BK Murli 9 August 2016 Bengali

BK Murli 9 August 2016 Bengali

 ০৯-০৮-১৬ প্রাতঃমুরলী ওমশান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মীঠে বাচ্চে - এখনও পর্যন্ত যাকিছু পড়েছ , সেসব ভুলে একমাত্র বাবাকে স্মরণ করো"

প্রশ্ন :- 

ভারত ভূমিতে সত্যযুগী স্বরাজ্য স্থাপন করতে কোন্ বল বা শক্তির প্রয়োজন ?

উত্তর :- 

পবিত্রতার বল বা শক্তি । তুমি সর্বশক্তিমান বাবার সঙ্গে যোগ যুক্ত হয়ে পবিত্র হও। এই পবিত্রতারই শক্তি দ্বারা সত্যযুগী স্বরাজ্যের স্থাপনা হয়, এতে লড়াই ইত্যাদির কোনো কথাই নেই । জ্ঞান এবং যোগবলই পবিত্র দুনিয়ার মালিক রূপে পরিণত করে দেয়। এই বল দ্বারাই এক মতের স্থাপনা হয়।
গান :- অবশেষে সেই দিন এলো আজ ...
(আখির বহ দিন আয়া....)

ওমশান্তি । 

বাচ্চারা গান শুনলো । এই গান নিজেদের তৈরী করা গান নয়। যেমন অন্য বেদশাস্ত্র ইত্যাদির সার বোঝান হয়েছে । তেমনই এই গানও যে তৈরী হয়েছে , এই গানের সার বোঝান হচ্ছে । বাচ্চারা জানে যে খিবৈয়া বা নাবিক , বাগবান( বাগানের মালিক) অথবা সদ্গতি দাতা হলেন একমাত্র বাবা। ভক্তি করে সবাই জীবনমুক্তির জন্যে । কিন্তু জীবনমুক্তি বা সদ্গতি দাতা হলেন এক ভগবান । এই কথার অর্থ বাচ্চারা বুঝেছে , মানুষ বুঝতে পারেনা। সদ্গতি অর্থাৎ দুঃখ থেকে মুক্ত করে শান্তি প্রদান করেন। ভারতবাসী বাচ্চারা জানে যে এখানে পবিত্রতা সুখ শান্তি ছিল , যখন এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। রাধেকৃষ্ণের রাজত্ব বলা যাবেনা । বাস্তবে মাতাদের সমজিন্স হল রাধে । তাকেই বেশী ভালবাসা উচিত তবুও কৃষ্ণকে বেশী ভালবাসে। দোলনায় ঝোলানো হয়। কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন হয়। রাধের জয়ন্তী পালন হয়না । বাস্তবে দুইজনেরই পালন করা উচিত । বুঝতে কিছুই পারেনা । তাঁদের জীবন কাহিনি তো কেউ জানেনা । বাবা এসে নিজের এবং সবার জীবন কাহিনী শোনাচ্ছেন । মানুষ বলেও থাকে শিব পরমাত্মায় নম: কিন্তু ওঁনার জীবন কাহিনীকে জানেনা । মানুষের জীবন কাহিনীকে হিস্ট্রী জোগ্রাফি বলা হয় , দুনিয়ার হিস্ট্রী জোগ্রাফি তো গায়নে রয়েছে - কতোটা এলাকায় রাজত্ব ছিল , ভূমির কতোটা স্থানে রাজ্য ছিল। কিভাবে রাজত্ব করল তারা কোথায় গেল .... এইসব কথা কেউ জানেনা । তোমাদের ভাল রীতি বোঝান হচ্ছে । রচয়িতা এবং রচনার নলেজ বাচ্চাদের বোঝান হয়। তোমরা জেনেছো যে বরাবর এই হল কলিযুগের অন্ত সময় এবং সত্যযুগের আদি । সঙ্গমেই পরমপিতা পরমাত্মা এসে মানুষকে পতিত থেকে পবিত্র দেবতা রূপে পরিণত করেন। উত্তম পুরুষ বা পুরুষোত্তম স্বরূপে পরিণত করেন কারণ এই সময়ের মানুষ উত্তম নয় , কনিষ্ঠ । উত্তম , মধ্যম, কনিষ্ঠ , সতো রজো তমো হয়। যে ভাল রীতি জ্ঞান শুনবে তাকে সতোগুণী বলা হবে । যে একটু শুনবে তাকে রজোগুণী বলা হবে আর যে শুনবেই না তাকে তমোগুণী বলা হবে । পড়াশোনায় এমন হয়। তোমাদের পড়াশোনা সতোপ্রধান হওয়া উচিত সেইজন্য সতোপ্রধান লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বরূপে পরিণত হওয়ার জ্ঞান তোমাকে দেওয়া হয়। নর থেকে নারায়ণ , নারী থেকে লক্ষ্মী হতে হবে। গীতার জন্যেও তোমরা বলো এই হল সত্য গীতা। তোমরা লিখতেও পারো এই হল সত্যিকারের গীতা পাঠশালা অর্থাৎ সত্য নারায়ণ স্বরূপে পরিণত হওয়ার ব্রতকথা অথবা সত্য অমরকথা , সত্য তিজরীর(তৃতীয় নেত্র