BK Murli 2 August 2016 Bengali

BK Murli 2 August  2016 Bengali

 ০২-০৮-১৬         প্রাত :মুরলি         ওম্ শান্তি        "বাপদাদা"            মধুবন


​"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা আর বিশ্ব-রাজ্যাধিকার স্মরণেই তোমাদের সর্ব শক্তির উপার্জন তৎসহ সুস্বাস্থ্যেরও, ফলে তোমরা অমরত্ব লাভ করো l"

প্রশ্নঃ - 

হৃদয়কে শুদ্ধ বানানোর সহজ উপায় কি ?

উত্তরঃ - 

যেখানেই থাকো ট্রাস্টি হয়ে থাকো l প্রতিনিয়ত মনে করো আমরা শিববাবার ভাণ্ডার থেকে খাবার রসদ পাই l শিববাবার ভাণ্ডারের ভোজন প্রাপ্তিতে হৃদয় শুদ্ধ হয়ে যায় l প্রবৃত্তি মার্গে থেকেও যদি শ্রীমত্ যেমন নির্দেশ অনুসারে ট্রাস্টি হয়ে থাকে তবে সেও শিববাবার ভাণ্ডারী হয় , মন থেকে সমর্পিত l

ওম্ শান্তি l 

জন্ম-জন্মান্তর ধরে বাচ্চারা অর্ধকল্প সত্সঙ্গ করেছে , সাধু-সন্ত , পণ্ডিত ইত্যাদি সব মানুষের সত্সঙ্গ হয় , এখানে জ্ঞান মার্গে কোনও মানুষের সত্সঙ্গ হয়না l একে বলা হয় রুহানি সত্সঙ্গ l সুপ্রীম রুহ্ , রুহ্-দের সাথে রুহ্-রিহান করেন অর্থাত্ পরমাত্মা আত্মাদের সাথে বার্তালাপ করেন বা বলা যায় সত্সঙ্গ করেন l এখানে তোমরা না কোনও মানুষের থেকে শুনছ , না কোনও দেবতাদের থেকে শুনছ l তোমরা শুনছ স্বয়ং ভগবানের থেকে l ভগবান চিরকাল নিরাকার , তিনি অবতীর্ণ হন সেই সময় , যখন বাচ্চাদের ভগবান-ভগবতী করে গড়ে তোলার পাঠ পড়াতে হয় l ভগবান (শিববাবা ) ব্যতীত ভগবান আর ভগবতীর পদাধিকার কেউ দিতে পারেনা l তোমরা বাচ্চারা জেনেছ প্রত্যেক কল্পের সঙ্গমযুগে এসে নিরাকার ভগবান আমাদের জ্ঞান প্রদান করেন l এই বিষয়ের সবকিছু কেবল তোমরা বাচ্চারাই বুঝতে পার , দ্বিতীয় কারও পক্ষে বোঝা মুশকিল l নিশ্চিতরূপে শিববাবার অবতরণ হয় , কিন্তু তবুও তাঁর পরিবর্তে কৃষ্ণকে গীতার ভগবান বলে উল্লেখ করা হয় l সেইকারনে , সবার বুদ্ধিতে ঈশ্বর বলতে মানব-দেহের ভাবনাই জাগরিত হয় l তোমরা দৈবগুণসম্পন্ন ছিলে , আর এখন আসুরিক গুণের ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছ l আবার তোমরা চেষ্টা করছ নিজেদের দৈবীগুণসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে l যাঁরা দৈবী গুণের তাঁরা ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের আর যারা আসুরিক গুণের তারা আসুরিক সম্প্রদায়ের বলে গণ্য করা হয় l এখন নিরাকার বাবা নিরাকার সম্প্রদায় অর্থাত্ আত্মাদের পড়ান , এইজন্য বলা হয়ে থাকে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় অথবা রুহানি সম্প্রদায় , যাদের রুহানি বাবা এসে পড়ান l আর এই সময় থেকে শুরু হয় তোমাদের রুহ্ -অভিমানী হয়ে ওঠার পালা l বুঝতে পারছ আমরা হলাম আত্মা আর বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন এবং বলছেন , " আমাকে স্মরণ করো বাচ্চারা , তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l" রুহ্-দেরই পড়ান কেননা তিনি জ্ঞানপূর্ণ আর- যে ঋষি-মুনিরা , তাঁরা হয়না-হতে পারেনা বলে নিজেদের মত পোষণ করে গেছেন অর্থাত্ আমরা এসব রুহ্ সম্পর্কে জানিনা l তারা জ্ঞানসাগরের কাছে উপস্থিত না হওয়া পর্য্যন্ত তাদের কিভাবে জ্ঞান দেওয়া সম্ভব হবে ! এই জ্ঞান যথার্থভাবে বুঝতে