BK Murli 2 July 2016 Bengali

BK Murli 2 July 2016 Bengali

০২-০৭-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা-তোমরা যদি তোমাদের বিকারগুলিরকে দান করে দাও, তবেই রাহুর গ্রহণ-দশা থেকে মুক্ত হবে। দান দিলেই তো গ্রহণের দশা ছাড়বে"

প্রশ্নঃ

বৃহস্পতি বাবা ওনার নিজের ভারতবাসী বাচ্চাদের উপর বৃহস্পতির দশা আনার জন্য কি এমন স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলেন ?

উত্তরঃ- 

বাবা বলেন, "ওহে আমার ভারতবাসী বাচ্চারা, তোমাদের আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম খুবই শ্রেষ্ঠ ছিল। তখন তোমরা সর্বগুন সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিলে। সেখানে তোমরা সাগরের বাচ্চারা কাম চিতায় বসে বসেই এত কালো হয়ে গেছো, যার ফলে এই গ্রহন লেগে আছে। কিন্তু এখন আবার আমি তোমাদেরকে ফর্সা (পবিত্র) বানাতে এসেছি।"

গীতঃ-

 ওঁ নমঃ শিবায়ঃ ......

ওঁম শান্তি। 

বাচ্চারা তোমরা এটা কার গুণ-মহিমার কীর্তন শুনলে ? অসীম দুনিয়ার (বেহদের) বাবার। যিনি উঁচু থেকেও অতি-উঁচু, সর্ব্বোচ্চ বাবা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা । লৌকিক বাবার জন্য কিন্তু সবাই এমনটা বলে না। বাচ্চারা তো এটা জেনেছো যে, সব আত্মারই পারলৌকিক বাবা- একমাত্র উনি, যিনি হলেন উঁচু থেকেও অতি উঁচু -সর্বোচ্চ। তাই তো ওঁনার নাম শিব। নাম, রূপ ছাড়া তো কোনো কিছুই হয় না। বর্তমান সময় কালে সবার উপরেই রাহুর গ্রহণ দশা লেগে আছে, এইজন্যই তো একে লৌহযুগ বা কলিযুগ বলা হয়। আর এই কারণেই দশাও লাগে। যেমন বৃহস্পতির দশা, শুক্রের দশা ....... কিন্তু যা এখন তোমাদের - উপর লেগে আছে তা বৃহস্পতির দশা। আর এই দশা তারই, যার এত গুন ও মহিমা শুনেছো, উঁচু থেকেও অতি উঁচু সর্ব্বোচ্চ ভগবান - অর্থাৎ শিববাবা। ওঁনার প্রকৃত নাম শিব। এছাড়াও ভিন্ন- ভিন্ন অনেক নামই আছে। কিন্তু, আসল নাম শিববাবা। সেই বাবাই তার বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন- "আমি হলাম সেই বীজরূপ, চৈতন্য-শক্তি।" ওঁনার উদ্দেশ্যেই বলা হয় সৎ-চিত, আবার ওনাকেই বলা হয়, সুখের সাগর, আনন্দের সাগর, শান্তির সাগর, ইত্যাদি। যত মহিমা সব তো ঐ একজনেরই প্রতি। যদিও ভারতবাসীরা ওঁনার এত মহিমা গায় কিন্তু অর্থ কিছুই বোঝে না তারা। যা একদম পাথরবুদ্ধির (নির্বুদ্ধি) হয়ে গেছে। কিন্তু তাদেরকে এই পাথরবুদ্ধি বানিয়েছে কে ? অবশ্যই - রাবণ ! সত্যযুগে তো এই ভারতবাসীরাই পারশবুদ্ধির (সুবুদ্ধিধারী) ছিল, আজ থেকে ৫হাজার বর্ষ আগে, যখন এই ভারতই একমাত্র পারশপুরী (স্বর্গভূমির স্বর্ণযুগ) ছিল, যেখানে দেবী-দেবতারা থাকতেন। ভারতই সেই অবিনাশী খণ্ড - একথাও প্রচলিত আছে। একদা সেই ভারতেই যারা পারশবুদ্ধির দেবী-দেবতারা ছিলেন, তারা বর্তমান সময়ে পাথরবুদ্ধির হয়ে, পতিত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এরা এমন পতিত হয় কি করে, সেটাও বাবা বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে দেন। দ্বাপর থেকে যখন কাম-চিতায় বসতে শুরু করে, তাতেই তারা কালো/পাপী পতিত হয়ে