BK Murli 7 July 2016 Bengali

BK Murli 7 July 2016 Bengali

 ০৭-০৭-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা " মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- জ্ঞানসাগর বাবা তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র দিতে এসেছেন , যাঁর দ্বারা আত্মার জ্যোতি জাগ্রত হয়ে ওঠে"

প্রশ্ন -- 

বাবাকে করনকরাবনহার কেন বলা হয় ? তিনি কি করেন আর কি করান ?

উত্তর --: 

বাবা বলেন যে , আমি তোমাদের বাচ্চাদের মুরলী শোনানোর কার্য করি । মুরলী শোনাই , মন্ত্র দিয়ে তোমাদের যোগ্য পরিণত করি আর তোমাদের দ্বারা স্বর্গের দ্বার উদ্ঘাটন করি । তুমি বার্তাবাহক (পয়গম্বর) হয়ে সকলকে খবর দিয়ে থাকো । আমি তোমাদের বাচ্চাদের ডায়রেক্শন দিয়ে থাকি আর এই হলো আমার কৃপা অথবা আশীর্ব্বাদ ।

গীত --: 

কে এসেছেন আজি এ ‌ প্রভাতে...

ওম শান্তি । 

বাচ্চারা গান শুনলো । আমাদের বাচ্চাদের ভোর ভোর জাগ্রত করতে কে আসেন , যাঁর দ্বারা আমাদের তৃতীয় নেত্র খুলেছে ? জ্ঞানসাগর পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের তৃতীয় জ্ঞানের নেত্র খূলেছেন । বলাও হয় বাবা হলেন জ্যোতি জাগ্রতকারী । কিন্তু তিনি যে বাবা , এটাও কেউ জানে না । ব্রহ্ম সমাজী বলে , তিনি হলেন অগ্নি রূপী (শমা) , জ্যোতি । মন্দিরে সবসময় সেই জ্যোতিই প্রজ্জ্বলিত করা হয় কারন তিনি পরমাত্মাকে জ্যোতিস্বরূপ মানেন , এইজন্য সেখানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হয়ে থাকে । এবার বাবা কোনো দিয়াশলাই ) দ্বারা প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন না । এই সব কথা তো হল একদম আলাদা (ন্যারা) , বলাও হয় যে ঈশ্বরের গতি মতি হয় ন্যারী (আলাদা) । তোমরা বাচ্চারা এবার বুঝতে পারছো যে বাবা সদ্গতির জন্য এসে জ্ঞানযোগ শেখাচ্ছেন । শেখানোর জন্য কেউ তো দরকার , তাই না । শরীর তো শিখবে না । আত্মাই সবকিছু করে । আত্মার মধ্যেই ভালো মন্দের সংস্কার থাকে । এই সময় রাবনের প্রবেশ করার ফলে মানুষের সংস্কারও মন্দ হয় অর্থাৎ পাঁচ বিকারের প্রবেশ করে । দেবতাদের এই পাঁচ বিকার হয় না । ভারতে যখন দৈবী স্বরাজ্য ছিল তখন এইসব মন্দ সংস্কার ছিল না । সর্বগুনসম্পন্ন ছিল , দেবী দেবতাদের কত ভালো সংস্কার ছিল , যা এখন তুমি ধারন করছো । বাবাই এসে সেকেন্ডে সকলকে সদ্গতি দেন । বাকী গুরু গোসাঁই ইত্যাদি তো ভক্তি মার্গে চলে আসছে , যাদের একজনেরও গতি সদ্গতি হতে পারবে না । বাবার আগমনেই সকলের সদ্গতি হয় । পরমপিতা পরমাত্মাকে ডাকাই হয় এই কারনে যে , এসে পতিত দুনিয়াকে বিনাশ করে পাবন দুনিয়ার উদ্ঘাটন করুন অথবা দরজা খুলুন । বাবা এসে শিবশক্তি মাতাদের দ্বারা গেট খোলান । বন্দে মাতরম গাওয়া আছে । এই সময়ে কোনোও মাতার বন্দনা হয় না কারণ এখন কেউই শ্রেষ্ঠাচারী মাতা নন । শ্রেষ্ঠাচারী তাদের বলা হয় , যারা যোগবল দ্বারা জন্ম গ্রহন করে । লক্ষ্মী নারায়নকে শ্রেষ্ঠাচারী বলা হয় । 

