BK Murli 27 July 2016 Bengali

BK Murli 27 July 2016 Bengali

 ২৭-০৭-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা " মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা -- এই মহাভারত লড়াইয়ে পুরানো ঝাড় অর্থাৎ মনুষ্য সৃষ্টি রূপী বৃক্ষ এবার সমাপ্তির দিকে , সেই কারণে লড়াইয়ের পূর্বে বাবার থেকে পূর্ণমাত্রায় অধিকার প্রাপ্ত করো "

প্রশ্ন --: 

বাবা চাইছেন , মাতাদের সংগঠন তৈরি হোক , কিন্তু সেই সংগঠনের বিশেষত্ব কি হবে ?

উত্তর -- : 

এমন সংগঠন হওয়া দরকার যেখানে দেহী অভিমানী (আত্মা অভ্যাসে) থাকার পুরুষার্থ করতে হবে । যাদের অটল নিশ্চয় অথবা নেশা থাকবে যে আমরা নিজেরা পবিত্র হয়ে এই পুরনো দুনিয়াকে পবিত্র করে তুলব এবং পতিত হওয়ার মতো কোনও কাজ করব না l যারা মোহমুক্ত হতে পেরেছে তারাই সংগঠিতভাবে ভাবে চমৎকার দেখাতে পারবে। কারোর মধ্যে কোনো কিছুরই বন্ধন (রগ) থাকা উচিত্ নয় l বিশেষতঃ মোহের বন্ধন খুবই ক্ষতি করে l