হবে l আমাদের কোনও মানুষ পড়ায় না পড়ান আমাদের বাবা l তিনি হলেন বেহদের বাবা , নিরাকার l এও বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে , সাকার আর নিরাকার এই দুই বাবা প্রত্যেক বাচ্চাদের সাথে সম্বন্ধিত l এক বাবা রুহানি আর এক বাবা দেহ-সম্বন্ধীয় l রুহানি বাবা এসে রুহ্-দের পবিত্র করে গড়ে তোলেন l তোমরা বুঝতে পারছ আমরা পবিত্র ছিলাম , পতিত হয়েছি এবং জেনেছ পতিত থেকে আবারও কিভাবে পবিত্র হওয়া যায় তার উপায় l চিত্রও সামনে আছে , বাবা নির্দেশ দিচ্ছেন , বারংবার চক্রের সামনে বসে সারা জ্ঞান বুদ্ধির দ্বারা বুঝে নাও, আমরা সঙ্গমযুগের দোরগোড়ায় বসে আছি l অন্যান্য সকলে নিজেকে কলিযুগীয় মনে করে l কলিযুগ ঘোর তমসাচ্ছন্ন ...তোমরা এখন সঙ্গমযুগে রয়েছ , প্রকাশমান সময়ে ...সত্যযুগে তোমাদের আর এই জ্ঞানপ্রাপ্তির প্রয়োজন হবেনা l বাবা যখন আসেন তখনই জগত্ আলোয় আলোকময় হয়ে ওঠে l এই সঙ্গমযুগ হ'লো কল্যাণকারী যুগ l এই যুগের মতো শ্রেষ্ঠ আর কোনও কিছু হয়না কেননা বাবা স্বয়ং এই সময়ে ধরিত্রীর বুকে পদার্পণ করেন l সত্যযুগকে কল্যাণকারী বলা যায়না ; কারন , সেখানে আলাদা করে কারও কল্যাণের দরকার হয়না l কল্যাণ হয় সঙ্গমে l আর সত্যযুগ ! সেতো সর্বদাই কল্যাণময় l কলিযুগকে সত্যযুগ আর কল্যাণকারী রূপে গড়ার জন্য সঙ্গমযুগের এত মাহাত্ম্য l তবে বুঝতে পারছ তো তোমাদের এই সময় কত কল্যাণ হয় , কেবল আর কেবলমাত্র বাবা এবং তাঁর প্রদেয় বিশ্ব-রাজত্বের স্বত্বাধিকার স্মরণ করায় , তোমাদের ২১ জন্মের প্রারব্ধ-এর উপার্জন নিশ্চিত l প্রারব্ধ আর সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যের অধিকার এবং তোমাদের অমরত্ব লাভ , এত কিছুর প্রাপ্তি l তোমাদের অকাল মৃত্যু থেকে মুক্তি l তবে ! বাচ্চারা তোমাদের কত খুশি হওয়া উচিত্ ; কেননা তোমাদের বুদ্ধিরূপী কলস এই পবিত্র জ্ঞানে পরিপূর্ণ l বাচ্চারা , তোমরা এখানে আসছ , সুতরাং পুরুষার্থ করে মিউজিয়ামে রাখা চিত্রের ব্যখ্যা করার উপযুক্ত হতে হবে তোমাদের l নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে সাত -আট দিন নিয়মিতভাবে সংগঠনে এসে শিখতে হবে কিভাবে চিত্রের ব্যখ্যা করতে হয় l প্রাকটিস অর্থাত্ অন্যকে বোঝানোর অভ্যাস রপ্ত হলেই চারিদিকে সেবাকাজে বাচ্চারা ছুটে বেড়ায় l সেবা করে আবার ফিরে আসে l এইসব শেখা তো খুবই সহজ l চিত্রকে সামনে দেখলে তোমরা অতি সহজেই বুঝতে পারো আমরা সঙ্গমযুগের দুয়ারে বসে আছি l আজকের দুনিয়ায় অত্যাধিক মানুষের ভিড় , কিছুকাল পরে আবার অত্যাধিক সংখ্যা অল্পসংখ্যক-এ নেমে আসবে l এত যে সবাই আছে তাদের সকলকে ঘরে , মুক্তিধামে ফিরে যেতে হবে l বাবা স্বয়ং এখন এখানে এসেছেন , তিনি বাচ্চাদের কত কদর করেন , সেই দূর দেশের অধিবাসী , বাবা এসেছেন পরদেশে . . . রাবণের দেশে , এতো পরদেশই হ'লো l রামের দেশে রাবণ তো কখনও যেতে পারেনা l এই বিষয়ে একটা কাহিনী অথবা কথাও শোনানো হয় , যে কথাই শোনানো হোক তার সবই কাহিনী মাত্র l না কাহিনীর কোনও সত্যতা আছে , আর না আছে নভেলের l নভেল ইত্যাদি কত যে বিক্রি হয় ! শুধু এই নভেল বিক্রি করেই লাখপতি হয়ে যায় l তোমাদের লালন -পালন এখন বাবার হাতে l তোমার থেকে ভোজন করি অর্থাত্ তোমারই ভাণ্ডার থেকে ভোজন করি বাবা ...