যায়। আর এই কাম-অগ্নিতেই সব গুণ ভস্ম হয়ে গেছে। তাতেও কিন্তু বিশেষ করে ভারতেরই কথা বলা আছে। ভারতেই সেই পারশবুদ্ধি দেবতাদের রাজ্য ছিল, যাকে বিষ্ণুপুরী বা রামরাজ্যও বলা হয়। এসব তো বাবা এসেই সবাইকে বোঝান। মিষ্টি,মিষ্টি প্রিয় বাচ্চারা, যখন তোমরা সত্যযুগে ছিলে, সর্বগুণ সম্পন্ন ছিলে। তখন তোমাদের কত নাম মহিমা ছিল। যেহেতু সেই সময়কালে ওখানে বিকারের কোনও কর্ম হয় না। তারপর দ্বাপর থেকে রাবণের, ৫ বিকারের রাজ্য শুরু হয়। তখন থেকে রামরাজ্য বদলে গিয়ে রাবণরাজ্যে পরিণত হয়। যার ফলে এখন এই গ্রহণ লেগে আছে। ভারত এখন পাপের কারণে একেবারেই কালো হয়ে গেছে। বৃহস্পতির দশা সব থেকে ভালো। এই ভারতেই বৃহস্পতির দশা ছিল সত্যযুগে। তারপর ত্রেতাতে শুক্রের দশায় তার দুই কলা কম হয়ে যায়। যাকে বলাই হয় রৌপ্যযুগ। এরপর আসে দ্বাপর আর কলিযুগ। তখন সিঁড়ি নীচের দিকে নামতে থাকে, অর্থাৎ শনির দশা হয়। আর বর্তমানের এই সময়ে সবার উপরেই রাহুর দশা লেগে আছে। সূর্যের যখন গ্রহণ লাগে, তখন বলে যে, দান দিলে তবেই গ্রহণের দশা কাটবে। এখন (রুহানি) ঈশ্বরীয় বাবা বাচ্চাদেরকে যা বোঝাচ্ছেন, এটাই হলো (রুহানি) ঈশ্বরীয় জ্ঞান। যা কোন শাস্ত্রের জ্ঞান নয়। শাস্ত্রের সেই জ্ঞানকে ভক্তিমার্গ বলা হয়। সত্যযুগ -ত্রেতাতে কোনো প্রকার ভক্তির কিছু হয় না। জ্ঞান আর ভক্তি, তারপর হয় বৈরাগ্য অর্থাৎ তারপর এই পুরনো দুনিয়াকে ছাড়তেই হয়। বর্তমান সময়কাল হলো শূদ্র বর্ণের। বিরাট রূপে যা দেখায়- ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ....... এটা সেই ভারতেরই কাহিনী। যা বিরাট রূপের চিত্র দিয়ে সেই ভাবকেই প্রকাশ করে। কিন্তু পাথর-বুদ্ধিধারীরা (নির্বুদ্ধিরা) তা বোঝেই না। এরা পাথর বুদ্ধিতে কেন পরিণত হলো ? যেহেতু এরা পতিত হয়ে পড়েছে। এই ভারত-বাসীরাই একদা যেখানে এত পারশবুদ্ধি (বুদ্ধিমান ) ছিল, সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল। যা আজ থেকে ৫ হাজার বর্ষ আগে ভারতে সেই স্বর্গরাজ্য ছিল, যখন আর কোন খণ্ডই ছিল না-এটাই তো বাবা বোঝাচ্ছেন। আবার এই রাজযোগ -কে বসে শেখাচ্ছেন ?- শিবাচার্য (গুরু শিব)। যিনি হলেন জ্ঞানের সাগর। জাগতিক কোনও মনুষ্যকে কিন্তু জ্ঞানের সাগর, সবার উদ্ধারকর্তা পতিত-পাবন এসব বলা যায় না। সবার মুক্তিদাতা কিন্তু এক এবং একমাত্র এই বাবা-ই। বাবা নিজের থেকেই আসেন- ওনার বাচ্চাদেরকে রাবণের দুঃখের নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে, তারপর আবার পথপ্রদর্শক হয়ে সাথে করে নিয়েও যান। তাই তো ওনাকে রুহানি পাণ্ডা বলা হয়। বাবা নিজেই তা বলেন- "আমিই তোমাদের সব আত্মাদেরই পাণ্ডা, সকলকেই সাথে করে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। আমার মত পথপ্রদর্শক আর কেউই হয় না। তাই তো আমার উদ্দেশ্যে বলাও হয় গড ফাদার (ঈশ্বরীয় পিতাই মুক্তিদাতা) হলেন মুক্তিদাতা, পথপ্রদর্শক, সুখদাতা, আনন্দস্বরূপ, .....।" যিনি সবাইকেই এত দয়া করেন। যেহেতু সবাই যে এই সাগরের বাচ্চারা, কাম-চিতায় বসে বসে জ্বলে ঝলসে কালো হয়ে গিয়েছে। আবার তার