BK Murli 3 July 2016 Bengali

BK Murli 3 July 2016 Bengali

 ০৩-০৭-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি “অব্যক্ত-বাপদাদা” মধুবন রিভাইসঃ১৪-১০-১৬

সকল খাজানার একটিই চাবি একটি শব্দ- ‘বাবা’

আজ ভাগ্য বিধাতা বাবা নিজের ভাগ্যশালী বাচ্চাদেরকে দেখছেন। ভাগ্যশালী সকলেই হয়েছে, কিন্ত ভাগ্যশালী শব্দের আগে কোথাও সৌভাগ্যশালী, কোথাও পদমাপদম ভাগ্যশালী। ভাগ্যশালী কথাটা উভয়ের জন্যই বলা হয়। কোথায় শত আর কোথায় পদম, প্রভেদ হয়ে যায় না ! ভাগ্যবিধাতা তো একজনই। বিধাতার বিধিও একই। সময় এবং বেলাও একই। তবুও নম্বর অনুসারেই হবে না ! বিধাতার বিধি কত শ্রেষ্ঠ এবং সহজ। লৌকিক রীতিতেও আজকাল যদি আমরা দেখি, কারো ওপরে গ্রহের দশা থাকলে ভাগ্য বদলে যায়, তখন গ্রহদশাকে দূর করে শ্রেষ্ঠ ভাগ্য গড়বার জন্য কত প্রকারের বিধির সাহায্য নেয়। কত সময়, কত শক্তি এবং সম্পদ তার পিছনে ব্যয় করে। তবুও তাতে অল্প কালের ভাগ্যেরই নির্মাণ হয়। এক জন্মেরও গ্যারান্টি নেই, কেননা তারা বিধাতার দ্বারা তাদের ভাগ্যকে বদলাচ্ছে না। অল্পজ্ঞ, অল্প সিদ্ধি প্রাপ্ত ব্যক্তির দ্বারা অল্প কালের প্রাপ্তি লাভ করে। তারা হল অল্পজ্ঞ ব্যক্তি আর এখানে হলেন বিধাতা। বিধাতা দ্বারা অবিনাশী ভাগ্যের রেখা অঙ্কন করে নিতে পারো। কেননা ভাগ্যবিধাতা দু’জন পিতা এই সময় বাচ্চাদের জন্য উপস্থিত যে(হাজির-নাজির)। ভাগ্যবিধাতার কাছ থেকে যতখানি সম্ভব ভাগ্য নিতে চাও এখন ততই নিতে পারো। এই সময়ই ভাগ্য-দাতা ভাগ্য বণ্টন করতে এসেছেন। ড্রামানুসারে এই সময়ের বরদান রয়েছে। ভাগ্যের ভান্ডারগুলি একেবারেই উন্মুক্ত রয়েছে। শরীরের ভান্ডার, মনের ভান্ডার, ধনের, রাজ্যের, প্রকৃতির দাসী হওয়ার, সকল ভাগ্যের ভান্ডারগুলি উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিধাতার দ্বারা কারোরই স্পেশাল প্রাপ্তির সুযোগ নেই। প্রত্যেকেরই এক রকমই সুযোগ রয়েছে। কোনো কারণেরই বন্ধনের রূপে নেই। পরে আসার কারণে, প্রবৃত্তিতে(গৃহস্থে) থাকার কারণে, শরীরের অসুখ-বিসুখের কারণে, বয়সের কারণে, স্থূল ডিগ্রি বা শিক্ষার কারণ- কোনো প্রকারেরই কোনো কারণের তালা ভান্ডারের মধ্যে লাগানো নেই। দিনরাতই ভাগ্যবিধাতার ভান্ডার ভরপুর এবং উন্মুক্ত রয়েছে। কোনো দারোয়ান রাখা হয়েছে কি? কোনো চৌকিদার নেই। তবুও দেখো নেওয়ার ব্যাপারে নম্বরে পড়ে যায়। ভাগ্যবিধাতা নম্বর দেখে দেন না। এখানে ভাগ্য নেওয়ার জন্য লাইনেও দাঁড়াতে হয় না। এতো বিশাল ভান্ডার। যখনই চাও, যা যা চাও নেওয়ার অধিকারী। এমন