তোমাদের সকলরকম প্রতিপালন এখানেই হয় l যে সমর্পিত হয় তার লালন তো অবশ্যই হয় , কিন্তু যে মন থেকে সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস করবে এই সবকিছু ঈশ্বরের (বাবার) , আমি সেবায়েত , আমি বাবার শ্রীমত্ পথ অনুসারেই ব্যয় ইত্যাদি করব l আর এইভাবে ভাবতে পারলে সেও শিববাবার ভাণ্ডারেরই ভোজন করে l শিববাবার ভাণ্ডারের রসদ প্রাপ্তিতে হৃদয় শুদ্ধ হয় l এরকম নয় যে , যারা শ্রীমত্ পথে নেই তারা শিববাবার ভাণ্ডার থেকে ভোজনের রসদ পায়না l বাবার নির্দেশিত পথের বাচ্চারা যেমন বাবার ভাণ্ডার থেকে ভোজন করে তেমনইভাবে এরাও বাবা-ভাণ্ডারির থেকেই ভোজন করে l যে ভাণ্ডার থেকে ভোজনাদি করছ সেই ভাণ্ডার সর্বদা পরিপূর্ণ থাকে এবং কালকণ্টক দূর হয় ...আর তারপরে কখনও তোমাদের অকাল মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নিতে হয়না l এই সময় শিববাবা আসেন , তাঁর মহিমারও গায়ন আছে l শিব জয়ন্তী উদযাপন করে কিন্তু তাঁর ভান্ডার কেমন হয় তা ' কেউ জানেনা l চিরকাল বাবা নিয়মমতো আসছেন l বাচ্চারাও , যারা আসে তারা শিববাবার ভাণ্ডার থেকেই ভোজন পায় l আচ্ছা ! যদি পুরুষ সমর্পিত হ'ল তো সব দিক ঠিক আছে , কিন্তু যদি নিজেকে সমর্পণ না করে তবে মাতারা কি করবে ? অর্থোপার্জনের দায়িত্ব পালন তো স্বামী করে , সে-তো সমর্পিত হয় না l তার উপার্জনে স্ত্রী খায় l তবে যুগলে সমর্পিত হলে শিববাবার ভাণ্ডার থেকে প্রতিপালনের ব্যবস্থা হতে পারে l এই সকল কিছু বাবা বাচ্চাদের যথার্থভাবে বুঝিয়ে দেন l বুদ্ধিকে সচল রাখতে হয় এই ভাবনায় - কর্মাতীত অবস্থায় পৌঁছনো পর্য্যন্ত আমরা বাবার কাছে বসে আছি l দিন -দিন আমরা নিজেদের স্বরাজ্যের দিকে এগিয়ে চলেছি l সময় বয়ে যাচ্ছে l তোমরা কাছাকাছি চলে এসেছ l সত্যযুগের পূর্ব বছরকালের হিসেব এখন কত সময়ের বলা যাবে ? এখন কত কাছে এসেছ ? বাবা বলছেন -"বাচ্চারা এখন তোমাদের ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হতে চলেছে l " তোমরা এখন ৮৪ জন্মের চক্রকে জেনেছ -বুঝেছ l চক্রকে দেখতেই বুঝতে পেরে যাবে আমরা বর্তমানে সঙ্গমে আছি l এপারে কলিযুগ , আর ওপারে সত্যযুগ l কাল অর্থাত্ আগামী সময়ে আমরা সুখধামে বিরাজ করব l পুরনো এই দুনিয়ার কারও জানা নেই তারা ঘোর অন্ধকারময় জগতে চলমান l তোমাদের-বাচ্চাদের খুব খুশি থাকতে হবে l বেহদের বাবার থেকে ২১ জন্মের অপার সুখ-শান্তির খাজানা লাভ করি l সদাই সুখের প্রাপ্তি - এই খুশিতে মন মেতে থাকে l স্বর্গবাসী হওয়া , সেতো তোমাদের ভাগ্যেই আছে l স্বর্গ চমত্কার এক স্থান l যেমন সপ্ত আশ্চর্য বিদ্যমান , তার তুলনায় স্বর্গ হ'লো তার থেকেও বড় আশ্চর্যজনক l অতীব সুন্দর স্বর্গের চিত্রও আছে l আমাদের লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন , এইজন্য বাবা লিখেছিলেন - উপরে সূর্য্যবংশীয় আর নিচেই চন্দ্রবংশীয়দের সময়কাল লিখে দিলে অর্ধকল্পের হিসেব সম্পূর্ণ হয় ; সূর্য্যবংশীয় আর চন্দ্রবংশীয় সময়কাল ১২৫০ বছর করে হিসেব হয় l সেক্ষেত্রে লাখো বছরের হিসেব তো ধর্তব্যের মধ্যেই আসেনা l ওখানে বাহুবলের জন্য কত ব্যয় হয় কিন্তু এখানে শুরু থেকে শেষ পর্য্যন্ত কোনও খরচ নেই