মধ্যেও বিশেষ করে ভারতের কথাই বলা আছে। বাবা তাই বলেন-একদা এই তোমরাই ১৬ কলা সম্পন্ন, সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিলে। কিন্তু এখন কামের চিতাতে বসতে বসতে তোমাদের কি অবস্থাই না হয়ে গেছে ! যাই হোক, এখন আবার বাবা এসে গেছেন। এই বৃহস্পতি বাবা এসেই সকল মনুষ্য মাত্রেরই উপর বৃহস্পতির দশা লাগান। বিশেষ করে ভারতের উপর। বাকী বিশ্বের উপর যদিও এখনও রাহুর দশাই লেগে আছে। বাবা বলেন-আমি এসেই বিশেষ করে ভারতকে এই দুনিয়ার সার্বাঙ্গীণ দুর্গতিরই সৎগতি করে দেই। তোমরা তো এখানে এসেছোই পারশ-বুদ্ধির হতে। এই বাবা তো হলেনই অতি প্রিয়- যিনি সব (আশিকের) প্রেমিকারই একমাত্র (মাশুক) প্রেমিক। সব দেশের সব রাজ্যেই এই লিঙ্গ-রূপ (শিব) অবশ্যই আছে। যেহেতু ইনি সার্বজনীন অর্থাৎ সবারই বাবা। ভারতেও অনেক শিবের মন্দির আছে, যাকে শিবালয় বলা হয়, অর্থাৎ শিবের থাকার জায়গা। সত্যযুগে থাকে দেবী-দেবতা ধর্মের মনুষ্যরা। কিন্তু ঐ ধর্ম কখন কোন কালে ছিল, ওনাদের রাজত্বকাল কখন বা কোন সময়কালে ছিল ...... এটা কারও সেভাবে জানা নেই। সত্যযুগের আয়ুকেও বিশাল লম্বা বর্ণনা করা হয়েছে। তাই বাবা বসে তা বোঝাচ্ছেন, তোমাদের উপর এখন বৃহস্পতির দশা চলছে -যা ২১ জন্ম পর্যন্ত্য চলে। এই বৃহস্পতিই হলেন জ্ঞানের সাগর পতিত-পাবন, যাকে সবাই স্মরণ করে থাকে। ওনার (শিবের) উদ্দেশ্যেই বলে যে, তুমিই আমাদের মাতা-পিতা আর আমরা তোমার সন্তান, এ সব তো ওনারই মহিমা। এটা তো নিশ্চিত, সত্যযুগ ত্রেতাতে অবশ্যই পর্যাপ্ত সুখ-শান্তি ছিল। এই বাবাই সেই স্বর্গের (গড ফাদার) ঈশ্বরীয় পিতা। তিনিই যখন স্বর্গের রচয়িতা, তখন তো নিশ্চয় আমাদেরও স্বর্গেই থাকা উচিত। বাবা সেটাও বোঝাচ্ছেন, তোমরা সকলে স্বর্গবাসীই ছিলে, কিন্তু এখন তোমরা নরকবাসীতে পরিনত হয়েছ। আদি সনাতন দেবী- দেবতা ধর্ম এই ভারতেই ছিল। যেরকম ক্রিশ্চান ধর্মে আছে, সেই একই ক্রিশ্চান ধর্মই ক্রমাণ্বয়ে চলে আসছে। বাবা বলেন- কিন্তু তোমরা দেবী-দেবতা ধর্মের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের ধর্মকে ভুলে গেলে কেন ? যেখানে নাকি তোমরা এত উন্নত দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলে। বাবা বাচ্চাদের সেই স্মৃতিকেই জাগিয়ে তোলেন আর বলেন -তোমাদেরই সব থেকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, ও শ্রেষ্ট কর্ম ছিল। কিন্তু, এখন তোমরা নীচ, পাপী, কাঙ্গাল হয়ে গেছো। তোমরা যদি দেবী-দেবতাদের পূজারী হও, তাহলে নিজেদের আবার হিন্দু কেন বলো ? সত্যি, ভারতের এ কি হাল হয়েছে এখন ! যারা ছিল দেবতা ধর্মের- তারা নিজেরাই বিকারী হওয়ার কারণে আর নিজেকে দেবতা বলতে পারছে না। বাবা জানাচ্ছেন- এখন তো এই পতিত দুনিয়ার অন্ত বা শেষ সময়। আর মহাভারতের যুদ্ধও দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। (ভগবানুবাচ) ভগবান নিজেই বলছেন- " তাই তো আমি তোমাদেরকে সেই সত্যযুগের রাজত্ব প্রদানের লক্ষ্যে রাজযোগ শেখাচ্ছি।" ভগবান তো একজনই। আর আমরা ওঁনার বাচ্চা- অর্থাৎ শালিগ্রাম। বাবা আরও বলেন- তোমরা যারা একদা পূজ্য