লাভের) ব্রতকথা । চিত্র তো সব তোমার কাছেই আছে , তাতে সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে । তোমরা এখন প্রতিজ্ঞা করেছ যে আমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার কুমারীরা ভারতকে সতোপ্রধান স্বর্গে পরিণত করবই। তোমাদের সংবাদ পৌঁছাতে হবে। গান্ধীজিও চাইতেন পবিত্র রাজ্য হোক তো নিশ্চয়ই এখন হল পতিত রাজ্য । এই কথা কেউ বুঝতে পারেনা যে আমরা নিজেরাই হলাম পতিত । রাবণ হল পাঁচ বিকার । বলে রামরাজ্য চাই তো নিশ্চয়ই অসুরী সম্প্রদায় হল তাইনা , কিন্তু এইসব কারুর বুদ্ধিতে আসেনা। বড় বড় গুরু ইত্যাদিরাও এতোটা বুঝতে পারেনা। তোমরা সংবাদ পৌঁছে দাও যে আমরা শ্রীমত অনুযায়ী ব্রহ্মা দ্বারা ৫ হাজার বর্ষ পূর্ব অনুরূপ দৈবী রাজ্যের স্থাপনা করব। এই হল পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ যখন কনিষ্ঠ পুরুষ থেকে সতোপ্রধান পুরুষোত্তম রূপে পরিণত হও। মর্যাদা পুরুষোত্তম আদি সনাতন দেবীদেবতা ধর্মই হয়। এখন একটি দেবীদেবতা ধর্মের স্থাপনা হয় অন্য ধর্ম থাকবেই না। তোমরা প্রমাণ করে বোঝাও যে সত্যযুগে এক ধর্ম একই রাজ্য ছিল । ভালাই ত্রেতায় এসে সূর্য্যবংশী থেকে পরিবর্তিত হয়ে চন্দ্রবংশী রূপে পরিণত হও কিন্তু ভাষা থাকবে একটি । এখন ভারতে হল অনেক ভাষা । বাচ্চারা জানে যে আমাদের রাজ্যে একটি ভাষা ছিল । আজকাল তো অনেক কিছু দেখবে । যেমন যাত্রা থেকে ফেরার সময়ে নিজের দেশের কাছে আসার আনন্দ হয় যে নিজের ঘরে ফিরেছি। এবারে গিয়েই দেখা হবে। তোমাদেরও নিজের রাজধানীর সাক্ষাতকার হতে থাকবে। নিজের পুরুষার্থের সাক্ষাতকারও হবে। দেখবে বাবা আমাদের কত বলছেন যে পুরুষার্থ করো। না হলে হায়-হায় করবে তাতে পদ আরও কম হয়ে যাবে। যোগের যাত্রা সবাইকে বলো। বোঝান তো খুবই সহজ। সিঁড়ির চিত্র কতটা সহজ। যারা দেরীতে আসে তাদের দিন-প্রতিদিন সহজ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। এক সপ্তাহ বুঝলেই সহজে বুঝতে পারবে । চিত্র এমনই রয়েছে , যাতে অ্যাকুরেট বোঝান হয়েছে । ৮৪ জন্মের চক্র একেবারে সঠিক । এইসব হল ভারতবাসীদের জন্যে । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে । তুমি জানো যে পতিত-পাবন , সদ্গতি দাতা শিববাবার মতানুসারে আমরা পুনরায় সহজ রাজযোগের শক্তি দ্বারা , নিজের তন-মন-ধন দ্বারা ভারতকে স্বর্গে পরিণত করি। অন্য কারুর নয় , নিজেদের তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করি। যে যত করবে সে নিজের ভবিষ্যত তৈরী করবে । তোমরাই হলে ঘরের সদস্য । তোমাদের সাহায্যেই বাবা সত্যযুগী স্বরাজ্যের স্থাপনা করছেন । যাবতীয় খরচাও তোমরাই করবে। তোমার কোনো অতিরিক্ত খর্চা নেই । তোমাকে শুধুমাত্র শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে, কন্যাদের কি খরচা করতে হয় ? তাদের কাছে কিছু আছে কি ? বাবা বাচ্চাদের কাছে কি ফিস নেবেন । কিছুই না। স্কুলে তো প্রথমে ফিস ইত্যাদির কথা বলা হয়। সেখানে পড়াশোনায় কত খরচ হয়। এখানে শিববাবা বাচ্চাদের কাছে কিভাবে পয়সা নেবেন । শিববাবার নিজের বাড়ি তৈরী করার আছে কি ? যার জন্যে পয়সা নেবেন তিনি । তোমাদের ভবিষ্যতে স্বর্গে গিয়ে হীরে জহরতের মহল তৈরী করতে হবে সেইজন্য তোমরা এখানে যা করো তার রিটার্নে ভবিষ্যতে তুমি মহল প্রাপ্ত করো। এইসব খুবই বুঝবার কথা। যে যত তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করবে , সে সেইরকম সেখানে প্রাপ্ত করবে। কলেজ বা হাসপাতাল তৈরী করতে ১০ বা ২০ লক্ষ লাগাতে হয়। এখানেতো এত খরচ করতে হয়না । ছোটো বাড়িতে রূহানী কলেজ কাম হাসপাতাল তৈরী হয়। পান্ডবদের আদি পতি কে ছিলেন ? তারাতো কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে । বাস্তবে হলেন নিরাকার ভগবান। তোমাকে শ্রীমত দিচ্ছেন যিনি , তিনি হলেন ভগবান । বাকিরা সবাই হলেন রাবণের মতানুসারে , রাবণ রাজ্যে । রাবণের মতানুসারে কত ডার্টি বা পতিত হয়েছে। এবারে এই সৃষ্টি হল পুরনো , সেই আবার নতুন হবে। সৃষ্টিতে ভারত-ই ছিল । ভারতকেই নতুন এবং ভারতকেই পুরনো বলা হবে । নতুন ভারত সেতো স্বর্গ ছিল । সেই ভারত পুরনো হয়ে নরক হয়েছে । একেই বলা হয় রৌরব নরক । মানুষেরই কথা । এখানে সুখের নাম-গন্ধ নেই । এইসব কি আর সুখ নাকি । সন্ন্যাসীরাও বলেন বর্তমানের সুখ হল কাগবিষ্ঠার সমান , তাই তাঁরা গৃহস্থ ব্যবহার ত্যাগ করেন। তাঁরা স্বর্গ বা সত্যযুগের স্থাপনা করতে পারেননা । কৃষ্ণপুরীর স্থাপনা কেবল পরমাত্মাই করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের আত্মা এবং শরীর দুই-ই সমান রূপে পবিত্র ছিল সেইজন্যই কৃষ্ণকে সবাই ভালবাসে কারণ পবিত্র কিনা । গায়নও আছে শিশু হল ব্রহ্ম জ্ঞানী সম। শিশুদের বুদ্ধিতে বিকারের জ্ঞান থাকেনা । সন্ন্যাসীরা তবুও জানে। শিশু জন্ম থেকেই মহাত্মা । শিশুদের পবিত্র ফুল বলা হয়। এক নম্বর ফুল হলেন শ্রীকৃষ্ণ । স্বর্গ নতুন দুনিয়ার প্রথম প্রিন্স হলেন তিনি । জন্ম নিলেই বলা হবে ফার্স্ট প্রিন্স । কৃষ্ণকে সবাই স্মরণ করে শ্রীকৃষ্ণ সম সন্তান প্রাপ্তির জন্যে । এবারে বাবা বলছেন যা হতে চাও হতে পারো। শুধুমাত্র একজনই কৃষ্ণ সম থোরাই হবে । প্রিন্স অফ ওয়েল্স কয়জন হয়? সেকেন্ড থার্ড হয় কিনা । তো এখানেও সেইরকম ডিনায়স্টি আছে । বাবার পরে দ্বিতীয় জন সিংহাসনে বসে। যেমন ঐ বংশাবলী চলে তেমনই এই বংশাবলী চলে । তোমার কনেক্শান হল ক্রিশ্চানদের সাথে । কৃষ্ণ এবং ক্রিশ্চানদের রাশি হল এক। নিজেদের মধ্যে দেয়া- নেয়া অনেক হয়। ভারত থেকে তারা কত ধন নিয়ে গেছে । এখন রিটার্নে দিচ্ছে । রিটার্ন সার্ভিস করছে । এই ইউরোপবাসী নিজেদের মধ্যে লড়াই করে শেষ হয়ে যাবে। এই বিষয়ে একটি কাহিনি রয়েছে - দুই বেড়ালের লড়াইয়ে বানরে মাখন খায়। এই কথাটি বর্তমান সময়ের । তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে আর রাজ্য - ভাগ্য তোমরা পেয়ে যাবে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে অথাহ জ্ঞান রয়েছে । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে আমরা সবাই হলাম ব্রহ্মাকুমার - কুমারী। এমন নয় আমরা হলাম গুজরাটী বা বাঙালী । এই রূপ নয়। এই মতভেদও বেরিয়ে যাওয়া উচিত । আমরা হলাম এক পিতার সন্তান । ব্রহ্মা দ্বারা শিববাবার শ্রীমতে পুনরায় আমরা নিজের স্বরাজ্য স্থাপন করছি - জ্ঞান এবং যোগবল দ্বারা । যোগবল দ্বারা-ই আমরা পবিত্র হই। বাবা হলেন সর্বশক্তিমান , ওঁনার থেকেই শক্তি প্রাপ্ত হয়। তুমি বিশ্বের বাদশাহী নিচ্ছো । লড়াই ইত্যাদি এতে কিছুই হয়নি । সমস্ত কিছু পবিত্রতার বল । বলাও হয় যে এসে পতিত থেকে পবিত্র করো , তো এই হলই স্মরণের বল। এমন নয় যে সেখানে গোরখধান্ধায় গিয়ে সব ভুলে যাবে। এখানে সম্মুখে তো জ্ঞানসাগরের