে l ৮৪ চক্রের জ্ঞানও তোমাদের বোঝানো হয় l যার ৮৪ জন্মের চক্রে আসার পার্ট নেই সে এসব কিছুই বুঝবে না l তোমরা বুঝতে পারছ চিরকাল ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তন করে আমরা ঘরে ফিরে যাই l বাবা বলেন - তোমরা , আত্মারা অশরীরী এসেছিলে আবার অশরীরী হয়েই ফিরতে হবে l তোমরা পবিত্র আত্মায় পরিণত হয়ে ফিরে যাও l পবিত্র হওয়ার জন্য তোমরা পুরুষার্থ করছ l যোগবল অর্থাত্ স্মরণের বল দ্বারা তোমরা পবিত্র হয়ে উঠবে l যোগ শব্দ শাস্ত্রে লেখা , আর সঠিক শব্দ হলো স্মরণ l স্ত্রী স্বামীকে আর স্বামী স্ত্রীকে স্মরণ করে যেমন , উভয়েই স্মরনের দ্বারা যোগযুক্ত হয়ে থাকে , বুঝতে পারছ যোগ অর্থাত্ স্মরন l বাবাও বলেন - মামেকম্ ইয়াদ করো অর্থাত্ আমাকে স্মরণ করো এবং সকল সম্বন্ধীয় সম্পর্কের সাথে বুদ্ধিযোগ সরিয়ে আমি , নিজের বাবার সাথে বুদ্ধিযোগ জুড়ে নাও l স্মরণ করো l যত স্মরণ করবে ততই বিকর্ম বিনাশ হবে l চিরকাল প্রতি কল্পে ভারতের হস্তে বিশ্বের রাজত্ব ন্যস্ত হয়েছে l শিব জয়ন্তীও যথেষ্ট প্রসিদ্ধ l যেমন বুদ্ধ , ক্রাইস্ট-এনাদের মতো আরও কারোর জন্ম-জয়ন্তী পালন হয় ঠিক তেমনই শিব-জয়ন্তী পালন হয় এবং এই শিব-জয়ন্তীই হয় উচ্চ থেকেও উচ্চ l কৃষ্ণ-জয়ন্তীও প্রসিদ্ধ l কিন্তু কৃষ্ণ সৃষ্টিতে এসে কি করেন এইসব কেউ কিছুই জানে না l কৃষ্ণ সত্যযুগের রাজকুমার ছিলেন l অবশ্যই তাঁকে কেউ এমন কর্ম করতে শিখিয়েছিলেন যাতে সত্যযুগের রাজকুমার হতে পেরেছেন l ছোট শিশু তো পবিত্রই হয় l সেখানে বিকারের কোনও কথা হয়না , বাচ্চা শুদ্ধ থাকে l ভগবান তো একই নিরাকার , এক এবং অদ্বিতীয় l বাকি সব রচনা l রচনা দ্বারা কখনও রচনার রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হয়না l বরসা অর্থাত্ সত্যযুগের রাজ্য অধিকার শিববাবার থেকেই প্রাপ্ত হবে l ভাই ভাইয়ের থেকে বরসা পেতে পারেনা l তোমরা সব ভাই-ভাই , ভ্রাতৃত্বের সম্বন্ধ l বাবা তো একমেবাদ্বিতীয়ম (এক এবং অদ্বিতীয়) , সত্যযুগের রাজ্য অধিকার তাঁর থেকেই তো পাওয়া যায় l সব ভাইদেরই সদগতিদাতা এক বাবাই l সব আত্মাদের বাবার থেকে বাদশাহী প্রাপ্তি হচ্ছে l বাবা বলেন - আমি এসে আত্মাদের পড়াই , আত্মাদের সদগতি প্রদান করি l বাবা স্বয়ং রাজযোগ শেখান l এই পাঠাভ্যাসের দ্বারা পদপ্রাপ্তি তোমরা এখানে পাবেনা l ব্যরিস্টার ইত্যাদি এই জন্মের প্রাপ্তি , আবারও অন্য জন্ম নিয়ে আবারও পড়ে l তোমরা জানো এই আধ্যাত্মিক পাঠাভ্যাসে আমরা ২১ জন্মের জন্য প্রারব্ধ ভোগ করি l ওখানে সত্যযুগে ডাক্তার ইত্যাদি কেউ হয়না l ওখানে রোগভোগের বালাই নেই l ওখানে তোমরা গর্ভমহলে থাক l এখানে গর্ভজেলে থাক যেখানে অনেক সাজা পেতে হয় , তখনই সবাই ডাকতে থাকে এই অন্ধকারময় জেল থেকে বাইরে নিয়ে এস , আমরা আর ভুল করবনা, ধর্মরাজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে l এখানে তোমাদের শিববাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে l বাবা আমরা আর কোনও বিকর্ম করবনা l পাঁচ বিকারের ভারার্পণ করে দিলাম l বাবা জানেন যে বিকার এইভাবে চট্-জলদি শেষ হওয়ার নয় l অন্তরে ভয় থাকতে হবে, আমরা বিকার দান করে আবার নিয়ে নিলে বড় পাপের বোঝা চেপে যায় l রাজা হরিশচন্দ্রই এর উদাহরণ l বাবা জানেন ৫ বিকার এইভাবে যাবেনা , সময় লাগবে l তোমাদের কর্মাতীত অবস্থায় লড়াই শুরু হবে l এই পাঁচ বিকারই হলো সবচেয়ে বড় শত্রু l তার মধ্যে মুখ্য হলো এক, দেহ-অভিমান, এর দান দেওয়া বড় কঠিন l বাবা বারবার বলছেন - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমি-বাবাকে