ভারতে দেবী দেবতা যখন ছিল তখন ভারত শ্রেষ্ঠাচারী ছিল । এইসব কথা তো মানুষরা জানেই না । তারা নিজেরাই প্ল্যান বানিয়ে তৈরী করতে থাকে । গান্ধীও রামরাজ্য চাইতেন , এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে রাবন রাজ্য আছে । ভারত এখন হলো পতিত , কিন্তু রামরাজ্য স্থাপন করার জন্য তো বেহদের বাপুজী দরকার , যিনি রামরাজ্যের স্থাপনা আর রাবন রাজ্যের বিনাশ করবে । বাচ্চারা জানে যে এবার রাবনরাজ্যকে আগুন লাগাতে হবে । সকল আত্মারা অজ্ঞান অন্ধকারে নিদ্রিত আছে । তুমি জানো আমরাও নিদ্রিত ছিলাম , কিন্তু বাবা এসে জাগ্রত করেছেন । ভক্তির রাত পুরো হয়েছে আর দিন শুরু হয়েছে । রাত শেষ হওয়ার পরেই তো দিন হয় ! বাবা সঙ্গমে এসে বাচ্চাদেরকে দিব্য দৃষ্টি আর জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র দিয়েছেন , যার দ্বারা তুমি পুরো বিশ্বকে জেনে গেছো । তোমার বুদ্ধিতে আছে যে , এইসব পূর্ব রচিত অবিনাশী ড্রামা , যেটা সবসময় ঘুরতেই থাকে । এখন তুমি কত জাগ্রত হয়েছো আর বাকী দুনিয়া গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত । এখন তোমাদের বাচ্চাদের পুরো বিশ্বের আদি-মধ্য-অন্ত , মূলবতন সূক্ষ্মবতন আর স্থূলবতন সম্বন্ধে সবকিছু জানা আছে । বাকী সারা দুনিয়া কুম্ভকর্ণের অজ্ঞান নিদ্রায় নিদ্রিত । কেউই এইসব জানে না যে পতিতপাবন কে ! এদিকে ডাকেও পতিতপাবন এসো । এইসব বলে না যে সৃষ্টির আদি মধ্য অন্তের রহস্য বোঝান । বাবা বলেন যে তুমি এই সৃষ্টিচক্রকে বুঝেই চক্রবর্ত্তী রাজা হও । এইসবও জানো যে বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে , লড়াইও হওয়ার আছে । বাকী কৌরবদের আর পান্ডবদের লড়াই হয়নি । পান্ডব কারা ছিল ! এইসবও কেউই জানে না । সেনা ইত্যাদির তো কোনো কথাই নেই । তোমাদের দিকে আছেন সাক্ষাৎ পারলৌকিক পরমপিতা , ওঁনার দ্বারাই বর্সা অথবা অধিকার প্রাপ্ত হয় । তুমি জেনে গেছো যে কৃষ্ণের আত্মা চুরাশী জন্ম ভোগ করে এবার আবার বাবার দ্বারা অধিকার প্রাপ্ত করছে । বিশ্বের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী পুনরাবৃত্তি হচ্ছে । এবার তোমাদের বাচ্চাদের বিনাশের পূর্বে সতোপ্রধান অবশ্যই পরিনত হতে হবে । গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও পদ্ম ফুলের মতন পবিত্র থাকতে হবে । গাওয়াও আছে , ভগবানুবাচ , গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে এই এক জন্ম পবিত্র তৈরী হও । পাস্ট ইজ পাস্ট । এইসব তো ড্রামায় লিপিবদ্ধ আছে । সৃষ্টিকে সতোপ্রধান পরিনত হতেই হবে , এটা হলো ভাবী ড্রামা অর্থাৎ ড্রামার ভবিতব্য । 

