BK Murli 4 August 2016 Bengali

BK Murli 4 August 2016 Bengali

 ০৪-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা -- তোমরা হলে সত্যিকারের রাজঋষি, রাজযোগী, তাই তোমাদের রাজ্যাধিকারের জন্য পবিত্র অবশ্যই হতে হবে "

প্রশ্ন -- 

কিরকম মনোযোগ রাজ্যাধিকারের যোগ্য করে তোলে ?

উত্তরঃ 

যদি পাঠাভ্যাসে পুরোপুরি মনোযোগ থাকে তবে রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হয় l বাবা যা শোনান তা' যথার্থভাবে শুনে ধারণ করো l বাবা শোনালো আর বাচ্চারা শুনল তাহলেও রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হবে l যদি শোনার সময় অমনোযোগী হও অর্থাত্ ঘুম আসে বা ঝিমুনি হয় ,বুদ্ধি এদিকে ওদিকে বিচরণ করে তাহলে রাজ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে , সেইজন্য পাঠাভ্যাসে মনোযোগ দাও l

গীত --: 

আমাদের ঐ পথে চলতে হবে .......

ওম শান্তি । 

রূহানী বাবা রূহানী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন । আজ বাচ্চাদের হঠযোগ আর রাজযোগ সম্বন্ধে বোঝানো হচ্ছে । বাচ্চারা জানে যে তারা যেসব শেখায় , সেসব হলো হঠযোগ কারন তারা কর্ম সন্ন্যাসী হয় । বাস্তবে গৃহস্থদের হঠযোগ, কর্ম-সন্ন্যাস শেখা উচিত নয় । সেসব তো হলোই নিবৃত্তি মার্গ । সেই ধর্মই আলাদা হয় । তোমাদের ধর্ম হলো দেবী-দেবতা ধর্ম , যারা রাজযোগ দ্বারা রাজ্য প্রাপ্ত করেছিল । এখন তুমি হলে রাজঋষি। ঋষি তাদের বলা হয় , যারা পবিত্র থাকে । তুমি এখন পবিত্র । যদি পবিত্র না থাকে, তাহলে তাদের ঋষি বলা যায় না । তুমি রাজ্যাধিকার পেতে পবিত্র হচ্ছ । তারা কেউ রাজ্যাধিকার প্রাপ্তির জন্য পবিত্র হয় না । তোমরা জানো পবিত্র দুনিয়ায় আমাদের পবিত্র রাজত্ব ছিল । ভারতেই পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দেবী-দেবতাদের পুজ্য প্রবৃত্তি মার্গ ছিল । এখন পূজারী হওয়ায় পতিত হয়েছে । পতিত কিভাবে হয়েছে? চুরাশী জন্মের হিসেব আছে , তাই না ! বাবা যে সহজ রাজযোগ শেখাচ্ছেন, তাতেই তোমাদের চুরাশী জন্মের হিসেব বলা হয়েছে । অন্য ধর্মকে সন্ন্যাস ধর্মীয়রা কি বুঝবে ! এই হলো দেবী-দেবতাদের প্রাচীন ধর্ম । সন্ন্যাস ধর্ম অনেক পেছনের সারির l যা অতীত (পাস্ট) , তা ' সন্ন্যাসীরা বোঝে না । যেসব ধর্ম পরে পরে স্থাপনা হতে থাকে , তাদেরকে বোঝাতে থাকে । তোমরা জানো হঠযোগ অনেক প্রকারের হয় । দ্বাপর যুগ থেকে ভক্তি মার্গের সাথে সাথে হঠযোগ শুরু হয়েছে । এখন আবার রাজযোগ l জন্ম -জন্মান্তরে ওরা হঠযোগ শিখে চলেছে l রাজযোগ তোমরা এক জন্মেই শিখতে পার l ওদের পুনর্জন্মে এসে হঠযোগ শিখতেই হয় l রাজযোগ শেখার জন্য তোমাদের পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে হয় না । এই রাজযোগ তোমরা শুধু সঙ্গমেই শিখে থাকো । রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হ'লে , স্বর্গের স্থাপনা হ'লে , সব ধর্মের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায় । তুমি হলে রাজঋষি । রাধাকৃষ্ণও তো পবিত্রই l কৃষ্ণকে