ছিলে, তারাই আবার বর্তৃানে পূজারী ভক্ত হয়ে গেছো। এখন আবার সেই জ্ঞান ধারণ করছো, পূজ্য দেবতা হবার লক্ষ্যে। আবার দ্বাপর থেকে সেই পূজ্যরাই - পূজারী হয়ে যাবে। তোমরাই পুরোপুরি ৮৪ জন্ম পাও। যারা সেই ৮৪ জন্ম পেয়েছে, একমাত্র তারাই কল্পের নিয়মে আবারও এখানে এসে -ব্রহ্মাকুমার, ব্রহ্মাকুমারী হবে। আর এই ব্রহ্মা দ্বারাই আদি সনাতন ধর্মের স্থাপনা হয়- এটাও কথিত আছে। ব্রহ্মা যখন প্রজাপিতা, তখন তো তাঁর অনেক বাচ্চাও হবে অবশ্যই। আর সেটা তো নিশ্চয় এই দুনিয়াতেই হতে হবে। কত বিপুল সংখ্যক প্রজাও তো হবে। আর এই ব্রাহ্মণদেরই আবার দৈবী-গুনের দেবতা হতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই বাবা এসে, শূদ্রের বদলে ব্রাহ্মণ ধর্মের স্থাপনা করেন। আর এই সঙ্গমযুগেই সেই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয়। যেহেতু এটাই হলো সেই কল্যাণকারী সঙ্গমযুগ। তাই এর নিমিত্তে যে যুদ্ধ, সেই লড়াইকেই কল্যাণকারী বলা হয়। এই বিনাশের পরেই আবার স্বর্গের দ্বার খোলে। তোমরা এখানে এসেছোই স্বর্গবাসী হতে কিম্বা বিষ্ণুপুরীতে যাবার লক্ষ্যে। তাই তো তোমাদের বাচ্চাদের উপর এখন অবিনাশী বৃহস্পতির দশা লেগেছে। যাকে ১৬ কলা সম্পূর্ণও বলা হয়। তারপর আবার যখন দুই কলা কম হবে, তখন তাকে শুক্রের দশা বলা হবে। সত্যযুগে বৃহস্পতির দশা আছে আর ত্রেতাতে হয় শুক্রের দশা। তারপর এইভাবেই কলা কম হতে থাকে আর নীচে নামতে থাকো, ক্রমে ক্রমে মঙ্গলের, শনির ও রাহুর দশা হয়। জন্ম-জন্মান্তর ধরেই এই উল্টো দশা হয়ে আসছে। এখন এই বাবার দ্বারা তোমাদের উপর বৃহস্পতির দশা বসেছে। উঁনিই হলেন সেই অসীম পারের বেহদের বাবা- যিনি জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন। উঁনিই একাধারে তোমাদের বাবা, শিক্ষক, আবার সৎগুরুও। অন্যেরা সবাই জাগতিক, অর্থাৎ মিথ্যা সম্পর্কের। তারা তো কারুরই কোনও প্রকারের সদগতি করতে পারে না। তাই তো এই দুনিয়াকে বলা হয় অধার্মিক বা অসৎ-এর দুনিয়া। কিন্তু, ওটা অর্থাৎ সত্যযুগ হলো ধার্মিক বা সৎ-এর দুনিয়া। তাই তো এখানকার এই অসৎ বা অ-ধার্মিক দুনিয়াতে সকলেই খুব দুঃখী অবস্থায় আছে। লড়াই-ঝগড়া, মরামারী কি না হচ্ছে, একে বলা হয়-খুনী (নাহেক) গুন্ডাগিরির রাজত্ব ..... অনেকেরই কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কত কি না অত্যাচার করতে থাকে এরা। এক একটা বোমা এরকম ফেলবে যাতে তৎখনাৎ সব ধ্বংশ হয়ে যায়। এটা এমনই এই সঙ্গমযুগ। তাই তো তোমাদের মতম দেবতাদের জন্য, আবারও সেই রকম নতুন দুনিয়াই চাই। তাই এখন বাবা বলছেন- মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা "মনমনাভব" হও। আচ্ছা, এ ধরনের কথা, কোন্ বাবা বলতে পারেন ? -অবশ্যই সেই শিববাবাই। যিনি হলেন নিরাকার। অবশ্য এরকম নিরাকার তো তোমরাও। কিন্তু তোমাদেরকে অবশ্যই পুনঃ-জন্মেতে আসতে হয়। আমি (শিব) কিন্তু সে নিয়মের মধ্যে পড়ি না। এই সময় কালের যা কিছুই আছে, সে সবই তো পতিত অবস্থাতেই রয়েছে, এখানে কিছুই পবিত্র নেই - একজন মানুষও নয়। যেহেতু অবিনাশী নিয়ম অনুসারে তা তো পতিত