ঈশ্বর রচিত নয় , কিন্তু ড্রামার ভবিতব্য এমনই রচিত । এইসবও বাবা বোঝাচ্ছেন । অর্দ্ধ কল্প যখন পুরো হয় তখন বাবা আসেন । বাবা বলেন যখন রাত শেষ (পুরো) হয় তখন দিন আরম্ভ হয় আর তখনই আমি (শিববাবা) আসি । শিবরাত্রিও বলা হয় , তাই না । শিবের পুজারী শিবরাত্রি পালন করে । গভর্মেন্ট তো হলি ডেও (ছুটির দিন) দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে । নয় তো কম থেকে কম এক মাস হলিডে হওয়া দরকার । কেউই জানে না যে শিববাবা সকলের সদ্গতিদাতা হন । তিনিই হন সকলের দূঃখহর্তা আর সুখ কর্তা । ওঁনার জয়ন্তী তো বড় ধুমধামের সহিত এক মাস সকল ধর্মীয়দের পালন করা দরকার । বিশেষ করে ভারতকে বাবা ডায়রেক্ট এসে সদ্গতি দেন । যখন ভারত স্বর্গ ছিল তখন দেবী দেবতাদের রাজ্য ছিল , ঐ সময়ে আর কোনো ধর্মই ছিল না । দেবতারাই বিশ্বের মালিক ছিল । কোনো পার্টিশন ইত্যাদি ছিল না । এই কারনে বলা হয় অটল অখন্ড সুখশান্তি সম্পত্তির দৈবীয় রাজত্ব আবার আমরা প্রাপ্ত করছি । বেহদের বাবার দ্বারা বেহদের বর্সা (অধিকার) পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও প্রাপ্ত হয়েছিল । সূর্য্যবংশী চন্দ্রবংশী রাজ্যে কোনো দুঃখের নাম ছিল না । গাওয়াও হয় যে রাম রাজা , রাম প্রজা , রাম -- সেখানে অধর্মের কোনো কথা নেই ।
বাবা তোমাকে ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর সম্বন্ধেও বুঝিয়েছেন যে উভয়ের একে অপরের সাথে কি সম্বন্ধ আছে ! ব্রহ্মার নাভী দ্বারা বিষ্ণু বেরিয়েছিল --এইসব কত আশ্চর্য্য জনক চিত্র তৈরী করা হয়েছে । বাবা বোঝাচ্ছেন এই লক্ষীনারায়ণই অন্তিমে এসে ব্রক্ষা সরস্বতী , জগৎঅম্বা , জগৎ পিতা হন । তারাই আবার বিষ্ণু অর্থাৎ লক্ষ্মীনারায়ণ হন । বাবা বসে বোঝাচ্ছেন যে , যেসব চিত্র তোমরা দেখছো , সেসবে কোনো যথার্থতা নেই । শিবের বড় চিত্র বানানো হয় , সেসবও অযথার্থ হয় । ভক্তির কারনে বড় তৈরী করা হয় । নইলে বিন্দুর পৃজো কি ভাবে হতো । আচ্ছা ! আবার ব্রহ্মা বিষ্ণু শঙ্করের জন্যও বুঝতে পারে না । ত্রিমূর্তি ব্রক্ষা বলে দেয় । ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা , বিষ্ণু দ্বারা পালনা , এইসবও বলে কিন্তু ব্রক্ষা তো স্থাপনার কার্য করেন না । স্বর্গের স্থাপনা ব্রহ্মা করবে ? না । স্বর্গের স্থাপনা তো পরমপিতা পরমাত্মাই করেন । এই আত্মা (ব্রক্ষার আত্মা) তো হয় পতিত । এনাকে ব্যক্ত ব্রহ্মা বলা হয় । এই আত্মা পাবন পরিনত হয়ে চলে যাবে । আবার সত্যযুগে গিয়ে নারায়ণ হবে । তাই প্রজাপিতা ব্রহ্মা এখানে অবশ্যই দরকার , তাই না । সেখানে আবার চিত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে । যেমন এই জ্ঞানের অলঙ্কার বাস্তবে হয় তোমাদের কিন্তু বিষ্ণুকে দেওয়া হয়েছে । নওধা ভক্তিতে (অতিরিক্ত ভক্তি) সাক্ষাৎকার হয় । মীরার নামও গায়ন আছে । পুরুষদের মধ্যে নম্বরওয়ান ভক্ত হলো নারদ । মাতাদের মধ্যে মীরার নাম গায়ন আছে । তুমি এখন নারায়ণ অথবা লক্ষ্মীকে বরণ করার জন্য এই জ্ঞান অর্জন করছো । তোমারই স্বয়ম্বর সভা হয়ে থাকে । নারদের জন্যও দেখানো হয় যে সভায় এসে তিনি বলেন যে আমি কি লক্ষ্মীকে বরণ করতে পারি । এখন লক্ষ্মীকে বরন করার যোগ্য তুমি পরিনত হচ্ছ । বাকী সব তো হলো ভক্তি মার্গের কথা । বাবা এখানে রীয়্যাল (সত্য) কথা বসে বোঝাচ্ছেন । 