ওম্ শান্তি । 

মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা এসব জানে যে মিষ্টি বাবা আমাদের স্বর্গের অধিবাসী বানাতেই এখানে এসেছেন । এসব বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে । প্রত্যেককে এটা বোঝাতে হবে যে আমরা-আত্মারা এই স্মরনের যাত্রার দ্বারাই পবিত্র হই l উপায় কত সহজ , শুধু মাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হয় l বাচ্চারা জানে যে বাবা এক সেকেন্ডেই মুক্তি -জীবনমুক্তির অধিকার দেন l এখন সকলে জীবন বন্ধনে , রাবণ রাজ্যের বন্ধনে আছে । এইসব কথা বাবা আর বাচ্চারা জানেন আর অন্য কেউ এসবের কিছু জানে না । তোমাদের বাচ্চাদের নিশ্চয় আছে যে বেহদের বাবাকে আমরা স্মরণ করলে আত্মার অন্তর্মনে অতীব খুশীর অনুভব হয় l বাবা , যাঁকে আমরা অর্দ্ধকল্প স্মরণ করে এসেছি, আমরা সেই বাবাকে পেয়েছি l দুঃখের সময়ে বাবাকে সবাই স্মরণ করে l দুঃখে তুমিও স্মরণ করতে , কিন্তু এখন তুমি দুঃখী হয়ে আমায় স্মরন করো না l কেননা তুমি জেনেছ , যাঁকে সারা সংসার স্মরন করে সেই বাবা এখন এই পুরনো দুনিয়ায় অবতরিত হয়েছেন l বাবা বারবার বুঝিয়েছেন , এখানে অর্থাত্ সংগঠনে যখন বসবে তখন নিশ্চয় করো - আমি হলাম আত্মা , বাবা এসেছেন পরমধাম থেকে l ড্রামার পরিকল্পিত নিয়মানুসারে বাবাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , এবং কল্পে কল্পে সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থে বাবাকে আসতেই হয় l বাবার প্রতিজ্ঞা ছিল , যখন তোমরা আমাকে ডাকবে এবং অর্দ্ধকল্প সম্পূর্ণ হবে তখন আমি আসব , এবং (শিববাবাকে ) আসতেই হবে । কলিযুগের পরে সত্যযুগের সূচনা হয় বলেই আমাকে আসতে হয় । এইসব শুধুমাত্র তোমরা বাচ্চারা জানো , এই হ'লো সঙ্গমযুগ , এবং বাবা এসেছেন । তোমরা বাচ্চারাও সার্ভিস করছো , দিন-প্রতিদিন পরিচয় দিয়ে চলেছ , আর বাবার পরিচয়ও সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে l এখানে বসে আছ , জেনেছ বেহদের বাবা শিববাবা আমাদের পুনরায় বেহদের রাজ্যাধিকার (বর্সা) দিতে এসেছেন l তোমরা যে বাবা-বাবা বলে কত ডাকছ l আমরা শিববাবার কাছে এসেছি । শিববাবাও বলেন , "আমি পূর্ব কল্পের মতো আবারও সাধারণ শরীরে (তনে) এসেছি l" এইসব ভুলে যাওয়া ঠিক নয় । মায়া এমনিতেই বাবার স্মৃতি ভুলিয়ে অধোগতির দিকে ঠেলে দেয় , আমরা পতিত হই যেখান থেকে আবার আমাদের পবিত্র হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয় l তোমরা জানো যে সর্বের সদ্গতিদাতা এক সত্গুরু হন । শিখ লোকেরাও (পাঞ্জাবীরা) গাইতে থাকে সত্ শ্রী অকাল , পতিতপাবনকেই সত্গুরু বলা হয় । ডেকেও থাকে হে পতিত পাবন । আত্মা ডাকে । এখন তোমরা জেনেছ আমরা এখানে এসেছি বাবার সাথে সামনাসামনি মিলিত হতে l বড়-বড় লোকেরাও একে অপরের সাথে দেখা করতে যায় , কত মহিমা হয় তাদের l এদের অভিযানের জন্য ধুমধাম করে খুশীতে ব্যান্ড ইত্যাদি বাজানো হয় l গুপ্ত রূপে কে আগমন করেছেন এটা তোমরা-ই জেনেছ l ওঁনাকে বলা হয় দূর দেশের নিবাসী ; বিদেশী পর্যটক (মুসাফির ) । তোমরা জেনেছ যে আমরা আত্মারা পরমধামের অধিবাসী । এখানে আমরা বিদেশী ভ্রমণকারী হয়ে এসেছি নিজেদের ভূমিকা পালন করতে । এক এক অক্ষর বাবা যেভাবে বুঝিয়ে দেন , এই দুনিয়ায় কেউই তা' জানে না । তুমি বাবার থেকে