তো ? কোনো রাজমুকুট বা কিউ(লাইন) নেই তো ? অমৃতবেলায় দেখো- দেশ-বিদেশের সকল বাচ্চারা একই সময়ে ভাগ্যবিধাতার সাথে মিলিত হতে আসে, তো দেখা তো হয়েই যায়। মিলিত হওয়া মানেই তো দেখা হওয়া, চাইতে হয় না, বরং সবচেয়ে বড়োর চেয়েও বড়ো, পিতার সাথে দেখা হওয়া অর্থাৎ ভাগ্যের প্রাপ্তি হওয়া। এক হল বাচ্চাদের বাবাকে পাওয়া, আর দ্বিতীয় হল অনেক কিছু পেয়ে যাওয়া। তো মিলনও হয়ে যায় এবং ভাগ্যের প্রাপ্তিও হয়ে যায়। কেননা বড় মাপের মানুষেরা কখনো কাউকে খালি হাতে যেতে দেয় না। আর বাবা তো হলেনই বিধাতা, বরদাতা, ভরপুর ভান্ডার তাঁর। খালি হাতে ফেরাতে কী করে পারবেন। তবুও ভাগ্যশালী, সৌভাগ্যশালী, পদম ভাগ্যশালী, পদমাপদম ভাগ্যশালী, এরকম কেন তৈরী হয় ? প্রদাতা উপস্থিত, ভাগ্যের ভান্ডারও ভরপুর, সময়েরও বরদান রয়েছে এবং এই সকল বিষয়েও জ্ঞান তাদের রয়েছে অর্থাৎ তারা বোঝেও। বোঝেনা যে তাও নয়, তবুও প্রভেদ কেন(ড্রামা অনুসারে) ড্রামারও এখন বরদান রয়েছে, সেই কারণে ড্রামাও বলতে পারা যাবে না।
বিধিও(উপায়) দেখো কত সরল, কোনো পরিশ্রম করার কথাও বলা হয় না, ধাক্কা ধাক্কিতেও যেতে হয় না, খরচাও করানো হয় না। বিধিও হল একটিই শব্দের। সেই শব্দটি কি ? একটিই শব্দ- জানো সেটি কি? একটি শব্দই হল সকল খাজানার বা শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের চাবি। সেটাই হল চাবি, সেটাই হল বিধি। তো সকলের কাছে চাবিটি আছে তো ? তাহলে এই ফারাক থেকে যাচ্ছে কেন ? চাবি কেন আটকে যায় ? রাইটের(ডানদিক) পরিবর্তে লেফট(বামদিকে) কেন চাবিটিকে ঘুরিয়ে দাও(চক্রের বিপরীত দিকে)? স্বচিন্তনের পরিবর্তে পরচিন্তন- এটাই হল উল্টো দিকের চাবি ঘোরানো। স্বদর্শনের পরিবর্তে পরদর্শন, বদলাবার পরিবর্তে বদলা নেওয়ার ভাবনা, স্বপরিবর্তনের পরিবর্তে পর-পরিবর্তনের ইচ্ছা রাখা। কাজ আমার নাম হল বাবার, এর পরিবর্তে নাম হল আমার আর কাজ হল বাবার, এই প্রকারের উল্টো চাবি ঘুরিয়ে দেয়, তো খাজানা থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যহীন। ভাগ্য লাভ করতে পারে না। ভাগ্যবিধাতার সন্তান অথচ কী হয়ে যায় ! সামাণ্য অঞ্চলিমাত্র নেওয়ার ভাগ্য গড়ে নেয়। আর কি করে ?