স্মরণ কর l কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছেনা l দেহ-অভিমানী হওয়ার কারনে কামবিকারের পাকচক্রে পড়ে l দেহ-অভিমান সবচেয়ে জোরালো l দেহী-অভিমানী হতে দৃঢ় ও অবিরাম উদ্যম আর সাধনা করতে হয় l মুখ্য দেহ-অভিমান-এর অর্থাত্ কামবিকারে জড়িয়ে যাওয়ার জন্যই পাপ হয় l দানে পাঁচ বিকারকে উত্সর্গ করতে সময় ব্যয় হয়ে যায় l সাজন ব্যতীত সজনীরা যেতে পারেনা , মুক্তিধামে l সর্বাগ্রে শিবসাজনকে পরমধাম থেকে আসতে হয় l তারপরে পতিত আত্মাদের পবিত্র করে সাজন সকল আত্মাদের নিয়ে যান l কর্মাতীত অবস্থায় পৌঁছনো পর্য্যন্ত পুরুষার্থ করতে হবে l দেহ-অভিমান এসে গেলে আবারও ভুল হয়ে যায় l বলে , বাবা দেহ-অভিমানে এসে বিকারে পড়েছি l তুফান নিয়ে মায়া তো সামনে আসবেই , কিন্তু বিকারের সংকল্প এলেও কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কখনও কোনও পাপ যেন না হয় l মায়াজিত হতে অনেক অধ্যবসায় লাগে l বাবা বলেন - বিবাহ বন্ধনে থেকেও যদি পবিত্রতা ধারণ করে চলতে পার তবে তা সন্ন্যাসীদের সামনে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হবে l ত্যাগ আর ধারণের সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়াতেই তোমার আমদানি l পবিত্রতা রক্ষা করতে পারলে উচ্চতর পদ পাওয়া যাবে l তখন নিজে থেকে সব তোমাতেই উত্সর্গ করে দেবে l বাবাও মহিমা করেন l পবিত্র থাকলেও কিন্তু স্মরণের অভ্যাস জারি রাখতে হবে l যোগ মুহুর্মুহু বিঘ্নিত হয় , দেহ-অভিমান এসে যায় l পবিত্র থাকা অত্যন্ত জরুরী ,পবিত্রতার দ্বারাই পবিত্র দুনিয়াতে রাজত্ব করার অধিকার পাবে l কিন্তু মায়াও তার প্রভাব বিস্তার করবে , নানাভাবে আঘাত হানবে l বাবা বোঝাতে থাকেন এই সবই অবশ্যম্ভাবী l বাহাদুরি দেখালেও কিন্তু সাথে সাথে নিরন্তর স্মরণ করতে হবে তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে l যাঁরা পুরুষার্থ করার শ্রেষ্ঠ কারিগর মায়া তাঁদেরই বারেবারে বিরক্ত করে l স্মরণের পথে নানাবিধ সমস্যা আসে l যাঁরা এই পথে টিকে থাকতে পারেন তাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হয় অনুভবের কথা l কি তারা বুঝেছেন ,কিভাবে থাকেন l স্মরণে থাকলে বিকর্ম বিনাশ হয় l এই কথা একেবারেই আলাদা , নতুন l এখানে বসে আছ তাই নেশাও উর্ধমুখী অর্থাত্ বাবার সম্মুখে বসে থাকায় তোমাদের পুরুষার্থ করার ইচ্ছাও প্রবল l তোমরা এও বুঝতে পার ভগবান একই , নিরাকার এবং তিনি কৃষ্ণ নন l বাস্তবে কৃষ্ণ সম্পর্কে শাস্ত্রে লেখা হয়ে থাকে - খুঁটির সাথে বাঁধা , কারন এই-এই দুষ্টুমি করেছে . . . সেরকম কোনও ঘটনা হয়ই না l এরা কৃষ্ণেরও গ্লানি করে ,অপমান করে l কৃষ্ণের মধ্যে কোনও অপগুণ ছিলনা l চঞ্চলতা ! সেও তো একরকম অপগুণেরই সামিল l কৃষ্ণ তো একেবারে মর্যাদাপূর্ণ পুরুষোত্তম l তাঁর মহিমা গাওয়া হয় - সর্বগুণসম্পন্ন . . . গাওয়া হয়ে থাকে গুরু ব্রহ্মা , গুরু বিষ্ণু . . .তোমরা বলো , আমাদের কোনও গুরু নেই l আমরা এনাকে না গুরু না ঈশ্বর বলে মানি l পতিতপাবন তো একই , নিরাকার l সাকার গুরু কোনও পতিতপাবন হতে পারেনা l এখন তো তোমরা পরমপিতা পরমাত্মার পুরো জীবন রহস্য জেনেছ l ৫ হাজার বছরের মধ্যে শিববাবার ভূমিকা কি - তা' তোমরা জেনেছ , বাবা দ্বারা l বাবা তো জ্ঞানসম্পন্ন তাই না ! সুখ -শান্তি , আনন্দের সাগর . . . এই মহিমা করা হয় শিববাবার উদ্দেশে l বাবার কাছে ধনরত্নের সম্ভার (বাবার অষ্ট শক্তি আর সপ্ত গুণ) আছে যখন তা অবশ্যই বাচ্চাদেরই প্রদান করবেন l আচ্ছা !

মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি /সিকিলধে বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা , বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার (পরমাত্মা পরমপিতা) রুহানি বাচ্চাদের(আত্মাদের) নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) কর্মাতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত করার জন্য এই কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কোনও ভুল করা চলবে না l পবিত্র থাকার সাথে সাথে স্মরণেও মজবুত হতে হবে l 

২) সদা পুণ্য আত্মা হতে তন -মন -ধন দ্বারা বাবার কাছে আত্ম বলিদান করতে হবে l একবার আত্মাকে সমর্পণ করতে পারলে ২১ জন্মের জন্য পুণ্য আত্মায় পরিণত হয়ে যাবে l

বরদান :- 

নিজের স্মৃতি , বৃত্তি এবং দৃষ্টিকে অলৌকিক বানানোর কারিগর হয়ে সর্ব আকর্ষণ থেকে মুক্ত হও l

বলা হয়ে থাকে - " যেমন সংকল্প তেমন সৃষ্টি " l নতুন যে সৃষ্টি রচনা করার নিমিত্ত বিশেষ আত্মারা রয়েছে তাদের এক -এক সংকল্প শ্রেষ্ঠ অর্থাত্ অলৌকিক হতে হবে l যখন স্মৃতি -বৃত্তি এবং দৃষ্টি অলৌকিক হয়ে যায় তখন এই দুনিয়ার কোনও ব্যক্তি বা কোনও বস্তু নিজের প্রতি আকর্ষিত করতে পারেনা l যদি আকর্ষিত করে তবে বুঝতে হবে অলৌকিকতার ভাব পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়নি l অলৌকিক আত্মারা সর্ব আকর্ষণ থেকে মুক্ত থাকবে l

শ্লোগান :- 

হৃদয়ে পরমাত্ম স্নেহ বা শক্তি সমাহিত হলে তবে মনে কোনও সমস্যার আভাসমাত্র হবে না l

***OM SHANTI***

Google+ Followers