সবকিছু শুনছো । সেসব যথার্থ ভাবে ধারণ করতে হবে l বাবা বোঝাচ্ছেন এই কর্মক্ষেত্রে তোমরা সবাই হলে বিদেশী l আমরা শান্তিধাম নিবাসী , নিঃশব্দ দুনিয়া থেকে এই শব্দের দুনিয়ায় পার্ট প্লে করতে আসি l আমরা শান্তিধামের অধিবাসী , বিদেশী পর্যটক হয়ে এখানে এসেছি , চুরাশী জন্মের পার্ট প্লে করতে । এই সময় হলো অন্তিম সময় l তাই বাবা এসেছেন পুরোনো সৃষ্টিকে নতুন করে গড়ে তুলতে l এও তোমরা জানো । চিত্রতেও স্পষ্টতঃ বোঝানো হয়েছে , শিববাবা ব্রহ্মা দ্বারা নতুন দুনিয়ার স্থাপনা করেন । এমন নয় , কৃষ্ণ দ্বারা, বিষ্ণু দ্বারা স্থাপনা করেন । বাবা আসেনই ব্রহ্মা দ্বারা স্বর্গ রচনা করতে l বাবা এসেছেন সাধারণ শরীরে l এই দুনিয়া এখন পতিত দুনিয়া , একজনও পবিত্র নয় । এমনকি শ্রেষ্ঠত্বের প্রথমাসনে বিরাজিত লক্ষ্মী- নারায়ণকেও পতিত হতে হয়েছে । যারা পবিত্র ছিল, তারাই আবার পরে পতিত হয়েছে , তাদের রাজত্ব সহ l তোমরা জানো , আমরা যারা দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলাম তারাই এখন শুদ্র ধর্মে পরিনত হয়েছি l যদিও আমেরিকার মতো দেশগুলোতে বড় বড় বিত্তবান (সাহুকার) থাকে , কিন্তু সত্যযুগের তুলনায় আমেরিকা কিছুই নয় । এই সব পরে তৈরি হয়েছে । এই সকল কিছুই হ'ল স্বল্পকালের জন্য , চটকদার , এ যেন এক মাদারি খেলা l বিনাশ তো অবশ্যম্ভাবী l তোমাদের বাচ্চাদের এবার অনেক নেশা হওয়া দরকার । বাবা , যিনি আমাদের স্বর্গের মালিকানা প্রদান করেন , তাঁকে আমরা বাচ্চারা স্মরণ করবো না , কত আশ্চর্যের ব্যাপার ! মায়া স্মরণ করতে দেয় না l তোমরা বাচ্চারা এখনও এমনই বলো যে বাবা মায়া আমাদের স্মরণ করতে দেয়না l আরে বাবা , যিনি তোমাদের একুশ জন্মের জন্য স্বর্গের মালিক করে দেন , ওঁনাকে তোমরা স্মরণ করতে পারো না ? প্রজাও তো স্বর্গের মালিক হয় , তাই না ! সবাই সুখী থাকে । এখন তো সবাই দুঃখে আছে । প্রাইমমিনিষ্টার , প্রেসিডেন্ট ইত্যাদিদের তো রাত-দিনের চিন্তা লেগে থাকে । লড়াইয়ে কত মৃত্যু হয় l তোমরা জানো মহাভারত লড়াইও প্রসিদ্ধ, কিন্তু সেই লড়াইয়ে কি হয়েছিল, এইসব কারোরই বুদ্ধিতে নেই l কিন্তু বাবা তোমাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান ভরে দিয়েছেন l মহাভারতের লড়াইয়ে অর্থাত্ পুরনো দুনিয়ার মানুষ নিজেদের মধ্যে হানাহানি -মারামারি করে সকলে মৃতুর কোলে ঢলে পড়েছিল ! কত বিশাল মনুষ্য সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেছে ! আত্মাদেরও ঝাড় হয় । প্রথমদিকে ঝাড় নতুন অবস্থায় অনেক ছোটো থাকে , তারপর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হতে থাকে l তোমরা জেনেছ প্রথমে যখন দৈবী ধর্ম ছিল তখন ঝাড় কত ছোট ছিল । আদি সনাতন দেবতা ধর্ম ছিল । এখন তো কত ধর্মের বিভিন্নতা হয়েছে l মহাভারত লড়াই দ্বারা এইসবের বিনাশ অবশ্যই হবে l কিন্তু এই জ্ঞান কারও মধ্যে নেই । যদিও বলবে এই সেই লড়াই, কিন্তু লড়াইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ কি হবে , তা' জানে না । তুমি এখন জ্ঞানের আলোকে আলোকিত । জানো বিনাশ হতেই হবে , এইজন্য মহাভারত লড়াইয়ের পূর্বে নিজেদের অধিকার তো প্রাপ্ত করতে হবে l কথা তো খুবই সহজ , পবিত্র হও আর বাবাকে স্মরণ করো । অনেক বাচ্চাদের ওপরে অত্যাচার হয় । তোমাদের মাতাদের সংগঠন