l এখানে বাবা আর সন্তানের সম্পর্ক , খরচের তো কোন ব্যাপারই নেই l বাচ্চারা এখানে এলে তাদের রিফ্রেশ হওয়ার জন্য ঘর-বাড়ী ইত্যাদি তৈরী হয়েছে l বাচ্চাদের অর্থেই হয়েছে , অনেকদিন ধরে এইভাবেই চলে আসছে , অবশিষ্ট দিন আর অল্প আছে , খরচ কিছুই নেই l কোনও অর্থ খরচ না করে তোমরা জীবনমুক্তি লাভ করো l এতে শুধুই পরিশ্রম যেটুকু করতে হয় l ভগবানকে সব ভক্তই স্মরণ করে কিন্তু জানেনা ভগবান কে ! ভগবানকে সঠিকভাবে না জানার কারণে বহুর মধ্যে ভগবানকে খোঁজে l তোমাদের বাচ্চাদের এখন সত্য বাবার পরিচয় দিতে হবে l বাবা অনেকবার বুঝিয়েছেন বড় বড় চিত্র শহরে বা শহরাঞ্চলের মুখ্য স্থানগুলোতে লাগাতে , যেমন বিমানঘাঁটিতে (aerodrome) লাগানো যেতে পারে , সেখানের ভারপ্রাপ্ত লোকেরা বিনিময়ে কিছু দিতে বললে বোঝাতে হবে মানুষের কল্যাণ হেতু অনুরূপ হচ্ছে l এঁরা বুঝতে পারলেই মানুষ বাবার থেকে স্বত্ত্বাধিকার নিয়ে বিশ্বের মালিক হ'তে পারে l মুখ্য হ'লো দিল্লী , রাজধানী , সেখানে বিভিন্ন প্রদেশের লোকজন একত্রিত হয় l সেখানে বড় বড় সাইনবোর্ডে চিত্র লাগাতে হবে l চিত্রের মধ্যে মুখ্য থাকবে ত্রিমূর্তি , চক্র আর ঝাড়ের চিত্র l আর সিঁড়ির চিত্র তো চমত্কার , এতে বিনাশ ইত্যাদিও যথার্থভাবে লেখা হয়েছে l বিচার করতে বলা হচ্ছে পতিত-পাবন , পরমপিতা পরমাত্মা নাকি গঙ্গার জল ! ব্রহ্মাকুমার -কুমারীরা প্রশ্ন করে - ঈশ্বর সর্বব্যাপী বা এক নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা , কোনটা ঠিক ? বাবার থেকে বাচ্চারা রাজ্য অধিকার পায় l মুখ্য হলো এই চিত্র l ত্রিমূর্তির চিত্রও মহা মূল্যবান l ব্রহ্মা দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা হয় , আবার তিনি পালনও করেন l বাচ্চাদের অপার খুশি অনুভূত হওয়া উচিত্ - বেহদের বাবা আমাদের পড়ান , স্বর্গের মালিকরূপে গড়ে তুলতে l বাবা এসে স্বর্গের স্থাপনা আর নরকের বিনাশ করান l এই বিনাশের জন্যই মহাভারতের লড়াই শুরু হয় l প্রত্যেক পাঁচ হাজার বছর বাদে এই চক্র ঘুরে আসে l বাবাও প্রত্যেক কল্পের অন্তিমে সঙ্গমযুগে আসেন l গীতায় আবার বলা হয়েছে যুগে যুগে আসেন তাহলেও তা' সঙ্গমযুগ মিলিয়ে পাঁচ যুগ হয় অর্থাত্ পাঁচবার এসেছেন l তবে আবার ২৪ অবতার , অমুক অবতার এসব লেখার তো কোনও অর্থ হয়না ! মানুষ কত যজ্ঞ , তপ , তীর্থ ইত্যাদি করে , ভাবে এই সবই ভগবানকে পাওয়ার পথ l কিন্তু ভগবানের কাছে তো কেউ যেতে পারেনা l অর্ধকল্প ধরে মন্দিরে মন্দিরে মাথা ঠোকে l জন্ম -জন্মান্তরে এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে , এরকম কত কিছু করেছে ...কিন্তু বাবাকে পায়নি l বাবা এখন তোমাদের কত কাছে আছেন l তোমাদের সাথে কথা বলছেন , তোমাদের বোঝাচ্ছেন l তোমরা বুঝতে পেরেছ কল্পে- কল্পে হুবহু এইভাবে বাবার সাথে মিলিত হই এবং যা কিছু ঘটেছে কল্পে -কল্পে সেইসব একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে l তিনি , দাদা আবার জহুরি হবেন , বাবা আবারও তাঁর মধ্যে প্রবেশ করবেন , আবার সেই বাচ্চারাই এসে বাবার হবে এবং বাবার থেকে স্বর্গের রাজ্য অধিকার নেবে l পরমপিতার সাথে তোমাদের বাচ্চাদের অনাদি -অবিনাশী পার্ট কল্পে কল্পে রিপিট হয়ে চলেছে l আচ্ছা l