মহাত্মাও বলা হয় । মহাত্মা পবিত্র হয় । তুমিও এখন মহাত্মা বা রাজঋষি । মহাত্মা অর্থাৎ পবিত্র, মহান আত্মা । এইসব কথা কোনো শাস্ত্রে লিখিত থাকে না । শাস্ত্র তো পরবর্তীকালে তৈরী হয় । গল্পগুলো উদাহরণ স্বরূপ লেখা হয়। যেসব অতীত হয়ে যায় , সেই সবই ওরা নাটক (খেলা ) তৈরী করে । সত্য তো হয় না । এখন বাবা এসে সামনাসামনি বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন । তাদের আবার হিস্ট্রি তৈরী করা হয়েছে । যাদব, কৌরব, পান্ডব ছিল , অবশ্যই তারা সঙ্গমেও হবে । সঙ্গমযুগের হিস্ট্রি বনানো হয়েছে । উৎসবও সব সঙ্গমযুগেরই হয় । রাখীবন্ধনও পবিত্রতার আধারে হয় । পরে আবার এই উত্সবকে স্মরণীয় করে তুলতে নানারকমের আয়োজন হয় l এখানে বাবাও সকলকে পবিত্র হওয়ার প্রতিজ্ঞা করান । শিখ সম্প্রদায়ের লোকেরা কঙ্গন ধারন করে , সেসব হলো পবিত্রতার চিহ্ন । হিন্দুরা পৈতে (জনেঊ) ধারন করে , তা'ও পবিত্রতার চিহ্নস্বরূপ । কিন্তু পবিত্র থাকে না । রাখী বাঁধে, কিন্তু অর্থ থোড়াই বোঝে । প্রথমে ব্রাহ্মণেরা রাখী বাঁধত । এখন ভগিনী ভ্রাতাকে রাখী বাঁধে , আর ভ্রাতা উপহার দিয়ে থাকে । এখন এইসব ফ্যাশন হয়ে গেছে । বাস্তবে এই হলো পবিত্রতার কথা । বাবা বলেন বাচ্চারা কাম হলো মহাশত্রু । সমাজের ব্রাহ্মণরা কেউই এইভাবে বোঝায় না । এখন বেহদের বাবা বলেন বাচ্চারা প্রতিজ্ঞা করো আমরা পবিত্র হব । কখনো বিকারের সম্মুখীন হব না l তোমরা তো এইজন্যেই ডাকো এসে পতিতদের পবিত্র কর । সত্যযুগ ত্রেতাযুগে কেউ ডাকাডাকি করে না । সেটা হলোই রামরাজ্য । এই হলো রাবণরাজ্য । রামরাজ্যে পাঁচ বিকার হয় না । যথা রাজা রানী তথা প্রজা ... এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা বাবার নিকট থেকে স্বর্গের বাদশাহী প্রাপ্ত করছি । এই নরক থেকে এবার অবশ্যই যেতে হবে । বাবা এসেছেন পবিত্র করে স্বর্গে নিয়ে যেতে । তাহলে আর কেন আমরা পবিত্র হবনা ! তাদের হঠযোগ তো অনেক প্রকারের হয় । হঠযোগীদের বিভিন্নতা জয়পুরের মিউজিয়ামে গিয়ে দেখো । সেসবে কিছুই হয় না । সিঁড়ি বেয়ে নীচের দিকেই নামতে থাকে । বাবা বুঝিয়েছেন যে ভারত যখন পতিত হয় , তখনই রাবণরাজ্যের শুরু হয় আর ধরনী উত্তাল হয়ে ওঠে l সোনার মহল ইত্যাদি সব নীচে চলে যায় অর্থাৎ মাটির নীচে চাপা পড়ে যায় । মহল ইত্যাদি তো আর কেউ লুট করে না ! তারা তো শুধু মন্দির লুটেছে । কিছু গয়না সোনা ইত্যাদি লুটে নিয়েছে । তোমাদেরই গয়নার শখ সবচেয়ে বেশি । স্বর্গে এসেই তুমি নানা আভূষণে সেজে ওঠ , আর রাজত্ব করো । আর অন্য কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় এলেও রাজত্ব করে না l তোমাদের বেহদের বাবার থেকে স্বর্গের বাদশাহীর অধিকার প্রাপ্তি হয় l তাই বাবা তোমাদের সামনে বসে বোঝান , গীতা পাঠ করে শোনান না । "গীতায় যা কিছু লেখা আছে , তার কোনও কিছুই আমার বলা কথা নয় l সেই সকলই , আমার মহাবাক্যকে , মানুষ পরে শাস্ত্রাকারে তৈরী করেছে । আমি তোমাদের যা শুনিয়েছি সেসব তোমরা শুনেছ আর তারপর রাজ্যভার