হতেই হবে। সতো, রজো, তমো পদ্ধতিতে এভাবে নামতেই হয়। এই সময় সৃষ্টিরূপী ঝাড় পুরোটাই জর্জরীভূত-জরাজীর্ণ অবস্থাতে আছে। এই দুনিয়াটা একদমই পুরনো হয়ে গেছে। এখন আবার তাকে নতুন বানাতে হবে। এই পতিত দুনিয়াতে দ্যাখো মনুষ্যের কত বিপুল সংখ্যা। পবিত্র দুনিয়তে কিন্তু অনেক কম সংখ্যকেরাই রাজত্ত করে। সেই সময়ে একটাই ধর্ম থাকে আর অন্য কোন ধর্মই থাকে না। সেই সময়কার ভারতকেই স্বর্গরাজ্য বলা হয়। এরকম বর্ণনা কর হয়ে থাকে- ঘটেতেই সূর্য, ঘটেতেই চন্দ্রমা ..... (দিন-রাত চারিদিকেই শুধু আনন্দ আর আনন্দ।) সত্যযুগের শুরুতে জনসংখ্যা প্রায় ৯ লাখ হবে, পরে ক্রমে ক্রমে তার আবার বৃদ্ধিও হবে। যেমন -প্রথমে অনেক ছোট ফুলের ঝাড় (ঝোঁপ) হয়, যা ক্রমে ক্রমে কত প্রকারের কাঁটা গাছের কত বড় জঙ্গলে পরিণত হয়। কিন্তু দ্যাখো দিল্লির মুঘল গার্ডেনে কত ভাল ভাল ফুলের গাছ থাকে। ভারতে ওর থেকে বড় ও পরিস্কার আর কোন গার্ডেনই নেই। কিন্তু আবার জঙ্গলে দ্যাখো সেখানে কত বড় কাঁটা গাছও হয়। সেই প্রকার সত্যযুগের গার্ডেনও অনেক ছোট আর সুন্দর হয়। আবার তা বৃদ্ধি হতে-হতে গাছও বড় হতে থাকে। যা এখন তো একেবারেই কাঁটার জঙ্গলই হয়ে গেছে। রাবণের কালেই তা আসলে কাঁটায় পরিণত হয়ে যায়। তাই তো বর্তমানের এই দুনিয়াটা হলো কাঁটার জঙ্গল। নিজেদের মধ্যে লড়াই করে একে অপরকে মেরে ফেলে। কি ভীষণ ক্রোধ এদের, যা বাঁদরের স্বভাব থেকেও খারাপ বলা চলে। তাই তো বাবা বলেন-"আমার প্রিয় বাচ্চারা, তোমাদের উপর এখন বৃহস্পতির দশা চলছে। এখন এই সময়ে তোমাদের বিকারগুলির দান দিলেই, তোমাদের সেই গ্রহন-দশা কাটবে। সম্পূর্ণ নির্বিকারী এখন এখানেই হতে হবে। তারপর যখন এই শরীর ছাড়বে তখন অবশ্যই শিবালয়েতেই পৌঁছে যাবে। যেই শিবালয়েতে অনেক সুখের ব্যবস্থা আছে। যেটা একমাত্র দেবী-দেবতাদের রাজ্য। সত্যযুগকেই বলা হয় সেই শিবালয়, আর এই কলিযুগকে বলা হয় বেশ্যালয়। এটাই (বর্তমান দুনিয়া) সেই বেশ্যালয়, যা রাবণ স্থাপন করেছে। তাই এখন বাবা বলছেন- পতিত থেকে পনিত্র-পাবন অবশ্যই হতে হবে, - কিন্তু কি করে তা হবে ? সেটা কি ত্রিবেণী সঙ্গমে গিয়ে গঙ্গাতে স্নান করলে পবিত্র হওয়া যাবে ? সেই স্নান তো জন্ম-জন্মান্তর ধরেই করে আসছে লোকেরা। কোটি কোটি মনুষ্য গিয়ে সেখানে স্নান করেন। কত অনেক নদীতে, নালাতে, খালে-বিলো ইত্যাদিতেও তো তা করে। যেখানেই জল দেখে,
সেখানেই গিয়ে স্নান করে - ডুব দেয়- যেহেতু নিজেরাই নিজেদেরকে পাপী মনে করে। কিন্তু, এখন পারশনাথ-বাবা তোমাদেরকে পারশবুদ্ধি বানাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তো এরকম পারশনাথ বাবাকে কতই না প্রেমের সাথে স্মরণ করা উচিত। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি (সিকীলধে) কল্প পূর্বের হারিয়ে-পাওয়া হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতার ও বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ- ভালবাসা আর সুপ্রভাত। (রুহানি) ঈশ্বরীয় বাবার (রুহানি) বাচ্চাদেরকে জানায় নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সারঃ-