হওয়া দরকার এক দুজনকে বাঁচানোর জন্য । কিন্তু তার জন্য অবশ্যই দেহী-অভিমানী হতে হবে । নিজেদের পবিত্রতা মজবুত করার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে l আমরা হলাম স্ব-দর্শন চক্রধারী, এই নেশা তো থাকা দরকার । আমরা রচয়িতা বাবা আর তাঁর রচনার চক্রকে জানি । এখন আমাদের বাবার থেকে নতুন দুনিয়া , সত্যযুগের রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে । আমরা চুরাশী জন্ম কিভাবে নিই , তা' বোঝাতে থাকো । বাবা বলেন আমায় স্মরণ করো তো তোমরা পাপ মুক্ত হবে । পাবন তো অবশ্যই হতে হবে । পাবন অর্থাৎ পবিত্র । কাম মহাশত্রু । আমরা চুরাশী জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করেছি , এবার বাবার থেকে বিশ্বের রাজ্যভার (বর্সা) গ্রহণ করতে হবে । বাবা বলেন আমায় স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । এখানে তোমরা এসেছ রিফ্রেশ হতে অর্থাত্ তোমরা-আত্মারা নিজেদের স্বধর্ম জাগরিত করতে l বাবাকে স্মরণ করে আমাকে একুশ জন্মের স্বত্বাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে l কারও সাথে মোহের বন্ধনে জড়ানো ঠিক নয় l মোহমুক্ত হতে হবে । এই শরীরের প্রতিও যেন মোহ না থাকে । এর চর্ম ইত্যাদি তো সকলই পুরনো । কিন্তু শরীরের যত্ন নিতে হয় , যাতে এই শরীর দ্বারা জ্ঞানের পাঠাভ্যাস রপ্ত করা যায় । কষ্ট হলে তো প্রলেপ (চত্তী) লাগিয়ে দিতে হয় । তোমরা বুঝতে পার , এই দেহ এক পুরোনো পচে যাওয়া খাঁচা ভিন্ন কিছু নয় l এই শরীরে কিছু না কিছু হতে থাকে । দুঃখ আত্মার হয় l তোমরা জেনেছ এখন এই শরীরকে ত্যাগ করতে হবে । যোগবল দ্বারা এই শরীরকে ভালো রাখতে হবে । বাবাকে স্মরণ করার অভ্যাস জারি রাখতে হবে । নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে , শুধু এইটুকু । আর কোনও লৌকিক সম্বন্ধ স্মরণে আসা উচিত নয় । আমি দেহ নই , আত্মা l বাবা বলেন আমি তোমাদের অধিকার দিতে এসেছি । আত্মা পবিত্র হলে সুন্দর দেহের অধিকারী হওয়া যায় l তোমরা বুঝতে পারছ , এখন আমরা অর্থাত্ আত্মারা পবিত্র হতে চলেছে । আমরাও লক্ষ্মী নারায়ণের মতন পবিত্র ছিলাম । এই লক্ষ্মী নারায়ণও চুরাশী জন্মের চক্র পার করেছিলেন l পুরো সূর্যবংশীয় রাজত্বের সকলেই চুরাশী জন্মের আবর্ত সম্পূর্ণ করেছে । চন্দ্রবংশীদের জন্য চুরাশী জন্ম বলা যাবেনা । তবে যারা সূর্যবংশে প্রথম প্রথম দাস-দাসীর পদপ্রাপ্ত হবে , তারা পুনরায় ত্রেতায় কিছু পদ প্রাপ্ত করে , তাদের জন্য বলা হবে চুরাশী জন্মের চক্র পার করেছে । রাজা-রানী , প্রজা , দাস-দাসী ইত্যাদি সূর্য বংশে আসে , তারাই চুরাশী জন্ম গ্রহণ করে । এই ধরনের কথা নিজের সাথে বলতে হয় । আমরা কিভাবে চুরাশী জন্ম গ্রহণ করি । বিচার সাগর মন্থন করা দরকার । যতটুকু সম্ভব বাবাকে আর অধিকারকে স্মরণ করতে থাকো । চলতে ফিরতে চিন্তা করো যে আমরা হলাম বাবার সন্তান । কারও সাথে দেখা হলে তাদের বাবার পরিচয় দিতে হবে l চিত্রে এইসকল কিছুর জ্ঞান অতি সুক্ষ্ম ভাবে দেখানো হয়েছে l সবকিছুই বলতে হবে । বাবা এসেছেন ব্রহ্মার তনে । আমরা সবাই হলাম ব্রহ্মাকুমার -কুমারী , তাই না । আমাদের বী .কে.দের স্বর্গের মালিকানা দিতে বাবা এসেছেন । সকল আত্মাদের বাবা এক হয় । আমরা হই ব্রহ্মাকুমার - কুমারী । নিজের নিজের কার্ডও দেখাতে পারো । অফিস ইত্যাদিতেও কার্ড দিতে হবে, না হলে তারা বুঝতে পারবে না যে বী.