নিয়েছ l" সেখানে এই জ্ঞান থাকে না । এখানে তো বাবা শিক্ষক হয়ে সামনে বসে শিক্ষা দেন । বাবা তো হিন্দিতেই বোঝান । এখানে সকলে হিন্দি ভাষাতেই অভ্যস্ত , যা তাদের ভাষা l বাস্তবে প্রাচীন ভাষা হিন্দিই , সংস্কৃত নয় । এই সংস্কৃত ভাষা শঙ্করাচার্যের আবির্ভাবের পরে এসেছে । যারা যখন এসেছে তারা নিজেদের ভাষাতেই বলেছে। তবে এরকম কখনও ঘটেনি যে বাবা সংস্কৃতে গীতা শুনিয়েছেন । না । গুরুনানকের আপন গ্রন্থ আছে । তিনি শিখ ধর্ম স্থাপন করেছেন, আর ওনাকেও অবতার মানা হয় । তাদের মধ্যেও রাজা হয় । সন্ন্যাসীদের রাজ্যভার নেওয়ার অধিকার থাকে না । বাবা বুঝিয়েছেন যে বুদ্ধ , ক্রাইস্ট ইত্যাদি প্রথমে গৃহস্থ আত্মা ছিল । কিন্তু গৃহস্থ পতিত আত্মা তো ধর্ম স্থাপন করতে পারে না । তাদের মধ্যে পবিত্র আত্মার পদার্পণ হ'লে , তখন তাঁরা ধর্ম স্থাপনা করেন l অন্যান্য ধর্মের নানা রকমফের আছে , তারা এসে আবার নিজের নিজের ছোট মঠ পন্থ স্থাপন করে l ঝাড়ের চিত্রতেও দেখানো হয়েছে l তাহলে বাচ্চারা বুঝতে পারছ তো হঠযোগ আর রাজযোগে অনেক তফাত হয় l এইসব কথা বুঝতে বুদ্ধিকে সচল রাখতে হয় l যারা বোঝে না , তারা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পরে , হাই তোলে (নিদ্রাবেশজনিত মুখব্যাদান )। এখানে তোমাদের ধনসম্পদের ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়। প্রাচুর্য্যের আমদানী হয় । তোমরা ধন-রত্নাদিতে নিজের ঝুলি ভরো l তাই চোখ খুলে সজাগ হয়ে শুনতে হয় । ঝিমিয়ে থাকলে অথবা বুদ্ধি এদিক-ওদিকে সরে গেলে রাজধানীর প্রাপ্তি সম্ভব নয় l তুমি হলে রাজঋষি । রাজত্ব প্রাপ্তির অধিকারী । রাজধানীর স্থাপনা বাবা করেন l শ্রীকৃষ্ণ নন। কৃষ্ণ তো বাবার থেকে বিশ্ব-রাজত্বের অধিকার প্রাপ্ত করে । এখন যিনি তোমাদের বাবা অর্থাত্ অলৌকিক পিতা , তিনি নিরাকার, যাঁর থেকে তোমরা বিশ্বের বাদশাহীর অধিকার পেতে চলেছ l তোমরা কত বিত্তবান হও ! এখানে এক বাবাই এসে রাজযোগ শেখান । তাই ঘোরাফেরা করো , খাওয়া দাওয়া করো , আর শুধু বাবাকে স্মরণ করো । বিত্তবান অবশ্যই ভালো ভাবে খাওয়া দাওয়া করবে । তারা তো আপন উপার্জনের ফল খেয়ে থাকে অর্থাত্ প্রারব্ধ ভোগ করে l মালপোয়া খাও অথবা রুটি খাও । স্মরণ শুধুমাত্র বাবাকে করো । পয়সা থাকলে ইচ্ছেমতো খাও , বাবা কখনো কাউকে মানা করেন না । শুধুমাত্র বাবার সাথে যোগ লাগাতে বলেন । এই রাজত্ব স্থাপনে কোনো খরচ নেই । সেই লড়াই ইত্যাদিতে কত খরচ হয়ে যায় ! এরোপ্লেনেও কত খরচ হয় l পড়লে তো একদম শেষ হয়ে যায় l কত ক্ষতি হয় l তাই বাবা বলেন চলতে ফিরতে বাবাকে স্মরণ করো l স্ব-দর্শনচক্র ঘোরাতে থাকো । আমরা চুরাশী জন্ম সম্পূর্ণ করেছি। এবার ফিরতে হবে বতনে , ঘরের দিকে । ঘরে গিয়ে আবার এসে রাজত্ব করবে । তোমরা সকলে অভিনেতা হলে তাই না ! সেই বায়স্কোপ তো দুই থেকে আড়াই ঘন্টা চলে । আর এই বেহদের নাটক পাঁচ হাজার বছর ধরে চলে । এইসব মানুষই জানতে পারে । এই দুনিয়া হলো কাঁটার জঙ্গল । সবচেয়ে বড় বিকার রূপী কাঁটা , যা আদি মধ্য অন্ত