আজকাল লৌকিক জগতে মূল্যবান খাজানা লকারে বা সিন্দুকে ভরে রাখে। সেগুলি খোলার জন্য ডবল চাবি লাগাতে হয় অথবা দুটো চাবি দিয়ে ঘোরাতে হয়। যদি বিধি বা উপায় ব্যবহার করা না হয় তবে তো খাজানা বের করা যাবে না। লকারে তুমি একটা চাবি লাগবে, আর একটি চাবি ব্যাঙ্কের লোকেরা লাগাবে। তো ডবল চাবি থাকে তাই না ! তুমি যদি শুধুই তোমার চাবি দিয়ে খুলতে চাও, তাহলে খুলবে না। তো এখানেও তুমি এবং বাবা দুজনের স্মরণের চাবি চাই। অনেক বাচ্চা নিজের নেশার বশে বলে দেয় যে আমি অনেক কিছু জেনে গেছি, আমি যা চাই সেটাই করতে পারি। বাবা তো আমাকে মালিক বানিয়ে দিয়েছেন। এমন উল্টো ‘আমিত্ব’ ভাবের নেশায় আমার সাথে বাবার সম্বন্ধ ভুলে গিয়ে নিজেকেই সব কিছু ভেবে নেয়। আর একটি চাবি দিয়ে খুলতে চায়। অর্থাৎ খাজানার অনুভব করতে চায়। কিন্তু বাবার সাহায্য ব্যতীত বা বাবার সঙ্গ ছাড়া খাজানা লাভ সম্ভব নয়, চাই ডবল চাবি। অনেক বাচ্চাই অর্থাৎ বাপদাদা অর্থাৎ উভয় বাবার পরিবর্তে একজন বাবার দ্বারা খাজানার মালিক হওয়ার বিধিকে অবলম্বন করে, তাতেও প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। আমাদের হল ডাইরেক্ট নিরাকারের সাথে কানেকশন, সাকারও তো নিরাকারের থেকেই পেয়েছে, সেইজন্য আমরাও নিরাকারের কাছ থেকেই সব নেবো, সাকারকে কি প্রয়োজন ? কিন্তু এমন চাবি খন্ডিত চাবি হয়ে যায়। সেইজন্য সফলতা প্রাপ্ত হয় না। মজার ব্যাপার হল যে, নিজেদেরকে ব্রহ্মাকুমার কুমারী বলবো আর কানেকশন শিবের সাথেই রাখবো। তো নিজেকে শিবকুমার, কুমারী বলো না ! সারনেইমই হল শিববংশী ব্রহ্মকুমার, কুমারী, তো উভয় বাবারই সম্বন্ধ রয়েছে না !
দ্বিতীয় বিষয়- শিববাবাও ব্রহ্মা দ্বারাই নিজেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। ব্রহ্মা দ্বারা ব্রাহ্মণদের অ্যাডপ্ট করেছেন। একা করেননি। ব্রহ্মা মা বাবার পরিচয়ও দিয়েছেন। ব্রহ্মা মা লালন পালন করে উত্তরাধিকারের যোগ্য বানিয়েছেন। তৃতীয় বিষয়- রাজ্যভাগ্যের প্রালব্ধতে কার সাথে আসবে? নিরাকার তো নিরাকার দুনিয়ার অধিবাসীই হয়ে যাবে। সাকার ব্রহ্মা বাবার সাথে রাজ্য ভাগ্যের প্রালব্ধ ভোগ করবে। সাকারে হিরো পার্ট প্লে করবার ভাগ্য, সেটা কি ব্রহ্মা বাবার সাথে নাকি নিরাকারের সাথে ? বেশী সময় সাকারে পার্ট প্লে করবে নাকি নিরাকারে ? তো সাকারকে ছাড়া সকল ভাগ্যের ভান্ডারের মালিক কি করে হবে ? তো খন্ডিত চাবি লাগিও না। ভাগ্যবিধাতা তো ভাগ্য বণ্টনই করেছেন ব্রহ্মার দ্বারা। ব্রহ্মাকুমার কুমারী না হলে ভাগ্য তৈরী হতে পারে না।
তোমাদের স্মরণিকাতেও একথা প্রচলিত রয়েছে যে ব্রহ্মা যখন ভাগ্য বন্টন করছিলেন, তখন কি ঘুমিয়ে ছিলে ! ঘুমিয়েছিলে নাকি হারিয়ে গিয়েছিলে ? সেইজন্য উল্টো চাবি লাগিও না, ডবল চাবি লাগাও। ডবল বাবা এবং ডবল তুমি আর বাবাও-- এই সহজ বিধি দ্বারা সদা ভাগ্যের খাজানার দ্বারা পদমাপদম ভাগ্যশালী হতে পারো। কারণের নিবারণ করো, তবেই সদা সম্পন্ন হয়ে যাবে। বুঝেছো। আচ্ছা।