কে. কারা ! অনেক প্রকারের বিঘ্ন আসতে থাকে । গভর্মেন্টকেও বোঝানো যায় এটা হলো আমাদের পরিবার । দাদা আর বাবা । দাদা (দাদু) দ্বারা আমরা অধিকার প্রাপ্ত করে থাকি। এইসব স্মরণ করে খুশীতে থাকতে হয় । সম্পত্তি তো দাদার (দাদুর) । দাদুর সম্পত্তিতে নাতি-পুতিদের সম্পূর্ণ অধিকার থাকে আর তারা পুরোটাই ভাগ করে নেয় । তুমিও জানো যে শিববাবার থেকে ব্রহ্মা দ্বারা আমরা অধিকার প্রাপ্ত করে থাকি । এইসব স্মরণ রাখা উচিত । পড়তে হবে আবার পড়াতেও হবে । এটা বাবার দায়িত্ব (ফর্জ) বাচ্চাদের পালন করা । যতক্ষণ কুমার-কুমারী প্রাপ্তবয়স্ক (বালিগ) না হয় , ততদিন বাবাকে তাদের সামলে রাখতে হয় । বাচ্চাদের কাজ হলো পড়া l স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য পড়তে হয় । তোমরা জেনেছ বাবা আমাদের একুশ জন্মের জন্য পড়াচ্ছেন । পুনরায় আমরা স্বাবলম্বী অর্থাৎ নিজের পায়ে দাঁড়াবো । যত আমরা পড়াশোনা করবো , তত উচ্চ পদ প্রাপ্ত করব । তোমরা নিজেরাই বলো আমরা এখানে আসি শ্রীলক্ষ্মী বা শ্রী নারায়ণ হতে l এইসবই তো সত্য নারায়ণের কথা l কারোর জানা নেই যে লক্ষ্মী নারায়ণ চুরাশী জন্ম কিভাবে গ্রহন করে । রাধের ভক্তরা তো বলবে রাধে হাজিরাহুজুর অর্থাৎ উপস্থিত আছে । যেদিকে দেখো সেদিকেই রাধেই রাধে, কৃষ্ণই কৃষ্ণ, শিবই শিব...l এইসব কিছু রটিয়ে দিয়েছে (গুড়-গুড়ধানী) । ঈশ্বর, রাধে, কৃষ্ণ সকলে সর্বব্যাপী । এখানে সবাই হলো ঈশ্বরের রূপ । ভগবান এই রূপ ধারণ করেছেন । যেদিকে দেখো সেদিকেই তুমি ভগবান , শুধু তুমি ... একদম অবুঝ হয়ে আছে । এই হলো বিকারী পতিত দুনিয়া । সত্যযুগ হলো নির্বিকারী পবিত্র দুনিয়া । ওয়াইজলেস্ ওয়ার্ল্ডের অর্থই হ'ল স্বর্গ । বলে , সেখানে তো শিশুরা আছে , সেই শিশুরা (সন্তান ) কিভাবে ভূমিষ্ঠ হবে ! ব্যস , শুধু মাত্র এই প্রশ্নই তোমাদের সামনে তুলে ধরবে l তারা বলবে , সন্তান জন্ম না নিলে সৃষ্টি কিভাবে বাড়বে ! প্রতি বছর আদম-শুমারীর হিসেব বার করে দেখা হয় কত মানুষের বৃদ্ধি হয়েছে । এটা বলে না যে কত গত হয়েছে । তাহলে বাচ্চাদের তো প্রথমে নিজের কল্যাণ করতে হবে । আমি হলাম আত্মা - সর্বপ্রথমে এটা নিশ্চয় করো । বাবাকে স্মরণ করতে হবে । অন্তিমকালে যে নারায়ণ স্মরণ করবে ... এখানে নারায়ণ স্মরণ এই শব্দও ভুল লিখেছে । অন্তিম কালে যে শিববাবাকে স্মরণ করবে ...আর তাঁর ভাবনায় দেহ ত্যাগ করবে , সেই স্বর্গের নারায়ণ-পদের অধিকারী হবে l অন্তিম কাল নারায়ণ কেন বলা হয় ? তারা বোঝে এইসব জ্ঞান কৃষ্ণ দিয়েছিল, সেইকারনে কৃষ্ণকে কেন স্মরণ করবো না ! এইজন্যই কৃষ্ণকে স্মরণ করতে থাকে । নারায়ণকে কেউই জানে না । কৃষ্ণ জয়ন্তী পালন করে , কিন্তু রাধের জয়ন্তী কোথায় ? কৃষ্ণের জন্মদিন পালিত হয় , তাহলে নারায়ণ কোথায়? বিশ্বের রাজা-রানী যে লক্ষ্মী নারায়ণ, সেসব কেউই জানে না । প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখ বংশাবলী হবে তো ! কোথায় গেলো ! বলা হয় ব্রাহ্মণ দেবী-দেবতা নম :। ব্রহ্মার মুখ বংশাবলী ছিল । বাচ্চারা বুঝতে পারে ব্রহ্মা দ্বারা শিববাবা ব্রাহ্মণ ধর্ম স্থাপন করেছেন । ব্রাহ্মণ ধর্ম ব্রহ্মার রচনা করেন নি , করেছেন শিববাবা । ব্রহ্মা তো এখন রচিত হয়েছেন l আচ্ছা -

মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে (হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্নেহ সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারনার জন্য মুখ্য সার --:

১. এই পুরোনো শরীরে থেকে জ্ঞানের পাঠাভ্যাস করে একুশ জন্মের জন্য উপার্জন করতে হবে , এইজন্য এই শরীরের যত্ন নিতে হবে । এ ছাড়া এই শরীরের সাথে কোনো মোহ রেখো না ।

২. এমন অভ্যাস শুরু করো যাতে অন্তিমকালে এক শিববাবা ছাড়া আর কারোরই স্মরণ মনে না আসে । অন্য কোনো চিন্তনে যেও না । নিজের কল্যাণ করতে হবে ।

বরদান ---: 

আওয়াজ থেকে উপরম স্থিতিতে স্থিত হয়ে সর্ব গুণের অনুভবী হয়ে মাষ্টার বীজরূপ ভব (হও) !

বীজে যেমন সম্পূর্ণ বৃক্ষ সমাহিত হয় , সেইরকমই আওয়াজের উর্ধ্বে উপরম স্থিতিতে সঙ্গমযুগের সকল বিশেষ গুণ অনুভবে আসে । মাষ্টার বীজরূপ পরিনত হওয়া অর্থাৎ শুধু মাত্র শান্তি নয় কিন্তু শান্তির সাথে জ্ঞান, অতীন্দ্রিয় সুখ , প্রেম , আনন্দ, শক্তি ইত্যাদি -ইত্যাদি সকল মুখ্য গুণের অনুভব করতে হবে । এই অনুভব শুধুমাত্র নিজের নয় , অন্য আত্মারাও যেন চেহারায় বিস্তৃত প্রভা দ্বারা সর্বগুণের অনুভব করে । এক গুণে সর্বগুণ সমাহিত থাকে ।

স্লোগান --:

 যা ভালো , ধারণ করো কিন্তু সেই ভালোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ো না ।

***OM SHANTI***

Google+ Followers