দুঃখই দিয়ে যায় । দ্বিতীয় কাঁটা , ক্রোধ । সেসব চিহ্ন এই মহাভারতের লড়াইয়ে দেখা যাবে l কোনও কথায় বনিবনা না হলে তো সঙ্গে সঙ্গে বোমা বারি শুরু হয়ে যাবে । এখন তো এমন এমন বম্বস তৈরী হচ্ছে যা অভাবনীয় l সত্যযুগে কোনো লড়াই ইত্যাদি হয় না । সঙ্গমেই এই মহাভারত লড়াই দেখানো হয়েছে । অন্য কোনো শাস্ত্রে লড়াইয়ের কথা বলা হয়নি। সেখানে তো সারা বিশ্বের তোমরা মালিক হয়ে থাকো । লড়াইয়ের কথা হয়ই না । শাস্ত্রে অসুরদের আর দেবতাদের লড়াই দেখানো হয়েছে । কিন্তু দেবতারা হয় অহিংসক । তোমরা যোগবল দ্বারা বিশ্বের মালিক হও । এই হলো সাইলেন্স বল অর্থাৎ নিঃশব্দ শক্তি, এতে তোমাদের কিছুই বলার থাকে না । স্মরণের বল দ্বারা তোমরা বাবার থেকে বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত করো । তফাত দেখো কত হয় । সাইন্সের শক্তিতে বিনাশ হয় । সেই সাইন্স দ্বারাই আবার আমরা সত্যযুগে সুখ দেখবো । সাইন্স দ্বারা আবিষ্কার সুখের জন্য করা হয়ে থাকে । তারাও এসে কিছুটা জ্ঞান প্রাপ্ত করবে । প্রদর্শনীতে তো সবাই আসে । পরবর্তী সময়ে দেখবে সবাই আসবে । তোমাদের এই সাইলেন্সের শক্তির আওয়াজ বেরোবে অর্থাত্ নৈঃশব্দ শক্তির আওয়াজও যে কতদূর বিস্তৃত হতে পারে পরবর্তী সময়ে তা' তোমরা প্রত্যক্ষ করবে l তুমি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করো যে গীতার ভগবান কে ? এরকম প্রশ্ন কেউই জিজ্ঞাসা করতে পারে না । যেখানে এই প্রশ্ন লেখা হয় সেখানেই তাদের সাথে চিত্রও দিয়ে দাও । গীতার ভগবান পরমপিতা পরমাত্মা না শ্রীকৃষ্ণ? যিনি পুরো চুরাশী জন্ম গ্রহন করে । পতিত থেকে পবিত্র করার নিমিত্ত এক বাবাই হন । কৃষ্ণের আত্মা তো চুরাশী জন্ম গ্রহন করে শ্যামল বর্ণে পরিনত হয়েছে । তাঁকেও বসে বোঝাচ্ছেন যে তুমিও (কৃষ্ণ) চুরাশী জন্ম গ্রহণ করেছো । তোমরা নিজের জন্ম সম্বন্ধে কিছুই জানো না । অভিনেতাদের জানা দরকার, আমরা চুরাশী জন্ম কিভাবে গ্রহণ করি । সন্ন্যাসীদের ধর্মই পৃথক হয় । ভারতবাসীরা আপন ধর্ম না জানার কারণে অন্য অন্য ধর্মে যেতে থাকে। কোনো গুরুর আশীর্বাদে কেউ ধন প্রাপ্ত করলে তারই আকর্ষণে ছুটে বেড়ায় l তারপর দেউলিয়া হলে বলবে ঈশ্বরের লেখা ভবিতব্য । সন্তান প্রাপ্ত হলে অনেক খুশি হয় । আচ্ছা দশ বারো দিন পরে সন্তানের মৃত্যু হলে কি বলবে ঈশ্বরের লেখা ভবিতব্য ! এদের বাঁচানো আমার হাতে নেই । বাবা এরকম উদাহরণ অনেক দেখেছেন । এরকম -এরকম অনেক হয় । এখানে তো বাবা বসে আছেন । বাবা বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন যে মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা পবিত্র হও । মনে আছে , যখন মহাভারতে ভীষণ ভাবে লড়াই লেগেছিল তখন দ্রৌপদী ডেকেছিল যে বাবা আমায় এই দুঃশাসন বিবস্ত্র করছে , আমায় তার হাত থেকে রক্ষা করো । পাঁচ হাজার বছরের কথা হচ্ছে । এই অবলাদের ওপরে অত্যাচার শুধুমাত্র এই বিষ অর্থাৎ বিকারের জন্যই হয়ে থাকে । অনেক স্ত্রীরাও হয় , যারা এই বিষ (বিকার) ব্যতীত থাকতে পারে না । তাদের তো নামও রাখা আছে শূর্পনখা, পুতনা ইত্যাদি । যারা বিষের জন্য বিরক্ত করে তারা হলো কংস, জরাসন্ধী ,শিশুপাল ...