লহর বা ঢেউ দেখতে পাওয়া যায়। নদীতে সেই ঢেউ থাকেনা। সাগরের একটি ঢেউও কত ক্ষতি করে দেয়। যখন ভূমিকম্প হবে তখন সাগরও উথলে উঠবে । সাগর শুকিয়ে ভূমি নিয়ে সেই ভূমি কত দামে বিক্রি হয়। তুমি জানো যে এই মুম্বাই থাকবেই না। প্রথমে এই মুম্বাই থোরাই ছিল নাকি , ছোট একটি গ্রাম ছিল । এই মাতারা হলেন ভোলা মনের। এরা এতোটা পড়াশোনা করেনি । এখানেতো পড়াশোনা সব ভুলে যেতে হবে। তুমি কিছু পড়াশোনা না করে থাকলে ভাল। শিক্ষিত মানুষ বুঝতে বুঝতে কত প্রশ্ন করে। এখানেতো শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কোনো দেহধারী মানুষকে স্মরণ করার কথাই নেই । মহিমা আছেই শুধুমাত্র এক বেহদের বাবার । তুমি জানো যে উঁচু থেকে উঁচু হলেন এক ভগবান তারপর দ্বিতীয় নম্বরে হলেন ব্রহ্মা । ওঁনার চেয়ে উঁচু আর কেউ নয়। এঁনার (ব্রহ্মাবাবা) চেয়ে বড় আসামী কেউ নয় , কিন্তু দেখ কত সাধারণ রূপে আছেন । কেমন সাধারণ রীতিতে বাচ্চাদের মতন বসে আছেন । ট্রেনে যাত্রা করেন, কেউ কি জানে যে ইনি হলেন কে? ভগবান এসে জ্ঞান দিচ্ছেন , নিশ্চয়ই প্রবেশ করে জ্ঞান দেবেন তাইনা । যদি কৃষ্ণ হতেন তাহলেতো ভিড় জমে যেত পড়াতে পারতেন না, শুধুমাত্র দর্শন হত। এখানেতো বাবা গুপ্ত সাধারণ বেশে বসে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন ।
তুমি হলে ইনকগনিটো(গুপ্ত বেশধারী সেনা) সেনা। তুমি জানো আমরা আত্মারা যোগবলের দ্বারা পুনরায় নিজের রাজত্ব স্থাপন করি। এই পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নবীন গৌরবর্ণ দেহ ধারণ করি। এখন হল অসুরী সম্প্রদায় তারপরে হবে দৈবী সম্প্রদায় । আত্মা বলে যে আমরা নতুন দুনিয়ায় দৈবী দেহ ধারণ করে রাজত্ব করব। আত্মা হল মেল বা পুরুষ , শরীর হল প্রকৃতি । আত্মা হল সদৈব পুরুষ । বাকি শরীর হিসাব নিকেস অনুসারে মেল-ফিমেলের প্রাপ্ত হয়। কিন্তু আমি হলাম অবিনাশী আত্মা । এই চক্র ঘুরতেই থাকে। কলিযুগের বিনাশ নিশ্চয়ই হবে । বিনাশের লক্ষণ সম্মুখে রয়েছে । সেই মহাভারতের লড়াই তাহলে ভগবানও উপস্থিত থাকবেন । কোন্ রূপে , কোন্ দেহে আছেন , সেই কথা তোমরাই জানো আর কেউ নয়। বলেন তিনি - আমি একেবারে সাধারণ দেহে প্রবেশ করে দুনিয়ায় আসি। আমি কৃষ্ণের দেহে প্রবেশ করিনা । ইনিই (ব্রহ্মাবাবা) সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নিয়েছেন। আমি এঁনার অনেক জন্মের অন্তে এসে প্রবেশ করি। ৮৪ জন্ম সূর্যবংশী বংশধারীরা নেয়। তারা-ই প্রথম নম্বরে আসবে । সাকারী বৃক্ষ এবং নিরাকারী বৃক্ষের সম্পূর্ণ জ্ঞান তোমাদের রয়েছে । মূলবতন অর্থাৎ পরমধাম থেকে আত্মারা ক্রমানুসারে আসতে থাকে। সর্বপ্রথম দেবীদেবতা ধর্মের আত্মারা আসে তারপর ক্রমানুসারে অন্য ধর্মীয় জনেরা আসে। চিত্র ইত্যাদিতে অনেক উচ্চ রূপে বোঝান হয়েছে । বাচ্চাদের বোঝাতে হবে , কুমারীদের দাঁড়াতে হবে। যখন ছোটো বাচ্চারা এমন কথা বোঝাবে তখন তো কামাল হয়ে যাবে তাইনা । কত নাম হয়ে যাবে। লৌকিক অলৌকিক দুই স্থানেরই নাম উঁচুতে নিয়ে যাবে। আচ্ছা ।
মীঠে মীঠে হারানিধি (সিকীলাধে) বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা আর গুডমর্ণিং । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. সঙ্গমযুগে শ্রেষ্ঠ কর্ম করেই পুরুষোত্তম স্বরূপ হতে হবে। এমন কোনো কর্ম করা চলবেনা যাতে কনিষ্ঠ রূপে পরিণত হয়ে যায়।