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি(সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা , বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রুহানি বাবার রুহানি বাচ্চাদের নমস্কার l

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) এখন কল্যাণকারী সঙ্গমযুগ , এই সময় সব কিছুতেই কল্যাণ , উপর্যুপরি (একটার পর একটা) উপার্জন l বাবা আর রাজ্য অধিকার স্মরণ করে ২১ জন্মের জন্য জীবনকে অমর করে তুলতে হবে l

২) প্রবৃত্তিগত জীবনে থেকেও মন-বুদ্ধির দ্বারা সমর্পিত হতে হবে l শ্রীমত্ অনুসরণ করেই ব্যয় করতে হবে , ট্রাস্টি হয়ে থাকতে হবে l শিববাবার ভাণ্ডার ভরপুর কালকণ্টক দূর ....l

বরদান :- 

ভাঙা , গড়া এবং জোড়া - এই তিন শব্দের স্মৃতি দ্বারা সদা বিজয়ী ভব 

সম্পূর্ণ পড়া আর শিক্ষার সার এই তিন শব্দ :- ১) - কর্মবন্ধন ছিন্ন করতে হবে l ২) - নিজের স্বভাব -সংস্কারকে নতুনভাবে গড়তে হবে এবং ৩) - এক এবং একমাত্র বাবার সাথে সব সম্বন্ধ জুড়তে হবে - এই তিন শব্দের অনুসরণকারী সম্পূর্ণ বিজয়ী হবে l সেইজন্য সর্বদা এই স্মৃতি থাকুক এই চর্মচক্ষে বিনাশী বস্তু বা ঘটনা যাই দেখা যাক তার সবই স্থিরীকৃত l সেই সকল বিনাশ দেখেও নিজের নতুন সম্বন্ধ , নতুন সৃষ্টিকে দেখ তবে কখনও পরাজিত হবে না l

শ্লোগান :- 

যোগীর পরিচায়ক - সদা ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার l


***OM SHANTI***

Google+ Followers