এদের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী । এই সময় হলো আসুরী , রাবণ রাজ্য , তারপর হবে ঈশ্বরীয় রাজ্য । এবার তো তোমরা পুরো চক্রকে জেনে বুঝতে পারছ যে কিভাবে চুরাশী জন্ম গ্রহণ করা হয় । এইসব তখনই ভুলে যায় যখন সব বিকারগ্রস্ত হয়ে পরে । যারা বিকারী হয় তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় । তারা নিজেরাই বোঝে যে এ আমরা কি করলাম ! বাবা বলেন বাচ্চারা এইসব বিষয় বিকারে যেও না । এইসব তোমাদের আদি মধ্য অন্ত দুঃখ দেওয়ার নিমিত্ত । এইসবে যেও না । প্রতিজ্ঞা করো যে আমরা বিকারে কখনো যাব না । ভগবানুবাচ হলো , কাম মহাশত্রু । প্রতিটি চিত্রে প্রথমেই লেখো - 'জ্ঞান সাগর, পতিত পাবন , গীতা জ্ঞান দাতা শিব ভগবানুবাচ' । তাহলেই তো কৃষ্ণের নামের বিভ্রান্তি হয়না । গীতার ভগবান আমাদের এই জ্ঞান প্রদান করেন , আর সেই জ্ঞান আমরা আহরণ করি । ভগবানই এসে নতুন দুনিয়ার স্থাপন করেন আর পুরোনো দুনিয়ার বিনাশ হয় । রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ হয় ,তাই না ! আসল হলো শিববাবা । রুদ্র বাবা বলা হবেনা । বম্বেতে বাবুরীনাথের মন্দির আছে । এখন কাঁটাকে বলা হয় ববুল । তাহলে বাবুরীনাথ নাম কেন রাখা হয়েছে? এইসব কেউ বোঝে না । অথচ চিত্র তো শিবেরই যাঁর কাছে তোমরা বিকার রূপী কাঁটা অর্পণ করেছ l বাকী অনেকে অনেক রকমের নাম রেখে দিয়েছে । শিববাবাই এসে কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগানে পরিনত করেন , তিনিই হন তোমাদের বাবা । ওঁনার নাম হলো শিব । শিব পরমাত্মায় নমঃ , ব্রাহ্মণ দেবী-দেবতায় নমঃ অক্ষরগুলি একদম পরিস্কার আছে । এবার সেই পরমপিতা পরমাত্মা বসে এই রথ (ব্রহ্মাতন) দ্বারা বোঝাচ্ছেন । হুবহু যেরকম লৌকিক পিতা বোঝায় - "বাচ্চারা , কুলকে কলঙ্কিত কোরো না । কোনও খারাপ কর্ম কোরো না ।" এই বাবাও (ব্রহ্মাবাবা) বলেন বাচ্চারা বিকারে কখনো যেও না । পবিত্র ব্যতীত স্বর্গে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না । অনেক জবরদস্ত উপার্জন তোমরা করতে পারো । বাকী সবাই তো এই সুযোগ হারাচ্ছে । যদিও কারোর কাছে পদম হয় , বড় বড় মহল তৈরী করে , লাখ লাখ টাকা খরচ করে । তোমরা বোঝো সেসব ওয়েস্ট অফ টাইম অর্থাৎ সময় নষ্ট .... । এসব কিছুই কাজে আসবে না , সবকিছুই লুপ্ত হয়ে যাবে । তারা তো বোঝে দশ -বারো হাজার বছর চলবে । তোমরা বাচ্চারা জানো মৃত্যু অর্থাৎ বিনাশ মাথার উপর দাঁড়িয়ে আছে । অল্প সময়ের ভিতরে এই ভূমিকম্প ইত্যাদি হয়ে সবকিছু উলট পালট হয়ে যাবে । ভূমিকম্প ইত্যাদিতে অগুনতি মারা যায় । এবার তো বিনাশ হওয়ারই আছে । বিনাশের সাক্ষাৎকার আর স্থাপনার সাক্ষাৎকার করানো হয়েছে । সেটাই আবার এই চোখ দ্বারা দেখবে । ভক্তি মার্গে কত কিছু করে কিন্তু কেউই বৈকুণ্ঠে যেতে পারে না । জ্ঞান ব্যতীত সদ্‌গতি হতে পারেনা । এইসব হলো ভক্তি মার্গের খেলনা । আচ্ছা --