সত্যযূগে লক্ষ্মী , নারদ ভক্ত দ্বাপরে । এবার সত্যযুগে আবার নারদ কোথা থেকে এসেছে । রাধে-কৃষ্ণের স্বয়ম্বরের পরেই লক্ষ্মীনারায়ণের নাম হয়ে থাকে । ভারতবাসীরা এইসব কিছুই জানে না । কত অজ্ঞান অন্ধকারে আছে । বাবা হলেন কল্যাণকারী , আর তোমাকেও কল্যাণকারী পরিনত করি । এবার বিচার সাগর মন্থন করা দরকার যে অন্যদেরও কি করে বোঝানো হবে । তাই বাবা বোঝাচ্ছেন যে চিত্র ইত্যাদি কি করে বসে তৈরী করা যায় । গান্ধীর নাভী থেকে নেহেরু বেরিয়েছে , এবার কোথায় সেই বিষ্ণু দেবতা , আর কোথায় এই মনুষ্য -- এইসব কথা তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পারছো । নম্বর ভিত্তিক তুমি খুশী থাকো । বেহদের বাবা আমাদেরকে পড়াচ্ছেন । এইসব তো কখনোই শোনা ছিল না কারণ গীতায় তো কৃষ্ণ ভগবানুবাচ লেখা হয়েছে । ভগবান কবে এসেছেন আর কবে এসে গীতা শুনিয়েছেন ? তিথি তারিখ কিছুই নেই । কল্পের আয়ুকেই লক্ষবর্ষ বলেছে । কারোরই বুদ্ধিতে আসে না । এবার বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন । ব্রাক্ষণদের বৃক্ষ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে । প্রাপ্ত করতে করতে অগুনতি হয়ে যাবে । তোমরা বাচ্চারা জানো যে বর্ণ কিকরে চক্র লাগানো হয় । আমাদের ব্রাহ্মণদের বর্ণ হয় সবচেয়ে উচ্চ । আমরা হলাম ভারতের গুপ্ত সত্যিকারের রূহানী সোশল ওয়ার্কার (কর্মচারী) । পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের দ্বারা সেবা করাচ্ছেন । আমরা রূহানী সেবা করছি , তারা শরীর দ্বারা সেবা করছে । তোমাকে যদি বলা হয় যে তুমি ভারতের জন্য কি সেবা করো ? তাহলে বলবে আমরা হলাম রূহানী সেবাধারী । আমাদের দ্বারা স্বর্গের উদ্ঘাটন করাচ্ছেন , স্থাপনা করাচ্ছেন । করনকরাবনহার হলেন শিববাবা আর তিনি করেনও । মুরলী কে পড়ান ? তাহলে কাজ করেন ! তোমাকেও শেখান যে এমন করে পড়াও । মহামন্ত্র দেন মনমনাভব । কর্ম করতে শিখিয়েছেন , তাই না । আবার তোমাকে বলেনও যে অন্যদের শেখাও , এই কারনে ওঁনাকে করনকরাবনহার বলা হয় । তোমরা বাচ্চারাও এই শিক্ষা দিয়ে থাকো । বাবাকে স্মরন করো আর বর্সা (অধিকারকে) স্মরন করো । এইসব তোমাদের বাচ্চাদের অন্যদেরও বলতে হবে ।এরকম নয় যে অন্যদের খবর দেবে আর নিজে স্মরনে থাকবে না , তাহলে কি হবে ! অপর আত্মারা পুরুষার্থ করে উঁচুতে ঊঠবে , ম্যাসেজ দাতারা থেকে যাবে । স্মরণের পুরুষার্থ না করার দরুণ এতো উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না । অন্য আত্মারা স্মরনের যাত্রায় পাবন হতে থাকবে । যেমন বাবা বাঁধেলীদের (বন্ধনে যারা থাকে) উদাহরন দিয়ে থাকেন । তারা স্মরনে অধিক থাকে , বিনা দেখেও পত্র লিখতে থাকে । বাবা আমরা আপনার হয়ে গেছি , আর আমরা অবশ্যই পবিত্র থাকবো । 