১) এই কাঁটার মতন দুনিয়া থেকে ফুলের বাগানের মতন দুনিয়াতে যাওয়ার জন্য যে কাঁটারূপী যে বিকারগুলি আছে, সেগুলিকে নির্মূল করে দিতে হবে। পারশের মতন অতি জ্ঞাণী তৈরি করার কারিগর এই প্রকার বাবাকে খুবই প্রেমের সাথে স্মরণ করতে হবে।

২) এই কল্যাণকারী সঙ্গমযুগে শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ, আবার ব্রাহ্মণ থেকে দেবতায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে পুরুষার্থ করতে হবে। রাহুরূপী বিকারগুলির গ্রহণকে ছাড়াবার জন্য, বিকারগুলিকে নির্মূল (দান) করতে হবে।

বরদানঃ- 

পুরুষার্থ শব্দটির অর্থকে যথাযথ ভাবে রীতি অনুসারে ব্যবহার করে সর্বদাই যে এগিয়ে থাকে সেরূপ শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থী ভব (হও)।

কখনও কখনও পুরুষার্থী শব্দটির ব্যাবহার করে হেরে যাওয়া বা অসফলতার সম্ভবনায় তাকে ঢাল বানানো হয়। তাই যখন কোন ভুল হয়ে যায়, তখনই বলে দেই যে, আমি তো এখনও পুরুষার্থী। কিন্তু যথার্থ পুরুষার্থীরা কখনও হারে না। কারণ পুরুষার্থ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হল, নিজেকে কে পুরুষ অর্থাৎ আত্মা ভেবে চলা। এরকম আত্মিক স্থিতিতে স্থিত হওয়া পুরুষার্থীরাই তো সর্বদাই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলে, যার আর কখনও থামতে হয় না বা সাহস, উদ্দ্যমতাকেও ছাড়ে না।

স্লোগানঃ- 

মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্মৃতিতে থাকতে পারলে, এই স্মৃতিই মালিকভাবের স্মৃতিকে সামনে এনে দেয়। 

***OM SHANTI***

Google+ Followers