এমন ভাগ্যবিধাতা সদা শ্রেষ্ট ভাগ্যবান বাচ্চাদেরকে, সহজ বিধি দ্বারা বিধাতাকেই আপন বানিয়ে সদা ভাগ্যের খাজানাকে খুলতে পারা ‘বাবা-বাবা’ বলতে হয়তো থাকেনা, কিন্তু ‘বাবা’কে নিজের বানিয়ে এবং খাজানাকে প্রাপ্তকারী, এমন সদা অধিকারী বাচ্চাদেরকে বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং নমস্কার।
পার্টিদের সাথে বাপদাদার ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ- 
অনেক তো শুনলে, শোনার পরে স্বরূপ হয়েছো ? শোনা মানেই হল স্বরূপ হওয়া। একে বলা হয় ‘মনরস’। শুধুমাত্র শোনা হল কনরস। কিন্তু শোনা এবং হওয়া- এটাই হল ‘মনরস’। মন্ত্র তো রয়েইছে ‘মনমনাভব’। তোমার মনকে বাবার প্রতি লাগাও। মন যখন লেগে যায়, তখন মন যেখনে থাকবে, সেখানে স্বরূপও সহজেই হয়ে যাবে। যেমন দেখো তুমি কোনো একটি স্থানে বসে আছো, তোমার মন কোনো খুশির কথায় বা বিষয়ে ডুবে গিয়ে আনন্দিত হয়ে উঠলো, ফলে তোমার স্বরূপও সেই রূপই হয়ে উঠল। তো মন-রস অর্থাৎ যেমন মন হবে, তেমনই গঠিত হবে। এখন কনরসের সময় সমাপ্ত হয়েছে এবং মনরসের সময় বেচে রয়েছে। তাহলে এখন কি হয়ে গেছো ? ভাগ্যের খাজানার মালিক সর্বশ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান হয়ে গেছো তো ? যেমন বাবা তেমনই আমি। এমন মনে করো তো ? চাবিও বলে দিয়েছি এবং বিধিও বলে দিয়েছি। এখন সেটা লাগানো তোমার কাজ। চাবি লাগাতে পারো তো ? চাবি যদি উল্টো দিকে চক্কর লাগাতে থাকে, তবে কিন্তু কঠিন হয়ে যাবে। চাবি চলে যাবে আর খাজানাও চলে যাবে। তো তোমরা সবাই চাবিটি লাগানো পদমাপদম ভাগ্যশালী তো ? পদমাপদম ভাগ্যশালীর লক্ষণ কি হবে ? তাদের প্রতিটি কদমে পদম হবে এবং তারা প্রত্যেক কদমে পদমগুণ জমা করবে, এক কদম পদম থেকেও বঞ্চিত হবে না। সেইজন্য ডবল পদম, এক কদম কমল পুষ্পকেও বলা হয়। যদি কমল পুষ্পের মতো না হও, তবে নিজের ভাগ্যকে গড়তে অসমর্থ হয়ে যাবে। চোরাবালি বা পাঁকে ফেঁসে যাওয়া অর্থাৎ ভাগ্যকে হারিয়ে ফেলা। তো পদমাপদম ভাগ্যশালী অর্থাৎ পদম সমান থাকা এবং পদমগুণ জমা করা-- তো দেখো এই দুটি হল লক্ষণ। সদা বন্ধনমুক্ত(ন্যারা) এবং বাবার প্রিয় হয়েছো ? বন্ধনমুক্তই হল বাবার প্রিয়। যে যত বন্ধনমুক্ত থাকে, ততই বাবার প্রিয় হয়ে যায়। কেননা বাবাও হলেন সদাই বন্ধনমুক্ত। তবেই সে বাপ সমান হয়ে গেল না ! তো প্রতিটি কদম চেক করো যে প্রতিটি সেকেন্ডে, প্রতিটি সংকল্পে, প্রতিটি বোল, প্রতিটি কর্মে, পদম