তোমাদের বাচ্চাদের বাবার সাথে প্রীতবুদ্ধি থাকে । তোমারই মালা তৈরী হয়ে আছে । বিষ্ণূর মালা আর রূদ্রাক্ষের মালায় ওপরে আছে মেরু । মালা ওঠাতেই প্রথমে ফুল আর দুটো দানা হাতে আসে , ওনাকেই নমস্কার করে । আবার আছে মালা । তুমি ভারতকে স্বর্গ পরিনত করছো , তাই এই মালা তোমারই স্মৃতিচিহ্ন হয় । বাবা এই গীতা জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছেন । এই যজ্ঞেই পুরোনো দুনিয়া ধ্বংস (স্বাহা) হবে । বাবা হলেন মোস্ট বিলাভড ফাদার । তোমাকে ভবিষ্যতে একুশ জন্মের জন্য সুখের বর্সা দিয়ে থাকেন । যারা কল্প পূর্বে বর্সা গ্রহন করেছে , তারা ড্রামার প্ল্যান অনুসারে অবশ্যই আসবে । বাবা বলেন বাচ্চারা সুখধামে যেতে হবে তো তাই পবিত্র হতে হবে । আমায় (শিববাবাকে) স্মরন করো , চাইবার কিছুই নেই , যে বলবে কৃপা করো অথবা সাহায্য করো । পুরুষার্থ তো তোমাকে করতে হবে । আশীর্বাদের কথা নেই । বাবা বলেন মামেকম্ স্মরন করো । স্মরন করা তোমার কর্ম , ডায়রেক্শন দেওয়া -এটাই হয় কৃপা । বাকী তো যা খাবে , পান করবে , ঘোরাফেরা করবে --তোমায় পবিত্র ভোজনই খেতে হবে । আমরা দেবী দেবতা পরিনত হচ্ছি , তাই সেখানে পেঁয়াজ ইত্যাদি থোড়াই হবে । এইসব এখানেই ত্যাগ করতে হবে । এইসব জিনিষ সেখানে হয় না এমনকি বীজও হয় না । যেমন সত্যযূগে অসুখ বিসুখ ইত্যাদি হয় না । এখন দেখো কত রোগ বেরিয়েছে । সেখানে কোনো তমোগুনী জিনিষ থাকে না । প্রত্যেক জিনিষ হয় সতোপ্রধান । এখানে দেখো মানুষরা কি কি খাওয়া দাওয়া করে । এবার বাবা বাচ্চাদেরকে বলে যে আমায় (শিববাবাকে) স্মরন করো আর সব সঙ্গ ভেঙ্গে আমার সাথে সঙ্গযুক্ত হলে তোমরা পাবন পরিনত হয়ে যাবে ।

মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে (হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহ , সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারনার জন্য মুখ্য সার --:

১. পাস্ট ইজ পাস্ট , যা অতীত হয়েছে , সেসব ভুলে গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে সতোপ্রধান পরিনত হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে । বিনাশের পূর্বে পবিত্র অবশ্যই হতে হবে ।

২. ভারতকে স্বর্গে পরিণত করতে সত্য সত্য সেবায় তৎপর থাকতে হবে । খান-পানে অনেক শুদ্ধ থাকতে হবে । পবিত্র ভোজনই খেতে হবে ।

বরদান ---: 

মাষ্টার নলেজফুল হয়ে অজানাকে সমাপ্ত করার জন্য জ্ঞানস্বরূপ , যোগযুক্ত ভব (হও) ! 

মাষ্টার নলেজফুল হয় যারা তাদের মধ্যে কোনো প্রকারের অজানা কিছুই থাকে না । তারা এমনি বলে নিজেকে আলাদা করতে পারে না যে এই কথা তো আমরা জানতাম না । জ্ঞানস্বরূপ বাচ্চাদের কোনোও কথার অজ্ঞান হয় না আর যারা যোগযুক্ত হয় , তাদের অনুভব হয় যে তারা প্রথম থেকেই সবকিছু জানে । তারা এটাও জানে যে মায়ার ছমছম , রিমঝিম কম নয় , মায়াও বড় আকৃষ্ট করে , সেই কারনে নিজেকে বাঁচিয়ে চলো । যারা সকল রূপে মায়ার জ্ঞানকে বুঝে গেছে , তাদের জন্য অপরাজিত হওয়া অসম্ভব ।

স্লোগন --: 

যারা সদা প্রসন্নচিত্ত হয় , তারা কখনো প্রশ্নচিত্ত হয় না ।

***OM SHANTI***

Google+ Followers