২. গুপ্ত রূপে বাবার সহযোগী হয়ে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করার সেবা করতে হবে। নিজের তন-মন-ধন দ্বারা সেবা করে ভারতকে স্বর্গ বানাতে হবে। স্মরণ এবং পবিত্রতার বল জমা করতে হবে।

বরদান :- 

শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা প্রবৃত্তিকে প্রগতির সাধনে পরিণত করতে পারে এমন সদা সমর্থবান ভব।

ব্যাখ্যা :- প্রবৃত্তিতে সর্বপ্রথম বৃত্তিতে পবিত্র বা অপবিত্র হও। যদি বৃত্তিকে সর্বদা একমাত্র বাবার সঙ্গে যুক্ত রাখো, একমাত্র বাবা অন্য কেউ নয় - এমন উঁচু বৃত্তি থাকলে প্রবৃত্তি প্রগতির সাধন হয়ে যাবে। বৃত্তি উঁচু এবং শ্রেষ্ঠ থাকলে চঞ্চল হবেনা । এমনই শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা প্রগতি লাভ করতে করতে গতি-সদ্গতি সহজেই প্রাপ্ত হবে। তাহলেই সব রকমের কমপ্লেন কমপ্লিট হয়ে যাবে।

শ্লোগান :- 

যদি পবিত্রতা স্বপ্ন মাত্রেও নাড়া দেয় তবে নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশান পাক্কা নয় , কাঁচা ।


***OM SHANTI***

Google+ Followers