উপার্জন হয় ? সমর্থ বোল, কর্মও সমর্থ, সংকল্পও সমর্থ। সমর্থে উপার্জন হবে আর ব্যর্থতে উপার্জন ব্যয় হয়ে যাবে। অতএব প্রত্যেকে নিজের চার্ট চেক করতে থাকো। কোনো কিছু করবার পূর্বে চেক করতে হবে, এটাই হল যথার্থ চেকিং । করার পরে চেক করলে, যা করেছো সেটা তো হয়েই গেছে না ! সেইজন্য প্রথমে চেক করো, তারপরে করো। সমঝদার বা নলেজফুলের লক্ষণই হল - ‘আগে ভাবা, পরে করা’। করার পরে যদি ভাবো, তবে অর্ধেক হারিয়ে ফেললে,অর্ধেক পেলে। করবার পূর্বে যদি ভাবো, তবে সর্বদাই পাবে। জ্ঞানী আত্মা অর্থাৎ সমঝদার ব্যক্তি কেবলমাত্র রাতে বা সকালে চেক করে না, বরং প্রত্যেক সময়ই আগে চেক করে তবেই করবে। যেমন বড় বড় ব্যক্তিরা খাবার গ্রহন করবার পূর্বে চেক করিয়ে তবেই খান। এই সংকল্পও হল বুদ্ধির ভোজন, সেইজন্য তোমাদের বাচ্চাদের সংকল্পের আগে চেকিং করে তবেই গ্রহন করা উচিত,অর্থাৎ কর্ম করা উচিত। সংকল্পই চেক করা হয়ে থাকে, তবে বাণী এবং কর্মও স্বভাবতই চেক হয়ে যাবে। সংকল্পই হল যে বীজ। তোমাদের চেয়ে বড় কল্পে আর কেউ যে হয় না।
টিচারদের সাথে মিটিং- সেবাধারীদের বিশেষত্বই হল- ‘ত্যাগ এবং তপস্যা”। যেখানে ত্যাগ এবং তপস্যা থাকবে সেখানেই সেবাধারীদের সফলতা। সেবাধারী অর্থাৎ যার এক বাবা ছাড়া আর কেউ নেই। এক বাবাই হল সমগ্র সংসার। যখন সংসারই বাবা হয়ে গেল তবে আর কি চাই। বাবা ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। চলতে-ফিরতে খেতে জাগতে এক বাবা, দ্বিতীয় আর কেউ নয় । এটা স্মৃতিতে রাখা অর্থাৎ সফলতা মূরত হওয়া। সফলতা যদি কম হয়, তবে চেক করো- নিশ্চয়ই বাপাদাদার সাথে মাঝে দ্বিতীয় কেউ এসে গেছে। এটা স্মৃতিতে রাখা অর্থাৎ সফলতার প্রতিমূর্তি হওয়া। সফলতা কম এলেই চেক করো- দ্বিতীয় কেউ মাঝখানে এসে যায়নি তো ? সফলতার প্রতিমূর্তির লক্ষণ হবে এক বাবার মধ্যেই সমগ্র সংসার।
কুমারীদের সাথে মিটিং - কুমারীদেরকে দেখে বাপদাদা খুবই আনন্দিত হন। কেন ? কেননা এক একজন কুমারী অনেককে জাগ্রত করার কাজে নিমিত্ত হয়। তো কুমারীদের ভবিষ্যৎ দেখে বাপদাদা আনন্দিত হন। এক একজন কুমারী বিশ্বকল্যাণকারী হবেন। পরিবারের কল্যাণকারী নয়, বিশ্বকল্যাণকারী, কুমারী যদি গৃহস্থী হয়ে যায়, তবে তো পরিবারের কল্যাণকারী হয়ে গেল, আর ব্রহ্মাকুমারী হয়ে গেলে সে বিশ্বকল্যাণকারী হয়ে গেল। তো কি হতে চাও ? এমনিতেও দেখো ভক্তিকালের শেষ সময় কাল পর্যন্ত কুমারীদের পূজা হয়ে থাকে। তাই শেষ সময় কাল পর্যন্ত এত শ্রেষ্ঠ তোমরা। কুমারী জীবনের মহত্ব অনেক। কুমারীদের