মিষ্টি মিষ্টি সিকীলধে (হারানিধি) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্নেহ সুমন আর সুপ্রভাত । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারনার জন্য মুখ্য সার --:

১. কুল কলঙ্কিত হয় , এমন কোনও খারাপ কাজ করবে না । পবিত্র হওয়ার জন্য নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে ।

২. এবার নিজের সময় , অর্থ (time , money) ..... কিছুই নষ্ট কোরো না । ফুলের বাগিচায় চলতে হ'লে কাঁটা উপড়ে ফেলতে হবে ।

বরদান --: 

সম্পূর্ণ স্টেজ আর স্টেটাসের স্মৃতি দ্বারা সদা উচ্চ কর্তব্য করার জন্য বাবা সমান ভব !

সদৈব যেন এই স্মৃতি থাকে যে আমি প্রতি সময় , প্রতি সেকেন্ডে প্রত্যেক কর্ম করাকালীন নিজ স্টেজে আছি , তাহলে প্রত্যেক কর্মে এটেন্শন (মনোযোগ ) থাকলে সম্পূর্ণ স্টেজের নিকটবর্তী হয়ে যাবে । সাথে -সাথে বর্তমান আর ভবিষ্যতের স্টেটাসের স্মৃতি থাকলে প্রতিটি কর্ম শ্রেষ্ঠ হবে । এই দুটি স্মৃতিই বাবা-সম পরিনত করে দেবে । সমানতায় আসলেই এক দুইয়ের মনের সঙ্কল্পকে সহজেই ধরতে (catch করতে) পারবে । এইজন্য শুধুমাত্র সঙ্কল্পে কন্ট্রোলিং পাওয়ার দরকার । আপন সঙ্কল্পে যেন কোনো মিক্সচর্টী অর্থাৎ মিশ্রিত কিছু না থাকে ।

স্লোগান --: 

ঈর্ষা আর অপ্রাপ্তির কারণ হলো ইচ্ছা, যেখানে সর্ব প্রাপ্তি সেখানে আছে প্রসন্নতা ।

***OM SHANTI***

Google+ Followers