ব্রাহ্মণ জীবনে লিফটও রয়েছে। কুমারীরা কত দ্রুত সেবাকেন্দ্রের ইনচার্জও হয়ে যায়। কুমারদের দেরিতে সুযোগ আসে। কুমারীরা যদি রেসে এগিয়ে যেতে পারে তবে নিজেকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একজন কুমারী অনেকগুলো সেবাকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করে। ড্রামানুসারে এই লিফটের গিফট নিয়মানুসারেই প্রাপ্ত হয়। মেহনতের বলে নয়। কুমারীদের বিশেষত্ব কি ? কুমারী জীবন অর্থাৎ সম্পূর্ণ পবিত্র। কুমারী জীবনে যদি এই বিশেষত্ব না থাকে, তবে এর কোনো মহত্বই নেই। ব্রহ্মকুমারী অর্থাৎ মনসাতেও কোনো অপবিত্রতার সংকল্প আসবে না। তখনই তারা পূজ্য হবে, নইলে খন্ডিত হয়ে যায় এবং খন্ডিতের কোনো পূজা হয় না। তো এই বিশেষত্বকে জানো তো ?
এতসব কুমারীরা যদি সেবাধারী ধারী হয়ে যায়, তবে কত সেন্টার খুলে যেতে পারে ! বাপদাদা কাউকেই লৌকিক সেবা ছাড়তেও বলেন না। তবে ব্যালেন্স যেন থাকে। যত এই সেবায় ব্যস্ত হয়ে যাবে, ততই সেটা নিজে থেকেই আলগা হয়ে হয়ে যাবে। কাউকে চাকরী ছাড়তে বললে সে চিন্তায় পড়ে যায়। যেমন অজ্ঞানীকে যদি বলো বিড়ি ছাড়ো, সিগারেট ছাড়ো, তো সে সহজে ছাড়বে না, যখন নিজে থেকে অনুভব করবে, তখনই ছাড়বে। ঠিক তেমনই তোমরাও যখন এই সেবাতে ব্যস্ত হয়ে যাবে, তখনই সব ছুটে যাবে। এখনো পর্যন্ত গুজরাত পণে সেন্টার পায়নি, বম্বে পেয়েছে। গুজরাত যা তা করতে পারে। কোনো কিছুরই অভাব নেই, কেবল সংকল্প এবং সিস্টেম চালু হয়নি। সকল কুমারীরা বাপদাদার কুলদীপক তাই না ? নিজের ভাগ্যকে দেখে যদি সর্বদা আনন্দিত থাকো, তবে এই জীবনে বাবার-ই হয়ে গেলে। এই জীবনে তোমাকে পতনের দিকেও নিয়ে যেতে পারে আবার উত্থানের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। তো সকলে আরোহী কলার কলার রাস্তায় পৌঁছে গেছো। আচ্ছা।

বরদানঃ - 

প্রতিটি কদম সাবধানে পা ফেলে পদমগুণ উপার্জনকারী পদমাপতি ভব

বাবা বাচ্চাদেরকে অনেক উঁচু স্টেজে থাকবার জন্য সাবধানবাণী দিচ্ছেন। সেইজন্য এখন সামাণ্যতম গাফিলতি করবার সময়ও অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি কদম সাবধানে রেখে, প্রতি কদম পদমগুণ উপার্জন করে পদমপতি হও। যেমন নাম-পদমাপদম ভাগ্যশালী তেমন কর্মও যেন হয়। একটি কদমও যেন পদমের উপার্জনহীন না হয়। তো অনেক ভেবে চিন্তে শ্রীমত অনুসারে প্রতিটি কদম তোলো। শ্রীমতে মনমতের মিশ্রণ কোরো না।

শ্লোগানঃ - 

মনকে অর্ডার অনুসারে চালাও তবেই তো মন্মনাভবের স্থিতি স্বতঃতই থাকবে।

***OM SHANTI***

Google+ Followers